অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে সৈকতে ভেসে এল রহস্যময় বস্তু
অস্ট্রেলিয়ার উত্তর কুইন্সল্যান্ডের সৈকতে রহস্যজনকভাবে ভেসে এসেছে ৬টি বড় আকৃতির গোলাকার বস্তু। প্রাথমিকভাবে এগুলোকে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ বা ‘স্পেস বল’ বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এগুলো রকেটের জ্বালানি ব্যবস্থার অংশ হতে পারে এবং এর ভেতরে অত্যন্ত বিষাক্ত রকেট জ্বালানি অবশিষ্টাংশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এ নিয়ে স্থানীয় জনগণের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি স্থানীয় সময় রবিবার (৫ জুলাই) জানিয়েছে, রহস্যময় এসব বস্তু কোথা থেকে এসেছে, তা শনাক্তে তারা কাজ করছে। এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, বস্তুগুলোতে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, টাউনসভিলের ফরেস্ট বিচ এলাকায় সৈকতে ভেসে আসা বস্তুগুলো দেখতে বড় আকৃতির ধাতব গোলকের মতো।
রবিবার কুইন্সল্যান্ড ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, সৈকত থেকে মোট ৬টি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি নিরাপদে ড্রামের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর ষষ্ঠ বস্তুটিকে নিরাপদে রাখার কাজ চলছে।
অন্যদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলেরও কমতি নেই। ‘ফরেস্ট বিচ টেকঅ্যাওয়ে’ নামে একটি স্থানীয় খাবারের দোকান ‘স্পেস জাঙ্ক স্ন্যাক বক্স’ নামে নতুন একটি খাবার বিক্রি শুরু করেছে। দোকানের সামনে থাকা একটি বোর্ডে মজার ছলে লেখা হয়েছে, ‘এই খাবার সৈকতে ভেসে আসা রহস্যময় বস্তু না, তাই নিশ্চিন্তে চিনে খেতে পারবেন।’
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, সৈকতে রহস্যময় এসব বস্তু নিয়ে স্থানীয় জনগণের জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই। এ বিষয়ে পুলিশও কোনো তদন্ত করছে না।
ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে উত্তর কুইন্সল্যান্ডে এমন আরও ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে। তবে এতে সেখানের জনসাধারণের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। তারপরও স্থানীয়দের অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির পরামর্শ ও তথ্য অনুসরণ করা উচিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোর প্রকৃতি ও উৎস এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ এবং ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে কাজ করা অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বস্তুগুলোকে প্রাথমিকভাবে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ বলেই মনে করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংস্থাটি উত্তর কুইন্সল্যান্ডের ফরেস্ট বিচে পাওয়া সন্দেহভাজন মহাকাশের ধ্বংসাবশেষের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে তারা এসব বস্তুর প্রকৃতি ও উৎস শনাক্তে কাজ করছে।
এ বিষয়ে ফ্লিন্ডার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশ প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং মহাকাশের আবর্জনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক অ্যালিস গোরম্যান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও পর্যালোচনা বলেন, ‘বস্তুগুলোতে আগুনে পোড়া বা দগ্ধ হওয়ার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘এতে ধারণা করা যায়, এগুলো কোনো রকেট উৎক্ষেপণের প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপের অংশ হতে পারে, যা পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। রকেটের বাকি অংশ পেলোড বহন করে মহাকাশে চলে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বস্তুগুলো রকেটের জ্বালানি ব্যবস্থার অংশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। এগুলো টাইটানিয়াম সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি চাপযুক্ত জ্বালানি সংরক্ষণ পাত্র, যার গলনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বস্তুকে আসলে ‘স্পেস বল’ বলা হয় এবং উৎক্ষেপণের বহু বছর পরও এগুলো খুঁজে পাওয়া যায়। সম্ভবত এর আগে এ ধরনের বস্তু সমুদ্রপৃষ্ঠে পড়ে থাকার দৃশ্য কেউ দেখেনি।’
তবে গোরম্যান সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘বস্তুগুলো মহাকাশ শিল্পের অংশ নাও হতে পারে। এগুলো সামুদ্রিক কোনো উৎস থেকেও আসতে পারে।’
তবে তিনি জানান, ‘যদি এগুলো সত্যিই ‘স্পেস বল’ হয়, তাহলে এর ভেতরে অত্যন্ত বিষাক্ত রকেট জ্বালানি হাইড্রাজিনের কিছু অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে।
তিনি ধারণা করে বলেন, ‘এগুলো রাশিয়ার ফ্রেগাট রকেটের অংশও হতে পারে। কারণ ওইসব রকেটের জ্বালানিতেও একই ধরনের চাপযুক্ত জ্বালানি পাত্র ব্যবহার করা হয়।’
গোরম্যান বলেন, ‘১৯৮০ এর দশকের মার্কিন বিজ্ঞানভিত্তিক কৌতুক চলচ্চিত্র ‘স্পেসবলস’এর সঙ্গে এই বস্তুগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। ‘স্পেস বল’ হলো মহাকাশে রকেট নিক্ষেপের পর সবচেয়ে বেশি পাওয়া ধ্বংসাবশেষগুলোর একটি। এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এগুলো পাওয়া গেছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে সচল উপগ্রহ, অচল যন্ত্রাংশ ও রকেট উৎক্ষেপণের পরিত্যক্ত র ৩০ হাজারেরও বেশি মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ ঘুরে বেড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘মহাকাশের আবর্জনা বেশিরভাগ সময় সমুদ্রের ওপর দিয়েই পৃথিবীতে ফিরে আসে। তবে অস্ট্রেলিয়া বিশাল স্থলভাগ হওয়ায় এখানে প্রায়ই মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশে উৎক্ষেপণের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় উপজাত হিসেবে মহাকাশের আবর্জনার সমস্যাও বাড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে মহাকাশে যে পরিমাণ উৎক্ষেপণ হয়েছে, তা মানব ইতিহাসের আগের সব উৎক্ষেপণের মোট সংখ্যার চেয়েও বেশি। ফলে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসছে।’
৭ দিন আগে
শিশুদের সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ‘পুরোপুরি’ না মানার অভিযোগ অস্ট্রেলিয়ার
অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেসবুক, ইনস্টগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের মত কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব প্ল্যাটফর্মগুলো ১৬ বছরের কম বয়সী অস্ট্রেলীয় শিশুদের এগুলোর ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ই-নিরাপত্তা কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে এ বিষয়ে জানান। প্রতিবেদনে তিনি ১০টি প্ল্যাটফর্মকে ১৬ বছরের কম বয়সী সকল অস্ট্রেলীয় শিশুদের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইনের আওতায় ওই প্ল্যাটফর্মগুলো কী কী যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা রাখবে অস্ট্রেলিয়ার আদালত।
জুলি ইনম্যানের রিপোর্টে বলা হয়, প্রায় ৫০ লাখ অস্ট্রেলীয় শিশুর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হলেও অনেক শিশু এখনও তাদের অ্যাকাউন্টটি ধরে রেখেছে। তারা পুনরায় অ্যাকাউন্ট তৈরি করছে এবং প্ল্যাটফর্মগুলোতে আ্যাকাউন্ট খোলার সময় প্রদত্ত বয়স যাচাই পর্বও কোনোরকম বাধাবিপত্তি ছাড়াই পাস করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ওই ১০টির মধ্যে অন্তত পাঁচটি প্ল্যাটফর্মের কমপ্লায়েন্স নিয়ে তাদের ‘গুরুতর উদ্বেগ’ রয়েছে। তার দপ্তর ইতোমধ্যে এই পাঁচটি প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করছে, কারণ এই প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয় সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা পালনে যথেষ্ট উদাসীনতা দেখাচ্ছে।
এই আইন না মানলে আদালত সর্বোচ্চ ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। ই-নিরাপত্তা সংস্থা খুব দ্রুতই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
১০৩ দিন আগে
মা, ভাইবোনদের বাঁচাতে সমুদ্রে ৪ ঘণ্টা সাঁতরাল কিশোর
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে ভেসে যাওয়া মা ও দুই ছোট ভাইবোনকে বাঁচাতে তীব্র ঠান্ডা পানিতে উত্তাল সমুদ্রে চার ঘণ্টা সাঁতরেছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে পার্থের বাসিন্দা ওই পরিবারটি কায়াক (ছোট নৌকা) এবং প্যাডেলবোর্ড নিয়ে সাগরে নেমেছিল। এর মধ্যে উত্তাল সমুদ্র এবং প্রবল বাতাস তাদের টেনে নিয়ে যেতে শুরু করে। এরপর প্রায় ৪ কিলোমিটার সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছায় কিশোর অস্টিন অ্যাপেলবি এবং মা, ভাইবোনদের উদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অস্টিন বলে, ‘ঢেউগুলো ছিল বিশাল এবং আমার গায়ে কোনো লাইফ জ্যাকেট ছিল না।… আমি শুধু ভাবছিলাম—শুধু সাঁতার কাটতে থাকো, সাঁতার কাটতে থাকো। একসময় আমি তীরে পৌঁছাতে পারি এবং সৈকতে আঘাত করি ও পড়ে যাই।’
সে আরও জানায়, কায়াকে যাওয়ার সময় প্রথমে সে লাইফ জ্যাকেট পরেছিল। কিন্তু সমুদ্র উত্তাল ছিল এবং প্যাডেলবোর্ডটি পানিতে ডুবে যাচ্ছিল, তাই সে সেটি থেকে নেমে পড়ে। এরপর সাঁতার কাটতে সমস্যা হওয়ায় লাইফ জ্যাকেটটিও খুলে ফেলে। তার ভাষ্য, তখন ইতিবাচক চিন্তাভাবনায় মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করে সে।
সেদিন দুপুরের আগেই পরিবারটি তাদের সমুদ্র অভিযানে বেরিয়ে পড়েছিল। অস্টিনের কর্তৃপক্ষকে জানাতে সন্ধ্যা ৬টা বেজে যায় এবং রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মা জোয়ান অ্যাপেলবি (৪৭), ভাই বিউ (১২) এবং বোন গ্রেসকে (৮) উদ্ধার করে একটি হেলিকপ্টার।
পরিবারটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের কুইন্ডালুপ থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার সমুদ্রের গভীরে ভেসে গিয়েছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা তারা পানিতে ভেসেছিল।
স্থানীয় পুলিশ পরিদর্শক জেমস ব্র্যাডলি বলেন, ছেলেটির কাজের কেবল প্রশংসাই যথেষ্ট নয়, তার দৃঢ় সংকল্প এবং সাহস তার মা এবং ভাইবোনদের জীবন বাঁচিয়েছে।
জোয়ান অ্যাপেলবি সাংবাদিকদের বলেন, আমি তো ছেলেমেয়েদের সাগরের মাঝখানে রেখে তীরে চলে আসতে পারি না! তাই বড় ছেলেকে পাঠাই।
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে তিনি বলেন, আমার জীবনে নেওয়া সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি ছিল অস্টিনকে বলা— চেষ্টা করো, তীরে গিয়ে সাহায্য নাও। কারণ আমরা খুব শিগগিরই বড় বিপদে পড়তে পারি।
তিনি আরও বলেন, শুরুতে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে অস্টিন তীরে পৌঁছাবে, কিন্তু যখন সূর্য অস্ত যেতে শুরু করে এবং তখনও আমাদের কাছে সাহায্য পৌঁছায়নি, তখন ছেলের বিষয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছিল।
জোয়ান অ্যাপেলবি বলেন, যখন আমাদের উদ্ধার করা হয়, তখন আমরা তিনজনই কাঁপছিলাম। তীব্র ঠান্ডায় বিউয়ের পা তো অবশই হয়ে গিয়েছিল। তবে আমার তিনটি বাচ্চা, তিনজনই বেঁচে আছে—এটাই আসল কথা।
১৫৮ দিন আগে
সিডনিতে গুলিতে ১৫ প্রাণহানির পর কঠোর অস্ত্র আইনের পথে অস্ট্রেলিয়া
সিডনির বন্ডি সমূদ্রসৈকতে ইহুদিদের হনুক্কা উৎসব চলাকালে গুলিবর্ষণে শিশুসহ ১৫ জন নিহতের ঘটনার পর জাতীয় পর্যায়ে আরও কঠোর অস্ত্র আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।
এই ঘটনার তদন্তের পর জানা যায়, হামলাকারী ছিলেন দুজন। তারা পিতা-পুত্র। তাদের মধ্যে পিতার গত এক দশক ধরে অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুসারেই ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন।
এই তথ্য সামনে আসার পর স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের আলবানিজ বলেন, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে পারবেন, তা পুনর্নির্ধারণ করে নতুন অস্ত্র আইনের প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ ধরনের হামলা ঠেকাতে সরকার প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। আর এ জন্য কঠোর অস্ত্র আইনের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মানুষ বদলায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেউ কেউ চরমপন্থা দ্বারাও প্রভাবিত হতে পারে। তাই (আগ্নেয়াস্ত্রের) লাইসেন্স কোনোভাবেই আজীবনের জন্য হওয়া উচিত নয়।’
রবিবারের ওই হামলায় অন্তত ৩৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আর নিহত ১৫ জনের মধ্যে ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে ও একজন রাব্বি ছিলেন।
সৈকত-সংলগ্ন ছোট এক পার্কে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে হাজার খানেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। গরমের মধ্যে ওই সন্ধ্যায় সৈকতে প্রচুর ভিড় ছিল। এরই মধ্যে গুলি চালান দুই হামলাকারী।
গণহামলা ঠেকাতে অস্ত্র আইন
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় সৈকতটিতে সংঘটিত এই নৃশংস হামলা দেশটিতে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণের ঘটনা। রাইফেলের মাধ্যমে ব্যাপক হারে গুলিবর্ষণ ঠেকাতে দেশটিতে কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন রয়েছে।
তারপরও একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর এমন বর্বরতাকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ। তিনি বলেছেন, এই ঘটনা গোটা দেশের হৃদয়ে আঘাত করেছে। যত দ্রুত সম্ভব এই ধরনের নৃসংশতা ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
এ লক্ষ্যে স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে নিউ সাউথ ওয়েলসের নেতাদের নিয়ে গঠিত জাতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি অস্ত্র আইনসংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। কারণ কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়নে রাজ্য আইনের প্রয়োগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তার কথায়, ‘কিছু আইন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রণয়ন করা যায়, কিন্তু আরও কিছু আইন রয়েছে যেগুলো বাস্তবায়নের এখতিয়ার রাজ্য সরকারগুলোর। আমরা চাই সবাই যেন সম্পূর্ণভাবে সমান অবস্থানে থাকে।’
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার (রাজ্য সরকারপ্রধান) ক্রিস্টোফার মিন্স আলবানিজের প্রস্তাবে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তিনিও মনে করেন, অস্ত্রের লাইসেন্স আজীবনের জন্য দেওয়া উচিত নয়।
রাজ্যের রাজধানী সিডনিতে সাংবাদিকদের মিন্স বলেন, ‘রাজ্যের বিদ্যমান অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আনা হবে। এ লক্ষ্যে সংসদে একটি বিল উপস্থাপন করা হবে, যাতে এসব ভয়ংকর অস্ত্র প্রাপ্তি আরও কঠিন হয়। আমাদের সমাজে যেসব অস্ত্রের কোনো বাস্তব প্রয়োজন নেই, সেগুলোর ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।’
২০৯ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলে ৪০টি বাড়ি ভস্মীভূত, এক ফায়ার ফাইটার নিহত
অস্ট্রেলিয়ার দুই অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ৪০টি বাড়ি পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলসে আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কমিশনার ট্রেন্ট কার্টিন জানান, নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের বুলাহডেলা শহরের কাছে রবিবার রাতে একটি দাবানল নেভানোর সময় ৫৯ বছর বয়সী ওই ফায়ার ফাইটারের ওপর গাছ ভেঙে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। তবে তাকে চিকিৎসা দিয়েও বাঁচানো যায়নি।
রবিবারে লাগা ওই আগুনে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর (৮ হাজার ৬৫০ একর) বনভূমি এবং চারটি বাড়ি পুড়ে গেছে।
কার্টিন বলেন, দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আরও কয়েক দিন কাজ চালিয়ে যেতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২১৬ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করলেন আলবানিজ
নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ের মধ্যদিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্থনি আলবানিজ।
আনুষ্ঠানিক ভোট গণনা কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হবে না। তবে সারা দেশে লিবারেল ন্যাশনাল জোটের শোচনীয় পরাজয়ের পর আলবানিজের বামপন্থী সরকার নাটকীয়ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।
আরও পড়ুন: গোয়েন্দাদের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকে যুদ্ধ হয়: অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী
শনিবার (৩ মে) আলবানিজ বলেছেন, ‘আজ অস্ট্রেলিয়ার জনগণ মূল্যবোধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, ন্যায্যতা, আকাঙ্ক্ষা ও সুযোগ সৃষ্টির জন্য। এটি প্রতিকূলতায় সাহস দেখানোর শক্তি এবং যাদের প্রয়োজন তাদের প্রতি দয়া দেখানো।’
জোট নেতা পিটার ডাটন নিজের ২৪ বছর ধরে জয় পাওয়া নিজের আসনে হেরেছেন। তিনি দলের পরাজয়ের জন্য নিজের সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করে দলীয় এমপিদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।
সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা
৪৩৫ দিন আগে
গোয়েন্দাদের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকে যুদ্ধ হয়: অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী
গণবিধ্বংসী অস্ত্র (ডব্লিউএমডি) সম্পর্কে গোয়েন্দাদের ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইরাক যুদ্ধ পরিচালিত হয় বলে স্বীকার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড।
বুধবার(১ জানুয়ারি) হাওয়ার্ড বলেছেন, এটি হতাশাজনক যে, ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র (ডব্লিউএমডি) শনাক্ত করতে গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানগুলোতে ভুল হয়েছিল। তবে তিনি এখনও বিশ্বাস করেন, অস্ট্রেলিয়াকে যুদ্ধে জড়িত করার সিদ্ধান্তটি জাতীয় স্বার্থে ছিল।
ন্যাশনাল আর্কাইভ অব অস্ট্রেলিয়ার (এনএএ) ২০০৪ সালের পূর্বের মন্ত্রিসভার নথি প্রকাশের সঙ্গে তার মন্তব্যগুলো মিলে যায়।
প্রতি বছর ১ জানুয়ারি এনএএ ২০ বছর আগের মন্ত্রিসভার নথি জনসম্মুখে প্রকাশ করে।
আরও পড়ুন: ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন
২০০৩ সালের নথিগুলোর কিছু নিখোঁজ হওয়ার কারণে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বিলম্বে প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে, হাওয়ার্ডের সরকার ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে ইরাকে সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছিল। ওই বছরের কয়েক মাস আগে মার্চে অস্ট্রেলিয়াকে প্রকাশ্যে ইরাক যুদ্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করা হয়।
২০০৪ সালের একটি তদন্তে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ান গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরাকের গণবিধ্বংসী অস্ত্রের পরিমাণ এবং প্রকৃতি সঠিকভাবে বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে দ্বিতীয় সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী হাওয়ার্ড বুধবার বলেছেন, যুদ্ধে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।
বল প্রয়োগের অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘের কোনো অনুমোদন ছাড়াই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ২০০৩ সালের মার্চ মাসে ইরাক আক্রমণ শুরু করেছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেছিলেন, মিশনটি ছিল ‘ইরাককে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থেকে নিরস্ত্র করা, সন্ত্রাসবাদে সাদ্দাম হোসেনের সমর্থন শেষ করা এবং ইরাকি জনগণকে মুক্ত করা।‘ যা আসলে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ক্যানবেরায় টিফার আওতায় বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক মে মাসে
৫৫৭ দিন আগে
মাস্কের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে অস্ট্রেলিয়ার কড়া জবাব
শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখতে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে নতুন যে আইন উত্থাপন হয়েছে, তা দেশটির সরকারের কূট পরিকল্পনা হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন এক্স-এর মালিক মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। মাস্কের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে উত্থাপিত বিলের উদ্দেশ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
শিশুদের বেড়ে ওঠা প্রাণবন্ত করার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে তাদের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পার্লামেন্টে এক প্রস্তাব উত্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী মিশেল রোল্যান্ড। প্রস্তাবিত আইনে ১৬ বছরের কম বয়সি শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা হয়।
রোল্যান্ড বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের মধ্য দিয়ে শিশুদের বেড়ে ওঠা যে অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক বৈশিষ্ট নয়, এই বিলের মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি নতুন আদর্শিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা হবে।’
‘যাচাই না করা বিপুল পরিমাণ কনটেন্টের সংস্পর্শ থেকে শিশু-কিশোরদের বিরত রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে অবশ্যই কিছু করা উচিত। আর এ বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।’
তবে বিষয়টিতে অন্য কিছুর গন্ধ পান ইলন মাস্ক। এক্স-এ তিনি লেখেন, অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে এটি (সরকারের) একটি গোপন কৌশল বলে মনে হচ্ছে।
তবে শুক্রবার মাস্কের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির কোষাধ্যক্ষ জিম চালমার্স।
আরও পড়ুন: ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করবে অস্ট্রেলিয়া
মাস্কের দাবিই সরকারের উদ্দেশ্য কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই না।’
‘মাস্কের কাছ থেকে এমন মন্তব্য পাওয়া বিস্ময়কর কিছু নয়। কারণ আইন বাস্তবায়নের পর তা লঙ্ঘন করলে এক্সসহ সব সামাজিক প্ল্যাটফর্মকে ১৫ কোটি (অস্ট্রেলিয়ান) ডলার করে জরিমানা করা হবে।’
‘ফলে মাস্ক যে আমাদের এই পদক্ষেপে খুশি নন, তা আমাদের বিস্মিত করে না। তার মন্তব্য আমাদের খুব বেশি ভাবায় না।’
ব্যাপক রাজনৈতিক সমর্থন থাকায় এক্স, টিকটক, ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, রেডিট ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক প্ল্যাটফর্ম থেকে কিশোর-কিশোরীদের নিষিদ্ধ করতে আগামী সপ্তাহেই অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট আইনটি পাস হতে পারে। সোমবার এ নিয়ে দেশটির সংসদ সদস্যদের মধ্যে পার্লামেন্টে বিতর্ক হওয়ার কথা রয়েছে।
চালমার্স আরও বলেন, ‘ইলন মাস্ককে খুশি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নীতিমালা করা আমাদের কাজ নয়। আমাদের কাজ হচ্ছে অনলাইনে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
৫৯৭ দিন আগে
১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করবে অস্ট্রেলিয়া
অনলাইনে সন্তানদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে যুগান্তকারী এক আইন উত্থাপন করেছেন দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী মিশেল রোল্যান্ড। প্রস্তাবিত আইনে ১৬ বছরের কম বয়সি শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টে রোল্যান্ড বলেন, এই আইন পাস হলে ছোট ছোট বাচ্চাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলা ও ব্যবহার আটকাতে ব্যর্থ হলে টিকটক, ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, রেডিট, এক্স ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে ৫ কোটি (অস্ট্রেলিয়ান) ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
এ সময় তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের মধ্য দিয়ে শিশুদের বেড়ে ওঠা যে অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক বৈশিষ্ট নয়, এ বিষয়ে এই বিলের মাধ্যমে একটি নতুন আদর্শিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা হবে।’
‘যাচাই না করা বিপুল পরিমাণ কনটেন্টের সংস্পর্শ থেকে শিশু-কিশোরদের বিরত রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে অবশ্যই কিছু করা উচিত। আর এ বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।’
তবে বিষয়টি অন্যভাবে দেখছেন এক্সের মালিক ইলন মাস্ক। তিনি বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে এটি (সরকারের) একটি গোপন কৌশল বলে মনে হচ্ছে।’
অবশ্য পার্লামেন্টে উত্থাপনের পর বিলটি ব্যাপক রাজনৈতিক সমর্থন পেয়েছে। এটি আইনে পরিণত হলে সামাজিক মাধ্যমে বয়সের সীমাবদ্ধতা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা নিয়ে কাজ করার জন্য প্ল্যাটফর্মগুলো এক বছর সময় পাবে।
রোল্যান্ড বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার অনেক তরুণের জন্যই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ক্ষতিকর হতে পারে। ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি অস্ট্রেলিয়ানদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই অনলাইনে মাদকের ব্যবহার, আত্মহত্যা কিংবা সহিংস কনটেন্ট দেখে থাকে। অনিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের বিজ্ঞাপন দেখেছে তাদের এক-চতুর্থাংশ।’
‘সরকারি গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার ৯৫ শতাংশ সেবাদাতা অনলাইন নিরাপত্তাকে অভিভাবকত্বের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। নিজেদের প্ল্যাটফর্ম থেকে হওয়া ক্ষতির মোকাবিলায় তারা আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘তরুণদের শাস্তি দেওয়া বা (অনলাইনে কর্মকাণ্ড থেকে) বিচ্ছিন্ন করে ফেলা নয়, বরং তাদের সুরক্ষার জন্য আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে। বাবা-মায়েদের উদ্দেশে বলতে চাই, সন্তানের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য আমরা তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছি।’
৫৯৮ দিন আগে
রহস্যময় কালো বলে সয়লাব, সিডনির সৈকত বন্ধ ঘোষণা
অপরিচিত ও রহস্যময় প্রচুর কালো কালো বলের আকৃতির বস্তু ভেসে আসার পর সিডনির একটি জনপ্রিয় সৈকত জনসাধারণের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পূর্ব সিডনির কুগি সৈকতজুড়ে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) লাইফ গার্ডরা বলের আকৃতির শত শত আবর্জনা পাওয়ার পর সৈকতটিকে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় র্যান্ডউইক সিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সৈকতটি বন্ধ থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভেসে আসা বস্তুগুলো কী ধরনের উপাদান দিয়ে গঠিত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য সেগুলোর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
৬৩৪ দিন আগে