বিশ্ব
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েতে ‘পাল্টা হামলা’ চালিয়েছে ইরান
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার কুয়েত জানায়, দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে কোথায় হামলা হয়েছে বা কী লক্ষ্যবস্তু ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি দেশটির সামরিক বাহিনী।
পরে ইরান জানায়, সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জবাবে তারা পাল্টা অভিযান চালিয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেনি তেহরান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, বুধবার গভীর রাতে ইরান কুয়েতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ওয়াশিংটন এই ঘটনাকে পারস্য উপসাগরে তাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্রের বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত গুরুতর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কুয়েতে হামলার দায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। তবে ইরানে চলমান সংঘাতের সময় এর আগেও কুয়েতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার জন্য কুয়েত অতীতে ইরান ও ইরান-সমর্থিত ইরাকি শিয়া মিলিশিয়াদের দায়ী করেছিল।
এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনা নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটেনি। এখনো পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি।
পারস্য উপসাগরের এই সরু জলপথ দিয়ে একসময় বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হতো। প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
এর মধ্যে ইরানকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দিতে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে তেহরান তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে, যাতে দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, মাইন স্থাপনকারী নৌকা এবং আক্রমণকারী ড্রোন লক্ষ্য করে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি তৈরি করা ইরানের চারটি একমুখী ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী। একইসঙ্গে ইরানের বন্দর আব্বাসে একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে, যেখান থেকে পঞ্চম একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, ইরানের আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ড রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরএনএর মাধ্যমে বন্দর আব্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় হামলার কথা স্বীকার করেছে। হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত হয়।
ইরান দাবি করেছে, যে বিমানঘাঁটি থেকে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল, সেটিকে লক্ষ্য করেই তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। কুয়েতে হওয়া হামলার সঙ্গে এই অভিযানের সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়।
২২ দিন আগে
এ বছরই আসছে ‘এল নিনো’, ২০২৭ সালে ভাঙতে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড
জলবায়ু সংকট তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি রেকর্ড-ভাঙা উত্তপ্ত বছরের মুখোমুখি হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। এ বছরের শেষে ‘এল নিনো’র আগমন প্রত্যাশা করে বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড ২০২৭ সালেই ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
দ্যা গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন ক্রমাগত বাড়ছে, যা বায়ুমণ্ডলে আরও বেশি তাপ আটকে রাখছে এবং ঘন ঘন চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটাচ্ছে। এরই মধ্যে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে আঘাত হেনেছে রেকর্ড-ভাঙা তাপপ্রবাহ।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ইতোমধ্যে প্রতি মিনিটে একজন মানুষের প্রাণ যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবং দ্রুত কার্বন ডাই-অক্সাইডের নির্গমন না কমালে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিসের তৈরি ডব্লিউএমওর প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে একটি বছর ২০২৪ সালকে ছাড়িয়ে এ পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণ বছর হওয়ার সম্ভাবনা ৮৬ শতাংশ। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের পাঁচ বছরের গড় তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব যুগের গড়ের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় ৭৫ শতাংশ।
জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, ‘ইউরোপে সর্বশেষ তাপপ্রবাহ জলবায়ু সংকটের ঘূর্ণায়মান প্রভাবের একটি নির্মম স্মারক।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের অনেক অঞ্চলও কঠিন আঘাতের মুখে পড়ছে, যেমন ভারত এবং এশিয়ার অন্যান্য অংশ।’
স্টিয়েল বলেন, ‘চরম তাপ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ব্যয় থেকে মানুষের জীবন, ব্যবসা ও অর্থনীতি রক্ষা করা প্রতিটি দেশের মূল দায়িত্ব, আর এটি শুরু হয় জীবাশ্ম জ্বালানির আসক্তি আরও দ্রুত ত্যাগ করার মাধ্যমে।’
তিনি উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন এখন জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে সস্তা এবং দ্রুত উৎপাদনযোগ্য।
বিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করেছেন যে, ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উষ্ণতা আরও তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, ঝড় ও বন্যার সম্ভাবনা বাড়ায় এবং সমাজের মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। তবে উষ্ণতার প্রতিটি ভগ্নাংশ ডিগ্রি যদি এড়ানো যায়, তাহলেও ক্ষয়ক্ষতি কমে।
প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা শিল্পপূর্ব যুগের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা। এটি ২০ বছরের গড়ের ভিত্তিতে পরিমাপ করা হয়। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এখন অসম্ভব বলেই ধরা হচ্ছে।
অবশ্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার পরবর্তী ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রা এখনও অর্জনযোগ্য। ডব্লিউএমও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে কোনো একটি বছরে তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব যুগের বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ১ শতাংশেরও কম।
‘এল নিনো’ হলো মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই প্রাকৃতিক ও চক্রাকার আবহাওয়ার ঘটনাটি এ বছরের শেষে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এল নিনো আসার সম্ভাবনা ৯৬ শতাংশ এবং একটি সুপার এল নিনোর সম্ভাবনাও রয়েছে অন্তত ৩৫ শতাংশ।
প্রশান্ত মহাসাগরে বায়ুর গতিপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে এল নিনো তৈরি হয়, যার ফলে সমুদ্রে জমে থাকা তাপ বায়ুমণ্ডলে মুক্ত হয়। ডব্লিউএমও প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ড. লিওন হার্মান্সন বলেন, ‘২০২৬ সালের শেষে একটি এল নিনোর পূর্বাভাস রয়েছে, যা পরের বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে পরবর্তী রেকর্ড-ভাঙা বছর হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দেয়।’
নতুন প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, আর্কটিকে আগামী পাঁচটি শীতকাল সাম্প্রতিক গড়ের চেয়ে ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ হবে, অর্থাৎ এই অঞ্চলটি বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তর ইউরোপ, সাহেল অঞ্চল, আলাস্কা ও সাইবেরিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আর অ্যামাজন অঞ্চলে কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
২২ দিন আগে
কেনিয়ায় গার্লস স্কুলের হোস্টেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১৬ শিক্ষার্থী নিহত
কেনিয়ায় মেয়েদের একটি আবাসিক স্কুলের ডরমিটরিতে (হোস্টেল) রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এতে আরও ৭৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি। এ ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে কেনিয়ার গিলগিল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দেশটির শিক্ষা মন্ত্রী জুলিয়াস ওগামবা জানান, গিলগিল এলাকার উতুমিশি নামের মেয়েদের স্কুলটিতে আগুন লাগার ঘটনায় ৭৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। স্কুলটিতে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।
তিনি বলেন, এ অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও নির্ণয় করা যায়নি। স্কুলটির অগ্নি নিরাপত্তা নির্দেশিকা যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে দেশটির পুলিশ জানিযেছে, তারা স্কুলটিতে উদ্ধার অভিযান এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উতুমিশি স্কুলটি রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
কেনিয়ার সরকারি এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি কেনিয়া পুলিশের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হয়। এখানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা অনেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্তান। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
ঘটনাস্থলে থাকা এক ব্যক্তি ওয়ামবুই নদেরিতু বলেন, সে সময় ডরমিটরির তত্ত্বাবধায়ক দুটি দরজার মধ্যে একটি দরজা খুলে দিয়েছিলেন। তবে তখন তিনি শিশুদের বের হয়ে যাওয়ার জন্য আগে থেকে কোনো সতর্ক সংকেত দেননি।
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় দরজাটি বন্ধই ছিল। আমার চাচাতো বোন সেখান থেকে পায়ে আঘাত পেয়ে জীবন নিয়ে কোনোভাবে বের হতে পেরেছে। পরে আমাদের জানানো হয়েছে, সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং অনেক শিশু আহত হয়েছে।’
কেনিয়া রেড ক্রস জানায়, স্কুলটির আহত শিক্ষার্থীদেরউদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সংস্থাটি জানিযেছে, এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে সহায়তা দিতে তারা মানসিক সহায়তা দল নিয়োজিত করেছে।
কেনিয়ায় স্কুল অগ্নিকাণ্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ২০০১ সালে। তখন মাচাকোস কাউন্টির একটি ডরমিটরি অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
২০২৪ সালে মধ্য কেনিয়ার একটি স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন শিক্ষার্থী পুড়ে মারা যায়। পরে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন।
এর আগে, ২০১৭ সালে নাইরোবির একটি স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওই ঘটনায় একজন শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
২২ দিন আগে
ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা শুরু হওয়ার মধ্যেই নতুন করে দেশটির ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ মে) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি তৈরি করা ইরানের চারটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী। এছাড়া পঞ্চম একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল—এমন অভিযোগে ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনেও হামলা চালায় তারা।
সোমবার দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন পেতে রাখা নৌযানে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালানোর পর এবার নতুন করে এই সামরিক পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগন জানিয়েছে, চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সংযতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এর আগে, স্থানীয় সময় বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান প্রায় তিন মাসের সংঘাত নিরসনে তার প্রশাসন অগ্রগতি অর্জন করছে। তবে আলোচনা এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ট্রাম্প মূলত এমন একটি সমঝোতা চান যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হবে এবং তিনি দাবি করতে পারবেন যে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা গেছে। রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই সংঘাতের ইতি টানতেও তিনি আগ্রহী।
তবে, সম্ভাব্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতোমধ্যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। এমনকি তার নিজ দলের কয়েকজন সমর্থকও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এতে ইরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব দুর্বল হলেও আরও সাহসী হয়ে উঠতে পারে।
অবশ্য নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান নীতিতে এর কোনো প্রভাব নেই বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা ভেবেছিল, আমাকে অপেক্ষায় রেখে দেবে। বলছিল, তার তো মধ্যবর্তী নির্বাচন আছে, কিন্তু আমি মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবি না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা চায় একটি চুক্তি হোক, তা খুব করে চায়। তবে এখনও সেখানে (চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায়) পৌঁছানো যায়নি। বিষয়টিতে আমরা সন্তুষ্ট নই, তবে হব; নতুবা আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।’
সম্ভাব্য সমঝোতার বিভিন্ন শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার, লিন্ডসে গ্রাহাম ও টেড ক্রুজসহ ট্রাম্পের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছেন যে, আলোচনায় উঠে আসা শর্তগুলো তেহরানের জন্য অতিরিক্ত সুবিধাজনক হতে পারে।
তাদের অভিযোগ, সম্ভাব্য এই চুক্তির কিছু অংশ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বাতিল করেছিলেন।
সম্ভাব্য সমঝোতা অনুযায়ী, তেহরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করবে এবং এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা ও ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
এক কর্মকর্তা জানান, ৬০ দিনের আলোচনায় ঠিক হবে কীভাবে ইরান ইউরেনিয়াম ছাড়বে। ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ পাতলা করা হতে পারে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হতে পারে।
তবে ট্রাম্প বুধবার বলেন, রাশিয়া বা চীনের কাছে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর নিয়ে তিনি ‘স্বস্তিবোধ করবেন না’।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্যমতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্রমানের ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় পৌঁছাতে খুব অল্প প্রযুক্তিগত ধাপ দূরে। তবে ইরান এখনও প্রকাশ্যে এই ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
২২ দিন আগে
আফ্রিকাজুড়ে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি
আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো ক্রমেই সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং ব্যাটারি স্টোরেজকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। কয়লা ও বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধের পরিবর্তে সরকার ও বিনিয়োগকারীরা এখন সস্তা, দ্রুততর এবং আরও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুতের সন্ধানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন।
এই পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ মেলে চলতি মে মাসের শুরুতে চীন ও জাম্বিয়ার মধ্যে সম্পাদিত ১৫০ কোটি ডলারের একটি জ্বালানি চুক্তিতে, যেখানে সৌর, বায়ু ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ৩টি পৃথক ৩০০ মেগাওয়াট প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তিতে কয়লার উপস্থিতি মহাদেশটির স্থিতিশীল বেসলোড বিদ্যুতের চাহিদাকে তুলে ধরলেও ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি ব্যয়, অনির্ভরযোগ্য গ্রিড এবং ক্রমবর্ধমান শিল্প চাহিদার মুখে আফ্রিকার দেশগুলো এখন এমন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের দিকে ঝুঁকছে, যেগুলো প্রচলিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় দ্রুত ও কম খরচে স্থাপন করা সম্ভব।
সৌর ও বায়ুশক্তির জনপ্রিয়তা
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রন ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আফ্রিকায় ঘোষিত ৩২২টি জ্বালানি প্রকল্পের মধ্যে ১৭৩টিই ছিল সৌরশক্তি প্রকল্প। এরপরে রয়েছে জলবিদ্যুৎ ৪৬টি, বায়ুশক্তি ৩৪টি, গ্যাস ২২টি এবং হাইব্রিড জ্বালানি প্রকল্প ১৪টি।
কেনিয়ার আর্থিক খাতের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক ট্রাস্ট ‘এফএসডি কেনিয়া’র জলবায়ু অর্থায়ন প্রধান মুগওয়ে মাঙ্গা বলেন, ‘আফ্রিকা বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরের প্রান্তে নয়, বরং এর কেন্দ্রে রয়েছে। এই মহাদেশে বিশ্বের সেরা নবায়নযোগ্য সম্পদ রয়েছে এবং অর্থনীতি এখন স্পষ্টভাবে পরিষ্কার জ্বালানির পক্ষে ঝুঁকে গেছে।’
আফ্রিকা মিনিগ্রিড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এএমডিএ) প্রধান নির্বাহী ওলামিদে নিয়ি-আফুয়ে বলেন, মহাদেশটি জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের ধরনে একটি ব্যাপক কৌশলগত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে দ্রুত স্থাপনযোগ্য এবং নমনীয় অর্থায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণযোগ্য ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মিনি-গ্রিড ব্যবস্থায় সৌরশক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থার (আইআরইএনএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আফ্রিকা রেকর্ড ১১ দশমিক ৩ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সংযোজন করেছে যা আগের বছরের তিনগুণ। এই প্রবৃদ্ধির বড় একটি অংশ এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর ও ইথিওপিয়া থেকে।
খরচ কম
প্রযুক্তির ক্রমহ্রাসমান মূল্যও এতে বড় ভূমিকা রাখছে। ২০১০ সাল থেকে বৈশ্বিকভাবে ইউটিলিটি-স্কেল সৌরবিদ্যুতের খরচ প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে, আর স্থলভিত্তিক বায়ুশক্তির খরচ কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। ফলে আফ্রিকার অনেক বাজারে নবায়নযোগ্য জ্বালানিই এখন নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে সস্তা উৎস।
আফ্রিকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ক্রসবাউন্ডারি এনার্জির প্রধান নির্বাহী ম্যাট টিলার্ড বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন নিঃসন্দেহে মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিকে প্রয়োজনীয় মেগাওয়াটের সঙ্গে সংযুক্ত করার সবচেয়ে দ্রুত, সস্তা ও বিনিয়োগযোগ্য পথ।’
প্রবৃদ্ধির বড় একটি অংশ আসছে বিতরণমূলক সৌর ও ব্যাটারি সিস্টেম থেকে, যেগুলো সরাসরি খনি, কারখানা, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং বাড়িতে স্থাপন করা হচ্ছে।
টিলার্ড বলেন, বেশিরভাগ সরকারি পরিসংখ্যান এখনও পুরনো পদ্ধতিতে জ্বালানি রূপান্তর পরিমাপ করে; জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত মেগাওয়াট গণনা করে। কিন্তু সৌর ও ব্যাটারির জন্য কেন্দ্রীয় ইউটিলিটির প্রয়োজন নেই।
আফ্রিকা সোলার ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য দেখাচ্ছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আফ্রিকায় ২৩ দশমিক ৪ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু রয়েছে বলে নথিভুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, চীনের রপ্তানি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১৭ সাল থেকে আফ্রিকান দেশগুলোতে ৫৮ দশমিক ১ গিগাওয়াটের সৌরপ্যানেল রপ্তানি হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় সরকারি হিসাবে যা ধরা পড়ছে, বাস্তবে সৌরশক্তির প্রসার তার চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে হচ্ছে।
দ্রুত মুনাফা
বিনিয়োগকারীরা ক্রমেই নবায়নযোগ্য প্রকল্পে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ এগুলো দ্রুত মুনাফা দেয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের ওঠানামার ঝুঁকিও হ্রাস করে।
নিয়ি-আফুয়ে বলেন, ‘সৌর ও বায়ু প্রকল্পগুলো এই মুহূর্তে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়, কারণ এগুলো শক্তিশালী বাণিজ্যিক ভিত্তি এবং তুলনামূলকভাবে কম বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে সমন্বয় করে।’
কঙ্গোর কামোয়া-কাকুলা তামার খনি কমপ্লেক্সে ক্রসবাউন্ডারি এনার্জি ২৩৩ মেগাওয়াটের একটি সৌর ও ব্যাটারি প্রকল্প নির্মাণ করছে, যা আফ্রিকার অন্যতম বৃহত্তম তামার খনিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।
টিলার্ড জানান, চুক্তি সই থেকে মাত্র এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটির ৮০ শতাংশেরও বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর তুলনায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ১২ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এবং বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায়ই এক দশক বা তারও বেশি সময় লেগে যায়।
টিলার্ড বলেন, ‘অথচ, সৌর ও ব্যাটারি প্রকল্পে বিনিয়োগকারীরা মূলধন খাটানোর মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে উপার্জন শুরু করেন।’
নীতি পরিবর্তন সহায়ক হলেও রয়েছে চ্যালেঞ্জ
নীতিগত পরিবর্তনও মহাদেশটির নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করছে। ইথিওপিয়া প্রথম দেশ হিসেবে পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনচালিত যানবাহন আমদানি নিষিদ্ধ করেছে, যা বৈদ্যুতিক যানবাহনের দ্রুত গ্রহণকে উৎসাহিত করছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যক্তিগত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সীমা শিথিল করায় শিল্পখাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জোয়ার এসেছে।
তবে বড় বাধাগুলো এখনও রয়ে গেছে। আফ্রিকার অনেক বিদ্যুৎ ইউটিলিটি আর্থিক সংকটে রয়েছে, ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করতে ঋণদাতারা সতর্ক থাকছেন।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশ-ঝুঁকির ধারণার কারণে আফ্রিকায় নবায়নযোগ্য প্রকল্পে অর্থায়নের খরচ উন্নত অর্থনীতির তুলনায় তিনগুণ পর্যন্ত বেশি।
তবে আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনসহ (আইএফসি) উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলো রেয়াতমূলক ঋণ, গ্যারান্টি ও ঝুঁকি-ভাগাভাগির কাঠামোর মাধ্যমে এই ব্যবধান পূরণে সহায়তা করছে।
মাঙ্গা বলেন, ‘যা বাকি আছে তা আর প্রযুক্তি বা খরচের প্রশ্ন নয়। এটি এখন অর্থায়ন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং মহাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি করতে পারে—এমন বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প প্রস্তুতের প্রশ্ন।’
২৩ দিন আগে
ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ভবন ধসে ৪ জন নিহত, এখনও নিখোঁজ ১৭
ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ৯ তলা একটি ভবন ধসে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনও ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
হতাতহত ও নিখোঁজদের বেশিরভাগই ছিলেন নির্মাণশ্রমিক। আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৪ মে) ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলের অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে এই ভবন ধসের ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরেকজনকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও মারা যান।
এ সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তারা দেখেন, শত শত উদ্ধারকর্মী, দমকলবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে কংক্রিটের স্ল্যাব, লোহার রড ও অ্যালুমিনিয়ামের স্ক্যাফোল্ডিংয়ের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বের করে আনার চেষ্টা করছেন। আটকে থাকা অবস্থায় তখনও তারা জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাদের বের করে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আটকে পড়া এক ব্যক্তিকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখতে উদ্ধারকারীরা তাকে পানি ও শিরায় ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা করেন। আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জেস মেন্দেজ এপিকে বলেন, আটকে পড়া ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
সোমবার ধ্বংসস্তূপ থেকে যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তার সম্পর্কে অ্যাঞ্জেলেস সিটির প্রধান তথ্য কর্মকর্তা জে পেলায়ো জানান, উদ্ধার করা ওই ব্যক্তি নিখোঁজ ১৭ জনের তালিকায় ছিলেন না।
এছাড়া এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া চতুর্থ নিহত ব্যক্তি ছিলেন এক মালয়েশিয়ান পর্যটক। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষের একটি অংশ পাশের একটি সরাইখানার ওপর গিয়ে পড়লে তিনি সেখানে আটকা পড়েন। পরে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
গতকাল (রবিবার) প্রবল বজ্রঝড়ের পর বিকট শব্দে ভবনটি ধসে পড়ে। এক দিন পার হয়ে গেলেও উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। অ্যাঞ্জেলেস সিটির মেয়র কারমেলো লাজাতিন বলেন, আগে জীবিতদের উদ্ধার অভিযান চলবে। এরপর মরদেহগুলো উদ্ধার করা হবে।
তিনি বলেন, আমার এখনও আশা আছে, আমরা আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে পারব। আমরা আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিবারকে আশাহত করতে চাই না।
ধ্বংসস্তূপের পাশেই অস্থায়ীভাবে আশ্রয় তৈরি করে অপেক্ষা করে যাচ্ছেন নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা। তাদের সবার মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক কাজ করছে।
মেয়র লাজাতিন বলেন, উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন। কারণ বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো অ্যালুমিনিয়ামের স্ক্যাফোল্ডিংয়ের স্তুপের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে আটকে আছে। যেকোনো সময় সেগুলো ভেঙে পড়ে উদ্ধারকর্মীদের ওপর আছড়ে পড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, ভবন ধসের সময় সেখানে থাকা ২৬ জন শ্রমিক উদ্ধার হয়েছেন, অথবা নিজেরাই দৌড়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। যারা ভবনের নিচতলায় ছিলেন, তারা দ্রুতেই বের হয়ে আসতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
দেশটির জাতীয় পুলিশ প্রধান জেনারেল হোসে মেলেনসিও নারতাতেজ জুনিয়র বলেন, ভবন ধসে পড়ার কারণ এবং ভবন নির্মাণে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করবে পুলিশ।
২৫ দিন আগে
আজকের মধ্যেই ইরান সংঘাত নিয়ে ‘দৃঢ় চুক্তি’ সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা রুবিওর
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের কাছে বর্তমানে চলমান সংঘাতের ‘ভালো একটি প্রস্তাব’ রয়েছে এবং আজকের (সোমবার) মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (২৫ মে) ভারত সফরকালে রুবিও বলেন, ‘আমরা এখনও এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচকদের এই চুক্তির জন্য ‘তাড়াহুড়া না করার’ নির্দেশ দেওয়ার পর রুবিও এই মন্তব্য করলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। অবশ্য ট্রাম্প নিজেই আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে চুক্তিটি সম্পাদন হওয়ার খুব কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে।
খবর অনুযায়ী, এই চুক্তির মধ্যে রয়েছে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার একটি পরিকল্পনা।
চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক খবরে আজ (সোমবার) বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেশ কমে গেছে এবং এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোর সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
নয়া দিল্লিতে রুবিও বলেন, ‘আমরা এখনও এ চুক্তির বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আপনারা জানেন যে আমি বলেছিলাম, গতরাতেই হয়তো কোনো খবর পাব। তবে আজ পেতে পারি।’
হরমুজ প্রণালির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় তাদের প্রণালিটি খুলে দেওয়ার সামর্থ্যের ব্যাপারে আমাদের কাছে বেশ ভালো একটি প্রস্তাব রয়েছে।’ উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। ইরান এটি অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।
তবে, এ নিয়ে এখনই ‘অতিরিক্ত কিছু না ভাবার’ জন্য সতর্ক করে রুবিও বলেন, ‘ইরানের কাছ থেকে উত্তর আসতে কিছুটা সময় লাগবে।’
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে আছেন। এর ফলে তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আলোচনা ধীরগতিতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গত সপ্তাহের জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষই চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে একইসঙ্গে ‘খুব কাছে এবং আবার খুব দূরে’ অবস্থান করছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের মতে, এই চুক্তিটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়, বরং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরিধি ও সময়সীমা, ইরানের অবরুদ্ধ করে রাখা তহবিল মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটনের দাবির মতো কিছু জটিল বিষয় পরবর্তীতে আলোচনার জন্য তুলে রাখা হচ্ছে।
এই প্রস্তাবিত চুক্তিটি ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের মধ্যেই বিভেদ তৈরি করেছে। দলটির কিছু সদস্য প্রকাশ্যে যুক্তি দিচ্ছেন যে এটি ইরানের প্রতি অতিরিক্ত শৈথিল্য দেখানো হয়ে যাচ্ছে।
সিনেটর টেড ক্রুজ বলেছেন, এটি হবে একটি ‘বিপর্যয়কর’ ভুল। অন্যদিকে, সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির অর্থ হবে, অপারেশন এপিক ফিউরির মাধ্যমে যা কিছু অর্জিত হয়েছে, তার সব বৃথা হওয়া।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও এমন যেকোনো চুক্তির সমালোচনা করেছেন, যার ফলে ইরান এই অঞ্চলে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবেই রয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘এতে মনে প্রশ্ন জাগে, তাহলে যুদ্ধটা শুরু হয়েছিলই বা কেন?’
এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি সেইসব হেরে যাওয়া মানুষদের কথা শোনেন না, যারা নিজেরা কিছু না জেনেও সমালোচনা করে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আমি যদি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করি, তবে সেটি একটি ভালো এবং যথাযথ চুক্তিই হবে।’
তবে সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি হলেও, এই চুক্তির প্রভাব এখনই সরাসরি দেখা যাবে না।
ভেসপুচ্চি মেরিটাইমের প্রধান নির্বাহী এবং শিপিং কোম্পানি মার্সকের সাবেক পরিচালক লার্স জেনসেন বিবিসি রেডিও ৪-এর 'টুডে' অনুষ্ঠানে বলেন, শিপিং শিল্পের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খল সংকটের আগের অবস্থায় সশরীরে ফিরে যেতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।
তিনি বিষয়টির ব্যাখ্যা করেন এভাবে, আগামী দিনগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো চুক্তি ঘোষণা করা হলেও, এই শিল্প খাতটি কোনো ‘বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বা পরিচালনগত পরিবর্তন’ আনার ক্ষেত্রে এখনও ‘সতর্ক এবং দ্বিধাগ্রস্ত’ থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় এবং কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই পদক্ষেপের কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গিয়েছিল।
এপ্রিলের শুরুতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে, যা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘একটি চুক্তি চূড়ান্ত, প্রত্যয়িত এবং স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এটি পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।’ রবিবারের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে ইরানকে ‘অবশ্যই বুঝতে হবে’ যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তবে তেহরান বারবার বলে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
মার্কিন গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইরান শেষ পর্যন্ত তাদের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ। এই স্তর থেকে অস্ত্রের উপযোগী ৯০ শতাংশ মাত্রার সমৃদ্ধকরণে পৌঁছাতে আর অল্প কিছু সময়ের প্রক্রিয়াই বাকি থাকে, যা দিয়ে হিসাব অনুযায়ী একটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, ‘ইরান বিশ্বকে এই নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত যে আমরা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাচ্ছি না।’
২৫ দিন আগে
পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্তত ১৭
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সোয়াত এক্সপ্রেসওয়েতে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসের পেছনে একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসের ধাক্কায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৫ মে) খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মারদানের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার পরিষেবা সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মহাপরিচালক শাহ ফাহাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, একটি মিনিবাস দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফাহাদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে চালকের অবহেলার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, পাস্তিানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন দেশটির হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, করাচি থেকে বুনেরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস সোয়াত এক্সপ্রেসওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় রাওয়ালপিন্ডি থেকে দিরগামী যাত্রীবাহী মিনিবাসটি পেছন থেকে বাসটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের স্থানীয় মারদান মেডিকেল কমপ্লেক্সে পাঠান। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবরে শোক প্রকাশ করেছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার তথ্যমন্ত্রী শাফি জান। এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং এই দুর্ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং এই কঠিন সময়ে প্রাদেশিক সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।
২৫ দিন আগে
যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে বাড়ছে ক্ষুধার ব্যবহার, ক্রমবর্ধমান ‘খাদ্য-সম্পর্কিত সহিংসতা’য় উদ্বেগ
যুদ্ধ ও সংঘাতে ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে বলে নতুন এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। গত আট বছরে বিশ্বজুড়ে ২০ হাজারেরও বেশি ‘খাদ্য-সম্পর্কিত সহিংসতার’ ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দৈনন্দিন খাদ্য সংগ্রহে মানুষ যেসব বাজার ব্যবহার করে, সেখানে ১ হাজার ২৬১টি হামলা হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা ও মানবিক সহায়তা কর্মীদের লক্ষ্য করে ৮৬৩টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বহু কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২০১৮ সালের ২৪১৭ নম্বর প্রস্তাবের পরবর্তী সময়কাল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ওই প্রস্তাবে বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্য থেকে বঞ্চিত করাকে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহারের নিন্দা জানানো হয়।
প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর থেকে পরবর্তী সময়ের ওপর এই বিশ্লেষণটি চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে খাদ্য সংকটকে ক্রমেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে; যার অংশ হিসেবে গাজা, সুদান, লেবানন এবং হাইতিসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিতভাবে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজা, সুদান, লেবানন ও হাইতিসহ বিভিন্ন দেশে যেসব আগ্রাসন হয়েছে, তার সবকটিতে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করে বেসামরিক মানুষকে অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার এক পৈশাচিক খেলায় মেতে ওঠে হামলাকারী প্রতিপক্ষ। এসব ক্ষেত্রে ক্ষুধাকে যুদ্ধের অমোঘ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
‘ইনসিকিউরিটি ইনসাইট’ নামের একটি সংস্থার সংকলিত উপাত্তে দেখা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৫টি দেশে ২১ হাজার ৪০৩টি ঘটনায় খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অথচ ওই বছরই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে মানবিক সহায়তা প্রদানে বেআইনি বাধা সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানিয়ে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস করেছিল।
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, এই সময়ে কৃষিজমিতে ১ হাজার ৯০৯টি এবং ফসলের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পানি অবকাঠামোতে ৫৬৩টি সামরিক হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার কারণে বিশ্বের ৪২টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
২৫ দিন আগে
কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: নিহত ২, আহত ২১
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি ভবন আবাসিক এলাকা ও স্কুলসহ অন্তত ৪০টি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৪ মে) সারা রাত কিয়েভজুড়ে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বেজেছিল। হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ধোঁয়া উঠতে থাকে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকরা কিয়েভ শহরের কেন্দ্রে এবং সরকারি ভবনের আশপাশে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। সূর্য ওঠার পরও কিয়েভে হামলা চলছিল। এ সময় কিয়েভের দিকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা কথা জানিয়েছেন তারা।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো এক টেলিগ্রামে পোস্টে জানান, রাজধানীর বিভিন্ন জেলার অন্তত ৪০টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এ হামলায় বিভিন্ন স্থানে আবাসিক ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাজারে ২২ বছর ধরে কাজ করাছেন কিয়েভের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী স্বিতলানা অনোফ্রিয়িচুক। তিনি বলেন, ‘গতরাত ছিল ভয়াবহ এক রাত। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চলার পুরো সময়টতে এমন বিস্ফোরণ আগে কখনও ঘটেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অত্যন্ত কষ্ট নিয়ে বলছি, এখন আমার কিয়েভ ছেড়ে চলে যেতে হবে। আমি আর এখানে থাকছি না। এখানে থাকার কোনো উপায়ই নেই। হামলায় পুরো বাজার পুড়ে গেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।’
৭৪ বছর বয়সী কিয়েভবাসী ইয়েভহেন জোসিন বলেন, হামলার সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তার কুকুরটিকে আনতে দৌড়ে যান। তিনি বলেন, ‘তার ঠিক পরপরই আরেকটি বিস্ফোরণ হয়। সেই বিস্ফোরণের আঘাতে আমি আর আমার কুকুর দুজনই ছিটকে পড়ি। আমরা দুজনই প্রাণে বেঁচে গেলেও আমার বাসা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’
অন্যদিকে, কিয়েভের শেভচেঙ্কো এলাকায় পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, ওই আবাসিক ভবনে একজন নিহত হয়েছেন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, হামলার সময় মানুষ একটি স্কুল ভবনে আশ্রয় নিয়েছিল। পরে সেই স্কুল ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হামলার ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সুপারমার্কেট ও গুদামঘরেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
আঞ্চলিক গভর্নর মাইকোলা কালাশনিক জানান, এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভ অঞ্চলের একাধিক এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া তাদের ওপর হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এ সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। পরে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীও রাশিয়ার ওরেশনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সম্ভাবনার কথা জানায়।
রাশিয়া প্রথম ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ইউক্রেনের দনিপ্রো শহরে ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছিল। এ বছরের জানুয়ারিতে পশ্চিম ইউক্রেনের লভিভ অঞ্চলে দ্বিতীয়বার রাশিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপারে জানিয়েছেন, ওরেশনিক শব্দের অর্থ হলো হ্যাজেল বাদাম গাছ। ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ১০ গুণ গতিতে ছুটতে সক্ষম। এটি মাটির নিচে অনেক গভীরে থাকা বাঙ্কারও ধ্বংস করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই অস্ত্রটি উল্কাপিণ্ডের মতো ছুটে যায়। বিশ্বের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটিকে থামাতে পারবে না। পুতিনের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত পারমাণবিক হামলার মতোই ভয়াবহ হতে পারে। ওয়ারহেড বহন করেও এর আঘাত প্রতিহত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
২৬ দিন আগে