ঢাকা
প্রেম নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাত, রাজধানীতে যুবক নিহত
রাজধানীর সবুজবাগে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে মো. সাইফ উদ্দিন সিফাত (২৮) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে সবুজবাগের আদর্শপাড়া বরইতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সিফাতের বাড়ি রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায়। তার বাবার নাম জয়নাল আবেদীন।
সিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তার বন্ধু হাসান জানান, নাজিফা শেখ নেহা নামে এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে জয় ও আরও ২ থেকে ৩ জনের সঙ্গে সিফাতের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সিফাতকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
হাসান আরও জানান, নেহার সঙ্গে আগে সিফাতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে জয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তিনি। গতকাল (রবিবার) সিফাত মোটরসাইকেলে করে নেহার সঙ্গে দেখা করতে গেলে বিষয়টি জয় দেখতে পান। এরপর তিনি আরও কয়েকজনকে নিয়ে সিফাতের ওপর হামলা চালান।
এ ব্যাপারে নাজিফা শেখ নেহা জানান, বিকেলে সিফাত আদর্শপাড়া এলাকায় তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এ সময় স্থানীয় জয়, রাজিব, ইয়াসিনসহ ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল সিফাতকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। হামলার পর সিফাতকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নাজিফা আরও জানান, গত দুই বছর ধরে সিফাতের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
গোপালগঞ্জে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ৩০ জন।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা ব্রিজের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকায় যাচ্ছিল। গেড়াখোলা এলাকায় পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে ব্রিজ-সংলগ্ন খাদে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন জন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে আহতদের উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত ১২ জনকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত নিহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মো. আজাদুর রহমান বলেন, ‘টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস গেড়াখোলা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা গেছেন। আহতদের মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।’
১ দিন আগে
বাড্ডায় ফার্নিচারের গোডাউনে আগুন
রাজধানীর বাড্ডা এলাকার সাতারকুলে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি ফার্নিচারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক (মিডিয়া সেল) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে ওই গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে পূর্বাচল ফায়ার স্টেশন থেকে আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের ইউনিট দুটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে আর প্রয়োজন না থাকায় পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট মাঝপথ থেকেই ফিরে যায়।
আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
১ দিন আগে
গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৪
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে। এছাড়া আরও দুজন আহত হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়িয়া-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের কাঞ্চনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, শ্রীপুরের মাওনা থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি কালিয়াকৈরের দিকে যাচ্ছিল। কাঞ্চনপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে।
দুর্ঘটনাস্থলেই ফিরোজা বেগমসহ দুজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে আসাদুল মারা যান। পরে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান নাসিমা বেগম। নিহত নাসিমা বেগম ও আসাদুল সম্পর্কে মা-ছেলে। নিহত আরেক ব্যক্তির পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর সড়কটিতে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে কাভার্ড ভ্যান চালকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম।
২ দিন আগে
গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত, আহত ৪
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কালিয়াকৈর-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের কাঞ্চনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, শ্রীপুরের মাওনা থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কালিয়াকৈরের দিকে যাচ্ছিল। কাঞ্চনপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়।
এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে সড়কের পাশে গিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে অটোরিকশায় থাকা দুই যাত্রীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন, আর আহতাবস্থায় চালকসহ অন্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২ দিন আগে
কারওয়ান বাজারে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত ব্যক্তি নিহত
রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন কারওয়ান বাজার এলাকায় রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাতপরিচয় (৫৫) এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কারওয়ান বাজারের পেছনের রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কারওয়ান বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী কাদের জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে কারওয়ান বাজারের পেছনের রেললাইন পার হওয়ার সময় চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে পড়ে ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি আরেক পথচারীর সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
২ দিন আগে
আশুলিয়ায় স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার
সাভারের আশুলিয়ায় মধ্য জামগড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে স্বামী, স্ত্রী ও তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য সেগুলো ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, মধ্য গাজীরচট এলাকায় হাজী হযরত আলীর চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় নতুন ভাড়াটিয়া হিসেবে ওই পরিবারটি বসবাস করছিল। গতকাল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা এক পুরুষ, এক নারী ও সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। এ কারণে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই কক্ষের দরজা-জানালা সবসময় বন্ধ থাকত। স্বামী-স্ত্রী সেখানে নতুন ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। শুক্রবার কক্ষটি থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
এদিকে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে।
২ দিন আগে
বেনাপোল চেকপোস্টে মৃত্যু, সেই ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ হস্তান্তর
দূতাবাসের ছাড়পত্র নিয়ে দেশে ফিরল বেনাপোল চেকপোস্টে মৃত্যুবরণকারী সেই ভারতীয় নাগরিক গৌতম মিস্ত্রির (৫৫) মরদেহ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
গৌতম ভারতের কলকাতার কালিয়ানগর সুরাইয়া সেন পল্লীর বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার রমনী মিস্ত্রির ছেলে।
এর আগে, দুই সপ্তাহ বরিশালে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফেরার সময় স্ট্রোক করে মারা যান তিনি।
গৌতমের স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি জানান, দুই সপ্তাহ আগে আমি আমার স্বামীকে নিয়ে বাংলাদেশের বরিশালে আমার বাবার বাড়ি এবং অন্য আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। গত বুধবার দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বেনাপোলে আসি। গাড়ি থেকে নামার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ অংশে মারা যাওয়ায় বিভিন্ন কাগজপত্রের কারণে মরদেহ নিয়ে দেশে ফিরতে পারিনি। প্রায় তিনদিন পর হাসপাতাল থেকে ডেথ সার্টিফিকেট, স্থানীয় থানার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর স্বামীর মরদেহ নিয়ে আজ দেশে ফিরে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ। আমার কাছে কোনো টাকা-পয়সা ছিল না। বাংলাদেশের মানুষ আমাকে টাকা-পয়সা দিয়ে অনেক সহযোগিতা করেছে। মরদেহ গাড়িতে উঠানো-নামানো থেকে শুরু করে সার্বিক সহযোগিতা করেছে। বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেব এবং স্থানীয় কিছু লোকজন বেশকিছু টাকা-পয়সা জোগাড় করে দিয়েছিলেন। যা দিয়ে ঢাকা যাওয়া-আসাসহ অন্যান্য সব খরচ এদেশের মানুষ বহন করেছে। এদেশের মানুষের মানবিকতাকে দেখে ধন্যবাদ জানানো ছাড়া আমার আর কিছু দেওয়ার নেই।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান বলেন, গত বুধবার স্ট্রোকে মৃত্যুবরনকারী ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ আজ শুক্রবার বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। দূতাবাসের ক্লিয়ারেন্স আনার পর আজ বেলা ১১টার দিকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে তার স্ত্রী জাহানারা মরদেহ নিয়ে ভারতে চলে গেছে।
২ দিন আগে
রাজধানীতে পাওনা টাকা চাওয়ায় অটোরিকশাচালককে ইট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা
রাজধানীর ডেমরায় মাত্র ১৫০ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক অটোরিকশাচালককে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রনি নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ডেমরার কামারভোগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেলোয়ারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠায়।
নিহত দেলোয়ার ওই এলাকার মৃত রাজ্জাক মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত রনি একই এলাকার বাসিন্দা। পূর্বপরিচিত হওয়ায় তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর স্থানীয়রা রনিকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শীতল কুমার বলেন, দেলোয়ার ও রনি পরস্পরের পূর্বপরিচিত। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দেলোয়ার রনির কাছে ১৫০ টাকা পেতেন। ওই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে ঝগড়া হয়। পরে রনি ইট দিয়ে দেলোয়ারের মাথায় আঘাত করেন।
তিনি আরও জানান, রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় ঘটনাটি ঘটতে পারে। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই দেলোয়ারের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রনি মাদকাসক্ত এবং তিনি মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একইসঙ্গে ঘটনার সময় সেখানে আর কেউ উপস্থিত ছিলেন কি না এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ইটটি কোথায় রয়েছে, সেসব বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
২ দিন আগে
প্রশাসনের উদ্যোগে খারদিয়া-ময়েনদিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনের পথে
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার খারদিয়া ও বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া এলাকার মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধ, উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা নিরসনে প্রশাসনের আন্তরিক উদ্যোগে শান্তি ও সম্প্রীতির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষকে মুখোমুখি সংঘাত থেকে সরিয়ে এনে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
খারদিয়া এলাকার নেতৃত্বে মুশফিক বিল্লা জিহাদ, অন্যদিকে ময়েনদিয়া এলাকার নেতৃত্বে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর। দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষের ভাঙচুর-লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বিরোধের জেরে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।
সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা দুই পক্ষের মানুষকে শান্ত করেন এবং পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দেন।
ছোট্ট এই উদ্যোগকে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধ নিরসনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবিরউদ্দিন ও বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসানের প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের এই আঞ্চলিক বিরোধ নিষ্পত্তির পথ আরও সুগম হয়েছে।
সালথা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে দুই এলাকার মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল। প্রশাসনের সময়োপযোগী উদ্যোগে পরিস্থিতি শান্ত করার পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রত্যাশা থাকবে প্রশাসনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে খারদিয়া ও ময়েনদিয়ার মানুষের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে এবং ভবিষ্যতে দুই এলাকার মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।
ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সনাক সদস্য হাসানউজ্জামান বলেন, অবশ্যই সাধুবাদ জানাই সংশ্লিষ্ট দুই উপজেলা প্রশাসনকে, দীর্ঘদিনের এ বিরোধ যদি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়, ওই দুটি অঞ্চলের জন্য এর থেকে আনন্দের আর কিছু নেই। আমরা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাব, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে দফায় দফায় আলোচনার মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এই আধিপত্য নিয়ে আর যেন মানুষের জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি না হয়।
এ প্রসঙ্গে সালথা উপজেলার ইউএনও দবিরউদ্দিন বলেন, মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান, উত্তেজনা প্রশমন ও পারস্পরিক সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনাও প্রশাসনের দায়িত্বের অংশ। তবে এ ক্ষেত্রে স্থানীয় শান্তিপ্রিয় মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে, পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনৈতিক কর্মীদের সদিচ্ছার দরকার বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে বোয়ালমারীর ইউএনও রকিবুল হাসান বলেন, মানুষের শান্তি প্রতিষ্ঠা করার কাজে আমরা সবসময় চেষ্টা করে চলছি।
প্রশাসনের এই কর্মকর্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ দিনের বিরোধী দুই পক্ষকে প্রাথমিকভাবে মেলানো সহজ ছিল না। তবে মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির স্বার্থে প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
৪ দিন আগে