এশিয়া
চীনে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ২৬
চীনের একটি মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশে অবস্থিত আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬১ জন।
চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) জানায়, গতকাল (সোমবার) বিকেলে দেশটির হুনান প্রদেশের চাংশা শহরের একটি আতশবাজি কারখানায় এ বিস্ফোরণ ঘটেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চায়না ডেইলি জানিয়েছে, কারখানাটি হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানি পরিচালনা করত। এটি মূলত চাংশা অধ্যুষিত কাউন্টি-স্তরের শহর লিউইয়াংয়ে অবস্থিত। কারখানাটি আতশবাজি উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত।
চাংশার মেয়র চেন বোঝাং জানান, ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে, তবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ এখনও চলমান।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনে (সিসিটিভি) আজ (মঙ্গলবার) প্রকাশিত আকাশচিত্রে দেখা যায়, ঘটনাস্থলের কিছু অংশ থেকে এখনও সাদা ধোঁয়া উঠছে। অনেক স্থাপনা ধসে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৫০০ জন উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় এবং বিস্ফোরণস্থলের কাছে থাকা দুটি কালো বারুদের গুদাম থেকে উচ্চ ঝুঁকির কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ এই বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধান করছে এবং পুলিশ ওই কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আটক করেছেন বলে জানিয়েছে সিনহুয়া।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং আহতদের উদ্ধার করতে ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা’ চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দ্রুত ঘটনার কারণ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতে ঝুঁকি নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং জননিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার নির্দেশও দেন তিনি।
উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে নতুন দুর্ঘটনা এড়াতে উদ্ধারকর্মীরা পানি ছিটানো ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি করার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো যায়। অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য তিনটি রোবটও মোতায়েন করেন তারা।
লিউইয়াংয়ের আতশবাজি উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস জানায়, চীনা ফায়ারক্র্যাকার নামে প্রথম নথিভুক্ত আতশবাজি লিউইয়াংয়ের কাছে বসবাসকারী এক সন্ন্যাসী লি তিয়ান তৈরি করেছিলেন। এই সন্ন্যাসী চীনের তাং রাজবংশের (প্রায় ৬১৮ থেকে ৯০৭ খ্রিস্টাব্দ) সময়ে বাস করতেন। তিনি একদিন লক্ষ করেন, ফাঁপা বাঁশের ভেতরে গানপাউডার ভরে দিলে জোরে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর তিনি এগুলো একসঙ্গে বেঁধে ঐতিহ্যবাহী নববর্ষের আতশবাজি তৈরি করেন। এই আতশবাজিগুলো অশুভ আত্মা তাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হতো বলে গিনেস জানায়।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে চন্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে চীনে আতশবাজির দোকানে দুটি প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।
১৬ ঘণ্টা আগে
ফিলিপাইনে মেয়ন আগ্নেয়গিরিতে লাভা উদগীরণ, ঘরবাড়ি ছেড়েছে ৩ শতাধিক পরিবার
ফিলিপাইনে গত সপ্তাহের শেষে মেয়ন আগ্নেয়গিরিতে ফের লাভা উদগীরণ শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আশপাশের ৩ শতাধিক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) আগ্নেয়গিরির ঢালে জমে থাকা লাভার স্তর ধসে পড়ায় বিপুল পরিমাণ ছাই আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
ফিলিপাইন আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পবিদ্যা প্রতিষ্ঠানের পরিচারক তেরেসিতো বাকোলকল জানান, মেয়ন আগ্নেয়গিরিতে এখন পর্যন্ত কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি। তবে জানুয়ারি থেকে কয়েকবার অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২ মে) সন্ধ্যার আগে আগ্নেয়গিরির দক্ষিণ-পশ্চিম ঢালে জমে থাকা বিপুল লাভা হঠাৎ ধসে পড়ে। এর ফলে গরম পাথর, ছাই ও গ্যাসের প্রবল ধারা নিচে নামতে থাকে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ঘন ছাই তিনটি শহরের ৮৭টি গ্রামের ওপর ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওইসব এলাকার মানুষেরা হঠাৎ বিপাকে পড়েন। ছাইয়ের কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় সড়কে যান চলাচলও ধীর হয়ে যায়।
মেয়ন আগ্নেয়গিরির পাদদেশের কাছে অবস্থিত কামালিগ শহরের মেয়র ক্যালয় বালদো বলেন, ‘ছাই পড়ার পর পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে মহাসড়কে কোনো কিছু দেখা যাচ্ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় ওইসব এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
ক্যালয় বালদো জানান, ছাই ছড়িয়ে পড়ার কারণে কামালিগ শহরে সবজির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দম বন্ধ করা গ্যাসে চারটি মহিষ ও একটি গরু মারা গেছে।
কামালিগ শহরটি আলবাই প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ৮ হাজার জনসংখ্যার একটি শহর। ইতোমধ্যে এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে।
তেরেসিতো বাকোলকল বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। তবে মেয়নে অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে।’
উল্লেখ্য, মেয়ন আগ্নেয়গিরি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৪৬২ মিটার (৮ হাজার ৭৭ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত। নিখুঁত শঙ্কু আকৃতির হওয়ায় আগ্নেয়গিরিটি ফিলিপাইনের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। তবে দেশটির ২৪টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে এটি অগ্ন্যুৎপাতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। তাই এই আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকিও বেশি।
আগ্নেয়গিরিটি থেকে জানুয়ারিতে ধারাবাহিক অগ্ন্যুৎপাত, বড় আকারের পাথর গড়িয়ে পড়া এবং প্রাণঘাতী পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহ দেখা গেছে।
১ দিন আগে
মন্ত্রিসভার বৈঠক এড়িয়ে যাওয়ায় দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৭ বছরের জেল
মন্ত্রিসভার বৈঠক এড়িয়ে যাওয়া এবং নিজের গ্রেপ্তার আটকানোর অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ এপ্রিল) সিউলের একটি আপিল আদালত এই রায় দেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারি করেন ইয়ল। তার ওই কর্তৃত্ববাদী পদক্ষেপ দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটে ফেলেছিল।
এর আগেই অবশ্য তিনি বিদ্রোহ-সংক্রান্ত মামলায় আজীবন কারাদণ্ডের শাস্তি ভোগ করছেন। ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা ও অন্যান্য অভিযোগে পাওয়া এই দণ্ড তার সঙ্গে যুক্ত হলো।
এদিন সিউল হাইকোর্টের বিচারক ইউন সুং-সিক বলেন, সাবেক এই রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট সামরিক আইন জারির আগে আইন অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠক এড়িয়ে যান, সেই ত্রুটি গোপন করতে নথিপত্র জাল করেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ‘ব্যক্তিগত বাহিনী’র মতো ব্যবহার করেন।
রায় ঘোষণার সময় ইউন নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশটির নিম্ন আদালত ইয়লকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে সামরিক আইন জারির আগে মন্ত্রিসভার বৈঠক-সংক্রান্ত ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থেকে সে সময় তাকে আংশিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আদালতের রায়ে তখন বলা হয়, বৈঠকে আমন্ত্রিত দুই সদস্যের অনুপস্থিতির জন্য তিনি দায়ী নন। কিন্তু সিউল হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে তাকে সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।
আদালত রায়ে উল্লেখ করে, তিনি শুধু ওই দুই সদস্যের অধিকারই লঙ্ঘন করেননি, বরং মন্ত্রিসভার আরও সাতজন সদস্যকে না জানিয়ে সীমিত কয়েকজনকে নিয়ে একটি বৈঠকের অভিনয় করে আইনি প্রক্রিয়া ভঙ্গ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইয়ল ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর যে সামরিক আইন জারি করেছিলেন, তা দেশটিকে গভীর রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দেয়। এটি রাজনীতি ও উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিকে অচল করে দেয় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির করে তোলে। এরপর গত বছরের জুন মাসে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উদারপন্থি লি জে মিয়ং জয়ী হওয়ার পর এই অস্থিরতা প্রশমিত হয়।
২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর উদারপন্থি রাজনীতিকদের নেতৃত্বাধীন আইনসভা তাকে অভিশংসনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে ক্ষমতা থেকে বরখাস্ত করেন। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সাংবিধানিক আদালত তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণ করেন।
ক্ষমতা থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর ইউন সিউলের একটি আদালতের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করার পরোয়ানা মানতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় দেশটিতে এক ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারির শুরুতে কয়েকজন তদন্তকারী প্রেসিডেন্টের বাসভবনে পৌঁছালেও প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনী ও যানবাহনের ব্যারিকেডের কারণে তারা বাধাপ্রাপ্ত হন। ওই মাসের শেষের দিকে তাকে আটক করা হয়, তবে মার্চে আরেকটি আদালত তাকে মুক্তি দেয়। পরে জুলাই মাসে আবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর থেকে তিনি হেফাজতেই রয়েছেন। আর তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
৬ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৪
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে একটি কমিউটার ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের সকলেই নারী।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ এপ্রিল) জাকার্তার বাইরে বেকাসি তিমুর স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আজ (মঙ্গলবার) উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত কমিউটার ট্রেনের একটি বগি থেকে হতাহতদের উদ্ধার কাজ শেষ করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি দূরপাল্লার ট্রেন স্টেশনে থেমে থাকা ওই কমিউটার ট্রেনটির পেছনের বগিতে ধাক্কা দেয়। এতে কমিউটার ট্রেনটির শেষ বগিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বগিটি শুধুমাত্র নারীদের জন্য নির্ধারিত ছিল। নারীদের হয়রানি প্রতিরোধে তাদের জন্য আলাদা এ বগির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব রেলওয়ে কোম্পানি পিটি কেরেটা আপি ইন্দোনেশিয়ার সিইও ববি রাস্যিদিন জানান, এ দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় মোট ৮৪ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আর নিহতদের মরদেহ শনাক্তকরণের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনটির ভেতর থেকে সকল হতাহতদের উদ্ধার করেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ স্যাফি বলেন, ঘটনাস্থলে আর কোনো হতাহত নেই।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ দুর্ঘটনায় দূরপাল্লার ট্রেনের বাকি ২৪০ জন যাত্রী নিরাপদে আছেন।
ঘটনাস্থলে জাকার্তা পুলিশের প্রধান আসেপ এদি সুহেরি সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এক লিখিত বিবৃতিতে জানায়, প্রথমে বেকাসি তিমুর স্টেশনের কাছে একটি আটকে পড়া ট্যাক্সিকে কমিউটার ট্রেনটি ধাক্কা দেয়। এর ফলে রেলের কর্মীরা ওই কমিউটার ট্রেনকে স্টেশনে থামিয়ে দেন। এ সময় কমিউটার ট্রেনটিকে একই ট্র্যাকে ঢুকে আরেকটি দূরপাল্লার ট্রেন এসে ধাক্কা দেয়।
ববি রাস্যিদিন বলেন, দুর্ঘটনার কারণ জানতে আমরা জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটির তদন্তের ওপর নির্ভর করছি।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার পুরনো রেলপথ ব্যবস্থায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিম জাভা প্রদেশে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হয়েছিল।
৭ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল না আসলেও মধ্যস্থতা এগিয়ে যাচ্ছে: ইসলামাবাদ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেছেন। তবে পাকিস্তানের নেতারা রবিবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছেন তারা।
মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা বলেছেন, পাকিস্তান নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উল্লেখযোগ্য ব্যবধান ঘোচাতে কাজ করছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনা শুরুর আগে নিজেদের বন্দরের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবিতে তেহরান এখনও অটল রয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি তার শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে এই সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘ওরা যদি কথা বলতে চায়, তাহলে শুধু ফোন করলেই হবে!’
ইরানের আইএসএনএ এবং তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, দেশটির রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান শনিবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোনে বলেছেন যে, নতুন দফা আলোচনার সুযোগ করে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রথমে অবরোধসহ কার্যনির্বাহী বাধাগুলো দূর করা।
যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতেও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয় এবং ইরান এই জরুরি জলপথে চলাচল সীমিত করে রেখেছে।
সোমবার ভোরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অবরোধ চলাকালে তারা এ পর্যন্ত ৩৮টি জাহাজ ফিরিয়ে দিয়েছে।
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় বেড়েছে তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা আবারও থমকে যাওয়ায় রবিবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম বেড়ে যায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হালকা অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট রবিবার ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল, যা শুক্রবার বাজার বন্ধ হওয়ার পর থেকে ২ শতাংশ বেশি। এই দাম ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের দামের চেয়ে ৪৪ শতাংশ বেশি ছিল।
ব্রেন্ট ক্রুড (অপরিশোধিত তেল) রবিবার ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল, যা শুক্রবারের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪৮ শতাংশ বেশি। যুদ্ধ শুরুর সময় তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার।
রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে একটি সংক্ষিপ্ত সফর করেছেন। এর মাত্র একদিন আগেই তিনি শহরটি ছেড়ে গিয়েছিলেন, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
ইসলামাবাদে সর্বশেষ এই তিন ঘণ্টার সফরের আগে তিনি হরমুজ প্রণালির অপর প্রান্তে অবস্থিত ওমানে গিয়েছিলেন। এরপর রবিবার গভীর রাতে তিনি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য পাকিস্তানে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি, তবে পাকিস্তান মধ্যস্থতা অব্যাহত রেখেছে। দেশটির দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, পরোক্ষ আলোচনা এখনও চলছে।
আরাঘচির এবারের অনাড়ম্বর সফরটি তার আগের সফরের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন ছিল। আগের সফরে তিনি পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং ওই অঞ্চলে সংঘাত নিরসনে তেহরানের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা ফোনে কথা বলতে পারেন: ট্রাম্প
ফক্স নিউজ চ্যানেলে রবিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, প্রতিনিধিদলকে ১৭ ঘণ্টার দীর্ঘ ফ্লাইটে পাঠানোর চেয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তই (ফোনে কথা বলা) নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সব তুরুপের তাস আমাদের হাতে। তারা যদি কথা বলতে চায়, তবে তারা আমাদের কাছে আসতে পারে অথবা আমাদের কল করতে পারে।’
শনিবার তেহরানের শীর্ষ কূটনীতিক পাকিস্তান ত্যাগ করার পর আলোচনা ভেস্তে গেছে বলে মনে হচ্ছিল। এর পরপরই ট্রাম্প জানান যে, তিনি প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদ সফর না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ন্যাটো সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন যে, তিনি এই সামরিক জোটের ওপর খুবই হতাশ। ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর সদস্য দেশগুলো তার সহায়তার আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই জোট ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরে তাদের সেবা দিয়ে আসছি, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করছি; অথচ যখন আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন হলো তখন তাদের পাওয়া যায়নি। তাই আমাদের বিষয়টি মনে রাখতে হবে।’
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সোমবার ভোরে জানিয়েছে যে, ইরানের ওপর চলমান অবরোধের সময় তারা এ পর্যন্ত ৩৮টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের হামলা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে কামান ও বিমান হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লড়াই তীব্র হওয়ায়, তারা তথাকথিত ‘ফরওয়ার্ড ডিফেন্স লাইন’-এর উত্তরে হিজবুল্লাহ এবং রকেট লঞ্চার ও অস্ত্রাগারসহ বিভিন্ন অস্ত্রাগারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫০৯
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রবিবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানিয়েছে যে, গত ২ মার্চ শুরু হওয়া সর্বশেষ ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধে ৭ হাজার ৭৫৫ জন আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হিজবুল্লাহর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানকে আক্রমণ করার দুই দিন পর হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে যুদ্ধ শুরু হয়।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ১৭ এপ্রিল কার্যকর হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এই যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
রবিবার ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ড ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যেকার যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।
হিজবুল্লাহ বলেছে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তাদের এই হামলা ‘একটি বৈধ জবাব।’
বাহিনীটি লেবাননের কর্তৃপক্ষেরও সমালোচনা করে বলেছে, ‘তারা নিজেদের এক বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলেছে যখন তারা এমন একটি জবরদখলকারী ও অবৈধ সত্তার প্রতিনিধিদের পাশে লজ্জাজনকভাবে ছবি তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে সত্তা লেবাননের ভূমি ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এবং তার জনগণকে হত্যা অব্যাহত রেখেছে।’
শান্তি প্রচেষ্টা নিয়ে ফোনে কথা বলেছেন ইরান ও কাতারের শীর্ষ কূটনীতিকরা
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করার জন্য তার দেশের সর্বশেষ উদ্যোগ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কে কাতারের শীর্ষ কূটনীতিককে অবহিত করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রবিবার কাতারের শীর্ষ কূটনীতিক শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
শান্তি প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য কূটনৈতিক সমন্বয়ের গুরুত্ব দুই মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে আরাঘচি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন।
কাতার ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টা নিয়ে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি কাতার ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
মন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক পৃথক আলোচনায় যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখা এবং এর মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক পথের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন আবদেলাত্তি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা এগোচ্ছে, বলছেন বিশ্লেষকরা
পাকিস্তানের স্বাধীন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী বলেছেন, এই সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় ট্রাম্পের দূত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ইসলামাবাদ আলোচনার দ্বিতীয় দফার বিলম্বকে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও শান্তি প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা উচিত নয়, তা সঠিক পথেই রয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা রাতারাতি প্রশমিত করা সম্ভব নয় এবং আলোচনা প্রক্রিয়ার জন্য উভয় পক্ষের প্রজ্ঞা ও ধৈর্য প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এটি একটি সংবেদনশীল ও জটিল প্রক্রিয়া এবং এতে উত্থান-পতন থাকবে, যা এ ধরনের বিষয়ে স্বাভাবিক। তবে ভালো দিকটি হলো, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং উভয় পক্ষই এমনভাবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে আগ্রহী, যাতে নিজ দেশে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এগিয়ে যাচ্ছে
রবিবার দুজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা অব্যাহত রেখেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সত্ত্বেও পরোক্ষ যুদ্ধবিরতি আলোচনা এখনও চলছে।
ওমানে একটি সংক্ষিপ্ত সফর শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পরপর দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো রবিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার আরাঘচি ইসলামাবাদে ছিলেন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আঞ্চলিক সংঘাতের অবসানের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবরোধ তুলে নিতে বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বরাতে দেশটির গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে রাখলে তার দেশ কোনো আলোচনায় বসবে না।
আইএসএনএ এবং তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান শনিবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোনে বলেছেন যে, নতুন দফা আলোচনার সুযোগ করে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রথমে অবরোধসহ কার্যনির্বাহী বাধাগুলো দূর করা।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী এই ফোনকলটিকে একটি আন্তরিক ও গঠনমূলক আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার পাকিস্তানি সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে তার একদিনের সফর শেষ করেছেন।
ট্রাম্প তার দূতদের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করার পর, আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টায় এই সফর কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি।
৮ দিন আগে
পাইলটরা ছবি তুলতে গিয়েই সংঘর্ষ হয়েছিল সেই দুই যুদ্ধবিমানের
২০২১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় মাঝ আকাশে দুটি যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার পাঁচ বছর পর অবশেষে দুর্ঘটনার কারণ সামনে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, বিমানের পাইলটরা ছবি তোলা ও ভিডিও করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল, দীর্ঘদিন পর বুধবার (২২ এপ্রিল) তারা এক প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিমানদুটি একটি ফ্লাইট মিশনে থাকাকালে ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় পাইলটরা কোনো আঘাত না পেলেও বিমানদুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা মেরামত করতে দেশটির সামরিক বাহিনীর খরচ হয়েছে ৮৮০ মিলিয়ন ওন।
ওই ঘটনার পর সামরিক বাহিনী ছেড়ে দেওয়া এক পাইলটকে ৮৮ মিলিয়ন ওন জরিমানা করা হয়।
ওই পাইলট মূলত তার শেষ ফ্লাইট স্মরণীয় করে রাখতেই কিছু ছবি তুলতে চেয়েছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইটের আগে দেওয়া ব্রিফিংয়ে তার এই ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
অডিট বোর্ড জানায়, গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট থেকে ছবি তোলা তখন পাইলটদের মধ্যে ‘ব্যাপকভাবে প্রচলিত’ ছিল। ঘটনার আগমূহুর্তে অভিযুক্ত পাইলট উইংম্যান বিমানটি চালাচ্ছিলেন এবং মিশনের সময় লিড বিমানের অনুসরণ করছিলেন। এরপর বেসে ফেরার সময় তিনি তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ছবি তুলতে শুরু করেন। বিষয়টি লক্ষ করে লিড বিমানের পাইলট তার সঙ্গী আরেক পাইলটকে উইংম্যান বিমানের ভিডিও ধারণ করতে বলেন। এরপর উইংম্যান হঠাৎ করে তার জেট বিমানটি আরও উঁচুতে নিয়ে যান এবং ক্যামেরায় ভালোভাবে ধরার জন্য সেটিকে উল্টে দেন। এর ফলে দুটি বিমান খুব কাছাকাছি চলে আসে।
সংঘর্ষ এড়াতে সে সময় লিড বিমানটি দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিমানদুটির সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় লিড বিমানের বাঁ দিকের ডানা এবং উইংম্যানের বিমানের লেজের স্ট্যাবিলাইজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ওই ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিমানবাহিনী পাইলট উইংম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করে। বরখাস্ত হওয়ার পর সামরিক বাহিনী ছেড়ে একটি বাণিজ্যিক এয়ারলাইনে কাজ শুরু করেন তিনি।
পরবর্তীতে, মেরামতের পুরো খরচ আদায় করতে বিমান বাহিনী উইংম্যানকে ৮৮০ মিলিয়ন ওন জরিমানা করতে চায়। তবে পাইলট যখন এই জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেন, তখন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্ত চলাকালে উইংম্যান স্বীকার করেন যে তার এই কৌশলী চালনার কারণেই সংঘর্ষ হয়েছিল। তবে তিনি যুক্তি দেন যে লিড বিমানের পাইলটও এ বিষয়ে ‘নীরব সম্মতি’ দিয়েছিলেন, কারণ ভিডিও ধারণের বিষয়টি তিনি দেখেছিলেন।
শেষ পর্যন্ত তদন্ত কমিটি থেকে সিদ্ধান্ত হয় যে উইংম্যানকে বিমানবাহিনী যে জরিমানা করতে চেয়েছিল, তার এক-দশমাংশ পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি পাইলটদের ব্যক্তিগতভাবে ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়ে যথাযথ নিয়ম না থাকায় বিমান বাহিনীরও এ ঘটনায় কিছু দায় রয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
১৩ দিন আগে
প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে জাপান
জাপানে যুদ্ধবিমানসহ প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী নীতি থেকে সরে যাবে দেশটি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক্স পোস্টে এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেন তাকাইচি। তবে জাপান কোন কোন অস্ত্র বিদেশে বিক্রি করবে, সেটা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।
এ বিষয়ে জাপানি সংবাদপত্রগুলো জানিয়েছে, এই অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজ।
পোস্টে তাকাইচি বলেন, ‘এই সংশোধনের মাধ্যমে নীতিগতভাবে সব ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামই রপ্তানি করা যাবে। তবে গ্রাহক দেশগুলোকে অবশ্যই জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগুলো ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান বিশ্বের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজস্ব শান্তি ও নিরাপত্তা একা নিশ্চিত করতে পারা বিশ্বের সব দেশের জন্যই চ্যালেঞ্জ।’
জাপানের চুনিচি পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের ফলে অন্তত ১৭টি দেশ জাপানে তৈরি অস্ত্র কিনতে পারবে। তবে আরও কিছু দেশ এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে যুক্ত হলে তালিকা বাড়তে পারে।
আসাহি পত্রিকা জানায়, ১৯৬৭ সালে প্রণীত এবং ১৯৭৬ সালে কার্যকর করা চুক্তি অনুযায়ী জাপান কেবল নজরদারি ও মাইন অপসারণে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের মতো অপ্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানি করতে পারে।
পত্রিকাটি আরও জানায়, বর্তমানে যুদ্ধ চলছে এমন দেশগুলোতে অস্ত্র রপ্তানি সীমিত থাকবে। তবে ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ বিবেচনায় ব্যতিক্রম করা যেতে পারে।
চুনিচি পত্রিকা জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র উল্লেখ করে জানায়, জাপানের তৈরি অস্ত্র কিনতে আগ্রহী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া, যারা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ৭০০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পরপরই টোকিওর এই নীতিগত পরিবর্তন এল।
১৪ দিন আগে
বিটিএসের পৃষ্ঠপোষক কে-পপ মোগলকে খুঁজছে দ. কোরিয়ার পুলিশ
বিনিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগে বিখ্যাত কোরিয়ান কে-পপ সংগীত ব্যান্ড বিটিএসের পৃষ্ঠপোষক সংগীত মোগল ব্যাং সি-হিউককে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ। জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অবৈধ অর্থ উর্পাজন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্যাং সি-হিউক স্বনামধন্য মিউজিক কোম্পানি হাইবের (HYBE) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। গত বছরের নভেম্বর থেকেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলছে। সরকারপক্ষের আইনজীবীর কাছে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির অনুরোধ করেছে সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সি।
ব্যাং হিউকের আইনজীবী দলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। তবে ওই অভিযোগের বিষয়ে কোনো জবাব না দিয়ে এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তে ‘সম্পূর্ণ সহযোগিতা’ করা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, ‘আমরা সব আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা চালিয়ে যাব এবং আমাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
কোরিয়ান এই সংঙ্গীত মোগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০১৯ সালে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে বলেছিলেন আপাতত তার কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। এর ফলে অন্যান্য বিনিয়োগকারীরা তার কথায় প্ররোচিত হয়ে হাইবের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) নিয়ে অগ্রসর হওয়ার আগেই তাদের শেয়ার একটি প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ডের কাছে বিক্রি করা হয়।
পুলিশের ধারণা, ওই ফান্ড মূলত একটি গোপন চুক্তির যেখানে আইপিও-পরবর্তী শেয়ার বিক্রির লাভের ৩০ শতাংশ দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে তাকে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ওন (১৩৬ মিলিয়ন ডলার) প্রদান করা হয়েছে।
২০০৫ সালে বিগ হিট এন্টারটেইনমেন্ট হিসেবে হাইব প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ব্যাং সি-হিউক পপ সংগীত শিল্পের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিটিএস ছাড়াও তিনি সেভেনটিন, লে সেরাফিম এবং কাটসেয়ের মতো জনপ্রিয় শিল্পীদের তত্ত্বাবধান করেন।
গত মাসে সিউলে অনুষ্ঠিত বিনামূল্যের একটি ক্যামব্যাক কনসার্টে বিটিএস হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ভক্তের সামনে পারফর্ম করে। এছাড়া তারা দক্ষিণ কোরিয়ার গয়াং শহর এবং টোকিওতেও একাধিক কনসার্ট করেছে। চলতি মাসের শেষ দিকে ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় একটি কনসার্টের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ইভেন্ট সিরিজ শুরু করার কথা রয়েছে। তবে বর্তমানের এই আইনি জটিলতায় হাইবে একটি বড় জনসংযোগ সংকট তৈরি হয়েছে।
১৪ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১ হাজার বাড়ি ভস্মীভূত
মালয়েশিয়ার একটি উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১ হাজার বাড়িঘর ভস্মীভূত হয়েছে। এই ঘটনায় ৯ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ এপ্রিল) ভোরে বোর্নিও দ্বীপের সান্দাকান জেলায় এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এরপর কাঠের তৈরি সারিবদ্ধ ঘরগুলোতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে দেশটির দমকল ও জরুরি উদ্ধার বিভাগ।
কর্মকর্তারা বলেন, প্রচণ্ড বাতাস এবং ঘরগুলোর পাশাপাশি অবস্থানের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়াও যাতায়াতের পথ দুর্গম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি সেবাকর্মীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও হাজার হাজার বাসিন্দা ঘরছাড়া হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
১৫ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ১০ হাজার কর্মী প্রশিক্ষণের উদ্যোগ
শ্রীলঙ্কায় নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় দেশটির সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১০ হাজার নির্মাণ শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি কর্মসূচি শুরু করেছে সেখানকার সরকার। দেশীয় জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে এই খাতে স্থিতিশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ এপ্রিল) দেশটির গৃহায়ণ, নির্মাণ ও পানি পরিষেবা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, শ্রীলঙ্কায় নির্মাণ শিল্পে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ৫০০টি শূন্য পদ রয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা সরকার প্রথমদিকে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি ভেবেছিল। পরে দেশীয় কর্মী তৈরি করেই এই চাহিদা পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই উদ্যোগকে সফল করতে নির্মাণ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে, যাতে নির্মাণ খাতের প্রয়োজনের সঙ্গে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। পাশাপাশি, কর্তৃপক্ষ নির্মাণ শ্রমিক পেশাকে একটি স্বীকৃত পেশা হিসেবে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্যও কাজ করছে।
এই কর্মসূচি মূলত সেইসব তরুণ-তরুণীদের জন্য যারা তাদের অ্যাডভান্সড লেভেল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে, কিন্তু এখনও উচ্চশিক্ষা বা কোনো চাকরিতে যুক্ত হননি। কর্মসূচিতে তরুণ-তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রচার অভিযান চালাচ্ছে দেশটির সরকার। প্রশিক্ষণের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী শনাক্ত করতে বাছাই প্রক্রিয়াও চলছে।
কর্তৃপক্ষ মনে করছে, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার জন্য নির্মাণ খাতে আসতে মানুষ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। এই খাতে সাধারণত প্রকল্পভিত্তিক কাজ হওয়ায় শ্রমিকদের মাঝেমধ্যেই বেকার বসে থাকতে হয়। তবে নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন ও মানসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে নির্মণ খাতে আরও স্থিতিশীল কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অতীতেও শ্রীলঙ্কায় নির্মাণ খাতে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা গেছে। তবে সাইক্লোন দিতওয়াহের পর পুনর্গঠন কার্যক্রমে বড় পরিসরে আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ফলে তখন শ্রমিকের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়।
১৫ দিন আগে