চীনের একটি মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশে অবস্থিত আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬১ জন।
চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) জানায়, গতকাল (সোমবার) বিকেলে দেশটির হুনান প্রদেশের চাংশা শহরের একটি আতশবাজি কারখানায় এ বিস্ফোরণ ঘটেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চায়না ডেইলি জানিয়েছে, কারখানাটি হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানি পরিচালনা করত। এটি মূলত চাংশা অধ্যুষিত কাউন্টি-স্তরের শহর লিউইয়াংয়ে অবস্থিত। কারখানাটি আতশবাজি উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত।
চাংশার মেয়র চেন বোঝাং জানান, ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে, তবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ এখনও চলমান।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনে (সিসিটিভি) আজ (মঙ্গলবার) প্রকাশিত আকাশচিত্রে দেখা যায়, ঘটনাস্থলের কিছু অংশ থেকে এখনও সাদা ধোঁয়া উঠছে। অনেক স্থাপনা ধসে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৫০০ জন উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় এবং বিস্ফোরণস্থলের কাছে থাকা দুটি কালো বারুদের গুদাম থেকে উচ্চ ঝুঁকির কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ এই বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধান করছে এবং পুলিশ ওই কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আটক করেছেন বলে জানিয়েছে সিনহুয়া।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং আহতদের উদ্ধার করতে ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা’ চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দ্রুত ঘটনার কারণ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতে ঝুঁকি নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং জননিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার নির্দেশও দেন তিনি।
উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে নতুন দুর্ঘটনা এড়াতে উদ্ধারকর্মীরা পানি ছিটানো ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি করার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো যায়। অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য তিনটি রোবটও মোতায়েন করেন তারা।
লিউইয়াংয়ের আতশবাজি উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস জানায়, চীনা ফায়ারক্র্যাকার নামে প্রথম নথিভুক্ত আতশবাজি লিউইয়াংয়ের কাছে বসবাসকারী এক সন্ন্যাসী লি তিয়ান তৈরি করেছিলেন। এই সন্ন্যাসী চীনের তাং রাজবংশের (প্রায় ৬১৮ থেকে ৯০৭ খ্রিস্টাব্দ) সময়ে বাস করতেন। তিনি একদিন লক্ষ করেন, ফাঁপা বাঁশের ভেতরে গানপাউডার ভরে দিলে জোরে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর তিনি এগুলো একসঙ্গে বেঁধে ঐতিহ্যবাহী নববর্ষের আতশবাজি তৈরি করেন। এই আতশবাজিগুলো অশুভ আত্মা তাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হতো বলে গিনেস জানায়।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে চন্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে চীনে আতশবাজির দোকানে দুটি প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।