এশিয়া
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ৫
টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কার পাহাড়ি অঞ্চলে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এই দুর্যোগে আরও অন্তত ৩ জন আহত এবং ২ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ২ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চা-বাগানসমৃদ্ধ পাহাড়ি অঞ্চলের কিছু স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
গত দুদিনের ভারী বর্ষণে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে বাড়িঘর, কৃষিজমি ও সড়ক প্লাবিত হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই বৈরী আবহাওয়ায় দেশটির মধ্যাঞ্চলের চা-বাগানসমৃদ্ধ পাহাড়ি এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র প্রদীপ কোডিপ্পিলি জানান, মধ্যাঞ্চলে দুটি বাড়ির ওপর ভূমিধসে মাটিচাপা পড়ে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছেন এবং আরও ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
তিনি জানান, বৃষ্টি ও বন্যায় ১২৯টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ২ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নৌ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল হিরু টিভির সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, বন্যায় বাড়িতে আটকে পড়া ও কাদার স্রোতে চাপা পড়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে সেনাসদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন প্রধান সড়কে বড় বড় পাথর, ভূমিধসের মাটি ও উপড়ে পড়া বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে থাকায় অনেক স্থানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
এর আগে, গত নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিতওয়া’র তাণ্ডবে দেশটিতে প্রায় ৬৪০ জন নিহত হন। ওই দুর্যোগে প্রায় ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং আনুমানিক ৪১০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়। সর্বশেষ এই দুর্যোগের সময়ও এখনও শ্রীলঙ্কা সরকার ডিতওয়ার ফলে সৃষ্ট সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
ডিতওয়া ঘূর্ণিঝড়েও শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই অঞ্চলের সড়ক, রেলপথ ও বাড়িঘর পুনর্নির্মাণে এখনও কাজ করে যাচ্ছে দেশটির সরকার।
শ্রীলঙ্কায় প্রতি বছর বন্যা ও ভূমিধস ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। বর্ষা মৌসুমের ভারী বৃষ্টিতে মূলত সেখানে মধ্যাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস হয়। একই সঙ্গে দেশটিতে নিচু এলাকাগুলোতে বন্যা হয়। ফলে প্রতিবছর হাজারো মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
১ ঘণ্টা আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ফেরিতে আগুন, নিহত ৫, নিখোঁজ বহু
ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের উপকূলে যাত্রীবাহী একটি ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ২২৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ঠিক কতজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন দেশটির উদ্ধারকারীরা। গতকাল (রবিবার) সকাল ৬টা থেকে ৭টার দিকে সুমেনেপ রিজেন্সির জলসীমায় ফেরিটিতে আগুন লাগে।
‘মুতিয়ারা সেন্টোসা-২’ ফেরিটি ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসার শহরের উদ্দেশে যাচ্ছিল।
উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটির ম্যানিফেস্ট অনুযায়ী এতে ২৩২ জন যাত্রী ও ৩৯ জন ক্রু সদস্য ছিলেন।
এদিকে, সোমবার সকালে কর্মকর্তারা জানান, ফেরিটিতে ম্যানিফেস্টে উল্লিখিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ছিলেন। এখন পর্যন্ত ২২৯ জনকে জীবিত উদ্ধার এবং ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে প্রকৃতপক্ষে কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, এখনও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা নির্ধারণে কর্মকর্তারা নিহত ও জীবিতদের পরিবারের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন।
সুরাবায়া উদ্ধার কার্যালয়ের প্রধান নানাং সিগিত জানান, ইন্দোনেশিয়ায় নৌযান বা ফেরিতে যাত্রীর প্রকৃত সংখ্যার সঙ্গে অনেক সময় ম্যানিফেস্টে উল্লেখিত সংখ্যার মিল থাকে না। নৌযানগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে এমন অসঙ্গতি দেখা দেয়। ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে পড়ে।
এদিকে, ফেরিতে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
ফেরিটিতে ১৮০টি যানবাহনও ছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল ট্রাক। এছাড়া এতে একটি এক্সকাভেটরও বহন করা হচ্ছিল।
উদ্ধার হওয়া যাত্রী আহমাদ আবদুল করিম জানান, সম্ভবত নিচতলার যানবাহন ডেকে থাকা একটি ট্রাক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘বাতাসের কারণে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় ৩০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে সবাইকে ফেরির সামনের অংশে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।’
ঘটনাস্থলটি সুমেনেপ রিজেন্সির বুরুয়ান সাপুদি দ্বীপের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এ দুর্ঘটনার পর সুরাবায়া থেকে একটি উদ্ধারকারী নৌযান ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর জাহাজ ও ঘটনাস্থলের আশপাশ দিয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি জাহাজও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
ফেরিটি ১৯৯২ সালে জাপানে নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে কয়েক বছর চলাচলের পর ২০১৫ সালে এটি ইন্দোনেশিয়ায় বিক্রি করা হয়। প্রায় ১৬০ মিটার (৫২৫ ফুট) দীর্ঘ এ ফেরিতে ৬৮৯ জন যাত্রী, ৪৯ জন ক্রু সদস্য এবং সর্বোচ্চ ১৮১টি যানবাহন বহনের সক্ষমতা রয়েছে।
মুতিয়ারা সেন্টোসা-২ নিয়মিত সুরাবায়া-মাকাসার রুটে চলাচল করে। সাধারণত এ যাত্রাপথ অতিক্রম করতে প্রায় ৪০ ঘণ্টা সময় লাগে। জাভা ও সুলাওয়েসি দ্বীপের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে এ রুটটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি চলাচল অন্যতম প্রধান যাতায়াত ব্যবস্থা। তবে দেশটিতে প্রায়ই নৌদুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনার জন্য দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের ঘাটতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২২ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তানে তুষারধসে নিখোঁজ ১০ পর্বতারোহীর সবাই নিহত
পাকিস্তানের ব্রড পিকে তুষারধসে খ্যাতিমান ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজাসহ (নিমস দাই) ও আরও ৯ পর্বতারোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধারকারীরা মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (১ আগস্ট) নির্মল পুরজার অভিযাত্রী প্রতিষ্ঠান এলিট এক্সপেড এ তথ্য নিশ্চিত করে।
এক বিবৃতিতে এলিট এক্সপেড জানায়, পর্বতারোহণের জগৎ তাদের অন্যতম সেরা একজন পর্বতারোহীকে হারিয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় নিহত অন্য পর্বতারোহীদের প্রতিও গভীর শোক প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই অকল্পনীয় ক্ষতির বেদনা লাঘব করার মতো কোনো শব্দ তাদের কাছে নেই।
গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের ব্রড পিকে পর্বত আরোহণের সময় ১০ সদস্যের ওই পর্বতারোহী দলটি তুষারধসে নিঁখোজ হন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের খোঁজে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন ব্যাহত হয়। এরপর শুক্রবার উদ্ধারকারীরা দলটির চারজনের মরদেহ শনাক্ত করেন এবং তার মধ্যে তিনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন। শনিবার থেকে সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারের সহায়তায় বাকি সদস্যদের অনুসন্ধানে আবারও অভিযান শুরু হয়।
এ বিষয়ে পাকিস্তানের আলপাইন ক্লাবের সভাপতি ইরফান আরশাদ খান বলেন, ‘পর্বতের টানে বিভিন্ন দেশ থেকে একত্রিত হওয়া এই সাহসী পর্বতারোহীদের মৃত্যু বিশ্ব পর্বতারোহণ অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
এ সময় তিনি উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক উদ্ধারকারী এবং শেরপাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘পর্বতের সৌন্দর্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তবে একই সঙ্গে এ ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, হিমালয় ও কারাকোরামের দুর্গম পর্বতে অভিযান চালানো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।’
এর আগে, শনিবার স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা তাহির খান জানান, ওমানের পর্বতারোহী নাথিরা আহমেদের মরদেহ পাকিস্থানের ইসলামাবাদে পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন পর্বতারোহী ম্যালোরি গেইস ও নেপালের বাহাদুর গুরুঙের মরদেহ পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের প্রধান শহর স্কার্দুর একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
গেইসের পরিবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ম্যালোরি একজন প্রাণবন্ত মানুষ ছিলেন। তাকে তার পরিবার ও বন্ধুরা গভীরভাবে ভালোবাসতেন। তাকে আমাদের ভীষণ মনে পড়বে।’
এই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন নেপালে জন্ম নেওয়া সাবেক ব্রিটিশ সেনাসদস্য নির্মল পুরজা, যিনি ‘নিমস দাই’ নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি মাত্র ১৮৯ দিনে বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। তার এই অসাধারণ কীর্তি নিয়ে ‘ফোরটিন পিকস: নাথিং ইজ ইম্পসিবল’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মিত করেছিল নেটফ্লিক্স।
পুরজার প্রতিষ্ঠান তাকে স্মরণ করে জানায়, তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি নিজের সাহস, বিনয়ের মাধ্যমে লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি এই বিশ্বাসে অটল ছিলেন যে মানুষের সামর্থ্য আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি।
অপরদিকে, ম্যালোরি গেইস প্রথমবারের মতো পাকিস্তানে ৮ হাজার মিটার উচ্চতার পর্বতশৃঙ্গে আরোহণের চেষ্টা করছিলেন। এছাড়া মুভিং মাউন্টেইনস ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির গাইড, ভূগোলবিদ ও পাহাড়ি বা উঁচু অঞ্চলের আলোকচিত্রী সাখির জন্য এটিই তার জীবনের শেষ পর্বত অভিযান হওয়ার কথা ছিল। তিনি বিশ্বের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেছেন।
উত্তর পাকিস্তানে তুষারধস, বরফ ও পাথর ধসে পড়া এবং অতিরিক্ত উচ্চতা ও দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে পর্বতারোহণ অভিযানে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।
২ দিন আগে
জাপানে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৪
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। পানির সংকট, জ্বালানির অভাব এবং তীব্র গরমের মধ্যে হাজারো দুর্গত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িতে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে তীব্র গরমের মাঝে অসুস্থতার আশঙ্কাও বাড়ছে।
কুমামোতোর স্থানীয় সরকার শুক্রবার (৩১ জুলাই) এ তথ্য জানায়।
এদিকে, শনিবার (১ আগস্ট) নিখোঁজদের উদ্ধারে চতুর্থ দিনের মতো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভূমিকম্পে একটি শপিংমলে বিস্ফোরণ, একটি কারখানার চিমনি ধসে পড়া এবং অসংখ্য বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, যেকোনো মূল্যে দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সামরিক বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ভূমিকম্পে হাজারো বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হলেও শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
গত মঙ্গলবার জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। উদ্ধার অভিযান চতুর্থ দিনে গড়ালেও এখনও ঠিক কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে, ভূমিকম্পে দেড় হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৯টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই দুর্যোগে অন্তত ৯৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পানি ও জ্বালানির সংকটে বাড়ছে দুর্ভোগ
কুমামোতো প্রশাসন জানিয়েছে, প্রায় ৮০ হাজার বাড়িতে এখনও পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ৯ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অনেক পেট্রোল পাম্প অচল হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে অন্যান্য এলাকা থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার কারণে অনেকেই নিজেদের গাড়িতে রাত কাটাচ্ছেন। তবে জ্বালানির অভাবে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালিয়ে রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার কুমামোতো শহরের জন্য চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। সেদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
ভূমিকম্পে ঘর হারানো হিরোকাজু সাতো বলেন, অস্থায়ী বাসস্থানে যাওয়ার সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে গাড়িতেই থাকবেন।
তিনি বলেন, ‘কবে অস্থায়ী বাসায় উঠতে পারব, জানি না। দিন-রাত এয়ার কন্ডিশনার চালিয়ে রাখতে হচ্ছে, এতে প্রচুর জ্বালানি খরচ হচ্ছে।’
শিল্প উৎপাদনেও প্রভাবের আশঙ্কা
কুমামোতো জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনের জন্য অঞ্চলটি পরিচিত। ফলে ভূমিকম্পের কারণে এ খাতগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থা কয়েক মাস ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির (টিএসএমসি) কুমামোতোতে একটি গবেষণাগার রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সব কর্মী নিরাপদ আছেন। ভূমিকম্প-পরবর্তী প্রাথমিক পরিদর্শনে ভবন কাঠামো নিরাপদ পাওয়া গেছে এবং ধীরে ধীরে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। তবে বিস্তারিত মূল্যায়ন এখনও চলছে।
নিখোঁজের সংখ্যা এখনও অজানা
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার পর প্রথম তিন দিন জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় শুক্রবার বিকেলকে উদ্ধার অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন জাপানি কর্মকর্তারা।
উদ্ধারকারী কুকুরের সহায়তায় কুমামোতোজুড়ে ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান চলছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর একটি কাশিমা শহরের ধসে পড়া এইয়ন শপিংমলেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় শপিংমলটিতে হাজারো মানুষ ছিলেন। বিস্ফোরণের আগে প্রায় তিন হাজার ক্রেতাকে পার্কিং এলাকায় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও ভবনের অন্য অংশে কর্মরত কিছু কর্মী ভেতরেই রয়ে যান। পরে ভবনের দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ে।
সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া ১১ জনের মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে ইয়াতসুশিরোর নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানায় ধসে পড়া চিমনির নিচে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ১১ জনের মধ্যে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়াও দক্ষিণ কুমামোতোর বিভিন্ন শহরে ধসে পড়া বাড়িঘরে ছোট পরিসরে উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। তবে মোট কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
২ দিন আগে
পাকিস্তানে পুলিশ চৌকিতে জঙ্গি হামলা, নিহত ১১ পুলিশ ও ১৫ হামলাকারী
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একটি পুলিশ চৌকিতে জঙ্গি হামলায় ১১ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় পাল্টা হামলায় ১৫ জন হামলাকারীকে হত্যা করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী হাঙ্গু জেলার খাজিনা পুলিশ চৌকিতে রাতভর এ পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির পর নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীদের প্রতিহত করতে সক্ষম হয় বলে পাকিস্তানের পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ইরফান খান জানান, ভারী অস্ত্র নিয়ে জঙ্গিরা পুলিশ চৌকিতে হামলা চালায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে ওঁৎ পেতে থাকা হামলাকারীদের আক্রমণের মুখে পড়েন। এতে একটি সাঁজোয়া যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা হামলা চালিয়ে হামলাকারীদের প্রতিহত করে।
এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে সহায়তা নিয়ে যাওয়া জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা দিয়ার খান নিহত হয়েছেন বলে প্রাদেশিক পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। হামলায় আরও বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার দায় কোনো সংগঠন স্বীকার করেনি। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওই অঞ্চলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা বাড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি)-এর দিকে সন্দেহের আঙুল উঠেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর বেশিরভাগ হামলার জন্য টিটিপিকে দায়ী করা হয়। ‘পাকিস্তানি তালেবান’ নামে পরিচিত এ সংগঠনটি আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও এটি আলাদা সংগঠন। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে টিটিপির তৎপরতা আরও বেড়েছে।
ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার টিটিপি সদস্যদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
৫ দিন আগে
মৌসুমি বৃষ্টি ও বন্যায় পাকিস্তানে এক মাসে ১০৯ প্রাণহানি
পাকিস্তানে গত এক মাসে মৌসুমি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ চলতি সপ্তাহের শেষদিকে বিভিন্ন এলাকায় আরও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, গত ২৬ জুন থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ঘরবাড়ি ও ছাদ ধসে প্রাণ হারিয়েছেন। মোট নিহতের প্রায় অর্ধেকই আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাসিন্দা।
এদিকে, এনডিএমএ সারা দেশে বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করছে। সংস্থাটির বৈঠকে নদীতরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্যোগের সময় তারা নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারেন অথবা বন্যার পানি সেসব এলাকায় পৌঁছানোর আগেই প্রয়োজন হলে তাদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
৭ দিন আগে
দাবি পূরণের আশ্বাসে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করল সিজেপি
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সব দাবি মেনে নেওয়ার পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও সিজেপির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয় বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর ‘সদিচ্ছা’র ভিত্তিতে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করছেন।
তারা জানান, একটি দাবি ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে। এছাড়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
সৌরভ দাস বলেন, ‘সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। তাই আমরা আন্দোলনকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘৩৬ দিনের আন্দোলনের পর সরকার আমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনস্থল ত্যাগ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের দাবিগুলো মৌলিক ছিল, উগ্র কোনো দাবি ছিল না।’
পরে পুলিশ লাউডস্পিকারে যন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়। নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই ছিল সিজেপির প্রধান দাবি।
৯ দিন আগে
বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান
পরীক্ষায় অনিয়ম ও নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের জেরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে মাসব্যাপী উত্তাল ছিল দিল্লিসহ ভারতের প্রধান শহরগুলোর রাজপথ। এরই মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে তৃতীয় ধাপের বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলেও পোস্ট করেছেন তিনি।
এক্সে পোস্ট করা একটি চিঠিতে তিনি লেখেন, এটি (মন্ত্রিত্ব) তার জন্য কখনোই ‘ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয়’ ছিল না।
দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের মূল দাবিই ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
তার পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে দুই দফা আলোচনার পরও মীমাংসা না হওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত ছিল। আজ শনিবার সকালে সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করলে আর কোনো আলোচনা হবে না।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো ছিল—ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিটের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
১০ দিন আগে
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ অব্যাহত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পুলিশের দমন অভিযান উপেক্ষা করে আজ বৃহস্পতিবারও হাজারো তরুণ বিক্ষোভকারী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ আন্দোলন এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নয়াদিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল জন্তর মন্তরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল (বুধবার) রাতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। চলতি সপ্তাহে পুলিশ দ্বিতীয়বারের মতো বিক্ষোভকারীদের দমনে এই অভিযান চালায়।
এর আগে, সোমবারও হাজারো বিক্ষোভকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে সেই বিক্ষোভ ছত্ভঙ্গ করে।
‘ককরোচ’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনটি গত এক মাসেরও আগে থেকে শুরু হয়। মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও সরকারি চাকরির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ আন্দোলনের সূচনা হলেও পরে এটি শুধু ওই ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ধীরে ধীরে এতে পেশাজীবী ও পরিবারের সদস্যরাও যোগ দেন। ফলে আন্দোলনটি সামগ্রিক জনঅসন্তোষে রূপ নেয়।
এদিকে, গতকালের পুলিশি অভিযানের পর আজ সকালে পুলিশের কড়াকড়ি অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা আবারও বিক্ষাভস্থলে জড়ো হতে থাকে। এ সময় তারা সড়কে থাকা ব্যারিকেড উপেক্ষা করে বিক্ষোভস্থলে ফিরে আসেন।
অপরদিকে, আন্দোলনে মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত করতে কর্তৃপক্ষ মধ্য দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশনে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে।
প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি ভারতের লাখো তরুণের ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।
আজ ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই!’
১১ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আদায়ের দাবি বিপজ্জনক: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এশীয় নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের দাবি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু বিশ্ব অর্থনীতির জন্যই নয়, আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌ চলাচলের নীতির জন্য বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করবে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২২ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক বৈঠকের শুরুতে রুবিও এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এর প্রভাব নিয়ে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দিকে থাকলেও রুবিও আসিয়ান নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা সব সময় আসিয়ানের সঙ্গে আছি।’
তিনি বলেন, ‘যদি আমরা মধ্যপ্রাচ্যে জলপথে টোল নেওয়ার নজির তৈরি করি, যেখানে কোনো রাষ্ট্র একটি আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণ করবে, সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল নেবে এবং কেউ সেই টোল না দিলে তাদের জাহাজ হামলার শিকার হবে, তাহলে এমন সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি উদাহরণ তৈরি করবে। পরে বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোতেও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’
এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই বৈঠকে অংশ নিতে ম্যানিলায় অবস্থান করছেন। বুধবার ব্রিটেনের সদ্য নিয়োগ পাওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড. মিলিব্যান্ডও ম্যানিলায় পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে তার দপ্তর।
আসিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি রুবিও যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানকে নিয়ে গঠিত চারদেশীয় জোট ‘কোয়াড’-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে প্রযুক্তি, মানবিক সহায়তা, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তাসহ দেশগুলোর বিভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে কোয়াডভুক্ত দেশগুলো একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। এতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগে তারা নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
যৌথ বিবৃতিতে কোয়াড নেতারা জানান, তারা এ বিষয়ে একমত যে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রুবিও বলেন, ‘কোয়াড আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ বছরের শেষের দিকে আমরা আবারও বৈঠকে বসব।’
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে ফিলিপাইনের মতো ছোট দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে ফিলিপাইন এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো মিত্র।
দক্ষিণ চীন সাগরের এ আঞ্চলিক বিরোধে তাইওয়ানের পাশাপাশি আসিয়ানভুক্ত ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই জড়িত। মঙ্গলবার ম্যানিলায় শুরু হওয়া তিন দিনের বৈঠকের আলোচ্যসূচির অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল এসব আঞ্চলিক বিরোধ।
পরে রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ওই বৈঠকে আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ও ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কহার কমানোর বাণিজ্য চুক্তির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পিগট বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ও মন্ত্রী জয়শঙ্কর অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তিটি দ্রুত চূড়ান্ত করার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হয়েছেন। চুক্তিটি এখন প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে।’
ম্যানিলা উপসাগর-সংলগ্ন কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গেও রুবিওর পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
১২ দিন আগে