বিশ্ব
ইরানি জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র; তীব্র জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের
রবিবার হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়ে তা জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড। এদিকে, উভয় দেশের এমন আচরণ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম কোনো জাহাজ আটকের ঘটনা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির যৌথ সামরিক কমান্ড এই সশস্ত্র অভিযানকে জলদস্যুতা এবং যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
প্রণালিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এদিকে, আগামী বুধবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে। ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের ঘোষণার বর্তমান অবস্থা কী, তা এখন স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, মার্কিন আলোচকরা সোমবার পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হবেন।
এই অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়ে গেছে। এর ফলে গত কয়েক দশকের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ তুসকাকে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু তারা না থামলে জাহাজের ইঞ্জিনরুমে বোমাবর্ষণ করে সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়। মার্কিন নৌসেনারা বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ওই জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং এর ভেতরে কী আছে, তা দেখছে!
এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি, তবে তারা জানিয়েছে যে, ছয় ঘণ্টা ধরে বারবার জাহাজটিকে সতর্কবার্তা দিয়েছিল তারা।
১৫ দিন আগে
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় সোমবার পাকিস্তানে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধিদল: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্যে সোমবার মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলেও এই সফরের খবরে চলতি সপ্তাহে শেষ হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সম্ভাব্য এই আলোচনার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি তেহরান। এদিকে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। একদিকে ইরানের হামলার হুমকি, অন্যদিকে ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে।
এর আগে, রবিবার ইরানি কর্মকর্তারা জানান, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে, মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
শনিবার রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘আমরা নিজেরা (প্রণালি দিয়ে) চলাচল করতে না পারলে অন্যদের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন দফা আলোচনার ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে গুলি চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তবে দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। ট্রাম্প লেখেন, ‘তারা যদি চুক্তি না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সেতু গুঁড়িয়ে দেবে।’
তবে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার এই সরাসরি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন কর্মকর্তা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। প্রথম দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউস বা ভ্যান্সের কার্যালয় থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠী এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ—এই অমীমাংসিত বিষয়গুলোর কারণে প্রথম দফার আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল। এসব বিষয়ে দুই পক্ষ তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন এনেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের আগেই ইরানের প্রধান আলোচক গালিবাফ বলেন, অবরোধ এবং ওয়াশিংটনের প্রতি গভীর অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও শান্তি চায় তেহরান। তবে কূটনীতির ক্ষেত্রে কোনো পশ্চাদপসরণ হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর শুক্রবার প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। কিন্তু ট্রাম্প যখন ঘোষণা দেন, কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ ‘পুরোদমে বহাল থাকবে’, তখন ইরানও জানায় যে তারা প্রণালিতে নিজেদের বিধিনিষেধ বহাল রাখবে।
শনিবার সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা হলেও দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে গুলি চালানোর পর অন্য জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে নিজেদের অবস্থানে ফিরে যায়। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে আবারও অচলাবস্থা তৈরি হয়। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করার পাশাপাশি পক্ষগুলোকে নতুন করে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যেই শনিবার ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন কিছু প্রস্তাব পেয়েছে এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে কাজ করছেন।
দ্বিতীয় দফার আলোচনা ঘিরে আবারও ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি অগ্রবর্তী নিরাপত্তা দল ইতোমধ্যেই সেখানে পৌঁছেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। তার পর থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণকে ইরান তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তেহরানের জন্য এটি বিশ্ব অর্থনীতি ও ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অন্যতম হাতিয়ার। অন্যদিকে, ইরানকে চাপে ফেলতে অবরোধ দিয়ে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার কৌশল অবলম্বন করছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুদ্ধবিরতি এখনও টিকে থাকলেও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই অচলাবস্থা আবারও পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৩ হাজার জন এবং লেবাননে ২ হাজার ২৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে আরও বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৫ জন ইসরায়েলি এবং ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।
নতুন চুক্তির পথে অগ্রগতির চেষ্টায় পাকিস্তান
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সৃষ্ট অচলাবস্থার কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য ‘দূর করার’ চেষ্টা করছে।
রবিবার ট্রাম্পের সর্বশেষ পোস্টের আগে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের ইরান সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া ‘নতুন প্রস্তাব’ তারা পর্যালোচনা করছে।
তবে সাইদ খাতিবজাদেহ স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান তাদের ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে না এবং এ ধারণাকে তিনি ‘শুরু করার মতো কোনো বিষয়ই নয়’ বলে অভিহিত করেন। এ সময় ইউরেনিয়াম-সংক্রান্ত অন্যান্য প্রস্তাব নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি না হলেও বলেন, ‘যেকোনো উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করতে আমরা প্রস্তুত।’
১৬ দিন আগে
ইউক্রেনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬, পুলিশের পাল্টা গুলিতে আততায়ীর মৃত্যু
ইউক্রেনে এক বন্দুকধারী নিজস্ব অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে ৬ জনকে হত্যা করেছে। পরে পুলিশের ভয়ে জিম্মিদের নিয়ে একটি সুপারমার্কেটের ভেতর আত্মগোপন করেন তিনি। এরপর পুলিশ খোঁজ পেয়ে ওই স্থানে পৌঁছে তাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির রাজধানী কিয়েভের হলোসিভস্কি জেলায় একটি শপিং সেন্টারের সামনে এই হামলা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীর বয়স ৫৮ বছর। তবে তার নাম ও পরিচয় প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে কিয়েভে এমন গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। এ হামলায় রাস্তায় মানুষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা আতঙ্ক হয়ে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে তারা পালাতে থাকেন।
এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘হামলাকারীকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তিনি কিছু মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলেন। দুঃখের বিষয় এই যে, তাদের মধ্যে একজনকে তিনি হত্যা করেন। এ ছাড়াও রাস্তায় আরও ৪ জনকে তিনি হত্যা করেছেন। জিম্মিদের মধ্যে এক নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।’
তিনি আরও বলেন, একটা বিষয় নিশ্চিত যে, হামলাকারী রাস্তায় বের হওয়ার আগে একটি অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লাগিয়েছিল। তার নামে আরও বেশ কিছু অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন এবং জন্মসূত্রে একজন রাশিয়ান।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কো জানান, ইউক্রেনের বিশেষ কৌশলগত পুলিশ ইউনিটগুলো আলোচনার মাধ্যমে তাকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে পুলিশ দোকানটিতে অভিযান চালায়। দু্ষ্কৃতিকারী যাদের জিম্মি করেছিল, তারা ছিল ওই সুপারমার্কেটের ক্রেতা ও কর্মচারী।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কারণ আমরা ভেবেছিলাম, দোকানের ভেতরে কেউ আহত অবস্থায় রয়েছে। এমনকি রক্তপাত বন্ধ করার জন্য টুর্নিকেট দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলাম, তবুও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ফলে বাধ্য হয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হামলাকারীর বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ এই হত্যাকাণ্ডকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা হামলাকারীকে চিনতেন।
৭৫ বছর বয়সী হান্না কুলিক বলেন, ‘আমি তাকে চিনতাম। তিনি অত্যন্ত শিক্ষিত ও ভদ্র মানুষ বলে মনে হতো। আমি কখনও ভাবিনি যে তিনি কোনো অপরাধী হতে পারেন। লোকটি খুব বেশি মানুষের সঙ্গে মিশতেনও না। কারো সঙ্গে দেখা হলে শুধু শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি চলে যেতেন। একাই থাকতেন তিনি।
১৬ দিন আগে
টাইটানিক থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট নিলামে বিক্রি
আবারও সামনে এসেছে ইতিহাসের পাতায় অমলিন হয়ে থাকা আরএমএস টাইটানিক জাহাজ। জাহাজটি যখন আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাচ্ছিল, তখন একটি লাইফবোটের সাহায্যে প্রাণ বাঁচিয়ে ফেরা এক যাত্রীর ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেট নিলামে উঠেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইংল্যান্ডের ডেভাইজেসে লাইফ জ্যাকেটটি নিলামে ৬ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ডে (প্রায় ৯ লাখ ৬ হাজার ডলার) বিক্র হয়েছে।
এই লাইফ জ্যাকেটটি পরেছিলেন বিলাসবহুল ওই জাহাজের প্রথম শ্রেণির যাত্রী লরা মেবেল ফ্রাঙ্কাতেলি। জ্যাকেটিতে লরা এবং একই লাইফবোটে থাকা অন্য বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের স্বাক্ষরও রয়েছে।
পশ্চিম ইংল্যান্ডের ডিভাইজেসে নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ‘হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন’-এর টাইটানিকের স্মারক বিক্রির আয়োজনে এই জ্যাকেটটিই ছিল আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। নিলামের আগে এটির দাম আনুমানিক আড়াই লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ পাউন্ডের মধ্যে ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি টেলিফোনে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি দামে এটি কিনে নেন।
একই নিলামে টাইটানিকের একটি লাইফবোটের সিট কুশন বা বসার গদি ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে (৫ লাখ ২৭ হাজার ডলার) বিক্রি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির পিজন ফোর্জ এবং মিসৌরির ব্র্যানসনে অবস্থিত দুটি টাইটানিক জাদুঘরের মালিক এটি কিনে নেন। উল্লেখ্য, বিক্রিত এই দামের মধ্যে নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের ফি বা ‘বায়ার্স প্রিমিয়াম’ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিলামকারী অ্যান্ড্রু অলড্রিজ বলেন, ‘রেকর্ড সৃষ্টিকারী এই দামগুলো প্রমাণ করে যে টাইটানিকের গল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ আজও কতটা প্রবল। একইসঙ্গে সেইসব যাত্রী ও ক্রুদের প্রতি এটি এক গভীর সম্মান প্রদর্শন যাদের জীবনকাহিনী এই স্মারকগুলোর মাধ্যমে অমর হয়ে আছে।’
বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল এবং কার্যত ‘ডোবার অযোগ্য’ হিসেবে প্রচারিত টাইটানিক জাহাজটি ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল ইংল্যান্ড থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার প্রথম যাত্রায় নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে একটি বিরাট বরফখণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা খায়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি সমুদ্রের তলদেশে হারিয়ে যায়। জাহাজের ২ হাজার ২০০ যাত্রী ও ক্রুর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
টাইটানিক নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখনও মানুষের মাঝে এক ধরনের মোহ কাজ করে। আংশিকভাবে এর কারণ ছিল জাহাজে থাকা দরিদ্র থেকে শুরু করে প্রচণ্ড প্রভাবশালী—সব স্তরের মানুষের সরব উপস্থিতি।
লরা ফ্রাঙ্কাতেলি সেই জাহাজে তার নিয়োগকর্তা তথা ফ্যাশন ডিজাইনার লুসি ডাফ গর্ডন এবং লুসির স্বামী কসমো ডাফ গর্ডনের সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। তারা তিনজনই টাইটানিকের ১ নম্বর লাইফবোটে চড়ে বেঁচে ফিরতে সক্ষম হন। ৪০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ওই লাইফবোটটি মাত্র ১২ জন নিয়ে পানিতে নামানো হয়েছিল। তখন সমুদ্রের বরফশীতল পানি থেকে অন্য ডুবন্ত মানুষকে উদ্ধার না করায় পরবর্তীতে এ ঘটনাটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
টাইটানিকের স্মারক হিসেবে নিলামে সর্বোচ্চ দামে বিক্রির বিশ্বরেকর্ডটি বর্তমানে ১৫ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ডের (তৎকালীন হিসেবে প্রায় ২০ লাখ ডলার)। ২০২৪ সালে আরএমএস কার্পেথিয়া জাহাজের ক্যাপ্টেনের একটি সোনার পকেট ঘড়ি এই দামে বিক্রি হয়েছিল। কার্পেথিয়া ছিল সেই উদ্ধারকারী জাহাজ, যেটি টাইটানিকের ৭০০ জন জীবিত যাত্রীকে উদ্ধার করেছিল।
১৬ দিন আগে
ট্রাম্প ও তেহরানের অদূরদর্শী প্রচারণায় থমকে গেছে শান্তি প্রক্রিয়া
মার্কিন প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তেহরানের পক্ষ থেকে একের পর এক অদূরদর্শী ও অবিবেচনাপ্রসূত বার্তার কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তির পথে অর্জিত অগ্রগতি থমকে গেছে।
এই ভুল পদক্ষেপগুলোর চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ইরান ঘোষণা করেছে যে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর পুনরায় সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করবে। দেশটি তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো অংশই দেশের বাইরে রপ্তানি করতে দেবে না।
দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার। সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার খোলার পরপরই ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন। তিনি লিখেছিলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বন্দর ও সমুদ্রবিষয়ক সংস্থা কর্তৃক পূর্বঘোষিত সমন্বিত রুট অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে সকল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলো।
তার এই ঘোষণার ফলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম এক ধাক্কায় ১২ ডলার কমে যায়। দুপক্ষকে ফের আলোচনার টেবিলে নেওয়ার চেষ্টায় থাকা পাকিস্তানও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইরানের শর্তাবলি নির্ধারণের লক্ষ্যে ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা তিন দিন ধরে তেহরানে অবস্থান করছিলেন।
দ্য গার্ডিয়ানের কূটনীতিক সম্পাদক প্যাট্রিক উইন্টুরের ভাষ্য, আরাগচির পোস্টটি সম্ভবত ভুলভাবে সাজানো অথবা অসম্পূর্ণ ছিল, যা ইরানে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তোলে তেলের দরপতন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে খবরটিকে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যাখ্যা করা। ট্রাম্প ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং তাদের ইউরেনিয়ামের মজুদ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে রাজি হয়েছে তেহরান।
ইরানের ভেতরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, আরাগচির পোস্টটি বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল। ইরানি সংসদ সদস্য মোর্তজা মাহমুদী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি না থাকলে আরাগচিকে তার এই অসময়ের বক্তব্যের জন্য অভিশংসনের মুখোমুখি হতে হতো।
১৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধের ঘোষণা ইরানের
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তারা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে আবারও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তেহরান। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেওয়ার পর তেহরান এই পদক্ষেপ নিল।
যুক্তরাজ্যের একটি সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় একটি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর জাহাজ থেকে গুলি চালানো হয়েছে। একটি ভারতীয় পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজও এই জলপথে আক্রান্ত হয়েছে।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া যৌথ সামরিক কমান্ডের বরাতে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার তেহরান প্রণালিটিকে তার পূর্ববর্তী অবস্থায় (বন্ধ) ফিরিয়ে নিয়েছে এবং এটি এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরান থেকে যাওয়া এবং ইরানের দিকে আসা জাহাজগুলো চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে, তবে এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহ এবং আইআরজিসির নৌ কমান্ড এই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
শনিবার ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে পারমাণবিক ইস্যু এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
গত সপ্তাহের আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু আমাদের মধ্যে এখনও বড় দূরত্ব রয়ে গেছে। কিছু বিষয়ে আমরা অনড়... তাদেরও কিছু রেড লাইন (চরম সীমা) আছে। তবে এই অমীমাংসিত ইস্যুগুলো মাত্র একটি বা দুটি হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের খুব ভালো আলোচনা চলছে। তবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইল বা জিম্মি করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধের মিত্র ইসরায়েলের প্রশংসা করে বলেন, অন্য মিত্ররা সংঘাত ও চাপের মুহূর্তে তাদের প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে। তবে শনিবারের আলোচনার অবস্থা নিয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
আট সপ্তাহে পা দেওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সংঘাতটি লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে। এ যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
তুরস্কের আন্তালিয়ায় একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী খতিবজাদেহ বলেন, ইরান সদিচ্ছা নিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সহজ করার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অবরোধ চাপিয়ে দিতে পারে না।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইআরজিসির নৌ কমান্ড লিখেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরান থেকে আসা-যাওয়া জাহাজের চলাচল হুমকির মুখে থাকবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালির অবস্থা আগের মতোই থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হলে তার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে শুক্রবার প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল তেহরান। এর আগে, ৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই পথ বন্ধ করে দিয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, ওমানের উত্তর-পূর্বে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি ট্যাঙ্কারকে আইআরজিসির দুটি গানবোট ধাওয়া করে গুলি চালায়। জাহাজের ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, এর আগে রেডিওতে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। তবে ট্যাঙ্কার ও ক্রুরা নিরাপদ আছেন এবং কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত করছে।
ইরানের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল, যার আগের দিন ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন অবরোধ পুরোদমে বহাল থাকবে। ট্রাম্প তখন জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ইরানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি—যা বুধবার শেষ হওয়ার কথা, তা আর নাও বাড়ানো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও এর সময় এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। শনিবার মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উভয় পক্ষের মাঝে একটি চুক্তি হতে পারে।
শনিবার সকালে প্রণালিটি সামান্য সময়ের জন্য খোলা থাকার সময় অন্তত আটটি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার এই পথ অতিক্রম করেছিল। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রবিবার জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে লড়াই চলাকালীন তাদের একজন সেনা নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন।
১৬ দিন আগে
হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ ঘোষণা ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আবারও নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
এর এক দিন আগেই (শুক্রবার) বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি খুলে দিয়েছিল ইরান। তবে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর পাল্টে যায় তাদের অবস্থান।
ট্রাম্প বলেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, বিশেষ করে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত অবরোধ ‘পূর্ণমাত্রায় বহাল থাকবে’।
তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে... এবং এটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তারা আরও জানায়, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকা পর্যন্ত প্রণালিতে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এতে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ বৈশ্বিক সরবরাহে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে। লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে যখন ধারণা করা হচ্ছে, তার মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খোলার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান।
অন্যদিকে, উত্তেজনা বাড়লেও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২২ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির সময়সীমার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনও একটি চুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
চলমান সংঘাতে ইরানে অন্তত ৩ হাজার জন, লেবাননে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন, ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ডজনখানেকের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্যও নিহত হয়েছেন।
১৭ দিন আগে
মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছে ইরান। তবে দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় রাখে, তবে তারা আবারও এই জলপথটি বন্ধ করে দেবে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকলে এই প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে না।
এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি এখন বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত। লেবাননে ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘোষণা এল।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে এই খবরটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন যে, প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছে ইরান। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরেই আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত তেহরানেরর সঙ্গে আমাদের লেনদেন বা চুক্তি শতভাগ সম্পন্ন না হচ্ছে, ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
অপরদিকে, ইরানি নেতারা এই অবরোধকে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকলে প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
জানা গেছে, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন বাহিনী একাধিক ইরানি জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে।
আগামী সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো চুক্তি না হলে তিনি কী করবেন—শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি জানি না... তবে সম্ভবত আমি এর মেয়াদ বাড়াব না। সেক্ষেত্রে অবরোধ বহাল থাকবে এবং দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবারও হামলা শুরু করতে হবে। তবে ওয়াশিংটনের পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের তিনি এটিও বলেন যে, একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা টোল (শুল্ক) আদায়ের বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।
পারমাণবিক ইস্যুতে আগের আলোচনাগুলো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, খুব শিগগিরই তেহরানের সঙ্গে নতুন আলোচনা হতে পারে।
সম্ভাব্য আলোচনার এই আশাবাদ বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমিয়ে এনেছে, কারণ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করতে পারে বলে উদ্বেগ ছিল।
তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশটির কিছু আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রণালি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের স্পষ্টতা এবং কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের জন্য এখনও শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।
কেপলার নামক একটি ডেটা ফার্ম জানিয়েছে, প্রণালির ভেতর দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও এমন কিছু করিডোরের মধ্যে সীমাবদ্ধ যা ব্যবহারের জন্য ইরানের অনুমতির প্রয়োজন হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক্সে জানিয়েছে, গত সোমবার অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন বাহিনী এখন পর্যন্ত ২১টি জাহাজকে ইরানে ফেরত পাঠিয়েছে।
এদিকে, লেবাননে ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে বলে মনে হচ্ছে, যা সামগ্রিক উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সহায়ক হতে পারে। তবুও, সব পক্ষ এই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে চলবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে এখনও ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতির কারণে।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরুর পরপরই একটি ইসরায়েলি হামলায় বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটে। কোনো পক্ষই এখনও চুক্তির শর্তাবলি পুরোপুরি অনুসরণের নিশ্চয়তা দেয়নি।
বর্তমানে মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে প্রধান অমীমাংসিত বিষয়গুলো হলো— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ।
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়ে নতি স্বীকার করতে পারে। তবে ইরান বা মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে এর কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
১৭ দিন আগে
হরমুজ প্রণালি খুলল ইরান, নৌ-অবরোধ বহাল রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিয়েছে ইরান। তবে তেহরান যতক্ষণ পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছাবে, ততক্ষণ ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ পুরোদমে বহাল থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি এখন বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত। লেবাননে ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘোষণা এল।
ট্রাম্প প্রথমে এই খবরটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন যে, ইরান প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছে। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরেই আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন বা চুক্তি শতভাগ সম্পন্ন না হচ্ছে, ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় প্রণালি থেকে সব মাইন অপসারণের কাজ করছে।
লেবাননে হামলার জেরে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করলে ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শুরুতে এই অবরোধ আরোপ করেছিলেন। তখন ইরান দাবি করেছিল, ওই যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে প্রণালি খুলে দিতে বাধ্য করতে এই নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
ইরানের ঘোষণার পরেও অবরোধ অব্যাহত রাখার ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত তেহরানের ওপর চাপ বজায় রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। গত সপ্তাহের শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়, কারণ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়ে দেশ দুটি ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে।
১৮ দিন আগে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশীয় দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি জাপানের
ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ বিলিয়ন (১০০০ কোটি) মার্কিন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) এশীয় নেতাদের সঙ্গে ‘এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেক) প্লাস অনলাইন সামিটে’ অনলাইন বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সহযোগিতা কাঠামোর ঘোষণা দেন।
সানায়ে তাইকাচির বরাত দিয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জাপান পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, বিশেষ করে চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে। টোকিও সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে প্রতিটি এশীয় দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং আমরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
জাপানের এই সহযোগিতা কাঠামোর লক্ষ্য হলো এশীয় দেশগুলোকে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সংগ্রহে সহায়তা করা, সাপ্লাই চেইন বজায় রাখা এবং জ্বালানি মজুদ বৃদ্ধি করা।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের মুখে এশিয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কারণ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশই এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে যায়।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ১০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট ‘আসিয়ান’-ভুক্ত দেশগুলোর এক বছরের অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণের সমান।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশসহ ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এই প্রকল্পের অর্থায়ন আসবে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি), নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন্স্যুরেন্স (এনইএক্সআই), জাইকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই উদ্যোগ জাপানের অভ্যন্তরীণ তেল সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানের নিজস্ব মজুদে ২৫৪ দিন ব্যবহারের মতো তেল ছিল। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে কর্তৃপক্ষকে সেই মজুদ ব্যবহার করতে হচ্ছে। গত মাসে জাপান তার মজুদ থেকে রেকর্ড ৫০ দিনের তেল ছেড়েছে এবং মে মাসের শুরুতে আরও ২০ দিনের তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
জাপানে বর্তমানে ন্যাপথার (অপরিশোধিত তেল থেকে উৎপাদিত পেট্রোকেমিক্যাল এবং প্লাস্টিকের প্রধান কাঁচামাল) ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই উদ্বেগ বিশেষ করে হাসপাতালগুলোতে প্রকট। সিরিঞ্জ, গ্লাভস এবং ডায়ালাইসিস সরঞ্জামের মতো জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী তৈরিতে এই পদার্থটি ব্যবহৃত হয়।
এদিকে, শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তাকাইচি বলেছেন, ন্যাপথার সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। তবে বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার চাপে থাকা দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ন্যাপথার ঘাটতিতে আরও সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়েও তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশগুলোর সরকার জনগণকে গাড়ি শেয়ার করা এবং এসি ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার আহ্বান জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ফিলিপাইন জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
জাপানের আয়োজিত এই সম্মেলনে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র আসিয়ান দেশগুলোকে তাদের পারস্পরিক জ্বালানি ভাগাভাগি চুক্তি সক্রিয় করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এশিয়ার কোনো একক দেশ এই ধরনের সাপ্লাই চেইন বিপর্যয় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না।
১৯ দিন আগে