ক্রিকেট
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বৃষ্টির হানা, পণ্ড হলেই ফাইনালে ভারত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামার অপেক্ষা করছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও ভারত। বৃষ্টির কারণে টস হতে দেরি হচ্ছে। তবে বৃষ্টি হলেও ম্যাচটি নিয়ে নির্ভার থাকবে ভারতীয় শিবির। কারণ ম্যাচটি পণ্ড হয়ে গেলে ফাইনালে উঠে যাবে রোহিত শর্মা অ্যান্ড কোং।
চলমান বিশ্বকাপ আসরের জন্য আইসিসির খেলার শর্তে প্রথম সেমিফাইনালের জন্য রিজার্ভ ডে থাকলেও দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জন্য তা নেই। আবার সেমিফাইনালে উঠলে ভারতের আবদার মেটাতে তাদের দ্বিতীয় সেমিফাইনালেই রাখতে হয়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির।
এ দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক চলছে।
ভারতের স্থানীয় সময়সূচিকে প্রাধান্য দিয়ে দলটিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রাখে আইসিসি। কারণ হিসেবে জানা গেছে, প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় ভারতের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টায়। এ সময়ে দেশটির বিপুলসংখ্যক ক্রিকেটভক্তের জন্য খেলা দেখা বেশ কঠিন। তাই রাত ৮টায় শুরু হওয়া দ্বিতীয় সেমিতেই দলটিকে রাখা হয়েছে।
আইসিসিতে ভারতের প্রভাব এবং ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে আইসিসির আয়- সবকিছু মিলিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন: আফগানদের বিধ্বস্ত করে ‘চোকার’ তকমা ঘোচাল দক্ষিণ আফ্রিকা
দ্বিতীয় কারণটি নিয়েও সমালোচনা কম হচ্ছে না। প্রথম সেমিফাইনালে রিজার্ভ ডে থাকলেও দ্বিতীয় ম্যাচে কেন সেই সুবিধা রাখা হলো না, তা নিয়ে আইসিসিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন অনেকে।
তবে এ বিষয়ে আইসিসির সাফাই, ফাইনাল ম্যাচের আগে পর্যাপ্ত সময় না থাকার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তারা। সময় না থাকার পেছনে ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচিকে দায়ী করেছে সংস্থাটি।
২৯ জুন বার্বাডোজের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল হওয়ার কথা। অর্থাৎ দ্বিতীয় সেমিফাইনালের পর মধ্যে মাত্র একটি দিন সময় রাখা হয়েছে। তাই রিজার্ভ ডে রাখার সুযোগ নেই বলে আইসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
তবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জন্য অন্যভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বৃষ্টি বাগড়া দিলেও এই ম্যাচের জন্য ২৫০ মিনিট বাড়তি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়ের ৪ ঘণ্টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সময় নষ্ট হলেও তার জন্য ওভার কমানো হবে না, সম্পূর্ণ ম্যাচ খেলানো হবে।
এরপরও যদি খেলা শুরু করা না যায়, তবেই ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমানোর সিদ্ধান্তে যাবে আইসিসি। তবে এক্ষেত্রে দুদলকেই কমপক্ষে ১০ ওভার করে খেলানো হবে, গ্রুপ পর্বে যা ছিল মাত্র ৫ ওভার। এরপরও খেলা সম্ভব না হলে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে।
ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেই কপাল পুড়বে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। কারণ, সুপার এইট পর্বে ইংল্যান্ডের চেয়ে (৪) ভারতের পয়েন্টই (৬) বেশি ছিল। আর টুর্নামেন্টের নিয়ম এটা।
আরও পড়ুন: রেকর্ড বইয়ে ১৩ পরিবর্তন আনল প্রোটিয়া-আফগান ম্যাচটি
৭২২ দিন আগে
রেকর্ড বইয়ে ১৩ পরিবর্তন আনল প্রোটিয়া-আফগান ম্যাচটি
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় চরম বিপর্যস্ত হয়েছে আফগানিস্তান। প্রোটিয়া বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৫৬ রানেই আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে আফগান ব্যাটারদের।
এমন এক ইনিংসে বেশকিছু রেকর্ড হয়েছে, আবার কিছু রেকর্ড ভেঙে গড়া হয়েছে, যার বেশিরভাগ দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য গৌরবের হলেও আফগানিস্তানের জন্য লজ্জার।
দ্বিতীয় সর্বনিম্ন
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৮ রান সংগ্রহ করেছে আফগানিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬ উইকেটে কোনো দলের এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহ।
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে প্রথম রেকর্ডটিও তাদের। ২০১০ বিশ্বকাপে মাত্র ১৪ রান সংগ্রহ করতে গিয়ে ছয় উইকেট হারায় তারা।
পাওয়ার প্লেতে পাঁচ
বৃহস্পতিবারের প্রথম সেমিফাইনালে পাওয়ার প্লেতে পাঁচ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এটি চলতি বিশ্বকাপে পঞ্চমবার ৫ উইকেট হারানোর ঘটনা।
মজার বিষয় হচ্ছে, এর আগের চারটি ইনিংসের দুটি ছিল এই আফগানদের বিপক্ষে অন্য দলের। তবে এবার আফগানিস্তানই এই লজ্জার রেকর্ডে নাম ওঠাল।
গ্রুপপর্বে উগান্ডা ও পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে প্রথম ৬ ওভারে ৫টি করে উইকেট নেন রশিদ-নবীরা।
এছাড়া গ্রুপপর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজও উগান্ডার পাঁচ উইকেট নেয়। আরেকটি ইনিংস আয়ারল্যান্ডের, পাকিস্তানের বিপক্ষে নাকানি-চুবানি খেয়েছিলেন পল স্টার্লিংরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বনিম্ন
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড গড়েছে আফগানিস্তান। এর মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপের শুরুতে গড়া রেকর্ডটি (৭৭) পেছনে ফেলে লঙ্কানদের স্বস্তি দিয়েছে তারা।
এর আগের রেকর্ডটিও ছিল আফগানদের (৮০)। ২০১০ সালে ব্রিজটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে ৮০ রানে গুটিয়ে যায় তারা। সেবারও ২০০৯ সালে স্কটল্যান্ডের গড়া রেকর্ড (৮১) ভেঙে দেয় তারা।
নিজেদের সর্বনিম্ন
এদিন টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান সংগ্রহ করেছে রশিদ খানের দল। এর আগে ২০১৪ সালে মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭২ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
এছাড়া এই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই ২০১০ সালে এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১২ সালে ৮০ রানে ইনিংস শেষ করার রেকর্ড আছে আফগানদের।
বিশ্বকাপে দ্বিতীয়
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে পূর্ণ একাদশ নিয়ে খেলে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান সংগ্রহ করেছে আফগানিস্তান। তবে ৫৫ রান নিয়ে তালিকার তলানিতে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। দুবাইয়ে ২০২১ আসরে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে এই লজ্জার রেকর্ড গড়ে ইংলিশরা।
এছাড়া ২০১৪ আসরে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড (৬০) এবং ২০১৬ আসরে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে কিউইদের বিপক্ষে বাংলাদেশের (৭০) নামও রয়েছে এই তালিকায়।
সেমিতে সর্বনিম্ন আফগানিস্তান
৫৬ রানে অলআউট হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ইতিহাসে প্রথম এত কম রানে গুটিয়ে গেল কোনো দল।
এর আগে প্রোটিয়াদের বিপক্ষেই ১০১ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ১৩১ রানে গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ড আছে অস্ট্রেলিয়ার।
ফারুকির অর্জন
অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের মতো টেস্ট খেলুড়ে দলের বিপক্ষে জিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা আফগানিস্তানের সাফল্যের নেপথ্যে ছিল ফজলহক ফারুকির অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্য।
৮ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে এখন পর্যন্ত চলতি আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী তিনিই। শুধু তাই নয়, এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহের রেকর্ড।
এ তালিকার পরের তিনটি রেকর্ডই শ্রীলঙ্কার, একটি ভারতের। ২০২১ বিশ্বকাপে ১৬ উইকেট নেওয়ার পরের আসরে (২০২২) ১৫ উইকেট নিয়ে পরপর দুই আসরে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন ওয়ানিন্দু হাসরাঙ্গা।
এছাড়া ১৫টি উইকেট আছে ২০১৫ বিশ্বকাপে ত্রাস ছড়ানো অজন্তা মেন্ডিসের নামের পাশেও।
তবে চলতি আসরে ভারতের আর্শদীপ সিংয়ের ঝুলিতেও ১৫টি উইকেট রয়েছে। আজ রাতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে ভারত। এই ম্যাচেও তাকে দেখা যেতে পারে। আবার ম্যাচটি জিতলে ফাইনালেও খেলার সুযোগ থাকবে এই তরুণ পেসারের। ফলে ফারুকির রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়ার সুযোগ থাকছে তার সামনে।
৭২২ দিন আগে
আফগানদের বিধ্বস্ত করে ‘চোকার’ তকমা ঘোচাল দক্ষিণ আফ্রিকা
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারতে হারতে ‘চোকার’ তকমা পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সব মিলিয়ে সাতবার বিশ্বকাপের সেরা চারে উঠেও ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা হয়নি দলটির। সবশেষ গত নভেম্বরে ভারত বিশ্বকাপেও সেমিফাইনালে তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়। অবশেষে তাদের সেই দুর্দশা ঘুচল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আফগানদের ৯ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোনো সংস্করণে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে আইডেন মার্করামের দল।
টস জিতে শুরুতে ব্যাটিং করে মাত্র ৫৬ রানেই গুটিয়ে যায় আফগানদের ইনিংস। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৮.৫ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
ইনিংস শুরু করতে নেমে দলীয় পাঁচ রানের মাথায় কুইন্টন ডি ককের (৫) উইকেটটি হারালেও রিজা হেন্ড্রিকস (২৯) ও মার্করামের (২৩) ব্যাটিং দৃঢ়তায় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্রোটিয়ারা।
অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সের কারণে ম্যাচসেরা হয়েছেন মার্কো ইয়ানসেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান: ৫৬/১০ (১১.৫)- (আজমতউল্লাহ ১০, গুলবাদিন ৯; শামসি ৩/৬, ইয়ানসেন ৩/১৬, নর্টিকিয়া ২/৭, রাবাদা ২/১৪)।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৬০/১ (৮.৫)- (হেন্ড্রিকস ২৯, মার্করাম ২৩; ফারুকি ১/১১)
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মার্কো ইয়ানসেন।
আরও পড়ুন: প্রোটিয়া বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারল না আফগানিস্তান
৭২৩ দিন আগে
প্রোটিয়া বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারল না আফগানিস্তান
বাংলাদেশকে হারিয়ে স্বপ্নের সেমিফাইনালে ওঠা আফগানিস্তানের সেমির যাত্রা শুরু হয়েছে দুঃস্বপ্নের মতো। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে আফগান ব্যাটিং লাইন-আপ।
ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে টস জিতে শুরুতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। তবে প্রোটিয়া বোলিং তোপে মাত্র ৫৬ রানেই গুটিয়ে গেছে তাদের ইনিংস।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০ রান করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ব্যটারদের আর কেউই দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের ঝুলিতেই গেছে আফগানদের ৭টি উইকেট। এর মধ্যে ৩ ওভারে ১৬ রান দিয়ে মার্কো ইয়ানসেন নিয়েছেন সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট। এছাড়া কাগিসো রাবাদা ও আনরিখ নর্টকিয়ার ঝুলিতে গেছে দুটি করে উইকেট। স্পিনার তাবরাইজ শামসি নিয়েছে বাকি তিনটি উইকেট।
ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার ফাইনালে উঠতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ৫৭ রান।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে সেমিফাইনালে আফগানিস্তান
ম্যাচ শুরুর আগে এই মাঠের রেকর্ড বলছিল, টস জিতলে ব্যাটিং নেওয়ার মতো উইকেট এটি। ১৪০-১৫০ রান করতে পারলেই তা এই পিচের ভালো স্কোর হবে। বিশ্বকাপে এখানে ৫১ উইকেটের মধ্যে ৩৮টিই গেছে পেসারদের ঝুলিতে।
উইকেটের কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেলেও সম্ভব্য রানের বিষয়টি নতুন করে লিখল দক্ষিণ আফ্রিকা।
ইনিংস শুরু করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেটের দেখা পান মার্কো ইয়ানসেন। ওভারের শেষ বলে চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করা (৭৬, ৮০, ৬০ ও ৪৩) রহমানউল্লাহ গুরবাজ ফিরে যান রানের খাতা না খুলেই। আর চার রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
পরের ওভারে কেশব মহারাজ কায়দা করতে না পারলেও তৃতীয় ওভারে ফের উইকেটের দেখা পান ইয়ানসেন। এবার তার শিকার হন তৃতীয় ব্যটার গুলবাদিন নাইব।
চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসেই মেইডেন ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নেন কাগিসো রাবাদা। প্রথম বলেই আফগানদের অপর ওপেনার ইব্রাহিম জাদরানকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান তিনি। চতুর্থ বলে নতুন নামা মোহাম্মদ নবীকেও বোল্ড করেন রাবাদা। বেচারা নবী তার তিন বল মোকাবিলা করে রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
এর ফলে চার ওভার শেষে ২০ রানে ৪ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। তবে তাদের এই ধারা বহাল থাকে পরের ওভারেও। ইয়ানসেন নিজের তৃতীয় ওভার বোলিং করতে এসে ফের উইকেটের দেখা পান। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে উইকেটের পেছনে নানগেলিয়া খারোতের ক্যাচ নেন ডি কক।
আরও পড়ুন: টি-টোয়েন্টিতে কামিন্সের বিরল কীর্তি
মাঝে ষষ্ঠ ওভারটি বিরাম দিয়ে পরের ওভারে ফের উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এবার নর্টকিয়ার প্রথম ওভারেই ক্যাচ হয়ে ফেরেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। দুটি চারের সাহায্যে ১২ বলে ১০ রান করেন তিনি। এর ফলে ৭ ওভার শেষে ২৯ রানে ৬ উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
এরপর উইকেটে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করেন করিম জানাত ও রশিদ খান। দুটি ওভার ধরে খেলে সে ইঙ্গিতও দেন তারা।
তবে দশম ওভারে শামসির হাতে বল তুলে দেন আইডেন মার্করাম, আর অধিনায়কের আস্থার প্রতিদানও দেন তিনি। ওভারের তৃতীয় বলে জানাতকে এবং পঞ্চম বলে নতুন নামা নুর আহমাদকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে জোড়া উইকেট নেন তিনি।
পরের ওভারে নর্টকিয়া রশিদ খানকে বোল্ড করেন। আর দ্বাদশ ওভারে শামসি ফেরান নাভিন-উল-হককে। ফলে ১১.৫ ওভারে মাত্র ৫৬ রানে গুটিয়ে যায় প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা আফগানিস্তান।
৭২৩ দিন আগে
প্রোটিয়া বোলিং তোপে কাঁপছে আফগানিস্তান
বাংলাদেশকে হারিয়ে স্বপ্নের সেমিফাইনালে ওঠা আফগানিস্তানের সেমির যাত্রা শুরু হয়েছে দুঃস্বপ্নের মতো। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের বোলিং আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে আফগান ব্যাটারদের টপ অর্ডার।
ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে টস জিতে শুরুতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। তবে ইনিংসের শুরুতেই প্রোটিয়া বোলিং তোপের মুখে পড়ে আফগান ব্যাটাররা।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৯.৩তম ওভারে ৫০ রানে ৭ উইকেট হারিয়েছে আফগানিস্তান।
অধিনায়ক রশিদ খান ৬ বলে ৮ এবং নুর আহমাদ শূন্য রানে অপরাজিত রয়েছেন।
৭২৩ দিন আগে
বাংলাদেশের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে সেমিফাইনালে আফগানিস্তান
বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ রানের নাটকীয় জয়ে (ডিএল পদ্ধতিতে) চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে আফগানিস্তান। এতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দুই দলই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ল।
নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল আফগানিস্তান।
বাংলাদেশি বোলারদের দক্ষতায় আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১১৫ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের পক্ষে ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার রিশাদ হোসেন।
জবাবে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ১২.১ ওভারে জয় তুলে নিয়ে আফগানিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ভালো রান রেট বজায় রেখে সেমিফাইনালে ওঠা। কিন্তু তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বৃষ্টিও দু'বারের বেশি তাদের চেষ্টায় বাধা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: সেমির দৌড়ে ১১৬ রানের লক্ষ্যে সমীকরণ মেলাতে হচ্ছে টাইগারদের
নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান ও তৌহিদ হৃদয় সবাই প্রভাব ফেলতে পারেননি। সাকিব ও তানজিদ হাসান তামিম শূন্য রানে আউট হয়েছেন। মাত্র ৫ রান করে ফেরেন শান্ত।
এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো একাদশে যুক্ত হওয়া সৌম্য সরকারও প্রভাব রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শূন্য রান করেন তিনি।
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৯ বল খেলে মাত্র ৬ রান দেন। সেমিফাইনালে ওঠার দারুণ সুযোগ যখন বাংলাদেশের সামনে ছিল, এরকম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সব ব্যাটসম্যান তাদের যোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন।
নাভিন-উল-হক ও রশিদ খান ৪টি করে উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের জয়ের মূল কারিগর ছিলেন। আফগান বোলাররা এতটাই সুশৃঙ্খল ছিলেন যে এই ম্যাচে তিনবার হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন তারা।
২৭ জুন সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। অপর সেমিফাইনালে ভারত খেলবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: অজিদের অনিশ্চয়তায় ফেলে সেমিতে ভারত
৭২৪ দিন আগে
সেমির দৌড়ে ১১৬ রানের লক্ষ্যে সমীকরণ মেলাতে হচ্ছে টাইগারদের
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে মঙ্গলবার নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১১৫ রানে রুখে দিয়েছে বাংলাদেশি বোলাররা।
সেমিফাইনালে যেতে বাংলাদেশকে এখন ১২ দশমিক ১ ওভারে ১১৬ রান করতে হবে।
তাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে তারা কেবল তখনই যোগ্যতা অর্জন করতে পারে যদি তারা ১২ দশমিক ১ ওভারে লক্ষ্য তাড়া করে বা ১২ দশমিক ৫ ওভারে এই রান টপকালেও চলবে বাংলাদেশকে। সে ক্ষেত্রে স্কোর সমান হওয়ার পর একটি ৬ মারতে হবে। অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ ওভারে বাংলাদেশকে করতে হবে ১২১ রান।
১২ দশমিক ৩ ওভারে আফগানিস্তানকে টপকাতে পারলেও সেমিফাইনালে যাবে বাংলাদেশ। করতে হবে ১২ দশমিক ৩ ওভারে ১১৯ রান।
আরও পড়ুন: অজিদের অনিশ্চয়তায় ফেলে সেমিতে ভারত
তবে এতদিন বোলারদের পক্ষে থাকা পিচে শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ।
এই শর্তগুলোর কোনো একটি পূরণ করতে পারলেই বাংলাদেশ সেমিফাইনালের জন্য যোগ্য হবে। আর তারা যদি তা না করতে পারে এবং আফগানিস্তান জিতে যায়, তাহলে প্রথমবারের মতো আফগানরা সেমিফাইনাল খেলবে।
বাংলাদেশ যদি শর্ত পূরণ না করে জয়লাভ করে, তাহলে অস্ট্রেলিয়া সেমিফাইনালে উঠবে।
টাইগারদের জন্য আরেকটি চিন্তার কারণ বৃষ্টি। আফগানিস্তানদের ইনিংসের পর ভেন্যু এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত অবিরাম বৃষ্টি হয়েছে। ওভার কমে গেলে কম ওভারেই নতুন টার্গেটের মুখে পড়বে বাংলাদেশ।
কিংসটাউনের আর্নোস ভেল গ্রাউন্ডের উইকেটে রান তোলা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে মাত্র ২৭ রান তোলে আফগানিস্তান।
আরও পড়ুন: রোহিতের তাণ্ডবে দুর্জয় লক্ষ্যের সামনে অস্ট্রেলিয়া
বাংলাদেশের বোলাররা ম্যাচের শুরুটা দুর্দান্ত করেছে। সেখান থেকে দ্রুত রান তুলতে হিমশিম খেতে হয় আফগানিস্তানকে।
ম্যাচে রিশাদ হোসেন বাংলাদেশের সফলতম বোলার, ৪ ওভারে ৩ উইকেট নেন তিনি। তিনি তৃতীয় ওভার পর্যন্ত কোনো বাউন্ডারি দেননি। তবে এরপর রহমানউল্লাহ গুরবাজ বল বাউন্ডারিতে দিয়ে ৪ রান সংগ্রহ করেন।
তার সবচেয়ে সফল ওভারটি ছিল চতুর্থ ওভার, তিনি মাত্র ৮ রান খরচ করে ২ উইকেট নিয়েছেন।
একটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভারে তাসকিন দিয়েছেন মাত্র ১২ রান, আর মুস্তাফিজ দিয়েছেন ১৭ রান।
শেষ ওভারে তানজিম হাসান সাকিবের বলে রশিদ খানের দুটি ছক্কা আফগানিস্তানকে ১১০ রানের গণ্ডি পার করতে সাহায্য করে।
এই ভেন্যুতে যে ৪টি ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে আফগানিস্তানের জয় তাদেরকে আজকের ম্যাচের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী করতে পারে।
অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টি বা ৫০ ওভারের ফরম্যাটে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারেনি। এই উৎসাহ কাজে লাগিয়ে তারা সামনে এগিয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ার ‘মহা গুরুত্বপূর্ণ’ ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে ভারত
৭২৪ দিন আগে
অজিদের অনিশ্চয়তায় ফেলে সেমিতে ভারত
ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে ২০৬ রানের লক্ষ্য যে কতটা বড়, তা টের পেতে দিল না অস্ট্রেলিয়া। তবে গত নভেম্বরে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারানো ভারতের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত হার মেনেই নিতে হয়েছে।
সোমবার সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত বিশ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রানে শেষ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।
এর ফলে ২৪ রানে জিতে টেবিলের শীর্ষে থেকে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার সেমি-ফাইনালে খেলা পড়ে গেছে অনিশ্চয়তায়।
আরও পড়ুন: রোহিতের তাণ্ডবে দুর্জয় লক্ষ্যের সামনে অস্ট্রেলিয়া
এদিন ট্র্যাভিস হেডের ব্যাটে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। তার ৪৩ বলে ৭৬ রানের ইনিংসটিই দলের সর্বোচ্চ। এছাড়া মিচেল মার্শ ৩৭ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ২০ রান করেন।
ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন আর্শদীপ সিং। এছাড়া কুলদীপ যাদবের ঝুলিতে গেছে দুটি উইকেট।
২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ভারতের মতোই উইকেট হারিয়ে ইনিংস শুরু হয় অস্ট্রেলিয়ার। প্রথম ওভারের শেষ বলে আর্শদীপের আউটসাইড অফ লেংথের ডেলিভারিতে ব্যাট ছুঁইয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন ডেভিড ওয়ার্নার। ৬ বল মোকাবিলায় ৬ রান করে তিনি সাজঘরে ফিরলে দলীয় ৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় অজিরা।
এরপর ট্র্যাভিস হেডকে সঙ্গ দিতে আসেন অধিনায়ক মিচেল মার্শ। এখানেও ভারতের মতোই পিটিয়ে খেলতে থাকেন হেড, আর তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে থাকেন মার্শ। আর উইকেট না হারিয়ে প্রথম পাওয়ার প্লেতে ৬৫ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। এরপর মাত্র ২৪ বলে নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হেড। তবে মাঝে মিচেল মার্শ আউট হয়ে গেলে ভাঙে ৮১ রানের জুটি।
এর ফলে নিজের প্রথম ওভারে মাত্র চার রান দেওয়া কুলদীপ দ্বিতীয় ওভারেই দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন। দুবার জীবন পাওয়ার পর অক্ষর প্যাটেলের হাতে দারুণ এক ক্যাচ হয়ে ফিরে যান মার্শ। ফেরার আগে ২৮ বলে দুটি ছক্কা ও তিনটি চারের সাহায্যে ৩৭ রান করে যান তিনি।
এরপর চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এসে সূর্যকুমারের মতোই হেডের সঙ্গে তাল মেলান। দুজনেই মেরে খেলতে শুরু করেন।
তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হননি ম্যাক্সওয়েলও। কুলদীপের শেষ ওভারের প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে যান তিনি। একটু স্লোয়ার ডেলিভারি দিয়েছিলেন কুলদীপ। তা দেখে খানিকটা এগিয়ে এসে জোরে ব্যাট চালান ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু ব্যট-বলে সংযোগ না হওয়া উইকেট উপড়ে যায়। ১২ বলে একটি ছক্কা ও দুটি চারে ২০ রান করে তিনি আউট হয়ে গেলে ১২৮ রানে তিন উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
পরের ওভারের প্রথম বলে ফিরে যান নতুন ব্যাটার মার্কাস স্টয়নিসও। অক্ষর প্যাটেলের ডেলিভারিতে রিভার্স সুইপ করে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট অঞ্চলে হার্দিকের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
পরপর দুই উইকেট হারিয়ে খানিকটা চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। সঙ্গে প্রয়োজনীয় রান রেটও বাড়তে থাকে। চাপের সুযোগ নিয়ে এরপর হেডকে ফেরান বুমরাহ।
অস্ট্রেলিয়ার রানের গতি পড়ে গেলে ব্রেকথ্রুর আশায় বুমরাহর হাতে বল তুলে দেন রোহিত। ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিতে স্লোয়ার দেন বুমরাহ, কিন্তু তা না বুঝতে পেরে রোহিতের কাছে ক্যাচ দেন হেড। ফেরার আগে ৪৩ বলে চারটি ছক্কা ও ৯টি চার মেরে ৭৬ রান করেন তিনি। এর ফলে ১৬.৩ ওভারে ১৫০ রানে পাঁচ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। জিততে তাদের তখন প্রয়োজন ২১ বলে ৫৬ রান।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ার ‘মহা গুরুত্বপূর্ণ’ ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে ভারত
পরের ওভারের প্রথম বলেই নতুন ব্যাটার ম্যাথিউ ওয়েডকে ফেরান আর্শদীপ। এরপর টিম ডেভিড ওই ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে চার, ছক্কা মেরে ম্যাচে থাকার আভাস দেন। কিন্তু পঞ্চম বলে স্লিপে ধরা পড়ে ফিরতে হয় তাকেও।
শেষ দুই ওভারে ৩৯ রানের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়ার। তবে সর্বসাকুল্যে ১৪ রান তুলতে সমর্থ হন প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ক। ফলে ১৮১ রানে শেষ হয় অজিদের ইনিংস।
এর ফলে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল হারের শোধ নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে অনিশ্চয়তায় ফেলে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করে ভারত।
অন্যদিকে, অজিদের সেমিভাগ্য ঝুলে গেছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচের ফলাফলের ওপর। ম্যাচটি পরিত্যক্ত হলে কিংবা আফগানিস্তান জিতলে তারা সেমি-ফাইনালে উঠে যাবে। সেক্ষেত্রে সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের সামনেও। টাইগাররা যদি ১৬০ রান করে অন্তত ৬২ রানের জয় পায়, তাহলে অস্ট্রেলিয়া ও আফগানদের কাঁদিয়ে তারাই উঠে যাবে সেমি-ফাইনালে। আর এর চেয়ে কম রানে (আগে ব্যাটিং ধরে) বাংলাদেশ জিতলে সুপার এইট পর্বে মাত্র এক ম্যাচ জিতেও সেমি-ফাইনালে উঠবে অস্ট্রেলিয়া।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টায় শুরু হতে চলেছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান ম্যাচটি।
৭২৫ দিন আগে
রোহিতের তাণ্ডবে দুর্জয় লক্ষ্যের সামনে অস্ট্রেলিয়া
ভারতের বিপক্ষে জয়, নাহলে ন্যূনতম ব্যবধানে হার- এমন সমীকরণ নিয়ে মাঠে নেমেও ম্যাচটি কঠিন করে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। মূলত সময়মতো ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মার ব্যাটিং তাণ্ডব থামাতে ব্যর্থ হয়ে বিশাল লক্ষ্যের সামনে পড়ে গেছে তারা।
টস হেরে শুরুতে ব্যাটিং করে রান পাহাড়ে চড়েছে ভারত। রোহিতের ৪১ বলে ৯২ রানের ইনিংসে ভর করে ৫ উইকেট হারিয়ে অজিদের ২০৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে তারা।
রোহিতের দুর্দান্ত ইনিংসটি ছিল ৮টি ছক্কা ও ৭টি চারের মারে সাজানো। এছাড়া সূর্যকুমার যাদব ১৫ বলে ৩১ রান এবং একই সংখ্যক বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন হার্দিক পান্ডিয়া। সেইসঙ্গে শিবম দুবে ২৮ রানের ধৈর্য্যশীল ইনিংসটিও বড় লক্ষ্য গড়তে ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন: বাটলারের ব্যাটিং ঝড়ে উড়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র, সেমিতে ইংল্যান্ড
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মিচেল স্টার্ক চার ওভারে ৪৫ রান খরচায় দুই উইকেট নিয়েছেন। দুটি উইকেট নিয়েছেন মার্কাস স্টয়নিসও, তিনি দিয়েছেন ৫৬ রান। তবে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন জশ হেজলউড। রান ফোয়ারার ইনিংসেও চার ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে একটি উইকেট তুলে নেন তিনি।
ইনিংসের শুরুতে বিরাট কোহলিকে হেজলউড শূন্য রানে ফিরে দিলেও উইকেটে তার অনুপস্থিতি টেরই পেতে দেননি রোহিত। দ্বিতীয় ওভারে কোহলি ফিরে গেলে পরের ওভারে চারটি ছক্কা ও একটি চার মেরে স্টার্কের কাছ থেকে ২৯ রান সংগ্রহ করেন রোহিত। ব্যাটিং ঝড় ধরে রেখে মাত্র ১৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। এটিই চলমান বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুত হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড।
এরপর একই গতিতে সেঞ্চুরির দিকে এগোন তিনি। মাঝে অষ্টম ওভারের শেষ বলে মার্কাস স্টয়নিসের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এতক্ষণ তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে আসা ঋষভ পান্ত। ১৪ বলে ১৫ রান করে তিনি আউট হলে ৯৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় ভারত।
এরপর সূর্যকুমার একে রোহিতের সঙ্গে তাল দেন। পিটিয়ে খেলা শুরু করেন তিনিও। দুজনের ব্যাটিং তাণ্ডবে প্রথম দশ ওভারে ১১৪ রান তোলে ভারত। এরপর দ্বাদশ ওভারের দ্বিতীয় বলে স্টার্কের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় রোহিতকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হলেও এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের সেরা ইনিংসটি খেলে বিদায় নেন তিনি।
এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার সর্বোচ্চ স্কোর ছিল অপরাজিত ৮৩। সেটিও চলতি আসরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই।
এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর করে রেকর্ড বইয়ে আরও একবার নাম লেখান তিনি। এই তালিকায় ১০১ রান নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন সুরেশ রাইনা। ২০১০ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনি এই রেকর্ড করেন।
এরপর শিবম দুবে এসেও রানের ধারা অব্যাহত রাখেন। তবে ১৪.৩ ওভারে সূর্যকুমার ফিরে গেলে রানের চাকা কিছুটা স্লথ হয়ে যায়। তারপরও হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে ভালোই এগোচ্ছিলেন দুবে। ১৯তম ওভারের প্রথম দুই বলে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে দুবে স্ট্রাইক দেন হার্দিক। তিনিও মেরে খেলতে চাইলে চতুর্থ বলে ক্যাচ হয়ে যান। ফেরার আগে ২২ বলে ২৮ রান করেন তিনি।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ার ‘মহা গুরুত্বপূর্ণ’ ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে ভারত
এরপর রবীন্দ্র জাদেজাকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস শেষ করেন হার্দিক পান্ডিয়া। ১৭ বলে দুটি ছক্কা ও একটি চারে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। জাদেজা মাত্র ৫ বল খেলার সুযোগ পান। এর মধ্যে একটি ছক্কা মেরে ৯ রান করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান করে মাঠ ছাড়ে ভারত। ফলে জিততে হলে এই লক্ষ্য টপকাতে হবে ওয়ার্নার-ট্যাভিস হেডদের। কিন্তু বুমরাহ-কুলদীপদের বোলিংয়ের সামনে কাজটি করে দেখানো যে কতটা কঠিন, তা চলতি বিশ্বকাপে ভারতের খেলা দেখা সবাই জানেন। ফলে দুর্জয় এই লক্ষ্য মোকাবিলা করে সেমির টিকিট নিশ্চিত করতে পারবে কি না অস্ট্রেলিয়া, তা তাদের ব্যাটারদের ওপর নির্ভর করছে এখন।
৭২৫ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ার ‘মহা গুরুত্বপূর্ণ’ ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে ভারত
আফগানিস্তানের বিপক্ষে হেরে সেমিফাইনালের পথ কঠিন করে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি তাই তাদের জন্য মহা গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচ জিতলে সেমির জায়গা মোটামুটি পাকাপোক্ত হয়ে যাবে তাদের। এমন সমীকরণ সামনে রেখে মাঠে নেমেছে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত।
সোমবার সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ভারতকে আগে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অস্ট্রোলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ।
গত নভেম্বরে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে সবশেষ দেখায় ভারতকে হারিয়ে ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে অস্ট্রেলিয়া। ফলে এই ম্যাচটি ভারতের জন্য প্রতিশোধেরও বটে।
আরও পড়ুন: টি-টোয়েন্টিতে কামিন্সের বিরল কীর্তি
ভারতের বিপক্ষে হারলেও সেমি-ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা টিকে থাকবে অস্ট্রেলিয়ার। সেক্ষেত্রে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিততে হবে বাংলাদেশের। তবে এত কঠিন সমীকরণের দিকে নিশ্চয় যেতে চাইবেন না মিচেল মার্শ।
টসের পর সে কথাই উঠে আসে তার বক্তব্যে, ‘এখান থেকে প্রতিটি ম্যাচই জিততে হবে আমাদের। এই ম্যাচ আমাদের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালের মতো।’
তবে আজকে হেরে গেলেও সেমি-ফাইনালে ওঠা নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তায় পড়া লাগবে না ভারতের। বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানকে হারিয়ে ভালো নেট রান রেট (২.৪২৫) নিয়ে ইতোমধ্যে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে তারা। আফগানিস্তান যদি বাংলাদেশের বিপক্ষে জেতেও, সেক্ষেত্রে -০.৬৫০ থেকে নেট রান রেট ভারতের ওপরে নিয়ে যাওয়াটা সত্যিই কষ্টসাধ্য তাদের জন্য। এক্ষেত্রে বরং দুশ্চিন্তা থাকবে অস্ট্রেলিয়ারই।
আরও পড়ুন: টি-২০ বিশ্বকাপ: বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশকে হারাল অস্ট্রেলিয়া
সেন্ট লুসিয়ায় এটি ভারতের প্রথম ম্যাচ হলেও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এখানে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। সেই ম্যাচটি তারা বড় ব্যবধানে জিতেছিল। তবে ভারতের এই মাঠে এটিই প্রথম ম্যাচ। ফলে ভারতের অনভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইবে অস্ট্রেলিয়া।
আজকের ম্যাচে স্পিনার এস্টন এগারের পরিবর্তে মিচেল স্টার্ককে নিয়ে মাঠে নেমেছে অস্ট্রেলিয়া।
ভারত একাদশ: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), বিরাট কোহলি, ঋষভ পান্ত, সূর্যকুমার যাদব, শিবম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, আরশদীপ সিং ও জাসপ্রিত বুমরাহ।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ট্র্যাভিস হেড, ডেভিড ওয়ার্নার, মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস, টিম ডেভিড, ম্যাথু ওয়েড, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, অ্যাডাম জাম্পা ও জশ হ্যাজলউড।
৭২৫ দিন আগে