বিশ্ব
কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা নিউজিল্যান্ড সরকারের, চাকরি হারাতে পারেন ৯ হাজার কর্মী
সরকারি ব্যয় কমাতে নিউজিল্যান্ড সরকার আগামী ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরি থেকে ১৪ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর ফলে এই সময়ের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার কর্মী চাকরি হারাতে পারেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির সরকার।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৯ মে) নিউজিল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী নিকোলা উইলিস এ ঘোষণা দেন।
উইলিস জানান, সরকারি সংস্থাগুলোতে এখন থেকে টানা ৩ বছর বাজেট কমিয়ে দেবে নিউজিল্যান্ড সরকার। এর আওতায় সরকারি দপ্তরগুলোতে কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছেন তারা। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির পুরো সরকারি খাতে দ্রুত এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেবে সরকার।
নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর অকল্যান্ডে এক ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে উইলিস বলেন, কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার (প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) সাশ্রয় হবে।
তিনি জানান, রাজধানী ওয়েলিংটনে সরকারি কর্মচারীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা ৬৩ হাজার ৭০০ জন। এই সংখ্যা কমিয়ে ৫৫ হাজারে নামিয়ে আনা হবে। অর্থাৎ ৮ হাজার ৭০০ জন সরকারি চাকরিজীবী ছাঁটাই করা হবে।
উইলিস বলেন, এর ফলে নিউজিল্যান্ডের ৫৩ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে সরকারি কর্মচারীর হার ১ শতাংশে নেমে আসবে। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে সরকারি কর্মচারীর হার ১ দশমিক ২ শতাংশ।
তিনি বলেন, আমাদের পক্ষে এত বেশি সংখ্যক সরকারি কর্মীর ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব না। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এত বেশি সরকারি কর্মী নেই। তবে সামরিক বাহিনী, শিক্ষক ও চিকিৎসকদের সরকারি চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হবে না বলে জানান তিনি।
এছাড়া, এই ছাঁটাই কার্যক্রমের আওতায় ৩৯টি সরকারি বিভাগ ও সংস্থার সংখ্যাও কমিয়ে আনা হবে। এর ফলে কোন বিভাগ ও সংস্থাগুলো বাদ পড়বে, তা অবশ্য তিনি উল্লেখ করেননি। তবে এই কার্যক্রম এখনই শুরু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন উইলিস। তবে ভবিষ্যতে কারা চাকরি হারাতে পারেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানাননি তিনি।
নিউজিল্যান্ডে ২০২৩ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন ক্রিস্টোফার লাক্সনের মধ্য-ডানপন্থি সরকার। এর আগে, লাক্সন সরকার তার নির্বাচনি প্রচারণায় সরকারি খাত ছোট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এদিকে, আগামী নভেম্বরে দেশটিতে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত মঙ্গলবার সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশটির শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এ বিষয়ে বিরোধী দলীয় লেবার পার্টির নেতা ক্রিস হিপকিন্স বলেন, সম্মুখ সারির সরকারি চকিরিজীবীদের ছাঁটাইয়ের বাইরে রেখে এত বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মী ছাঁটাই করা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়।
হাজারো সরকারি কর্মচারীর প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের মুখপাত্র ডুয়েন লিও বলেন, সরকারের এমন পদক্ষেপ ধ্বংসাত্মক।
এদিকে ন্যাশনাল পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকার দাবি করেছে, এর আগে মধ্য-বামপন্থি লেবার সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণেই সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। সে সময় লেবার সরকারের আমলে সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা ৪৮ হাজার থেকে বেড়ে ৬৩ হাজারে পৌঁছায়।
উইলিস আরও জানান, মে মাসের শেষ দিকে ঘোষিত সরকারি বাজেটে সরকারি সংস্থাগুলোর বরাদ্দ ২ শতাংশ কমানো হবে। সরকার সামনের নির্বাচনে আবারও নির্বাচিত হলে পরবর্তী দুই বছরে প্রতি বছর ৫ শতাংশ করে বাজেট কমানো হবে।
তিনি উল্লেখ বলেন, নিউজিল্যান্ডে সরকারি খাত এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি। তাই সরকারি সংস্থাগুলোতে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে।
বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি চলছে। এরই মধ্যে সরকারি খাতে এই কাটছাটের ঘোষণা এলো।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন আসন্ন নির্বাচনের আগে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে পুনরুদ্ধার করার প্রমাণ দেখাতে চাইছেন। এ সময় তিনি নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় ভালো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।
মঙ্গলবার লাক্সন বলেন, নিউজিল্যান্ডে সরকারি খাতে দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। এ সময় সরকারি চাকরি কোনো কর্মসংস্থান তৈরির প্রকল্প নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৩১ দিন আগে
কঙ্গোয় ইবোলার প্রকোপ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩১
কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশটিতে ৫১৩ জনের শরীরে ইবোলা সংক্রমণের উপসর্গ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইতোমধ্যে এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
কঙ্গো সরকারের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে বিস্তৃত পরিসরে ইবোলা সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) থেকে জানানো হয়েছে, উগান্ডায় ২ ব্যক্তির শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। সেখানে ইবোলা আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুও হয়েছে।
কঙ্গোতে প্রাণঘাতী এই রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে দেশটির সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা সন্দেহভাজন রোগীদের শরীরে ইবোলার সংক্রমণ শনাক্ত করতে কাজ করছে। এ সময় জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে দেশটির ইতুরি প্রদেশের নিয়াকুন্ডে, নর্থ কিভুর বুটেম্বো, গোমা শহর ও অন্যান্য এলাকায় ইবোলা শনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
এদিকে, কঙ্গোতে অবস্থানরত একজন মার্কিন চিকিৎসকেরও ইবোলা শনাক্ত হয়েছে বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে। ওই চিকিৎসকের সঙ্গে কাজ করা মেডিকেল মিশনারি গ্রুপ এবং সিডিসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সিবিএস নিউজকে তারা জানিয়েছে, আক্রান্ত চিকিৎসকের চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়া হবে।
আক্রান্ত মার্কিন নাগরিকের নাম প্রকাশ করেনি সিডিসি। তবে তার সঙ্গে কাজ করা মেডিকেল মিশনারি গ্রুপ সার্জে জানিয়েছে, ওই চিকিৎসকের নাম পিটার স্ট্যাফোর্ড।
সার্জে গ্রুপের আরও দুই চিকিৎসক চিকিৎসার সময় ইবোলা রোগীদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে স্ট্যাফোর্ডের স্ত্রী ডা. রেবেকাহ স্ট্যাফোর্ডও রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে এখনও কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। এক বিবৃতিতে গ্রুপটি জানায়, তারা সকলে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইন নির্দেশনা মেনে চলছেন।
সিবিএস নিউজ আরও জানিয়েছে, কঙ্গোতে চলমান এই ইবোলা প্রাদুর্ভাবে অন্তত ৬ জন মার্কিন নাগরিক ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন।
সিডিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার কঙ্গোতে ইবোলা আক্রান্ত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কতজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
স্বাস্থ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্ট্যাট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কঙ্গোতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের একটি ছোট দলকে নিরাপদে কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, তাদের জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হতে পারে।
অপরদিকে, স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে কঙ্গোতে আক্রান্ত মার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে সরাসরি প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানায় সিডিসি।
এ বিষয়ে গত সোমবার সিডিসি জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কম। তবে যুক্তরাষ্ট্রে রোগটির প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় আক্রান্ত এলাকা থেকে আসা যাত্রীদের পর্যবেক্ষণ করা হবে। গত ২১ দিনে উগান্ডা, কঙ্গো ও দক্ষিণ সুদানে ভ্রমণ করা অমার্কিন পাসপোর্টধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ হবে।
সিডিসি জানিয়েছে, তারা এয়ারলাইনস ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাত্রীদের পরীক্ষা করা এবং হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি জোরদার করবে।
এদিকে, কঙ্গো ভ্রমণে সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে চতুর্থ স্তরের ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরতদের কঙ্গোতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ইবোলা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হলেও এটি এখনও মহামারি আকার ধারণ করেনি। তবে, সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমানে যে পরিমাণে ইবোলা শনাক্তের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, প্রকৃত পরিস্থিতি তার চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। ফলে কেবল স্থানীয় নয়, আঞ্চলিক পর্যায়ে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
১৯৭৬ সালে আফ্রিকায় সর্বপ্রথম ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব ঘটে। তখন ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। সে সময় গিনি, সিয়েরা লিওন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালিসহ পশ্চিম আফ্রিকার ভেতরে ও বাইরে একাধিক দেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে ১১ হাজার ৩২৫ জনের মৃত্যু হয়।
আফ্রিকা সিডিসির প্রধান জ্যা কাসেয়া বিবিসিকে জানান, কঙ্গোতে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় টিকা ও ওষুধের অভাব রয়েছে। তাই সেখানকার জনগণকে জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বিশেষ করে ইবোলা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন প্রক্রিয়ায় সতর্কতা মানতে বলা হচ্ছে।
কাসেয়া বলেন, ‘আমরা চাই না দাফন করতে গিয়ে কেউ ইবোলায় সংক্রমিত হোক।’
প্রায় এক দশক আগে আফিকায় ইবোলার বড় প্রাদুর্ভাবের সময় পারিবারিক দাফনে মরদেহ গোসল করানোর কারণে বহু মানুষ সংক্রমিত হয়েছিল।
এদিকে, কঙ্গো ও উগান্ডাকে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্ক্রিনিং জোরদারের পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও, যাতে ভাইরাসটি পাশাপাশি দেশগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে। এছাড়া, প্রতিবেশী দেশগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও কমিউনিটি পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডা জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা সীমান্তে স্ক্রিনিং আরও কঠোর করবে। অন্যদিকে, নাইজেরিয়া জানিয়েছে, তারা বর্তমানে ইবোলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
৩১ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় স্কুলে জঙ্গি হামলা, ৮০টির বেশি শিশু নিখোঁজ
নাইজেরিয়ায় গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন স্কুলে জঙ্গি হামলা ও অপহরণের ঘটনায় অন্তত ৮০টির বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে সরকার জিহাদি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশটিতে সাম্প্রতিক এসব জঙ্গি হামলা স্কুলশিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) নাইজেরিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারা ও মানবাধিকার সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাজধানী আবুজা থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির একাধিক স্কুলে গত এক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলায় ৮০ জনের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বোর্নো অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠী। এ সময় আসকিরা উবা ও চিবক এলাকায় অবস্থিত ওই স্কুল থেকে ৪২ শিশুকে অপহরণ করা হয়।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বোর্নো রাজ্যের সাম্বিসা বনাঞ্চল-সংলগ্ন মুসা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নাইজেরিয়ায় সাম্বিসা বন জঙ্গি অধ্যুসিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই বনে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী আইএসডব্লিউএপির শক্ত ঘাটি রয়েছে।
অন্যদিকে, গত শুক্রবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়ো অঙ্গরাজ্যের দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী।
অ্যামনেস্টির নাইজেরিয়া শাখা জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ৪০ শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে। ওয়ো অঙ্গরাজ্যে এর আগে অপহরণের ঘটনা সচরাচর দেখা যায়নি।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অপহরণের আতঙ্কে অনেক শিশু স্কুল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি, অনেক পরিবার হামলা থেকে বাঁচাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছে। এসব মেয়ে শিশুদের বাল্যবিয়েতে বাধ্য করছে তাদের পরিবার।
এদিকে, মুসা গ্রামের সরকারি কর্মকর্তা পিটার ওয়াব্বা জানান, ওয়ো রাজ্যে অপহৃত শিশুদের সংখ্যা ৪৮ জন।
তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের আশ্বাস দিচ্ছে, তারা অপহৃত শিশুদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করছি।’
অপরদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, কর্তৃপক্ষ প্রায়ই জঙ্গি হামলার ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তা আর বাস্তবায়ন করে না। সংস্থাটি জানায়, এসব হামলার শিকার ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৬ মে) ওয়ো রাজ্যের পুলিশ মুখপাত্র আয়ানলাদে ওলায়িঙ্কা জানান, ওয়ো অঙ্গরাজ্যে স্কুলে হামলার ঘটনায় তিনজন বন্দুকধারীকে আটক করা হয়েছে। হামলাটি করা হয়েছিল ওরিইরে এলাকায়। ওরিইরে লাগোস শহর থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ওলায়িঙ্কা বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি।
নাইজেরিয়ায়, বিশেষ করে দেশটির উত্তরাঞ্চলে স্কুল থেকে শিশু অপহরণ একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল এই দেশটিতে গত বছরও স্কুলে দুটি বড় ধরনের অপহরণের ঘটনা ঘটে। সে সময় ৩ শতাধিক শিশুকে অপহরণ করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো স্কুলকে তাদের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করছে। কারণ, স্কুলে হামলা চালালে দ্রুত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাওয়া যায়।
৩২ দিন আগে
চীনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২ জন নিহত, ৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
চীনে ৫.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। এ দুর্যোগে একাধিক ভবন ধসে পড়েছে এবং লিউঝো শহর থেকে ৭ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) ভোরে দক্ষিণ চীনের গুয়াংশি অঞ্চলে এ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
নিখোঁজ কয়েকজন বাসিন্দার অনুসন্ধান কাজ আজ (সোমবার) দুপুরের দিকে শেষ হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ আটকে পড়া ৯১ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ জীবিত এবং সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক সিসিটিভি প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, এক্সকেভেটর দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে। সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৩টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধস এলাকার রাস্তাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। লিউঝো এলাকায় ট্রেন চলাচলও বাতিল বা বিলম্বিত করা হয়েছে।
দক্ষিণ চীনে মাঝে মাঝে ভূমিকম্প হয়ে থাকে, তবে তীব্র ভূমিকম্প সাধারণত পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চলে অথবা তাইওয়ানের দিকে পূর্বাঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বিধ্বংসী ভূমিকম্পটি ছিল ২০০৮ সালে দক্ষিণ-পশ্চিমের সিচুয়ান প্রদেশে, যেখানে ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং নিখোঁজ হয়েছিলেন।
৩২ দিন আগে
ইরানের জন্য ‘ঘড়ির কাঁটা টিক টিক করছে’ বলে সতর্ক করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পরিচালিত শান্তি আলোচনা বাতিল করা হয়েছে এবং ‘ঘড়ির কাঁটা টিক টিক করছে’। তিনি তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘ইরানের দ্রুত নড়েচড়ে বসা উচিত, নইলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’ সময়ই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট সঙ্গে ইসরায়েলের আলোচনার পর নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল এসব কথা জানায়।
এদিকে, ইরানি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সির মতে, ওয়াশিংটনের এই আপোষহীন মনোভাব আলোচনাকে ‘স্থবির’ করে দেবে।
এই সপ্তাহের শুরুতেও ট্রাম্প বলেছিলেন যে যুদ্ধবিরতি ‘ব্যাপক লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। সেই সঙ্গে তেহরানের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করে সেগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের ওই দাবিগুলো ছিল যথেষ্ট ‘দায়িত্বশীল’ এবং ‘উদার’।
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল— সব রণাঙ্গনে তাৎক্ষণিক যুদ্ধের সমাপ্তি যা লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান হামলারও অবসান ঘটাবে, ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি।
ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি গতকাল (রবিবার) জানায়, ওয়াশিংটন তেহরানের প্রস্তাবের জবাবে পাঁচটি শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— ইরানকে মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখাতে হবে এবং অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্থানান্তর করতে হবে।
শুক্রবার (১৫ মে) ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, দুই দেশের মধ্যে বড় বিরোধের বিষয়, ইরানের এই পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়টি তিনি মেনে নেবেন। এটি সম্পূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিলের দাবি থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। তবে পরবর্তীতে আলোচনা সহজ করার জন্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি মাঝে মাঝে গুলি বিনিময় সত্ত্বেও মোটামুটিভাবে মেনে চলা হচ্ছে।
৩২ দিন আগে
মস্কোর কাছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত ৪
রাশিয়ায় মস্কোর কাছাকাছি এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলাটিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অন্যতম বড় হামলা হিসেবে দেখছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের এ হামলার ফলে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি এলাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি এতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
মস্কোর স্থানীয় গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খিমকি শহরে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানলে তাতে এক নারী নিহত হন। মস্কো থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরের পোগোরেলকি গ্রামে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আরও ২ জন পুরুষ নিহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোরোবিয়ভ আরও জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘতে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ হামলার ফলে কয়েকটি বহুতল ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, মস্কোর একটি তেল শোধনাগারের কাছে অবস্থানরত ১২ জন এ হামলায় আহত হয়েছেন। তবে হামলায় তেল শোধনাগারের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন মেয়র।
এদিকে, রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মস্কোর দিকে আসা ৮১টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তারা আরও জানিয়েছে, এই ইউক্রেনীয় হামলাটি মস্কোর ওপর সাম্প্রতিক সময়ে করা সবচেয়ে বড় হামলা।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে তারা মোট ৫৫৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন একটি ট্রাককে আঘাত করে। এতে এক রুশ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
মস্কোর সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভো সূত্র জানায়, ইউক্রেনের হামলায় বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। তবে এতে সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, একই রাতে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ২৮৭টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ২৭৯টি ড্রোন ধ্বংস করেছে দেশটির বিমানবাহিনী।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে মধ্যাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে ৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দনিপ্রো শহরে ৩ জন, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহে ৪ জন এবং সিনেলকোভে ১ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার এ হামলায় তিনটি স্থানেই আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৩৩ দিন আগে
কঙ্গো-উগান্ডায় ইবোলার প্রাদুর্ভাব, বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি
কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক রোগীর শরীরে ইবোলার উপসর্গ এবং ৮৮ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা পরিস্থিতি এখনও কোভিড-১৯-এর মতো বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাই এই মুহূর্তে তারা আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ না করার পরামর্শ দিয়েছে।
ইবোলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির বমি, রক্ত ও বীর্যের মতো শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এলে সহজেই অন্য শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে। ইবোলা তুলনামূলকভাবে বিরল রোগ, তবে রোগটি বেশ গুরুতর। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
ডব্লিউএইচও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, বর্তমানে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের জন্য বান্ডিবুগি ভাইরাস দায়ী। এই ভাইরাসটি ইবোলার একটি বিরল ধরন। বান্ডিবুগি ভাইরাসের প্রতিরোধে এখনও কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা ও টিকা বের হয়নি। এর আগে, কঙ্গো ও উগান্ডায় ২০ বারের বেশি ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। তবে এবারে তৃতীয়বারের মতো সেখানে বাসিন্দাদের শরীরে বান্ডিবুগি ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ইবোলায় আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় সব রোগীই কঙ্গোতে শনাক্ত হয়েছেন। প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় কেবল দুটি সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে।
৩৩ দিন আগে
নেতৃত্ব পরিবর্তনেই কি ইসরায়েলের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হবে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশের পরবর্তী সরকার গঠনের লক্ষ্যে বিরোধী দলীয় নেতা নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ একজোট হয়েছেন। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তাদের সমালোচনার কমতি না থাকলেও গাজা ও আঞ্চলিক যুদ্ধ নিয়ে তাদের তেমন কোনো মাথাব্যাথা নেই।
ইতোমধ্যে গাজায় ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসরায়েলকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তবু দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনেট ও লাপিদ বাজি ধরছেন যে, অক্টোবরের মধ্যে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এলে তারা ইসরায়েলের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
এপ্রিলে সরকার গঠনের প্রচারণা শুরু করে চরম ডানপন্থি বেনেট ভোটারদের ‘সংশোধনের এক যুগের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার ভাষায় নেতানিয়াহুর আমলের বিভেদ ও একঘরে অবস্থার অবসান ঘটিয়ে ‘পেশাদার’ ও ‘ইসরায়েলের মঙ্গলে নিবেদিত’ নেতারা দেশ চালাবেন।
আন্তর্জাতিক পরিসরে একঘরে ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরায়েল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিচ্ছিন্ন। জাতিসংঘের একটি কমিশন গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইউরোপে স্পেন, নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ডও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে।
শুধু তাই নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্য থেকেও ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি স্থগিতের চাপ বাড়ছে। এমনকি ইসরায়েলের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের জনমত জরিপেও দেখা গেছে, দুই দলের সমর্থকদের মধ্যেই ইসরায়েলের একাধিক যুদ্ধ ও মার্কিন রাজনীতিতে তার প্রভাব নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতও (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের (ইসিএফআর) পলিসি ফেলো বেথ অপেনহেইমের ‘ইসরায়েল ক্রমেই আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে’ মন্তব্যটি একেবারে অপ্রাসঙ্গিক বলা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের জনমত জরিপের দিকে ইঙ্গিত করে আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘আপাতত ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর প্রকাশ্যে ‘বন্ধুত্ব’ বজায় আছে, তবে ইরান ও লেবানন যুদ্ধে সেই সম্পর্কে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ট্রুথ সোশ্যালে ইসরায়েলকে লজ্জাজনক আদেশ দিচ্ছেন।’
এদিকে, ইউরোপে ইসরায়েলের বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে। কেবল হলোকস্টের স্মৃতি এবং বাণিজ্য ও অস্ত্র চুক্তির স্বার্থগত হিসাব-নিকাশ ইউরোপকে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়া থেকে আটকে রেখেছে বলে তিনি মনে করেন।
অথচ গাজা, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর অব্যাহত দখলদারত্বের বিষয়ে বেনেট ও লাপিদের কোনো উল্লেখযোগ্য সমালোচনা নেই। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা মনে করেন নেতানিয়াহু যথেষ্ট কঠোর হননি।
৩৩ দিন আগে
ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিন বাড়ছে: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর
ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ছে। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে দুপক্ষই সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র।
শুক্রবার (১৫ মে) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এসব কথা জানান। এক্স পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানান, যুদ্ধের বিষয়ে আরও অগ্রগতি আনতে ১৬ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হবে।
পিগট জানান, আগামী ২-৩ জুন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে পুনরায় রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করবে ইসরায়েল ও লেবানন। এর আগে তাদের সামরিক প্রতিনিধিরা ২৯ মে পেন্টাগনে নিরাপত্তা আলোচনা শুরু করবেন।
দুই দেশ বৃহস্পতি (১৪ মে) ও শুক্রবার (১৫ মে) এখানে তৃতীয় দফা সরাসরি আলোচনা করেছে, যাকে পিগট ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থার খবরে জানা গেছে, শুক্রবার ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননে কমপক্ষে ৯ জন নিহত এবং কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন, সৈন্য, সামরিক বুলডোজার এবং একটি মেরকাভা ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ২ হাজার ৯৫১ জন নিহত এবং ৮ হাজার ৯৮৮ জন আহত হয়েছেন।
৩৪ দিন আগে
অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে ‘যৌন নিপীড়ন’, ইন্দোনেশিয়ায় বন্ধ হলো মেয়েদের আবাসিক স্কুল
ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভার এনধোলো কুসুমো নামে মেয়েদের একটি ইসলামিক আবাসিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ উঠেছে স্কুলটির তত্ত্বাবধায়ক কিয়াই আশারির (৫৮) বিরুদ্ধে। এরপর স্কুলটি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, নিপীড়নের অভিযোগ প্রকাশ হওয়ার পর গত ২ মে বিক্ষুদ্ধ জনতা ওই আবাসিক স্কুলটি ঘেরাও করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্যানার হাতে বিক্ষোভ করেন।
তত্ত্বাবধায়ক আশারির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কয়েক বছর ধরে স্কুলটির বহু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন করে আসছেন। এসব শিক্ষার্থীর বেশিরভাগই ছিল দরিদ্র পরিবারের সন্তান ও এতিম।
এই ঘটনাটি দেশটির ইসলামিক আবাসিক স্কুলগুলোতে যৌন নির্যাতনের দীর্ঘদিনের সমস্যাকে সামনে এনেছে।
এর আগে, আশারির বিরুদ্ধে মুখ খোলা একাধিক সাক্ষী নিজেদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। তবে, একজন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী তার যৌন লালসার শিকার হয়েছেন।
ভুক্তভোগীর আইনজীবী আলি ইউসরন বিবিসিকে বলেছেন, ‘যৌন সহিংসতার শিকার ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৩০ থেকে ৫০ জন শিশু রয়েছে। আমি একজন ভুক্তভোগীর হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করছি, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় আরও অনেক ভুক্তভোগীর তথ্য উঠে এসেছে। আমার মক্কেলই কিয়াই আশারির সব গোপন কর্মকাণ্ড প্রকাশ করে দিয়েছেন।’
গত ৪ মে ইন্দোনেশিয়া পুলিশ জানিয়েছিল, ২৮ এপ্রিল কিয়াই আশারিকে সন্দেহভাজন ‘যৌন নিপীড়ক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে তখনও তাকে আটক করা হয়নি, কারণ পুলিশ মনে করেছিল যে তিনি পালাবেন না। কিন্তু পরে পুলিশের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। ওই দিনই আশারি পাতি এলাকা ছেড়ে পর্যায়ক্রমে বোগর, জাকার্তা ও সলো শহরে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ৬ মে রাতে মধ্য জাভার ওনোগিরির একটি মসজিদ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরপর ৭ মে পাতি পুলিশের প্রধান জাকা ওয়াহিউদি জানান, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে অন্তত ১০ বার অভিযোগকারী ওই ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করেছেন আশারি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, আশারি শরীরে ম্যাসাজ চাওয়ার অজুহাতে ভুক্তভোগীর কক্ষে প্রবেশ করতেন। এরপর তিনি তাকে পোশাক খুলতে বাধ্য করতেন। তার শরীরে স্পর্শ ও চুম্বনের মতো অশালীন কাজ করেছেন আশারি।
প্রায় দশবার তার সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি তার বাবাকে জানান। এরপর তার পরিবার থানায় অভিযোগ করে।
আগেও ছিল অভিযোগ
এবারই প্রথম নয়, এর আগেও আশারির বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল।
এনধোলো কুসুমো স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আশারি। ২০২২ সাল থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এসছে। এ ব্যাপারে আইনজীবী আলি ইউসরন বলেন, ভুক্তভোগীরা সকলেই নারী শিক্ষার্থী।
২০২৪ সালে কিয়াই আশারির বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের অভিযোগ পায় পাতি পুলিশের নারী ও শিশু সেবা ইউনিট। তবে পরে অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে পাতি পুলিশের প্রধান জাকা বিবিসিকে বলেন, ২০২৪ সালে আশারির বিরুদ্ধে করা মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছিল। সে সময় তার ব্যাপারে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদও হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে নানা বাধা আসে।
তিনি জানান, পরে চারজন অভিযোগকারী তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন। ভুক্তভোগীদের পরিবার বিষয়টি আপসের মাধ্যমে মীমাংসা করতে চেয়েছিল। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতে সম্মানহানি হবে, এমন উদ্বেগ থেকে কয়েকজন সাক্ষী পরে সাক্ষ্য দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
এর প্রায় দুই বছর পর গত মাসে আবারও কিয়াই আশারির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন এক ভুক্তভোগী। এ মামলার পর পুলিশ আশারিকে ‘সন্দেহভাজন নিপীড়ক’ ঘোষণা করে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সমস্যা
পুলিশপ্রধান জাকা আরও বলেন, পুলিশ এখনও আশারির যৌন সহিংসতার শিকার মোট ভুক্তভোগীর সংখ্যার বিষয়ে তদন্ত করছে। তা বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি নারী শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তিকর মতবাদ শেখাতেন। তিনি নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন বলে দাবি করতেন। নিজেকে নবীর বংশধর বলেও পরিচয় দিতেন তিনি।
পেনগুরুস বেসার নাহদলাতুল উলামার (পিবিএনইউ) যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ ইউনিটের সদস্য এবং জাতীয় নারী নির্যাতন কমিশনের সাবেক কমিশনার ইমাম নাহেই বলেন, ইসলামিক আবাসিক স্কুলগুলোতে যৌন সহিংসতার ঘটনাগুলো প্রায় একই ধরনের। এসব প্রতিষ্ঠানের যৌন নিপীড়করা প্রায়ই এমন ভুল মতবাদ শেখান যার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
তিনি বলেন, ‘তারা কেউ কেউ নিজেদের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক দাবি করেন। শিক্ষার্থীদের তারা এমনভাবে প্রলুদ্ধ করেন যেন তাদের কথা না মানলে জাহান্নামে যেতে হবে।’
ইমাম নাহেই জানান, অনেক আবাসিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌন আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয়। তার মতে, আবাসিক স্কুলগুলোর এই চুপ থাকার সংস্কৃতি যৌন সহিংসতাকে স্বাভাবিক করে তোলে।
তিনি দেশটির সুমেনেপের একটি স্কুলের উদাহরণ দিয়ে বলেন, স্কুলটিতে ২০১৭ সাল থেকে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চলে আসছিল, কিন্তু সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। এর মানে হলো, এতদিন ভুক্তভোগী ও আশপাশের মানুষেরা চুপ ছিলেন।
ইমাম নাহেই নিজেও একটি বড় ইসলামিক আবাসিক স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তিনি জানান, তিনি সহকর্মীদের জিজ্ঞাসা করে দেখেছেন, তারা যৌন নিপীড়ন কী, সেটাই বোঝেন না। তারা মনে করেন, যৌন নিপীড়ন মানেই কেবল ধর্ষণ বা শারীরিক মিলন। মৌখিক যৌন নিপীড়নকে তারা শুধু ‘পাপ’ মনে করেন। এক্ষেত্রে সরকারি নজরদারির ঘাটতিকে আরও বড় সমস্যা বলে মনে করেন তিনি।
ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম মন্ত্রণালয় ২০২২ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন সহিংসতা মোকাবেলায় আইন জারি করেছে। তবে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক আবাসিক স্কুলগুলো এই আইনের বাইরে থেকে গিয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতন হলে অভিযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামিক আবাসিক স্কুলে স্পষ্ট নীতিমালা ও টাস্কফোর্স গঠনে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে আরও জোরালো ভূমিকা নিতে হবে। নতুন করে গড়ে ওঠা ইসলামিক আবাসিক স্কুলগুলোর ওপর মন্ত্রণালয় ও সমাজের তদারকি আরও কঠোর হওয়া জরুরি।
এনধোলো কুসুমো স্কুল বন্ধ ঘোষণা
এনধোলো কুসুমো আবাসিক স্কুলটি ২০২১ সাল থেকে অনুমোদন পেয়েছিল। স্কুলটিতে অন্তত ২৫২ জন শিক্ষার্থী ছিল। সাম্প্রতিক যৌন সহিংসতার এ অভিযোগের পর স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয় স্কুলটির লাইসেন্স বাতিল করেছে।
অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে অনলাইন ক্লাস বা অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ইসলামিক আবাসিক স্কুল বিভাগের পরিচালক বাসনাং সাঈদ জানান, তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে করতে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই স্কুলটি বন্ধ করা হয়েছে। এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত স্কুলটিতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে, স্কুলটিতে শিশু সুরক্ষা, তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মানদণ্ড পূরণ হচ্ছিল কি না, সেটিও যাচাই করা হবে। যদি স্কুলটি এসব মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় আরও সুপারিশ করেছে, যেসব শিক্ষক বা তত্তাবধায়কের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠবে, তাদের অবিলম্বে বরখাস্ত ও আবাসিক ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কার করা হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইন্দোনেশিয়ার সব ইসলামিক আবাসিক স্কুলকে নতুন শিক্ষক নিয়োগের আহ্বানও জানিয়েছে সরকার। এসব শিক্ষককে দক্ষ ও নৈতিকভাবে সৎ হতে হবে বলে শর্ত দেওয়া হয়েছে।
৩৬ দিন আগে