বিশ্ব
ভারতের উত্তরপ্রদেশে ধূলিঝড় ও বজ্রপাতে ৯৬ জন নিহত
ভারতের উত্তরপ্রদেশে ধূলিঝড়, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতে কমপক্ষে ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে আরও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হওয়াসহ ঘরবাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় আঘাত হানে বলে আজ বৃহস্পতিবার দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গাছ উপড়ে পড়া, ঝড়ে মৃত্যুসহ বজ্রপাত ও স্থাপনা ধসে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবেলা দল বেশ কয়েকটি জেলায় সড়ক ও রেলপথ থেকে উপড়ে পড়া গাছ সরাতে চেইন স এবং ক্রেন ব্যবহার করেছে।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মে উত্তর ভারতে ঝড়-বজ্রপাত একটি নিয়মিত ঘটনা।
স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা নরেন্দ্র এন শ্রীবাস্তব জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি পরিষেবা দল মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঝড়ে বিশেষত গ্রাম এলাকার ঘরবাড়ি, ফসল ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তীব্র বাতাসে আতঙ্কের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রয়াগরাজ জেলায় বাসিন্দা রাম কিশোর বলেন, ‘হঠাৎ করে ঝড় উঠে কয়েক মিনিটের মধ্যে আকাশ সম্পূর্ণ অন্ধকার হয়ে যায়। ঝড়ে তোড়ে বাড়িঘরের টিন উড়ে যাচ্ছিল। সজোরে গাছ পড়ার শব্দও শুনতে পাচ্ছিলাম। আতঙ্কে সবাই দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছিল।’
পার্শ্ববর্তী ভদোহি জেলার সাবিত্রী দেবী জানান, ঝড়ের তীব্রতায় তাদের মাটির ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনোমতে তার পরিবার রক্ষা পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তীব্র বাতাসের কারণে ঘরের দেওয়াল কাঁপতে শুরু করলে আমরা ছুটে বাইরে বের হয়ে যাই। কিছুক্ষণ পরেই আমাদের ছাদটা ধসে পড়ে। রাতটা কোনোমতে আমরা এক আত্মীয়ের বাড়িতে কাটিয়েছি।’
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম সম্পন্ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ ও জরুরি সহায়তা প্রদানের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
৩৬ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় বাজারে বিমান হামলায় শতাধিক নিহত, দায় অস্বীকার সেনাবাহিনীর
নাইজেরিয়ার জামফারা অঙ্গরাজ্যের একটি বাজারে সামরিক বিমান হামলায় অন্তত ১০০ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তবে দেশটির সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় বেসামরিক কেউ নিহত হয়েছেন, এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্থানীয় সময় সোমবার (১১ মে) এক বিবৃতিতে জানায়, রবিবার (১০ মে) জামফারা অঙ্গরাজ্যের তুমফা এলাকার একটি বাজারে সামরিক বিমান হামলা চালানো হয়।
ওই রাজ্যের রেড ক্রস কর্মকর্তা ইব্রাহিম বেলো গারবা এ ঘটনাটি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই হামলায় একাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নাইজেরিয়ার পরিচালক ইসা সানুসি এপিকে বলেন, হামলায় নিহতদের মধ্যে শুধু একটি গ্রামেই ৮০ জনকে দাফন করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কেউ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন কি না, এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। তারা সবাই সাধারণ মানুষ। নিহতদের বেশিরভাগই ছিল তরুণী ও শিশু।
এদিকে, নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী এপিকে বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তারা দাবি করছে, গণমাধ্যমে যেভাবে বেসামরিক হতাহতের দাবি করা হচ্ছে, তার সঠিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল মাইকেল ওনোজা বলেন, ‘বেসামরিক মানুষ কখনোই আমাদের লক্ষ্য নয়। সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ ওই এলাকায় সামরিক অভিযান এখনও চলছে বলে জানান তিনি।
গত মাসেও নাইজেরিয়ার বিমান বাহিনীর ভুলবশত চালানো এক হামলায় ১০০ জন নিহত হয়েছিল। অ্যামনেস্টির এই অভিযোগটি নাইজেরিয়ায় বেসামরিক মানুষের ওপর ভুলবশত সামরিক বিমান হামলার আরেকটি ঘটনা সামনে এনেছে। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বোকো হারামসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলায় সাধারণ মানুষ নিহতের পেছনে বিমান বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এর আগেও সেনাবাহিনীর হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
যদিও নাইজেরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা বরাবরই দাবি করে আসছেন, অভিযানের সময় তাদের হামলার লক্ষ্য থাকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা, কিন্তু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মিশে থাকে। এ কারণে আলাদা করে তাদের চিহ্নিত করা সেনাবাহিনীর জন্য জটিল হয়ে পড়ে। ফলে নিহত হয় সাধারণ মানুষ।
৩৭ দিন আগে
লেবাননের মহাসড়কে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা, নিহত ৮
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণের একটি মহাসড়কে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে এক নারী ও তার দুই সন্তানও রয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৩ মে) তিনটি গাড়িতে এ হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননেরর কয়েকটি এলাকায় হিজবুল্লার অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, মহামলার কয়েক ঘণ্টা আগে তারা দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এদিকে, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ওয়াশিংটনে আরেকটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে এই প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো করার জন্য চাপ দিচ্ছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে দেশটিতে ইসরায়েলর তিনটি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে মহাসড়কে চালানো এ হামলায় কোন গাড়িতে কতজন নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার ইসরায়েলি তিনটি ড্রোন হামলার মধ্যে দুটি হামলা বৈরুত থেকে দক্ষিণের একটি মহাসড়কে চালানো হয়। মহাসড়কটি বৈরুতের সঙ্গে বন্দরনগরী সিডনকে সংযুক্ত করেছে। অপরদিকে, তৃতীয় হামলাটি সাদিয়াত শহরের ব্যস্ত মহাসড়কে চালানো হয়।
এ ছাড়াও, সিডনের উত্তরে বুধবার দুপুরের দিকে আরেকটি হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সে সময় তারা একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক আলোকচিত্রী লেবাননের উপকূলীয় শহর বারজা ও জিয়েহর কাছে এই দুটি হামলায় নিহত তিনজনের মরদেহ দেখতে পেয়েছেন।
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারাও ইসরায়েলের দিকে হামলা চালাচ্ছে।
গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-হিজবুল্লার মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সর্বশেষ ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ শুরু হয় ২ মার্চ। এর দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এরপর হিজবুল্লা উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা শুরু করে।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন স্থানীয় সময় গতকাল (মঙ্গলবার) সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩৮০ জন নিহত এবং ১ হাজার ১২২ জন আহত হয়েছেন।
এ নিয়ে যুদ্ধ শুরু সময় থেকে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮২ জনে। এর পাশাপাশি আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৭৮৬ জন।
৩৭ দিন আগে
দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্যায় ১০ জনের মৃত্যু, জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা
দক্ষিণ আফ্রিকার ছয়টি প্রদেশে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন লোকালয় প্লাবিত হয়ে বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। বন্যায় অপ্রাতিষ্ঠানিক বসতিগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১১ মে) শুরু হওয়া এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে কমপক্ষে ২৬টি অপ্রাতিষ্ঠানিক বসতি আক্রান্ত হয়েছে এবং ১০ হাজারেরও বেশি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বন্যায় দেশটির অন্যতম শহর কেপ টাউন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পশ্চিম কেপ প্রাদেশিক সরকার স্থানীয় স্কুলগুলো এবং শহরের বিখ্যাত টেবিল মাউন্টেন পর্যটনকেন্দ্রের কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এরই মধ্যে ৪ মে থেকে পশ্চিম কেপ, উত্তর-পশ্চিম ফ্রি স্টেট, পূর্ব কেপ, উত্তর কেপ এবং মপুমালাঙ্গা প্রদেশের কিছু অংশে আঘাত হানা বন্যা, বজ্রঝড়, তীব্র বাতাস এবং তুষারপাতের কারণে ওই সব অঞ্চলে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এই ঘোষণার ফলে সরকার জরুরি তহবিল ও অন্যান্য সম্পদ ব্যবহার করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারবে।
সোমবার (১১ মে) এই বৈরী আবহাওয়ায় ঘটা প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ঘটনা আগে থেকে অনুমান করতে এবং পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজ্ঞানকে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চরম আবহাওয়াগত ধরনের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে এই তীব্র বন্যা ক্রমশ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মোজাম্বিক, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়েতে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং কয়েক বছরের মধ্যে এটি এ অঞ্চলের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা।
গত জানুয়ারিতেও ভারী বৃষ্টি ও বন্যাজনিত কারণে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছিল দেশটির সরকার। ওই দুর্যোগে উত্তরাঞ্চলে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন এবং হাজার হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাস্তা ও সেতু প্লাবিত হয়েছিল।
৩৭ দিন আগে
পাকিস্তানের বাজারে বোমা বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত, আহত অর্ধশতাধিক
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বাজারে রিকশায় বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক মানুষ। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার সর্বশেষ নিদর্শন এটি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ মে) এ হামলা ঘটে বলে জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় পুলিশ প্রধান আজমত উল্লাহ জানান, হামলাটি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের লাক্কি মারওয়াত জেলায় সংঘটিত হয়েছে। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে দুইজন ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন নারী রয়েছেন।
তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না জানালেও বলেন, ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তারা আপাতদৃষ্টিতে এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। বিস্ফোরণে আশপাশের দোকানপাটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই পথচারী ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কেউ এ বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি।
এ ধরনের হামলায় সাধারণত পাকিস্তানি তালেবান, ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)’ নামে যারা পরিচিত, তাদের দিকে সন্দেহের আঙুল ওঠে। সংগঠনটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান জোরদার করেছে। গোষ্ঠীটি আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের থেকে আলাদা হলেও তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে।
তবে টিটিপি মঙ্গলবারের এই হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, বিস্ফোরণের বিষয়টি তারা শুনেছে, কিন্তু এই হামলার পেছনে তাদের কোনো হাত নেই।
সর্বশেষ এই হামলার কয়েকদিন আগে পার্শ্ববর্তী বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও সশস্ত্র আক্রমণে ১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। এ ঘটনার পর আফগান কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় ইসলামাবাদ। পাকিস্তান সোমবার (১১ মে) বান্নু জেলার ওই হামলার জন্য আফগানিস্তানভিত্তিক টিটিপিকেই দায়ী করেছে।
অবশ্য, গতকাল (মঙ্গলবার) আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে এক পোস্টে বান্নু জেলার সাম্প্রতিক হামলায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আনা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাত বিশ্বাস করে যে অভিযোগ, হুমকি ও আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মান ও প্রকৃত সহযোগিতার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
মুজাহিদ পুনরায় কাবুলের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, আফগান ভূখণ্ডকে কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মঙ্গলবারে খাইবার পাখতুনখোয়ার হামলাটির নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং জঙ্গিদের দেশের শান্তি ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া হবে না। তিনি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে আফগান মাটি ব্যবহারের সুযোগ কাউকে দেওয়া হয় না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আফগানিস্তানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
২০২১ সালে তালেবান কাবুলের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে টিটিপি ও অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে সংঘর্ষে কয়েকশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এপ্রিলের শুরুতে চীনের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা হয়। তবে বিক্ষিপ্তভাবে সীমান্ত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যদিও আগের তুলনায় তার তীব্রতা কমেছে।
৩৭ দিন আগে
ইরানের হয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৯ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা
ইরানের হয়ে যুক্তরাজ্য ও আন্তজাতিক নিরাপত্তার বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে ৯ ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির দাবি, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অবৈধ অর্থায়ন ও সহিংস তৎপরতার সঙ্গে জড়িত। তাদের এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাজ্য ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্র বিভিন্ন দেশে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা জন্য তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করছে। এসব বাহিনী-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো অবৈধ অর্থায়নের মাধ্যমে ইরানের হয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার মতো কার্যক্রমে সহায়তা করছে। তাদের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, কিছু সংগঠন ও ব্যক্তি যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করেছে। তাদের থামাতেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান সরকারকে সমর্থন দেওয়া এই অপরাধী চক্রগুলো যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। পাশাপাশি অবৈধ অর্থ লেনদেনের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
যুক্তরাজ্য সরকার ইতোমধ্যে ৫৫০ জন ইরানি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। দেশটির অভিযোগ, ইরান ব্রিটিশ ভূখণ্ডে হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য হামলার ষড়যন্ত্র করছে।
এদিকে, ইরান-সমর্থিত একটি গোষ্ঠী সাম্প্রতিক কয়েকটি ইহুদিবিদ্বেষী হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব হামলার মধ্যে ছুরিকাঘাত এবং উপাসনালয়ে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার ঘটনাও রয়েছে।
অপরদিকে, ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ফাইভ জানিয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইরান-সমর্থিত ২০টির বেশি প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা জিন্দাশতি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অভিযোগ, তারা ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত। এই গোষ্ঠী যুক্তরাজ্যে ব্যক্তি বিশেষকে হুমকি দেওয়া, হামলার পরিকল্পনা বা সরাসরি হামলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রও এই নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, একজন মাদক পাচারকারী এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। তিনি ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইরানবিরোধী সমালোচকদের হত্যা ও অপহরণের কাজ করতেন।
এছাড়া, যুক্তরাজ্যে জারিংহালাম পরিবারের ৫ সদস্যকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অর্থ ব্যবহার করে যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে।
গত বছর জারিংহালাম পরিবারের তিন ভাই মানসুর, নাসের ও ফাজলোলাহ জারিংহালাম যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, তারা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে তাদের ছায়া ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের প্রধান পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক ও সামরিক খাতের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ইরানে পাচার করেছেন।
এছাড়া আরও ৪ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তাদের মধ্যে দুইজন ইরানি, একজন তুর্কি নাগরিক এবং একজন আজারবাইজানি নাগরিক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারীদের হুমকি দেওয়া, হামলার পরিকল্পনা এবং হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ।
৩৮ দিন আগে
হামাসের বিচারে ইসরায়েলি আইনপ্রণেতাদের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন
ইসরায়েলি আইনপ্রণেতারা সোমবার একটি বিল অনুমোদন করেছেন যার মাধ্যমে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। এই ট্রাইব্যুনাল ২০২৩ সালে ইসরায়েলে হামাসের হামলায় অংশ নেওয়ায় দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের বিচার করার এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। ওই হামলার মাধ্যমেই সর্বশেষ গাজা যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল।
স্থানীয় সময় সোমবার (১১ এপ্রিল) এই বিল অনুমদিত হয়।
১২০ আসনের পার্লামেন্টে বিলটি ৯৩-০ ভোটে পাস হয় যা ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এই হামলার জন্য দায়ীদের শাস্তির বিষয়ে ব্যাপক জনসমর্থন প্রতিফলিত করে। বাকি ২৭ জন আইনপ্রণেতা অনুপস্থিত ছিলেন অথবা ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছে, ইসরায়েল মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাকে অত্যন্ত সহজ করে তুলবে এবং একটি সুষ্ঠু বিচারের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগুলোকে বাতিল করবে। বিবাদীরা তাদের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন, তবে সেই আপিলগুলো সাধারণ আপিল আদালতের পরিবর্তে একটি পৃথক বিশেষ আপিল আদালতে শুনানি করতে হবে।
যেহেতু এই বিলটি বিচারকদের একটি প্যানেলকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে এবং এসব বিচার জেরুজালেমের একটি আদালত কক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এ বিলকে ১৯৬২ সালে নাৎসি যুদ্ধাপরাধী আডলফ আইখম্যানের বিচারের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তার বিচার প্রক্রিয়াও টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল।
আইখম্যানকে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল ইসরায়েলে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা। যদিও প্রযুক্তিগতভাবে গণহত্যা, যুদ্ধকালীন গুপ্তচরবৃত্তি এবং নির্দিষ্ট কিছু সন্ত্রাসী অপরাধের জন্য ইসরায়েলের আইনে এখনও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
বিলের বিরোধীরা আরও বলছেন যে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই বিচারপ্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করা একটি তামাশা বা লোক দেখানো অনুষ্ঠান। তারা উপস্থাপিত হতে যাওয়া প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, এসব প্রমাণ কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতির মাধ্যমে আদায় করা হয়ে থাকতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা ইসরায়েলে ঢুকে প্রায় ১,২০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করার মাধ্যমে এই যুদ্ধের শুরু হয়। গাজায় ইসরায়েলের পরবর্তী বিধ্বংসী হামলায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৬২৮ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই প্রাণ গেছে অন্তত ৮৪৬ জনের।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিহতদের প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু। হামাস-নেতৃত্বাধীন সরকারি এই মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যানগুলো জাতিসংঘ এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের কাছে সাধারণত নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচিত।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোটের অংশ এবং এই বিলের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সিমচা রথম্যান বলেছেন, ইসরায়েলি আইনপ্রণেতারা একটি ‘সাধারণ লক্ষ্য’ অর্জনে একত্রিত হতে পারেন।
হামোকড, আদালাহ এবং ইসরায়েলে নির্যাতনের বিরুদ্ধে পাবলিক কমিটিসহ বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি মানবাধিকার গোষ্ঠী গতকাল (সোমবার) জানায়, ‘৭ অক্টোবরের ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার একটি বৈধ এবং জরুরি বাধ্যবাধকতা’ হলেও, অপরাধের যেকোনো জবাবদিহিতা অবশ্যই এমন একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা উচিত যা ‘ন্যায়বিচারের নীতিগুলো বর্জন না করে বরং অন্তর্ভুক্ত করে।’
এই বিলটি গত মার্চ মাসে পাস হওয়া একটি আইন থেকে পৃথক, যে আইনে ইসরায়েলিদের হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো সেই পদক্ষেপটিকে বৈষম্যমূলক ও অমানবিক অ্যাখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিল।
মার্চের সেই আইনটি ভবিষ্যতের মামলাগুলোর জন্য প্রযোজ্য এবং এটি পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর নয়, তাই এটি ২০২৩ সালের অক্টোবরের সন্দেহভাজনদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারত না।
ইসরায়েলে নির্যাতনের বিরুদ্ধে পাবলিক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটি এখনও তাদের আটক কেন্দ্রে গাজার প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফিলিস্তিনিকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটকে রেখেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অন্তত ৭ হাজার গাজাবাসী ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে ৫ হাজার জনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ১ হাজার ৩০০ জনের মধ্যে তারা অন্তর্ভুক্ত নয় যারা ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা বা জিম্মি করে রাখার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক রয়েছেন।
৩৮ দিন আগে
পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪
উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানি তালেবানের (টিটিপি) একটি স্বঘোষিত বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১০ মে) সকালে কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানান।
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান জানান, শনিবার (৯ মে) গভীর রাতে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় অবস্থিত একটি চৌকির কাছে একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী এবং কয়েকজন বন্দুকধারী বিস্ফোরক বোঝাই একটি যানবাহনে বিস্ফোরণ ঘটায়। এই হামলার ফলে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কিছু কর্মকর্তা নিহত হন এবং বাকিরা ভবন ধসে পড়ার পর প্রাণ হারান।
তিনি আরও জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন। এই হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে নিরাপত্তা বাহিনীও একটি অভিযান শুরু করেছে।
এদিকে, সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে ‘ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ নামক একটি নবগঠিত জঙ্গি গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামে পরিচিত পাকিস্তানি তালেবানের বিচ্ছিন্ন উপদলগুলো মিলে এটি গঠিত হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এটিকে টিটিপির একটি ছায়া সংগঠন হিসেবে অভিযুক্ত করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি সহিংসতার ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, যার বেশিরভাগেরই দায় টিটিপির ওপর চাপানো হয়। এই গোষ্ঠীটি আফগান তালেবানের একটি মিত্র এবং পৃথক সংগঠন বলে পরিচিত।
ইসলামাবাদ প্রায়ই আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে টিটিপিকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলে, তবে কাবুল এই দাবি অস্বীকার করে আসছে।
এটির মতো আরও কিছু বিষয় নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ে উভয় পক্ষের শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।
এপ্রিলের শুরুতে চীন মধ্যস্থতা করার পর আফগান ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা শান্তি আলোচনায় বসেন। তবে আলোচনা সত্ত্বেও বিক্ষিপ্তভাবে আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যদিও এর তীব্রতা আগের তুলনায় কিছুটা কম।
৪০ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় অনলাইন জুয়ায় জড়িত ৩২১ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় একটি অনলাইন জুয়া পরিচালনা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ৩ শতাধিক বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
স্থানীয় সময় শনিবার (৯ মে) পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি দেশটির অবৈধ ডিজিটাল জুয়া নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পরিচালিত অন্যতম বৃহত্তম অভিযান। গ্রেপ্তারকৃত ৩২১ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে অধিকাংশই ভিয়েতনামের। জাকার্তার ‘চায়নাটাউন’এলাকার নিকটবর্তী একটি বাণিজ্যিক ভবন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারীরা এই ভবনটিকে ৭০টিরও বেশি অনলাইন জুয়া ওয়েবসাইটের কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অভিযানে সংগৃহীত বিপণন রেকর্ড এবং ডিজিটাল প্রমাণ অনুযায়ী, এই চক্রটি মূলত ইন্দোনেশিয়ার বাইরের খেলোয়াড়দের টার্গেট করত।
ইন্দোনেশীয়া পুলিশের জেনারেল ক্রাইম ডিরেক্টর উইরা সত্য ত্রিপুত্র জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ২২৮ জন ভিয়েতনামি, ৫৭ জন চীনা এবং বাকিরা লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়ার নাগরিক। তিনি বলেন, এই নেটওয়ার্কের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী এবং অর্থদাতাদের খুঁজে বের করতে তদন্তকারীরা কাজ করছেন।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রিপুত্র বলেন, ‘অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা অবস্থায় আমরা আসামিদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছি।’
তিনি জানান, এই কার্যক্রম অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত হতো, যেখানে কর্মীদের কাস্টমার সার্ভিস, টেলি-মার্কেটিং এবং আর্থিক প্রশাসনের মতো বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, এই কেন্দ্রটি প্রায় দুই মাস ধরে চালু ছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে অনেক জুয়া সিন্ডিকেট ঘনঘন তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে এবং ওয়েবসাইট ও কাস্টমার সার্ভিস পরিচালনার জন্য প্রায়ই বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করে থাকে।
ত্রিপুত্র জানান, সন্দেহভাজনদের অনেকেই স্বল্পমেয়াদি ভিজিটর ভিসা নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন এবং অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেখানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘জুয়া এবং অর্থ পাচারের মতো অপরাধের পাশাপাশি এখানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয়টিও উন্মোচিত হয়েছে।’
পুলিশ বিভিন্ন দেশের নগদ অর্থ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট এবং জুয়ার সাইট পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করেছে। কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, এই গোষ্ঠীটি অন্তত ৭৫টি বেটিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করত।
ত্রিপুত্র জানান, শনিবার পর্যন্ত আটককৃতদের মধ্যে ২৭৫ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং বাকিরা জিজ্ঞাসাবাদের অধীনে রয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে ইন্দোনেশিয়ার ফৌজদারি ও অভিবাসন আইনের অধীনে তাদের সর্বোচ্চ ৯ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ বিলিয়ন রুপিয়াহ (১ লাখ ১৬ হাজার ০০০ ডলার) জরিমানা হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার ইন্টারপোল ব্যুরোর সচিব উনতুং উইদিয়াতমোকো বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সুরাবায়া, বালি এবং বাতামে একই ধরনের আন্তঃদেশীয় অপরাধের ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। এটি অনলাইন জুয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতারণা মোকাবিলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও কঠোর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে।
তিনি আরও জানান, কর্তৃপক্ষ এমন কিছু লক্ষণ শনাক্ত করেছে যা থেকে বোঝা যায় যে, মিয়ানমার এবং কম্বোডিয়ায় কড়াকড়ি শুরু হওয়ার পর সেখানে থাকা অনলাইন জুয়া অপারেটররা ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিচ্ছে।
উইদিয়াতমোকো বলেন, ‘কম্বোডিয়ায় আইন প্রয়োগের পর আমরা ইন্দোনেশিয়ার দিকে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করি এবং এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা আগেই অনুমান করেছিলাম।’
গত বুধবার সিঙ্গাপুরের পাশের ইন্দোনেশীয় দ্বীপ বাতামের একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিবাসন নজরদারি অভিযানে ভিয়েতনাম, চীন ও মিয়ানমারের ৪৭ জন নারীসহ ২১০ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা অনলাইন বিনিয়োগ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে ধারণার কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সুরাবায়ার কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে, তারা একটি আন্তঃসীমান্ত টেলিফোন এবং অনলাইন প্রতারণা চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে জাপান ও চীনের ৪৪ জন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। এরা নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত।
এর আগে গত মার্চ মাসে পশ্চিম জাভার বোগোর শহর থেকে একই মামলায় ১৩ জন জাপানি পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গত মাসে পশ্চিম জাভার সুকাবুমী রিজেন্সি থেকে চীন, মালয়েশিয়া এবং তাইওয়ানের ১৬ জন সন্দেহভাজন আন্তর্জাতিক প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিপাইন ও কেনিয়াসহ ২৬ জন কথিত অনলাইন প্রতারককে বালি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মুসলিমপ্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়ায় অনলাইন জুয়া অবৈধ। সংগঠিত অপরাধ এবং আন্তঃদেশীয় সাইবার কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগের কারণে দেশটি বর্তমানে আইন প্রয়োগে আরও কঠোর হয়েছে।
দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
৪০ দিন আগে
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আরও ৩৯ জন নিহত
লেবাননে ইসরায়েলের টানা বিমান হামলায় আরও অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৯ মে) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে সাকসাকিয়েহতে ইসরায়েলি হামলার খবর জানায়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ওই হামলায় ‘প্রাথমিকভাবে সাতজন শহিদ হয়েছেন, যার মধ্যে একটি মেয়ে শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন, তাদের মধ্যে তিনটি শিশু।’
এদিকে আইডিএফ দাবি করেছে, তারা ওই এলাকায় ‘সামরিক কাজে ব্যবহৃত একটি স্থাপনা থেকে পরিচালিত হিজবুল্লাহ সদস্যদের’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
তারা আরও জানায়, হামলার আগে ‘নির্ভুল অস্ত্র ও আকাশপথে নজরদারির’ মাধ্যমে বেসামরিক মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানায় আইডিএফ।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সাকসাকিয়েহ শহরে ইসরায়েলের এক হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং ‘নিরীহ বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির খবর সম্পর্কে’ অবগত রয়েছে।
অন্যদিকে, নাবাতিয়েহ এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা এক সিরীয় নাগরিক ও তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, প্রথম হামলার স্থান থেকে সরে যাওয়ার পর ড্রোনটি দ্বিতীয়বার হামলা চালায়, এতে বাবা নিহত হন। এরপর ড্রোনটি মেয়েটিকে ‘সরাসরি তৃতীয়বারের মতো’ লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়। মেয়েটির জীবন রক্ষায় অস্ত্রোপচার চলছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৬ এপ্রিল ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের অধিকাংশ বিমান হামলা দক্ষিণ লেবাননে হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
এদিকে, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। এতে তিনজন ইসরায়েলি সেনা সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিকদের আলাদা করে হিসাব দেয়নি।
ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে সীমান্তবর্তী লেবাননের একটি অংশ দখল করে রেখেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উত্তরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার জন্য তারা ‘হিজবুল্লাহমুক্ত নিরাপত্তা অঞ্চল’ গড়ে তুলতে চায়।
এসব এলাকায় পুরো গ্রাম ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যা গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে, কিছু ঘটনা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহও লেবানন ও উত্তর ইসরায়েলে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, চলমান ইসরায়েলি হামলার জবাবে শনিবার তারা উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, সীমান্তের কাছে ‘হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসী সংগঠনের ছোড়া বিস্ফোরকবাহী ড্রোন’ শনাক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এরপর থেকে ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নিহত করার পর ২ মার্চ পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন ছোড়ে। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। মার্চের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনী পুনরায় দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করে এবং সেখানে গ্রাম ধ্বংসের পাশাপাশি প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা দখলে রাখে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৭৯৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ১৭ জন সেনা ও একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন আরও দুই বেসামরিক ব্যক্তি।
৪০ দিন আগে