বিশ্ব
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ধাক্কা, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নিশ্চিত করা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার বহাল রেখেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। এর মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসী-বিরোধী এজেন্ডার একটি প্রধান স্তম্ভ অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছে আদালত।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিন ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যাতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসী ও অস্থায়ী বৈধ বাসিন্দাদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব না দেওয়ার প্রস্তাব ছিল।
তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের পক্ষে রায় লিখতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, এই আদেশ মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর লঙ্ঘন।
রায়ে রবার্টস লেখেন, ‘অতীতে যেমন, এখনও তেমনই নাগরিকত্ব মানে অধিকার ভোগের অধিকার; আমাদের রাজনৈতিক সমাজে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের অধিকার। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এ দেশের “প্রত্যেক স্বাধীনভাবে জন্ম নেওয়া ব্যক্তির” জন্য সেই প্রতিশ্রুতি সম্প্রসারিত করেছিলেন। আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করছি।’
রবার্টসের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করেন উদারপন্থি বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কেগান ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন এবং রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট।
তবে রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ রায়ের সঙ্গে একমত হলেও আংশিক ভিন্নমত দিয়ে বলেন, নির্বাহী আদেশটি ফেডারেল আইনের পরিপন্থি হলেও সংবিধান লঙ্ঘন করেনি। এছাড়া অপর তিন রক্ষণশীল বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও নিল গরসাচ ভিন্নমত দেন।
১৯৪ পৃষ্ঠার রায়ের মধ্যে প্রায় ৯০ পৃষ্ঠাই বিচারপতি থমাসের ভিন্নমত, যা সুপ্রিম কোর্টে তার দায়িত্বকালে সবচেয়ে দীর্ঘ ভিন্নমত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্প এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি বিষয়টি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লেখেন, ‘দীর্ঘ ও জটিল কোনো সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রয়োজন নেই। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের মতো ব্যয়বহুল ও দেশের জন্য অন্যায্য ব্যবস্থা বন্ধে কংগ্রেসের আজই কাজ শুরু করা উচিত। এতে আমার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।’
এদিকে, নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো এবং ডেমোক্র্যাটরা এ রায়কে আধুনিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, এ রায়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক সাংবিধানিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
মামলাটি পরিচালনা করে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)। সংগঠনটির জাতীয় আইন বিষয়ক পরিচালক সিসিলিয়া ওয়াং এই রায়কে একটি ‘বড় বিজয়’ হিসেবে উদযাপন করেছেন।
ওয়াং বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্ত আমেরিকার একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে—আপনি যদি এখানে জন্ম নেন, তাহলে আপনি একজন নাগরিক। কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাহী আদেশ দিয়ে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারেন না।’
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতির বিরোধিতা করে আসছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে তার অভিবাসন নীতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতার ব্যাখ্যা নতুনভাবে নির্ধারণ করা।
এর আগে তিনি বারাক ওবামা কেনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তিনি প্রেসিডেন্ট পদের জন্য অযোগ্য—এমন বর্ণবাদী প্রচারণা ছড়িয়েছিলেন। এমনকি কমলা হ্যারিসের জন্মের সময় তার মা-বাবার অভিবাসন মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে তিনি হ্যারিসের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের যোগ্যতার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।
তার প্রশাসনের দাবি ছিল, চতুর্দশ সংশোধনীতে ব্যবহৃত ‘subject to the jurisdiction thereof’ বা ‘যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের অধীন’ বাক্যাংশের অর্থ হলো, যেসব শিশুর বাবা-মা বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন না বা কেবল অস্থায়ী বৈধ মর্যাদা নিয়ে আছেন, তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবেন না।
নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নীতি কার্যকর হবে এবং এর ফলে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া কয়েক লাখ শিশুর নাগরিকত্বের ওপর প্রভাব পড়বে।
তবে এক বছরের বেশি সময় ধরে আদালতে এ আদেশের বৈধতা নিয়ে শুনানি চলার পর সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে অবস্থানকারী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুরাও চতুর্দশ সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারার আওতায় জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন নাগরিক।
ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস বলেছেন, চতুর্দশ সংশোধনী ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসাংবিধানিক আক্রমণ’ প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন রায়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধান ‘অপব্যবহার’ হয়েছে।
সহমতসূচক পৃথক মতামতে বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন লেখেন, চতুর্দশ সংশোধনীর ‘সর্বজনীন লক্ষ্য’ বংশপরিচয়কে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ভিত্তি করার যেকোনো দাবির অবসান ঘটানোর জন্যই প্রণীত হয়েছিল।
৩৩ দিন আগে
পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে প্রাণ গেল ১৪ স্কুলশিক্ষার্থীর, গ্রেপ্তার ২
পাকিস্তানের লাহোরে নির্মাণাধীন ভবনে পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে অন্তত ১৪ জন স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৮ শিশু আহত হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ জুন) লাহোরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি নির্মাণাধীন ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফয়সাল কামরান জানান, আহত শিশুদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় কোচিং সেন্টারের মালিক ও আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শিশু আটকে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, কোচিং সেন্টারটি একটি পুরোনো ভবনে পরিচালিত হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারণে নির্মাণাধীন দ্বিতীয় তলার ছাদ ধসে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানে ভবন ধসের ঘটনা নতুন নয়। দেশটিতে নির্মাণ মানদণ্ড যথাযথভাবে মানা হয় না। এ কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া অনেক ভবন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয় এবং খরচ কমাতে নিরাপত্তাবিধিও উপেক্ষা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাদ ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তারা কোদাল ও খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শিশুদের বের করে আনার চেষ্টা করেন।
৩৩ দিন আগে
আর্থিক জালিয়াতির দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা ধনকুবেরের ৩০ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আর্থিক জালিয়াতির দায়ে স্বেচ্ছানির্বাসিত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচক গুও ওয়েংগুইকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের তথ্যমতে, তিনি গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের সমর্থকদের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩০ জুন) ম্যানহাটনের একটি আদালতকক্ষে বিচারক আনালিসা টরেস এ রায় ঘোষণা করেন।
আনালিসা টরেস বলেন, চীনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে যেসব মানুষ গুওকে সমর্থন করে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি তাদেরই শিকার বানিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই অর্থে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন।
এদিকে, রায় ঘোষণার আগে গুও কারাগারে নিজের সঙ্গে হওয়া আচরণের প্রতিবাদ করেছেন। সে সময় তিনি জানান, সোমবার ভোরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এ সময় প্রসিকিউশনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, আদালতে তাকে অসুস্থতার ভান করা ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাকে আদালতে নিয়ে আসার সময় তিনি বারবার বমি করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
আদালতে গুওর বিরুদ্ধে হওয়া ফৌজদারি মামলার বিষয়ে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। এ সময় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে (সিসিপি) ধ্বংস করার জন্য।’
গুওর সাজা ঘোষণার সময় বিচারক টরেস ভুক্তভোগীদের পাঠানো কয়েকটি চিঠির অংশ পড়ে শোনান। চিঠিতে ভুক্তভোগীরা লিখেছেন, গুওর প্রতারণায় তারা আজীবনের সঞ্চয় হারিয়েছেন। এতে তারা চরম মানসিক চাপ ও লজ্জার মধ্যে পড়েছেন। ভুল বিনিয়োগের কারণে তাদের সঙ্গে পরিবারেও অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
বিচারক টরেস বলেন, গুও নিজের কর্মকাণ্ডের কোনো দায় স্বীকার করেননি। বরং তিনি দাবি করছেন, তার কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, এর আগে যারা গুওর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন, গুও তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেছেন।
এছাড়া রায়ে আদালত গুওর ৮৮৯ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে তা ভুক্তভোগীদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, তিন বছর আগে গুও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন। ২০২০ সালে তারা যৌথভাবে চীনা সরকারকে উৎখাতের একটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে সময় গুও নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্ক-সংলগ্ন একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো গলফ ক্লাবেরও সদস্য ছিলেন।
প্রসিকিউটররা আদালতে গুওর জন্য অন্তত ৩০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন। তাদের দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গুওর অভূতপূর্ব প্রতারণা শত শত মানুষের জীবন ধ্বংস করেন দিয়েছে। এতে অসংখ্য ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার আর্থিক, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে গুও বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন। তার সম্পদের মধ্যে ছিল প্রাসাদসম বাড়ি, ইয়ট, রেসিং কার, দামি পোশাক এবং বিলাসবহুল আসবাবপত্র।
সাত সপ্তাহ ধরে চলা এ বিচার কার্যক্রম শেষে ১২টি ফৌজদারি অভিযোগের মধ্যে ৯টিতে গুও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের মতে, বিচারে প্রমাণিত হয়েছে যে গুও হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থ লগ্নি করতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। আর সেই অর্থ দিয়েই তিনি নিজের বিলাসবহুল জীবন চালিয়ে গেছেন।
আদালতে দাখিল করা এক আবেদনে গুওর আইনজীবীরা দাবি করেন, গুও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। এমনকি তারা গুওর প্রাণনাশের হুমকির মতো তৎপরতা চালিয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
সাজা ঘোষণার আগে দাখিল করা নথিতে তার আইনজীবীরা আরও বলেন, গুওর দীর্ঘ কারাদণ্ড হলে তা চীনের অপপ্রচারকে শক্তিশালী করবে। এ রায় চীনা ভিন্নমতাবলম্বীদের স্বাভাবিক জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেবে। এছাড়া একই ধরনের মামলায় অন্য আসামিরা যেখানে দুই থেকে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন, সেখানে গুওর ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ সাজা অযৌক্তিক বলেও তারা উল্লেখ করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আরও জানান, আদালতের প্রবেশন কর্মকর্তা বিচারককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, চীনে নির্যাতনের কারণে গুওর শরীরে ক্ষতচিহ্ন ও বিকৃতি রয়েছে। ১৯৯৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব আঘাতের চিকিৎসা ও পুনর্গঠনের জন্য তার একাধিক অস্ত্রোপচারও হয়েছে।
আইনজীবীদের দাবি, গুওর পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চীনের বৃহত্তম সিকিউরিটিজ কোম্পানির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার ছিল। সেখান থেকেই তিনি বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। তবে চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করার পর থেকে তিনি সরকারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। পরে তিনি বাধ্য হয়ে হংকং ও লন্ডন হয়ে ২০১৭ সালে নিউইয়র্কে চলে যান।
এছাড়া চীনা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অপহরণ, ঘুষসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ এনেছিল। তবে আদালতে গুও দাবি করেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গুও তার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য শত শত মানুষকে রাজি করিয়েছিলেন। তাদের কাছ থেকে তিনি ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল তার গণমাধ্যম কোম্পানি জিটিভি মিডিয়া গ্রুপ ইনকরপোরেশন, হিমালয়া ফার্ম অ্যালায়েন্স এবং হিমালয়া এক্সচেঞ্জ।
সাজা ঘোষণার আগে আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক শিথিল আশ্রয় আইনের সুযোগ নিয়ে গুও দেশটিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, নিজের এসব অপরাধের জন্য গুও একেবারেই অনুতপ্ত নন।
৩৪ দিন আগে
ছাত্র-আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের ঘোষণা
টানা ১৮ মাস ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ।
সোমবার (২৯ জুন) তিনি বলেছেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমি পদত্যাগ করব।’ একই সঙ্গে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলের নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুচিচ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনা হয়। ওই রেলস্টেশন দুর্ঘটনার পর থেকে বিক্ষোভকারীরাসহ বিরোধী দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থাকে যে রেলস্টেশনে ছাউনি ধসের দুর্ঘটনার জন্য নির্মাণ প্রকল্পে সরকারের ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দায়ী। এরপর চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন গত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ভুচিচ।
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেদে সরকারপন্থিদের এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আর মাত্র কয়েক সপ্তাহই আমি প্রেসিডেন্ট আছি, এরপর আমি পদত্যাগ করব।’
তবে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং আগাম সংসদ নির্বাচনে তার দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টিকে (এসএনএস) জয়ী করতে তিনি কাজ করবেন বলেও এ সময় তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমার প্রস্তাব হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে আমাদের বিজয়ী জোটের নাম হবে “ইউনাইটেড সার্বিয়া”।’
অবশ্য তিনি কবে পদত্যাগ করবেন বা সংসদ ভেঙে দেবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষের আগেই আগাম সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পূর্বশর্ত হলো সংসদ ভেঙে দেওয়া।
ভুচিচ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বগ্রহণের পর এর মেয়াদ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ছিল।
এখানেই ভুচিচের রাজনৈতিক অধ্যায়ের শেষ নয়
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানেই ভুচিচের রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি হচ্ছে না। তিনি পদত্যাগ করলেও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তার দল এসএনএস জয়ী হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। অর্থাৎ পদবী যাই হোক না কেন, এসএনএস সরকার গঠন করলে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন ভুচিচ।
বিশ্লেষকদের মতে, এসএনএস ক্ষমতায় এলে প্রেসিডেন্ট পদেও নিজের ঘনিষ্ঠ কাউকে বসানোর চেষ্টা করবেন তিনি। এর মাধ্যমে পর্দার আড়াল থেকে তিনিই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন।
এ ব্যাপারে ওয়ারশ-ভিত্তিক বিশ্লেষক রাদিভোয়ে গ্রুইচ বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত মোটেও ভুচিচের রাজনৈতিক জীবনের শেষ নয়। ইতোমধ্যেই তার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নয়, বরং তিনি আবারও ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছেন।’
তবে শনিবার ভুচিচের পদত্যাগের ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রেসিডেন্ট পদ থেকে তার সরে দাাঁড়ানোর পেছনে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০০০ সালে স্লোবোদান মিলোসেভিচের পতনের পর ভুচিচ সরকারবিরোধী আন্দোলনই সার্বিয়ার সবচেয়ে বড় আন্দোলন।
কয়েক দিন আগে দেশটির নোভি সাদ শহরে শিক্ষার্থীরা রেলস্টেশন দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করেন। এ সময় আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানান তারা। এছাড়া গতকাল (রবিবার) দক্ষিণ-মধ্য সার্বিয়ার ক্রালিয়েভো শহরে আরেকটি ছাত্র সমাবেশ হয়েছে।
ছাত্র নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলনের কর্মীরা এবং বিরোধী দল উভয়েই জানিয়েছে, তারা নির্বাচনে ভুচিচ ও তার সমর্থিত দল এসএনএসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়।
ছাত্রসমর্থিত সরকারবিরোধী আন্দোলন ‘মুভ-চেঞ্জ’-এর প্রধান সাভো মানোইলোভিচ বলেন, ‘পদত্যাগ এবং আগাম প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ভুচিচ তার অনিবার্য পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির জনসমর্থন ছাত্র আন্দোলনের প্রতি।’
রাজনৈতিক সমীকরণ
সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রার্থী দেশ। তবে দেশটির সঙ্গে এখনও রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ক্ষমতায় থাকার পুরো সময়জুড়ে ভুচিচকে এই ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়েছে।
সার্বিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জ হলো ইইউতে যোগ দেওয়ার আগে দেশটিতে আইনের শাসন আরও শক্তিশালী করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা, দুর্নীতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পররাষ্ট্রনীতি ইইউর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
শনিবার ভুচিচ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, তার দল দুর্নীতির অবসান ঘটাবে। এছাড়া তিনি পেনশন বৃদ্ধি, দরিদ্রদের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেরও প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে বিরোধী দলীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, ভুচিচ এবং তার সহযোগীরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ব্যাপক দুর্নীতি, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দমনের সঙ্গে জড়িত। অবশ্য ভুচিচ এবং তার সহযোগীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
৩৫ দিন আগে
জাপানের আরও ৪০ প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ
তাইওয়ানকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রশ্ন ও জাপানের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় বারের মতো জাপানের ৪০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে চীন। চীনের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান জাপানের ‘পুনরায় সামরিকীকরণে’ ভূমিকা রাখছে।
সোমবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ২০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানকে একটি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে চীনের পাশাপাশি বিদেশি রপ্তানিকারকরাও এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে চীনে তৈরি দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য বিক্রি করতে পারবে না। দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য বলতে এমন সামগ্রীকে বোঝায় যা বেসামরিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায়।
এছাড়া আরও ২০টি প্রতিষ্ঠানকে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্যের নজরদারি তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এই নজরদারি তালিকায় রয়েছে জাহাজের ইঞ্জিন ও অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মিৎসুই ইঅ্যান্ডএস, ফুজিৎসু এবং কোমাতসু করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগ।
এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্য রপ্তানি করতে হলে চীনা কোম্পানিগুলোকে বিশেষ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাপানি প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য সামরিক কাজে ব্যবহার করা হবে না—মর্মে লিখিত অঙ্গীকারপত্র জমা দিতে হবে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চীনের এই পদক্ষেপ পুরোপুরি ন্যায্য, যৌক্তিক ও আইনসম্মত। এর উদ্দেশ্য হলো ‘নতুন সামরিকতাবাদ’ অনুসরণের ক্ষেত্রে জাপানের বেপরোয়া অবস্থানকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা আশা করি, জাপান উপলব্ধি করবে যে তাদের পুনরায় সামরিকীকরণের অবস্থান থেকে সরে আসা উচিৎ। জাপান সরকার তাদের অতীত নিয়ে আন্তরিকভাবে আত্মসমালোচনা করবে এবং সঠিক পথে ফিরে আসবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।’
গত বছর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে, তাহলে জাপান হস্তক্ষেপ করতে পারে। এরপর থেকেই বেইজিং ও টোকিওর সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাইওয়ান একটি গণতান্ত্রিক দ্বীপ, যেটিকে চীন নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।
এদিকে তাকাইচি সরকারের অধীনে সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করছে জাপান। এর মধ্যে দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন এবং নতুন নীতির আওতায় প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাপান তাদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধন করবে, যার ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেট আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় সময় সোমবার জাপানের গ্রাউন্ড সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স জানিয়েছে, দেশের সর্বদক্ষিণের প্রত্যন্ত দ্বীপ মিনামিতোরিশিমায় একটি টাইপ-১২ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, ফেব্রুয়ারিতেও চীন ২০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় এবং আরও ২০টি প্রতিষ্ঠানকে নজরদারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
এ ব্যাপারে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এরপরও জাপান নিজেদের অবস্থান সংশোধন না করে ভুল পথ এগিয়ে চলেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, জাপান পুনরায় সামরিকীকরণ ত্বরান্বিত করছে, আক্রমণাত্মক অস্ত্র মোতায়েন করছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অব্যাহত রেখেছে।
অন্যদিকে, চীন স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানের ওপর সামরিক চাপও বাড়িয়েছে চীন।
চলতি মাসের শুরুতে চীনা কোস্ট গার্ড তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমায় টহল পরিচালনা করে। সে সময় দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম এটিকে জাপান ও ফিলিপাইনের প্রতি স্পষ্ট সতর্কবার্ত হিসেবে বর্ণনা করেছিল। কারণ, দেশ দুটি এমন একটি সমুদ্রসীমা নিয়ে আলোচনার ঘোষণা দিয়েছিল যেটিকে চীন নিজেদের জলসীমা বলে দাবি করে।
অপরদিকে, গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স এক যৌথ বিবৃতিতে তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমায় চীনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানায়।
৩৫ দিন আগে
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প: চার দিন পর পিতা-পুত্র জীবিত উদ্ধার, নিহত প্রায় ১,৫০০
ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। এরই মধ্যে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরের একটি শহরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তি ও তার কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার পর পর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার প্রায় ৪ দিন পর স্থানীয় সময় রবিবার (২৮ জুন) কারাবালেদা নামক স্থানে ফরাসি ও মার্কিন উদ্ধারকারী দল ওই জীবিতদের সন্ধান পায়। ওই এলাকায় ভূমিকম্পের তীব্রতায় প্রায় ২০০টি ভবন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও জীবিত মানুষ উদ্ধারে সক্ষম হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের প্রশংসা করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। রবিবার তিনি বলেন, ‘আজও আমরা জীবিত মানুষ উদ্ধার করেছি। তাই এই উদ্ধার তৎপরতা স্থগিত করা হবে না। আমরা সব সময়ই আশা ধরে রাখছি।’
চলমান এই বিপর্যয়ের মধ্যে এই উদ্ধার অভিযান কিছুটা আশার আলো দেখালেও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত দেশটিতে এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। একই সঙ্গে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমাও ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে।
লাতিন আমেরিকার অন্যতম ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর লাখ লাখ মানুষের স্যানিটেশন ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
৩৫ দিন আগে
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে ৩৬ বেসামরিক নিহত, আহত ১৬০
পাকিস্তানি বাহিনীর রাতভর বিমান হামলায় আফগানিস্তানে অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ১৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, রবিবার গভীর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে স্থল অভিযান চালায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী। পরে জঙ্গিদের আস্তানা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়।
দেশজুড়ে সাম্প্রতিক একাধিক জঙ্গি হামলার জবাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, আফগানিস্তান এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ ও ‘চরম নিষ্ঠুরতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় নিহতদের সবাই বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সহকারী মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী পাকতিয়া প্রদেশের চামকানি জেলায় একটি বাড়িতে হামলা চালায়। এতে এক বৃদ্ধ ও এক শিশু নিহত হয় এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলে একই স্থানে আবারও হামলা চালানো হয়। এতে ২৮ জন গ্রামবাসী নিহত এবং ১৫৮ জন আহত হন।
তিনি আরও জানান, পাকতিকা প্রদেশের গিয়ান জেলার একটি গ্রামে আরেকটি বাড়িতে হামলায় ছয়জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া কুনার প্রদেশের একটি বেসামরিক বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও প্রায় ৩০টি গবাদিপশু মারা গেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলা বেড়েছে। এসব হামলার জন্য পাকিস্তান সরকার মূলত পাকিস্তানি তালেবান, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং তাদের মিত্র জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে আসছে।
পাকিস্তানি তালেবান ও আফগান তালেবান আলাদা সংগঠন হলেও তারা পরস্পরের মিত্র।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানায়, শনিবার (২৭ জুন) রাতে করাচিতে দেশটির আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে হামলার পর এ অভিযান চালানো হয়। ওই হামলায় তিন সেনা সদস্য নিহত হন। সে সময় পাল্টা হামলায় নিরাপত্তা বাহিনী তিন হামলাকারীকে হত্যা এবং আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে। আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
পাকিস্তানি তালেবানের বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার করাচির ওই হামলার দায় স্বীকার করে।
ওই হামলার জবাবে রবিবার রাতভর আফগানিস্তানে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী।
৩৫ দিন আগে
সৌদি আরবে আরামকোর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ১৪ আরোহী নিহত
সৌদি আরবে বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি আরামকোর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৪ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৮) সকাল ৬টার দিকে রাস তানুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের সবাই সৌদি নাগরিক বলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হেলিকপ্টারটি সৌদি আরব সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর ছিল। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আরামকোকে নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর সৃষ্ট বিঘ্ন এড়াতে তারা কিছু তেল রপ্তানি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
৩৬ দিন আগে
ফ্রান্সে স্কাইডাইভিং বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১১
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি স্কাইডাইভিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আরোহী ১১ জনের সবাই নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (২৮ জুন) ন্যান্সি শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত ন্যান্সি-এসি বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয় এবং ‘প্রায় উল্লম্বভাবে’ নিচে আছড়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন মিউর্ত-এ-মোজেল অঞ্চলের প্রিফেক্ট ইভ সেগুই।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বিএফএম-টিভিকে তিনি বলেন, বিমানটি বিমানঘাঁটির কাছাকাছি একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকার সীমানায় বিধ্বস্ত হয়।
ইভ সেগুই বলেন, ‘দুর্ঘটনাটি যদি আর কয়েক মিটার দূরে ঘটত, তাহলে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি একটি স্কাইডাইভিং ক্লাবের মালিকানাধীন ছিল এবং প্যারাশুট জাম্প কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল।
দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
৩৬ দিন আগে
করাচিতে জঙ্গি হামলায় পাকিস্তান রেঞ্জার্সের ৩ সদস্য নিহত
পাকিস্তানের করাচিতে জঙ্গি হামলায় দেশটির আধাসামরিক বাহিনী পাকিস্তান রেঞ্জার্সের ৩ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪ জন।
অন্যদিকে, পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৩ হামলাকারীও নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আরও একজনকে আহত অবস্থায় আটক করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ জুন) রাতে করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে জঙ্গি হামলার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে জঙ্গিদের একটি দল বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে ঢুকে পড়ে। সেখানে বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়।
দেশটির সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ ঘটনায় নিরাপত্তাবাহিনী তিন হামলাকারীকে হত্যা করেছে এবং তাদের মধ্যে একজনকে আহত অবস্থায় আটক করেছে। আটক ব্যক্তি একজন আফগান নাগরিক বলে শনাক্ত করেছে পুলিশ।
এছাড়া সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এ হামলার পর জঙ্গি গোষ্ঠীদের নির্মূলে অভিযান চালাচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে একাধিকবার বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, পাকিস্তানে হামলাকারী জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু করে তারা এসব হামলা চালিয়েছে।
তবে আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষ বারবার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসেছে। আফগানিস্তান সরকারের দাবি, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালানোর সুযোগ পায় না।
এদিকে, হামলার কিছুক্ষণ পরই পাকিস্তানি তালেবানের (টিটিপি) বিচ্ছিন্ন একটি অংশ জামাত-উল-আহরার এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জামাত-উল-আহরার গোষ্ঠীটিকে ভারতের মদদপুষ্ট বলে দাবি করে। তবে এ দাবির পক্ষে তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে, পাকিস্তানের একই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছিল ভারত।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি জঙ্গি হামলায় নিহত তিন রেঞ্জার সদস্যকে ‘শহিদ’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
তিনি জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর আত্মত্যাগের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে জাতির দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি হামলা প্রতিহত করায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জঙ্গিগোষ্ঠী ও তাদের সহযোগীদের নির্মূল করতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৩৬ দিন আগে