বিশ্ব
কাতারের গ্যাস রপ্তানি টার্মিনালে বিস্ফোরণ, আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮
ইরানের হামলার পর পুনরায় কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা চলাকালে কাতারের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি টার্মিনালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫৪ জন আহত এবং আরও অন্তত ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২১ জুন) রাতে কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
কাতার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ। এ বিস্ফোরণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এর আগে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের কারণে ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল কাতার।
যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে ইরান প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করায় কাতার রপ্তানি টার্মিনাল পুনরায় চালুর কাজ শুরু করে। গতকাল রাতে সেই কাজ চলাকালে বারজান গ্যাস সরবরাহ স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি।
বিস্ফোরণের পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। শুরুতে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, অল্প কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনেক বেশি হতাহতের তথ্য প্রকাশ করে।
বারজান প্ল্যান্টের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ছিল প্রায় ১৪০ কোটি ঘনফুট। কাতার মূলত স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আরব উপদ্বীপের মরু অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো পরিচালনায় এই গ্যাস ব্যবহার করত।
প্ল্যান্টটির প্রায় পুরো মালিকানাই কাতারের, তবে এর একটি ছোট অংশের মালিক যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
গত মার্চে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাস লাফানে আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ইরানি হামলার কারণে তার আগেই সেখানে উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল কাতার।
৪২ দিন আগে
ইরানের পরমাণু আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অন্তর্বর্তী চুক্তিকে এগিয়ে নেওয়া এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে ইরানি নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আজ রবিবার সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই আলোচনার লক্ষ্য হলো দুই দেশের একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
গত সপ্তাহে আলোচনা শেষে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ আলোচকরা ৬০ দিনের মধ্যে চুড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। আলোচনাটি বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে এই ৬০ দিনের সময়সীমার শুরুতেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ, লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করার পথ ফের বন্ধ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড অবশ্য ইরানের দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে। মার্কিন বাহিনী বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জলপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করছে। এ বিষয়ে ভ্যান্স বলেন, গত দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে।
ভ্যান্স প্রথমে স্থানীয় সময় শুক্রবার লুসার্নের কাছে বুর্গেনস্টক রিসোর্টে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার যাত্রা বিলম্বিত হয়। একই সময়ে ইরানি কর্মকর্তারাও আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন।
পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির আলোচকদের সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর খবর প্রচারের পর পরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা হন ভ্যান্স।
ইরানের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তেল খাতের কর্মকর্তারা।
অপরদিকে, সুইজারল্যান্ডে ভ্যান্সের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তারা ইতোমধ্যে সেখানে পৌঁছে যুদ্ধ অবসানের বিষয়গুলো পর্যালোচনা শুরু করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই আলোচনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও অংশ নিচ্ছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শাহবাজ শরিফ ইরান, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। বৈঠকে তিনি সংলাপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির প্রতিষ্ঠার চ্ষ্টো করবেন।
ভ্যান্স ও তার স্ত্রী উষা ভ্যান্স স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে লুসার্নের বাইরে এমেন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। সেখান থেকে ভ্যান্স জানান, তিনি সুইজারল্যান্ডে এক বা দুই দিন থাকবেন। মূলত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
এদিকে, ট্রাম্প ও ভ্যান্স নিজ দলের একটি অংশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থিরা এই চুক্তিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে তুলনা করছেন। রিপাবলিকানরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ওই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যকরভাবে বন্ধ করতে পারেনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ফলে ইরান অবিলম্বে অবাধে তেল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জব্দ থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবহারের পথও উন্মুক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি, চুক্তিতে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে ইরানকে তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে হবে।
প্রসঙ্গত, যেসব পারমাণবিক স্থাপনায় ইরান ইউরেনিয়াম মজুত করে রেখেছিল, গত গ্রীষ্মে সেসব স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো ধরনের প্রবেশমূল্য ছাড়াই চলাচল করতে পারবে। তবে ভবিষ্যতে ইরান প্রবেশমূল্য আরোপ করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
অন্যদিকে, স্থানীয় সময় শনিবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন না হলে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ করবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সেবার বিনিময়ে এবার থেকে অর্থ নেওয়া হবে।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের মৌসুম শুরুর আগে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এর মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববাজারকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, এই যুদ্ধ তেলের দামে সাময়িক সময়ের জন্য প্রভাব ফেলেছে।
হোয়াইট হাউস চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পরই তেলের বাজারে দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমে যায়। স্থানীয় সময় আজ (রবিবার) সন্ধ্যায় বাজার খোলার পর বিনিয়োগকারীরা আলোচনার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে পরিস্থিতিকে এখনও কিছুটা জটিল রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির সঙ্গে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর কোনো পক্ষই জড়িত নয়।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত তার বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করবে। অপরদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েল লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা হামলা বন্ধ করবে না।
৪৩ দিন আগে
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত: যুক্তরাষ্ট্র
ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা ।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৪টা থেকে (১৪:০০ জিএমটি) এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, চুক্তি লঙ্ঘন হলে বা প্রয়োজন দেখা দিলে যেকোনো মুহূর্তে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানায়, গত রাতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হন। অন্যদিকে, এই লড়াইয়ে নিজেদের চার সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইসরায়েল।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতির খবর সামনে এল।
তেহরান ও ওয়াশিংটন গত কয়েক মাসের আলোচনায় মধ্যে যে ১৪ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে, সে বিষয়ে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে লুসার্ন শহরে তাদের মধ্যে চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সঙ্গে জড়িত যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং সমগ্র অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে আনা।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, প্রথম শর্তেই সমগ্র অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া এই চুক্তি লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাতে সব পক্ষকে আহ্বান করা হয়েছে।
১৪ দফার এই রূপরেখায় বেশ কিছু বড় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরান যাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে তার নিশ্চয়তা দেওয়া, ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাবিত পুনর্গঠন কর্মসূচি এবং শেষ পর্যন্ত তেহরানের ওপর থেকে সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে স্পষ্ট করেছিলেন যে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতি ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হলেও, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এই চুক্তির কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে আত্মরক্ষার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ইসরায়েলের থাকবে।
এই যুদ্ধবিরতির ফলে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বৃহত্তর এই আঞ্চলিক চুক্তির দীর্ঘমেয়াদী বাস্তবায়ন এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানের ভবিষ্যৎ কী হবে—তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।
৪৫ দিন আগে
জি-৭ সম্মেলনের প্রথম দিনে ইউক্রেন ও ইরান পরিস্থিতিতে গুরুত্বারোপ
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের প্রথম দিনে ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন বিশ্বনেতারা। সেখানে তারা রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। পাশাপাশি ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক চুক্তি, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের প্রভাবও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এবারের জি-৭ সম্মেলন ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁয়ে শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ জুন) গভীর রাতে সম্মেলনে পৌঁছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, আপাতত ইরান বিষয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে, আমরা এখন ইউক্রেনের পরিস্থিতির ওপর মনোযোগ দেব।
সম্মেলনে মাক্রোঁ জানান, তিনি ট্রাম্পকে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে এবং রাশিয়ার ওপর আরও চাপ বাড়াতে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন। তার মতে, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানে একটি শান্তিচুক্তি জরুরি।
ট্রাম্প আরও জানান, রবিবার তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করেছেন। ফ্রান্সের আমন্ত্রণে জেলেনস্কিও সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়েও জি-৭ নেতাদের একটি একটি কর্মঅধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই আলোচনায় মিসর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
অপরদিকে, জি-৭ সম্মেলনে সম্মেলনে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্প সাড়ে তিন মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তির ঘোষণা দেন।
জি-৭ (গ্রুপ অব সেভেন) হলো বিশ্বের ৭টি উন্নত ও প্রভাবশালী অর্থনীতির দেশের একটি জোট। এই জোটের সদস্য দেশগুলো হলো: ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং যুক্তরাজ্য।
বৈশ্বিক অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি সংকট, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সমন্বয়ের জন্য এসব দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বছরে একবার বৈঠক করে নীতিগত সমন্বয়ের চেষ্টা করেন।
এবারের সম্মেলনে অতিথি দেশ হিসেবে অংশ নিচ্ছে ব্রাজিল, মিসর, ভারত, কেনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, ইউক্রেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যের
এদিকে, নৗপথে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য যে ছায়া বহর (শ্যাডো ফ্লিট) ব্যবহার করে, সম্মেলনের মধ্যেই সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার সম্প্রতি কেনা কয়েকটি জাহাজও রয়েছে। এসব জাহাজ নিষেধাজ্ঞার অমান্য করে আর্কটিক এলএনজি ২ প্রকল্প থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ৬০০টিরও বেশি শ্যাডো ফ্লিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
গত সপ্তাহের শেষে ইংলিশ চ্যানেলে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার একটি শ্যাডো ফ্লিট জাহাজ জব্দ করেছে ব্রিটিশ বাহিনী।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশনিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সেখানে তিনি রাশিয়ার ওপর এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার তার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
৪৮ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসিতে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি প্রদেশে আজ মঙ্গলবার ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ভূমিকম্পে বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পালু শহর থেকে ৪৩ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে। এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।
রাজধানী পালু ও আশপাশের এলাকায় মূল ভূমিকম্পের পর আরও কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পরাঘাতটির মাত্রা ছিল ৫.২।
ভূমিকম্পের পর সুনামি সৃষ্টি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় দেশটির উপকূলীয় এলাকাগুলোর বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যান।
তবে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই। যদিও সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, আরও কিছু সময় পরাঘাত অনুভূত হতে পারে।
আট বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার পালু শহর বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিধ্বস্ত হয়েছিল। এবারের ভূমিকম্পের প্রবল কম্পনে সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী পালু ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে পালু শহর ও আশপাশের এলাকার মানুষ দ্রুত খোলা স্থানে আশ্রয় নেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি হাসপাতাল রোগীদের বাইরে সরিয়ে নেয়। রোগীদের মধ্যে অনেকের শরীরে তখনও স্যালাইনের নল লাগানো ছিল।
ভূমিকম্প-কবলিত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ছবিতে দেখা যায়, এ ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি স্থাপ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও আংশিকভাবে ছাদ ধসে পড়েছে, কোথাও দেওয়াল ভেঙে গেছে। এছাড়া রাস্তাজুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কেউ হতাহত হয়েছেন কি না এবং কত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, এসব তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পালুর একটি চার তারকা হোটেলের মহাব্যবস্থাপক এফেন্দি নাতালি বলেন, ‘আমরা হোটেলের সব অতিথিকে সরিয়ে নিয়েছি। এমনকি যারা নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন তাদেরও বের করে আনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের পর সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। ভয় পাওয়াটা এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক। বর্তমানে সবাই নিরাপদ আছেন।’
তিনি আরও জানান, ভূমিকম্পে হোটেলটিতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পালুর বাসিন্দা মুখতার আহমাদ জানান, ‘এবারের ভূমিকম্পের কম্পন ছিল খুবই শক্তিশালী। আগের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনও আমাদের মনে রয়েছে। তাই পরাঘাতের আশঙ্কায় আমরা বাইরে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটির ভূখণ্ডের নিচ দিয়ে বেশ কয়েকটি সক্রিয় ফল্টলাইন চলে গেছে। ফলে সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।
সুলাওয়েসির অনেক বাসিন্দা এখনও ২০১৮ সালের সেই ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। ওই ভূমিকম্পে পালু শহর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ভূমিকম্পের পরপরই ৩ মিটার উঁচু সুনামি আঘাত হেনেছিল। এছাড়া সে বছর ‘লিকুইফ্যাকশন’ নামে একটি বিরল ভূতাত্ত্বিক ঘটনা ঘটেছিল। এর ফলে সুলাওয়েসি অঞ্চলে মাটি নরম হয়ে ধসে পড়েছিল, যা পুরো এলাকাকে গ্রাস করে।
সেই দুর্যোগে সুলাওয়েসিতে ৪ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। মাটিধসের ঘটনায় পুরো এলাকা মাটির নিচে তলিয়ে যাওয়ার সময় অনেক মানুষ মাটির নিচে চাপা পড়েছিলেন।
এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সুলাওয়েসি দ্বীপের মামুজু শহরের কাছে ৬.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে অন্তত ১০০ জন নিহত হন। পরাঘাতের আতঙ্কে তখন হাজার হাজার মানুষ কয়েক দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছিলেন।
৪৮ দিন আগে
যুদ্ধ অবসানের পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, তবে রয়ে গেছে বড় চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুদ্ধ অবসান এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং চুক্তি বাস্তবায়নের অনিশ্চয়তাসহ বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে।
সোমবার (১৫ জুন) ঘোষিত এই সমঝোতার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার জেনেভায় আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকবে।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরানি হামলার কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং এর প্রভাব খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়ে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এটি বন্ধ হয়ে যাওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রণালি খুললেও সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
লেবানন ইস্যুই সবচেয়ে বড় বাধা
চুক্তির সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা লেবাননের পরিস্থিতি। যুদ্ধের পক্ষভুক্ত হলেও ইসরায়েল এই সমঝোতার অংশ নয়।
সোমবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট করে বলেছেন, লেবাননে দখল করা এলাকা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানের জবাবে ইরান হামলা চালালে ‘প্রচণ্ড শক্তি’ দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডেভিড মেনসারও জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির মোকাবিলা অব্যাহত রাখবে ইসরায়েল।
এ অবস্থান সমঝোতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কারণ, ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে যে যুদ্ধ অবসানের যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননের সংঘাতও বন্ধ হতে হবে।
এদিকে, চুক্তি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সময় মাত্র ৬০ দিন
চুক্তির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ও পারমাণবিক কর্মসূচি।
সমঝোতা অনুযায়ী, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মাত্র ৬০ দিনের সময় পাওয়া যাবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আশঙ্কা, এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যুর সমাধান সহজ হবে না। কারণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে ২০১৫ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে বিশ্বশক্তিগুলোর কয়েক বছর সময় লেগেছিল।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন, যা পরবর্তী উত্তেজনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত সমঝোতা কার্যকর নয়
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছেন। পরে তিনি স্পষ্ট করেন, শুক্রবার আনুষ্ঠানিক চুক্তি সইয়ের আগে এসব কার্যকর হবে না।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদিও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্বাক্ষরের আগে ইরানও চুক্তির কোনো অংশ বাস্তবায়ন করবে না।
চুক্তি সইয়ের আগে এ সপ্তাহে কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বনেতাদের সতর্ক আশাবাদ
মধ্যপ্রাচ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টিকারী এই যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউরোপ, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা।
তবে অনেকেই এখনও সতর্ক। লুক্সেমবার্গের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভিয়ার বেটেল বলেন, ‘শুক্রবার পর্যন্ত এখনও অনেক সময় বাকি।’
ফলে যুদ্ধ অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত চুক্তি সই এবং তা বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনও পুরোপুরি মসৃণ নয়।
৪৯ দিন আগে
রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রীয় ব্যয় এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী জাকার্তায় বিক্ষোভে করেছে শত শত শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, সরকারের বিভিন্ন নীতি দেশটিকে দেউলিয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
সরকারের অপচয়মূলক ব্যয় বন্ধের দাবিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১২ জুন) শিক্ষার্থীরা জাকার্তার বিভিন্ন সড়কে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকালে দুর্নীতির অভিযোগে সমালোচিত বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণের ‘ফ্রি মিল’ কর্মসূচি বাতিলের দাবি জানান তারা। ওই কর্মসূচি নিয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় জ্বালানির দাম বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তে মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সরকারের কথিত অব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েক মাস ধরে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে অসন্তোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে সম্প্রতি দেশটির মুদ্রার মানও কমে গেছে।
বিক্ষোভ থেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাকি বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ছে, আমাদের জীবনযাপনের ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে কেন ভয় পান? সরকার বলে, সংবিধানে বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, অথচ বাস্তবে সেটি মানা হয় না।’
এরই মধ্যে বিক্ষোভের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা জাকার্তার সুপরিচিত হোটেল ইন্দোনেশিয়া রাউন্ডঅ্যাবাউটের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করছে।
বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পরে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলি ব্যারিকেড ভেঙে করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে এ বিক্ষোভে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়াও বিক্ষোভকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হ্যাশট্যাগ মেনুজুইন্দোনেশিয়াব্যাংকরাপ্ট’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন, যার অর্থ ‘দেউলিয়া হওয়ার পথে ইন্দোনেশিয়া’।
এর ফলে গত বছরের আগস্টে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হলো। সে সময় এক ডেলিভারি রাইডারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অভিজাত শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জণগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।
এর আগে, চলতি সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি পার্তামিনা বহুল ব্যবহৃত দুটি জ্বালানির দাম ৩০ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে। পার্তামাক্স নামে পরিচিত এসব জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন স্থিতিশীল ছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বর্তমানে প্রাবোও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি, বিশেষ করে ‘ফ্রি মিল’ কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
ফ্রি মিলস কর্মসূচি প্রাবোও সরকারর রাজনৈতিক ইশতেহারের কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
প্রতি বছর প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এই কর্মসূচির লক্ষ্য শিশুদের অপুষ্টি দূর করা, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করা। সরকারি কর্মকর্তারা এটিকে ‘ইন্দোনেশিয়ার ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিনা বলেন, ‘শুরু থেকে এই কর্মসূচির ব্যাপারে জণগণের স্পষ্ট ধারণা ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘ফ্রি মিল কর্মসূচির খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এ কর্মসূচিতে সংশ্ষ্টিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। জনগণ দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচিতে বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার বহুদিন দরে সেই দাবি উপেক্ষা করে আসছে।’
এদিকে, গত সপ্তাহে গণহারে খাদ্যে বিষক্রিয়া ও দুর্নীতির অভিযোগের পর ফ্রি মিল কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার প্রধানকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো।
৫০ দিন আগে
ছায়া বহর সন্দেহে রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল ব্রিটেন
আটলান্টিক মহাসাগরের ইংলিশ চ্যানেল থেকে রাশিয়ার একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ব্রিটেন। ট্যাংকারটি শ্যাডো ফ্লিট (ছায়া বহর) হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে সন্দেহে তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৪ জুন) দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ তথ্য জানান।
রবিবার ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার সময় রাশিয়ার ‘স্মির্টোস’ নামের জাহাজটিতে অভিযান চালিয়ে সেটিকে আটক করে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী ।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্তের জন্য জাহাজটিকে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের কাছে রাখা হয়েছে। সেখানে এটিকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
শ্যাডো ফ্লিট হলো তেল ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য বহনকারী অনিবন্ধিত জাহাজের একটি গোপন নেটওয়ার্ক। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া শত শত জাহাজ নিয়ে গঠিত এসব নৌবহর ব্যবহার করে আসছে।
রবিবার ফ্রান্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর আগে ফ্রান্সও শ্যাডো ফ্লিট-সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি জাহাজ আটক করেছিল।
এ বিষয়ে স্টারমার বলেন, ‘এই অভিযান পুতিনের বিরুদ্ধে আরও একটি বড় আঘাত হানবে। পাশাপাশি যারা ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পুতিনকে যুদ্ধের রশদ যোগান দিচ্ছে, তারা কেউই লুকিয়ে থাকতে পারবে না।’
এদিকে, যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান রাশিয়ার নৌসম্পদের ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। মহাসাগরে চলাচলকারী এসব ছায়া বহর ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে আসছিল। নৌপথে মিত্র দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে এমন অভিযান আব্যাহত থাকলে ইউরোপীয় দেশগুলোতে রাশিয়ার হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা কমে আসবে।
৫০ দিন আগে
আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ৫
ভারতের আসামে দেশটির বিমানবাহিনীর (আইএএফ) একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে আসামের জোরহাটে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই আগুন ধরে যায়।
দেশটির বিমানবাহিনীর বরাত দিয়ে দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছে এনডিটিভি। তারা হলেন—স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত এবং অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম।
দুর্ঘটনার বিষয়ে এক বিবৃতিতে আইএএফ জানায়, ‘আজ সকাল ১০টার দিকে আসামের জোরহাটে একটি নিয়মিত উড্ডয়নের সময় আইএএফের একটি এএন-৩২ বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থল ব্যবস্থাপনা ও প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এই প্রাণহানিতে বিমানবাহিনী গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে রয়েছে।’
প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবতরণের সময় বিমানটি জোরহাট বিমানঘাঁটির ভেতরেই বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই সেটিতে আগুন ধরে যায়। আগুন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে দ্রুত জরুরি সেবাদানকারী দল মোতায়েন করা হয়।
৫১ দিন আগে
এবার ইসরায়েল-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আশঙ্কা
প্রায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতির পর আবারও ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। এদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা সৌদি আরবের একটি এলাকার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান ইসরায়েলের দিকে দুই দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। হামলার সময় ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। তারপরও ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এর আগে, সোমবার ভোরে ইসরায়েল মধ্য ও পশ্চিম ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। তাদের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়। গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘর্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কয়েকদিন আগে ইসরায়েলকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সে আহ্বান উপেক্ষা করে স্থানীয় সময় রবিবার (৭ জুন) বৈরুতের দক্ষিণ উশহরে হামলা চালায় ইসরায়েল। এর পরপরই ইরান পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। এর আগে, ট্রাম্প বেনিয়মিন নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন, ইসরায়েলের আর কোনো পাল্টা হামলার প্রয়োজন নেই।
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের
এদিকে, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, লোহিত সাগরে চলাচলকারী ইসরায়েলের জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে আবারও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।
হুথিদের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারির হামলার এ বিবৃতি গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার করা হয়।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে হুথিদের এই ঘোষণায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক এসব ঘটনার কারণে সেখানের পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।
৫৬ দিন আগে