জীবনধারা
বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণ: ঘুরে আসুন দ্বিতীয় সাজেক
পর্বত, অরণ্য ও সমুদ্রপ্রেমী এই তিন শ্রেণির পরিব্রাজকদের জন্য সেরা গন্তব্য হচ্ছে বান্দরবান। অতিকায় উচ্চতার নিঃসীম শূন্যতা উপভোগ করতে করতে সবুজ বনে ঢাকা পাহাড়ি রাস্তা ট্রেকিং করা নিঃসন্দেহে কষ্টসাধ্য। এরই মাঝে দু-একটি সুদৃশ্য ঝর্ণা যেন বিস্ময়ের অববাহিকায় দিয়ে যায় রোমাঞ্চকর পরশ। চূড়ায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেই অনন্ত শূন্যতার সঙ্গে আলিঙ্গনটা যেন এত কষ্টের স্বার্থকতা এনে দেয়। এর সঙ্গে দৃষ্টিসীমানায় ফেনিল সাগরের দৃশ্য জুড়ে দিলেই তা মিলে যাবে মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণ অভিজ্ঞতার সঙ্গে। দ্বিতীয় সাজেক নামে পরিচিত এই জায়গাটি ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে পর্যটকদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক দর্শনীয় স্থানটির বৃত্তান্ত।
মিরিঞ্জা ভ্যালির অবস্থান
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা বান্দরবানের অন্তর্গত লামা উপজেলা। অপরদিকে,কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে আলীকদম সড়কে লামার অবস্থান। এই উপজেলারই অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর মিরিঞ্জা ভ্যালি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ভ্যালির অবস্থান প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট উঁচুতে।
মিরিঞ্জা ভ্যালির ইতিহাস ও বিশেষত্ব
সরাসরি ভ্যালির ইতিহাস বা এর নামকরণের উৎপত্তি নিয়ে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সের গোড়াপত্তন হয়েছিল ২০০৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রায় ১৬ একর পাহাড়ি ভূমিকে ঘিরে। এর আগেও কতিপয় ট্রেকারদের আনাগোনা থাকলেও এই কমপ্লেক্সই মূলত স্থানটির জনপ্রিয়তা সৃষ্টি করে। মিরিঞ্জা পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তের চূড়ায় ইট পাথরে নির্মাণ করা হয় বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজের ভাস্কর্য,যার উদ্বোধন হয় ২০০৫ সালের ১৯ এপ্রিল।
এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো পাহাড় ও মেঘের অসাধারণ মিথস্ক্রিয়া। এই কারণে পর্যটনকেন্দ্রটিকে বর্তমানে দ্বিতীয় সাজেক ভ্যালি হিসেবে অভিহিত করা হয়।
আরো পড়ুন: হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ঢাকা থেকে বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালি যাওয়ার উপায়
মিরিঞ্জা যাওয়ার জন্য প্রথমত রাজধানী ঢাকার রাজারবাগ,ফকিরাপুল বা সায়েদাবাদ থেকে কক্সবাজারের বাস ধরতে হবে। অতঃপর গন্তব্যের আগেই নেমে যেতে হবে চকরিয়া বা চিরিঙ্গা বাস টার্মিনালে।
এছাড়া কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রেলপথে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যাওয়া যায়। অতঃপর বাসে করে সরাসরি চকরিয়া বাস টার্মিনাল।
দ্রুত সময়ে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের ফ্লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে। তারপর কক্সবাজার থেকে বাসে করে চকরিয়া পৌঁছাতে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে।
চকরিয়া থেকে লামা-আলীকদম সড়ক ধরে মিরিঞ্জা ভ্যালিতে যাওয়ার সিএনজি, জিপগাড়ি বা লোকাল বাস পাওয়া যায়। এই পরিবহনগুলো লামা-আলীকদম পথে মিরিঞ্জা পাহাড়ের পাশে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে ১০ মিনিট হাঁটার দূরত্বে ভ্যালির অবস্থান।
আরো পড়ুন: থাইল্যান্ডের ফুকেট ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
যারা ট্রেকিং করতে ইচ্ছুক তাদের চকরিয়া থেকে চান্দের গাড়িতে করে মুরুম পাড়া পর্যন্ত আসতে হবে। এখান থেকে পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে ভ্যালি পর্যন্ত ২০ মিনিটের একটি সহজ ট্রেকিং পথ আছে।
চান্দের গাড়িগুলো মিরিঞ্জা পাড়া পর্যন্তও যায়, যেখানে মেইন রোড থেকে ভ্যালি মাত্র ১০ মিনিট হাঁটা পথ।
মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণে কী কী দেখবেন
পাহাড়ি রাস্তা বা ঝিরিপথ পেরিয়ে চূড়ায় আরহণের পর দূরে দেখা যায় মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স এবং সাঙ্গু নদীসহ বিশাল পাহাড়জুড়ে বিস্তীর্ণ সবুজ বনভূমি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য এই চূড়া উপযুক্ত একটি স্থান। এখান থেকে দিগন্তরেখায় কক্সবাজার অংশের বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশি চোখে পড়ে। সেই সঙ্গে দৃশ্যমান হয় লাইট হাউস,যার ক্ষীণ আলোয় সরু রেখায় আলোকিত হয়ে ওঠে পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকত।
মুগ্ধতার পরিসর আরও একটু বাড়িয়ে দিয়ে কখনো কখনো সেই রেখায় ভেসে ওঠে একটি দুটি জাহাজ। পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তের টাইটানিক জাহাজের কাঠামোটিও এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পর্যটনকেন্দ্রের কাছেই উপজেলা শহরে ম্রো, ত্রিপুরা, ও মারমাসহ মোট ১১ জনগোষ্ঠির বসবাস।
আরো পড়ুন: থাইল্যান্ডের গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের চিয়াং মাই ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণের সেরা সময়
বর্ষাকালের শেষ থেকে শরৎকাল পর্যন্ত প্রায় সারাদিনই পরিষ্কার আকাশে শুভ্র মেঘের খেলা দেখা যায়। পাহাড়ের চূড়া থেকে এই দৃশ্য দেখার অনুভূতির কোনো বিকল্প হয় না। তবে এ সময়টাতে পাহাড়ি পথ বেশ পিচ্ছিল থাকে। ট্রেকিং পথ খুব একটা দুর্গম না হলেও উষ্ণ মৌসুমের ফলে পুরো যাত্রাটা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই এখানে আসার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে শীতের শুরু, তথা নভেম্বর মাস। এ সময় কুয়াশার ঘনঘটা তেমন থাকে না, বিধায় পাহাড়ের উপরের দৃশ্যগুলো ভালোভাবে দেখা যায়।
৫৩২ দিন আগে
বাসা-বাড়িতে ডাকাতি প্রতিরোধে করণীয়
মানুষের মৌলিক অধিকারের একটি হলো বাসস্থান। বাসা-বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ অত্যন্ত জরুরি। মূলত একটি বাড়ি কেবল একটি অবকাঠামোই নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জীবনের নিরাপত্তা। তাই এই পরম আশ্রয় যখন হুমকির মুখে পড়ে, তখন তা জীবনের অস্তিত্বের জন্যই ক্ষতিকর। বিশেষ করে, ডাকাতির মতো অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে সম্পদের ক্ষতি থেকে শুরু করে প্রাণনাশেরও আশঙ্কা থাকে। তাই, এর জন্য প্রয়োজন অগ্রিম সতর্কতা। এই নিবন্ধে কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে, যা বাড়ির মালিকদের পাশাপাশি ভাড়াটিয়াদের জন্যও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। চলুন, কৌশলগুলোর ব্যাপারে বিশদ জেনে নেওয়া যাক।
বাসা-বাড়িতে ডাকাতি এড়াতে ১১টি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা
বাসস্থানে চুরি বা ডাকাতির আশংকা কমাতে বাড়ির সদস্যদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। সচেতনতার পাশাপাশি কিছু নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বাসায় ডাকাতের আক্রমণের সম্ভাবনা হ্রাস করতে পারে।
আগন্তুকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া
বাসা-বাড়ির দরজায় করাঘাত বা কলিং বেলের আওয়াজ শুনে তৎক্ষণাৎ সদর দরজা না খুলে দরজার পীপ হোল দিয়ে আগন্তুককে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। অপরিচিত কেউ দরজার ওপাশে থাকলে পরিচয় ও আগমনের কারণ জিজ্ঞাসা করে নিতে হবে। সন্দেহ জনক এক বা একাধিক ব্যক্তি যদি বাসায় ঢোকার চেষ্টা করে তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তা রক্ষী বা প্রতিবেশীদের সাহায্য নিতে হবে। প্রয়োজনে নিকটস্থ থানা বা আর্মি ক্যাম্পে ফোন দিতে হবে।
আরো পড়ুন: মোবাইল ফোন বিস্ফোরণ: কারণ ও বাঁচার উপায়
সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন
সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানের জন্য বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত প্রযুক্তির মধ্যে একটি হলো ক্লোজড-সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরা। মূল প্রবেশদ্বার ও গ্যারেজে ক্রমাগত নজরদারির জন্য এই ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা যেতে পারে। অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে ভিডিও ফুটেজ রেকর্ড হয়ে থাকে, ফলে দুষ্কৃতিকারীরা এই ব্যবস্থা যুক্ত স্থাপনাগুলো থেকে দূরে থাকে।
আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোতে হাই-ডেফিনিশন ভিডিও রেকর্ডিং, নাইট ভিশন ও স্মার্টফোনের মাধ্যমে পরিচালনা করার সুবিধা থাকে। এর ফলে, এগুলোর মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে তাৎক্ষণিকভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত বা সন্দেহভাজন আনাগোনা তদারক করা সম্ভব হয়। এমনকি, বাড়িতে না থাকলেও দূরবর্তী স্থান থেকে এই নজরদারি অব্যাহত রাখা যায়।
মোশন সেন্সর লাইট এবং সাইরেন অ্যালার্ম স্থাপন
ঘরবাড়ির আঙিনায় এমন কিছু স্থান থাকে যেগুলো পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তুলনামূলকভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। মোশন সেন্সর লাইট লাগানোর ক্ষেত্রে এই স্থানগুলোতে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। এই উন্নত প্রযুক্তি যেকোনো নড়াচড়া শনাক্ত করে এবং নির্দিষ্ট স্থানটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলোকিত হয়ে ওঠে। এটি মূলত চোর বা গুপ্ত হামলাকারীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কার্যকর।
আরো পড়ুন: নারীর নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষায় মোবাইল অ্যাপ
এটির সঙ্গে যখন সাইরেন অ্যালার্ম যুক্ত করা হয়, তখন দুটো মিলিয়ে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি হয়। একসঙ্গে কয়েক জোড়া কদমের অনুপ্রবেশ বা দরজায় কষাঘাতের জন্য প্রধান ফটক বা দরজা এই ডিভাইস সংযুক্ত করার উপযুক্ত স্থান হতে পারে। এতে করে অ্যালার্মের শব্দে শুধু বাড়ির ভেতরে থাকা লোকেরাই নয়; আশেপাশের প্রতিবেশীরাও সজাগ হয়ে যাবে। ফলে সংকটাপন্ন পরিবারকে বাঁচাতে তারাও এগিয়ে আসতে পারবে অথবা পুলিশকে জানাতে পারবে।
রাতে ঘুমানোর আগে সব দরজা-জানালা বন্ধ করা
বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বার এবং জানালাগুলো যদি অসাবধানে খোলা রাখা হয়, তবে বাড়িতে প্রবেশের জন্য প্রাথমিক প্রতিবন্ধকতাই থাকে না। চুরি বা ডাকাতি সাধারণত রাতের অন্ধকারে ঘটে এবং এই ধরনের ভুলের কারণে তখন চরম মূল্য দিতে হয়। অনেকেই বাতাস চলাচলের জন্য রাতভর জানালা খোলা রেখেই ঘুমিয়ে পড়েন। এটি বিশেষ করে বিল্ডিংয়ের নিচের ২-৩ তলার বাসাগুলোর জন্য ক্ষতিকর।
অনেক বাসায় বারান্দা বা জানালায় টেকসই গ্রিল থাকে না। তাই, অন্তত প্রধান ফটকে উচ্চমানের ডেডবোল্ট লক অথবা কমপক্ষে দুটি স্তরের তালা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা উচিত। এছাড়া, প্রতিদিন ঘুমানোর আগে প্রত্যেকটি লক ভালোভাবে চেক করে নেওয়া একটি ভালো অভ্যাস।
আরো পড়ুন: স্মার্টফোনে ভূমিকম্প সতর্কতা চালু করবেন যেভাবে
প্রতিটি ব্লক বা মহল্লায় টহলরক্ষীসহ গেট নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগ
জানমালের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয় আমলে নিয়ে শুধু রাতের জন্যই নয়, ২৪ ঘন্টার জন্য অতন্দ্র প্রহরার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি বিল্ডিংয়ে তো থাকবেই, সেই সঙ্গে ব্লক বা মহল্লার প্রধান গেটেও নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগ দিতে হবে। টহলের সময় গেটগুলোতে যেন শূন্যস্থান সৃষ্টি না হয় সেজন্য রক্ষীর সংখ্যা বাড়াতে হবে।
এর মধ্য দিয়ে এলাকায় প্রবেশাধিকার নিরীক্ষণের একটি ব্যবস্থা তৈরি হবে। সাধারণত কেবল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা বা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সেই এই ব্যবস্থা বেশি চোখে পড়ে। কিন্তু নির্জন রাস্তার বাড়িগুলোর ক্ষেত্রেও গার্ড মোতায়েনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
নিকটস্থ থানা ও আর্মি ক্যাম্পের যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহে রাখা
পরিস্থিতি একদম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিরাপত্তা বাহিনীর যোগাযোগের তথ্যগুলো সংগ্রহে রাখা। এতে দুর্ঘটনা সৃষ্টির আভাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফোন কলের মাধ্যমে তাদের জানানো যায়। নিরাপত্তা হটলাইনের পাশাপাশি নিকটস্থ থানা এবং আর্মি ক্যাম্পের মোবাইল নম্বরও সঙ্গে রাখা আবশ্যক।
খুব বেশি বিপজ্জনক অবস্থার ক্ষেত্রে প্রতিবেশীদেরও এগিয়ে আসা উচিত। এক্ষেত্রে তারা কাউকে বিপদগ্রস্ত দেখার সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে নিরাপত্তা বাহিনীর সাহায্য চাইতে পারে।
আরো পড়ুন:
অ্যাপার্টমেন্টে নতুন আগত ভাড়াটিয়াদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া
শুধু অ্যাপার্টমেন্টের মালিক বা বাড়িওয়ালাদের জন্যই নয়, নতুন আসা ভাড়াটিয়াদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া পুরাতন ভাড়াটিয়াদেরও দায়িত্ব। কোনো ফ্ল্যাটে নতুন কাউকে সাবলেট দেওয়া হচ্ছে কি না এবং নবাগতদের পেশা নিয়ে সুক্ষ্মভাবে যাচাই করা উচিত।
বাড়ির মালিকরা নতুন ভাড়া নেওয়াদের নিকট থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পেশাগত পরিচয়পত্রাদি অবশ্যই সংগ্রহ করবেন। অপরদিকে, অন্যান্য ফ্ল্যাটবাসীরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের পাশের ফ্ল্যাটের ব্যাপারে খোঁজ রাখবেন। এভাবে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত গোটা ভবনেই একটি স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা যাবে।
বাড়ির আঙিনা অন্ধকারাচ্ছন্ন না রাখা
দুষ্কৃতিকারীদের ডাকাতি করার ক্ষেত্রে অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং জংলা, ঝোপ-ঝাড়ে আবৃত বাসাগুলো সবচেয়ে বেশি সহায়ক হয়। দুই বাড়ির মাঝের সংকীর্ণ স্থান এবং বাড়ির পেছন ভাগে এমন কিছু অল্প জায়গা থাকে যেগুলোতে দিনের বেলায়ও আলো-আঁধারীর অবস্থা বিরাজ করে। যেসব বাড়িতে বাগান রয়েছে, সেখানে বাগানের সঠিক পরিচর্যা করা না হলে গাছপালা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে। ফলে মধ্য দুপুরেও বাগান ও বাড়ির আঙিনায় সূর্যালোক পৌঁছাতে পারে না। তাই নিয়মিতভাবে ঝোপ, গাছ ও ঘাস ছাঁটাই করা জরুরি।
আরো পড়ুন: হ্যাকিং প্রতিরোধ: অনলাইন কেনাকাটায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে সাবধানতা
অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গাগুলোতে অতিরিক্ত লাইট বা মোশন সেন্সর লাইট দেওয়া যায়। দীর্ঘ দিন ধরে বাড়ির কাছাকাছি কোনো ল্যাম্প পোস্টের লাইট অকেজো হয়ে গেলে দ্রুত তা বদলে দিতে হবে।
বাড়ির সীমানা ঘিরে দুর্ভেদ্য কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন
অনুপ্রবেশে প্রাথমিকভাবে যতটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যায় ততই ভালো। বেশ পুরোনো উপায় হলেও বাড়ির সীমানা জুড়ে কাটাতারের বেড়া স্থাপন বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তায় অতিরিক্ত স্তর যোগ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলোতেও এসেছে যথেষ্ট পরিবর্তন। তাই বেড়া নির্বাচনে সূক্ষ্ম স্পাইক বা কোণযুক্ত ধারের মতো বৈশিষ্ট্যগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। সেই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন মানসম্পন্ন এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।
প্রতিবেশীরা সঙ্ঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ
যেকোনো প্রতিরোধে সম্মিলিত থাকার কোনো বিকল্প নেই। একের বিপদে অপরজন এগিয়ে আসার মতো তাৎক্ষণিক উদ্যোগ আর কিছুই হতে পারে না। পাশাপাশি দুইটি বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়া তাদের নিজ নিজ বাড়ির আশেপাশে সন্দেহজনক আনাগোনার দিকে খেয়াল রাখা মানে পরস্পরের দিকেই খেয়াল রাখা। নবাগত ভাড়াটিয়ার ব্যাপারে পরস্পরকে শেয়ার করা হলে পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যায় একে অপরের বিপদে এগিয়ে যেতে পারে।
এভাবে আগে থেকেই অস্বাভাবিক কার্যকলাপগুলো নিজেদের মধ্যে শেয়ারের মাধ্যমে সতর্ক থাকা যায়। তাছাড়া ভয়াবহ সংকটপ্রবণ মূহুর্তগুলোতে কেবল পুলিশের ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রহরার ব্যবস্থা করা যায়।
আরো পড়ুন: দামি ফ্ল্যাগশিপ ফোন কেনার সুবিধা-অসুবিধা
দীর্ঘ ছুটি কাটানো নিয়ে বাড়ির বাইরে কথা না বলা
বাড়ির বাইরে প্রতিবেশী বা বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আড্ডায় অনেকেই নিজের আসন্ন দীর্ঘ ভ্রমণের কথা বলে ফেলেন। এতে করে তিনি যে একটা উল্লেখযোগ্য সময় যাবত বাড়িতে অনুপস্থিত থাকবেন তা বৃহৎ পরিসরে জানাজানি হয়ে যেতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডাকাত বা তাদের সহযোগীরা এলাকার ভেতরেই থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা সাজানো হয় নির্দিষ্ট কোনো বাড়িতে ডাকাতির জন্য। এ সময় তারা সাধারণ মানুষের বেফাঁস কথাগুলোর সুযোগ নেয়।
তাই দীর্ঘ ভ্রমণ বা ৬-৭ ঘণ্টার জন্য বাসায় একজনকে রেখে যাওয়ার বিষয়গুলো গোপন রাখা অপরিহার্য। মহল্লার কোনো খাবার হোটেল, টঙের দোকান, পার্ক বা গোলির মোড়ে আড্ডায় এই বিষয়গুলো কোনোভাবেই প্রকাশ করা ঠিক নয়।
পরিশিষ্ট
বাসা-বাড়িতে ডাকাতি প্রতিরোধের এই উপায়গুলো আবাসিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার নামান্তর। এর জন্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সংঘবদ্ধ ভূমিকার সমন্বয় ঘটানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মোশন-সেন্সর লাইট ও অ্যালার্ম স্থাপনের সুদূরপ্রসারি তাৎপর্য রয়েছে। রাতে দরজা-জানালা বন্ধ রাখা, সীমানায় কাটাতারের বেড়া স্থাপন, মহল্লায় প্রহরা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহে রাখা সাধারণ সতর্কতা। তবে নতুন ভাড়াটিয়াদের যাচাই করা, দীর্ঘ ভ্রমণের ব্যাপারে ঘরের বাইরে আলাপ না করা, এবং প্রতিবেশীরা সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নেওয়া সক্রিয়তার পরিচয় দেয়।
সর্বসাকূল্যে, প্রত্যেকটি কৌশলকে একীভূত করার মাধ্যমে বাড়ির মালিক এবং ভাড়াটিয়া উভয় শ্রেণি সমানভাবে উপকৃত হতে পারবেন।
আরো পড়ুন: আইফোন চুরি প্রতিরোধে অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
৫৩৪ দিন আগে
ভিয়েতনামের হা লং বে দ্বীপপুঞ্জ ভ্রমণ: ঘুরে আসুন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহ্যের পাশাপাশি বৈচিত্র্যপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা মেলে এশিয়া ভ্রমণে। ভ্রমণবান্ধব এই মহাদেশে ভিন্ন সংস্কৃতির জনপদ যেমন রয়েছে,ঠিক তেমনি রয়েছে ঝর্ণাস্নাত শান্ত পাহাড়,প্রাণবন্ত রেইনফরেস্ট ও আদিম সৈকত। তবে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার ভিয়েতনামে এমন কিছু প্রাকৃতিক নিদর্শন রয়েছে,যা দেখার জন্য কেবল এই দেশেই বারবার ফিরে আসতে হবে। তারমধ্যে অত্যাশ্চর্য দর্শনীয় স্থানটি হলো হা লং বে,আর বিশ্ব পরিব্রাজকদের এই জনপ্রিয় গন্তব্য নিয়েই আজকের ভ্রমণ কড়চা। চলুন,বিস্তারিত ভ্রমণ বৃত্তান্তের মাধ্যমে জেনে নেওয়া যাক, ঠিক কোন বিষয়গুলো হা লং বে’কে অন্যান্য বিশ্ব পর্যটনকেন্দ্র থেকে আলাদা করেছে
হা লং বে দ্বীপপুঞ্জের ভৌগলিক অবস্থান
উত্তর-পূর্ব ভিয়েতনামের কোয়াং নিন প্রদেশে অবস্থিত হা লং বে। উপসাগরটি কোয়াং ইয়েন শহর থেকে শুরু হয়ে হা লং ও ক্যাম ফা শহর পেরিয়ে ভ্যান ডন জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে ল্যান হা বে,উত্তরে হা লং শহর এবং পশ্চিমে বাই তু লং বে-এর সঙ্গে এর সীমান্ত।
১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখার এই উপসাগরের প্রায় ১,৫৫৩ বর্গ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে প্রায় ২ হাজার ছোট দ্বীপ রয়েছে।
আরো পড়ুন: ভুটান ভ্রমণ: জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান, যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
হা লং বে-এর বিশেষত্ব
উপসাগরটির বিশেষত্ব হলো এর নানান আকার-আকৃতির চুনাপাথরের কার্স্ট এবং ছোট দ্বীপগুলো। একে ঘিরে বিশাল অঞ্চলগুলোর প্রত্যেকটিরই ভূতাত্ত্বিক ও জলবায়ু সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যগুলো একই রকম।
১৯৬২ সালে ভিয়েতনামের সংস্কৃতি,খেলাধুলা ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বে’টিকে একটি ‘বিখ্যাত জাতীয় ল্যান্ডস্কেপ স্মৃতিচিহ্ন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।
বিশ্ব জুড়ের শৈল্পিক মূল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ অঞ্চলটি ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এছাড়া ২০০০ সালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি হা লং বেকে তার স্বতন্ত্র ভূতাত্ত্বিক মূল্যের জন্য স্বীকৃতি দেয়।
২০১২ সালে নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে উপসাগরটিকে প্রকৃতির নতুন ৭ আশ্চর্যের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে।
আরো পড়ুন: তুলনামূলক কম দামে বিমানের টিকিট কেনার কৌশল
হা লং বে ভ্রমণে কি কি দেখবেন আশ্চর্য কয়েকটি গুহা
এখানকার রহস্যময় গুহাগুলোর বর্তমান আকৃতি পেতে লেগেছে লাখ লাখ বছর। দানবীয় আকার ছাড়াও,গুহাগুলোর প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে স্ট্যালাগ্মাইট এবং স্ট্যালাক্টাইট।
স্ট্যালাক্টাইট বা উষ্ণ প্রস্রবণ হলো এক ধরনের খনিজ গঠন, যা গুহার ছাদ থেকে বরফের মতো জমাট বেঁধে ঝুলে থাকে। মূলত গুহার চুনাপাথরের ছাদ থেকে পানি ঝরার সময় চুনাপাথর দ্রবীভূত হয়ে এগুলো তৈরি হয়।
অপরদিকে,স্ট্যালাগ্মাইটও একই ধরণের খনিজ গঠন;পার্থক্য শুধু এই যে,এই শিলাকৃতির গঠনগুলো গুহার মেঝে থেকে উর্ধ্বমুখী হয়ে বৃদ্ধি পায়। অনেকটা সুন্দরী গাছের শ্বাসমূলের মতো;তবে দেখতে বরফাকৃতির।
শুধুমাত্র এই খনিজ গঠনগুলো কাছ থেকে দেখার জন্যই এখানে ভিড় করেন দেশ-বিদেশের লাখ লাখ পর্যটক।
তন্মধ্যে,রঙিন স্ট্যালাক্টাইট দেখা যায় থিয়েন কুং গুহায়। সবচেয়ে জনপ্রিয় অত্যাশ্চর্য নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে সুং সট এবং ডাউ গো গ্রোটো গুহা দুটি। কায়াকিংয়ের জন্য উৎকৃষ্ট হচ্ছে লুওন গুহা। গুহার একদম ভেতর থেকে সূর্যালোক দেখতে যেতে হবে ত্রিন নু গুহায়। মেজ কেভ সত্যিই দর্শনার্থীদের গোলক ধাঁধায় ফেলে দেয়। সেই সঙ্গে গুহার দেয়ালে আলোর প্রতিফলনের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ পর্যটকদের মনস্তত্ত্বের সঙ্গে খেলা করে|
আরো পড়ুন: নেপালের অন্নপূর্ণা ট্রেকিংয়ে যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
৫৩৫ দিন আগে
ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে হত্যার প্রতিবাদে প্রদর্শনী দৃকের
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় গণহত্যার খবর প্রচার দমন করতে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করায় ১৯১ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে দৃক পিকচার লাইব্রেরির উদ্যোগে 'গাজা হলোকাস্ট: কিলিং দ্য ট্রুথটেলারস' শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
দৃকের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধবদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত দর্শনার্থীরা ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য চলমান লড়াইয়ে নিহত সাংবাদিকদের ছবি নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
এ বছরের শুরুতে ৫ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৪ উপলক্ষে দৃক পান্থপথের দৃকপাঠ ভবনে একই শিরোনামে ৭ দিনব্যাপী একটি প্রদর্শনী এবং একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: গাজায় এক বছরের যুদ্ধে ৪৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত
গাজায় নিহত গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত প্রদর্শনীর ভূমিকায় বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ও দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল আলম বর্ণনা করেন, ‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ইসরায়েল বন্ধ করায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরাই হাসপাতাল ধ্বংসের একমাত্র সাক্ষী ছিলেন। যেখানে একসময় মৃত্যুর পথযাত্রীদের জীবন বাঁচাতে তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে শ্রম দিয়েছিল এবং পরিত্যক্ত শিশুরা নির্জন ইনকিউবেটরে পড়ে ছিল। জীবন্ত অবস্থায় তাদের গণকবর দেওয়া হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘তারা দেখেছে ক্ষুধার্ত মানুষগুলো খাবারের ট্রাকের বাইরে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং গর্ভবতী মায়েদের স্তন শুকিয়ে গেছে। তাদের হৃদয় ব্যথায় ভারি হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। তারা অনেক কিছু দেখেছে। অনেক বেশি বলেছে এবং শুটিং আর্কেডে কার্নিভালের হাঁসের মতো তুলে ফেলা হয়েছিল। কখনো একা, কখনো পরিবারের সঙ্গে। প্রযুক্তি জায়ান্টদের পরিচালিত ড্রোনগুলো তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।’
শহিদুল আলম বলেন, ‘এই সাহসী সাংবাদিকরা তাদের আত্মত্যাগে বিবেকের প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়েছেন। তারা মাংস এবং হাড়ের চেয়ে বেশি ছিল। সত্য বলার পবিত্র শিল্পের কাছে শহীদ হয়েছেন তারা। তাদের লেন্স এমন একটি আয়না মানবতার অন্ধকারতম কোণগুলোকে তুলে ধরে। তাদের গল্পের ওজন আমাদের সম্মিলিত বিবেকের উপর চাপ দেয়।’
এই সংহতি প্রদর্শনীটি ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং চলমান গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার অঙ্গীকারের অংশ।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত
৫৩৬ দিন আগে
হুমায়ূন আহমেদের ৭৬তম জন্মদিন আজ
নন্দিত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ৭৬তম জন্মদিন আজ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের পরে প্রায়শই বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা লেখক হিসাবে বিবেচিত তিনি।বাংলা সাহিত্যকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয় হুমায়ূন আহমেদকে। তিনি 'হিমু', 'মিসির আলী', 'বাকের ভাই' এবং অন্যান্য আইকনিক কাল্পনিক চরিত্রায়নের পাশাপাশি জাদুকরি গল্পের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
হুমায়ূন তার প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে (১৯৭২) এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিলেন। তিনি ২০০ টিরও বেশি উপন্যাস ও গল্পের বই লিখেছেন। যার সবগুলোই বাংলাদেশে সর্বাধিক বিক্রিত। এখনও সেগুলো পাঠকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়।
বাঙালি সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতে অসামান্য অবদানের জন্য নব্বই ও ২০০০-এর দশকে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, শিশু একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদক, বাচসাস পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করেন তিনি।
টেলিভিশনে একজন সফল কন্টেন্ট নির্মাতা হিসেবে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রথম প্রহর (১৯৮৩) নাটকের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক করেন। টেলিভিশনে তার সফল যাত্রা অব্যাহত ছিল জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক 'এই সব দিনরাত্রি', 'বহুব্রীহি', 'অসময়', 'নক্ষত্রের রাত', 'আজ রবিবার' এবং 'বাকের ভাই' চরিত্রে অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর অভিনীত 'কোথাও কেউ নেই' নাটকটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য।
হুমায়ূন আহমেদ ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসাবে সাফল্য লাভ করেছিলেন এবং তার চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্যারিয়ারে আটটি চলচ্চিত্র তৈরি করেছিলেন। প্রতিটি তার নিজের উপন্যাস অবলম্বনে। তার দুটি চলচ্চিত্র, 'শ্যামল ছায়া' (২০০৪) এবং 'ঘেটুপুত্র কমলা' (২০১২) তাদের নিজ নিজ মুক্তির বছরে সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্রের জন্য একাডেমি পুরস্কারের জন্য অফিসিয়ালি বাংলাদেশি জমা দিয়েছিল।
শঙ্খনীল কারাগার (চিত্রনাট্যকার হিসেবে), 'আগুনের পরশমণি', 'দারুচিনি দ্বীপ' ও 'ঘেটুপুত্র কমলা' চলচ্চিত্রের জন্য তিনি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাতবার বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
আরও পড়ুন: হুমায়ূন আহমেদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
হুমায়ূন আহমেদের জীবন ও কর্ম স্মরণে তার পরিবার, বিভিন্ন সংগঠন এবং তার গুণগ্রাহীরা আজ জন্মদিন উদযাপন করবেন।
হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মেহের আফরোজ শাওন তাদের ছেলে নিষাদ হুমায়ূন ও নিনিথ হুমায়ূনকে নিয়ে এই দিনে প্রতি বছর রাত ১২টায় রাজধানীর দক্ষিণ হাওয়া বাসভবনে কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করেন।
বিশিষ্ট এই লেখকের বিখ্যাত ফ্যান গ্রুপ হিমু পরিবহন বেশ কয়েক বছর ধরে তার জন্মদিন পালন করে আসছে। সাহিত্যিকের জন্মদিন উপলক্ষে আজ গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে যাবেন তারা।
এদিকে লেখকের নিজ জেলা নেত্রকোনায় তরুণদের সংগঠন হিমু পাঠক আড্ডায় দিনব্যাপী 'হিমু উৎসব' অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে বিখ্যাত গ্রন্থ 'মিসির আলী' অবলম্বনে তাদের নাটক 'আমি এবং আমরা' বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ করবে নাট্যদল বহুবচন।
লেখকের ৭৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিকাল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।
স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির সংস্কৃতি, সংবাদপত্র ও মিলনায়তন বিভাগের পরিচালক ড. সরকার আমিন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কথাসাহিত্যিক সালাহ উদ্দিন শুভ্র। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেবেন অধ্যাপক আহমেদ মাওলা ও অধ্যাপক সুমন রহমান।
এছাড়া আজ সকালে নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের সমাধিতে বিভিন্ন সংগঠন ও গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিকালে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে।
আরও পড়ুন: পাওয়া গেছে হুমায়ূন আহমেদের আঁকা হারিয়ে যাওয়া চিত্রকর্ম
৫৩৮ দিন আগে
মালয়েশিয়ার ল্যাংকাউই দ্বীপ ভ্রমণ: দর্শনীয় স্থান, যাওয়ার উপায় এবং যাবতীয় খরচ
গন্তব্য যখন এশিয়ার দ্বীপপুঞ্জ, তখন অত্যাশ্চর্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে উপরি পাওনা হিসেবে পাওয়া যায় এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি। স্বচ্ছ পানি, ঘন জঙ্গল, নিঃসীম শূন্যতার পর্বতচূড়া এ সবকিছু ছাপিয়ে উঠে উপকূলবর্তী সম্প্রদায়গুলোর প্রাণের স্পন্দন। পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা জনপদ থেকে শুরু করে কোলাহলপূর্ণ বাজার জুড়ে স্বতন্ত্র সংস্কৃতির অনুরণন। বিচ্ছিন্ন এই ভূ-খণ্ডগুলো পর্যটকদের সামনে উন্মুক্ত করে এক অফুরন্ত দিগন্ত, যেখানে মেলে নিরন্তর যান্ত্রিক জীবন থেকে পরম মুক্তি। ঠিক এমনি এক গন্তব্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ার ল্যাংকাউই দ্বীপগুলো। ২০০৭ সালের ১ জুন অঞ্চলটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড জিওপার্কের মর্যাদা লাভ করে। চলুন, এই দ্বীপরাজ্যের ভ্রমণ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ল্যাংকাউই দ্বীপের ভৌগলিক অবস্থান
উত্তর-পশ্চিম মালয়েশিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৯৯টি দ্বীপের একটি দ্বীপপুঞ্জ ল্যাংকাউই। মালাক্কা প্রণালী মালয়েশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে এই দ্বীপগুলোকে। প্রশাসনিকভাবে এই অঞ্চলটি উত্তর মালয়েশিয়ার কেদাহ প্রদেশের একটি জেলা হিসেবে রয়েছে। মালয়েশিয়ানদের কাছে এর আরও একটি নাম আছে,আর সেটি হচ্ছে—কেদাহের রত্ন।
সবগুলো দ্বীপ মিলিয়ে মোট আয়তন ৪৭ হাজার ৮৪৮ হেক্টর। মূল ল্যাংকাউই দ্বীপটি উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রায় ২৫ কিলোমিটার, আর পূর্ব থেকে পশ্চিমে এর কিছুটা বেশি।
আরো পড়ুন:ইন্দোনেশিয়ার বাটাম দ্বীপ ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
পর্যটকদের জন্য ল্যাংকাউইয়ের প্রধান আকর্ষণগুলো
.
ল্যাংকাউই কেবল কার এবং স্কাই ব্রিজ
এশীয় দ্বীপটির যাবতীয় পর্যটন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই কেবল কার। এটি মূলত একটি গন্ডোলা লিফ্ট, যা ল্যাংকাউই স্কাইক্যাব নামেও পরিচিত। এটি শুরু হয়েছে তেলুক বুরাউ-এর ওরিয়েন্টাল গ্রামে, আর শেষ প্রান্ত দ্বীপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ গুনুং মাচিঞ্চ্যাং-এর শিখর। এখানে আছে দ্বীপের আরও একটি ল্যান্ডস্কেপ—ল্যাংকাউই স্কাই ব্রিজ।
কেবল কারে মোট তিনটি স্টেশন: বেস, মিডেল এবং টপ। বেস-এর ওরিয়েন্টাল ভিলেজটি একটি থিম শপিং সেন্টার, যেখানে মালয়েশিয়ান এবং ওরিয়েন্টাল স্থাপত্যশৈলীর ৩০টি ভবন রয়েছে। রাইডের জন্য অপেক্ষমান দর্শনার্থীরা এখানকার স্কাইডোম দিয়ে আশেপাশের ৩৬০-ডিগ্রি প্যানোরামিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। মিডেল স্টেশন বা মাঝে রয়েছে একটি কৌণিক স্টেশন, যেখানে গন্ডোলা লিফ্ট শীর্ষ স্টেশনে পৌঁছানোর জন্য ৪৫-ডিগ্রি বাঁক নেয়। একদম শেষে বা টপ-এ স্কাইগ্লাইড নামে একটি বাঁকানো লিফ্ট দর্শনার্থীদের টপ স্টেশন থেকে স্কাই ব্রিজে নিয়ে যায়।
বেস থেকে শীর্ষে যেতে প্রায় ১৫ মিনিট সময় লাগে। মোট ক্যারিয়ার সংখ্যা ৩৫টি, যার প্রতিটি ৬ জন যাত্রী নিতে পারে। রাইড ফি ৫৫ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা (১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত = ২৭ দশমিক ২৭ বাংলাদেশি টাকা)।
আরো পড়ুন: থাইল্যান্ডের গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের চিয়াং মাই ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
কিলিম কার্স্ট জিওফরেস্ট পার্ক
এই ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটটি একদিকে দর্শনীয় স্থান, অপরদিকে মালয়েশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র। পার্কটি ঘুরে দেখার সর্বোত্তম উপায় হলো নৌকা ভ্রমণ। এ সময় খুব কাছ থেকে দেখা যাবে এর ম্যানগ্রোভ বন এবং চুনাপাথরের গুহাগুলো। কিলিম, কিসাপ, ও এয়ার হাঙ্গাত—এই তিন নদীর মোহনা এসে মিলেছে এই বন উদ্যানে। এই বিশাল জলাধারটি পার্শ্ববর্তী কিসাপ গ্রাম থেকে তানজুং রু পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত।
গুনুং রায়া
৮৮১ মিটার উঁচু এই পাহাড়টি ল্যাংকাউইয়ের সর্বোচ্চ চূড়া। পর্বতশৃঙ্গ থেকে গোটা দ্বীপকে এক নজরে দেখে নেওয়া যায়। দীঘল রেইনফরেস্টের মধ্য দিয়ে এই চূড়ায় ওঠার হাইকিং পথটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই পাহাড়ি বনে দেখা মিলবে পাতার বানর, উড়ন্ত শিয়াল, ম্যাকাক বানর, সাদা পেটের ঈগল, মাউন্টেন-হক ঈগল, এবং গ্রেট হর্নবিলের মতো বিচিত্র সব বন্যপ্রাণীর। সমগ্র প্রদেশের সব থেকে নজরকাড়া উপত্যকাগুলোর অবস্থান এই পাহাড়ে।
পান্তাই চেনাং
দ্বীপের সবচেয়ে ব্যস্ত এবং উন্নত এই সমুদ্র সৈকত ২ কিলোমিটার দীর্ঘ।
সৈকতের শ্বেত-শুভ্র বালি, নীল রঙের পানি এবং সবুজ খেজুর এখানকার পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। এখানে প্যারাসেইলিং, ব্যানানা বোট রাইডিং, স্নরকেলিং এবং জেট স্কিইং-এর মতো বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। এই জাঁকজমক সৈকতের সবচেয়ে সুবিধাজনক বিষয়টি হচ্ছে একদম হাঁটা দূরত্বে অনেকগুলো হোটেল ও রিসোর্টের অবস্থান। এমনকি বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১০ মিনিট দূরত্বের এই সৈকত পরিবারের সঙ্গে বিনামূল্যে ঘুরে বেড়ানোর জন্য একটি উপযুক্ত জায়গা।
আরো পড়ুন: থাইল্যান্ডের ফুকেট ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ল্যাংকাউই দ্বীপ ভ্রমণের সেরা সময়
নভেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে ল্যাংকাউইয়ে রোদ এবং সামান্য বৃষ্টি মিলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকে। দিনের বেলা তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৫ এবং রাতে ২৫ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। দমকা বাতাস না থাকায় সাগরও থাকে শান্ত। তাই এই সময়টি প্যারাসেইলিং, স্নরকেলিং, এবং স্কুবা ডাইভিং-এর মতো জলবিনোদনগুলোর জন্য উৎকৃষ্ট। তাই ল্যাংকাউইয়ে ভ্রমণের জন্য শীত ও বসন্তের মৌসুমটিই বেছে নেওয়া উচিত।
মালয়েশিয়ার পর্যটন ভিসা আবেদনের পদ্ধতি
ল্যাংকাউইতে ছুটি কাটানোর জন্য বাংলাদেশি পর্যটকদের মালয়েশিয়ার সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিজিট ভিসার আবেদন করতে হবে। মালয়েশিয়ায় পৌঁছানো পর দেওয়া হয় এই ভিজিট পাস, যার মেয়াদ থাকে সর্বোচ্চ ৩০ দিন।
এই ভিসার জন্য প্রার্থীকে http://malaysiavisa.imi.gov.my/ লিংকে যেয়ে অনলাই আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এ সময় ভিসা ফিও অনলাইনে জমা করতে হবে, যার পরিমাণ ২০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা প্রায় ৬০০ টাকা (মালয়েশিয়ান দূতাবাস অনুসারে)।
আরো পড়ুন: হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
অনুমোদিত ই-ভিসা এ-ফোর সাইজের কাগজে প্রিন্ট করে পরবর্তী মালয়েশিয়ার প্রবেশ চেকপয়েন্টে প্রদর্শনের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।
৫৩৯ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ার বাটাম দ্বীপ ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্যের অকৃত্রিম মেলবন্ধনের সান্নিধ্য মিলে এশিয়ার দ্বীপদেশ ভ্রমণে। নিত্য জীবন ধারণের প্রতিচ্ছবিগুলো একই থাকলেও এক ভিন্ন অনুভূতির পরিস্ফুটন ঘটে সাগর পাড়ের শহরগুলোতে। কোথাও বা জনাকীর্ণ অত্যাধুনিক বিপণি জুড়ে চির ব্যস্ততা,কোথাও অতিকায় উচ্চতায় নিঃসীম নিরবতা। সব কিছু ছাপিয়ে পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো। বিশেষ করে গন্তব্য যখন ইন্দোনেশিয়ার বাটাম দ্বীপ তখন উপকূলবর্তী পর্যটনকেন্দ্রগুলো দেখার নেশাটা অদম্য হয়ে ওঠে। কেননা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই শহর বেশ স্বল্প খরচে একদিনেই ঘুরে শেষ করা যায়। চলুন জনপ্রিয় এই দ্বীপাঞ্চলের ভ্রমণ বৃত্তান্ত বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
বাটাম দ্বীপের অবস্থান ও বিশেষত্ব
সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ উপকূল থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম দ্বীপ শহর বাটাম। সিঙ্গাপুর প্রণালি ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটারের দূরত্বে সিঙ্গাপুর থেকে পৃথক করেছে ভূ-খণ্ডটিকে। দ্বীপটি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের শিল্প ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। পরিবহনসহ বাণিজ্য ও যোগাযোগ নীতিমালায় শিথিলতার কারণে তিন দেশের গ্রোথ ট্রায়াঙ্গেলের একটি অংশ এই বাটাম। বালি ও জাকার্তার পর ইন্দোনেশিয়ার ব্যস্ততম প্রবেশ বন্দরগুলোর মধ্যে এর অবস্থান তৃতীয়।
আরো পড়ুন: থাইল্যান্ডের ফুকেট ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
বাটামের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলো
.
ব্যারেলাং ব্রিজ
রেম্পাং,গালাং ও ব্যারেলাং বাটাম-এই তিন দ্বীপকে সংযুক্ত করে গঠিত হয়েছে এই নান্দনিক সেতু। রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন ধরনের ছয়টি সেতুর এক দীর্ঘ শৃঙ্খল এই ব্যারেলাং ব্রিজ। সমগ্র ব্যারেলাং অঞ্চলটি ৭১৫ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। সেখানে সেতুর এক প্রাপ্ত থেকে অপর প্রান্তের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার এবং পুরোটা অতিক্রম করতে প্রায় ৫০ মিনিট সময় লাগে।
নোংসা
বাটামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রায় পুরোটাই দখল করে আছে নোংসা অঞ্চলটি। এখানকার সৈকত স্থানীয় ও বিদেশি পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। এখান থেকে নৌকা ভ্রমণ করে যাওয়া যায় অদূরেই পুত্রী দ্বীপে। এছাড়া নোংসা ভূ-খণ্ডেই রয়েছে ম্যানগ্রোভ পান্ডাং তাক জেমু। এটি মূলত একটি ম্যানগ্রোভ বন,যাকে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে অপূর্ব একটি রিসোর্ট। বেশ পরিপাটি,কারুকার্যময় এবং গ্রামীণ পরিবেশের আমেজ থাকায় এটি ভ্রমণপিপাসুদের অবকাশ যাপনের জন্য উৎকৃষ্ট জায়গা।
রায়া মসজিদ
আসল নাম গ্র্যান্ড,যেটি ইন্দোনেশিয়ার মেদানে অবস্থিত বাটাম দ্বীপের বৃহত্তম মসজিদ। এটি গড়ে তোলা হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্য,ভারতীয় ও স্প্যানিশ স্থাপত্য শৈলীর সন্নিবেশে। এর অষ্টভূজাকার আকৃতি এবং চারপাশ জুড়ে বিস্তৃত শাখাগুলো মসজিদটির বিশেষ আকর্ষণ। দেয়াল, ছাদ, স্তম্ভ, খিলান ও পৃষ্ঠ; সব জায়গায় ফুল ও গাছপালার অলঙ্করণের জয়জয়কার।
আরো পড়ুন: হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
মহা বিহার দূতা মৈত্রেয় মন্দির
উত্তর সুমাত্রার মেদানে অবস্থিত এই মন্দির গোটা ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম আধুনিক বৌদ্ধ মন্দির হিসেবে বিবেচিত। মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল ৪ দশমিক ৫ হেক্টর জায়গার ওপর। বুদ্ধ মৈত্রেয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন স্বরূপ তৈরি করা হয়েছিল মঠটি। চীনা সম্প্রদায়গুলোর মাঝে এটি লাফিং বুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। এর ভেতর রয়েছে ড্রাগন,পৌরাণিক প্রাণীদের বিভিন্ন মূর্তি ও ভাসমান চাপাতার একটি ফোয়ারা।
অত্যাধুনিক শপিংমল
বাটাম পর্যটনের এক বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে এর অভিজাত শপিংমলগুলো। তন্মধ্যে ৮ দশমিক ৯ একর আয়তনের নাগোয়া হিল মার্কেটটি সুলভ মূল্যে খুচরা পণ্যের জন্য সুপরিচিত। অনেকেই শুধু এখান থেকে মার্কেট করবেন বলেই বাটামে আসেন।
এছাড়াও রয়েছে ফেরি টার্মিনালের কাছাকাছি অবস্থিত মেগামল বাটাম সেন্টার। সাগর পাড়ে নজরকাড়া স্থাপনাশৈলীর মল দেখার অভিজ্ঞতা নিতে অনেকে ভিড় জমান এখানে।
দ্বীপের ঠিক কেন্দ্রে থাকায় বাটাম সিটি স্কোয়ার বা বিটিএস এখানকার পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় শপিং গন্তব্য।
আরো পড়ুন: দার্জিলিংয়ের টংলু ও সান্দাকফু যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
বাটাম ভ্রমণের সেরা সময়
এখানে ঋতুর খুব একটা পরিবর্তন হয় না। বিষুব রেখায় ও সমুদ্রের কাছাকাছি হওয়ায় অধিকাংশ সময়েই সর্বত্র জুড়ে আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করে। তাই প্রকৃতিগতভাবেই বেশিরভাগ সময় গরম থাকে। আর বৃষ্টির মৌসুম মানেই একটানা মুষলধারে বৃষ্টি।
মৌসুম যেমনই হোক না কেন,বাটাম ভ্রমণে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো এড়িয়ে চলাই উত্তম। ফেরি টার্মিনাল থেকে শুরু করে শপিংমল সব জায়গায় ভয়াবহ ভিড় থাকে। তাছাড়া এই সময়ে সবকিছু দামও একদম লাগাম ছাড়া থাকে। তাই ভ্রমণের অফ-পিক সময় বেছে নেওয়া উচিত।
আরো পড়ুন: নেপালের অন্নপূর্ণা ট্রেকিংয়ে যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
বাটাম ভ্রমণের জন্য পর্যটন ভিসা নেওয়ার উপায়
বাংলাদেশি পর্যটকরা তিনভাবে বাটাম যেতে পারেন। প্রথম উপায় হলো সরাসরি ইন্দোনেশিয়ার সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা নিয়ে,আর অপর দুটি হলো সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার ডাবল এন্ট্রি ভিসা নিয়ে। দ্বিতীয় উপায়ে বাটাম ফেরি টার্মিনালে নেমে ইন্দোনেশিয়ার অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিতে হবে।
আরো পড়ুন: তুলনামূলক কম দামে বিমানের টিকিট কেনার কৌশল
ভিসার আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
· সম্পূর্ণ পূরণকৃত ভিসা আবেদনপত্র
· কমপক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ সম্পন্ন বৈধ পাসপোর্ট
· গত ৩ মাসের মধ্যে তোলা সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি
· ফিরতি ফ্লাইট ভ্রমণের অনুলিপি
· অর্থপ্রদানের রশিদ
· ব্যবসা,সম্মেলন বা মিটিংয়ের উদ্দেশ্যে,বাংলাদেশভিত্তিক কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র বা রেফারেন্স চিঠি। সেই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া ভিত্তিক অংশীদার কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান থেকে একটি আমন্ত্রণপত্র।
· গত ৩ মাসের মধ্যে কমপক্ষে ২ হাজার মার্কিন ডলার বা ২ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৩ টাকা (১ মার্কিন ডলার = ১১৯ দশমিক ৪০ বাংলাদেশি টাকা) তহবিলের প্রমাণ
· স্বাস্থ্য অর্থায়ন বা চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধের জন্য সম্মতিপত্রসহ ভ্রমণ বিমা |
আরো পড়ুন: ভুটান ভ্রমণ: জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান, যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ার বাটাম যাওয়ার উপায়
ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর হয়ে বাটামে সরাসরি প্লেনে যেতে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা লাগবে। এছাড়া সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ঢাকার নিয়মিত ফ্লাইট আছে,যেগুলোতে সময় লাগবে সোয়া ৪ ঘণ্টা।
তবে সবচেয়ে সাশ্রয়ী হচ্ছে সিঙ্গাপুর কিংবা মালয়েশিয়াতে নেমে সেখান থেকে বাটামের ফেরি ধরা। সমুদ্র ভ্রমণের সুযোগ থাকায় এই যাত্রা আনন্দায়কও বটে। সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা লাগে বাটাম সেন্টার আন্তর্জাতিক টার্মিনালে পৌঁছাতে। ঝকঝকে এই আধুনিক টার্মিনালেই ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়।
আরো পড়ুন: দিনাজপুরের রামসাগর দীঘি ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
দ্বীপ ভ্রমণে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা
গোটা এশিয়া জুড়ে বেশ সমাদৃত পর্যটন স্থান হওয়ায় বাটামে প্রচুর হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। হোটেল ভাড়াও প্রায় সিঙ্গাপুরের অর্ধেক। তিন হাজার টাকার মধ্যেই পাঁচতারকা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা যায়। ট্রিপ অ্যাডভাইজার,অ্যাগোডা,বুকিং ডট কম থেকে অগ্রিম রুম বুক করে রাখা ভালো।
উপকূলবর্তী হওয়ায় এখানে জনপ্রিয় সামুদ্রিক খাবার। স্থানীয় খাবারগুলোর চেয়ে এগুলোর দাম বেশি হলেও তা সিঙ্গাপুরের তুলনায় অনেক সস্তা।
অন্যান্য খাবারের মধ্যে রয়েছে গাজরের কেক এবং মরিচ ও মিষ্টি সয়া সসের সঙ্গে কেওয়ে টিও কাই পু। এটি মূলত ডিম,মাংস,মুরগি বা সামুদ্রিক খাবারের টপিংস দিয়ে এক ধরনের বিশেষ নুডলস।
আরো পড়ুন: সুন্দরবনের কটকা সমুদ্র সৈকত: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক ভ্রমণ খরচ
বাটামের আভ্যন্তরীণ ভ্রমণের সম্ভাব্য খরচ
ফেরিতে অভিবাসন শুল্কসহ বাটাম যাওয়া-আসায় খরচ পড়বে জনপ্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। দ্বীপের ভেতর আবাসন বাবদ খরচ হতে পারে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়ার মধ্যে। এই খরচ প্রায় ৪৫৪ থেকে ৯০৮ টাকার (১ ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া = ০ দশমিক ০০৭৬ বাংলাদেশি টাকা) সমান।
প্রতি বেলা খাবারের জন্য ব্যয় করতে হবে ২৫ থেকে ৫০ হাজার রুপিয়া (১৮৯ থেকে ৩৭৮ টাকা)। এভাবে প্রতিদিনের খাবার বাবদ ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার রুপিয়া (৭৫৭ থেকে ১ হাজার ১৩৫ টাকা) বাজেট রাখা যেতে পারে।
শহরের ভেতরে যাতায়াতের জন্য বাজেট রাখতে হবে দিনপ্রতি ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ রুপিয়া। এই বাজেট প্রায় ১ হাজার ৮৯১ থেকে ২ হাজার ২৭০ টাকার সমতূল্য।
আরো পড়ুন: বর্ষাকালে সুউচ্চ ঝর্ণা-পাহাড়ে হাইকিং ও ট্রেকিং: ঝুঁকির কারণ ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা
ভ্রমণকালীন কিছু প্রয়োজনীয় সতর্কতা
· মালয়েশিয়া,সিঙ্গাপুর বা ইন্দোনেশিয়া যেভাবেই যাওয়া হোক না কেন; অভিবাসনের প্রয়োজনীয় প্রতিটি কাগজপত্র সঙ্গে রাখা জরুরি। বিশেষ করে বাংলাদেশে ফেরার বিমান টিকিট,হোটেল বুকিং স্লিপ এবং পর্যাপ্ত ডলারের এন্ডোর্সমেন্ট।
· শহরের ভেতরে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাতায়াতের জন্য নিরাপদ উপায় হচ্ছে গ্র্যাব এবং গোজেক রাইডিং অ্যাপগুলো ব্যবহার করা। এছাড়া ট্যাক্সি ক্যাবের তুলনায় ভ্যান ভাড়া করাটা অধিক সাশ্রয়ী।
· শীতের সময়েও দিনের বেলা রোদের তীব্রতা থাকে। তাই সঙ্গে হালকা পোশাক, সানস্ক্রিন, সানগ্লাস ও হেডক্যাপ রাখা ভালো।
· ব্যাগপ্যাক বহন করা উত্তম, তবে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন অত্যধিক ভারী হয়ে না যায়।
আরো পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপ ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
পরিশিষ্ট
ইন্দোনেশিয়ার বাটাম দ্বীপ ভ্রমণ মাঝ সাগরে প্রাণের সরব স্পন্দনের এক অমূল্য অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে নোংসার আদিম সৈকত এবং ব্যারেলাং ব্রিজের বিস্ময়কর স্থাপত্য যেন অবিনশ্বর স্মৃতিচিহ্নের নামান্তর। সিঙ্গাপুর থেকে স্বল্প দূরত্বের পানিপথ যোগাযোগ থাকায় বাজেট-বান্ধব ভ্রমণের উপযোগী হয়ে উঠেছে গন্তব্যটি। এখানকার থাকা-খাওয়া ও আভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থা সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার মূল শহরগুলোর তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী। বাংলাদেশিদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা থাকায় আরও চিত্তাকর্ষক হয়ে উঠেছে সুযোগটি। তাই অতিরিক্ত খরচের চাপ ছাড়াই একটি নিশ্চিন্ত ছুটি কাটানোর জন্য সেরা গন্তব্য এই এশীয় দ্বীপ।
আরো পড়ুন: থাইল্যান্ডের গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের চিয়াং মাই ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
৫৪২ দিন আগে
থাইল্যান্ডের গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের চিয়াং মাই ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
এশিয়া-কেন্দ্রিক অবকাশ যাপন মানেই বিচিত্র সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার এক প্রাণবন্ত জগতে প্রবেশ করা। নির্জন সৈকত, পর্বত চূড়া এবং বনের গহীন থেকে শুরু করে জনাকীর্ণ বিপণীর গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র ছড়িয়ে প্রাণের স্পন্দন। এর মাঝেই বিস্ময় ও রোমাঞ্চগুলো অমূল্য প্রাপ্তি হিসেবে ধরা দেয়। এর সঙ্গে অকৃত্রিম সৌন্দর্য যোগ করলে অনায়াসেই খুঁজে পাওয়া যাবে এশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন শহর চিয়াং মাইকে। থাইল্যান্ডের বিখ্যাত গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গলের অন্তর্গত এই প্রদেশটি মন্দির এবং ঝর্ণার জন্য সুপরিচিত। চলুন, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য্যে সমৃদ্ধ এই পর্যটন অঞ্চলে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য কী কী অপেক্ষা করছে- তা জেনে নেওয়া যাক।
গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের চিয়াং মাই-এর অবস্থান ও বিশেষত্ব
উত্তর-পূর্ব মায়ানমার, উত্তর-পশ্চিম থাইল্যান্ড এবং উত্তর লাওসে রুয়াক ও মেকং নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত প্রায় ২ লাখ কিলোমিটারের এক বিস্তৃত পার্বত্য অঞ্চল গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল।
১৯৭১ সালে তৎকালীন মার্কিন কূটনীতিক মার্শাল গ্রিন আফিম ব্যবসাবিষয়ক একটি প্রেস কনফারেন্সে ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ শব্দটি ব্যবহার করেন। দুই নদীর মাঝের সোপ রুয়াক নামের থাইল্যান্ডের অংশটি বর্তমানে একটি পর্যটক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। এখানে রয়েছে হাউস অফ আফিম মিউজিয়াম, একটি হল অব আফিম এবং গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল পার্ক।
থাইল্যান্ডের যে প্রদেশগুলো নিয়ে এই গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল গঠিত সেগুলোর মধ্যে বৃহত্তম হচ্ছে চিয়াং মাই। ব্যাংকক থেকে ৬৮৫ কিলোমিটার উত্তরে মায়ে পিং নদীর অববাহিকায় প্রদেশটি অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর গড় উচ্চতা ৩০০ মিটার। থাই উচ্চভূমির পর্বতমালা পরিবেষ্টিত অঞ্চলটির ক্ষেত্রফল প্রায় ২২ হাজার ১৩৫ বর্গকিলোমিটার।
আরো পড়ুন: ভুটান ভ্রমণ: জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান, যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
চিয়াং মাইয়ের শাসক থাম্মালাংকা ব্যাংককের রাজা দ্বিতীয় রামাকে একটি সাদা হাতি উপহার দিয়েছিলেন। সেই থেকে সাদা হাতি থাইল্যান্ডের একটি রাজকীয় প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত। প্রদেশটির সিলমোহরেও কাঁচের মণ্ডপে সাদা হাতি রাখা হয়েছে। তাছাড়া এটি চিয়াং মাইতে বৌদ্ধ ধর্মের বিকাশের বিষয়টিকেও প্রতিনিধিত্ব করে।
চিয়াং মাই-এর জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলো
.
ওয়াত ফা লাত
ডোই সুথেপের লীলাভূমি বন পাহাড়ে অবস্থিত এই মন্দিরটি ‘গুপ্ত মন্দির’ বা ‘বন মন্দির’ নামেও পরিচিত। নামের মতো জায়গাটি সত্যিকার অর্থেই শহরের কোলাহল থেকে একদম মুক্ত। পুরোনো পাথরের কাঠামো, তাতে অপূর্ব খোদাই, ঝর্ণা এবং শান্ত বাগান সব মিলিয়ে জায়গাটিকে রহস্যময় করে তুলেছে।
ট্রেকারদের কাছে বহুল সমাদৃত পথ ‘মঙ্ক্স ট্রেইল’ ধরে এই মন্দির পর্যন্ত উঠে যাওয়া যায়। বনের মধ্য দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে যাওয়া অপরূপ এই হাইকিং পথের শুরু হয় চিয়াং মাই ইউনিভার্সিটির কাছ থেকে। মোটামোটি সহজ এই পথটি হাইক করতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে।
আরো পড়ুন: দিনাজপুরের রামসাগর দীঘি ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
দোই ইন্থানন জাতীয় উদ্যান
একসঙ্গে অনেকগুলো ঝর্ণা দেখতে হলে প্রবেশ করতে হবে এই উদ্যানে। দর্শনার্থীদের জন্য দোই ইন্থাননের প্রবেশ মূল্য ৩০০ থাই বাত বা ১ হাজার ৬১ টাকা (১ থাই বাত = ৩ দশমিক ৫৪ বাংলাদেশি টাকা)। যাওয়ার পথে দেখা মিলবে ওয়াচিরাথান জলপ্রপাতের। তারপর একদম ভেতরে রয়েছে ফা ডক সিউ জলপ্রপাত।
দোই ইন্থাননের চূড়া এবং টুইন প্যাগোডার সবথেকে কাছের গ্রাম বান খুন ক্লাং। এই গ্রামের প্রধান আকর্ষণ বিশাল জলপ্রপাত সিরিফুম। উদ্যান এলাকার বাইরে কাছেই রয়েছে মায়ে ইয়া, যেটি থাইল্যান্ডের সর্বোচ্চ জলপ্রপাতগুলোর একটি।
ওয়াত ফ্রা দোই সুথেপ
চিয়াং মাই-এর সবচেয়ে সমাদৃত মন্দিরগুলোর মধ্যে ওয়াত ফ্রা অন্যতম, যার অবস্থান দোই সুথেপ পর্বত চূড়ায়। ১৩৮৩ সালের দিকে স্থাপিত এই অত্যাশ্চর্য মন্দিরটির কেন্দ্রে রয়েছে একটি স্টুপা বা চেডি। ধ্যানের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া ঢিবির মতো অর্ধ গোলাকার এই স্থাপনাটি বহু বছর ধরে বুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষিত। এখান থেকে পাখির চোখে চিয়াং মাই ও তার আশেপাশের গ্রামাঞ্চলের শ্বাসরুদ্ধকর মনোরম দৃশ্য অবলোকন করা যায়। সূর্যোদয় দেখার জন্য এই স্থানটি বেশ জনপ্রিয়।
আরো পড়ুন: সুন্দরবনের কটকা সমুদ্র সৈকত: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক ভ্রমণ খরচ
ওয়াত ফ্রা দ্যাত দোই খাম
টেম্পল অব দ্য গোল্ডেন মাউন্টেন নামে পরিচিত এই মন্দিরটি চিয়াং মাইয়ের ঠিক দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি পাহাড়ে অবস্থিত। এখানকার ১৭-মিটার লম্বা বুদ্ধ মূর্তিটি বহুদূর থেকে চোখে পড়ে। প্রায় ১ হাজার ৩০০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই মন্দিরের সর্বোত্তম অংশটি হচ্ছে পৌরাণিক নাগা সর্প ঘেরা লম্বা সিঁড়ি। সিঁড়ি ধরে যত ওপরে ওঠা যায় চিয়াং মাই ও পাশ্ববর্তী উপত্যকার মনোরম দৃশ্য ততই উন্মুক্ত হতে থাকে।
৫৪৫ দিন আগে
ক্যান্সারের নতুন অ্যান্টিবডি চিকিৎসা টিউমার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: গবেষণা
ইসরায়েলের ভাইজমান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (ডব্লিউআইএস) সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি গবেষক ও তাদের মার্কিন সহকর্মীরা এমন একটি অ্যান্টিবডিভিত্তিক ক্যান্সারের চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি করেছেন যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে টিউমারের কোষে কার্যকরভাবে আক্রমণ ও তাদের বিস্তার রোধ করতে সক্ষম করে তোলে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘ট্রিপল-নেগেটিভ স্তন ক্যান্সার’ নামে পরিচিত স্তন ক্যান্সারের একটি ধরন এর আশপাশে অবস্থিত শরীরের রোগ প্রতিরোধক কোষগুলোকে ‘আণবিক সেতু’ (মোলেকিউলার ব্রিজ) গঠনে উৎসাহ দেয়। এই সেতুগুলো টিউমারকে রোগ প্রতিরোধক কোষগুলোর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাধা পায়।
গবেষণা দলটি দেখিয়েছে যে, একটি অ্যান্টিবডি চিকিৎসা পদ্ধতি এসব ‘ব্রিজ’ গঠনে বাধা দিয়ে ক্যান্সারের কোষগুলোর ওপর শক্তিশালী আক্রমণ চালাতে শরীরের (রোগ) প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। একইসঙ্গে এটি শরীরে টিউমারের অগ্রগতিও থামিয়ে দেয়।
তারা বিষয়টির ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে- ক্যান্সারের কোষগুলোকে নিরাপত্তা দিতে ‘ব্রিজ’ তৈরি করে সিডি৮৪ নামের প্রোটিন। অথচ, স্তন ক্যান্সারের কোষগুলো নিজেরা সিডি৮৪ খুব কম উৎপন্ন করে। ফলে সেগুলো নিকটবর্তী রোগ প্রতিরোধক কোষগুলোকে প্রচুর পরিমাণে এই প্রোটিন উৎপাদন করতে প্ররোচিত করে। আর এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্যান্সারের কোষগুলো দমনে অকার্যকর হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: নারীদের চেয়ে পুরুষদের আত্মহত্যার হার বেশি যে কারণে
সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, যেসব রোগীর টিউমারে অধিক পরিমাণে সিডি৮৪ রয়েছে, তাদের বেশিদিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
সিডি৮৪ নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে জিন পরিবর্তন করা কিছু ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। তাতে দেখা যায়, যেসব ইঁদুরের শরীরে সিডি৮৪ প্রোটিন ছিল না, তাদের শরীরে টিউমার বৃদ্ধির গতি অতি ধীর। এতেই বোঝা যায়, টিউমারের কোষ দমনে সিডি৮৪ নিয়ন্ত্রণ কতটা প্রভাবশালী।
তবে নতুন তৈরি করা অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করার পর স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ইঁদুরগুলোকে সপ্তাহে দুবার পরীক্ষা করা হয়। তাতে যে ফল এসেছে, তা সত্যিই টিউমারের চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, অ্যান্টিবডি টিউমারের বৃদ্ধিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করে দেয়; কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা টিউমার থেকে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে সহায়তা করে।
গবেষক দলটির ভাষ্যে, বিশেষ এই অ্যান্টিবডিটি বেছে বেছে শক্তিশালী সিডি৮৪-এর কোষগুলোকে আক্রমণ করে, সেইসঙ্গে দেহের রোগ প্রতিরোধক কোষগুলোকে সুস্থ রাখে।
গবেষকদের পরামর্শ, টিউমারের সঙ্গে সংযুক্ত এই ক্যান্সার চিকিৎসা পদ্ধতিটি বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
৫৪৬ দিন আগে
‘নাট্যশালার উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে জনতার মুখোমুখি দাঁড়ায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’
সম্প্রতি জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে একটি নাটক মঞ্চায়নের সময় উদ্ভুত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনতার মুখোমুখি দাঁড় করা হয়নি।
সোমবার (৪ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায় জাতীয় শিল্পকলা একাডেমি।
এতে বলা হয়, গত শনিবার (২ নভেম্বর ) ‘দেশ নাটক’ প্রযোজিত নাটক ‘নিত্যপুরাণ’ মঞ্চায়নের সময় এক দল লোক বিক্ষোভ করে তা বন্ধ করে দিতে জড়ো হয়। এসময় আলোচনার মাধ্যমে এটি সমাধানের জন্য শিল্পকলা একাডেমি একাধিকবার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা ক্ষান্ত হয়নি। বরং তাদের সংখ্যা বেড়ে গেলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবার উপক্রম হয়। তখন অভিনয়শিল্পী ও দর্শকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ‘দেশ’ নাটকের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দর্শকের নিকট দুঃখপ্রকাশ করে প্রদর্শনী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এতে আরও বলা হয়, ৩ নভেম্বর দেশের কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় ‘শিল্পকলায় নাটকের প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনা সমর্থন করে না সরকার’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের মূল বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে এটি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি বিক্ষুব্ধকারীদের নাটক বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে অর্থাৎ শিল্পচর্চার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সরকার সমর্থন করে না মর্মে বুঝিয়েছেন। তিনি মনে করেন , বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
তাছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সর্বাবস্থায় জনগণের, শিল্পচর্চার ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্বাস করে। এজন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটির বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি চায় না শিল্পকলার কণ্ঠ কেউ রোধ করুক। কেননা, বাংলাদেশের হাজার বছরের নাটকের ইতিহাস আছে। নাটকের মাধ্যমেই সমাজের ত্রুটি বিচ্যুতি ও বিকল্প ধারণা তুলে ধরা সম্ভব। তাই যারা নাটক করতে চায় তাদের নাটক করতে দিতে হবে। নাটক দেখেই দর্শক বিবেচনা করবে তাদের নাটক তারা গ্রহণ করবে কিনা। মতাদর্শ ও শিল্পকলার হাজার মালভূমির এই বাংলাদেশে সকল দলের নাটক করার বিষয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সার্বিক সহযোগিতা রয়েছে।
শিল্পকলা একাডেমি মনে করে, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে কোনো ব্যক্তির কারণে নাটকের দল যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে প্রচেষ্টা সাংস্কৃতিক সংগঠন বা নাটকের দলের থাকা উচিত। কোনো দলের ভেতরে বিতর্কিত কেউ যদি থাকে, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে এবং স্বৈরাচারীর দোসর হয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের কার্যক্রমকে এখনো সমর্থন করে তাহলে দলের পক্ষ থেকেই তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এসব গণহত্যার দোসর বা সমর্থনকারীদের তিরস্কার করে, নিন্দা জানায়।
সুস্থ, উৎসবমুখর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব শিল্পচর্চায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পাশে থেকে দেশের শিল্প সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখতে দেশের সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবীসহ দেশের জনসাধারণ এগিয়ে আসবে এটাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রত্যাশা।
আরও পড়ুন: ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রদর্শনী ২০২৪ -এর ঢাকা সংস্করণ শুরু
৫৪৭ দিন আগে