প্রকৃতিতে শীতের আমেজ শুরু হলেই বিশ্বনাথ উপজেলার চালধনী হাওরসহ ছোটবড় হাওর ও বিলে বিভিন্ন রঙ-বেরঙের পাখির ঢল নামে। আশ্বিন মাসের শেষের দিকে হাওর ও বিলের পানি কমতে শুরু করে। এসময় পুঁটিসহ ছোট ছোট মাছ খাওয়ার লোভে হাওর কিংবা বিলে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি নামে। ওই সময় এক শ্রেণীর শিকারিরা বিষটোপ কিংবা নানা ধরনের ফাঁদ পেতে শিকার করছেন পাখি।
পেশাদার শিকারিদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মৌসুমী পাখি বিক্রেতারাও। তারা প্রতিদিনই বিভিন্ন অঞ্চলে থেকে পাখি শিকার করে এনে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজারগুলোতে বিক্রি করছেন।
বিশেষ করে প্রতি রবিবার ও বুধবার উপজেলাজুড়ে প্রকাশ্যে এসব পাখি বিক্রি করা হলেও এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই।
পাখি শিকারি জগন্নাথপুরের পাড়ার-গাঁওয়ের মনসুর, বিশ্বনাথের নওধার পূর্বপাড়ার আইনুল মিয়াসহ বেশ কিছু শিকারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্বনাথের চালধনী হাওর, সিঙ্গেরকাছের বড়বিল, দৌলতপুরের দুবাগ বিল, কালিগঞ্জের মাদাই বিলে খুঁটি পুতে, কলাপাতা ও সুপারি গাছের ডালপালা দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা ফাঁদ দিয়ে পাখি শিকার করেন তারা।
প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা আর ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা এই দুই সময়কে পাখি শিকারের জন্য উপযুক্ত বলে জানান পাখি শিকারিরা।
তারা বলেন, প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০টি বক ও ১০ থেকে ১৫টি ‘ঘুঘু’ ধরতে পারেন একেকজন শিকারি। বকের হালি ৪০০টাকা আর ‘ঘুঘু’র হালি ২০০ টাকায় বিক্রি করেন।
তবে, ক্রেতা হিসেবে শিকারিদের পছন্দ মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও অটোরিকশার যাত্রীদের। সেজন্যে তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাখি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এ প্রসঙ্গে, বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন্চার্জ (ওসি) শামসুদ্দোহা পিপিএম এ প্রতিবেদককে বলেন, বিশ্বনাথে পাখি শিকার কিংবা বিক্রির ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, বেশ কয়েকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু ধরা পড়ার ভয়ে এক জায়গায় শিকারিরা অবস্থান না করায় আটক করা যায়নি।