ক্রিকেট
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা চারে উঠে এল বাংলাদেশ
২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করেছে বাংলাদেশ। এর ফলে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিয়েছে টাইগাররা।
পাকিস্তানে সফরে যাওয়ার আগে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ র্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বরে ছিল বাংলাদেশ। প্রথম টেস্ট জিতে এক ধাপ উপরে ওঠে টাইগাররা, আর দ্বিতীয় টেস্ট জিতে এক লাফে চার নম্বর স্থানে উঠে এসেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ৬ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা। আর এই জয়ে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলেও অনেক রদবদল এসেছে।
আরও পড়ুন: দলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যা বললেন মাশরাফি ও তামিম
আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সর্বশেষ স্ট্যান্ডিং অনুসারে, ৬ ম্যাটের তিনটিতে জয় ও তিনটিতে হেরে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে ৩৩ পয়েন্ট পেলেও টাইগারদের শতাংশ হার ৪৫.৮৩।
অন্যদিকে, হোয়াইট ওয়াশ হয়ে বাংলাদেশের আগের অবস্থান অষ্টম স্থানে নেমে গেছে পাকিস্তান। ৭ ম্যাচে ১৯.০৫ হারে তাদের পয়েন্ট ১৬।
এছাড়া, ৯ ম্যাচে ৬টি জয়, ১টি ড্র ও ২টি হারে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ভারত; ৬৮.৬২ শতাংশ হারে তাদের পয়েন্ট ৭৪। ২ ম্যাচে ৮টি জয়, ১টি ড্র ও ৩টি হারে দ্বিতীয় অবস্থানে অস্ট্রেলিয়া; ৬২.৫০ শতাংশ হারে তাদের পয়েন্ট ৯০। আর ৫০.০০ শতাংশ হারে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড।
আরও পড়ুন: ঐতিহাসিক জয়ের কৃতিত্ব একাই নিতে চান না লিটন
৬০৯ দিন আগে
দলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যা বললেন মাশরাফি ও তামিম
চতুর্থ দিন জয়ের সুবাস ছড়িয়ে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪২ রান তুলে দিন শেষ করার পর দেশের ক্রিকেটপ্রেমী প্রতিটি মানুষই পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের খোঁজখবর রাখছিলেন। লাইভ ক্রিকেট অ্যাপ, লাইভ স্ট্রিমিং কিংবা টেলিভিশনের সামনে, নিজ নিজ জায়গা থেকে জয়ের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছিলেন সবাই। এরপর ঐতিহাসিক জয়ের পর টাইগারদের উদ্দেশে শুভেচ্ছাবার্তায় ভেসে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
ক্রিকেটের এলিট সংস্করণে পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর নাজমুল হোসেন অ্যান্ড কোং-কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক দুই অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও তামিম ইকবালও।
পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করার পর নিজের ভ্যারিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি স্ট্যাটাস দেন মাশরাফি। দলের বিজয় উৎসবের একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়! অভিনন্দন বাংলাদেশ।’
আরও পড়ুন: সিরিজসেরার প্রাইজমানি আন্দোলনে নিহত রিকশাচালকের পরিবারকে উৎসর্গ করলেন মিরাজ
জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালও ট্রফিসহ বাংলাদেশ দলের উদযাপনের ছবিটি পোস্ট করে ফেসবুকে শুভেচ্ছা বার্তা দেন।
ইংরেজি ভাষায় লেখা সেই বার্তার বাংলা এরকম, ‘এটা স্রেফ অসাধারণ… ৬ উইকেটে ২৬ রান থেকে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়! কী দারুণ ঘুরে দাঁড়ানো…’
‘(বাংলাদেশ) দলকে অনেক বড় অভিনন্দন… এটি অনেক দিন ধরে স্মরণ করা হবে।’
এর আগে, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের মতো দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচ জিতলেও সিরিজ জেতা হয়ে ওঠেনি বাংলাদেশের। টেস্টে তাদের সিরিজ জয়ের রেকর্ড ছিল শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
আরও পড়ুন: ঐতিহাসিক জয়ের কৃতিত্ব একাই নিতে চান না লিটন
তবে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ২-০ ব্যবধানে জিতলেও সেবার চুক্তি সংক্রান্ত ঝামেলায় শীর্ষ ক্রিকেটারদের কেউই টাইগারদের বিপক্ষে হওয়া ওই সিরিজে খেলেননি। মূলত ক্যারবীয়দের দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।
তাই প্রথমবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম সারির কোনো পূর্ণ শক্তির দলের বিরুদ্ধে সিরিজ জিতে ইতিহাস সৃষ্টির পাশাপাশি ক্রিকেটের এলিট সংস্করণে নিজেদের বীরত্বগাঁথা আরও একটু বড় করল বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
৬০৯ দিন আগে
ঐতিহাসিক জয়ের কৃতিত্ব একাই নিতে চান না লিটন
দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে উইকেটের পেছনে থেকে দুটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিং আউট করার পর ব্যাট হাতে যখন ক্রিজে নামেন লিটন দাস, তখন রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপ। সেই ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েই ব্যাট হাতে রানের ফুল ফোটান তিনি। তারপর দ্বিতীয় ইনিংসে বোলারদের কৃতিত্বের পর ব্যাটিংয়ে নামাই লাগেনি এই ব্যাটারের, তার আগেই সিরিজ জয় করে তার কৃতিত্বের দারুণ প্রতিদান দিয়েছেন সতীর্থরা।
খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলে পাকিস্তানকে তাদের মাটিতেই হোয়াইট ওয়াশ করে বাংলাদেশের ইতিহাস গড়ার দিনে দ্বিতীয় ম্যাচ জয়ের নায়ক তাই লিটন কুমার দাস। তবে ম্যাচ জয়ের কৃতিত্বের সবটা একই নিতে চান না এই এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই জয় দলীয় প্রচেষ্টার ফল। এই কৃতিত্ব সবার; কোচিং স্টাফদেরও ভূমিকা রয়েছে এই স্মরণীয় জয়ে। টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- সব বিভাগেই ভালো করতে হয়।’
আরও পড়ুন: সিরিজসেরার প্রাইজমানি আন্দোলনে নিহত রিকশাচালকের পরিবারকে উৎসর্গ করলেন মিরাজ
তিনি বলেন, ‘প্রথম টেস্টে আপনি দেখেছেন যে, জাকির যে ক্যাচটি নিয়েছিল এবং আমি বাবরের যে ক্যাচটি নিয়েছিলাম, সেখান থেকেই আমরা মোমেন্টাম পেয়ে যাই। দ্বিতীয় টেস্টের (নিজেদের ব্যাটিংয়ের) প্রথম অংশটুকু বাদ দিলে আমাদের প্রত্যেক ব্যাটারই ভালো ব্যাটিং করেছে। শুধু ব্যাটিং কেন, বোলিং-ফিল্ডিং সবই ভালো হয়েছে।’
‘আমরা যখন এখানে আসি, তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল না। এখানে আসার পর আমরা সবাই কঠোর অনুশীলন করেছি।’
দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে মিরাজের সঙ্গে রেকর্ড গড়া ইনিংসটির কারণেই ম্যাচটি জেতার মানসিকতা পায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের ২৬২ রানের মধ্যে একাই ১৩৮ রান করেন লিটন। তবে জুটিটি গড়ার জন্য মিরাজকেই বেশি কৃতিত্ব দিলেন তিনি।
‘আসলে কৃতিত্বটা মিরাজের। ব্যাটিংয়ে নেমেই প্রথম কয়েকটি বল ও যেভাবে মোকাবিলা করল, ৫ কি ৬টা বাউন্ডারি মেরেছিল মিরাজ, আর সেটিই আমাদের কাজ অনেকটা সহজ করে দিয়েছিল।’
আরও পড়ুন: অনুভূতি প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না অধিনায়ক শান্ত
২৬ রানের মধ্যে বাংলাদেশের ৬ উইকেট তুলে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর হয়ে বল করছিল পাকিস্তানের বোলাররা। তাই যে কোনোভাবে ওদের মোমেন্টাম নষ্ট করাই লক্ষ্য ছিল বলে জানান লিটন।
তিনি বলেন, ‘(কনুইতে) আঘাত পাওয়ার কারণে আমি শুরুতে ঠিকমতো খেলতে পারছিলাম না। ওর (মিরাজ) মতো অতটা মারতে পারিনি। তবে ওর ওই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণেই চাপ অনেকটা কমে যায়। এরপর মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পরে আমরা নির্দ্বিধায় ব্যাটিং করে গিয়েছি।’
পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে ফিল্ডিংয়ে নেমেও অসাধারণ কিপিং করেন লিটন। পেসারদের গতি সামলে উইকেটের পেছন থেকে চারটি ক্যাচ নেন তিনি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
৬০৯ দিন আগে
সিরিজসেরার প্রাইজমানি আন্দোলনে নিহত রিকশাচালকের পরিবারকে উৎসর্গ করলেন মিরাজ
প্রথম ম্যাচ দশ উইকেটে জেতার পর দ্বিতীয় ম্যাচটি ছয় উইকেটে জিতে পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচেই ব্যাট-বল উভয় বিভাগেই অসাধারণ পারফর্ম করে ম্যান অব দ্য সিরিজ হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই পুরস্কারের অর্থ তিনি উৎসর্গ করেছেন সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত রিকশাচালকের পরিবারকে।
কোটাবিরোধী আন্দোলনের মাঝেই পাকিস্তান সফরে যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এরপর সরকার পতন ও দেশ সংস্কারের আন্দোলনে রূপ নেয় তা। আন্দোলন চলাকালে রক্তাক্ত হয়েছে গোটা দেশ। তাতে প্রাণ হারিয়েছেন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও। এসব ঘটনার প্রভাব পড়ে ক্রিকেট বাংলাদেশের ওপরও।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাস গড়া প্রথম ম্যাচ জিতে সেই জয় দেশের আন্দোলনে নিহতদের উৎসর্গ করেছিলেন মিরাজ। এবার সিরিজসেরার পুরস্কারের ব্যক্তিগত অর্জনও বিলিয়ে দিলেন আন্দোলনে নিহতদের উদ্দেশেই।
আরও পড়ুন: অনুভূতি প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না অধিনায়ক শান্ত
পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে আনুষ্ঠানিক প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে সময় চেয়ে নিলেন মিরাজ। এরপর কণ্ঠ ধরে আসলেও নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলে উঠলেন, সিরিজসেরার স্বীকৃতি ও অর্থ তিনি উৎসর্গ করছেন দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত হওয়া এক রিকশাচালককে।
মিরাজ বলেন, ‘এই প্রথম বিদেশ সফরে আমি প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের পুরস্কার জিতেছি। আপনারা জানেন যে, আমাদের দেশে গত কিছুদিন ধরে সমস্যা চলছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হয়েছে।’
‘আমি এই ম্যান অব দ্য সিরিজ পুরস্কারটি উৎসর্গ করতে চাই সেই ব্যক্তিদের যারা বৈষম্যবিরোধী প্রতিবাদের সময় মারা গেছেন। সেখানে একজন রিকশাচালক আহত হন এবং পরে মারা যান। আমি তার পরিবারকে এই পুরস্কার উৎসর্গ করছি।’
সিরিজসেরা হওয়ায় স্মারক ট্রফির পাশাপাশি ৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি অর্থ পুরস্কারও দেওয়া হয়েছে তাকে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ২ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টাকার মতো।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজে ব্যাট হাতে দুটি ইনিংস খেলে ১৫৫ রান এবং বল হাতে মোট ১০টি উইকেট পেয়েছেন মিরাজ। এর মধ্যে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৭৮ রান করে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ১৯৬ রানের ঐতিহাসিক জুটি গড়ার পথে দলের জয়ের ভিত্তি তৈরি করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন মিরাজ।
দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে বল হাতে ৫ উইকেট নেওয়ার পর বাংলাদেশ যখন ২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত, তখন লিটন দাসের সঙ্গে ফের ৭৭ রানের আরেকটি ইনিংস খেলে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে ভূমিকা রাখেন এই অলরাউন্ডার।
৬০৯ দিন আগে
অনুভূতি প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না অধিনায়ক শান্ত
পাকিস্তানের বিপক্ষে এর আগে কখনোই টেস্ট ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছিলেন, এই ধারায় পরিবর্তন আনতে চান তারা। কথা রেখেছে বাংলাদেশ, কথা রেখেছেন শান্তও। শুধু ম্যাচ জয়ই নয়, পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করে সিরিজ জয় করে ইতিহাস গড়েছে তার দল।
এমন জয়ে দারুণ আনন্দিত বাংলাদেশ অধিনায়ক। আনন্দ প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।
নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে শান্ত বলেন, ‘এই সাফল্য আমাদের জন্য বিরাট একটা ব্যাপার। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সত্যিই খুব খুশি আমরা। এখানে আসার আগে আমরা পাকিস্তানে জিততে চেয়েছিলাম। সবাই যেভাবে নিজেদের কাজটা করেছে, তাতে খুবই খুশি আমি।’
দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানা। এই দুজনের বোলিং বিষে পাকিস্তান নীল হয়ে যাওয়ার কারণেই পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ।
এই দুই বোলারের প্রসংশা করতে গিয়ে নাজমুল বলেন, ‘সম্প্রতি তারা যেভাবে কাজ করেছে, তারই ফল পেয়েছে মাঠে।’
আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
অসাধারণ এই জয়ের জন্য একাদশের বাইরের ক্রিকেটারদেরও কৃতিত্ব দিতে ভুললেন না তিনি। বললেন, ‘দলীয় পারফরম্যান্সে এই সাফল্য এসেছে। সবাই অবদান রেখেছে এই সিরিজে।’
‘এই সাফল্যে দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই সমান ভূমিকা আছে। সাফল্যে বড় অবদান রেখেছে একাদশের বাইরে থাকা চার ক্রিকেটারও। তারা মাঠের বাইরে থেকে নানাভাবে অবদান রেখেছেন।’
‘আমরা সবসময় তাদের কথাই বলি যারা রান করে বা উইকেট নেয়, কিন্তু সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই জয় এসেছে। আশা করি, এই সংস্কৃতি অব্যাহত থাকবে।’
দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের কল্যাণে বিপদে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতেছে বাংলাদেশ। আগামী মাসে ভারতের বিপক্ষেও মিডল অর্ডার ব্যাটারদের কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স আশা করেন অধিনায়ক।
এসময় দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের অবদানের কথাও উল্লেখ করেছেন শান্ত।
আরও পড়ুন: রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের পেসাররা
প্রথম টেস্টে মুশফিকের অনবদ্য ১৯১ রানের ইনিংস এবং দরকারি সময়ে সাকিব উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। ভারতের বিপক্ষেও এই দুজনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তিনি।
শান্ত বলেন, ‘সাকিব ভাই আর মুশফিক ভাইয়ের বিশাল অভিজ্ঞতা দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতা ভারতের বিপক্ষে সিরিজে আমাদের বড় পুঁজি। আশা করছি পাকিস্তানে তারা দুজন যেভাবে খেলেছেন, ভারতের বিপক্ষে পরের সিরিজেও তারা একই রকম পারফর্ম করবেন।’
৬০৯ দিন আগে
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
আবরার আহমেদের অফ স্ট্যাম্পের বেশ বাইরের ডেলিভারিটি জোরালো ড্রাইভে সীমানাছাড়া করলেন সাকিব আল হাসান, সঙ্গে সঙ্গে অন্যপ্রান্ত থেকে গর্জন করে উঠলেন মুশফিকুর রহিম। উল্লাস শোনা গেল ড্রেসিং রুমের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তসহ বাকি সবারও। সব মিলিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, এক কথায় তা ‘পাকিস্তানের বুকে বাংলাদেশের বিজয় উল্লাস’।
হ্যাঁ, পাকিস্তানকে তাদের মাটিতেই হোয়াইটওয়াশ করে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ইতিহাস রচনা করেছে টাইগাররা।
রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টে ৬ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এই মাঠেই প্রথম ম্যাচে তারা জেতে ১০ উইকেটে।
প্রথম টেস্ট জেতায় সিরিজ জয় করতে দ্বিতীয় ম্যাচটিতে হার এড়ালেই চলত বাংলাদেশের। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলে সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়। তবে দ্বিতীয় দিন থেকে খেলা শুরু হলে পাকিস্তানকে ২৭৪ রানে বেঁধে ফেলে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজ একাই পাঁচ উইকেট নেন, আর সাকিব তিন উইকেট নিলে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগেই পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: মিরাজের ঘূর্ণিতে ২৭৪ রানে থামল পাকিস্তান
দ্বিতীয় দিন শেষ বিকেলে ১০ রান সংগ্রহ দিনের খেলা শেষ করলেও পরের দিন সকালটা দুঃস্বপ্নের মতো শুরু হয় বাংলাদেশের। দলীয় ২৬ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে চোখে সর্ষের ফুল দেখতে থাকে টাইগাররা। তবে ধ্বংস্তুপে দাঁড়িয়ে আশার ফুল ফোটান লিটন দাস ও মিরাজ। বল হাতে পাকিস্তানের ৫ উইকেট তোলার পর ব্যক্তিগত ৭৮ রান করে লিটনের সঙ্গে রেকর্ড গড়া জুটিতে বাংলাদেশকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে বড় ভুমিকা রাখেন মিরাজ। অন্য প্রান্তে ১৩৮ রান করে দলকে মাত্র ১২ রান দূরে রেখে তৃতীয় দিনের তৃতীয় সেশনে লিটন বিদায় নিলে বাংলাদেশও থামে ২৬২ রানেই। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে বল হাতে অসাধারণ পারফর্ম করেন পাকিস্তানের খুররাম শাহজাদ। একাই ৬ উইকেট নিয়ে টাইগারদের ব্যাটিং লাইন-আপ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন তিনি।
দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানকে বোলিং ঝলক দেখায় বাংলাদেশের পেসাররা। প্রথম ইনিংসে স্পিনাররা দাপট দেখালেও দ্বিতীয় ইনিংসে দশ উইকেটের সবকটি নিয়েছেন পেসাররা। টেস্টে এই প্রথম এক ইনিংসে বাংলাদেশের পেসাররাই সবগুলো উইকেট নিলেন। এর মধ্যে হাসান মাহমুদের ফাইফার এবং আগুনে বোলিংয়ে নাহিদ রানা চার উইকেট নিলে লিড বেশি বড় করতে পারেনি পাকিস্তানের ব্যাটাররা। তারা মাত্র ১৭২ রানে গুটিয়ে গেলে সব মিলিয়ে ১৮৫ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। এই ইনিংসে ১৫২ কিলোমিটার গতির বল করে বাংলাদেশের সবচেয়ে গতিসম্পন্ন বোলারও হয়ে যায় ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় আন্তর্জাতিক টেস্ট খেলতে নামা ২১ বছর বয়সী পেসার নাহিদ।
৬০৯ দিন আগে
রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের পেসাররা
দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচের এক ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা।
চলমান রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। এই ইনিংস জয় পেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে পারবে টাইগাররা। চতুর্থ দিন বিকালে বাজে আলোয় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে বিনা উইকেটে ৪২ রান করেছে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: জোড়া সেঞ্চুরিতে কুককে ছাড়িয়ে একাধিক রেকর্ডে রুট
এর আগে স্বাগতিকরা ১৭২ রানে অলআউট হয়ে যায়। আর বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ খেলেন তার ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স। গড়েন ডাবল রেকর্ড- নিজের প্রথম পাঁচ উইকেট এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশি কোনো পেসারের প্রথম পাঁচ উইকেট।
অন্যদিকে তরুণ পেসার নাহিদ রানাও খেললেন তার ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স। চার উইকেট নিয়েছেন তিনি।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন। তাতে মনে হচ্ছিল এবারের ইনিংসেও স্পিনারদের দাপট দেখা যাবে কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে এসে স্পিনারদের হারিয়ে দিলেন পেসাররা। পাকিস্তানকে অলআউট করলেন পেসাররাই।
এখন পর্যন্ত, বাংলাদেশের পেসারদের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল টেস্ট ইনিংসে নয় উইকেট নেওয়া। চারবার এই সাফল্য পেয়েছিলেন তারা- নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনবার এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একবার।
এবার সেসব রেকর্ড ভেঙে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে পেসাররা নিয়ে নিলেন ১০ উইকেট। যা বাংলাদেশকে টেস্ট সিরিজ জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। দেখা যাক সিরিজের প্রথম টেস্টের মতো এবারও ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় পায় কি না টাইগাররা। সেটি হয়ে গেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নামের পাশে যুক্ত হতে পারে আরও কয়েকটি রেকর্ড।
আরও পড়ুন: হাসানের জোড়া শিকারে দিনের শেষটাও রাঙাল বাংলাদেশ
অবশেষে ভাঙল লিটনের প্রতিরোধ, ২৬২ রানে থামল বাংলাদেশ
৬১০ দিন আগে
হাসানের জোড়া শিকারে দিনের শেষটাও রাঙাল বাংলাদেশ
লিটন দাসকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের দুই উইকেট নিয়ে তৃতীয় দিনের শেষটা রাঙিয়ে দিয়েছেন হাসান মাহমুদ।
১২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা পাকিস্তান তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে ৩.৪ ওভারে ৯ রান করতে গিয়েই ২ উইকেট হারিয়েছে। ফলে ২১ রানে এগিয়ে থেকে আগামীকাল চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করবে তারা।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে উইকেটশূন্য থাকলেও দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের উইকেটের খাতা খুলেছেন হাসান।
এরপর নিজের দ্বিতীয় ও ইনিংসের চতুর্থ ওভারে হাসান মাহমুদ খুররাম শাহজাদকেও ফিরিয়ে দিলে তৃতীয় দিনের মতো খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন আম্পায়ার।
আরও পড়ুন: অবশেষে ভাঙল লিটনের প্রতিরোধ, ২৬২ রানে থামল বাংলাদেশ
এর আগে, বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন ভেসে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দিন টস জিতে স্বাগতিকদের শুরুতে ব্যাটিংয়ে পাঠান টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শুরুতে ব্যাটিং করে ৮৫.১ ওভার খেলে তিনটি হাফ সেঞ্চুরিতে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।
১০ রান উইকেটশূন্য থেকে দ্বিতীয় দিন শেষ করলেও তৃতীয় দিন নেমেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ২৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। সেখান থেকে লিটন দাসের ১৩৮ ও মেহেদী হাসান মিরাজের ৭৮ রানে ভার করে দিনের শেষভাগে এসে ২৬২ রানে গুটিয়ে গেলে ১২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করে পাকিস্তান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ২৭৪/১০ (৮৫.১ ওভার; সাইম ৫৮, মাসুদ ৫৭ ও সালমান ৫৪; মিরাজ ৫/৬১ ও তাসকিন ৩/৫৭)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: (আগের দিন ১০/০) ২৬২/১০ (৭৮.৪ ওভার; লিটন দাস ১৩৮, মেহেদী মিরাজ ৭৮; শাহজাদ ৬/৯০, হামজা ২/৫০, সালমান ২/১৩)।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৯/২ (৩.৪ ওভার; সাইম আইয়ুব ৬*, আব্দুল্লাহ শফিক ৩; হাসান মাহমুদ ২/৩)।
৬১১ দিন আগে
অবশেষে ভাঙল লিটনের প্রতিরোধ, ২৬২ রানে থামল বাংলাদেশ
উইকেটে আসা-যাওয়ার মিছিলে লিটন দাস যখন ক্রিজে আসলেন, তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৬ রান, ৬ উইকেটের বিনিময়ে। এমন বিপর্যয়কালে মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে চোয়াল শক্ত করে খেলে গেলেন তিনি। এরপর পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস থেকে সামান্য পিছিয়ে থেকে ভাঙল তার প্রতিরোধ।
লিটনের অনবদ্য শতক ও সপ্তম উইকেটে ১৬৫ রানের সুবাদে ৭৮.৪ ওভারে ২৬২ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। ফলে ১২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা শুরু করেছে পাকিস্তান।
এদিন ব্যাট হাতে লিটন করেছেন সর্বোচ্চ ১৩৮ রান, আর মিরাজ ৭৮ রান করে ফিরে যান। বাকি ব্যাটারদের কেউই বলার মতো রান স্কোরবোর্ডে তুলতে পারেননি। তবে লিটনকে শেষ পর্যন্ত ভালো সঙ্গ দিয়ে গেছেন হাসান মাহমুদ।
এর আগে, ধ্বংস্তুপে মুষ্টি শক্ত করে দাঁড়িয়ে একে একে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন ও মিরাজ। তাদের জুটিতে আশার আলো দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর ১৬৫ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন মিরাজ। এর আগে অবশ্য রেকর্ডও করে ফেলেন তারা।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে পঞ্চাশের নিচে ৬ উইকেট পড়ার পর এই প্রথম কোনো জুটি দেড় শতাধিক রান করল। এর আগের কীর্তিটি ছিল অবশ্য পাকিস্তানের। ২০০৬ সালে করাচিতে ভারতের বিপক্ষে ৩৯ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ১১৫ রানের জুটি গড়েছিলেন আব্দুর রাজ্জাক ও কামরান আকমল।
আরও পড়ুন: মিরাজের ঘূর্ণিতে ২৭৪ রানে থামল পাকিস্তান
এদিকে, মিরাজকে ফিরিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারের দেখা পেয়েছেন খুররাম শাহজাদ। শুধু তাই নয়, একাই ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন তিনি। এছাড়া দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মির হামজা ও আগা সালমান।
মিরাজ ফিরে যাওয়ার পর তাসকিনকেও বিদায় করেন খুররাম। তবে লিটনকে যোগ্য সঙ্গ দেন হাসান মাহমুদ। লিটন অবশেষে ২২৮ বলে ১৩টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ১৩৮ রান করে ফিরে যাওয়ার দুই বল পর লেগ বিফোরের ফাঁদি পড়ে আউট হন নাহিদ রানাও। তবে ৫১ বল মোকাবিলা করে ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন হাসান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ২৭৪/১০ (৮৫.১ ওভার; সাইম ৫৮, মাসুদ ৫৭ ও সালমান ৫৪; মিরাজ ৫/৬১ ও তাসকিন ৩/৫৭)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: (আগের দিন ১০/০) ২৬২/১০ (৭৮.৪ ওভার; লিটন দাস ১৩৮, মেহেদী মিরাজ ৭৮; শাহজাদ ৬/৯০, হামজা ২/৫০, সালমান ২/১৩)।
৬১১ দিন আগে
জোড়া সেঞ্চুরিতে কুককে ছাড়িয়ে একাধিক রেকর্ডে রুট
শ্রীলংকার বিপক্ষে চলমান লর্ডস টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে রেকর্ড ছুয়েছিলেন ইংল্যান্ডের হালের ব্যাটিং লাইন-আপের অন্যতম আস্থার নাম জো রুট। এবার দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি করে সেই রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি রেকর্ডে নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি। ভেঙে দিয়েছেন রেকর্ড।
টেস্টে ইংল্যান্ডের হয়ে মোট ৩৪ সেঞ্চুরি করেছেন এই ব্যাটার। এর ফলে স্যার অ্যালিস্টার কুককে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি করা ইংলিশ ব্যাটার হয়ে গেছেন তিনি।
প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানের ইনিংস খেলার পথে ৩৩তম টেস্ট সেঞ্চুরি করে নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসনকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেইসঙ্গে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরিতে কুকের পাশে বসেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে সবাইকে ছাড়িয়ে চূড়ায় উঠেছেন এই ব্যাটার।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে মালান
শুধু তা-ই নয়, এক যুগের টেস্ট ক্যারিয়ারে এর আগে কখনোই টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির দেখা পাননি তিনি। এবার তা করে ইংল্যান্ডের এমন কীর্তি করা দ্বাদশ ক্রিকেটার বনে গেলেন তিনি। তবে লর্ডসে এই রেকর্ড আছে তিনি ছাড়া কেবল তিনজনের; ওয়েস্ট ইন্ডিজের জর্জ হেডলি এবং ইংল্যান্ডের গ্রাহাম গুচ ও মাইকেল ভন দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছেন এই মাঠে।
এর সঙ্গে আরও একটি দারুণ ব্যাপার ঘটেছে রুটের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে। ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে শতকের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন তিনি।
লর্ডসে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির (৭টি) রেকর্ডও এখন রুটের। আজকের সেঞ্চুরিতে তিনি টপকে গেছেন গুচ ও ভনকে (৬টি করে)। পাশাপাশি এই মাঠে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক গুচের ২ হাজার ১৫ রান ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসের ১০৩ রানে বর্তমানে লর্ডসে তার রান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২-এ।
দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ ব্যাটার হিসেবে রুট আউট হলে ২৫১ রানের পুঁজি পায় ইংল্যান্ড। এতে প্রথম ইনিংসের ২৩১ রানের লিড মিলিয়ে লঙ্কানদের ৪৮৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছে থ্রি লায়ন্স।
আরও পড়ুন: ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি স্পিনার এখন সাকিব
৬১২ দিন আগে