বিনোদন
৩৬-২৪-৩৬: কারিনা কায়সার বনাম সমাজে নারীর প্রথাগত সৌন্দর্য্যের মাপকাঠি
শুধু মুখশ্রী ও শারীরিক গড়নের নিরীখে একজন নারীকে বিচার করা অনেক প্রাচীন ধ্যানধারণা। অথচ একবিংশ শতাব্দির তথ্য-প্রযুক্তির যুগেও এই সামাজিক স্টেরিওটাইপ থেকে বের হওয়া সম্ভব হয়নি। বরং আরও গেঁড়ে বসেছে সমাজের বেঁধে দেওয়া তথাকথিত সৌন্দর্যের মাপকাঠি। ফলে জন্মগত ভাবে যেসব নারী সেই শর্ত পূরণে অপারগ হচ্ছেন, তাদের বেছে নিতে হচ্ছে বিষণ্নতার জীবন। এমনি এক জীবনের বর্ণিল উপাখ্যান চরকি অরিজিনাল মুভি ৩৬-২৪-৩৬। ওটিটির আগেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে সিনেমাটির ভূয়সী প্রশংসা চলছে দর্শক মহলে। চলুন, ৩৬ ২৪ ৩৬ মুভিটির বিশদ বৃত্তান্তসহ জেনে নেওয়া যাক- কীভাবে চটকদার শিরোনামের চলচ্চিত্রটি বিস্তৃত পরিসরে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পেল।
৩৬-২৪-৩৬ চলচ্চিত্রের নেপথ্যের মানুষ
চরকি ও ছবিয়ালের ব্যানারে নির্মিত এই কমেডি নাট্য-চলচ্চিত্রটি চরকির মিনিস্ট্রি অব লাভ প্রকল্পের পঞ্চম ছবি। এই প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে নির্মিত চারটি ছবি হলো- ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’, ‘মনোগামী’, ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’ ও ‘ফরগেট মি নট’।
‘৩৬-২৪-৩৬’-এর পরিচালনায় ছিলেন রেজাউর রহমান, যিনি মোনতাসির মান্নানের সঙ্গে ছবিটির গল্পও লিখেছেন। রচনায় আরও ছিলেন মুভির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা সামাজিক মাধ্যমের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে খ্যাত কারিনা কায়সার। এটিই তার বড় পর্দায় প্রথম কাজ। মুভির কয়েকটি দৃশ্যে দেখা গেছে তার বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ এবং মা লোপা কায়সারকে।
কারিনার সঙ্গে সিনেমার মূল চরিত্রগুলোতে ছিলেন সৈয়দ জামান শাওন, প্রার্থনা ফারদিন দীঘি, আবু হুরায়রা তানভীর এবং ডানা ভাই জোস খ্যাত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর কামরুন নাহার ডানা।
অন্যান্য গুরুত্ব ভূমিকায় দেখা গেছে শহীদুল আলম সাচ্চু, মিলি বাশার, গোলাম কিবরিয়া তানভীর, মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস কুমার মৃধা, রোজী সিদ্দিকী ও শামীমা নাজনীনকে।
২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর ছবিটি দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। অতঃপর ২৮ নভেম্বর থেকে ওটিটি চরকির গ্রাহকদের জন্যও ছবিটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
আরো পড়ুন: পেক্ষাগৃহে আসছে ‘ভয়াল’
৩৬ ২৪ ৩৬ মুভি রিভিউ
.
দুটি স্তরে বিভক্ত চিত্রনাট্য
হাস্যরস ও আবেগের মিশেলে ভরপুর পুরো গল্পটি চার বছর সময়ে দুটি ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে কেন্দ্রীয় চরিত্রকে ঘিরে গড়তে থাকে গল্পের গাঁথুনি।
এ অংশে সায়রাকে দেখা যায়, একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে। নিছক আবেগের বশে নয়; মেধাবী ও বাস্তববাদী সায়রা যেকোনো কিছু বিচার করে যুক্তি দিয়ে। আর এই বৈশিষ্ট্য তাকে করে তুলেছে অনুসরণীয় পেশাদারিত্ব ও উদ্যোগী দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী।
নিজের স্থুল শরীর নিয়ে খুব ব্যতিব্যস্ত হওয়ার সুযোগ তার নেই।এরপরেও পেশা যখন সামাজিক অনুষ্ঠান নিয়ে, তখন প্রায়ই তাকে সমাজের তথাকথিত দৃষ্টিভঙ্গি সামাল দিতে হয়। তখন অলক্ষ্যেই হৃদয়ের গহীনে কোথাও গুপ্ত বঞ্চিত বিষণ্ণ সত্ত্বাটির মুখোমুখি হতে হয় সায়রাকে। অবশ্য প্রতিবারই বিষয়টিকে মেনে নিয়ে পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজেকে সামলে নেয় সে।
কিন্তু মেঘমুক্ত আকাশে হঠাৎ বৃষ্টির মতো সায়রার জীবনে প্রেম নিয়ে আসে তাহসির। জীবন নিয়ে তার মনে এতদিন ধরে গড়ে ওঠা চিন্তা-চেতনা সব ভুল প্রতীয়মান করে ঘটতে শুরু করে অমূল্য কিছু ঘটনা। তবে বেশি দিন স্থায়ী হয় না এই সুখের অনুভূতি। হঠাৎ তাহসিরের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারে না সায়রা। বহু কষ্টে তার বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগের পর জানতে পারে যে তাহসির ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন। প্রচণ্ড শঙ্কায় মনোকষ্টে দিন কাটতে থাকে সায়রার। তাহসিরের আরোগ্য লাভের জন্য দোয়া করতে থাকে।
তারপর হঠাৎ একদিন সেই বন্ধু ফোন করে জানায়, তাহসির আর বেঁচে নেই। এর মধ্যে দিয়ে শেষ হয় সিনেমার প্রথম ভাগ।
দ্বিতীয় অংশে দেখা যায়- সায়রার নিজেরই একটা ওয়েডিং প্ল্যানিং প্রতিষ্ঠান হয়েছে। একসঙ্গে অনেক ক্ল্যায়েন্টকে সার্ভিস দিতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হয় তার টিমকে। এরই মধ্যে আবার এক পুরাতন ক্লায়েন্ট রহমান সাহেবের মেয়ের ওয়েডিং প্ল্যানের জন্য সময় বের করতে হয়। আর এখানেই দেখা মেলে নতুন চরিত্র প্রিয়ন্তির। প্রাণচ্ছল ও চঞ্চল প্রকৃতির মেয়েটির পুরো বিয়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে আবর্তিত হয় গল্পের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত ভাগ। এ অংশটি প্রথম অংশের তুলনায় আরও বিচিত্র এবং হাস্যরসে ভরপুর। সেই সঙ্গে রয়েছে সংগীত বিনোদন, প্রেম ও টুইস্ট।
আরো পড়ুন: কোন নাটকের মাধ্যমে নির্দেশনায় ইতি টানছেন অঞ্জন দত্ত
সায়রা চরিত্রের বিভিন্ন দিক
এই চরিত্রের মাঝে একাধারে রয়েছে একজন পেশাদার ব্যবস্থাপক, প্রতিভাবান শিল্পী, বিষণ্নতা আড়াল করে চলা মানুষ এবং ইতিবাচক মনোরম ব্যক্তি সত্ত্বা। কাহিনির বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে প্রাসঙ্গিকভাবে এগুলো ফুটিয়ে তোলা যেকোনো নতুন অভিনেত্রীর জন্যই চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু তা মোকাবিলায় বেশ ভালোভাবেই উতরে গেছেন কারিনা। বিশেষ করে মনোলগ, সংলাপহীন বিষণ্নতা ও দুঃখবোধের জায়গাগুলোতে তার অভিব্যক্তিগুলো ছিল প্রশংসনীয়।
গল্পের টুইস্ট ও ক্লাইমেক্স অংশগুলোতেও তার প্রতিক্রিয়াগুলো ছিল যথেষ্ট নিয়ন্ত্রিত এবং পরিমিতিবোধ সম্পন্ন। অবশ্য এখানে দৃশ্যের গতিশীলতার জন্য সম্পাদনা ও পরিচালনাও কৃতিত্বের দাবি রাখে।
৫১৪ দিন আগে
‘এই পদ্মা এই মেঘনা’ গানের রচয়িতা আবু জাফর আর নেই
‘এই পদ্মা এই মেঘনা’ ‘তোমরা ভুলেই গেছো মল্লিকাদির নাম’-এক সময়ের ব্যাপক জনপ্রিয় এসব গানের গীতিকার ও সুরকার আবু জাফর আর নেই।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
তার কন্যা জিহান ফারিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুই ছেলে এক কন্য সন্তানের জনক আবু জাফর বেশ কিছু দিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।
তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার, কবি ও সংগীতশিল্পী ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ২০০০ সালে এই কলেজ থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
জানা যায়, আবু জাফর ১৯৪৩ সালের ১৫ মে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের গড়ের বাড়ি কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম খোন্দকার মো. জমির উদ্দিন। কুষ্টিয়া শহরের আডুয়াপাড়ায় তিনি বসবাস করতেন।
আবু জাফর রাজশাহী ও ঢাকা বেতার এবং টেলিভিশনের নিয়মিত সংগীতশিল্পী ও গীতিকার ছিলেন। তার রচিত দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গান তুমুল আলোড়ন তুলেছিল। একাধিক কালজয়ী গানের স্রষ্টা তিনি। এর মধ্যে ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’ ‘তোমরা ভুলেই গেছো মল্লিকাদির নাম’, ‘নিন্দার কাঁটা যদি না বিঁধিল গায়ে’ উল্লেখযোগ্য।
এছাড়াও বেশ কিছু বই লিখেছেন আবু জাফর। এর মধ্যে নতুন ‘রাত্রি পুরোনো দিন’ (কাব্য), ‘বাজারে দুর্নাম তবু তুমিই সর্বস্ব’ (কাব্য), ‘বিপ্লবোত্তর সোভিয়েত কবিতা’ (অনুবাদ কাব্য) ‘তুমি রাত আমি রাতজাগা পাখি’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
আবু জাফরের বিখ্যাত গানের মধ্যে ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’ গানটি বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা ২০টি গানের মধ্যে স্থান দখল করে। তার রচিত সব গানের বাণীতে অসামান্য সুর সংযোজনও করেন তিনি। এছাড়াও নিজের রচিত ও সুর সংযোজিত বেশির ভাগ গানে তিনি নিজেই কণ্ঠ দিয়েছেন। কোনো কোনো তার সঙ্গে যুগলে কণ্ঠ দিয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী লালন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন।
তার জানাজা শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বাদ আসর কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে তাকে কুষ্টিয়া পৌরগোরস্থানে সমাহিত করা হবে।
৫১৫ দিন আগে
লাকি ভাস্কর মুভি রিভিউ: সততা বনাম লোভের এক জমজমাট গল্প
জীবনমুখী গল্পের আবেগঘন নাটকীয়তা দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার বিরাট এক জনরা দখল করে আছে। এমন ঘরানার চলচ্চিত্রের প্রাণপুরুষদের অন্যতম হচ্ছেন দুলকার সালমান। তার উপস্থিতি অনায়াসে ঘুচিয়ে দেয় ছবির বাণিজ্যিক আবেদন ও শৈল্পিক গভীরতার মধ্যকার ব্যবধান। এই ধারাবাহিকতার উন্মুক্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সাম্প্রতিক মুভি লাকি ভাস্করে।
চরিত্র ও গল্পের বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা নিয়ে সমালোচক ও দর্শকদের মধ্যে দুলকার সালমানের লাকি ভাস্কর সিনেমাটি ইতোমধ্যে বেশ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। কারা ছিলেন সিনেমাটির নেপথ্যের কলাকুশলী, পর্দায় তাদের পরিবেশনাই বা কেমন ছিল, চলুন, তা পর্যালোচনা করা যাক।
লাকি ভাস্কর বৃত্তান্ত
তেলেগু ভাষার অপরাধ ঘরানার চলচ্চিত্রটির রচনা ও পরিচালনায় ছিলেন ভেঙ্কি আটলুরি। সিথারা এন্টারটেইনমেন্ট্স, ফরচুন ফোর সিনেমা ও শ্রীকারা স্টুডিওর অধীনে ছবির প্রযোজনা করেছেন এস নাগা ভামসি ও সাই সৌজন্যা।
শ্রেষ্ঠাংশে সিনেমার নাম ভূমিকায় থাকা দুলকার সালমানের বিপরীতে ছিলেন মীনাক্ষী চৌধুরী। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন তিনু আনান্দ, পি সাই কুমার, রামকি, রঘু বাবু, সর্বদামান ডি ব্যানার্জি, শচীন খেড়েকার, প্রভাস শ্রীনু, হাইপার আদি, শিবনারায়ণ নারিপেদি ও সূর্য শ্রীনিবাস।
আরও পড়ুন: প্রসঙ্গ জেনারেশন জেড: কারা এই জেন জি প্রজন্ম, কী তাদের বৈশিষ্ট্য
সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র ভাস্কর কুমার একজন নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষ যিনি পেশায় ব্যাংকের ক্যাশিয়ার। টানাপোড়েনের জীবন থেকে বাঁচতে এক ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার পর তিনি জড়িয়ে পড়েন ভয়াবহ এক আর্থিক কেলেঙ্কারিতে।
সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী মুক্তি পায় চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর।
লাকি ভাস্কর মুভি রিভিউ
ছবিটিতে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার বিষয়টি হচ্ছে একই চরিত্রের মধ্যে বিচিত্রতা। ভিন্ন অংশগুলোর প্রতিটি প্রেক্ষাপটের সঙ্গে পার্শ্ব-চরিত্রগুলোকে পরিমিত অনুষঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন নির্দেশক আটলুরি। ফলে উপজীব্য কাহিনীর আবহে উঠে এসেছে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্কযুক্ত গুটি কয়েক বিষয়। চলুন, গভীরভাবে তা বিশ্লেষণ করা যাক।
গল্পের আবেদন ও পরিণতি
সিনেমার প্রধান চরিত্র ভাস্কর ব্যাংকের একজন ক্যাশিয়ার, যিনি নিজের সংসার চালাতে রীতিমত যুদ্ধ করে চলেছেন। তার পরিবারে রয়েছে তার স্ত্রী সুমতি ও অসুস্থ বাবা।
ভাস্করের দিন বদলের জন্য আলোকবর্তিকা নিয়ে হাজির হন অ্যান্টনি। জীবনের যাবতীয় সমস্যা থেকে বাঁচার চাবিকাঠি থাকলেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে অ্যান্টনির প্রস্তাবে।
আরও পড়ুন: কোন নাটকের মাধ্যমে নির্দেশনায় ইতি টানছেন অঞ্জন দত্ত
এই সুযোগ আপাতদৃষ্টিতে আশীর্বাদ মনে হলেও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভাস্কর নিমেষেই এগিয়ে যেতে থাকে অন্ধকার জগতের দিকে। আর এভাবেই চলচ্চিত্রটি দর্শকদের নিকট আবেদন রেখে যায় গল্পে প্রবেশের।
এক দিকে ভাস্কারের অবৈধ পদক্ষেপগুলো সাময়িক স্বস্তির উদ্রেক করে, অন্যদিকে লোভের কারণে তার জীবন জড়িয়ে পড়তে থাকে নানাবিধ জটিলতায়। সফলতা পাওয়ার শর্টকাট রাস্তাগুলো খুব আকর্ষণীয় হলেও দিন শেষে যে এর চরম মূল্য দিতে হয়- তা-ই ফুটে ওঠে গল্পের পরিণতিতে।
কাহিনী বিন্যাসের জড়তার রোমাঞ্চকর রূপান্তর
মুভির প্রথমার্ধের ধীরগতিটা যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল তা খুব সহজেই বোঝা যায়। যথেষ্ট সাবধানতার সঙ্গে প্রতিটি চরিত্র ও কাহিনীর স্তম্ভগুলোর গাঁথুনি দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ ভনিতা দর্শকদের কিছুটা খেই হারানোর দিকে ধাবিত করলেও আবেগের উপকরণগুলো চিত্রনাট্যকে একদম গতিহীন হতে দেয়নি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় নাটকীয়তার অভিকর্ষ প্রভাব, যেখানে পরতে পরতে থাকে অপ্রত্যাশিত টুইস্ট।
নেপথ্যে আবেগঘন পটভূমি থাকলেও ব্যাংক রসিদ কেলেঙ্কারির ক্লাইমেক্সটি উত্তেজনাকে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দেয়। এ অংশে মুভির সামগ্রিক সম্পাদনা ও আটলুরির চিত্রনাট্যে মেধার বিশদ পরিচয় মেলে।
আরও পড়ুন: শুক্রবার পেক্ষাগৃহে আসছে ‘ভয়াল’
বৈচিত্র্যপূর্ণ স্তরে চরিত্রের বিকাশ
একজন ভাস্করকে লাখ লাখ মধ্যবিত্ত চাকরীজীবীদের অন্তরে পৌঁছে দিয়েছেন দুলকার। আর্থিক নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে অপমান, হতাশা এবং সেই সঙ্গে ধন-দৌলতের নেশা ছিল তার চরিত্রের প্রধান দিক। বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রত্যেকটির স্বাধীন পরিস্ফূটন ঘটেছে তার অভিব্যক্তিতে, যা কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই স্পর্শ করেছে দর্শকদের অনুভূতি।
সুমতির চরিত্রে মীনাক্ষী চৌধুরীর অবস্থান সংলাপ ও আবহতে যোগ করেছে উষ্ণতা। চলচ্চিত্রের কাহিনীকে পূর্ণতা দিয়েছেন ব্যাংকের জিএমের ভূমিকায় শচীন খেড়েকার ও অ্যান্টনির চরিত্রের রামকি।
শৈল্পিকতা ও চিত্তবিনোদনের যুগপৎ বিচরণ
মুভির পরিবেশ, আবহ, দৃশ্যধারণের নৈপুণ্য বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তিগত দিকগুলো নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। জি ভি প্রকাশ কুমারের সঙ্গীত পরিচালনা উদ্দীপনা ও অপ্রতুলতার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিকতা বজায়ে পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছে।
সঙ্গীতায়োজনে দারুণ সংযোজন ছিল ভিশা মিশ্র ও শ্বেতা মোহানের ডুয়েট এবং উশা উথুপের প্লেব্যাকগুলো। গল্পের মূল আবেদন থেকে রোমাঞ্চকর দৃশ্যের রূপায়নকে চমকপ্রদ করে তুলেছে নিমিশ রাভির সিনেমাটোগ্রাফি। ভাস্করের সংকট নিরসণের কায়দা এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির ক্লাইম্যাক্স সিনেমার পরিণত সম্পাদনার দৃষ্টান্ত।
আরও পড়ুন: মার্চে মুক্তি পাচ্ছে সি শঙ্করন নায়ারকে নিয়ে নির্মিত অক্ষয় ও করণ জোহরের ছবি
কিছু অপূর্ণতা
মূলত প্রথমার্ধের ধীরগতিটাই এই ছবির সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা। বিশেষত সংকটের সুবিধাজনক সমাধান দৃশ্যায়নে পরিমিতিবোধের কিঞ্চিত ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। উপরন্তু, মাঝেমধ্যেই দুলকারের চতুর্থ দেওয়াল ভাঙ্গার ব্যাপারটি ‘টুয়েল্ফথ ফেইলের’ রিস্টার্টের মতো স্লোগান বা পাঞ্চ লাইন হয়ে উঠতে পারেনি।
পরিশেষ
লাকি ভাস্কর মুভিটি ৮০-এর দশকের শেষের দিকে মধ্যবিত্তের সহজাত প্রবৃত্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও জীবন সংগ্রামের নিরঙ্কুশ পরিস্ফূটন। প্রধান ভূমিকায় দুলকার সালমানের সপ্রতিভ অভিনয়ের পাশাপাশি নিজেদের চরিত্রগুলোর সুবিচারে সচেষ্ট ছিলেন সহ-অভিনয়শিল্পীরা।
এখানে গল্পের মূল নির্যাস তুলে এনে কাঙ্ক্ষিত বার্তাটি প্রকাশে ভেঙ্কি আটলুরির অবদান অনস্বীকার্য। সিনেমার প্রথমার্ধে কাহিনী গঠনের জড়তা গতি পেয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে, যেখানে বায়োপিকের রূপান্তর ঘটেছে রুদ্ধঃশ্বাস থ্রিলারে।
সর্বোপরি, সম্পাদনা, সঙ্গীত ও সিনেমাটোগ্রাফির দুর্দান্ত সমন্বয়ে চলচ্চিত্রের শেষ পর্যন্ত দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন: মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সেরা কাজগুলো: চলচ্চিত্র, ধারাবাহিক ও নাটক
৫১৭ দিন আগে
ফিল্মফেয়ার ওটিটি অ্যাওয়ার্ডস-২০২৪: চলচ্চিত্রে সেরা দিলজিৎ-কারিনা
রবিবার (১ ডিসেম্বর) মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ফিল্মফেয়ার ওটিটি অ্যাওয়ার্ডসের পঞ্চম আসর।
সেখানে বিনোদন জগতের তারকা-নক্ষত্ররা উপস্থিত হয়েছিলেন। এই বছরের অনুষ্ঠানে ওয়েব সিরিজ ও চলচ্চিত্র বিভাগের পুরস্কার দেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৩৯টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পান নির্বাচিতরা।
অনুষ্ঠানে ওটিটি ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা, পরিচালক, টেকনিক্যাল এক্সপার্টও উপস্থিত ছিলেন।
'অমর সিং চামকিলা' ওয়েব ছবিতে কিংবদন্তি গায়ক অমর সিং চামকিলার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন অভিনেতা-গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ।
ইমতিয়াজ আলী পরিচালিত 'অমর সিং চামকিলা' পাঞ্জাবের আসল রকস্টারের অকথিত সত্য কাহিনী উপস্থাপন করা হয়েছে এই সিনেমায়।
অন্যদিকে 'জানে জান' ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন কারিনা কাপুর খান।
সুজয় ঘোষ পরিচালিত ছবিটি কালিম্পং ভিত্তিক এবং কেইগো হিগাশিনোর সর্বাধিক বিক্রিত উপন্যাস 'ডেভিশন অব সাসপেক্ট এক্স' এর অফিসিয়াল রিমেক।
যারা পেলেন পুরস্কার
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ২০২৪ ফিল্মফেয়ার ওটিটি অ্যাওয়ার্ডস ফিল্মস ক্যাটাগরি থেকে বিজয়ীদের সম্পূর্ণ তালিকা:
সেরা চলচ্চিত্র (ওয়েব অরিজিনাল): অমর সিং চামকিলা
সেরা পরিচালক (ওয়েব অরিজিনাল ফিল্ম): ইমতিয়াজ আলি (অমর সিং চমকিলা)
সেরা অভিনেতা (ওয়েব অরিজিনাল ফিল্ম): দিলজিৎ দোসাঞ্জ (অমর সিং চামকিলা)
সেরা অভিনেত্রী (ওয়েব অরিজিনাল ফিল্ম): কারিনা কাপুর খান (জানে জান)
সেরা পার্শ্ব অভিনেতা (ওয়েব অরিজিনাল ফিল্ম): জয়দীপ আহলাওয়াত (মহারাজ)
সেরা পার্শ্ব অভিনেতা (ওয়েব অরিজিনাল ফিল্ম): ওয়ামিকা গাব্বি (খুফিয়া)
সেরা সংলাপ (ওয়েব ছবি): ইমতিয়াজ আলি ও সাজিদ আলি (অমর সিং চমকিলা)
সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য (ওয়েব অরিজিনাল ফিল্ম): ইমতিয়াজ আলি ও সাজিদ আলি (অমর সিং চমকিলা)
সেরা চিত্রগ্রাহক (ওয়েব অরিজিনাল ফিল্ম): সিলভেস্টার ফনসেকা (অমর সিং চামকিলা)
সেরা প্রোডাকশন ডিজাইন (ওয়েব অরিজিনাল ফিল্ম): সুজান ক্যাপলান মেরওয়ানজি (দ্য আর্চিস)
সেরা সম্পাদনা (ওয়েব অরিজিনাল ফিল্ম): আরতি বাজাজ (অমর সিং চামকিলা)
সেরা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক (ওয়েব অরিজিনাল ফিল্ম): এ আর রহমান (অমর সিং চামকিলা)
সেরা সাউন্ড ডিজাইন (ওয়েব অরিজিনাল ফিল্ম): ধীমান কর্মকার (অমর সিং চামকিলা)
সেরা কাহিনী ও ওয়েব অরিজিনাল ফিল্ম: জোয়া আখতার, অর্জুন বরাইন সিং ও রিমা কাগতি (খো গায়ে হাম কাহাঁ)
সেরা মিউজিক অ্যালবাম (ওয়েব অরিজিনাল ফিল্ম): এ আর রহমান (অমর সিং চামকিলা)
সেরা নবাগত পরিচালক (ওয়েব ফিল্ম): অর্জুন বরায়ন সিং (খো গায়ে হাম কাহাঁ)
সেরা ডেবিউ মেল (ওয়েব ফিল্ম): বেদাং রায়না।
৫১৯ দিন আগে
ঢাকায় ইরানি চলচ্চিত্র উৎসব শুরু ৩ ডিসেম্বর
আর একদিন পরই ঢাকায় শুরু হচ্ছে ইরানি চলচ্চিত্র উৎসব।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আগামী মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় এ্ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।
এই চলচ্চিত্র উৎসব চলবে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম।
এছাড়া অনুষ্ঠানে থাকবেন বাংলাদেশে ইরানের রাষ্ট্রদূত মানসুর চাভোশি এবং ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মির মুহাম্মদী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মোহাম্মদ নিস্তার খান কবিরসহ আরও অনেকে।
উদ্বোধনী দিনে প্রদর্শন করা হবে ইবরাহিম হাতামি কিয়া পরিচালিত বডিগার্ড।
উৎসবের অন্য দিনে ইরানের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মাজিদ মাজিদির দি চিল্ড্রেন অব হ্যাভেন, দি সংস অব স্প্যারো, দি কালার অব প্যারাডাইস, আব্বাস কিয়ারোস্তামির টেস্ট অব চেরি এবং সাইফুল্লাহ দাদ পরিচালিত চলচ্চিত্র দি সারভাইভার দেখানো হবে।
৫২০ দিন আগে
বলিউড অভিনেতা শরদ কাপুরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ
সম্প্রতি টলিউডে এক পরিচালকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠে। এরপর ডিরেক্টরস গিল্ড থেকে তাকে নিষিধ্ধ করা হয়। এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনার রেশ না কাটতেই এবার বলিউডে বলিউডে আলোচনায় এসেছে যৌন হয়রানি।
বলিউড অভিনেতা শরদ কাপুরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন এক তরুণী।
সামাজিক মাধ্যম থেকে শরদের সঙ্গে তার পরিচয়। এরপর অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডাকেন অভিনেতা।
৩২ বছর বয়সি ওই তরুণী জানান, তার সঙ্গে শরদের আলাপ হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বেশ কিছু দিন কথাবার্তার পর শরদ নতুন ছবি নিয়ে কথা বলার জন্য নিজের কার্যালয়ে ডেকে পাঠান তরুণীকে।
তিনি জানান, গত ২৬ নভেম্বর শরদের দেওয়া ঠিকানায় পৌঁছে যান। কিন্তু গিয়ে বুঝতে পারেন, সেটি আসলে শরদের অফিস নয়, বাড়ি! তরুণীর দাবি, দরজা খুলতেই শরদের গলা ভেসে আসে। তিনি পরিচারককে নির্দেশ দেন, তরুণীকে শোয়ার ঘরে পৌঁছে দিতে।
সেখানে যাওয়ার পর আপত্তিকর স্পর্শ করেন শরদ। সেখান থেকে কোনোরকমে বেরিয়ে আসেন ওই তরুণী। তবে সন্ধ্যায় শরদ আবার তাকে অশ্লীল বার্তা পাঠান।
এরপর ২৭ নভেম্বর মুম্বাইয়ের খার থানায় তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই তরুণী।
পুলিশ ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানায়, শরদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৭৪, ৭৫ ও ৭৯ অনুযায়ী এফআইআর দায়ের হয়েছে।
তরুণী বলেন, বলিউডে পরিচিত নাম শরদ কাপুর। ‘জোশ’, ‘এলওসি কারগিল’, ‘লক্ষ্য’, ‘দস্তক’ এর মতো ছবিতে তাকে দেখেছেন তিনি। এছাড়া একাধিক জনপ্রিয় হিন্দি ধারাবাহিকেও দেখা গিয়েছে তাকে। এ কারণেই শরদকে উপেক্ষা করতে পারেননি তিনি।
সূত্র: ভারতীয় গণমাধ্যম
৫২০ দিন আগে
ম্যাজিকাল নাইট ২.০ আতিফ আসলাম: অব্যবস্থাপনায় বিপর্যস্ত এক সঙ্গীতানুষ্ঠান
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর শুক্রবার রাতে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে পাকিস্তানি সংগীতশিল্পী আতিফ আসলামকে নিয়ে বহুল প্রত্যাশিত কনসার্ট ‘ম্যাজিকাল নাইট ২.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আতিফ আসলাম ছাড়াও পাকিস্তানের হালের জনপ্রিয় গায়ক আবদুল হান্নান, বাংলাদেশের হার্টথ্রব তাহসান, কাকতাল ব্যান্ড এবং বাংলাদেশের ইডিএম ও ডিজে জুটি অ্যাপেরুসকে নিয়ে করা এই আয়োজন থেকে মনোমুগ্ধকর অভিজ্ঞতার আশা করলেও আশাহত হয়েছে দর্শক।
বাংলাদেশি ব্যান্ড কাকতালের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে কনসার্ট শুরু হয়। তাদের ‘রক্ত গরম মাথা ঠান্ডা’সহ আরও কয়েকটি গান হতে না হতেই দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে যায় স্টেডিয়াম।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে মঞ্চে উঠে দর্শকদের অভিবাদন জানিয়ে আবদুল হান্নান বলেন, ‘আপনাদের এমন সাড়ায় আমি অভিভূত। আমার কনসার্টে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জমায়েত।’
তার জনপ্রিয় গান ‘ইরাদে’র পাশাপাশি এ বছরের কোক স্টুডিও পাকিস্তানে হ্যারি স্টাইলের ‘অ্যাজ ইট ওয়াজ’ ও জনপ্রিয় পাকিস্তানি ব্যান্ড কাভিশের সঙ্গে গাওয়া ‘ও ইয়ারা’ গানটি পরিবেশন করেন তিনি।
সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটে ‘এখোনো’ গান দিয়ে পারফরম্যান্স শুরু করেন তাহসান। এরপর তার বেশ কয়েকটি গান দর্শকদের উপহার দেন এই গায়ক।
রাত পৌনে ৯টার দিকে মঞ্চে ওঠেন আতিফ আসলাম। তবে পারফরম্যান্স শুরু করার পর হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাকে থামতে হয়। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এই শিল্পীর উচ্ছ্বাস থামাতে পারেনি। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে দর্শকদের ওপর সূরের জাদু প্রয়োগ করতে থাকেন তিনি।
‘দিল দিয়া গল্লা’, ‘তেরা হোনে লাগা হুঁ’, ‘পেহলি নাজার মে’, ‘তেরে লিয়ে’, ‘জিনা জিনা’, ‘ও লামহে’, ‘তাজদার-এ-হারাম’, ‘কুছ ইস তারাহ’, ‘আওগে জাব তুম মেরে সাজনা’, ‘কুন ফায়া কুন’, ‘পেহলা নাশা’, ‘এক পেয়ার কা নাগমা’, ‘মেরে পিয়া ঘর আয়া’ ও ‘দুরি’সহ একের পর এক জনপ্রিয় বলিউড, হিন্দি ও উর্দু গান পরিবেশন করে ভক্তদের একটি স্মরণীয় রাত উপহার দেন তিনি।
উপস্থিত ভক্তদের অভিবাদন জানিয়ে এ সময় আতিফ বলেন, ‘বাংলাদেশকে সবসময় আমার দ্বিতীয় বাড়ি মনে হয়।’
৫২১ দিন আগে
শুক্রবার পেক্ষাগৃহে আসছে ‘ভয়াল’
সার্টিফিকেশন বোর্ড চালু হওয়ার পর দেশের প্রথম প্রাপ্তবয়স্কদের সিনেমা হিসেবে এ গ্রেডে ছাড়পত্র পেয়েছে ‘ভয়াল’। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) প্রেক্ষাগৃহে অসছে সিনেমাটি।
সিনেমাটির ডিস্ট্রিবিউটর জাজ মাল্টিমিডিয়ার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ভয়াল সিনেমা পরিচালনা করেছেন বিপ্লব হায়দার। এতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ ও আইশা খান। অন্যতম একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন শওকত সজল। সিনেমাটিতে কামাল চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ভূতের গল্পে পর্দায় আসছেন সত্যম, সন্দীপ্তা ও সুহত্র
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি নেতিবাচক একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি। কামাল সমাজের একজন খারাপ লোক। চোরাকারবারী, নারী লোভী ও অসৎ এক লোক। কমেডি ধাঁচের চরিত্রও বলতে পারেন। দর্শকের ভালো লাগার মতো এই চরিত্র। যখন কাজটির প্রস্তাব পাই তখন ওয়েব ফিল্ম নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল নির্মাতার। তাকে বলেছিলাম গল্পটি ভালো। এটি সিনেমা হতে পারে। শুরুতে প্রযোজক রাজি না হলেও পরে রাজি হন। সিনেমাটি নিয়ে আমরা অনেক আশাবাদী।’
সিনেক্রাফট ক্রিয়েশনসের ব্যানারে নির্মিত ‘ভয়াল’ চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছেন তরুণ প্রযোজক আশিকুর রহমান। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, আইশা খান, গোলাম ফরিদা ছন্দা, লুৎফর রহমান জর্জ, ম্যাক বাদশা, পারভেজ সুমন, ইকবাল প্রমুখ।
আরও পড়ুন: 'বাঘি ৪'র ফার্স্ট লুকে টাইগার শ্রফ
৫২৩ দিন আগে
কোন নাটকের মাধ্যমে নির্দেশনায় ইতি টানছেন অঞ্জন দত্ত
শিল্প জগতে পা রেখেছিলেন অভিনেতা হতে। তবে কপালের রেখা খানিকটা পাল্টে দিয়েছেন ভাগ্যদেবতা। অভিনেতা তিনি হয়েছেন, তবে তার চেয়ে বেশি হয়েছেন সংগীতশিল্পী তারপরও দাপিয়ে বেড়িয়েছেন সিনেমা ও মঞ্চ নাটকের জগতে। তিনি ভারতীয় অভিনেতা, নির্দেশক, পরিচালক ও সংগীতশিল্পী অঞ্জন দত্ত।
কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, তিনি আর একটি নাটকে নির্দেশনা দেবেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে থাকে ইন্ডাস্ট্রিতে।
জীবনের শেষ নাটকের জন্য অঞ্জন উইলিয়াম শেক্সপিয়রের শরণাপন্ন হয়েছেন। ব্রিটিশ নাট্যকারের ‘কিং লিয়র’কে সমকালীন প্রেক্ষাপটে পুনর্নির্মাণ করেছেন অঞ্জন। নাম দিয়েছেন ‘আরও একটা লিয়র’।
কিং লিয়রের প্রযোজনা করছেন তিনি নিজেই। নাটকে অন্ধকার একটি জগৎকে তুলে ধরেছেন তিনি।
কিং লিয়রের মেয়েদের চরিত্রে রয়েছেন যথাক্রমে সুদীপা বসু, কমলিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্লস্টারের চরিত্রে লোকনাথ দে এবং কেন্টের চরিত্রে সুপ্রভাত দাস। এডমন্ডের চরিত্রে রয়েছেন শুভ্রসৌরভ দাস।
অঞ্জন শুরু থেকেই থিয়েটারে অভিনয়ের ক্ষেত্রে শরীরী ভাষা এবং বয়স অনুযায়ী চরিত্র নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
৭১ বছর বয়সি অভিনেতা জানান, এরপর তিনি আর নাটকে অভিনয় করতে পারবেন না।
ভারতীয় গণমাধ্যমকে অঞ্জন বলেন, ‘এক সময় বাদল সরকার আমাকে তৈরি করেছিলেন। গ্যালিলিও যখন করেছি, তখন আমি মধ্য-পঞ্চাশে। কিন্তু এ বার রিহার্সাল করতে গিয়ে বুঝেছি, এরপর আর মঞ্চে অভিনয় করতে পারব না।’
কিন্তু শেষ নাটক হিসেবে ‘কিং লিয়র’কেই বেছে নেওয়া প্রসঙ্গে অঞ্জন বলেন, ‘ব্রেখ্ট ও রবীন্দ্রনাথের নাটক করেছি। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত শেক্সপিয়র করিনি। আর কিং লিয়রের কোনো বিকল্প নেই।’
এ নাটকে নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন অঞ্জন দত্ত।
বাঙালি নাট্যপ্রেমীদের কাছে কিং লিয়র হিসেবে এখনও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় উজ্জ্বল। সেখানে কোনো রকম তুলনায় যেতে রাজি নন এ নির্দেশক ও অভিনেতা।
তিনি বলেন, ‘আগেই বলেছি, আমার নাটকটাই আলাদা। আমার লিয়র তো বদ্ধ উন্মাদ এবং বদমায়েশ এক চরিত্র। তাই তুলনা করার অবকাশ কম। তবুও দর্শক যদি তুলনা করেন, সেটা তাদের বিষয়।’
অঞ্জন জানান, আগামী কয়েক মাসে ‘আরও একটা লিয়র’-এর বেশ কয়েকটি শো মঞ্চস্থ হবে।
সম্প্রতি চলচ্চিত্র পরিচালক মৃণাল সেন স্মরণে চালচিত্র এখন সিনেমা পরিচালনা করেছেন অঞ্জন দত্ত। সেখানে তিনি পরিচালক মৃণাল সেনের ভূমিকায় অভিনয়ও করেছেন।
সমালোচক মহলে ব্যাপক প্রসংশিত হয়েছে তার এ সিনেমা। এছাড়াও রঞ্জনা আমি আসব না, দত্ত ভার্সেস দত্ত, দ্য বং কানেকশন সহ আরও কয়েকটি সিনেমা পরিচালনা করেছেন।
সূত্র: ভারতীয় গণমাধ্যম
৫২৫ দিন আগে
কিশোর কুমারকে চেনেন না আলিয়া ভাট!
নিজস্ব সংস্কৃতি বা শেকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার ওপর গুরুত্ব দেন বলিউড অভিনেতা রণবীর কাপুর।
তার পিতামহ কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজ কাপুরের সম্মানে একটি জাতীয় চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের কথা ঘোষণা করেন তিনি। সেখানেই এ কথা বলেন।
গোয়ার ৫৫তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (আইএফএফআই) চলাকালে রাজ কাপূরের ১০০তম জন্মদিন উপলক্ষে এ ঘোষণা দেন রণবীর। আগামী ১৪ ডিসেম্বর তার জন্মদিন উদযাপন করা হবে।
গোয়ার কালা একাডেমি মিলনায়তনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে, রণবীর জানান, রাজ কাপুর ফিল্ম ফেস্টিভ্যালটি ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা ভারত জুড়ে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে রাজ কাপুরের ১০টি আইকনিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।
এসব ছবি পুনঃরুদ্ধারের কাজ ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (এনএফডিসি), জাতীয় চলচ্চিত্র আর্কাইভস অব ইন্ডিয়া (এনএফএআই), ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশন এবং রাজ কাপুরের ভাইপো কুণাল কাপুরের যৌথ প্রচেষ্টায় সম্পন্ন হয়েছে।
রণবীর কাপূর চলচ্চিত্রের কিংবদন্তিদের উদযাপনের গুরুত্ব নিয়ে ভাবনা ব্যক্ত করেন, বলেন, ‘আমাদের শেকড়কে মনে রাখা জরুরি—শুধু রাজ কাপূর নয়, আরও অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং শিল্পী রয়েছেন, যারা ভারতীয় সিনেমায় অমোচনীয় ছাপ রেখে গেছেন।’
তিনি আইএফএফআইকে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তরুণ প্রজন্মকে রাজ কাপুরের অমর কাজগুলো খুঁজে বের করার উৎসাহ দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানান।
শেকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার বিষয়ে তার পয়েন্টটি জোরালো করতে, রণবীর তার স্ত্রী অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ‘যখন আমি প্রথম আলিয়াকে দেখি, তখন সে কিশোর কুমারকে চিনত না, এটা শুধু জীবনের চক্র। মানুষ ভুলে যায়, আর নতুন শিল্পীরা জায়গা করে নেয়।’
রাজ কাপুরের জীবন নিয়ে একটি বায়োপিক তৈরির স্বপ্নের কথা উল্লেখ করেন রণবীর।
তিনি বলেন, ‘একটি বায়োপিক শুধু কারো সাফল্য উদযাপন করা নয়, বরং তাদের সংগ্রাম, সম্পর্ক ও পতনের বিষয়টিও সঠিকভাবে তুলে ধরা।’
রণবীর কাপুর বলেন, ‘আমি সঞ্জয় লীলা বানসালির সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছি, কিন্তু এটি একটি কঠিন প্রকল্প। তবে সেসব বিষয় তুলে ধরতে আমার পরিবার রাজি হবে কি না- সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।’
পেশাগত দৃষ্টিকোণ থেকে, রণবীর কাপুর তাদের আসন্ন সিনেমা 'লাভ অ্যান্ড ওয়ার'-এর জন্য সঞ্জয় লীলা বানসালির সঙ্গে পুনরায় কাজ করার বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘১৭ বছর পর তার সঙ্গে কাজ করা একই রকম অনুভূতি। সিনেমার প্রতি তার উদ্দীপনা অদ্বিতীয়।’
তিনি আরও কিছু বৈচিত্র্যময় প্রকল্পে কাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যার মধ্যে রয়েছে 'অ্যানিমাল পার্ক' এবং নিতেশ তিওয়ারির 'রামায়ণ', যেখানে তিনি শ্রী রামের ভূমিকায় অভিনয় করবেন।
৫২৬ দিন আগে