ক্রিকেট
সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে যাচ্ছে টাইগাররা
দুই টেস্ট ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে সেপ্টেম্বর মাসে ভারত সফর করবে টাইগাররা। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথম টেস্ট শুরু হয়ে ১২ অক্টোবর তৃতীয় টি-টোয়েন্টির মাধ্যমে সফর শেষ হবে।
২০২৪-২৫ মৌসুমের সময়সূচি ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ক্রিকবাজে প্রকাশিত সময়সূচিতে বাংলাদেশের ভারত সফরের কথাও বলা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, টাইগারদের বিপক্ষে চেন্নাইয়ে এমএ চিদাম্বারাম স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট ম্যাচ এবং কানপুরে দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। এর পরে ধর্মশালা, দিল্লি ও হায়দ্রাবাদে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
টেস্ট ম্যাচ দুটি স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের হারে ‘আইসিসির আইনকে’ কাঠগড়ায় তুললেন বিশ্লেষকরা
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে দেশে ফিরবে বাংলাদেশ। এরপর নিউজিল্যান্ডকে আতিথ্য দেবে ভারত। কিউইদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবেন রোহিত শর্মারা।
এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও সিরিজ আছে তাদের। ইংলিশদের বিপক্ষে ৫টি-টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে খেলবে ভারত। ২২ জানুয়ারি শুরু হওয়া সিরিজটি শেষ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
সিরিজ শেষে পাকিস্তানে হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ নেবে রোহিত-কোহলিরা।
বাংলাদেশের ভারত সফরের সূচি:
ম্যাচ
ভেন্যু
তারিখ
সময় (বাংলাদেশ)
প্রথম টেস্ট
চেন্নাই
১৯ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর
সকাল ১০টা
দ্বিতীয় টেস্ট
কানপুর
২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ অক্টোবর
সকাল ১০টা
প্রথম টি-টোয়েন্টি
ধর্মশালা
৬ অক্টোবর
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি
দিল্লি
৯ অক্টোবর
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা
তৃতীয় টি-টোয়েন্টি
হায়দারাবাদ
১২ অক্টোবর
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা
৬৮৪ দিন আগে
ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত জয়
গ্রুপ পর্বে ভুগলেও দুর্দান্ত জয়ে সুপার এইট যাত্রা শুরু করল টি-টোয়েন্টির বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে জস বাটলার অ্যান্ড কোং।
সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন সামি জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন জস বাটলার। শুরুতে ব্যাট করে চার উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান করে স্বাগতিকরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৫ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় ইংল্যান্ড।
ইংলিশদের হয়ে ৪৭ বলে ৫টি ছক্কা ও ৭টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ৮৭ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন ওপেনার ফিলিপ সল্ট। অন্যপ্রান্তে ২৬ বলে ২ ছক্কা ও ৫টি চারে ৪৮ রানে অপরাজিত ছিলেন জনি বেয়ারস্টো।
এছাড়া, ২২ বলে ২৫ রান করা বাটলারকে এলবিডব্লিউ করেন রোস্টন চেস এবং আন্দ্রে রাসেলের বলে জনসন চার্লসের হাতে ক্যাচ হয়ে ফেরেন ১০ বলে ১৩ রান করা মঈন আলী।
আরও পড়ুন: অধিনায়কত্ব ছাড়লেন উইলিয়ামসন
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম ওভারটি দেখেশুনে খেললেও পরের ওভার থেকেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন দুই ইংলিশ ওপেনার বাটলার ও সল্ট। প্রথম পাওয়ার প্লেতে ৫৮ রান তোলেন তারা। অষ্টম ওভারে বাটলার আউট হয়ে গেলে মঈন আলী এসেও রান তোলা অব্যাহত রাখেন। এর ফলে প্রথম ১০ ওভারে ৮৩ রান তোলে ইংল্যান্ড।
তবে এর পরপরই মঈন আউট হয়ে গেলে উইকেটে আসেন জনি। এরপর দুপাশ থেকে শুরু হয় ব্যাটিং তাণ্ডব। একে অপরের সঙ্গে রান তোলার প্রতিযোগিতা শুরু হয় দুজনের। এর মাঝে পড়ে পিষ্ট হন ক্যারিবীয় বোলাররা। শেষ পর্যন্ত আর উইকেট নিতে না পেরে ১৭.৩তম ওভারে আত্মসমর্পণ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এর আগে, দুর্দান্ত শুরুর পরও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় রানের চাকা কিছুটা শ্লথ হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। শুরুতে ব্রেন্ডন কিং (১৩ বলে ২৩ রান) মেরে খেলা শুরু করলেও জনসন চার্লস (৩৪ বলে ৩৮ রান) একটু ধরে খেলেন।
জনসন আউট হয়ে গেলে ক্রিজে এসে তার ভূমিকা পালন করেন অধিনায়ক নিকোলাস পুরান (৩২ বলে ৩৬ রান)। তবে রোভমান পাউয়েল (১৭ বলে ৩৬) ও শেরফেন রাদারফোর্ডের (১৫ বলে ২৮) ক্যামিও ইনিংসে ১৮০ রান সংগ্রহ করে মাঠ ছাড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাঝে আন্দ্রে রাসেল ২ বলে ১ রান করে আদিল রশিদের শিকার হলে মূলত উইন্ডিজের রান রেট শেষের দিকে তুলনামূলক কমে যায়।
এই জয়ে নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষস্থানে বসল ইংল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জিতে দ্বিতীয় অবস্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমি ফাইনালে অবস্থান মজবুত করতে ২১ জুন মুখোমুখি হবে এই দুই দল। অন্যদিকে, সেমির দৌড়ে টিকে থাকতে একদিন পর মাঠে নামবে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আরও পড়ুন: অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেও হারল যুক্তরাষ্ট্র
৬৮৪ দিন আগে
অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেও হারল যুক্তরাষ্ট্র
১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রোটিয়া বোলারদের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটাররা দাঁড়াতে পারবেন কি না, তা নিয়েই ছিল সংশয়। শুরুতে থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও মাঝে ৯১ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে জয়ের ইঙ্গিত দেয় স্বাগতিকরা। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন কাগিসো রাবাদা। ফলে তীরে গিয়ে তরী ডুবল যুক্তরাষ্ট্রের।
দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১৮ রানে হেরেছে যুক্তরাষ্ট্র।
৬ উইকেটে ১৭৬ রান সংগ্রহ করতে গিয়ে ওপেনার অ্যান্ড্রিস গাউস করেন অপরাজিত ৮০ রান। ৪৭ বলে তার এই ইনিংসটি ছিল পাঁচটি করে ছক্কা ও চারের মারে সাজানো। এছাড়া সপ্তম ব্যাটার হারমিত সিং করেন ২২ বলে ৩৮ রান।
নির্ধারিত চার ওভারে মাত্র ১৮ রানে তিন উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন রাবাদা। তবে ব্যাট হাতে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়া এবং উইকেটের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন কুইন্টন ডি কক।
আরও পড়ুন: আচরণবিধি ভেঙে শাস্তি পেলেন তানজিম
বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই রান তোলায় মনোযোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। প্রতি ওভারে বাউন্ডারি ওভার বাউন্ডারিতে ইনিংসের শুরুতেই রানের ঘোড়া ছুটিয়ে দেন স্টিভেন টেইলর ও অ্যান্ড্রিস গাউস।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারে রাবাদার হাতে বল তুলে দেন মার্করাম। বোলিংয়ে এসে তৃতীয় বলেই দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন তিনি। ওভারের প্রথম বলটি চার মেরে শুরু করে পরের বলে সিঙ্গেল নেন গাউস। তবে তৃতীয় ওভারে রাবাদাকে মোকাবিলা করতে গিয়েই আউট হয়ে যান টেইলর। ১৪ বলে ১ ছক্কা ও চারটি চারে ২৪ রান করে দলীয় ৩৩ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
পরের ওভারে দুটি ছক্কার সাহায্যে ১৭ রান তোলে যুক্তরাষ্ট্র। সেইসঙ্গে দলীয় ৫০ পার করে তারা। তবে এর পরের ওভারে রাবাদা এসে ফের উইকেট নেন। আবারও ওভারের তৃতীয় বলে নতুন ব্যাটার নিতীশ কুমারের উইকেটটি তুলে নেন তিনি।
সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলে অধিনায়ক অ্যারন জোনসের উইকেট তুলে নেন কেশব মহারাজ। মহারাজের প্রথম ওভারেই এজ হয়ে ডি ককের গ্লাভসে কট বিহাইন্ড হয়ে যান তিনি।
ফলে ৭ ওভার শেষে ৫৭ রানে তিন উইকেট হারায় যুক্তরাষ্ট্র। এক পাশ থেকে যখন ব্যাটারদের নিয়মিত ক্রিজে আসা-যাওয়া চলছিল, তখন অপর প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন গাউস। এরপর কোরি অ্যান্ডারসনের সঙ্গে বড় জুটি গড়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে সে প্রচেষ্টা খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
দশম ওভারের দ্বিতীয় বলে আনরিখ নর্টিকিয়াকে ছক্কা হাঁকান কোরি অ্যান্ডারসন। কিন্তু তার পরের বলেই উইকেট উপড়ে দেন নর্টকিয়া। ফলে ১২ বলে ১২ রান করে ফেরেন অ্যান্ডারসন।
১০ ওভার শেষে যুক্তরাষ্ট্রর স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৩ রান।
এরপর দ্বাদশ ওভারের প্রথম বলেই সায়ান জাহাঙ্গীরকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তাবরাইজ শামসি।
৭৬ রানে ৫ উইকেট হারানোর পরপরই মনোভাব বদলে ফেলেন গাউস ও নতুন ক্রিজে আসা ব্যাটার হারমিত সিং। উইকেটের দুইপাশ থেকেই সমানে ব্যাট চালাতে শুরু করেন তারা। এতে সফলও হন। ১১.১তম ওভারে ৭৬ রান থেকে ৬ ওভারের ব্যবধানে দলীয় সংগ্রহ ১৪৬ রানে নিয়ে যান এ দুজন।
আরও পড়ুন: অধিনায়কত্ব ছাড়লেন উইলিয়ামসন
রানের এ ধারা অব্যাহত রাখায় শেষ দুই ওভারে ২৮ রানের সমীকরণে চলে আসে যুক্তরাষ্ট্রের ইনিংস। তার আগের ওভারেই ২২ রান নেন এই দুই ব্যাটার।
তবে ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই রাবাদাকে ছক্কা মারতে গিয়ে সীমান্তে ধরা পড়েন হারমিত সিং। ৪৩ বলে ৯১ রানের জুটি গড়ে হারমিত বিদায় নিলে বড় ধাক্কা খায় যুক্তরাষ্ট্র। এখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তার। ২২ বলে ৩৮ রান করা হারমিত তিনটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন।
এরপর নতুন ব্যাটার জেসি সিং পরের দুই বল ডট খেলে চতুর্থ বলে গাউসকে স্ট্রাইক দেন। বাকি দুই বলে এক রান হলে শেষ ওভারে ২৬ রানের প্রয়োজন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের।
তবে নর্টকিয়ার ওই ওভারে ৭ রান সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে শেষ পর্যন্ত ১৮ রানের জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অপরদিকে, হেরেও গর্বের সঙ্গে মাঠ ছাড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নবাগত যুক্তরাষ্ট্র।
এই জয়ে সুপার এইটে নিজেদের তিন ম্যাচের প্রথমটি জিতে সেমিফাইনালের দিকে এক ধাপ এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। আর যুক্তরাষ্ট্রের সেমি ফাইনাল খেলা অনিশ্চয়তায় পড়ে গেল। গ্রুপে তাদের অপর দুই প্রতিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড।
২১ জুন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা। একদিন পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করল দক্ষিণ আফ্রিকা
৬৮৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করল দক্ষিণ আফ্রিকা
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট খেলতে নেমেই স্বরূপে ফিরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমে ব্যাটিং করে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ১৯৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছে আইডেন মার্করামের দল।
বুধবার অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ড স্টেডিয়ামে টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আগে ব্যাট করতে পাঠান যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক অ্যারন জোনস। শুরুতে ব্যাটিং করে চার উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রান সংগ্রহ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
এদিন ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন প্রোটিয়া উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি কক। তার ব্যাট থেকেই দলীয় সর্বোচ্চ ৭৪ রান আসে। ৪০ বল মোকাবিলায় ৫টি ছক্কা ও ৭টি চারের সাহায্যে এই রান করেন তিনি। এছাড়া মার্করাম ৩২ বলে ৪৬, হাইনরিখ ক্লাসেন ২২ বলে অপরাজিত ৩৬ এবং ট্রিস্টান স্টাবস ১৬ বলে অপরাজিত ২০ রান করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সৌরভ নেত্রভালকার ও হারমিত সিং দুটি করে উইকেট নেন। বড় স্কোরের দিনও এই দুই বোলার ছিলেন যথেষ্ঠ ইকোনোমিক। সৌরভ চার ওভারে ২১ ও হারমিত ২৪ রান দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: অধিনায়কত্ব ছাড়লেন উইলিয়ামসন
ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই চালিয়ে খেলতে থাকা রিজা হেন্ড্রিকসকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ২.৪তম ওভারে মিড-অফ অঞ্চলে কোরি অ্যান্ডারসনের হাতে ধরা পড়েন হেন্ড্রিকস। তিনি ১১ রান করে ফিরে গেলে দলীয় ১৬ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
এরপর ১১০ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথ দেখিয়ে হারমিতের বলে ক্যাচ হয়ে মাঠ ছাড়েন ডি কক। ১২.২তম ওভারে হারমিতের করা ফুল টস ডেলিভারিটি উড়িয়ে মেরেছিলেন প্রোটিয়া ওপেনার। তবে বল দূরত্ব না পাওয়ায় ডিপ মিড-উইকেটে সায়ান জাহাঙ্গীরের তালুবন্দি হন তিনি। পরের বলেই নতুন ব্যাটার ডেভিড মিলারকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে দেন হারমিত। এর ফলে ১২৬ রানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় উইকেট পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার।
এরপর ১৫তম ওভারের শেষ বলে সৌরভের দ্বিতীয় শিকার হন আরেক সেট ব্যাটার মার্করাম। ফলে ১৪১ রানে পড়ে চতুর্থ উইকেট। এরপর ম্যাচের বাকি কাজটুকু শেষ করেন ক্লাসেন ও স্টাবস।
গ্রুপপর্বের প্রতিটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের স্লো উইকেটে খেলার কারণে কোনো ম্যাচেই বড় সংগ্রহ করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়েই ব্যাটিং ঝলক দেখা গেল দলটির ব্যাটারদের কাছ থেকে। সেমি ফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে যেতে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই তাদের।
আরও পড়ুন: আচরণবিধি ভেঙে শাস্তি পেলেন তানজিম
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সেক্ষেত্রে তারাও প্রথমবারের মতো নিজ দেশের মাটি, দর্শক ছেড়ে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে খেলতে গিয়েছে। প্রথমবার অংশ নিয়েই সেমি ফাইনাল খেলার গৌরব অর্জন করতে চাইবে আন্তর্জিাতিক ক্রিকেটে নবাগত এই দলটিও। তাই প্রোটিয়া বোলারদের বিপক্ষে তাদের ব্যাটাররা কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারবে, তার ওপরই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের ভাগ্য।
৬৮৫ দিন আগে
অধিনায়কত্ব ছাড়লেন উইলিয়ামসন
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যাওয়ার পর এবার নিউজিল্যান্ডের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলেন কেইন উইলিয়ামসন। শুধু তাই নয়, ২০২৪-২৫ মৌসুমের নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।
বুধাবার (১৯ জুন) তিনি এ ঘোষণা দেন।
বিদেশি লিগ খেলতেই মূলত তিনি জাতীয় দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী গ্রীষ্মে বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ খুঁজছেন তিনি। তাই জাতীয় দলের সঙ্গে চুক্তি করতে চান না। তবে কিউইদের জার্সিতে খেলতে তিনি সবসময় প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন।
‘বিভিন্ন ফরম্যাটে আমি দলকে এগিয়ে নিতে উৎসাহী এবং এমন কিছুতে আমি সবসময় অবদান রাখতে চাই। তবে, গ্রীষ্মে একটি বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ রয়েছে আমার। সেকারণে নিউজিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তির প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারছি না।’
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না বোল্টকে!
তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলা আমার কাছে সবসময়ই মূল্যবান। দলকে প্রতিদান দেওয়ার ইচ্ছা আমার সবসময় আছে। তবে, ক্রিকেটের বাইরে আমার জীবনে পরিবর্তন এসেছে। এখন পরিবারকে সময় দিতে চাই। এর জন্য পরিবারের সঙ্গে দেশ-বিদেশে সময় কাটানো আমার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
কেন্দ্রীয় চুক্তিতে না থাকলেও দলের প্রয়োজনে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে তাকে ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্কট ওয়েনিঙ্ক।
তিনি বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা খেলোয়াড়দের সবসময় (একাদশ নির্বাচনে) অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও উইলিয়ামসন এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। বিশেষ করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠের জন্য আমরা এটুকু ব্যতিক্রম হতেই পারি। সে নিজেও দলের প্রতি অনুগত।’
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে যাতে সে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে সহযোগিতা করতে পারে, সে কারণে তাকে শুধু বর্তমানেই নয়, আগামীতেও এই ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে।’
‘জানুয়ারি পর্যন্ত আমাদের সূচি একেবারেই খালি। তবে এর পরও তাকে দলে পাবো বলে আশা করছি।’
উইলিয়ামসনের অধিনায়কত্বে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ব্ল্যাকক্যাপসদের।
আরও পড়ুন: আচরণবিধি ভেঙে শাস্তি পেলেন তানজিম
২০২২ সালে টেস্টের অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন উইলিয়ামসন। তার নেতৃত্বে ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে দুঃখজনকভাবে ইংল্যান্ডের কাছে হারে নিউজিল্যান্ড। এরপর ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারে তার দল। তবে ২০২১ সালের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে জিতে প্রথম টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ঘরে তোলে নিউজিল্যান্ড।
উইলিয়ামসনের আগে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। এছাড়া লকি ফার্গুসনও কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সই করতে নারাজ। এমন পরিস্থিতিতে নতুন অধিনায়ক নির্বাচন করতে হবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকে। আগামী মাসে নতুন চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করতে পারে তারা।
৬৮৫ দিন আগে
আচরণবিধি ভেঙে শাস্তি পেলেন তানজিম
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ জিতে প্রায় অর্ধ যুগ পর সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে নেপালের বিপক্ষে আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগে শাস্তি পেয়েছেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব।
শাস্তি হিসেবে তানজিমের ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সেই সঙ্গে তার নামের পাশে যুক্ত হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট।
ঘটনা নেপালের ইনিংসের তৃতীয় ওভারের। ওই ওভারটি মেইডেন নেন তানজিম। প্রথম চার বলে নেপালের দুই ব্যাটারকে আউট করার পর ক্রিজে আসেন অধিনায়ক রোহিত পাউড়েল। প্রথম বলটি ঠেকানোর পর দ্বিতীয়, অর্থাৎ ওভারের শেষ বলটি থেকেও কোনো রান নিতে না পারায় রোহিতের সঙ্গে বিবাদে জড়ান তানজিম। সেসময় হঠাৎ রোহিতের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান তিনি। এমনকি তাকে বুক দিয়ে ধাক্কা মেরেও বসেন তানজিম।
আরও পড়ুন: নেপালকে হারিয়ে সুপার এইটে বাংলাদেশ
কী ঘটেছিল সেই সময়- ম্যাচ শেষে এমন প্রশ্নের জবাবে রোহিত বলেন, সাকিব তাকে বলেছিলেন- মেরে দেখাও। এরপর তিনি ফিরতি উত্তরে বলছিলেন- যাও বল কর।
এরপর পরপর দুই বলে রান নিতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে যান তানজিম। তারপর ওই ঘটনা ঘটান তিনি। তবে বিষয়টি আইসিসির নিয়ম লঙ্ঘন করায় শাস্তি পেতে হয়েছে তাকে।
আইসিসির কোড অব কন্ডাক্টের ২.১২ ধারা অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড়ের আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি বা অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিকভাবে মুখোমুখি অবস্থানে আসার অনুমতি নেই।
খেলা শেষে ম্যাচ রেফারি রিচি রিচার্ডসনের দেওয়া শাস্তি মেনে নেন তানজিম। ফলে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না বোল্টকে!
সুপার এইট নিশ্চিত করা ওই ম্যাচে অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্য দেখান তানজিম। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরাও হন তিনি। এছাড়া সেদিন চার ওভারের ২১টি বলই ডট দেন তিনি, যা বিশ্বকাপে কোনো বোলারের সর্বোচ্চ ডট বল করার রেকর্ড।
৬৮৫ দিন আগে
নেপালকে হারিয়ে সুপার এইটে বাংলাদেশ
১০৬ রানে গুটিয়ে গিয়েও অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সে নেপালের বিপক্ষে ২১ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে ঈদুল আজহার দিন দেশবাসীর আনন্দে বাড়তি খুশি যুক্ত করে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে টাইগাররা।
সোমবার সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নোস ভেল ক্রিকেট গ্রাউন্ডের বোলিংবান্ধব উইকেটে টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান নেপাল অধিনায়ক রোহিত পাউড়েল।
শুরুতে ব্যাট করে তিন বল বাকি থাকতেই ১০৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশি বোলারদেরও তোপের মুখে পড়েন নেপালি ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত চার বল হাতে রেখেই ৮৫ রানে নেপালকে অলআউট করে ২১ রানের জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।
আরও পড়ুন: বৃষ্টিতে ডুবল পাকিস্তানের স্বপ্ন, শেষ আটে যুক্তরাষ্ট্র
এদিন নির্ধারিত ৪ ওভারে মাত্র ৭ রানের খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েছেন তানজিম সাকিব। ম্যাচসেরার পুরস্কারটি তাই উঠেছে তার হাতেই।
মোস্তাফিজুরও ৭ রানের খরচায় নিয়েছেন ৩ উইকেট। এছাড়া সাকিব দুটি ও তাসকিন একটি উইকেট নেন।
নেপালের হয়ে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ২৭ ও ২৫ রান করেন যথাক্রমে ষষ্ঠ ও সপ্তম ব্যাটার কুশল মাল্লা ও দীপেন্দ্র সিং আইরি।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে তানজিমকে চার মেরে ইনিংস শুরু করলেও তাকে ওই একটি বাউন্ডারিই মারতে পেরেছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা। মাঝের দুটি ওভার মেইডেন এবং শেষের ওভারে দুটি সিঙ্গেল দেন তিনি। আর ওয়াইড থেকে আরও এক রানে মোট সাত রান দিয়েছেন প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা এই বোলার।
প্রথম ওভারে ৫ রান দিয়ে উইকেট না পেলেও দলীয় তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় ওভারেই জোড়া সাফল্য পান তানজিম। পঞ্চম ওভারে ফের মেইডেনসহ এক উইকেট নিলে ষষ্ঠ ওভারে চার রান দিয়ে আরও একটি উইকেট তোলেন মুস্তাফিজ। ফলে পাওয়ার প্লেতে ২৪ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় নেপাল।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না বোল্টকে!
সপ্তম ওভারে নিজের স্পেলের শেষ ওভার বোলিংয়ে এসে আরও একটি উইকেটের দেখা পান তানজিম। সাত ওভার শেষে ২৬ রানে ৫ উইকে হারানো নেপালেকে এরপর পথ দেখান কুশল ও দীপেন্দ্র। এই দুজনে মিলে ৫২ রানের জুটি গড়ে টাইগারদের হারানোর শঙ্কায় ফেলেন। তবে ১৬.৪তম ওভারে ব্রেকথ্রু এনে দলকে স্বস্তি এনে দেন মুস্তাফিজ। পরের ওভারে তাসকিনকে একটি ছক্কা হাঁকিয়ে বিদায় নেন দীপেন্দ্রও। ১৯তম ওভারটি মেইডেন দিয়ে মুস্তাফিজ আরও একটি উইটেক নিলে পরের ওভারের প্রথম দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে বাকি কাজটুকু সারেন সাকিব।
ফলে ২১ রানের জয় নিয়ে শেষ আটের টিকিট কেটে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি সবচেয়ে কম রান করে প্রতিপক্ষকে আটকে দেওয়ার ঘটনা।
মজার বিষয় হচ্ছে এই তালিকার প্রথম পাঁচটির চারটিই চলতি বিশ্বকাপে ঘটেছে। দ্বিতীয় রেকর্ডটি দক্ষিণ আফ্রিকার, বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১৪ রান করেও জয় পেয়েছিল তারা। তৃতীয়টিও তাদের, এই নেপালের বিপক্ষেই ১১৬ রানের।
সুপার এইটের ‘গ্রুপ ১’ এ ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তানকে পেয়েছে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে খেলার লক্ষ্যে আগামী ২১ জুন অস্ট্রেলিয়া, ২২ জুন ভারত ও ২৫ জুন আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।
৬৮৭ দিন আগে
বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না বোল্টকে!
কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে স্বেচ্ছায় সরে গেলেও বিশ্বকাপের আগে দলে ফিরতেন ট্রেন্ট বোল্ট। তবে আগামীতে ওয়ানডে হোক বা টি-টোয়েন্টি, বিশ্বকাপে তাকে হয়তো আর দেখা যাবে না।
শনিবার উগান্ডার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে বোল্ট জানান, ‘এটিই আমার শেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।’
‘নিয়ম রক্ষার’ ম্যাচে উগান্ডাকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করলেও এর আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে নিউজিল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারার পর, দল দুটি তিনটি করে ম্যাচ জেতার সঙ্গে সঙ্গেই নিউজিল্যান্ডের শেষ আটের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়।
সোমবার (১৭ জুন) পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি খেলবে কিউইরা। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই তাই বোল্টের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্রিকেটযাত্রা শেষ হতে চলেছে।
আগামী ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাকে আর দেখা যাবে না। এর এক বছর পর ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি থাকবেন কি না, তা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়ে যায়।
কারণ, পরিবারকে সময় দিতে ২০২২ সালে আগস্ট মাসে স্বেচ্ছায় নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের (এনজেডসি) কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তারপর থেকেই দলে অনিয়মিত তিনি। এই দুই বছরে বেছে বেছে কয়েকটি মাত্র ম্যাচে তাকে ব্ল্যাক ক্যাপ পরে মাঠে দেখা গেছে। তাই ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে তাকে পাওয়া যে একপ্রকার অসম্ভব, তা ধরে নেওয়াই যায়।
তবে জাতীয় দলে না খেললেও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তাকে দেখা যেতে পারে।
২০১৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা বোল্ট এখন পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে ১৭ ম্যাচ খেলে উইকেট নিয়েছেন ৩২টি। এবারের বিশ্বকাপেও তিন ম্যাচ খেলে ৭টি উইকেট নিয়েছেন তিনি, রান দিয়েছেন মোটে ৪৫।
৬৮৮ দিন আগে
বৃষ্টিতে ডুবল পাকিস্তানের স্বপ্ন, শেষ আটে যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই সুপার এইটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এই স্বপপূরণে নিজেদের শেষ ম্যাচে আইরিশদের বধ করতে হতো তাদের। তবে বৃষ্টি এসে বিনা কষ্টেই যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নপূরণ করে দিয়েছে।
এতে কপাল পুড়েছে পাকিস্তানের। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে তাদের সুপার এইটে ওঠার সম্ভাবনা জটিল সমীকরণের মধ্যে পড়ে যায়।
শুক্রবার আয়ারল্যান্ড জিতলেই কেবল শেষ আটের স্বপ্ন বেঁচে থাকত পাকিস্তানের। এরপর গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ভাগ্য নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তা পরিবর্তনের চেষ্টা করতে হতো বাবর আজমের দলের। তবে বৃষ্টিতে ম্যাচটি ভেসে যাওয়ায় তাদের সেই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। চার ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার এইটে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃষ্টির কারণে এ ম্যাচে টস হতে দেরি হয়। প্রাথমিকভাবে রাত আটটার পরিবর্তে সাড়ে ৮টায় টস হওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও ভেজা মাঠের কারণে কয়েক ঘণ্টায় বেশ কয়েকবার মাঠের অবস্থা পরীক্ষা করেন দুই আম্পায়ার। তবে শেষ পর্যন্ত খেলার সম্মতি দিতে ব্যর্থ হন তারা।
এর ফলে পাকিস্তানের পাশাপাশি কানাডা ও আয়ারল্যান্ডেরও সব সমীকরণ শেষ হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: সুপার এইটের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র
৬৮৯ দিন আগে
পালাবদলের ম্যাচটি জিতে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ
টি-টোয়েন্টিতে ১৬০ রানের লক্ষ্য খুব বেশি বড় না হলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২৫ রানের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে শেষ আটে ওঠার দৌড়ে ডাচদের পেছনে ফেলে এক ধাপ এগিয়ে গেল টাইগাররা।
বৃহস্পতিবার কিংসটাউনের আরনোস ভেল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস হেরে শুরুতে ব্যাট করে পাঁচ উইকেটে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে আট উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রানে থামে নেদারল্যান্ডসের ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। এর মধ্যে পঞ্চদশ ওভারে তার জোড়া উইকেটই ম্যাচের মোড় বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। এছাড়া তাসকিন দুটি এবং মুস্তাফিজ, তানজিম সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ পেয়েছেন একটি করে উইকেট।
ডাচদের হয়ে সাইব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখট ৩৩, বিক্রমজিত সিং ২৬ ও স্কট এডওয়ার্ডস ২৫ রান করেন।
অপরাজিত ৬৪ রানের ইনিংসটির জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন সাকিব আল হাসান।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে টিকিয়ে রেখে সুপার এইটে ভারত
এদিন দ্বিতীয় ইনিংসে বেশ কয়েকবার ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে দেখা যায়। শুরুতে ডাচদের পক্ষে তো কয়েক ওভার পর টাইগারদের দিকে। আবার মাঝে ডাচরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন তো স্লগ ওভারে বাংলাদেশি বোলাররা ঝলক দেখিয়েছেন।
১৬০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সাবধানী শুরু করে নেদারল্যান্ডস। তবে পঞ্চম ওভারে দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন তাসকিন। ওভারের দ্বিতীয় বলটি বাউন্সার দেন তিনি। মাইকেল লেভিট বলটি সুইপ করতে গেলে উপরে উঠে যায়, আর পয়েন্ট অঞ্চল থেকে তা তালুবন্দি করেন তৌহিদ। এক ছক্কা ও দুটি চারে ১৬ বলে ১৮ রান করা লেভিট ফিরলে দলীয় ২২ রানে প্রথম উইকেট হারায় ডাচরা।
পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে অপর ওপেনার ম্যাক্স ওডাউডকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে দেন তানজিম সাকিব। এরপর ডাচদের রানের পালে হাওয়া দেন বিক্রমজিত সিং ও এঙ্গেলব্রেখট। কিন্তু দশম ওভারে বিক্রমজিত আউট হয়ে যান। ৩ ছক্কার সাহায্যে ১৬ বলে ২৬ করে তিনি যখন বিদায় নিচ্ছেন, তখন স্কোর ৯.৩ ওভারে ৬৯/৩।
এরপর অধিনায়ক এডওয়ার্ডস এসেও রানের চাকা সচল রাখেন।
বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ এবং বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচ নিউ ইয়র্কের স্লো উইকেটে খেলা বাংলাদেশি বোলারদের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল; মাঠের খেলা থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, সিঙ্গেলস, ডাবলস, বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারিতে রানরেট বাড়িয়েই চলেছিলেন এঙ্গেলব্রেখট ও এডওয়ার্ডস। কয়েক ওভারের মধ্যেই ম্যাচটি একপেশে করে ফেলার ইঙ্গিত দেন এই দুই ব্যাটার।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের হারে ‘আইসিসির আইনকে’ কাঠগড়ায় তুললেন বিশ্লেষকরা
তবে পঞ্চদশ ওভারে জোড়া উইকেট নিয়ে দলকে পথ দেখান রিশাদ। ওই ওভারের চতুর্থ বলে এঙ্গেলব্রেখটকে ক্যাচ নেন তানজিম সাকিব এবং শেষ বলে নতুন ব্যাটার বাস ডি লিডকে স্ট্যাম্পিং করে দেন লিটন দাস। লিটনের স্ট্যাম্পিংটি ছিল দর্শনীয়।
এর ফলে ১১১ রানে চতুর্থ ও পঞ্চম উইকেট হারিয়ে বেকায়দায় পড়ে যায় নেদারল্যান্ডস। কারণ পাঁচজন বোলার নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন স্কট এডওয়ার্ডস। অলরাউন্ডার না থাকায় বাংলাদেশি বোলারদের সামনে আর দাঁড়াতেই পারেননি পরবর্তী ব্যাটাররা।
ছয় রানের ব্যবধানে ১৭তম ওভারের প্রথম বলে স্কট এডওয়ার্ডসের উইকেটটিও তুলে নেন মুস্তাফিজুর। মূলত চাপে পড়েই মেরে খেলতে গিয়ে ক্যাচ হয়ে যান নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক। পরের ওভারের প্রথম বলে ভ্যান বিককে কট অ্যান্ড বোল্ড করেন রিশাদ। ফলে ১১৭ রানে ষষ্ঠ ও সপ্তম উইকেট হারায় নেদারল্যান্ডস।
এরপর আরিয়ান দত্ত উইকেটে এসে কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষরক্ষা আর হয়নি। শেষ ওভারে নেদারল্যান্ডসের দরকার ছিল ৩৩ রান। আরিয়ানের এক চারে ওই ওভারে ৭ রান সংগ্রহ করে ডাচরা। শেষ বলে টিম প্রিঙ্গলকে বোল্ড করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠ ছাড়েন তাসকিন-শান্তরা।
এ জয়ের ফলে তিন ম্যাচের দুটি জিতে চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থান পোক্ত করল বাংলাদেশ। তিনটি করে ম্যাচ খেলে নেদারল্যান্ডসের পয়েন্ট ২ এবং শ্রীলঙ্কার ১। অন্যদিকে, দুই ম্যাচ হেরে নেপাল এখনও কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি।
বাংলাদেশের জয়ে ‘ডি’ গ্রুপের প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছে শ্রীলঙ্কা।
আগামী সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে পাঁচটায় নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তার এক ঘণ্টা পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে নামবে নেদারল্যান্ডস। সোমবারের ম্যাচে জয় পেলেই টাইগারদের সুপার এইটে খেলা নিশ্চিত হয়ে যাবে।
৬৯১ দিন আগে