বিশ্ব
ইউক্রেনে হামলায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে মস্কো, অভিযোগ জেলেনস্কির
ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও গ্লাইড বোমা দিয়ে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কোর বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কো উত্তর কোরিয়া থেকে নতুন করে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহরে রাতভর হামলায় রুশ বাহিনী উত্তর কোরিয়ার সরবরাহ করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই হামলায় ছয়জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন ও গোলাবর্ষণে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরসহ আরও তিনজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে এবং আরও উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দুই বছরের বেশি সময় আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিতে দুই দেশের যেকোনো একটি দেশ আগ্রাসনের শিকার হলে পারস্পরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
ইউক্রেনে পুতিনের আগ্রাসনকে সমর্থন করতে কিম হাজার হাজার সেনা এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করেছেন। বিশেষজ্ঞের কারও কারও মতে, মস্কোর সঙ্গে এই সহযোগিতার ফলে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ছে। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়াকে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠতে সহায়তা করবে।
ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াচ্ছে। কিয়েভের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিকে কাজে লাগাতেই মস্কো এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে দাবি ইউক্রেনের। দেশটি আরও বলছে, পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনজুড়ে ১ হাজার ২৫০ কিলোমিটার (৭৭৫ মাইল) দীর্ঘ সম্মুখসারিতে নতুন করে অভিযান চালাতে রাশিয়া সেনা নিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো, উত্তর কোরিয়ার সরঞ্জাম আনা, সেনা সমাবেশের প্রস্তুতির মতো রাশিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপই দেখাচ্ছে যে মস্কো শান্তির জন্য নয়, বরং উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। সমঝোতার দিকে অগ্রগতির অভাবে ওয়াশিংটন হতাশ হয়ে পড়েছে এবং ইরান যুদ্ধের দিকে তাদের মনোযোগ সরে গেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার সোমবার রাতে এক বিশ্লেষণে বলেছে, ‘পুতিন যতক্ষণ মনে করবেন যে তার পূর্ণাঙ্গ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি কার্যকর সামরিক পথ রয়েছে, ততক্ষণ ক্রেমলিন গুরুতর আলোচনায় প্রবেশ করবে না বা তার দাবিতে বড় কোনো ছাড় দেবে না।’
সংস্থাটি আরও বলেছে, ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রাশিয়াকে ইউক্রেনের ব্যাপক ক্ষতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এর ফলে অর্থবহ আলোচনা পিছিয়ে যেতে এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে।
কিয়েভের শিশু হাসপাতালে হামলা
রাতভর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। একটি হামলায় একটি শিশু হাসপাতালের চত্বরে দুটি গর্ত তৈরি হয় এবং জানালার কাচ ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগ। তবে শিশু ও চিকিৎসাকর্মীরা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকায় কেউ আহত হয়নি।
রাজধানীর অন্য একটি এলাকায় রুশ হামলায় একটি গুদামে আগুন ধরে যায়। জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গমিটার (প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুট) এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী রাতভর কিয়েভ ও জাপোরিঝঝিয়ার ‘সামরিক শিল্প স্থাপনা এবং পরিবহন ও সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে’ স্থলভিত্তিক নির্ভুল অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি জানায়, কিয়েভে ড্রোন সংরক্ষণ করা হচ্ছিল এমন বেসামরিক গুদাম এবং জাপোরিঝঝিয়া শহরের একটি ধাতু কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া জাপোরিঝঝিয়া ও কিয়েভে জিরকন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ও ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ১২০টি দূরপাল্লার হামলা চালানোর ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে আবারও হামলা
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার ১৪টি অঞ্চল ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার আকাশে প্রায় ৪০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজ জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী ভোরোনেজ অঞ্চলে তাদের সরবরাহকেন্দ্রগুলো হামলার শিকার হয়ে আগুন ধরে যায়। তবে পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সেখানে সংরক্ষিত পণ্য ‘বেশিরভাগই অক্ষত’ রয়েছে।
ইউক্রেন এর আগে একাধিকবার ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়ে আসছে দেশটি। কিয়েভের দাবি, পুতিনকে যুদ্ধ অবসানে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার কৌশলের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, রাতভর তাদের বাহিনী রাশিয়ার ওরেনবুর্গ অঞ্চলের ওরস্কনেফতেওরগসিনতেজ তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শোধনাগারটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায়।
শোধনাগারটির বছরে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। সেখানে গ্যাসোলিন, ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানিসহ বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদন করা হয়। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।
৭৭ দিন আগে
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড
মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত দেশটিতে ১৪ বছর ধরে চলা সংঘাতে এসব অপরাধের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই সংঘাতে দেশটিতে প্রায় ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন।
আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের অবসানের ২০ মাস পর আজকের এ রায়ই বাশার আল-আসাদ বা তার ঘনিষ্ঠ মহলের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে প্রথম সাজা। আদালতের এই বিচার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
রায়ে বিচারক ফাখারেদ্দিন আল-আরিয়ান বলেন, ‘বাশার আল-আসাদ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করেছেন।’
একই মামলায় আসাদের মামাতো ভাই আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দারা প্রদেশে দমন-পীড়নের তদারকির দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই দমন-পীড়নই পরবর্তী সময়ে দেশটিতে বিদ্রোহ এবং গৃহযুদ্ধের সূচনা করেছিল।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিওতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নাজিবকে কারাবন্দিদের পোশাক পরে একটি খাঁচার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় বিচারক তার সাজা পড়ে শোনান। রায় শুনতে দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে আদালত ভবনের বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন।
৭৭ দিন আগে
যুগান্তকারী ভোটে মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করল লেবানন
মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করেছে লেবানন। আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও কঠোর শ্রমের শাস্তি চালু করল দেশটি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ভোটের মাধ্যমে এই আইনটি বিলোপ করে দেশটি।
লেবাননের ১২৮ সদস্যের পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা মৃত্যুদণ্ড বিলোপের পক্ষে ভোট দেন। তবে হিজবুল্লাহর সংসদীয় ব্লক এর বিরোধিতা করে।
পার্লামেন্টে উপস্থিত দেশটির বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার এ সিদ্ধান্তকে লেবাননের জন্য ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া কিংবা সম্পূর্ণভাবে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের আহ্বান জানিয়ে আসা মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবাননবিষয়ক গবেষক রামজি কাইস বলেন, ‘লেবানন এমন একটি নিষ্ঠুর শাস্তি থেকে চূড়ান্তভাবে সরে আসছে, যা কখনোই দেওয়া উচিত নয়।’
তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড তার নিষ্ঠুরতা ও চূড়ান্ততার দিক থেকে অনন্য এবং এতে স্বেচ্ছাচারিতা, পক্ষপাত ও ভুলের ঝুঁকি থেকেই যায়।’
তবে কঠোর শ্রমের শাস্তি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কয়েকজন আইনপ্রণেতা বলেছেন, নতুন শাস্তির শর্তগুলো এখনও পরিষ্কার নয়।
লেবাননের আইনে আদালতের রায় ও বিধিবিধানে ‘কঠোর শ্রমের’ শাস্তির উল্লেখ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির আর্থিক সংকট, সম্পদের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত বন্দিতে ঠাঁসা কারাগারগুলোর সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে এই শাস্তিও খুব কমই কার্যকর করা হয়েছে।
লেবাননে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন পার্লামেন্টে একটি বিতর্কিত সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়ে আলোচনা চলছে। ১৯৯০ সালে দেশটির ১৫ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানের পর এটিই হবে সবচেয়ে বড় সাধারণ ক্ষমার উদ্যোগ। প্রস্তাবিত আইনের আওতায় কিছু দণ্ড কমানো, এমনকি দণ্ডিত জঙ্গি ও মাদক কারবারিদের মুক্তিও দেওয়া হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
ইসলামপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হামলা ও হত্যাকাণ্ডে নিহত লেবাননের সেনা ও নিরাপত্তাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা আইনটির বিরুদ্ধে বারবার বিক্ষোভ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, তারা তাদের স্বজনদের হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেখতে চেয়েছিলেন, কম মেয়াদের কারাদণ্ড নয়।
ঐতিহাসিক এই ভোটের বিষয়ে হিজবুল্লাহ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। লেবাননের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু নিজস্ব বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডকে বৈধ বলে বিবেচনা করা হয়।
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ছোট্ট এই দেশটি অবশ্য ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ দিয়ে রেখেছিল। তবে এরপরও দেশটির আদালতগুলোতে বেশ কিছু মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। পরে অবশ্য সেগুলো স্থগিত অথবা কমিয়ে দেওয়া হয়।
৭৭ দিন আগে
দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিত্যক্ত খনিতে ১৪ অবৈধ খনি শ্রমিকের মৃত্যু
দক্ষিণ আফ্রিকার একটি পরিত্যক্ত খনিতে অন্তত ১৪ জন অবৈধ খনি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ সার্ভিস (এসএপিএস) জানিয়েছে, জোহানেসবার্গ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার (৮০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে রাস্টেনবার্গ শহরের কাছে একটি খনিতে ওই শ্রমিকদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তবে তাদের মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতীয় পুলিশ সার্ভিস বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তারা জানিয়েছে, প্রাদেশিক পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় খনি কোম্পানিগুলো ব্যবহার না করা সোনা ও প্লাটিনামের খনিতে অবৈধভাবে কাজ করেন হাজার হাজার ক্ষুদ্র খনি শ্রমিক। এসব অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিক খনির ভেতরে গিয়ে অবশিষ্ট খনিজের সন্ধান করেন এবং তা বিক্রি করেন। তারা প্রায়ই যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করেন এবং কখনো কখনো কয়েক সপ্তাহ ভূগর্ভে অবস্থান করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্লাটিনাম খনিশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র রাস্টেনবার্গ। দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্লাটিনাম মজুত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অনানুষ্ঠানিক খনন একটি গভীর সমস্যা এবং এর সঙ্গে অপরাধী চক্রগুলোর সম্পৃক্ততা রয়েছে। অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিকরা ‘জামা জামা’ নামে পরিচিত, যার অর্থ দাঁড়ায় ‘ঝুঁকি গ্রহণকারী’। তারা প্রায়ই দলবদ্ধভাবে কাজ করেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষে জড়ান।
অবৈধ খনন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রকার সর্বশেষ বড় দুর্ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের শেষ দিকে। সে সময় একটি সোনার খনিতে শত শত খনি শ্রমিক ভূগর্ভে আটকা পড়েন। পুলিশ ওই খনিটি ঘিরে রাখার পর উদ্ধার অভিযান নিয়ে কয়েক মাস অচলাবস্থা চলে। কর্তৃপক্ষের মতে, ওই ঘটনায় ভূগর্ভে ৮০ জনের বেশি খনি শ্রমিক মারা যান।
সংগঠিত অপরাধ দমনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা চলতি বছরের শুরুতে এক বছরের একটি অভিযানে রাস্তায় সেনা মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ নেন। অবৈধ খননও ওই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
৭৮ দিন আগে
অনাকাঙ্ক্ষিত টেলিমার্কেটিং কল নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স
ভোক্তাদের বিরক্তিকর বিক্রয় প্রচারণা থেকে সুরক্ষা এবং প্রতারণামূলক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষায় অনাকাঙ্ক্ষিত টেলিমার্কেটিং বা বাণিজ্যিক কল নিষিদ্ধ করেছে ফ্রান্স। নতুন আইনে ভোক্তার পূর্বানুমতি ছাড়া এ ধরনের ফোনকল করে বিরক্ত করতে পারবে না ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সরকারের সমর্থিত নতুন এই আইন কার্যকর হয়েছে।
বিভিন্ন দেশ অনাকাঙ্ক্ষিত বিপণন কল বন্ধে ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থা চালু করলেও ফ্রান্স আশা করছে, বাধ্যতামূলক ‘অপ্ট-ইন’ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে।
বছরের পর বছর অভিযোগ
সরকার বলছে, বছরের পর বছর ধরে ভোক্তাদের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আইনটি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রয় কল পান। অনেকেই এর চেয়েও বেশি কল পান।
ফ্রান্সে আগে যারা বিপণনমূলক ফোনকল এড়াতে চাইতেন, তাদের সরকারি একটি সেবায় নিজেদের ফোন নম্বর নিবন্ধন করতে হতো। কিন্তু ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করে আসছিল, কিছু কল সেন্টার ওই তালিকা মানত না।
২০২৪ সালে ১১টি ভোক্তা অধিকার সংগঠন যৌথভাবে এ ধরনের কল নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানায়। তারা ল্যান্ডলাইন ও মোবাইল ফোনে অসংখ্য অনাকাঙ্ক্ষিত টেলিমার্কেটিং কলের মাধ্যমে ভোক্তাদের ‘নিরলস হয়রানির’ নিন্দা জানিয়ে বলেছিল, এ ধরনের হস্তক্ষেপ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নিয়মিত অংশ হয়ে উঠেছে।
এরপর গত বছর ফ্রান্সের পার্লামেন্ট আইনটি অনুমোদন করে। এবার নতুন আইনটি বাস্তবায়িত হওয়ায় সেসব জটিলতা দূর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশটির প্রতিযোগিতা, ভোক্তা বিষয়ক ও প্রতারণা প্রতিরোধ অধিদপ্তরের (ডিজিসিসিআরএফ) চিফ অব স্টাফ অ্যালিস ভিলকট বলেন, ‘ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভোক্তার পূর্বানুমতি ছাড়া তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবার অনুমতি দিলেও ভোক্তা যেকোনো সময় ওই সম্মতি প্রত্যাহার করতে পারবেন।’
একটি অবৈধ কলেই গুণতে হবে বড় অঙ্কের জরিমানা
অবৈধ টেলিমার্কেটিং কল করা ব্যক্তিকে প্রতি কলের জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ইউরো (৮৭ হাজার ডলার) জরিমানা করা হতে পারে। আর কোনো কোম্পানির পক্ষ থেকে অবৈধ কল গেলে প্রতি কলের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো (৪ লাখ ৩৫ হাজার ডলার) জরিমানা গুনতে হতে পারে।
তবে আইনে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যেমন: কোনো ভোক্তা ফরমে সম্মতির ঘরে টিক চিহ্ন দিয়ে বিপণনমূলক কল পাওয়ার অনুমতি দিতে পারেন। আবার কোনো কোম্পানির সঙ্গে গ্রাহকের আগে থেকেই চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক থাকলে প্রতিষ্ঠানটি তাকে নতুন বাণিজ্যিক প্রস্তাব জানাতে পারবে।
অনাকাঙ্ক্ষিত কলের বিষয়ে মানুষ একটি সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
ভিলকট জানান, আয়ারল্যান্ডভিত্তিক একটি কোম্পানিকে গত বছর ৬০ লাখ ইউরো (৬৯ লাখ ডলার) জরিমানা করা হয়েছিল। ফ্রান্সের আগের টেলিমার্কেটিং বিধি লঙ্ঘন করে ‘নো-কল’ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ফোন করার কারণে ওই জরিমানা করা হয়।
ফ্রান্সের নতুন আইনে মরক্কোয় উদ্বেগ
ফ্রান্সের নতুন আইনটি মরক্কোতেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইউনেস সেক্কুরি আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, এতে মরক্কোর কল সেন্টার খাতে ৫০ হাজার পর্যন্ত চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সেক্কুরি বলেন, এ খাতে প্রায় ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ এসেছে এবং এই খাত বছরে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে।
কম শ্রম ব্যয়, ফরাসিভাষী বিপুল কর্মী এবং তুলনামূলক দুর্বল শ্রমিক ইউনিয়নের কারণে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে মরক্কো আকর্ষণীয় আউটসোর্সিং গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ব্যয় কমাতে চাওয়া ফরাসি কোম্পানিগুলো দেশটির কল সেন্টার খাতের বড় গ্রাহক।
মরক্কোর আউটসোর্সিং সার্ভিসেস ফেডারেশনের সভাপতি ইউসুফ চ্রাইবি স্থানীয় দৈনিক ‘লে মাতাঁ’কে বলেন, ঐতিহাসিকভাবে ফ্রান্সের বাজার দেশটির এ খাতের আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি জোগান দিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, ‘শুধু টেলিমার্কেটিং এখন মোট কর্মকাণ্ডের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ।’ একই সঙ্গে খাতটি প্রচলিত কল সেন্টার সেবার বাইরে ক্রমেই বৈচিত্র্য আনছে বলেও জানান তিনি।
অন্য দেশগুলোর পদক্ষেপ
নাগরিকের সুরক্ষায় ফ্রান্স সরকারের এই পদক্ষেপ বিশ্বে নতুন নয়। প্রতিবেশী দেশ জার্মানিতে ২০০৯ সাল থেকেই এ ধরনের কলের ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নেদারল্যান্ডস গত মাসে টেলিমার্কেটিং কলের নিয়ম আরও কঠোর করেছে। দেশটিতে আগে থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রয় কল নিষিদ্ধ ছিল। এখন কোনো কোম্পানি পূর্বানুমতি ছাড়া তাদের বিদ্যমান গ্রাহকদেরও প্রচারণামূলক প্রস্তাব দিতে ফোন করতে পারবে না।
অন্য অনেক দেশ অবশ্য ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থা অনুসরণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ জাতীয় ‘ডু নট কল’ রেজিস্ট্রিতে নিজেদের নাম নিবন্ধন করতে পারেন। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রয় কল কমে আসে। কানাডা ও যুক্তরাজ্যেও একই ধরনের ‘ডু নট কল’ তালিকা রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে যারা অনাকাঙ্ক্ষিত কল বন্ধের তালিকায় নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন, তাদের ফোন করা কোম্পানিকে প্রতি কলের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ পাউন্ড (৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার) জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
৭৮ দিন আগে
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১১১
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে স্থানীয় সময় সোমবার ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮৭ জন। ভূমিকম্পে দেশটির কালি শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।
দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে স্বেচ্ছাসেবীরা সারিবদ্ধভাবে বড় বড় কংক্রিটের টুকরা ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিচ্ছেন।
আলভারো লোপেস নামে এক ব্যক্তি নিজের কুকুরকে কোলে নিয়ে উদ্ধারকাজ দেখছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পাশের ভবনটিও পুরোপুরি ধসে পড়েছে।’
কলম্বিয়ায় উদ্ধারকাজের এই দৃশ্য প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলায় কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা উদ্ধার তৎপরতার কথা মনে করিয়ে দেয়। দেশটিতে কিছুদিন আগে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসে।
কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে কালি শহর ছাড়াও দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের পেরেইরা, কিবদো ও মানিসালেসসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশের দেশ ইকুয়েডর ও পানামায়ও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা—ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। সান হোসে দেল পালমার প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জনসংখ্যার একটি জনপদ। চোকো অঞ্চল কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।
এমন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েইয়া জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে অন্তত ৮৭ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৬১টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। উদ্ধার ও পুনর্বাসন তৎপরতায় দ্রুত অর্থ বরাদ্দের জন্য তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েইয়া বলেন, ‘আমরা মানুষকে এই পরিস্থিতিতে একা ছেড়ে যাব না। আমরা দৃড় সংকল্প নিয়ে মানুষকে সহায়তা করব।’
কলম্বিয়ায় শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প
দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, সোমবারের এই ভূমিকম্প এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এটি ২১ শতকে দেশটিতে সংঘটিত হওয়া সব ভূমিকম্পের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই ভূমিকম্পের পর কয়েকটি পরাঘাতও (আফটার শক) অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের আশপাশের কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলটি ‘রিং অব ফায়ার’ নামে পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে থাকা এই ভূমিকম্পপ্রবণ রেখায় বিশ্বের অধিকাংশ ভূমিকম্প ঘটে থাকে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত চোকো কলম্বিয়ার অন্যতম দরিদ্র অঞ্চল। চোকো অঞ্চলটি ঘন জঙ্গলে ঘেরা। চোকোর বেশিরভাগ এলাকায় নৌকা বা বিমানে যাতায়াত করতে হয়। ফলে সেখানে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিরূপণ করা কঠিন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কলম্বিয়র রিসারালদা অঞ্চলে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, ভায়ে দেল কাউকা অঞ্চলে নিহত হয়েছেন ২৭ জন। ভায়ে দেল কাউকা অঞ্চলের কালি শহরে নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশুও রয়েছে।
এ ছাড়াও দেশটির চোকো অঞ্চলে ৯ জন, কালদাস অঞ্চলে ২ জন ও আনতিওকিয়া অঞ্চলে ৭৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বাকি ৩২ জনের কোথায় মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
গত জুনের শেষ দিকে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি ভূমিকম্পে শত শত ভবন ধসে পড়ে। এতে ৬ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এরপর কলম্বিয়ায় নতুন এই ভূমিকম্পে আন্দীয় এই দেশটির মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে, সোমবার বিকেলে কলম্বিয়ার বাসিন্দারা নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে তাদের তথ্য ডিজিটাল ডেটাবেসে দিতে শুরু করেছেন। ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পরও সাধারণ মানুষ একইভাবে নিখোঁজ স্বজনদের তথ্য দিয়েছিলেন। একটি ডেটাবেসে ২ হাজারেরও বেশি মানুষের নাম যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই কালি ও পেরেইরা শহরের বাসিন্দা। এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
অপরদিকে, ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার পর পরিবারের সদস্যরা মরিয়া হয়ে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছেন। পেরেইরার এক তরুণী মা ও তার শিশুর ছবি নিয়ে স্বজনরা তাদের খুঁজছেন। এদিকে, কালি শহরের ৮০ বছর বয়সী এক নারীর ছবি নিয়ে তার খোঁজ করছেন স্বজনরা।
৭৮ দিন আগে
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত ১২, আহত ৩৯
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে দেশটির তাতারস্তান অঞ্চলের নিঝনেকামস্ক শহরে এই হামলা চালানো হয়।
তাতারস্তানের প্রেস সার্ভিসের প্রধান রুস্তাম মিনিখানভ জানিয়েছেন, নিঝনেকামস্ক শহরে শিল্প ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইউক্রেন ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ইউক্রেনের কর্মকর্তারাও এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন প্রায় প্রতিদিনই দূরপাল্লার ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে। এতে দেশটিতে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এবং তেল পরিশোধনের সক্ষমতা কমেছে। ইউক্রেনের সাম্প্রতিক এসব হামলা নিয়ে রাশিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনতে এবং চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়ার হামলা বন্ধ করতে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
রাশিয়ার নিঝনেকামস্ক শহরটি ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার। এটি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পরিশোধন কেন্দ্র। সেখানে দুটি তেল শোধনাগার ও একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা রয়েছে।
ইউক্রেনের তৈরি দূরপাল্লার ড্রোনগুলো রাশিয়ার অভ্যন্তরে ক্রমেই আরও গভীরে প্রবেশ করে হামলা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে এসব ড্রোনের কয়েকটি সাইবেরিয়াতেও পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, ইউক্রেন ও রাশিয়া সীমান্ত থেকে সাইবেরিয়া প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
স্থানীয় সময় রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা রাশিয়াকে ন্যায্য জবাব দিতে প্রস্তুত এবং তাদের প্রতিটি হামলার জবাব দেওয়া হবে। রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব এখন থেকে তাদের দেশের জনগণও বেশি করে অনুভব করবে।’
তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ এখনও চলার একমাত্র কারণ হলো রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করার ইচ্ছা নেই।’
অন্যদিকে, রাশিয়াও নিয়মিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র, শক্তিশালী গ্লাইড বোমা ও ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনে আকাশপথে হামলা চালিয়ে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিয়ত এসব হামলায় বেসামরিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।
এদিকে, সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইউরোপীয় কার্যালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রো অঞ্চলে অবস্থিত একটি গুদামে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দুইবার হামলা করেছে রাশিয়া।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এ হামলায় প্রায় ৫ লাখ ডলার মূল্যের জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী ধ্বংস হয়েছে। এসব সামগ্রী যুদ্ধের সম্মুখসারির স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে পাঠানোর জন্য রাখা হয়েছিল।
৭৮ দিন আগে
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার দাবানল
ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুমে একের পর এক দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার, শত শত দমকলকর্মী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মী মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির পূর্ব জাভার জনপ্রিয় ব্রোমো টেংগার সেমেরু জাতীয় উদ্যান থেকে শুরু করে সুমাত্রার বিস্তীর্ণ ভূমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (৯ আগস্ট) ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুষ্ক আবহাওয়া ও এল নিনিয়োর (প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা) কারণে হওয়ায় দেশটির সর্বোচ্চ শুষ্ক মৌসুমে বন ও ভূমিতে আগুন লাগার ঝুঁকি বেড়েছে।
পূর্ব জাভার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ব জাভা প্রদেশের ব্রোমো টেংগার সেমেরু জাতীয় উদ্যানে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় আগুন লেগেছে। প্রদেশটির প্রায় ৭৪৩ হেক্টর (১ হাজার ৮৩৬ একর) এলাকা পুড়ে গেছে।
দেশটির বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুনে শুকনো তৃণভূমি, গাছপালা ও সংরক্ষিত এডেলভেইস ফুলের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে গেছে। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় স্থান মাউন্ট ব্রোমোর দর্শনীয় স্থান পেনানজাকান এলাকাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহত বা কাউকে সরিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
পূর্ব জাভা অঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী, সেনাসদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা, পার্কের রেঞ্জার ও স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ জাতীয় উদ্যানটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার পর্যন্ত দুর্গম এলাকায় আগুন নেভাতে অন্তত ৩টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব হেলিকপ্টার দিয়ে আগুনের উৎসগুলোতে পানি ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি স্থলভাগে কর্মীরা আগুন নেভানো, ঠান্ডা করা, টহল ও আগুনের বিস্তার ঠেকাতে ফায়ারব্রেক তৈরির কাজ করছেন।
রবিবার জাতীয় উদ্যান পরিদর্শনের সময় দেশটির বনমন্ত্রী রাজা জুলাই আন্তোনি বলেন, ‘বন ও ভূমিতে আগুনের পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং এর ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
এ সময় যেসব মানবসৃষ্ট কারণে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। যেমন: সিগারেটের অবশিষ্টাংশ না নিভিয়েই ফেলে দেওয়া ও জমি পরিষ্কারের জন্য আগুন লাগানো। এমন বিধ্বংসী সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে জনসাধারণকে সতর্ক করেছেন মন্ত্রী।
অস্বাভাবিক শুষ্ক এই মৌসুমে ইন্দোনেশিয়ার আরও কয়েকটি এলাকায় দাবানলের খবর পাওয়া গেছে।
দাবানলে সুমাত্রা দ্বীপের জাম্বি প্রদেশে ৫০ হেক্টরের (১২৪ একর) বেশি পিটভূমি (শুষ্ক স্যাওলাসমৃদ্ধ জলাভূমি) পুড়ে গেছে। এতে কিছু এলাকায় তীব্র ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে এবং বায়ুর মান আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মুয়ারো জাম্বি জেলার সুংগাই গেলাম গ্রামে বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মালিকানাধীন কয়েক হেক্টর পাম বাগান পুড়ে গেছে। গত সপ্তাহের বুধবার থেকে সেখানে আগুন জ্বলছে।
দেশটিতে বর্তমান পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৩০০ দমকলকর্মী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পিটভূমির গভীরতা, পানির সীমিত সরবরাহ, দুর্গম এলাকা ও প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে। এসব কারণে তিনটি হেলিকপ্টার আকাশপথে আগুন নেভানোর কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেরে বাইরে রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-ভৌত সংস্থা জানিয়েছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দাবানল সংঘটনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মাস হতে পারে। এ সময়ে শুকনো গাছপালা ও প্রবল বাতাস আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুমে সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে প্রায়ই বনভূমিতে দাবানলের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও জমি পরিষ্কার করতে বাগান মালিক ও স্থানীয় কৃষকেরা অনেক সময় অবৈধভাবে আগুন লাগিয়ে দেন। এসব কর্মকাণ্ডে আগুনের ধোঁয়া মাঝেমধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপজ্জনক ধোঁয়াশা তৈরি করে।
৭৯ দিন আগে
দাবানলের কারণে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় আগুনে ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে ও অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি সামলাতে ওকানাগান লেকের আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৮ আগস্ট) ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড এবি জরুরি অবস্থা জারি করেন।
শনিবার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি জায়গায় দাবানল জ্বলছিল। এ সময় দাবানলের প্রায় অর্ধেকই নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। প্রচণ্ড গরম, ঝোড়ো বাতাস ও দীর্ঘদিনের খরার কারণে এলাকাগুলোতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এ দুর্যোগে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাসের শহর সামারল্যান্ড এলাকা থেকে এক রাতেই সকল বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কাছের শহর পিচল্যান্ড ও এর আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আগুনে ঠিক কতটি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড এবি বলেন, ‘আগুনের কারণে কয়েকজন বাসিন্দা আটকা পড়েছিলেন। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। দাবানল ছড়িয়ে পড়া এলাকাগুলোতে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আজ অনেক পরিবার কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, অনেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আপনাদের মধ্যে অনেকেই এখনও নিঁখোজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় আছেন।’
এদিকে, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দাবানল নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ক্লিফ চ্যাপম্যান বলেন, ‘আগুনের কারণে যারা সড়কপথে বের হতে পারছিলেন না, তাদের দমকলকর্মীরা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগুন মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম ব্যাল্ড রেঞ্জ এলাকায় আগুনের খবর পাওয়া যায়। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আগুন প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছোট্ট ফাউল্ডার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরের সামারল্যান্ড পর্যন্তও খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, ক্লিফ চ্যাপম্যান ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দাবানল পরিস্থিতিকে ‘বিস্ফোরণাত্মক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামারল্যান্ডের মতো দাবানল পরিস্থিতির মুখে অন্য এলাকাগুলোও পড়তে পারে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রী কেলি গ্রিন বলেন, জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে সেখানের প্রাদেশিক সরকারকে অতিরিক্ত কিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওই এলাকায় ভ্রমণ সীমিত করা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসনের ব্যবস্থা করা।
ওকানাগান-সিমিলকামিন আঞ্চলিক জেলার জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এরিক থমসন বলেন, এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানল এর আগে ওই অঞ্চলে দেখা যায়নি।
থমসন বলেন, একপর্যায়ে তিনি তার কর্মস্থান জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র ছেড়ে নিজের পরিবারকে সরিয়ে নিতে বের হন। শনিবার ভোরে গাড়িতে থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র ছেড়ে পরিবারকে সরিয়ে নিতে যাচ্ছি। আমরা দক্ষিণ দিকে যাচ্ছি।’ সে সময় সড়কে যানজট তৈরি হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কয়েকটি বাড়িতে আগুন জ্বলছে। দুই পাশের আগুনের মধ্য দিয়েই বাসিন্দারা সড়ক ধরে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন।
অপরদিকে, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির মালিক কেরি গোল্ড ও তার স্বামী মাইক এলসিংগা এলাকা ছেড়ে চলে যান। তারা কাছের একটি পাহাড়ের ওপর আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়েন।
কেরি গোল্ড বলেন, ‘এটি ভয়ংকর পরিস্থিতি। আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ‘
সম্প্রতি এই দম্পতি ভ্যানকুভার শহর থেকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় এসেছেন। এখানে দাবানল পরিস্থিতিতে আগে থেকেই ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিলেন। তারা তাদের বিড়ালকে নেওয়ার জন্য একটি ক্যারিয়ার প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। পাশাপাশি তারা তাদের এক শারিরীক প্রতিবন্ধী বন্ধুকে দাবানল থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে আগেহ থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেন।
এলসিংগা বলেন, ‘আমরা নিজেদের বাড়ি রক্ষা করতে চাই। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা কেউই আগুনের মধ্যেও আটকা পড়তেও চাই না।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এসব দাবানলের কারণে সরকারকে বহু মানুষকে একসঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
৭৯ দিন আগে
আজই হতে পারে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চুক্তি: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আজ বুধবারই একটি চুক্তি হতে পারে। এদিকে, ইরান ও ওমান ওই জলপথ পুনরায় চালুর লক্ষ্যে একটি সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে, যা চলমান যুদ্ধের অবসানেও সহায়ক হতে পারে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে তেহরানের সরকারকে উৎখাত এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসানকে যুদ্ধের লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করলেও বর্তমানে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। ইরানের হামলা ও হুমকির কারণে ওই জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস একসময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে অজনপ্রিয় এ যুদ্ধের ইতি টানার চাপেও রয়েছেন ট্রাম্প।
বুধবারই ঘোষণা আসতে পারে
ক্যালিফোর্নিয়ায় সফরকালে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাংবাদিকরা অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, বুধবার হরমুজ প্রণালি নিয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এটা হতে পারে। আগামীকাল (বুধবার) বা তার পরের দিন। অনেক অগ্রগতি হয়েছে।’
সম্ভাব্য চুক্তির আশায় বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৪৩ ডলারে নেমে আসে।
গত জুনেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল। তবে পরে আবারও হামলা শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প একদিকে বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন, অন্যদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন।
ইরান ও ওমানের নিয়ন্ত্রণে পৃথক নৌপথের প্রস্তাব
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, আলোচনায় যে সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা উঠে এসেছে, তাতে জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করবে ইরানের নিয়ন্ত্রিত নৌপথ দিয়ে এবং বের হবে ওমানের নিয়ন্ত্রিত পথ দিয়ে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য সেবা ফি নেওয়া হবে।
সংবেদনশীল আলোচনা হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা এসব তথ্য দেন।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে যায়, এমন কোনো চুক্তি তারা মেনে নেবে না।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে এটি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত জলপথ ছিল।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আবারও প্রণালিতে টোল আরোপের বিরোধিতা করে বলেন, ‘আমি তাদের টোল নিতে দেব না। যদি কেউ টোল নেয়, তাহলে আমরাই নেব।’
তবে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা এখনও চলছে এবং চূড়ান্ত চুক্তির ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দর অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও এ চুক্তির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
অগ্রগতির কথা বলছে ওয়াশিংটন ও তেহরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মঙ্গলবার বলেন, হরমুজ প্রণালিকে নৌযানের ‘নিরাপদ প্রবেশ ও বহির্গমন নৌপথ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে ওমানের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।
তার ভাষায়, এসব নৌপথ ‘ইরান ও ওমানের সার্বভৌম অধিকার বজায় রাখার পাশাপাশি উভয় দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেবে।’ তিনি বলেন, ‘আলোচনা শেষ হলে এর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-ও আলোচনা এগোনোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেন, এখনও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
এর আগে রুবিও সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে গেলে তা বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথের জন্যও ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির’ তৈরি করবে।
দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সিএনবিসিকে বলেন, ‘আজ বা আগামীকালের মধ্যেই প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সংঘাতকে আরও স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
এর আগে, সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং এটিই তেহরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’; অন্যথায় তাদের নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে।
তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তেহরানের দাবি, আলোচনা কেবল ওমানের সঙ্গেই চলছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘প্রথম ধাপ হলো প্রণালি খুলে দেওয়া। দ্বিতীয় ধাপ হবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। আর সেটি সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগবে।’
৮৪ দিন আগে