বিশ্ব
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ১৬৫, নিখোঁজ প্রায় দেড় হাজার
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জন নিহত হাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নেপালের সরকারি কর্তৃপক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকশ’ বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে বাংলাদেশি কেউ নেই বলে জানিয়েছে নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় কম্পন শনাক্ত হওয়ার তিন মিনিট পর, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রবল পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নদী উপত্যকার জনবসতি, সড়ক, সেতু, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
রাসুয়ার টিমুরে, স্যাফ্রুবেশি ও রাসুওয়াগাধি এবং নুওয়াকোটের বেত্রাবতী, ত্রিশূলী ও দেবীঘাট এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৬২ দিন আগে
১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিকমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে একটি প্রজন্মের ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ আগস্ট) লাক্সন সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
তবে প্রস্তাবিত আইনটি এখনও পাস করার মতো পর্যাপ্ত সমর্থন পায়নি। লাক্সনের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের তিন দলের মধ্যে দুটি দল প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে আইনটি পাস করতে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের সমর্থন প্রয়োজন হবে। তবে, বিরোধী দল এখনও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি।
এছাড়া আগামী নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে ১ অক্টোবর দেশটির পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হবে। এই সময়সীমার আগে প্রস্তাবটি নিয়ে ভোট দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময়ও তাদরে হাতে নেই বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লাক্সন। কারণ কোনো বিল আইনে পরিণত হতে সাধারণত কয়েক মাস ধরে তিন দফা ভোটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
অন্যান্য দেশের দিকে হাঁটতে চায় নিউজিল্যান্ডও
এরই মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার। নিউজিল্যান্ডও এবার সেই পথে হাঁটতে চায়। আসন্ন নির্বাচনে পুননির্বাচিত হলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাই জানিয়েছেন লাক্সন।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিউজিল্যান্ডের এক-তৃতীয়াংশ কিশোর-কিশোরী প্রতিদিন অন্তত পাঁচ ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে।
লাক্সন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু-কিশোররা ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখে সময় কাটাচ্ছে। এটি শিশুদের মধ্যে এমনভাবে আসক্তি তৈরি করছে যা মোকাবিলা করার ক্ষমতা তাদের তৈরি হয়নি। এটি তাদের পারিবারিক জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম ও শিক্ষায় প্রভাব ফেলছে।’
সোমবার নিউজিল্যান্ডের সরকার জানায়, প্রস্তাবিত আইনে ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর বয়স ১৬ বছরের বেশি কি না, তা যাচাইয়ে যৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে। এ পদক্ষেপের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্টগুলোর তথ্য, মুখ দেখে বয়স অনুমান, ডিজিটাল পরিচয়পত্রের সেবা ও সরকারি পরিচয়পত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।
তবে প্রস্তাবিত আইনি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম, রোবলক্সের মতো অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম ও উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহৃত এআই অ্যাপ, যেমন: চ্যাটজিপিটি, জেমিনি ও কোপাইলট ইত্যাদি থাকবে না।
অপরদিকে, প্রস্তাবিত আইনে বাবা-মা বা শিশুদের জন্য কোনো শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
লাক্সন বলেন, যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম শিশু-কিশোররা নিয়মিত ব্যবহার করে, সেসব প্ল্যাটফর্মকে তাদের নেটওয়ার্ক শিশুদের জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে, তা মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন করতে হবে।
৬৪ দিন আগে
টোকিওতে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প, আহত ৩৭
জাপানের পূর্বাঞ্চলে স্থানীয় সময় রবিবার ভোরে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে টোকিওসহ আশপাশের এলাকায় অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। তবে ভূমিকম্পে সুনামির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির প্রাথমিক মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ইবারাকি অঞ্চলের দক্ষিণে। ভূপৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি সৃষ্ট হয়েছে।
তবে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮।
জাপানের আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে পাঁচটি অঞ্চলের অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে টোকিওতে ১৫ জন, সাইতামায় ৯ জন, কানাগাওয়ায় ৮ জন, চিবায় ৪ জন ও ইবারাকিতে ১ জন আহত হয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, ভোরে মানুষ কিছু যখন ঘুমিাচ্ছিল, ভূমিকম্পটি তখন আঘাত হানে। সে সময় মানুষ ঘুম ভেঙে আকস্মিক কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে বিছানা থেকে উঠে পড়েন। আহতদের বেশিরভাগই ওঠার সময় পড়ে গিয়ে অথবা আসবাবপত্র ও দরজার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আহত হয়েছেন।
জাপানের ইয়োমিউরি সংবাদপত্র জানিয়েছে, কানাগাওয়া অঞ্চলের ইয়োকোহামায় ৮০ বছর বয়সী এক নারী বিছানা থেকে পড়ে গুরুতরভাবে নিতম্বে আঘাত পেয়েছেন।
এদিকে, টোকিওর পূর্বাঞ্চলের তাইতো এলাকার ২৩ বছর বয়সী এক যুবক আসাহি সংবাদপত্রকে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় তিনি কেনাকাটা করছিলেন। এ সময় তিনি ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পাওয়ার কয়েক সেকেন্ড পরই তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেন। তিনি বলেন, ভবনটি কাঁপতে থাকায় তাক থেকে পণ্য পড়ে গিয়েছিল।
অন্যদিকে, ভূমিকম্পের কারণে টোকিও ও নারিতা বিমানবন্দরের সঙ্গে চলাচলকারী এক্সপ্রেস ট্রেন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য স্থানীয় ট্রেন চলাচলে বিলম্ব হয়। তবে ভূমিকম্পের মধ্যেও শিনকানসেন বুলেট ট্রেন স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ‘এ ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।’
এদিকে, জাপান আবহাওয়া সংস্থা টোকিওর বাসিন্দাদের পরবর্তী এক সপ্তাহে আরেকটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
রবিবারের ভূমিকম্পে টোকিওতেও বেশ জোরালোভাবে কম্পন অনুভূত হয়। সে সময় টোকিওর বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। তবে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের ফুটেজে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় মিতো ও সাইতামাসহ আশপাশের শহরগুলোর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে, টোকিওতে বেশ কয়েকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে। এ ভূমিকম্পে এসব স্থাপনার কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে নিউক্লিয়ার রেগুলেশন কর্তৃপক্ষ।
গত মাসে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কিউশু দ্বীপের কুমামোতো এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ৩৮ জন নিহত ও ৩৬৪ জন আহত হয়েছিলেন।
৬৬ দিন আগে
কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১২
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৩ জন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত দেশটির রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত কিয়েভে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল। হামলায় দারনিতস্কি, স্ভিয়াতোশিনস্কি ও সোলোমিয়ানস্কি জেলার ১২টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আবাসিক ভবন, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
হামলায় দেশটির সোলোমিয়ানস্কি জেলায় একটি ৯ তলা আবাসিক ভবনের দুটি তলা ধসে পড়েছে। ভবনটির অন্যান্য তলাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় দুটি আবাসিক ভবন ও একটি স্কুলের আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ আটকা পড়েছিল।
অশ্রুসজল চোখে কিয়েভের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী লারিসা বন্দার্যাক বলেন, তার এক প্রতিবেশীর নাতি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে মারা গেছে। তার নিজের অ্যাপার্টমেন্টও এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একটি রকেট তাদের ছাদে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড শব্দ হয়। এতে একটি দরজা উড়ে যায়। চারদিক থেকে তখন ধোঁয়া ও আগুন, একই সঙ্গে মানুষের চিৎকার ও কান্না ভেসে আসছিল।’
৬৯ দিন আগে
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করল আরব আমিরাত
ইরানের বিরুদ্ধে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ তুলে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তবে ইউএইর এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছে ইরান।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যে এমন অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত তৎপরতার অংশ বলে দাবি করেছে তেহরান।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন পদক্ষেপ তাদের দেশের শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ থাকবে।
এর আগে ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। তার মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে এবং অন্যটি আঞ্চলিক জলসীমার ভেতরে গিয়ে পড়েছে।
পরে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা বা এ অঞ্চলের নৌ চলাচল বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা তারা দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করবে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিরদ্ধে আনা এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের মধ্যে তাদের বিরদ্ধে প্রতিবেশী দেশের এ ধরনের অভিযোগ একটি একটি পরিকল্পিত তৎপরতার অংশ।
ইসমাইল বাঘাই আরও বলেন, এ ধরনের অভিযোগ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোকেও ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানান।
একই সঙ্গে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে বর্তমানে চলমান যুদ্ধের মূল্যায়ন করতে হবে।
৬৯ দিন আগে
জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে ফেরিডুবিতে নিহত বেড়ে ৬৮
জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে ফেরিডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ জনে ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাম্বিয়ার সীমান্তবর্তী কারিবা হ্রদে ফেরিটি ডুবে যায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ খবর জানা গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে প্রবল বাতাসের মধ্যে ফেরিটি উল্টে যায়।
সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এটি জিম্বাবুয়ের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী নৌদুর্ঘটনা।
এদিকে, সর্বশেষ দেশটির সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে টিকিট বিক্রির তথ্যের সূত্র দিয়ে সিপিইউ জানিয়েছিল, ফেরিটিতে ৯০ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা থাকলেও দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু ছিলেন। এছাড়া বেশকিছু শিশুও ফেরিটিতে ছিল।
উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত নৌবাহিনীর ইউনিটের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোসেফ মুচেচেসি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত আমরা ২২টি মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছি। আশা করি আমরা সব মরদেহ উদ্ধার করতে পারব।’
জিম্বাবুয়ের পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৮টি শিশু রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন, যাত্রীদের বেশিরভাগই কারিবা শহরের আশপাশের এলাকার বাসিন্দা ও মাছ ব্যবসায়ী চিরৈণ।
দুর্ঘটনার দিন কারিবা শহরের জেলা হাসপাতালে স্বজনদের মরদেহ শনাক্ত করতে শত শত মানুষ জড়ো হন।
গত বৃহস্পতিবার কারিবা শহরে একটি গণ-স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শহরটিতে একে একে মরদেহ দাফন শুরু হয়।
এ দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, ফেরিটি ছাড়ার পরপরই পানি ঢুকতে শুরু করলে তারা চালককে ফিরে যেতে অনুরোধ করেছিলেন।
বেঁচে যাওয়া যাত্রী ৪৫ বছর বয়সী চান্সে সিয়ামাভু বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। একটি ঢেউ ডুবে যাওয়া ফেরিটিকে আবার ভাসিয়ে তুললে আমরা সেটির ওপর উঠে প্রাণে বাঁচতে পেরেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘নৌকাটি উল্টে যাওয়ার পর বেশিরভাগ মানুষ লাইফ জ্যাকেট নেওয়ার জন্য ছোটাছুটি করছিলেন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানতেন না। বেশিরভাগ মানুষই বাঁচতে পারেননি।’
কারিবা হ্রদ আয়তন ও ধারণক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট হ্রদ। এটি ২০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এবং এর প্রস্থ ৪০ কিলোমিটার।
জিম্বাবুয়ের উত্তর সীমান্ত বরাবর জাম্বিয়ার সঙ্গে প্রায় ২৪১ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এই হ্রদটি ১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে জাম্বেজি নদীতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়। হ্রদটি তৈরির সময় প্রায় ৫৭ হাজার মানুষকে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল।
এর আগে হ্রদটির জিম্বাবুয়ে অংশে ২০২১ সালের একটি নৌদুর্ঘটনায় পাঁচ যাত্রী ডুবে মারা যান।
তার আগে ২০১৪ সালে হ্রদের জাম্বিয়া অংশে ২৬ জন ডুবে মারা যান, যাদের মধ্যে ২৪ জনই ছিল শিশু। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাদের বহনকারী নৌকাটি উল্টে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
৭০ দিন আগে
মস্কোয় ইউক্রেনের ৮০০ ড্রোন হামলা, ইউক্রেনের গ্রামে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১০
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলার একটি চালিয়েছে ইউক্রেনের। এই হামলায় রাশিয়ার উদ্দেশে প্রায় ৮০০ ড্রোন ছোড়া হয়েছে জানিয়েছেন কিয়েভের কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের একটি গ্রামে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং আরও ১৭ জন আহত হয়েছেন। হামলায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতভর এই পাল্টাপাল্টি হামলা চলে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত ক্রিমিয়া এবং কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরের ওপর ৭৯১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর এটি রাশিয়ার ওপর দ্বিতীয় বৃহত্তম ড্রোন হামলা।
৭০ দিন আগে
কাবুলে স্কুলের কাছে গ্রেনেড হামলা, অর্ধশতাধিক শিশু আহত
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি স্কুলের কাছে গ্রেনেড হামলায় অর্ধশতাধিক শিশু আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে কাবুলের দাশত-ই-বারচি এলাকায় অবস্থিত শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় ওই বিস্ফোরণ হয়।
কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান সোমবার রাতে বলেন, হামলায় ‘বেশ কয়েকজন শিশু’ আহত হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেট মঙ্গলবার আগের দিনের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, স্কুলের কাছে বহু শিশুকে আহত করা এই জঘন্য হামলার নিন্দা জানাচ্ছি।
আফগান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে অর্ধশতাধিক শিশু আহত হয়েছে। রাজধানীর যে এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটেছে, সেখানে প্রধানত হাজারা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন।
আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ হাজারা সম্প্রদায়ের মানুষ। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে তারা হামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছেন। হাজারা সম্প্রদায়ের অধিকাংশই শিয়া মুসলিম। সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের মতো সুন্নি উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো অতীতে বারবার তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বৈষম্যেরও শিকার হয়েছেন।
২০২১ সালের মে মাসে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের কয়েক মাস আগে কাবুলের একটি স্কুলে তিনটি বোমা হামলায় বহু মানুষ নিহত হন। নিহতদের সবাই ছিলেন হাজারা সম্প্রদায়ের এবং অধিকাংশই ছিলেন স্কুল ছুটি শেষে বের হওয়া কিশোরী।
সোমবার বিস্ফোরণের ঘটনা যে স্কুলের কাছে ঘটেছে, সেই স্কুলটিও কাবুলের দাশত-ই-বারচি এলাকায় অবস্থিত। রাজধানীর এই এলাকাটি হাজারা সম্প্রদায়ের প্রধান আবাসিক এলাকা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেনেট বলেন, হামলার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে একটি স্বাধীন তদন্ত করা জরুরি।
তিনি লিখেছেন, ‘আবারও কাবুলের হাজারা অধ্যুষিত এই এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। নিন্দনীয়!’
৭১ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা দিবসেও শোকের ছায়া, ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৫
আজ ১৭ আগস্ট, ৮১তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছে ইন্দোনেশিয়া। তবে স্বাধীনতা দিবসের এই দিনটিতেও দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপে ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপের নিচে স্বজনদের খুঁজছেন বহু মানুষ। শনিবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩৫ জন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়ে ঠাঁই নিয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মধ্যেই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্গত এলাকায় সেনা ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পৌঁছানো হয়েছে শত শত টন ত্রাণও। তবে দুর্গম এলাকা এবং যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সমস্যার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকায় সময়মতো সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। ফলে হাজারো মানুষ এখনও খাবার, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ত্রাণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
শনিবারের ভূমিকম্পে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাংগারাই অঞ্চল। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় প্রদেশটির গভর্নর গতকাল রবিবার ১৪ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, শনিবার ভোর ৬টার দিকে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। আতঙ্কে বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ সময় সুনামির সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
ভূমিকম্পের পর দেশটির কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৯৫টি পরাঘাত বা আফটার শক রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে ৪৬টি পরাঘাত স্থানীয় বাসিন্দারা অনুভব করেছেন। নতুন করে ভূমিকম্পের আশঙ্কায় ফ্লোরেসের হাজারো মানুষ ধসে পড়া বাড়িঘরের বাইরে ত্রিপলের তাঁবু টাঙিয়ে রাত্রিযাপন করছেন।
৭২ দিন আগে
বিহারে মন্দিরে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক, পদদলিত হয়ে নিহত ৭
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যের একটি হিন্দু মন্দিরে আজ সোমবার পদদলনের ঘটনায় সাতজন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, বিহারের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে পশ্চিমবঙ্গের তীর্থযাত্রীদের একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লেগে অন্তত সাতজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
বিহারের লাখিসরাই জেলার অশোক ধাম মন্দিরের কাছে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার হাজার হাজার ভক্ত প্রার্থনা করতে ওই মন্দিরে জড়ো হয়েছিলেন।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে শ্রাবণ মাসটি শিবের উপাসনার জন্য উৎসর্গীকৃত এবং এ সময় উপবাস, প্রার্থনা ও বর্ষাকালীন বিভিন্ন উৎসব পালিত হয়।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু মানুষকে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক কর্মকর্তা শৈলেন্দ্র কুমার। তিনি বলেন, পদদলনের কারণ এখনও তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মন্দির প্রাঙ্গণের বাইরে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে ভক্তরা পালানোর চেষ্টা করলে এ ঘটনা ঘটে।
শৈলেন্দ্র কুমারের বরাতে প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) খবরে বলা হয়, হুড়োহুড়ি করে এগিয়ে আসা মানুষের চাপে ব্যারিকেডের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে অনেকে পড়ে গেলে তাদের ওপর অন্যরা পড়ে যান এবং পদদলনের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মন্দিরনগরী তারাপীঠে আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চারতলা একটি হোটেলের নিচতলায় আগুন লাগে। তখন অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছে পিটিআই।
খবরে বলা হয়, হোটেলের অনেক অতিথিই তারাপীঠে প্রার্থনা করতে আসা তীর্থযাত্রী ছিলেন। সেখানে একটি বড় মন্দির কমপ্লেক্সে শিবের একটি মন্দিরও রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের বেশ কিছু সময় পর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। সেখান থেকে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন দগ্ধ হওয়ার চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, অন্যরা ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ ও শ্বাসরোধজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ সংবাদ সংস্থাটিকে জানায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বৈদ্যুতিক উপাদানে আগুন লাগার পর অভ্যর্থনা এলাকার কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ধর্মীয় উৎসবের সময় ভারতে এ ধরনের পদদলনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে সাধারণ। বড় বড় ধর্মীয় সমাবেশে কখনো কখনো লাখ লাখ মানুষ সীমিত জায়গায় জড়ো হন, যেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে না।
গত বছরের জানুয়ারিতে মহাকুম্ভ উৎসবের সময় নদীতে স্নান করতে গিয়ে পদদলনের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন। মহাকুম্ভকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২০১৩ সালে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের একটি মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবে অংশ নেওয়া তীর্থযাত্রীরা একটি সেতু ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ওই ঘটনায় পদদলিত হয়ে এবং নিচের নদীতে ডুবে অন্তত ১১৫ জন নিহত হন।
৭২ দিন আগে