বিশ্ব
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, এখনও মেলেনি সাড়া
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (৫ এপ্রিল) মধ্যরাতে এই প্রস্তাবটি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যপ্রাচ্যের দুজন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।
তারা জানান, মিসর, পাকিস্তান এবং তুরস্কের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধ করা, যাতে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করা যায়। তবে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এর জবাব দেয়নি।
এদিকে, অঞ্চলজুড়ে এখনও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। তেহরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, রিভল্যুশনারি গার্ডের গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো এক হামলায় নিহত হয়েছেন। রবিবার থেকে ইরানজুড়ে বিমান হামলায় ২৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের হাইফা শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাত শুরু হয়। এ যুদ্ধ ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বেসামরিক এলাকায় হামলার কারণে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়েও গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব গৃহীত হবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। কারণ, উভয় পক্ষই তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং নিজেদের অনড় অবস্থানে অটল রয়েছে।
২৯ দিন আগে
ইরানে বিমান হামলায় ২৫ জনের বেশি নিহত, নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ঘিরে উত্তেজনা
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আবারও একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনায় ২৫ জনের বেশি নিহত হয়েছে। হামলার জবাবে ইসরাইল ও তার উপসাগরীয় আরব প্রতিবেশীদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ মার্চ) এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
আজ (সোমবার) সকাল থেকে তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিচু দিয়ে উড়তে থাকা যুদ্ধবিমানের বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছিল। রাজধানীর শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এলাকার আজাদি স্কয়ারের কাছে বিমান হামলার কারণে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠতে দেখা যায়।
হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি ভবন এবং পাশের একটি প্রাকৃতিক গ্যাস বিতরণ স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর দিয়েছে ইরানের গণমাধ্যম। অবশ্য, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে পরিচালিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী ছিল না।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঠিক কী লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া যায়নি। তবে অতীতে সামরিক কার্যক্রম, বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বিভিন্ন দেশ প্রতিষ্ঠানটিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রেখেছিল। এই কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, আজকের এই হামলায় নিহতদের মধ্যে ইরানের আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ডের গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেরমিও ছিলেন।
খাদেরমির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের নেতারা এখন নিজেদের লক্ষ্যবস্তু মনে করছেন। আমরা একে একে তাদের খুঁজে বের করব।’
এ ছাড়াও তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে এসলামশাহর এলাকায় একটি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি কোম শহরের একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় আরও অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যান্য শহরে হামলায় অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় দৈনিক ডেইলি ইরান।
তেহরানের একটি বাড়িতে বিমান হামলায় আরও ৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
অন্যদিকে, এ ঘটনার পর ইরান উত্তর ইসরাইলের হাইফা শহরে ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা পাল্টা হামলা চালালে একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আরও দুজনের খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়।
তেহরান তার উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। ফলে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও বেশি সক্রিয় করে ইরানের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে।
বর্তমানে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইরানের নিয়মিত হামলা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, এই অস্থিতিশীল অবস্থার আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেলই পরিবাহিত হতো এই প্রণালি দিয়ে।
দেশের ভেতরে জ্বালানি তেলের ভোক্তাদের উদ্বেগ বাড়তে থাকায় চাপের মুখে ট্রাম্প তেহরানকে আজ (সোমবার) রাত পর্যন্ত একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি প্রণালি পুনরায় খোলার কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য অবকাঠামোতে হামলা চালাবেন এবং দেশটিকে ‘আদিম প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, ‘মঙ্গলবার হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস এবং সেতু দিবস—সবই একসঙ্গে, ইরানে।’ তিনি আরও যোগ করেন, যদি ইরান প্রণালি না খোলে, তাহলে তারা নরকে বসবাস করবে।’
মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তা ব্যক্তিগত আলোচনার বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, সংঘাত থামানোর প্রচেষ্টায় মিসর, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যেখানে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের উপায় খোঁজার জন্যও সময় পাওয়া যাবে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, রবিবার গভীর রাতে পাঠানো এই প্রস্তাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এখনও এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তবে কয়েকদিন ধরে সরকারিভাবে হালনাগাদ কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, লেবানন-এ স্থল অভিযান চালিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি নিহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে অভিযানে ১১ জন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন।
এছাড়া উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে দুই ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলে ২৩ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
২৯ দিন আগে
ইরান যুদ্ধে বৈশ্বিক কূটনীতিতে নেতৃত্ব দিতে চাইছে চীন
ইরান যুদ্ধ নিয়ে চীন তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করা, উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থন আদায় এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে জাতিসংঘে সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রস্তাবের বিরোধিতা করার মধ্য দিয়ে বেইজিং বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান আরও সংহত করতে চাইছে। তবে চীনের এই প্রচেষ্টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খুব একটা আগ্রহ নেই বলেই মনে হচ্ছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের চীন কর্মসূচির পরিচালক সান ইউন বলেন, ইরান যুদ্ধ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভেতরে ও বাইরে সকল দেশের জন্য অগ্রাধিকার। চীন তার নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক সক্ষমতা প্রদর্শনের এই সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না।
তবে এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ফেলো ড্যানি রাসেল চীনের এই কূটনীতিকে ‘প্রদৰ্শনমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ২০২৩ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য চীনের দেওয়া ১২ দফা প্রস্তাবের সঙ্গে এর তুলনা করে বলেন, চীন দেখাতে চায় যে ওয়াশিংটন যেখানে বেপরোয়া ও আক্রমণাত্মক, সেখানে চীন শান্তি ও নীতির পক্ষে। আসলে আমরা যা দেখছি তা মধ্যস্থতা নয়, বরং নিজেদের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রচারের চেষ্টা।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বেইজিং শান্তির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
চীনের কূটনীতিকে যেভাবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন চীনের মধ্যস্থতার বিষয়ে তেমন কোনো উৎসাহ দেখাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চীনের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায় বা তারা কোনো সাফল্যের কৃতিত্ব পায়—এমন কোনো সুযোগ দিতে রাজি নয় ওয়াশিংটন।
চীন-পাকিস্তানের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে নিরপেক্ষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এক কর্মকর্তা। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে এ বিষয়ে মত দেন, তাহলে অবস্থান বদলাতে পারে।
বেইজিংয়ের জন্য মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফরের আগেই যুদ্ধ থামানো একটি বড় লক্ষ্য। যুদ্ধের কারণে ট্রাম্প তার মার্চের নির্ধারিত সফরটি ইতোমধ্যে পিছিয়ে দিয়েছেন।
সান ইউন বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে ট্রাম্প আবারও যে তার চীন সফর পিছিয়ে দেবেন না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব ও চীনের অবস্থান
জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার প্রভাবে অন্যান্য দেশের তুলনায় চীন বর্তমানে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। চীন তার তেলের মাত্র ১৩ শতাংশ ইরানের কাছ থেকে আমদানি করে। এছাড়া তারা নিজস্ব কৌশলগত তেলের মজুদও বজায় রেখেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বল্প মেয়াদে সামলে নিলেও চীন দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকট ও নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়া চীনের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষণা ও পরামর্শক উপদেষ্টা আলি ওয়াইন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট কৌশলের অভাব যখন স্পষ্ট হচ্ছে, তখন চীন এই সংকট নিরসনে নিজেকে সহায়তাকারী হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে।
চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রাশিয়া, ওমান, ইরান, ফ্রান্স, ইসরায়েল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। গত সপ্তাহে তিনি বেইজিংয়ে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পাঁচ দফা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন, যেখানে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
লিউ বলেছেন, তিনি আঞ্চলিক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ২০টিরও বেশি ফোনালাপ করেছেন। শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে একজন বিশেষ দূত এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাসের কাছে চীনের পরিকল্পনার জন্য সমর্থন চেয়েছেন এবং তাকে বলেছেন যে এটি ব্যাপক, আন্তর্জাতিক ঐকমত্যের প্রতিনিধিত্ব করে। ওয়াং সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানকে বলেছেন যে যুদ্ধ বন্ধ করাই সবচেয়ে জরুরি বিষয়।
আবার বাহরাইন কর্তৃক জাতিসংঘে উত্থাপিত ‘সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি খোলার’ প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেছে চীন। এ বিষয়ে ওয়াং ই বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পদক্ষেপ উত্তেজনা কমানোর জন্য হওয়া উচিত, আগুনে ঘি ঢালার জন্য নয়।
কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে কথা বলার জন্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতিসংঘের একজন কূটনীতিক বলেন, চীন ও রাশিয়া যুক্তি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এই প্রাণঘাতী যুদ্ধকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
উভয় দেশেরই প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার তেমন কোনো তাগিদ নেই বলেই মনে হচ্ছে। চীন যেখানে অর্থ দিয়ে তার কিছু জাহাজ পার করতে সক্ষম হয়েছে, সেখানে রাশিয়া তার প্রধান রপ্তানি পণ্য তেলের উচ্চমূল্য থেকে লাভবান হচ্ছে।
বেইজিং বলছে, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি দরকার। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের এই শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত একপ্রকার নীরবই রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের একজন বলেছেন, এই পরিকল্পনাটি মূল্যায়ন করা কঠিন, কারণ এটি শান্তির একটি রূপরেখার চেয়ে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান, কূটনীতির গুরুত্ব এবং জাতিসংঘের ভূমিকার প্রতি একটি অস্পষ্ট আবেদন মাত্র।
৩০ দিন আগে
বন্যা ও ভূমিধসে আফগানিস্তানে ১০ দিনে ঝরেছে ৭৭ প্রাণ
আফগানিস্তানে প্রবল ঝড় এবং ভারী বর্ষণে বন্যা, ভূমিধস ও বজ্রপাতে ১০ দিনে অন্ততপক্ষে ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়াও আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩৭ জন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৪ এপ্রিল) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এরকম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পুরো আফগানিস্তানজুড়ে আরও কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হবে। এমতাবস্থায় জনসাধারণকে নদী-তীরবর্তী অঞ্চলসহ বন্যাপ্রবণ অঞ্চল থেকে দূরে থাকতে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
আফগানিস্তান মূলত একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশটিতে আকস্মিক বন্যা, ব্যাপক তুষারপাতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানান, সম্প্রতি এই বন্যা ও ভূমিধসে ৪৮ ঘণ্টায় নিহত হয়েছে মোট ২৬ জন। এ ছাড়াও ২ হাজার ৬৭৩টি ঘর আংশিক এবং ৭৯৩টি ঘর পুরোপুরি ধসে গেছে। প্রায় ৩৩৭ কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ দুর্যোগে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি, পানির কূপ এবং সেচ খালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সব মিলিয়ে ৫ হাজার ৮০০-র বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আফগানিস্তানের গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ হকশিনাস বলেন, বন্যা ও ভূমিধসে রাজধানী কাবুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে ভ্রমণকারীদের কাবুলে পৌঁছানোর জন্য বিকল্প পথ হিসেবে অন্য রাস্তা দিয়ে অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে কাবুল থেকে জালালাবাদ মহাসড়ক। এই মহাসড়ক রাজধানী কাবুলকে পাকিস্তান সীমান্ত এবং পূর্বাঞ্চলীয় আফগান প্রদেশগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান পথ। ভূমিধস, পাথর ধস এবং বন্যার কারণে গত বৃহস্পতিবার সকালে মহাসড়কটি বন্ধ হয়ে যায়। এই মহাসড়ক রাজধানী কাবুলকে পাকিস্তান সীমান্ত এবং পূর্বাঞ্চলীয় আফগান প্রদেশগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান পথ। সড়কটি পুনরায় খোলার জন্য কর্মীরা কাজ করছেন।
এ ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার রাস্তা ব্যবহার করার সময় ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকতে বলেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, দুর্যোগের কারণে হিন্দুকুশ পর্বতমালায় অবস্থিত উঁচু গিরিপথ সালাং পাসও বন্ধ হয়ে গেছে। এই গিরিপথ মূলত কাবুলকে দেশের উত্তরাঞ্চলের কুন্দুজ ও মাজার-ই-শরিফের মতো প্রধান শহরগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করে।
আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে প্রায় প্রায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, যাতে শত শত মানুষ মারা যায়। এর আগে ২০২৪ সালে বসন্তকালীন আকস্মিক বন্যায় দেশটিতে ৩০০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল।
৩০ দিন আগে
ইরানের ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের দাবি ট্রাম্পের
ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে নিখোঁজ এক সেনাসদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছেন ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় রবিবার (৫ এপ্রিল) সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, উদ্ধারকৃত বৈমানিক আহত হলেও তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই উদ্ধার অভিযানে বেশ কিছু বিমান অংশ নিয়েছিল। উদ্ধারের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ওই বৈমানিকের অবস্থানের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়েছে।
ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, এই সাহসী যোদ্ধা ইরানের দুর্গম পাহাড়ে শত্রুবেষ্টনীতে আটকা পড়েছিলেন। আমাদের শত্রুরা তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল। এমনকি তারা তার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
গত শুক্রবার এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর মার্কিন বাহিনী এই রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অন্যদিকে, ইরানও ঘোষণা দিয়েছিল যে, কোনো শত্রু পাইলটকে ধরিয়ে দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে। এর আগে, ওই বিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ষষ্ঠ সপ্তাহে গড়িয়ে যাওয়া এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল ইরানি ভূখণ্ডে বিধ্বস্ত হওয়া প্রথম মার্কিন যুদ্ধবিমান।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং খুব দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ করবে। কিন্তু এর দুই দিন পরেই তেহরান দুটি মার্কিন সামরিক বিমান ভূপাতিত করে। এটি প্রমাণ দেয় যে, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও ইরানের সামরিক বাহিনী এখনও পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে।
বিধ্বস্ত হওয়া অন্য বিমানটি ছিল মার্কিন এ-১০ অ্যাটাক এয়ারক্রাফট। তবে ওই বিমানের ক্রুদের অবস্থা বা সেটি ঠিক কোথায় বিধ্বস্ত হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
৩০ দিন আগে
চীনের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চীনে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) পাকিস্তানের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বেইজিং এ দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। চীনের এ মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বর্তমান সংঘাত নিরসনই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানান, উত্তর চীনের উরুমকিতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি চীন।
এদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়ে নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি। তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তান ও প্রতিবেশী আফগানিস্তানের লাখ লাখ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনতে পারে—এমন প্রত্যাশা নিয়ে উরুমকিতে এই আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে যে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো জঙ্গিগোষ্ঠী, বিশেষ করে পাকিস্তানি তালেবানকে (টিটিপি) নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে আফগানিস্তান। অবশ্য এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে কাবুল।
গত মাসে কাবুলের একটি মাদক নিরাময়কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর আসার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। পাকিস্তান অবশ্য বেসামরিক নাগরিক নিহতের দাবি অস্বীকার করে বলেছিল, তারা কেবল একটি গোলাবারুদের গুদামে হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার তখন বলেছিলেন, কোনো হাসপাতালে নয়, কেবল সন্ত্রাসী অবকাঠামো এবং তাদের সহায়তাকারী সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসলামাবাদ।
উভয় পক্ষ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এখন আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারি ও মার্চের তুলনায় বর্তমানে লড়াইয়ের তীব্রতা কিছুটা কম। ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘খোলা যুদ্ধের’ ঘোষণা দিয়েছিল।
এ সহিংসতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কারণ আল-কায়েদা এবং আইএসের মতো গোষ্ঠীগুলো এই অঞ্চলে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
সূত্রমতে, চীন মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়ার পর উভয় পক্ষ তা গ্রহণ করলে নতুন করে এ আলোচনা শুরু হয়। এর আগে, অক্টোবরে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি এবং নভেম্বরে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনাও দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
৩৪ দিন আগে
রাশিয়ার ক্রিমিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২৯
রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ২৯ জন আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিমানটির ছয়জন ক্রু ও ২৩ জন যাত্রী রয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোরে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ সংবাদমাধ্যম।
খবরে বলা হয়েছে, সোভিয়েত আমলে নির্মিত অ্যান-২৬ সামরিক পরিবহন বিমানটি নির্ধারিত ফ্লাইটে ক্রিমিয়া উপদ্বীপের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সামরিক বাহিনীর। ২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে অঞ্চলটি অবৈধভাবে দখল করে রাশিয়া।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস ও আরআইএ নভোস্তির বরাতে জানা যায়, টার্বোপ্রপ ইঞ্জিনচালিত বিমানটি একটি খাড়াই পাহাড়ে আঘাত করে বিধ্বস্ত হয়।
রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানায়, বিমানটিতে মোট সাতজন ক্রু সদস্য ও ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। তবে বাকি একজন ক্রু সদস্য বেঁচে আছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, উড্ডয়ন বিধিমালা-সংক্রান্ত বিষয়ে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং বাখচিসারাই জেলার পার্বত্য বনাঞ্চলে তল্লাশি অভিযান চলছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের খবরে বলা হয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। এ দুর্ঘটনায় কোনো ধরনের ‘বাহ্যিক হস্তক্ষেপ’ ছিল না বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়ায় সামরিক বিমান দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।
গত ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার ইভানোভো অঞ্চলে একটি অ্যান-২২ সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন ক্রু নিহত হন। তার আগে অক্টোবরে লিপেৎস্ক অঞ্চলে একটি মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে সাইবেরিয়ার ইরকুত্স্ক অঞ্চলে একটি টু-২২এম৩ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়।
এছাড়া, ২০২২ সালের অক্টোবরে আজভ সাগর উপকূলবর্তী ইয়েইস্ক শহরের একটি আবাসিক এলাকায় একটি সু-৩৪ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় ১৫ জন নিহত হন।
৩৪ দিন আগে
শিশুদের সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ‘পুরোপুরি’ না মানার অভিযোগ অস্ট্রেলিয়ার
অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেসবুক, ইনস্টগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের মত কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব প্ল্যাটফর্মগুলো ১৬ বছরের কম বয়সী অস্ট্রেলীয় শিশুদের এগুলোর ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ই-নিরাপত্তা কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে এ বিষয়ে জানান। প্রতিবেদনে তিনি ১০টি প্ল্যাটফর্মকে ১৬ বছরের কম বয়সী সকল অস্ট্রেলীয় শিশুদের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইনের আওতায় ওই প্ল্যাটফর্মগুলো কী কী যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা রাখবে অস্ট্রেলিয়ার আদালত।
জুলি ইনম্যানের রিপোর্টে বলা হয়, প্রায় ৫০ লাখ অস্ট্রেলীয় শিশুর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হলেও অনেক শিশু এখনও তাদের অ্যাকাউন্টটি ধরে রেখেছে। তারা পুনরায় অ্যাকাউন্ট তৈরি করছে এবং প্ল্যাটফর্মগুলোতে আ্যাকাউন্ট খোলার সময় প্রদত্ত বয়স যাচাই পর্বও কোনোরকম বাধাবিপত্তি ছাড়াই পাস করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ওই ১০টির মধ্যে অন্তত পাঁচটি প্ল্যাটফর্মের কমপ্লায়েন্স নিয়ে তাদের ‘গুরুতর উদ্বেগ’ রয়েছে। তার দপ্তর ইতোমধ্যে এই পাঁচটি প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করছে, কারণ এই প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয় সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা পালনে যথেষ্ট উদাসীনতা দেখাচ্ছে।
এই আইন না মানলে আদালত সর্বোচ্চ ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। ই-নিরাপত্তা সংস্থা খুব দ্রুতই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
৩৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আকাশ ছুঁয়েছে, পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খোদ জ্বালানি তেলের শীর্ষ উৎপাদক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও। দেশটির বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখন আকাশ ছুঁই ছুঁই।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম ৪ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। এ দাম ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ।
যুক্তরাষ্ট্রের মোটর ক্লাব ‘এএএ’-এর তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ০২ ডলারে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় এক ডলারেরও বেশি। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর চার বছর আগে মার্কিন চালকদের পাম্পে সর্বশেষ এই চড়া দামে জ্বালানি কিনতে হয়েছিল।
এ দাম একটি জাতীয় গড় হিসাব। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যে চালকদের বেশ কিছুদিন ধরেই ৪ ডলারেরও অনেক বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কর হারের ভিন্নতার কারণে অঙ্গরাজ্যভেদে এই দামের পার্থক্য দেখা যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা শুরু করার পর থেকেই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপক হারে ওঠানামা করছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর উৎপাদন হ্রাস এবং সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার ফলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব
জ্বালানি তেলের এই উচ্চমূল্য সাধারণ ভোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে থাকা পরিবারগুলোকে এখন তেলের বাড়তি খরচ মেটাতে গিয়ে অন্য খাতের বাজেটে কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
জ্বালানির দাম বাড়লে ইউটিলিটি বিল থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অদূর ভবিষ্যতে মুদি পণ্যের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে, কারণ এসব পণ্য বারবার পরিবহনের প্রয়োজন হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারেন।
পরিবহন ও বিতরণ কাজে ব্যবহৃত ডিজেলে এই প্রভাব আরও স্পষ্ট। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি গ্যালন ডিজেল যেখানে ৩ দশমিক ৭৬ ডলারে পাওয়া যেত, বর্তমানে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। ইউনাইটেড পোস্টাল সার্ভিস (ইউপিএস) ইতোমধ্যেই তাদের কিছু সেবায় সাময়িকভাবে ৮ শতাংশ অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।
যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এ দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে প্রণালিটি দিয়ে বর্তমানে ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় বন্ধ। এছাড়া ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র—সব পক্ষই তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালানোয় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
দাম কমাতে জরুরি মজুদ উন্মুক্ত
বাজার স্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের সদস্য দেশগুলোর জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে রিজার্ভ তেলের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে।
এছাড়া ভেনেজুয়েলা এবং সাময়িকভাবে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে তেলের প্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে শতবর্ষী পুরোনো আইন ‘জোনস অ্যাক্ট’-এর (যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রপথ ও জাহাজ চলাচল সম্পর্কিত আইন, যা জাহাজ চলাচল এবং নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করে) বাধ্যবাধকতা আগামী ৬০ দিনের জন্য শিথিল করা হচ্ছে।
তবে এই প্রচেষ্টাগুলো সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কতটা স্বস্তি বয়ে আনবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিশোধনাগারগুলো আগেভাগেই চড়া দামে অপরিশোধিত তেল কিনে রাখায় নতুন সরবরাহের সুফল পেতে সময় লাগবে। তাছাড়া বছরের এ সময়ে আমেরিকায় তেলের চাহিদা এমনিতেই বেশি থাকে। আবার উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে শোধনাগারগুলোকে গ্রীষ্মকালীন ব্যবহার উপযোগী জ্বালানি তৈরি করতে হয়, যা শীতকালীন জ্বালানির চেয়ে ব্যয়বহুল।
তেল রপ্তানিকারক দেশ হয়েও কেন এই সংকট?
যুক্তরাষ্ট্র নিজে তেল রপ্তানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববাজারের এই ধাক্কার বাইরে থাকতে পারছে না। এশিয়ার দেশগুলোর মতো সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল না হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারও প্রভাবিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র মূলত ‘লাইট সুইট ক্রুড’ (হালকা সালফারযুক্ত তেল যা সহজে পরিশোধন করা যায়) উৎপাদন করে। কিন্তু দেশটির পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের শোধনাগারগুলো ‘হেভি সোর ক্রুড’ (যে তেল পরিশোধন তুলনামূলক কঠিন) প্রক্রিয়াজাত করার উপযোগী করে তৈরি। ফলে চাহিদার প্রয়োজনে দেশটিকে আমদানির ওপরও নির্ভর করতে হয়।
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত সবসময়ই জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা নিয়ে আসে। ২০২২ সালের জুনে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর চার মাস পর যুক্তরাষ্ট্রে তেলের গড় দাম রেকর্ড ৫ ডলার ছাড়িয়েছিল। মঙ্গলবার সেই রেকর্ড ছোঁয়ার পথে আবারও ৪ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করল দেশটির জ্বালানি বাজার।
৩৫ দিন আগে
জোর করে কেন হরমুজ প্রণালি খুলতে পারছেন না ট্রাম্প?
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থলসেনা উপস্থিতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হরমুজ প্রণালি জোরপূর্বক খুলে দেওয়ার একটি ‘বিপজ্জনক’ সুযোগ করে দিয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ তেহরানের কঠোর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও তৈরি করেছে।
দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের এ প্রণালিটি বন্ধের কৌশলগত অবস্থান তেলের দামকে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে নিয়ে গেছে। ফলে এটি ট্রাম্পের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট একদিকে কূটনৈতিক সুযোগ দেওয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে ইরানে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছেন। স্থানীয় সময় রবিবার (২৯ মার্চ) ট্রাম্প সরাসরি জানিয়েছেন যে, তিনি ইরানের তেল দখল করতে চান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি খুলতে ট্রাম্পের সামনে দুটি সামরিক পথ খোলা আছে—ইরানের ভূখণ্ড দখল করা অথবা জলপথে নৌবাহিনী মোতায়েন করা। তবে সীমিত স্থল অভিযানও এমন প্রাণহানির কারণ হতে পারে যা একজন প্রেসিডেন্টের গদিও নড়িয়ে দিতে পারে। ইরানের জন্য তাদের মাটিতে বিদেশি সেনার উপস্থিতি একটি ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা।
ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক এমা সালিসবারি মনে করেন, ট্রাম্প পারস্য উপসাগরের কোনো একটি ইরানি দ্বীপ দখলের মাধ্যমে সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি (ট্রাম্প) আগ্রাসী পথ বেছে নিয়েছেন। সৈন্য হাতে থাকলে তিনি অবশ্যই তা ব্যবহার করবেন, তবে তা ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী হতে পারে।’
অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান একটি কঠোর বার্তা পাঠিয়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা ঢুকলে তারা নিজেদের এলাকাতেই ব্যাপক বোমা হামলা করতে পারে, এমনকি অবকাঠামো ধ্বংস করতেও প্রস্তুত রয়েছে।
রবিবার যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে তেহরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেন, ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে আলোচনার কথা বললেও গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, তারা একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। হুঁশিয়ারি দিয়ে ঘালিবাফ বলেন, মার্কিন সেনারা এলে তাদের কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বীর সেনারা মার্কিন সেনাদের জন্য অপেক্ষা করছেন, যাতে তাদের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া যায় এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের চিরতরে শিক্ষা দেওয়া যায়।
সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত শনিবার প্রায় ৫ হাজার মার্কিন নৌসেনার অর্ধেক অংশ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এরা জল-স্থল উভয় পথেই অভিযানে দক্ষ। আরও প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপার (প্যারাসুট ব্যবহার করে বিমান থেকে নামা বিশেষ প্রশিক্ষিত সৈনিক) পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল ‘খার্গ দ্বীপ’ মার্কিন হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সীমিত সংখ্যক সৈন্য দিয়ে দ্বীপ দখল করা সহজ হলেও তা ধরে রাখা কঠিন হবে। কারণ ইরান তখন রকেট, মিসাইল এবং ড্রোন হামলা শুরু করবে।
আবার বড় ধরনের স্থল অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই সেনা সংখ্যা যথেষ্ট নয়। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন প্রায় দেড় লাখ সেনা মোতায়েন করেছিল। আর ইরানের আয়তন তার তিন গুণেরও বেশি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী এবং আরও ১০ হাজার সৈন্য পাঠানোর কথা ভাবছে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প আরও একটি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের কথা বিবেচনা করছেন। তা হলো, ইরানের মূল ভূখণ্ডে ঢুকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ দখল করা। তবে এটি করতে বিশেষ বাহিনীর প্রয়োজন হবে।
ফিনান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প বলেন, আমরা খার্গ দ্বীপ দখল করতেও পারি, আবার নাও পারি। আমাদের অনেক পথ খোলা আছে।
কিন্তু খার্গ দ্বীপটি উপসাগরের অনেক গভীরে হওয়ায় সেখানে লজিস্টিক সহায়তা পাঠানো এবং সৈন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে থাকা কিশ ও আবু মুসার মতো দ্বীপগুলো এ জলপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, যা দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত কঠিন।
স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ফেলো রুবেন স্টুয়ার্ট মনে করেন, এই সেনা মোতায়েন মূলত আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার একটি কৌশল বা ‘প্রদর্শনী’ হতে পারে। কারণ সামরিকভাবে কোনো দ্বীপ দীর্ঘসময় দখল করে রাখা মার্কিনিদের জন্য বর্তমান বাস্তবতায় কার্যকর কিছু হবে না।
এছাড়া স্থল অভিযান হলেও ইরানের হুমকি পুরোপুরি দূর হবে না। প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক জাহাজে নৌবাহিনীর নিরাপত্তা, মাইন অপসারণ ও আকাশ সহায়তার প্রয়োজন হবে। এ জন্য বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ দরকার, যা যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় মিত্রদের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল করে তুলবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত মাইন অপসারণকারী জাহাজও নেই।
তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, কারণ ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী ইতোমধ্যে সংঘাতে যুক্ত হয়ে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তারা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথেও হামলা শুরু করতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিরাপদ রাখতে হতে পারে।
৩৬ দিন আগে