খুলনা
নড়াইলে পৃথক ঘটনায় ২ জন নিহত
নড়াইলে পৃথক ঘটনায় এক যুবক ও এক মাদ্রাসাছাত্র নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২ আগস্ট) দিবাগত রাতে লোহাগড়া উপজেলায় রহমত শেখ (৩০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশ। তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
আজ (সোমবার) সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের চর-মল্লিকপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রহমত শেখ চর-মল্লিকপুর গ্রামের আব্দুল হাই শেখের ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, রহমত শেখের স্ত্রী বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় তিনি বাড়িতে একা ছিলেন। রবিবার রাতে তিনি খাবার খেয়ে নিজের ঘরে ঘুমাতে যান। আজ সকালে তাকে ডাকাডাকি করলেও তার কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে ঘরের দরজা ভেঙে জানালায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রহমতের মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
তার পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতের কোনো এক সময় তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, সে বিষয়ে তারা কিছু বলতে পারেননি।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, নড়াইলে কালিয়া পৌর এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোহাম্মদ তানভীর (১৫) নামে এক মাদরাসাছাত্র নিহত হয়েছে।
আজ সকাল ৮টার দিকে কালিয়া পৌর এলাকার বেন্দা গ্রামে একটি চায়ের দোকানে চা বানাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তানভীর বেন্দা গ্রামের মো. আজগার শেখের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
জানা গেছে, তানভীর তার বাবার চায়ের দোকানে বাবাকে সহায়তা করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক কেতলিতে চা বানাতে যায়। এ সময় কেতলিতে সমস্যা দেখা দিলে তানভীর নিজেই তা সারার চেষ্টা করে। এ সময় সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
যশোর থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯-এর অভিযানে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ মামলার প্রধান আসামি আব্দুল্লাহ ইফাদকে (২০) সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে অপহৃত স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করেছে র্যাব।
সোমবার (৩ আগস্ট) র্যাব-৯ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ ইফাদ (২০) হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার উত্তর বাজার এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, অপহৃত ছাত্রী যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানাধীন চণ্ডীপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রায় এক বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে অভিযুক্ত ইফাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত ৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তারা জানতে পারেন, স্কুলে যাওয়ার পথে চণ্ডীপুর মাদরাসা মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আব্দুল্লাহ ইফাদ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে যশোরের বাঘারপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পর থেকেই র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গত ২ আগস্ট রাত ৮টার দিকে সিলেট নগরীর শাহজালাল মাজার গেইট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ ইফাদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত ওই স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করে র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার আসামি এবং উদ্ধার ভুক্তভোগীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
যশোরে বিজিবির পোশাক-সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩
যশোরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পোশাক, হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ মো. উজ্জ্বল হোসেন (৩০) নামে এক চিহ্নিত দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার আরও দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (২ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম। গতকাল (শনিবার) শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবিপুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন: শার্শা উপজেলার গোগা গাজীপাড়া এলাকার মো. উজ্জ্বল হোসেন (৩০), হরিশচন্দনপুর পূর্বপাড়া এলাকার মো. আনারুল ইসলাম (৩২) এবং একই এলাকার মো. তোফাজ্জেল হোসেন (৩০)।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, ষষ্ঠীতলা এলাকার রবীন্দ্রনাথ রাহার বাড়ির তৃতীয় তলার পূর্ব পার্শ্বের ভাড়াটিয়ার বাসায় কয়েকজন দুস্কৃতিকারী অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে। শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে পৌঁছায়। পরে বাড়ির মালিক, নিচতলার ভাড়াটিয়া ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাদের দরজায় কড়া নাড়া হয়। তখন ঘরের ভেতর থেকে এক ব্যক্তি দরজা খোলেন এবং নিজেকে বিজিবির সদস্য বলে পরিচয় দেন।
পরে বাড়ির মালিকসহ ওই ঘরে প্রবেশ করে আরও দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা প্রত্যেকে নিজেদের বিজিবির সদস্য বলে পরিচয় দেন। কিন্তু তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। সে সময় তারা তর্কাতর্কি করে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন।
তাদের কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে যে তারা বিজিবির সদস্য নন। তারা বিজিবির সরকারি পোশাক পরে যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে থাকেন।
পরে তাদের ঘর তল্লাশি করে উজ্জ্বল হোসেনের শোবার ঘরের খাটের নিচে একটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে এক সেট বিজিবির সরকারি পোশাক, দুটি স্টিলের হ্যান্ডকাফ, দুটি ওয়াকিটকি, একটি স্টিলের চাইনিজ কুড়াল, দুটি স্টিলের কাটারি, একটি লোহা কাটার (গেন্ডার) মেশিন, একটি তালা কাটার মেশিন, একটি হ্যাকসো ব্লেড ও একটি নোস প্লাস জব্দ করা হয়।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তাররা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার উদ্দেশ্যে এসব সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে বিভিন্ন অপরাধে ৫টি ও তোফাজ্জেল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। জব্দ করা অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
১ দিন আগে
ঝিনাইদহে সবজির বাজার দাম কমলেও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে
ঝিনাইদহে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম কিছুটা কমলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফেরেনি। পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের ব্যবধান এবং সামগ্রিক চড়া মূল্যের কারণে বাজার করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
এদিকে, সবজির বাজার সামান্য কমতির দিকে হলেও মাছের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। রুই, কাতলা, মৃগেল থেকে শুরু করে নিম্নবিত্তের ভরসা তেলাপিয়াসহ সব ধরনের মাছের দামই এখন নাগালের বাইরে।
শনিবার (১ আগস্ট) ঝিনাইদহ শহরের প্রধান কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, গত ১৫-২০ দিন আগের আকাশছোঁয়া দাম থেকে বর্তমানে প্রায় সব ধরনের সবজির দামই কিছুটা কসেছে। তবে পাইকারি কেনা দামের চেয়ে খুচরা বিক্রি দামে রয়েছে উল্লেখযোগ্য ফারাক।
বর্তমানে বাজারে কাঁচামরিচ পাইকারি ২৪০ টাকায় কিনে বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি বেগুন ৮৫ টাকায় কিনে ১০০ টাকা, টমেটো ১১০ টাকায় কিনে ১৪০ টাকা, পটল ৪৭ টাকায় কিনে ৬০ টাকা, উচ্ছে ৮৫ টাকায় কিনে ১০০ টাকা, বরবটি ৬৮ টাকায় কিনে ৮০ টাকা এবং গাজর ১২০ টাকায় কিনে ১৪০ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে, ঢেঁড়শ ৩৫ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, মুলা ৪৫ টাকায় কিনে ৬০ টাকা এবং কচু ৪০ টাকায় কিনে ৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
শীতকালীন আগাম সবজির মধ্যে বাঁধাকপি ৬৫ টাকায় কিনে ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং পালংশাক প্রতি আঁটি ১৭ টাকায় কিনে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ২৫ টাকায় কিনে ৪০ টাকা এবং পেঁপে ২৫ টাকায় কিনে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। আলুর কেজি প্রতি ৩০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় স্থির থাকলেও রসুনের দাম পৌঁছেছে ১০০ টাকায়।
সবজির দাম কিছুটা কমলেও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এই দরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারিড়ার বাসিন্দা তাহুরা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, ‘তিন সপ্তাহ আগের চেয়ে দাম দুই-এক টাকা কমলেও আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এই দামে বাজার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যে আয়, তাতে সংসার চালানোই দায়; তার ওপর তরকারির এই দাম।’
একই সুর উপ-শহরপাড়ার বেবি খাতুনের কণ্ঠে। তিনি বলেন, কাগজে-কলমে দাম কমার কথা শুনলেও বাজারে এসে দেখি উল্টো চিত্র। এক কেজি তরকারি কিনতে গেলে অন্য তরকারি আর কেনা হচ্ছে না। মাছের বাজারে তো যাওয়ারই উপায় নেই।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তরকারি বিক্রেতা রমজান আলী ও আবুল কালাম জানান, অতিবৃষ্টি ও অপ্রতুল সরবরাহের কারণে ১৫-২০ দিন আগে দাম খুব বেশি ছিল। এখন সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম আস্তে আস্তে কমতির দিকে। তবে পাইকারি বাজার থেকে পরিবহন খরচ ও অপচয় হিসাব করেই খুচরা দর নির্ধারণ করতে হয়।
ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকার কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আশাদুল ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আগের সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে বাজারে দাম আরও কমে আসবে।
এদিকে, কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকেও মিলেছে ইতিবাচক বার্তা। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুজ্জামান জানান, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো ভারী বৃষ্টিপাত না হলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন সবজি বাজারে পুরোদমে উঠবে। তখন তরিতরকারির বাজার পুরোপুরি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।’
২ দিন আগে
চাঁদা বকেয়া থাকায় স্থানীয় গোরস্থানে জায়গা হলো না মৃত নাসির উদ্দিনের
কুষ্টিয়ার মিরপুরে চাঁদা বাকি থাকায় এক ব্যক্তির মরদেহ স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার (২৭ জুলাই) মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের পুরাতন আজমপুর এলাকায় চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে।
মৃত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, আজমপুর পুরাতন পাড়া গোরস্থানের চাঁদা না দেওয়ার কারণে প্রথমে তাদের কাছে ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দাফনের অনুমতি মেলেনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতা আতিয়ার হাজীর বিরুদ্ধে গোরস্থান কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ভোর ৫টার দিকে মো. নাসির উদ্দিন মারা যান। তার কোনো ছেলে সন্তান নেই, তিন মেয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা তড়িঘড়ি করে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। পথেই তাদের কাছে খবর আসে, যে গোরস্থানে তাদের দাদা ও পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে, সেখানে নাসির উদ্দিনকে দাফন করতে দেওয়া হচ্ছে না।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে তাদের বলা হয়, নাসির উদ্দিন দীর্ঘদিন গোরস্থানের মাসিক বা বাৎসরিক চাঁদা পরিশোধ করেননি। তাই এককালীন ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। মৃত ওই ব্যক্তির পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে হাতে যত টাকা আছে তা দিয়ে বাকি টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করার কথা বলেন। এমনকি ২ থেকে ৩ কিস্তিতে বকেয়া গোরস্থানের চাঁদার টাকা পরিশোধ করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন। কিন্তু তাতেও রাজি হননি গোরস্থান কমিটির সভাপতি আবুল মাস্টার।
মৃতের বড় মেয়ে মোছা. নাসিমা খাতুন বলেন, আমরা তিন বোন ঢাকায় থাকি। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে দ্রুত বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই। পথে চাচাতো ভাই ফোন করে জানায়, যেখানে আমাদের দাদা ও পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে সেখানে বাবাকে দাফন করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রথমে বলা হয় ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা লাগবে। আমরা টাকা দিতে রাজি ছিলাম, প্রয়োজনে কিস্তিতেও দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরে বলা হয়, টাকা দিলেও বাবাকে সেখানে দাফন করা হবে না। একজন মৃত মানুষকে এভাবে ফিরিয়ে দেওয়াটা খুব কষ্টের।
এদিকে, ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয়রা জানান, নাসির উদ্দিনের বাবা মৃত আহমদ আলী ওই গোরস্থানের সদস্য ছিলেন এবং তাকে সেখানেই দাফন করা হয়েছিল। তাই নাসির উদ্দিনের পরিবারও স্বাভাবিকভাবেই একই গোরস্থানে দাফনের আশা করেছিলেন।
মৃতের বাড়ির সামনে থাকা মুদি দোকানি মো. সেলিম বলেন, নাসিরের বাবা ওই গোরস্থানের সদস্য ছিলেন। তার কবরও সেখানে আছে। নাসির মারা যাওয়ার পর তার বড় মেয়ে সভাপতি আবুল মাস্টারের সঙ্গে কথা বলেন। তারা বলেন, যত টাকা লাগে দেবেন, শুধু বাবাকে দাফন করতে দিতে হবে। কিন্তু তারপরও অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে স্থানীয় আশরাফুল হক আশা মেম্বার তার নিজের পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করেন।
সদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বিএনপির ওয়ার্ড সেক্রেটারি আশরাফুল হক আশা বলেন, নাসির উদ্দিনের বাবা নিয়মিত চাঁদা দিতেন। তার মৃত্যুর পর নাসির আর চাঁদা দেয়নি। কিন্তু মৃত্যুর পর তার পরিবার এককালীন টাকা দিতেও রাজি হয়েছিল। শুনেছি তখন প্রায় ৪৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে বলা হয়, টাকা লাগবে না, তবুও তাকে দাফন করা হবে না। তখন মানবিক দায়িত্ব থেকে আমি আমার পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করি।
তিনি আরও বলেন, কবর অর্ধেক খনন হওয়ার পর এলাকার কয়েকজন জামায়াত নেতাকর্মী এসে বলেন, এতে তাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং মরদেহ অন্য গোরস্থানে নেওয়া হোক। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা বলেন, যেখানে কবর খোঁড়া হয়েছে সেখানেই দাফন করা হবে। মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ঠিকানা কবরস্থান। এটি নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি হওয়া দুঃখজনক।
ঘটনার পর এলাকায় গুঞ্জন ছড়ায়, স্থানীয় জামায়াত নেতা আতিয়ার হাজীর ইন্ধনেই গোরস্থান কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নেয়। কারণ হিসেবে কেউ কেউ বলেন, নাসির উদ্দিনের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভালো সম্পর্ক ছিল। যদিও তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন না।
আতিয়ার হাজী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নাসির উদ্দিন আমার চাচাতো ভাই। তাকে ওই গোরস্থানে দাফন করতে না দেওয়ার কথা শুনে আমি বরং সেখানে দাফনের চেষ্টা করেছি। আমি গোরস্থান কমিটির কেউ না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং আমি বহুবার গোরস্থান কর্তৃপক্ষের এমন নীতির সমালোচনা করেছি।
অন্যদিকে গোরস্থান কমিটির সভাপতি আবুল মাস্টার বলেন, আমাদের গোরস্থানে প্রায় ১৪০ জন সদস্য রয়েছে। কেবল সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের এখানে দাফন করা হয়। নাসির উদ্দিন সদস্য ছিলেন না। তাই তাকে দাফনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ৩৫-৪৫ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ সঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, সদস্যরা কেউ ৫০০ টাকা, কেউ ১ হাজার টাকা, আবার কেউ ধান দিয়ে চাঁদা পরিশোধ করেন। গোরস্থানের জায়গা সীমিত। সবাইকে দাফন করতে দিলে দ্রুত জায়গা ফুরিয়ে যাবে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একটি সাধারণ গোরস্থানে দাফনের জন্য চাঁদা বাধ্যতামূলক করা কতটা যুক্তিসঙ্গত এবং একজন মৃত ব্যক্তিকে পূর্বপুরুষদের পাশে দাফনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, সাধারণত জনসাধারণের ব্যবহৃত গোরস্থানে এ ধরনের নিয়ম থাকে না। তবে যদি এটি সম্পূর্ণ পারিবারিক গোরস্থান হয়, তাহলে আলাদা বিষয়। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
খুলনায় ট্রাকচাপায় এক পরিবারের ৩ জন নিহত
খুলনার দিঘলিয়ায় ট্রাকচাপায় একটি পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গাজিরহাট ইউনিয়নের ডোমরা এলাকায় এ দুর্ঘটনটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার সিহাব শেখের স্ত্রী ফারজানা খাতুন (২৬), তার মেয়ে মায়মুনা (২) ও ফারজানার বোন রুবিয়া খাতুন (১৬)। আহত ব্যক্তি ফারজানার স্বামী মোটরসাইকেলচালক সিহাব শেখ।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ্র প্রকাশ বলেন, একটি ভারী ট্রাক উপজেলার গাজীরহাট থেকে খুলনার রূপসার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে রূপসা হয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে শিহাব শেখ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নড়াইলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সাইড নিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি ট্রাকের নিচে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকা নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং মোটরসাইকেলচালককে গুরুতর আহত অবস্থায় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত
খুলনা নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইসমাইল (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে সোয়া ১২টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া বড় খালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইসমাইল ওই এলাকার শাজাহানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল রাতে ইসমাইল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ইসমাইলের মাথায় গুলি করেছে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহত ইসমাইলের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
৩ দিন আগে
বেনাপোলে পুলিশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা
পুলিশের এসআই পদে চাকরি দেওয়ার নামে সাড়ে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বাবলুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) মামলাটি করেন যশোরের শার্শা উপজেলার রামপুর গ্রামের সবেদ ইসলামের ছেলে আশিক ইসলাম।
যশোর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে সমন জারির আদেশ দেন।
অভিযুক্ত বাবলুর রহমান চৌগাছা উপজেলার বর্ণি গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, আত্মীয় আহসান হাবিব মুকুলের মাধ্যমে আসামি বাবলুর রহমানের সঙ্গে আশিক ইসলামের পরিচয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে আসামি তাকে পুলিশের এসআই পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য মোট নয় লাখ টাকা এবং চার মাসের মধ্যে নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। আসামির প্রতি বিশ্বাস করে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত আসামির ইসলামী ব্যাংকের হিসাবে মোট চার লাখ ৪৯ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়।
পরে নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা বলে আরও চার লাখ টাকা দাবি করলে ২০২১ সালের ৬ মে ইসলামী ব্যাংক বেনাপোল শাখায় আসামির হিসাবে দুই দফায় মোট চার লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পরও আসামি চাকরির নিয়োগপত্র দেননি। বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ করলেও তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন।
বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে আশিক যশোরের পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করেন।
গত ১১ জুলাই বিকেলে আসামি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তিনি কোনো টাকা ফেরত দেবেন না এবং চাকরিও দিতে পারবেন না। টাকা চাইলে প্রাণনাশ ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির হুমকি দেন তিনি।
বিষয়টি মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে গতকাল (বুধবার) ভুক্তভোগী যশোর আদালতে এ মামলা করেন।
৪ দিন আগে
খুলনায় দিনে-দুপুরে যুবককে গুলি
খুলনা নগরীতে আরিফ শিকদার (২৪) নামে এক যুবককে গুলি করে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে খুলনার লবণচরা এলাকার রূপসা রিভারভিউ ইকোপার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত আরিফ শিকদার লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা এলাকার আবুল কালাম শিকদারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে আরিফসহ আরও দুই যুবক ইকোপার্কের পাশে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে এসে ছয়জন দুর্বৃত্ত আরিফকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় একটি গুলি তার বুকের ডান পাশে বিদ্ধ হয়। এরপর হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই পায়ে একাধিক আঘাত করে।
দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর স্থানীয়রা আরিফকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে কারা এবং কী কারণে তার ওপর হামলা এ চালিয়েছে, তা কেউ বলতে পারেননি।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, বর্তমানে আরিফ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কে বা কারা তার ওপর হামলা চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৭ দিন আগে
খুলনায় রেজাউল শেখ হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
খুলনার বটিয়াঘাটায় রেজাউল শেখ হত্যার দায়ে ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৪ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—খুরশিদ আলম, আব্দুস সালাম ও খায়রুল শেখ। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সকাল ৮টার দিকে রেজাউল শেখ বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝালবাড়ি গ্রামের বাজারে নিজের দোকানের কাছে ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা চার দুর্বৃত্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তারা তাকে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। এ সময় রেজাউলের ছোট ভাই তাদের ঠেকাতে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়। পরে রেজাউলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিহতের ছোট ভাই মেঝবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় ঝালবাড়ি এলাকার আব্দুস সালাম, মো. খুরশিদ আলম (৩৫) ও তার ভাই মো. খায়রুল শেখ (২৮) এবং একই এলাকার এরশাদকে আসামি করা হয়।
আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তি তথা দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে খুরশিদ আলম শেখ ও খায়রুল শেখ বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটা দিয়ে রেজাউল শেখের মাথার পেছনে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। রেজাউল মাটিতে পড়ে গেলে আব্দুস সালাম ও এরশাদ শেখও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করেন।
২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. গোলাম রসুল উল্লিখিতদের আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
৭ দিন আগে