ক্রিকেট
এখান থেকে যা পাব, তাই আমাদের জন্য বোনাস: হাথুরুসিংহে
সেমিফাইনালে খেলতেই হবে- এমন চাপ নিয়ে টাইগাররা রাতের ঘুম হারাম করছে না বলে জানিয়েছেন কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে। তিনি বলেছেন, কঠিন গ্রুপে পড়েও সুপার এইটে আসতে পেরে আমরা খুশি।
খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে বরং স্বাধীনভাবে খেলতে দিতে চান তিনি। বলেছেন, এই পর্যায়ে এসে এখন যেটুকু অর্জন করতে পারি, সেটাই আমাদের জন্য বোনাস।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার মতো দলের সঙ্গে এক গ্রুপে পড়েছিল বাংলাদেশ। সঙ্গে আরও ছিল সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টিতে আলো ছড়ানো এশিয়ার রাইজিং স্টার নেপাল এবং ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে টক্কর দেওয়া নেদারল্যান্ডস। এমন প্রতিযোগিতার মাঝেও দ্বিতীয় সেরা দল হওয়ায় শিষ্যদের তারিফ করতে ভুললেন না তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে অভিজ্ঞ এই কোচ বলেন, ‘সুপার এইটে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই আমরা (বিশ্বকাপে) খেলতে এসেছিলাম। সেই লক্ষ্য আমরা দারুণভাবে অর্জন করেছি। বোলাররাই আমাদের টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রেখেছে।’
‘আমরা কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছি এবং কন্ডিশনের সদ্ব্যবহারও করেছি ঠিকঠাক।’
আরও পড়ুন: নেপালকে হারিয়ে সুপার এইটে বাংলাদেশ
সুপার এইটে প্রতিপক্ষ স্বাভাবিকভাবেই তুলনামূলক শক্তিশালী। ভারত, অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি আছে এশিয়ার আরেক দল আফগানিস্তানও। টি-টোয়েন্টিতে তারা সবাই বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। তাই দলকে প্রত্যাশার চাপ না দিয়ে নির্ভার রাখতে চান কোচ হাথুরুসিংহে।
‘এখানে আসতে পেরেছি, এতেই আমরা খুশি। এখন যতটা পারি এগিয়ে যেতে হবে। এখান থেকে যতটুকু পাব, তা-ই আমাদের জন্য বোনাস। তাই আমরা এখন অনেক স্বাধীনতা নিয়ে খেলব এবং তিনটি দলকেই যতটা সম্ভব চ্যালেঞ্জ জানাব।’
তবে পরক্ষণেই স্বাধীনতার বিষয়টি খোলাসা করেন তিনি, ‘স্বাধীনতা নিয়ে খেলার মানে এই নয় যে, খেলোয়াড়রা দলে নিজেদের ভূমিকা থেকে, দায়িত্ব থেকে সরে যাবে।’
‘তবে আমরা খেলি তো মূলত খেলাটাকে উপভোগ করার জন্য, তাই না? ছেলেদের কাছ থেকে এটি কেড়ে নিতে চাই না। তার মানে এই না যে, তাদের যা খুশি করার লাইসেন্স আছে; দলের প্রতি প্রত্যেকেরই নির্দিষ্ট দায়িত্ব আছে।’
তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, তারা স্বাধীনভাবে খেলে উপভোগ করবে, তা সে দেশ, ক্লাব বা পার্ক ক্রিকেট যেখানেই খেলুক। এজন্যই তো আমরা এই খেলাটি শুরু করেছি। উপভোগের বিষয়টি সবসময়ই সামনে থাকবে। তবে সবারই দলের প্রতি কিছু দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে যাচ্ছে টাইগাররা
টাইগারদের দায়িত্ব নেওয়ার আগে নিউ সাউথ ওয়েলস ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের সম্পর্কে ধারণা রয়েছে লঙ্কান এই কোচের। এ বিষয়টি শুক্রবার সকালের ম্যাচে কাজে লাগবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে উল্টো সায় দেন তিনি।
‘বছরখানেক আগে তাদের সঙ্গে ছিলাম আমি। তাদের অনেকের সম্পর্কেই জানি। তারা অসাধারণ খেলোয়াড় এবং নিজেদের খেলা নিয়ে খুবই আত্মবিশ্বাসী। তাদের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আমরা জানি, তবে সেসব কালকের খেলায় প্রভাব ফেলবে না বলে আমার মনে হয়।’
‘ম্যাচের দিনের কন্ডিশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কন্ডিশনকে আমরা কীভাবে কাজে লাগাতে পারি, তা নিয়ে পরিকল্পনা করছি।’
আরও পড়ুন: আচরণবিধি ভেঙে শাস্তি পেলেন তানজিম
৭২৯ দিন আগে
সেমির মিশনে আফগানদের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে ভারত
অপরাজিত থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করার পর এবার সেমিফাইনালের মিশনে মাঠে নেমেছে ভারত। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টস জিতেছেন রোহিত শর্মা।
বৃহস্পতিবার বার্বাডোজের কিংস্টন ওভালে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। ফলে শুরুতে ফিল্ডিংয়ে নেমেছে আফগানরা।
আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে রোহিত শর্মা বলেন, ‘উইকেটে ঘাস রয়েছে। ফলে সময়ের সঙ্গে তা স্লো হয়ে যাবে। তাই আগে ব্যাটিং করতে চাই।’
আফগানদের বিপক্ষে পেসার মোহাম্মদ সিরাজকে বিশ্রাম দিয়ে একজন অতিরিক্ত স্পিনার নিয়েছে ভারত। তার পরিবর্তে কুলদীপ যাদব মাঠে নামছেন বলে জানিয়েছেন রোহিত।
আরও পড়ুন: অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেও হারল যুক্তরাষ্ট্র
অন্যদিকে, টস জিতলে আগে ব্যাটিং নিতেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খানও।
তিনি বলেন, ‘যাইহোক, এখন আমাদের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। (সুপার এইটে) দারুণ সব প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হবে আমাদের। আজকের ম্যাচে আবেগ ধরে রাখাটাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলে ভালো কিছু হবে আশা করছি।’
একাদশে এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে আফগানিস্তানও। বোলিং অলরাউন্ডার করিম জানাতের পরিবর্তে ব্যাটার হজরতউল্লাহ জাজাইকে দলে ডাকা হয়েছে।
ভারত একাদশ: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), বিরাট কোহলি, ঋষভ পান্ত (উইকেটরক্ষক), সূর্যকুমার যাদব, শিবম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, আর্শদীপ সিং ও জাসপ্রিত বুমরাহ।
আফগান একাদশ: রশিদ খান (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), ইব্রাহিম জাদরান, হজরতউল্লাহ জাজাই, গুলবাদিন নায়েব, নাজিবউল্লাহ জাদরান, আজমাতউল্লাহ ওমরজাই, মোহাম্মদ নবী, নূর আহমদ, নবীন-উল-হক ও ফজলহক ফারুকি।
আরও পড়ুন: ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত জয়
৭২৯ দিন আগে
সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে যাচ্ছে টাইগাররা
দুই টেস্ট ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে সেপ্টেম্বর মাসে ভারত সফর করবে টাইগাররা। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথম টেস্ট শুরু হয়ে ১২ অক্টোবর তৃতীয় টি-টোয়েন্টির মাধ্যমে সফর শেষ হবে।
২০২৪-২৫ মৌসুমের সময়সূচি ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ক্রিকবাজে প্রকাশিত সময়সূচিতে বাংলাদেশের ভারত সফরের কথাও বলা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, টাইগারদের বিপক্ষে চেন্নাইয়ে এমএ চিদাম্বারাম স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট ম্যাচ এবং কানপুরে দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। এর পরে ধর্মশালা, দিল্লি ও হায়দ্রাবাদে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
টেস্ট ম্যাচ দুটি স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের হারে ‘আইসিসির আইনকে’ কাঠগড়ায় তুললেন বিশ্লেষকরা
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে দেশে ফিরবে বাংলাদেশ। এরপর নিউজিল্যান্ডকে আতিথ্য দেবে ভারত। কিউইদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবেন রোহিত শর্মারা।
এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও সিরিজ আছে তাদের। ইংলিশদের বিপক্ষে ৫টি-টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে খেলবে ভারত। ২২ জানুয়ারি শুরু হওয়া সিরিজটি শেষ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
সিরিজ শেষে পাকিস্তানে হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ নেবে রোহিত-কোহলিরা।
বাংলাদেশের ভারত সফরের সূচি:
ম্যাচ
ভেন্যু
তারিখ
সময় (বাংলাদেশ)
প্রথম টেস্ট
চেন্নাই
১৯ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর
সকাল ১০টা
দ্বিতীয় টেস্ট
কানপুর
২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ অক্টোবর
সকাল ১০টা
প্রথম টি-টোয়েন্টি
ধর্মশালা
৬ অক্টোবর
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি
দিল্লি
৯ অক্টোবর
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা
তৃতীয় টি-টোয়েন্টি
হায়দারাবাদ
১২ অক্টোবর
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা
৭২৯ দিন আগে
ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত জয়
গ্রুপ পর্বে ভুগলেও দুর্দান্ত জয়ে সুপার এইট যাত্রা শুরু করল টি-টোয়েন্টির বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে জস বাটলার অ্যান্ড কোং।
সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন সামি জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন জস বাটলার। শুরুতে ব্যাট করে চার উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান করে স্বাগতিকরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৫ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় ইংল্যান্ড।
ইংলিশদের হয়ে ৪৭ বলে ৫টি ছক্কা ও ৭টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ৮৭ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন ওপেনার ফিলিপ সল্ট। অন্যপ্রান্তে ২৬ বলে ২ ছক্কা ও ৫টি চারে ৪৮ রানে অপরাজিত ছিলেন জনি বেয়ারস্টো।
এছাড়া, ২২ বলে ২৫ রান করা বাটলারকে এলবিডব্লিউ করেন রোস্টন চেস এবং আন্দ্রে রাসেলের বলে জনসন চার্লসের হাতে ক্যাচ হয়ে ফেরেন ১০ বলে ১৩ রান করা মঈন আলী।
আরও পড়ুন: অধিনায়কত্ব ছাড়লেন উইলিয়ামসন
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম ওভারটি দেখেশুনে খেললেও পরের ওভার থেকেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন দুই ইংলিশ ওপেনার বাটলার ও সল্ট। প্রথম পাওয়ার প্লেতে ৫৮ রান তোলেন তারা। অষ্টম ওভারে বাটলার আউট হয়ে গেলে মঈন আলী এসেও রান তোলা অব্যাহত রাখেন। এর ফলে প্রথম ১০ ওভারে ৮৩ রান তোলে ইংল্যান্ড।
তবে এর পরপরই মঈন আউট হয়ে গেলে উইকেটে আসেন জনি। এরপর দুপাশ থেকে শুরু হয় ব্যাটিং তাণ্ডব। একে অপরের সঙ্গে রান তোলার প্রতিযোগিতা শুরু হয় দুজনের। এর মাঝে পড়ে পিষ্ট হন ক্যারিবীয় বোলাররা। শেষ পর্যন্ত আর উইকেট নিতে না পেরে ১৭.৩তম ওভারে আত্মসমর্পণ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এর আগে, দুর্দান্ত শুরুর পরও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় রানের চাকা কিছুটা শ্লথ হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। শুরুতে ব্রেন্ডন কিং (১৩ বলে ২৩ রান) মেরে খেলা শুরু করলেও জনসন চার্লস (৩৪ বলে ৩৮ রান) একটু ধরে খেলেন।
জনসন আউট হয়ে গেলে ক্রিজে এসে তার ভূমিকা পালন করেন অধিনায়ক নিকোলাস পুরান (৩২ বলে ৩৬ রান)। তবে রোভমান পাউয়েল (১৭ বলে ৩৬) ও শেরফেন রাদারফোর্ডের (১৫ বলে ২৮) ক্যামিও ইনিংসে ১৮০ রান সংগ্রহ করে মাঠ ছাড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাঝে আন্দ্রে রাসেল ২ বলে ১ রান করে আদিল রশিদের শিকার হলে মূলত উইন্ডিজের রান রেট শেষের দিকে তুলনামূলক কমে যায়।
এই জয়ে নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষস্থানে বসল ইংল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জিতে দ্বিতীয় অবস্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমি ফাইনালে অবস্থান মজবুত করতে ২১ জুন মুখোমুখি হবে এই দুই দল। অন্যদিকে, সেমির দৌড়ে টিকে থাকতে একদিন পর মাঠে নামবে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আরও পড়ুন: অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেও হারল যুক্তরাষ্ট্র
৭২৯ দিন আগে
অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেও হারল যুক্তরাষ্ট্র
১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রোটিয়া বোলারদের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটাররা দাঁড়াতে পারবেন কি না, তা নিয়েই ছিল সংশয়। শুরুতে থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও মাঝে ৯১ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে জয়ের ইঙ্গিত দেয় স্বাগতিকরা। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন কাগিসো রাবাদা। ফলে তীরে গিয়ে তরী ডুবল যুক্তরাষ্ট্রের।
দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১৮ রানে হেরেছে যুক্তরাষ্ট্র।
৬ উইকেটে ১৭৬ রান সংগ্রহ করতে গিয়ে ওপেনার অ্যান্ড্রিস গাউস করেন অপরাজিত ৮০ রান। ৪৭ বলে তার এই ইনিংসটি ছিল পাঁচটি করে ছক্কা ও চারের মারে সাজানো। এছাড়া সপ্তম ব্যাটার হারমিত সিং করেন ২২ বলে ৩৮ রান।
নির্ধারিত চার ওভারে মাত্র ১৮ রানে তিন উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন রাবাদা। তবে ব্যাট হাতে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়া এবং উইকেটের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন কুইন্টন ডি কক।
আরও পড়ুন: আচরণবিধি ভেঙে শাস্তি পেলেন তানজিম
বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই রান তোলায় মনোযোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। প্রতি ওভারে বাউন্ডারি ওভার বাউন্ডারিতে ইনিংসের শুরুতেই রানের ঘোড়া ছুটিয়ে দেন স্টিভেন টেইলর ও অ্যান্ড্রিস গাউস।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারে রাবাদার হাতে বল তুলে দেন মার্করাম। বোলিংয়ে এসে তৃতীয় বলেই দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন তিনি। ওভারের প্রথম বলটি চার মেরে শুরু করে পরের বলে সিঙ্গেল নেন গাউস। তবে তৃতীয় ওভারে রাবাদাকে মোকাবিলা করতে গিয়েই আউট হয়ে যান টেইলর। ১৪ বলে ১ ছক্কা ও চারটি চারে ২৪ রান করে দলীয় ৩৩ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
পরের ওভারে দুটি ছক্কার সাহায্যে ১৭ রান তোলে যুক্তরাষ্ট্র। সেইসঙ্গে দলীয় ৫০ পার করে তারা। তবে এর পরের ওভারে রাবাদা এসে ফের উইকেট নেন। আবারও ওভারের তৃতীয় বলে নতুন ব্যাটার নিতীশ কুমারের উইকেটটি তুলে নেন তিনি।
সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলে অধিনায়ক অ্যারন জোনসের উইকেট তুলে নেন কেশব মহারাজ। মহারাজের প্রথম ওভারেই এজ হয়ে ডি ককের গ্লাভসে কট বিহাইন্ড হয়ে যান তিনি।
ফলে ৭ ওভার শেষে ৫৭ রানে তিন উইকেট হারায় যুক্তরাষ্ট্র। এক পাশ থেকে যখন ব্যাটারদের নিয়মিত ক্রিজে আসা-যাওয়া চলছিল, তখন অপর প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন গাউস। এরপর কোরি অ্যান্ডারসনের সঙ্গে বড় জুটি গড়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে সে প্রচেষ্টা খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
দশম ওভারের দ্বিতীয় বলে আনরিখ নর্টিকিয়াকে ছক্কা হাঁকান কোরি অ্যান্ডারসন। কিন্তু তার পরের বলেই উইকেট উপড়ে দেন নর্টকিয়া। ফলে ১২ বলে ১২ রান করে ফেরেন অ্যান্ডারসন।
১০ ওভার শেষে যুক্তরাষ্ট্রর স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৩ রান।
এরপর দ্বাদশ ওভারের প্রথম বলেই সায়ান জাহাঙ্গীরকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তাবরাইজ শামসি।
৭৬ রানে ৫ উইকেট হারানোর পরপরই মনোভাব বদলে ফেলেন গাউস ও নতুন ক্রিজে আসা ব্যাটার হারমিত সিং। উইকেটের দুইপাশ থেকেই সমানে ব্যাট চালাতে শুরু করেন তারা। এতে সফলও হন। ১১.১তম ওভারে ৭৬ রান থেকে ৬ ওভারের ব্যবধানে দলীয় সংগ্রহ ১৪৬ রানে নিয়ে যান এ দুজন।
আরও পড়ুন: অধিনায়কত্ব ছাড়লেন উইলিয়ামসন
রানের এ ধারা অব্যাহত রাখায় শেষ দুই ওভারে ২৮ রানের সমীকরণে চলে আসে যুক্তরাষ্ট্রের ইনিংস। তার আগের ওভারেই ২২ রান নেন এই দুই ব্যাটার।
তবে ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই রাবাদাকে ছক্কা মারতে গিয়ে সীমান্তে ধরা পড়েন হারমিত সিং। ৪৩ বলে ৯১ রানের জুটি গড়ে হারমিত বিদায় নিলে বড় ধাক্কা খায় যুক্তরাষ্ট্র। এখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তার। ২২ বলে ৩৮ রান করা হারমিত তিনটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন।
এরপর নতুন ব্যাটার জেসি সিং পরের দুই বল ডট খেলে চতুর্থ বলে গাউসকে স্ট্রাইক দেন। বাকি দুই বলে এক রান হলে শেষ ওভারে ২৬ রানের প্রয়োজন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের।
তবে নর্টকিয়ার ওই ওভারে ৭ রান সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে শেষ পর্যন্ত ১৮ রানের জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অপরদিকে, হেরেও গর্বের সঙ্গে মাঠ ছাড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নবাগত যুক্তরাষ্ট্র।
এই জয়ে সুপার এইটে নিজেদের তিন ম্যাচের প্রথমটি জিতে সেমিফাইনালের দিকে এক ধাপ এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। আর যুক্তরাষ্ট্রের সেমি ফাইনাল খেলা অনিশ্চয়তায় পড়ে গেল। গ্রুপে তাদের অপর দুই প্রতিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড।
২১ জুন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা। একদিন পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করল দক্ষিণ আফ্রিকা
৭৩০ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করল দক্ষিণ আফ্রিকা
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট খেলতে নেমেই স্বরূপে ফিরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমে ব্যাটিং করে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ১৯৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছে আইডেন মার্করামের দল।
বুধবার অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ড স্টেডিয়ামে টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আগে ব্যাট করতে পাঠান যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক অ্যারন জোনস। শুরুতে ব্যাটিং করে চার উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রান সংগ্রহ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
এদিন ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন প্রোটিয়া উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি কক। তার ব্যাট থেকেই দলীয় সর্বোচ্চ ৭৪ রান আসে। ৪০ বল মোকাবিলায় ৫টি ছক্কা ও ৭টি চারের সাহায্যে এই রান করেন তিনি। এছাড়া মার্করাম ৩২ বলে ৪৬, হাইনরিখ ক্লাসেন ২২ বলে অপরাজিত ৩৬ এবং ট্রিস্টান স্টাবস ১৬ বলে অপরাজিত ২০ রান করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সৌরভ নেত্রভালকার ও হারমিত সিং দুটি করে উইকেট নেন। বড় স্কোরের দিনও এই দুই বোলার ছিলেন যথেষ্ঠ ইকোনোমিক। সৌরভ চার ওভারে ২১ ও হারমিত ২৪ রান দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: অধিনায়কত্ব ছাড়লেন উইলিয়ামসন
ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই চালিয়ে খেলতে থাকা রিজা হেন্ড্রিকসকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ২.৪তম ওভারে মিড-অফ অঞ্চলে কোরি অ্যান্ডারসনের হাতে ধরা পড়েন হেন্ড্রিকস। তিনি ১১ রান করে ফিরে গেলে দলীয় ১৬ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
এরপর ১১০ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথ দেখিয়ে হারমিতের বলে ক্যাচ হয়ে মাঠ ছাড়েন ডি কক। ১২.২তম ওভারে হারমিতের করা ফুল টস ডেলিভারিটি উড়িয়ে মেরেছিলেন প্রোটিয়া ওপেনার। তবে বল দূরত্ব না পাওয়ায় ডিপ মিড-উইকেটে সায়ান জাহাঙ্গীরের তালুবন্দি হন তিনি। পরের বলেই নতুন ব্যাটার ডেভিড মিলারকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে দেন হারমিত। এর ফলে ১২৬ রানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় উইকেট পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার।
এরপর ১৫তম ওভারের শেষ বলে সৌরভের দ্বিতীয় শিকার হন আরেক সেট ব্যাটার মার্করাম। ফলে ১৪১ রানে পড়ে চতুর্থ উইকেট। এরপর ম্যাচের বাকি কাজটুকু শেষ করেন ক্লাসেন ও স্টাবস।
গ্রুপপর্বের প্রতিটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের স্লো উইকেটে খেলার কারণে কোনো ম্যাচেই বড় সংগ্রহ করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়েই ব্যাটিং ঝলক দেখা গেল দলটির ব্যাটারদের কাছ থেকে। সেমি ফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে যেতে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই তাদের।
আরও পড়ুন: আচরণবিধি ভেঙে শাস্তি পেলেন তানজিম
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সেক্ষেত্রে তারাও প্রথমবারের মতো নিজ দেশের মাটি, দর্শক ছেড়ে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে খেলতে গিয়েছে। প্রথমবার অংশ নিয়েই সেমি ফাইনাল খেলার গৌরব অর্জন করতে চাইবে আন্তর্জিাতিক ক্রিকেটে নবাগত এই দলটিও। তাই প্রোটিয়া বোলারদের বিপক্ষে তাদের ব্যাটাররা কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারবে, তার ওপরই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের ভাগ্য।
৭৩০ দিন আগে
অধিনায়কত্ব ছাড়লেন উইলিয়ামসন
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যাওয়ার পর এবার নিউজিল্যান্ডের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলেন কেইন উইলিয়ামসন। শুধু তাই নয়, ২০২৪-২৫ মৌসুমের নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।
বুধাবার (১৯ জুন) তিনি এ ঘোষণা দেন।
বিদেশি লিগ খেলতেই মূলত তিনি জাতীয় দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী গ্রীষ্মে বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ খুঁজছেন তিনি। তাই জাতীয় দলের সঙ্গে চুক্তি করতে চান না। তবে কিউইদের জার্সিতে খেলতে তিনি সবসময় প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন।
‘বিভিন্ন ফরম্যাটে আমি দলকে এগিয়ে নিতে উৎসাহী এবং এমন কিছুতে আমি সবসময় অবদান রাখতে চাই। তবে, গ্রীষ্মে একটি বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ রয়েছে আমার। সেকারণে নিউজিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তির প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারছি না।’
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না বোল্টকে!
তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলা আমার কাছে সবসময়ই মূল্যবান। দলকে প্রতিদান দেওয়ার ইচ্ছা আমার সবসময় আছে। তবে, ক্রিকেটের বাইরে আমার জীবনে পরিবর্তন এসেছে। এখন পরিবারকে সময় দিতে চাই। এর জন্য পরিবারের সঙ্গে দেশ-বিদেশে সময় কাটানো আমার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
কেন্দ্রীয় চুক্তিতে না থাকলেও দলের প্রয়োজনে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে তাকে ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্কট ওয়েনিঙ্ক।
তিনি বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা খেলোয়াড়দের সবসময় (একাদশ নির্বাচনে) অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও উইলিয়ামসন এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। বিশেষ করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠের জন্য আমরা এটুকু ব্যতিক্রম হতেই পারি। সে নিজেও দলের প্রতি অনুগত।’
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে যাতে সে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে সহযোগিতা করতে পারে, সে কারণে তাকে শুধু বর্তমানেই নয়, আগামীতেও এই ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে।’
‘জানুয়ারি পর্যন্ত আমাদের সূচি একেবারেই খালি। তবে এর পরও তাকে দলে পাবো বলে আশা করছি।’
উইলিয়ামসনের অধিনায়কত্বে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ব্ল্যাকক্যাপসদের।
আরও পড়ুন: আচরণবিধি ভেঙে শাস্তি পেলেন তানজিম
২০২২ সালে টেস্টের অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন উইলিয়ামসন। তার নেতৃত্বে ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে দুঃখজনকভাবে ইংল্যান্ডের কাছে হারে নিউজিল্যান্ড। এরপর ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারে তার দল। তবে ২০২১ সালের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে জিতে প্রথম টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ঘরে তোলে নিউজিল্যান্ড।
উইলিয়ামসনের আগে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। এছাড়া লকি ফার্গুসনও কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সই করতে নারাজ। এমন পরিস্থিতিতে নতুন অধিনায়ক নির্বাচন করতে হবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকে। আগামী মাসে নতুন চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করতে পারে তারা।
৭৩০ দিন আগে
আচরণবিধি ভেঙে শাস্তি পেলেন তানজিম
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ জিতে প্রায় অর্ধ যুগ পর সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে নেপালের বিপক্ষে আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগে শাস্তি পেয়েছেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব।
শাস্তি হিসেবে তানজিমের ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সেই সঙ্গে তার নামের পাশে যুক্ত হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট।
ঘটনা নেপালের ইনিংসের তৃতীয় ওভারের। ওই ওভারটি মেইডেন নেন তানজিম। প্রথম চার বলে নেপালের দুই ব্যাটারকে আউট করার পর ক্রিজে আসেন অধিনায়ক রোহিত পাউড়েল। প্রথম বলটি ঠেকানোর পর দ্বিতীয়, অর্থাৎ ওভারের শেষ বলটি থেকেও কোনো রান নিতে না পারায় রোহিতের সঙ্গে বিবাদে জড়ান তানজিম। সেসময় হঠাৎ রোহিতের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান তিনি। এমনকি তাকে বুক দিয়ে ধাক্কা মেরেও বসেন তানজিম।
আরও পড়ুন: নেপালকে হারিয়ে সুপার এইটে বাংলাদেশ
কী ঘটেছিল সেই সময়- ম্যাচ শেষে এমন প্রশ্নের জবাবে রোহিত বলেন, সাকিব তাকে বলেছিলেন- মেরে দেখাও। এরপর তিনি ফিরতি উত্তরে বলছিলেন- যাও বল কর।
এরপর পরপর দুই বলে রান নিতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে যান তানজিম। তারপর ওই ঘটনা ঘটান তিনি। তবে বিষয়টি আইসিসির নিয়ম লঙ্ঘন করায় শাস্তি পেতে হয়েছে তাকে।
আইসিসির কোড অব কন্ডাক্টের ২.১২ ধারা অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড়ের আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি বা অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিকভাবে মুখোমুখি অবস্থানে আসার অনুমতি নেই।
খেলা শেষে ম্যাচ রেফারি রিচি রিচার্ডসনের দেওয়া শাস্তি মেনে নেন তানজিম। ফলে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না বোল্টকে!
সুপার এইট নিশ্চিত করা ওই ম্যাচে অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্য দেখান তানজিম। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরাও হন তিনি। এছাড়া সেদিন চার ওভারের ২১টি বলই ডট দেন তিনি, যা বিশ্বকাপে কোনো বোলারের সর্বোচ্চ ডট বল করার রেকর্ড।
৭৩০ দিন আগে
নেপালকে হারিয়ে সুপার এইটে বাংলাদেশ
১০৬ রানে গুটিয়ে গিয়েও অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সে নেপালের বিপক্ষে ২১ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে ঈদুল আজহার দিন দেশবাসীর আনন্দে বাড়তি খুশি যুক্ত করে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে টাইগাররা।
সোমবার সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নোস ভেল ক্রিকেট গ্রাউন্ডের বোলিংবান্ধব উইকেটে টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান নেপাল অধিনায়ক রোহিত পাউড়েল।
শুরুতে ব্যাট করে তিন বল বাকি থাকতেই ১০৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশি বোলারদেরও তোপের মুখে পড়েন নেপালি ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত চার বল হাতে রেখেই ৮৫ রানে নেপালকে অলআউট করে ২১ রানের জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।
আরও পড়ুন: বৃষ্টিতে ডুবল পাকিস্তানের স্বপ্ন, শেষ আটে যুক্তরাষ্ট্র
এদিন নির্ধারিত ৪ ওভারে মাত্র ৭ রানের খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েছেন তানজিম সাকিব। ম্যাচসেরার পুরস্কারটি তাই উঠেছে তার হাতেই।
মোস্তাফিজুরও ৭ রানের খরচায় নিয়েছেন ৩ উইকেট। এছাড়া সাকিব দুটি ও তাসকিন একটি উইকেট নেন।
নেপালের হয়ে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ২৭ ও ২৫ রান করেন যথাক্রমে ষষ্ঠ ও সপ্তম ব্যাটার কুশল মাল্লা ও দীপেন্দ্র সিং আইরি।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে তানজিমকে চার মেরে ইনিংস শুরু করলেও তাকে ওই একটি বাউন্ডারিই মারতে পেরেছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা। মাঝের দুটি ওভার মেইডেন এবং শেষের ওভারে দুটি সিঙ্গেল দেন তিনি। আর ওয়াইড থেকে আরও এক রানে মোট সাত রান দিয়েছেন প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা এই বোলার।
প্রথম ওভারে ৫ রান দিয়ে উইকেট না পেলেও দলীয় তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় ওভারেই জোড়া সাফল্য পান তানজিম। পঞ্চম ওভারে ফের মেইডেনসহ এক উইকেট নিলে ষষ্ঠ ওভারে চার রান দিয়ে আরও একটি উইকেট তোলেন মুস্তাফিজ। ফলে পাওয়ার প্লেতে ২৪ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় নেপাল।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না বোল্টকে!
সপ্তম ওভারে নিজের স্পেলের শেষ ওভার বোলিংয়ে এসে আরও একটি উইকেটের দেখা পান তানজিম। সাত ওভার শেষে ২৬ রানে ৫ উইকে হারানো নেপালেকে এরপর পথ দেখান কুশল ও দীপেন্দ্র। এই দুজনে মিলে ৫২ রানের জুটি গড়ে টাইগারদের হারানোর শঙ্কায় ফেলেন। তবে ১৬.৪তম ওভারে ব্রেকথ্রু এনে দলকে স্বস্তি এনে দেন মুস্তাফিজ। পরের ওভারে তাসকিনকে একটি ছক্কা হাঁকিয়ে বিদায় নেন দীপেন্দ্রও। ১৯তম ওভারটি মেইডেন দিয়ে মুস্তাফিজ আরও একটি উইটেক নিলে পরের ওভারের প্রথম দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে বাকি কাজটুকু সারেন সাকিব।
ফলে ২১ রানের জয় নিয়ে শেষ আটের টিকিট কেটে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি সবচেয়ে কম রান করে প্রতিপক্ষকে আটকে দেওয়ার ঘটনা।
মজার বিষয় হচ্ছে এই তালিকার প্রথম পাঁচটির চারটিই চলতি বিশ্বকাপে ঘটেছে। দ্বিতীয় রেকর্ডটি দক্ষিণ আফ্রিকার, বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১৪ রান করেও জয় পেয়েছিল তারা। তৃতীয়টিও তাদের, এই নেপালের বিপক্ষেই ১১৬ রানের।
সুপার এইটের ‘গ্রুপ ১’ এ ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তানকে পেয়েছে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে খেলার লক্ষ্যে আগামী ২১ জুন অস্ট্রেলিয়া, ২২ জুন ভারত ও ২৫ জুন আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।
৭৩২ দিন আগে
বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না বোল্টকে!
কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে স্বেচ্ছায় সরে গেলেও বিশ্বকাপের আগে দলে ফিরতেন ট্রেন্ট বোল্ট। তবে আগামীতে ওয়ানডে হোক বা টি-টোয়েন্টি, বিশ্বকাপে তাকে হয়তো আর দেখা যাবে না।
শনিবার উগান্ডার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে বোল্ট জানান, ‘এটিই আমার শেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।’
‘নিয়ম রক্ষার’ ম্যাচে উগান্ডাকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করলেও এর আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে নিউজিল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারার পর, দল দুটি তিনটি করে ম্যাচ জেতার সঙ্গে সঙ্গেই নিউজিল্যান্ডের শেষ আটের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়।
সোমবার (১৭ জুন) পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি খেলবে কিউইরা। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই তাই বোল্টের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্রিকেটযাত্রা শেষ হতে চলেছে।
আগামী ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাকে আর দেখা যাবে না। এর এক বছর পর ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি থাকবেন কি না, তা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়ে যায়।
কারণ, পরিবারকে সময় দিতে ২০২২ সালে আগস্ট মাসে স্বেচ্ছায় নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের (এনজেডসি) কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তারপর থেকেই দলে অনিয়মিত তিনি। এই দুই বছরে বেছে বেছে কয়েকটি মাত্র ম্যাচে তাকে ব্ল্যাক ক্যাপ পরে মাঠে দেখা গেছে। তাই ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে তাকে পাওয়া যে একপ্রকার অসম্ভব, তা ধরে নেওয়াই যায়।
তবে জাতীয় দলে না খেললেও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তাকে দেখা যেতে পারে।
২০১৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা বোল্ট এখন পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে ১৭ ম্যাচ খেলে উইকেট নিয়েছেন ৩২টি। এবারের বিশ্বকাপেও তিন ম্যাচ খেলে ৭টি উইকেট নিয়েছেন তিনি, রান দিয়েছেন মোটে ৪৫।
৭৩৩ দিন আগে