মধ্যপ্রাচ্য
এবার ইসরায়েল-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আশঙ্কা
প্রায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতির পর আবারও ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। এদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা সৌদি আরবের একটি এলাকার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান ইসরায়েলের দিকে দুই দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। হামলার সময় ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। তারপরও ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এর আগে, সোমবার ভোরে ইসরায়েল মধ্য ও পশ্চিম ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। তাদের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়। গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘর্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কয়েকদিন আগে ইসরায়েলকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সে আহ্বান উপেক্ষা করে স্থানীয় সময় রবিবার (৭ জুন) বৈরুতের দক্ষিণ উশহরে হামলা চালায় ইসরায়েল। এর পরপরই ইরান পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। এর আগে, ট্রাম্প বেনিয়মিন নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন, ইসরায়েলের আর কোনো পাল্টা হামলার প্রয়োজন নেই।
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের
এদিকে, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, লোহিত সাগরে চলাচলকারী ইসরায়েলের জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে আবারও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।
হুথিদের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারির হামলার এ বিবৃতি গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার করা হয়।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে হুথিদের এই ঘোষণায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক এসব ঘটনার কারণে সেখানের পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।
৫৬ দিন আগে
এবার ইসরায়েলি সেনার গুলি কাড়ল ৭ মাসের শিশুর প্রাণ
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সেনাদের ছোড়া গুলিতে ৭ মাস বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় পশ্চিম তীরের হেবরনের কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
একই সময়ে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার মধ্যেই কায়রোতে গাজা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন দফা আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হেবরনের কাছে গাড়িটি সেনাদের দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছিল। সন্দেহ হওয়ায় সে সময় তারা গাড়িটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আহত তিন ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। তারা কোনো সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
এদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি সেখানে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাও বাড়ছে।
শিশুটির বাবা ফাহদ আবু হাইকাল বেথলেহেম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তার গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিটি গাড়ির সামনের কাঁচ ভেদ করে প্রথমে তার ডান হাতে লাগে। পরে গুলিটি তার ৭ মাস বয়সী ছেলে সাম ফাহদ আবু হাইকালের মুখ ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তার স্ত্রীর শরীরেও গুলি লেগেছে বলে জানান তিনি। আরেকটি গুলি তাদের গাড়ির বোনেটে লাগে।
৫৭ দিন আগে
যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলের হামলা, লেবাননে ২ সেনা কর্মকর্তাসহ নিহত ৯
নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর কয়েক দিনের মাথায় দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে লেবাননের সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, একজন ক্যাপ্টেন এবং অপর এক সেনাসদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবানিজ সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
শনিবার (৬ জুন) নাবাতিয়েহ ও মারজাইউন শহরের মধ্যবর্তী সড়কে একটি গাড়িতে চালানো বিমান হামলায় ওই দেশটির সেনাবাহিনীর ওই তিন সদস্য নিহত হন। সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি।
এদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের সাকসাকিয়াহ গ্রামে পৃথক আরেকটি বিমান হামলায় ছয়জন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি।
দেশটির সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘লেবানন, আমাদের জনগণ ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অব্যাহত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পুনরাবৃত্ত আগ্রাসন আমাদের সংকল্প, বিশ্বাস ও দৃঢ়তাকে আরও শক্তিশালী করছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং দখলকৃত লেবানিজ ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে চলমান সব প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করাই এসব হামলার উদ্দেশ্য।
গাড়িতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তারা জানিয়েছে, ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তবে তাদের দাবি, কফার তিবনিত গ্রামের কাছে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের দিকে হামলার জন্য হিজবুল্লাহ ওই এলাকা থেকে গোলাবর্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন ‘নির্দিষ্ট তথ্য’ পাওয়ার পর গাড়িটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় হামলা চালানো হয়।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযান হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়, লেবাননের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এ হামলাকে ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনে চলমান আলোচনার মাধ্যমে ইসরায়েলি হামলা বন্ধে লেবানন চেষ্টা চালিয়ে গেলেও দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো এই উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে।
তবে হিজবুল্লাহ দেশটিকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির সরকার। সরকারের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগে সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করারও চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়নি।
শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিরোধিতার জন্য ইরানের সমালোচনা করেন। তারা বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের ‘দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে লেবাননকে ব্যবহার করা উচিত নয়।
এর জবাবে আজ শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আউনের বক্তব্য শুনলে মনে হবে ইরান লেবাননের এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখল করেছে, দেশটির এক-চতুর্থাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং প্রতিদিন সেখানে বোমা হামলা।’
লেবাননের প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘লেবানন যদি সত্যিই ইরানের দর-কষাকষির হাতিয়ার হতো, তাহলে বহু আগেই একটি চুক্তি হয়ে যেত। লেবাননকে প্রকৃত শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করুন।’
গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানোর মাধ্যমে বর্তমান যুদ্ধের সূচনা হয়। এর দুই দিন আগে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছিল। এরপর ইসরায়েল লেবাননে স্থল অভিযান চালায় এবং ব্যাপক হামলা শুরু করে, যার ফলে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বর্তমানে ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, যা ১৯৮২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত চলা দখলদারত্বের অবসানের পর সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লেবাননে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সংঘাতে অন্তত ২৯ জন ইসরায়েলি সেনা ও তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
৫৮ দিন আগে
গাজায় রাতভর ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৯
গাজায় রাতভর চালানো একাধিক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশি আলোচনায় রয়েছে। এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজায় অন্তত চারটি পৃথক হামলায় ওই নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে, গত সপ্তাহে ইসরায়েল হামাসের এক শীর্ষ সামরিক নেতাকে হত্যা করে। তার দুই সপ্তাহ আগে আরেকটি হামলায় তার পূর্বসূরিও নিহত হন।
গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সংঘাত চলে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে এই সংঘাত বন্ধের চেষ্টা করা হয়েছিল। এর ফলে তীব্র লড়াই অনেকটাই কমে এসেছে। তবুও নাজুক এই যুদ্ধবিরতির মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই গাজায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনা ঘটছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে বারবার হামলা চালিয়েছে। সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকার কাছে অবস্থান করা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে তারা প্রায়ই গুলি চালায়। এতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৩৬ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
হামাস পরিচালিত সরকারের এই মন্ত্রণালয়ের তথ্যকে সাধারণত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেন। তবে মন্ত্রণালয়টি নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক ও কতজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন, সে বিষয়ে কোনো পৃথক কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
অন্যদিকে, গাজায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের সেনাদের জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি তৈরি করে। তার জবাবেই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি সেনাদের এসব হামলা চালাতে হয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ৪ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হন। সে সময় ২৫১ জন ইসরায়েলি নাগরিককে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস। এ ঘটনার জবাবে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে।
৬০ দিন আগে
বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিরোধিতায় ইসরায়েলজুড়ে বিক্ষোভ
ইসরায়েলে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার রক্ষণশীল ইহুদি। এ সময় তারা বিভিন্ন স্থানে তারা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন, যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে ইসরায়েলজুড়ে জনজীবন ও পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ জুন) ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব ও জেরুজালেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় একটি বিক্ষোভস্থলে এক সেনাসদস্যের ওপর হামলা করে বিক্ষুদ্ধ জনতা। সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে জলকামান ও ঘোড়া ব্যবহার করতে হয়েছে।
এই বিক্ষোভের ফলে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে। জেরুজালেম ও তেল আবিব মহানগর এলাকায় বিশাল জনসমাগমের কারণে বেশ কয়েকটি মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি সেখানে গণপরিবহন চলাচলও সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল।
ইসরায়েলে অধিকাংশ ইহুদি নারী ও পুরুষের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী রক্ষণশীল ইহুদিরা এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন পড়াশোনা করতে এই সম্প্রদায়কে সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ফলে বর্তমানে তাদের সেই অব্যাহতি ব্যবস্থা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
আবার অনেক ইসরায়েলি রক্ষণশীল ইহুদিদের দীর্ঘদিনের এই অব্যাহতি ব্যবস্থায় অসন্তুষ্ট। তাদের মতে, বর্তমানে সেখানে সেনাবাহিনী চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে অনেক নাগরিককে একাধিকবার সংরক্ষিত সেনাসদস্যের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এমন সময়ে রক্ষণশীল ইহুদিদের সামরিক সেবার দায়িত্ব থেকে ছাড় দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয় বলে দাবি তাদের।
এদিকে, এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন সরকারের মধ্যেও বিভাজন সৃষ্টি করেছে। রক্ষণশীল ইহুদিরা সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। ফলে চলতি বছরে নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
একটি সংসদীয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ১৩ হাজার রক্ষণশীল ইহুদি তরুণ ১৮ বছর বয়সে সামরিক নিয়োগের উপযুক্ত হন। তবে তাদের মধ্যে ১০ শতাংশেরও কম শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
অন্যদিকে, সেনাসদস্যের ঘাটতি মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে অধিকাংশ ইহুদি পুরুষকে প্রায় তিন বছর সামরিক সেবা দিতে হয়। এরপর তাদের দীর্ঘ সময় সংরক্ষিত সেনাসদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে হয়। ইহুদি নারীদের জন্য এই বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ দুই বছর।
জেরুজালেমের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা রক্ষণশীল সম্প্রদায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা এই বিক্ষোভকে আমাদের অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছি। আমাদের দৃষ্টিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া মানে ধর্ম ত্যাগ করা। আমরা আমাদের ইহুদি ধর্ম ছাড়তে চাই না। তাই আমাদের কাছে এটি নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাজার হাজার রক্ষণশীল ইহুদিকে জোর করে সেনাবাহিনীতে নেওয়ার কোনো উপায় নেই।’
বিক্ষোভকারীদের প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়, যাতে লেখা ছিল, ‘জায়নিস্ট হিসেবে বেঁচে থাকার চেয়ে আমরা ইহুদি হিসেবে মরতে রাজি’ এবং ‘জায়নিস্ট ধর্মের স্বার্থে পরিচালিত সেনাবাহিনীতে আমরা সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানাই।’
ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশই রক্ষণশীল সম্প্রদায়ের সদস্য। একইসঙ্গে এই সম্প্রদায়ে সেখানে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল জনগোষ্ঠী। ঐতিহ্যগতভাবে তারা পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন। তাই দীর্ঘদিন ধরে এই সম্প্রদায়ের লোকেরা সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় এই ব্যবস্থার সূচনা হয়। সে সময় গণহত্যায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইহুদি শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে রক্ষণশীল শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অধ্যয়নে নিয়োজিত করা হয়েছিল।
তবে রক্ষণশীল সম্প্রদায়ের সামরিক সেবা থেকে এই অব্যাহতি এবং ২৬ বছর বয়স পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সরকারি ভাতা দেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বহু ইসরায়েলির অসন্তোষের কারণ হয়ে আছে।
এদিকে, ইসরায়েলকে বর্তমানে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় একযোগে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে হচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও সংঘাতে জড়িত পড়েছে তারা। ফলে তাদের সেনাবাহিনী জনবল সংকট ও তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে।
২০১৭ সালে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট রক্ষণশীলদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করে। তবে আদেশ বাস্তবায়নে সরকারের গড়িমসির কারণে এই অব্যাহতি ব্যবস্থা এখনও কার্যকর রয়েছে।
ইসরায়েলের ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর কাছে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা জাতীয় ঐক্য এবং প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে অপেক্ষাকৃত বিচ্ছিন্ন রক্ষণশীল সম্প্রদায়ের অনেকেই আশঙ্কা করেন, সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে তরুণরা ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতির সংস্পর্শে চলে যাবে।
৬২ দিন আগে
ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, কুয়েতে পাল্টা হামলা তেহরানের
চলতি সপ্তাহের শেষদিকে ইরান মার্কিন এমকিউ১ প্রিডেটর ড্রোন ভূপাতিত করার পর দেশটির রাডার ও ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার মাঝেই দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত ক্রমেই তীব্রতর হয়ে উঠছে। এর প্রভাব পড়ছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১ জুন) মার্কিন সামরিক বাহিনী এ হামলার তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে, ইরানও তাদের পাল্টা হামলার কথা স্বীকার করেছে। একই সময়ে কুয়েত জানিয়েছে, তারা নিজেদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতহত করেছে।
সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি এখন খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে এখনও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ইরান। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কারণ, বিশ্বে বাণিজ্য হওয়া তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচভাগের একভাগ এই জলপথ দিয়েই পরিবহন হয়।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ছে। ইসরায়েল লেবাননে লিতানি নদীর উত্তরের এলাকাগুলোতে নিজেদের দখল বাড়িয়েছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহও ইসরায়েল লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনি ও রবিবার ইরানের গেরুক শহর ও কেশম দ্বীপের আশপাশে তারা হামলা চালিয়েছে।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, এর আগে আন্তর্জাতিক জলসীমার উপরে উড়তে থাকা একটি মার্কিন এমকিউ ১ ড্রোন ভূপাতিত করে তেহরান। এর জবাবেই তারা এ হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, মার্কিন যুদ্ধবিমান দ্রুত অভিযান চালিয়ে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। ইরানের এসব সামরিক স্থাপনা উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলকারী মার্কিন জাহাজগুলোর জন্য হুমকি ছিল বলে দাবি তাদের।
তারা আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী ধীরে ধীরে এমকিউ প্রিডেটর ড্রোনের ব্যবহার কমিয়ে আনছে। বর্তমানে তারা এমকিউ ৯ রিপার ব্যবহার করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে এখনও প্রিডেটর ড্রোন ব্যবহৃত হচ্ছে।
তবে এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা আহত হননি বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
কুয়েতে হামলা প্রতিহত
এদিকে কুয়েত জানিয়েছে, সোমবার ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ সময় তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য করে তারা গুলি চালায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনী দেশটির একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কোথায় ছিল, তা বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা কুয়েতের হামলার কথাই উল্লেখ করেছে। কারণ কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেন্ট্রালের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ফরোয়ার্ড কমান্ড অবস্থিত।
পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ভিডিও প্রচার করা হয়। ভিডিওতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে একটি স্টিকার দেখা যায়। স্টিকারে আঘাতপ্রাপ্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি, বন্ধ হরমুজ প্রণালির প্রতীক ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা হটাও লেখা ছিল।
যুদ্ধবিরতি আলোচনা ঘিরে নতুন সংকট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। তবে উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশ জানিয়েছে, আলোচনা এখনও চলছে। বিশেষ করে, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এরই মধ্যে এ সপ্তাহের শেষের দিকে ইরানের বন্দর অবরোধ অতিক্রমের চেষ্টা করে গাম্বিয়ার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ। পরে জাহাজাটির ইঞ্জিন কক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচল শুরু হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ এখনও রয়েছে। পাশাপাশি রাসায়নিক সার সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে। এতে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। কারণ, বিশ্বে বাণিজ্য হওয়া রাসায়নিক সারের প্রায় ৩০ শতাংশই আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
সোমবার ভোরে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পোস্টে চলমান হামলার বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও সমালোচকদের উদ্দেশে মন্তব্য করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ইরান একটি চুক্তি করতে চায় যেটি যুক্তরাষ্ট্র ও সব দেশের জন্য ভালো একটি চুক্তি হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা শান্ত থাকুন এবং অপেক্ষা করুন। শেষ পর্যন্ত সব ঠিক হয়ে যাবে।’
৬৩ দিন আগে
গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা দখলে নিতে ইসরায়েলি বাহিনীকে নেতানিয়াহুর নির্দেশ
গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কার্যত ভেঙে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে গাজা উপত্যকার ৭০ শতাংশ এলাকা দখলে নেওয়ার জন্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ইতোমধ্যে বিপর্যস্ত গাজায় ভয়াবহ মানবিক সংকট আরও তীব্র হবে।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ইসরায়েলি বাহিনী একটি নির্ধারিত সীমারেখায় সরে যায়, যার মাধ্যমে গাজার ৫৩ শতাংশ এলাকার ওপর ইসরায়েলের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে হামাস-নিয়ন্ত্রিত অংশে নিজেদের অবস্থান বিস্তৃত করেছে এবং সীমান্তঘেঁষা বিস্তীর্ণ এলাকাকে ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’ ঘোষণা করেছে। এসব এলাকায় কে প্রবেশ করতে পারবে, তা নির্ধারণের অধিকার নিজেদের বলে দাবি করছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেই সঙ্গে যাদের হুমকি মনে হচ্ছে, তাদের ওপর গুলি চালানো হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যুদ্ধবিরতির সীমারেখা-সংলগ্ন এলাকা খালি করার কাজে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। তারা বাসিন্দাদের বাড়িঘর ও আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে নির্দেশ দিচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির মাঝেও ইসরায়েলি বাহিনী ‘ইয়েলো লাইন’-সংলগ্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে যাচ্ছে এবং পশ্চিম গাজার ভেতরে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এসব হামলায় ৯০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি বসতিতে আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহু গাজায় ইসরায়েলের ভূখণ্ডগত লক্ষ্য স্পষ্ট করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে হামাসকে চেপে ধরছি। এখন গাজার ৬০ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে। আগে ছিল ৫০ শতাংশ, এখন ৬০ শতাংশে এসেছি। আমার নির্দেশ হচ্ছে এটিকে ৭০ শতাংশে নেওয়া।’
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎস বুধবার বলেন, সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনিকে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা, যাকে তিনি ‘স্বেচ্ছায় অভিবাসন’ বলে উল্লেখ করেন। তবে মানবাধিকারকর্মীরা একে ‘বসবাসের পরিস্থিতি অসহনীয় করে দীর্ঘমেয়াদি জাতিগত নিধন পরিকল্পনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি, তা অনুমোদনকারী জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার সরাসরি লঙ্ঘন হবে। ওই পরিকল্পনায় গাজাকে অস্থায়ীভাবে ইসরায়েল ও হামাস নিয়ন্ত্রিত হিসেবে দুই ভাগে ভাগ করে একটি ‘ইয়েলো লাইন’ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ট্রাম্প পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, ‘কাউকে জোর করে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না। যারা যেতে চাইবে, তারা যেতে ও ফিরে আসতে স্বাধীন থাকবে। আমরা মানুষকে গাজায় থাকার জন্য উৎসাহিত করব এবং উন্নত গাজা গড়ে তোলার সুযোগ দেব।’
এ বিষয়ে ফিলিস্তিনী গবেষক, লেখক, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী মুহাম্মদ শেহাদা বলেন, ‘নেতানিয়াহু এখন কার্যত পুরো ট্রাম্প চুক্তিকেই বাতিল ঘোষণা করছেন। সহজ ভাষায় এটাই এর অর্থ।’
তিনি জানান, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবশিষ্ট ভবনগুলোও পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করেছে। ফলে গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা দখল করা হলে যুদ্ধ থেকে বেঁচে যাওয়া প্রায় ২২ লাখ ফিলিস্তিনিকে মূল ভূখণ্ডের এক-তৃতীয়াংশেরও কম এলাকায় গাদাগাদি করে থাকতে হবে, যা আগে থেকেই অতিরিক্ত জনবহুল।
শেহাদা আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি ইতোমধ্যে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জায়গাগুলোর একটি এটি। প্রতি বর্গমিটারে বাস্তুচ্যুত পরিবার, অস্থায়ী তাঁবু বা আশ্রয় রয়েছে। ফলে বহু মানুষের জন্য এটি মৃত্যুদণ্ডের শামিল হবে, কারণ তাদের যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা নেই।’
নেতানিয়াহুর ‘৭০ শতাংশ’ মন্তব্য নিয়ে জানতে চাইলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বিষয়টি রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতির সময়জুড়ে ইসরায়েলি বাহিনী ধীরে ধীরে তাদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত করেছে। গাজায় কাজ করা মানবিক সংস্থাগুলোর প্রধানদের জন্য জাতিসংঘের এক ব্রিফিংয়ে সাম্প্রতিক অগ্রগতির তথ্য উঠে এসেছে।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, উত্তরাঞ্চলীয় জাবালিয়ায় প্রায় প্রতিদিন ট্যাংক অগ্রসর হচ্ছে এবং ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছাকাছি যেকোনো নড়াচড়া করা বস্তু ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসের পূর্ব দিকেও ইসরায়েলি ট্যাংক অগ্রসর হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এতে আরও বলা হয়, গাজার স্থানীয় সশস্ত্র নেতা আশরাফ আল-মানসি পরিচালিত ইসরায়েল-সমর্থিত একটি হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী গত সপ্তাহে জাবালিয়া এলাকায় ‘ইয়েলো লাইন’ থেকে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে।
এসব গোষ্ঠী এখন সীমারেখা এলাকায় ক্রমেই সক্রিয় হয়ে উঠছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রবর্তী বাহিনী হিসেবে কাজ করছে। তারা হামাসের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তেও বাধ্য করছে।
দক্ষিণ গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী ওয়ায়েল নায়েফ আবু আল-আজিন বলেন, চলতি মাসের শুরুতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কারণে তার পরিবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।
তিনি বলেন, ‘দুপুর ১টার দিকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা এলাকায় ঢুকে আবু আল-আজিন পরিবারের সদস্যদের রাত ১০টার মধ্যে এলাকা খালি করতে বলেন। তারা যতটুকু সম্ভব আসবাব ও জিনিসপত্র নিয়ে যেতে নির্দেশ দেন এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফিরে আসতে নিষেধ করেন।’
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট -এর গবেষক নাসের খদৌর বলেন, ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো শুধু হামাসের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে না, বরং সীমারেখা-সংলগ্ন বাসিন্দাদের আরও পশ্চিম দিকে ঠেলে দিতেও ভূমিকা রাখছে।’
গত নভেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রস্তাবের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি তদারকির দায়িত্ব ট্রাম্প-নিযুক্ত ‘বোর্ড অব পিস’-এর হাতে দেওয়া হয়। তারা জাতিসংঘের অভিজ্ঞ বুলগেরীয় কূটনীতিক নিকোলে ম্লাদেনভকে গাজার ‘হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ হিসেবে নিয়োগ দেয়।
তবে গত সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া ম্লাদেনভের প্রতিবেদনের সমালোচনা হয়েছে। প্রতিবেদনে যুদ্ধবিরতির ব্যর্থতার জন্য মূলত হামাসকে দায়ী করা হয় এবং তাদের নিরস্ত্র হতে অস্বীকৃতির কথা বলা হয়, কিন্তু ইসরায়েলের লঙ্ঘনের বিষয়টি তেমনভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের শর্ত, বিশেষ করে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ ও মূল ‘ইয়েলো লাইন’-এ ফিরে যাওয়ার শর্ত পালন করে, তাহলে তারা নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত।
অতীতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন গোপন আলোচনায় যুক্ত থাকা ইসরায়েলি বিশ্লেষক গেরশন বেসকিন বলেন, তার বিশ্বাস মূল যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, হামাসের সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা নিয়ে হামাসকে প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে হামাসের আগের দাবিগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হামাস কোনো জবাব দেয়নি।’
বেসকিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন বিকল্প পরিকল্পনার দিকে যাবে, যার আওতায় ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত ‘গ্রিন জোনে’ পুনর্গঠন কার্যক্রম চালানো হবে এবং হামাস বা অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাইয়ের পরই ফিলিস্তিনিদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমেরিকানদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইয়েলো জোনে কেবল হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীই থাকবে। এরপর ইসরায়েল তাদের সঙ্গে যেভাবে খুশি ব্যবস্থা নিতে পারবে। আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে আমি এটাই ঘটতে দেখছি।’
৬৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েতে ‘পাল্টা হামলা’ চালিয়েছে ইরান
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার কুয়েত জানায়, দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে কোথায় হামলা হয়েছে বা কী লক্ষ্যবস্তু ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি দেশটির সামরিক বাহিনী।
পরে ইরান জানায়, সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জবাবে তারা পাল্টা অভিযান চালিয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেনি তেহরান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, বুধবার গভীর রাতে ইরান কুয়েতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ওয়াশিংটন এই ঘটনাকে পারস্য উপসাগরে তাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্রের বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত গুরুতর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কুয়েতে হামলার দায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। তবে ইরানে চলমান সংঘাতের সময় এর আগেও কুয়েতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার জন্য কুয়েত অতীতে ইরান ও ইরান-সমর্থিত ইরাকি শিয়া মিলিশিয়াদের দায়ী করেছিল।
এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনা নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটেনি। এখনো পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি।
পারস্য উপসাগরের এই সরু জলপথ দিয়ে একসময় বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হতো। প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
এর মধ্যে ইরানকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দিতে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে তেহরান তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে, যাতে দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, মাইন স্থাপনকারী নৌকা এবং আক্রমণকারী ড্রোন লক্ষ্য করে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি তৈরি করা ইরানের চারটি একমুখী ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী। একইসঙ্গে ইরানের বন্দর আব্বাসে একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে, যেখান থেকে পঞ্চম একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, ইরানের আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ড রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরএনএর মাধ্যমে বন্দর আব্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় হামলার কথা স্বীকার করেছে। হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত হয়।
ইরান দাবি করেছে, যে বিমানঘাঁটি থেকে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল, সেটিকে লক্ষ্য করেই তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। কুয়েতে হওয়া হামলার সঙ্গে এই অভিযানের সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়।
৬৭ দিন আগে
ইরানে আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় আনতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল!
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে আবার ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল ইসরায়েল। তবে বিশ্লেষকদের অনেকেই এই তথ্যকে অবাস্তব বলে মনে করছেন।
২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ওই সময়ে তিনি ইসরায়েলবিরোধী কঠোর বক্তব্যের কারণে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন। তবে পরে তিনি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এরপর থেকে তিনি সরকারের সমালোচনা শুরু করেন। সে সময় তিনি নিজেকে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের পক্ষে থাকা নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আহমাদিনেজাদকে গৃহবন্দি থেকে পালাতে সহায়তা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এমনকি তাকে তার তেহরানের বাড়ি থেকে বের করে আনতে বাড়িটির কাছের একটি নিরাপত্তা ভবনে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। তবে পরে আহমাদিনেজাদ এই পুরো পরিকল্পনা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে যান।
এদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসের এ প্রতিবেদনকে বিশ্লেষকদের অনেকেই বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না। অনেকের মতে, এটি আহমাদিনেজাদের সমর্থকদের ছড়ানো প্রচারণা। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ তৈরির পরিকল্পনা করেছিল। এ ছাড়াও তারা বিমান হামলার মাধ্যমে ইরান সরকারকে দুর্বল করে দিয়ে সরকার পতন ঘটাতে চেয়েছিল।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষোভের মুখে রয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই তিনি চলমান ইরান সংঘাত থেকে কিছুটা সরে আসার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের দেওয়া শর্ত মানতে তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছন তিনি। এ কারণে প্রয়োজনে ইরানে আবার হামলার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) ট্রাম্প জানান, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের নেতাদের অনুরোধে তিনি ইরানে নতুন হামলার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছেন। তবে পরদিন মঙ্গলবার (১৯ মে) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার দীর্ঘ ফোনালাপ হয়। ফোনালাপে আবার তারা সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইসরায়েলকে হামলা থেকে বিরত রাখা সম্ভব কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে গতকাল (বুধবার) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যা চাই, নেতানিয়াহু তা-ই করবেন। আমার কাছে তিনি দারুণ একজন মানুষ।’
অন্যদিকে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করতেই এ অবরোধ দেওয়া হয়েছে। কারণ, চীনই এখন ইরানের রপ্তানি করা তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এবং বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎস।
ট্রাম্প বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ খুলে দিতে চান, তবে এ নিয়ে তার কোনো চাপ নেই। তিনি বলেন, আমি হরমুজ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ার মধ্যে নেই। আমি চাই এই সংঘাতে প্রাণহানি না হোক।
আবার, তেহরান মনে করছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে। এ কারণে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ-সংক্রান্ত দাবি মানতে রাজি নয় ইরান। ইরান চায়, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করে আগে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ তুলে নিক যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, ট্রাম্প যদি ইরানে আবার হামলা শুরু করে, তাহলে তারা এই যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে দেবে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদন নিয়ে ইরানি গণমাধ্যমগুলোও সন্দেহ প্রকাশ করেছে। ইরানি গণমাধ্যমগুলো বলছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ কখনোই গৃহবন্দি ছিলেন না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইসরায়েলের হামলার সময় ইরানি গণমাধ্যমে খবর এসেছিল, আহমাদিনেজাদ তার বাড়িতে হামলায় নিহত হয়েছেন।
পরে অবশ্য জানা যায়, উত্তর-পূর্ব তেহরানের নারমাক এলাকায় আহমাদিনেজাদের বাড়ির বাইরে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা করেছিল ইসরায়েল। পরে স্যাটেলাইট ছবিতেও সেই হামলার সত্যতা নিশ্চিত হয়। তখন ধারণা করা হচ্ছিল, সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে আহমাদিনেজাদ ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করতে পারেন।
ওই বিমান হামলার পরের কয়েক দিনে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছিল, হামলায় তিনি সামান্য আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় তার দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন।
আহমাদিনেজাদ ক্ষমতায় আসলে তিনি নেতানিয়াহুর ভালো মিত্র হতে পারতেন না। কারণ, তিনি তার তীব ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন।
ইরানে হামলার শুরুতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছিলেন, তিনি ইরানে ভেনেজুয়েলার মতো একটি মডেল অনুসরণ করতে চান। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করলেও সেখানে কারাকাসের সরকার পুরোপুরি অক্ষত রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ডেলসি রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনের সঙ্গে অনেকটাই সমন্বয় করে কাজ করছেন। তবে ইরানে আহমাদিনেজাদ ও সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন রয়েছে, তাই সেখানে এমন সমঝোতার সম্ভাবনা কম।
এর আগে, ২০১১ সালে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন আহমাদিনেজাদ। এরপর থেকে আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পরে ২০১২ সালে আহমাদিনেজাদের প্রতিদ্বন্দ্বী আলি লারিজানি পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচিত হন। মূলত মন্ত্রী নিয়োগ ও অর্থনৈতিক নীতি এসব বিষয় নিয়ে আহমাদিনেজাদতাদের সঙ্গে অন্য নেতাদের তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছিল।
২০১৮ সালে আহমাদিনেজাদ তার উত্তরসূরি হাসান রুহানির সরকারের সমালোচনা করার পর গ্রেপ্তার হন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রীয় নেতারা জনগণের সমস্যা ও উদ্বেগ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন রেখেছেন। সমাজের বাস্তবতা সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না।’
এসব কারণে পরবর্তীতে আহমাদিনেজাদকে ইরানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়, যার মধ্যে ২০২৪ সালের নির্বাচনও ছিল। পরে তিনি ধীরে ধীরে রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই নীরব হয়ে যান। এরপর ২০২৫ সালে ইরানে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে তিনি খুব সীমিত পরিসরে সমালোচনা করেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পরে আহমাদিনেজাদের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। গত বছর জুনে তিনি ইসরায়েলপন্থি দেশ হাঙ্গেরি সফরে গিয়ে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর অল্প কয়েকবার বিদেশ সফরে গিয়েছেন তিনি। তার হাঙ্গেরি সফর ছিল এই কয়েকটি সফরের মধ্যে একটি। তবে, এই সফরটি ইরান সরকারের অনুমোদন নিয়েই হয়েছিল।
৭৪ দিন আগে
হামাসকে নিরস্ত্র করতে নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ চাইবে বোর্ড অব পিস
হামাসকে নিরস্ত্র করতে চাপ প্রয়োগের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানাবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ মে) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হাতে আসা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস অস্ত্র সমর্পণ ও গাজায় বেসামরিক প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি নয়। এ কারণে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা বোর্ড অব পিস গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে চলমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে নিয়ে সংস্থাটির এই প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নের প্রধান বাধাগুলো হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণে রাজি না হওয়া, গাজায় তাদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে অনীহা এবং গাজাকে বেসামরিক প্রশাসনে রূপান্তরের সুযোগ না দেওয়া। এসব কারণেই সেখানে যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে।
তবে হামাস এক বিবৃতিতে এই প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, এতে ‘ভুল তথ্য’ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটির সঙ্গে পরিচিত এক কূটনীতিক এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রতিবেদনটি এখনও প্রকাশ না হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি কথা বলেছেন।
ট্রাম্পের ২০ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার আওতকায় হামাসকে অস্ত্র সমর্পণসহ তাদের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংসের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে এ পরিকল্পনায় গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং দীর্ঘ যুদ্ধের পর বিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি স্থবির হয়ে আছে
গত সপ্তাহে বোর্ড অব পিসের প্রধান ও সাবেক জাতিসংঘ মধ্যপ্রাচ্য দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ জানান, অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্র করতে গিয়ে পুরো যুদ্ধবিরতির অগ্রগতি থেমে গেছে।
নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া বোর্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস তাদের অস্ত্র জমা না দিলে গাজা পুনর্গঠন শুরু করা সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য কিছু চুক্তি সম্পন্ন হবে। এতে হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার নেতৃত্ব দেওয়া হামাস অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ইসরায়েল তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। একইসঙ্গে হামাস নিজেদের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে শর্ত হিসেবে ধরেছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বর্তমানে ভূখণ্ডটির প্রায় ৬০ শতাংশ ইসরায়েলের দখলে রয়েছে।
বোর্ড অব পিসের নতুন প্রতিবেদনে নিরাপত্তা পরিষদকে বলা হয়েছে, গাজায় সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্র অপসারণ করা হলে যুদ্ধের সমাপ্তি হবে। পাশাপাশি অস্ত্র হস্তান্তর সম্পন্ন হলে গাজা পুনর্গঠন শুরু হবে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরির জন্য সশস্ত্র বাহিনীগুলোকে নিরস্ত্রীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হামাসের দবি, যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিতেই এ প্রতিবেদন
এদিকে, হামাস জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি ভুল তথ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে। ইসরায়েলি দখলদার সরকারকে গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায় অব্যাহতি দিতেই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইসরায়েল কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আশ্রয় তৈরিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণ প্রবেশে বাধা দিয়েছিল। এই বিষয়গুলো প্রতিবেদনে উপেক্ষা করা হয়েছে।
হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, নিরস্ত্রীকরণ বিষয়টি নিয়ে করা পরিস্থিতি ঘোলাটে করা হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে ভেস্তে দিতেই এমন অযৌক্তিক শর্তকে বার বার সামনে আনছেন তারা।
এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদ ও নিকোলাই ম্লাদেনভের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হামাস বলেছে, ইসরায়েলকে আগে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে প্রতিদিনের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ
হামাস বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এতে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তারা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করে আসছে। এছাড়া, গাজার মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছ্। এ বিষয়গুলোকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় এখনও বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নির্ধারিত এলাকার চেয়েও বেশি অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। অন্যদিকে, গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষ চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। অধিকাংশ মানুষই এখানে তাবু টাঙিয়ে বসবাস করছে।
গত সপ্তাহে নিকোলাই ম্লাদেনভ জানান, তার দপ্তর প্রতিদিন উভয় পক্ষের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা মোকাবিলা করছে। তবে এক্ষেত্রে তিনি নিরস্ত্রীকরণ বিষয়টিকেই কোনো সমাধান বের না হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, হামাস অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে কোনো আলোচনায় আসতে রাজি না। এ কারণেই গাজায় অন্যান্য বিষয়ে অগ্রগতি আটকে আছে।
৭৫ দিন আগে