খুলনা
পদ্মায় ফুটবল খেলতে গিয়ে শিশু নিখোঁজ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীতে ফুটবল খেলতে গিয়ে মোস্তাকিম হোসেন (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। এ সময় স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া ইব্রাহিম হোসেন (১২) নামে আরেক শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ মোস্তাকিম উপজেলার সোনাতলা গ্রামের হায়দারের চর এলাকার রতন জমাদারের ছেলে। উদ্ধার হওয়া ইব্রাহিম একই গ্রামের জিয়ারুল শাহের ছেলে। তারা দুজনই সোনাতলা দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (শুক্রবার) দুপুরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ছয়জন শিশু ভাগজোত ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর পানিতে ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে তীব্র স্রোতের টানে মোস্তাকিম ও ইব্রাহিম গভীর পানির দিকে চলে যায়। তারা দুজনই পানিতে ডুবে যেতে থাকলে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ইব্রাহিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে প্রবল স্রোতের কারণে মোস্তাকিমকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ঘটনাস্থলে মোস্তাকিমের মা শিউলি খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। সকালে খাওয়াদাওয়া শেষে মাদ্রাসায় না গিয়ে ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে খেলতে গিয়েছিল। পরে নদীতে পড়ে ডুবে যায়। এখনও আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাইনি।’
মাদ্রাসার শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, সকালে এক আত্মীয়ের বাড়িতে খাওয়া শেষে মোস্তাকিম বন্ধু ও স্থানীয় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে আসে। পরে অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, শিশু নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমিসহ আমাদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছি। নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় শিশুটি ভেসে অন্যত্র চলে যেতে পারে।’
১৪ ঘণ্টা আগে
নড়াইলে দুই দিনব্যাপী সুলতান উৎসব শুরু
বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জন্মস্থান নড়াইলে দুই দিনব্যাপী সুলতান উৎসব শুরু হয়েছে। নড়াইল সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজ সুলতান মঞ্চ চত্বরে ‘এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশ’ এ উৎসবের আয়োজন করেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় সুলতান উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় দুই শতাধিক কোমলমতি শিশু অংশগ্রহণ করে। শিশুদের রঙ তুলিতে এসএম সুলতান, প্রাকৃতিক দৃশ্য, গ্রামীণ মেলা, সুলতান মেলা, মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন দৃশ্য ফুটে ওঠে। শিশুদের মধ্যে সুলতানের শিল্পচেতনা ও শিল্পকর্ম ছড়িয়ে দিতেই এমন আয়োজন বলে জানান আয়োজকরা।
সুলতান উৎসবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ছাড়াও রয়েছে শিশুদের আঁকা ছবির প্রদর্শনী, সুলতানের জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ হায়দার আলী দেওয়ান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম, এসএম সুলতান চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ হানিফ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্রশিল্পী বিমানেষ বিশ্বাস, এসএম সুলতান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক অনাদী বৈরাগী, সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জী, সহকারি কিউরেটর মেহেদী হাসান রানাসহ সুলতানপ্রেমীরা।
১৬ ঘণ্টা আগে
খুলনায় মাদরাসার পাশ থেকে মাটিচাপা দেওয়া কাটা পা উদ্ধার
খুলনা নগরীর লবণচরা থানার মাদানী নগর এলাকায় একটি মাদরাসার পাশ থেকে মাটিচাপা দেওয়া মানুষের একটি কাটা পা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে কুকুর মাটি খুঁড়ে পায়ের অংশটি বের করে আনলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাটি উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে রাস্তার পাশের একটি গর্তে কুকুরের খোঁড়াখুঁড়ি দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে সেখানে ব্যান্ডেজ করা অবস্থায় মানুষের পায়ের অংশ দেখতে পান তারা। পাটি মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে জানান স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে লবণচরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাটি উদ্ধার করে। পরে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে যান। তারা আলামত সংগ্রহ ও বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের ধারণা, উদ্ধার হওয়া পাটি একজন পুরুষের এবং সেটি কোনো বয়স্ক ব্যক্তির হতে পারে। পাটি ব্যান্ডেজ করা অবস্থায় ছিল।
স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, পাটি অনেক আগে কাটা হয়ে থাকতে পারে এবং দীর্ঘদিন মাটির নিচে থাকায় তাতে পচনের লক্ষণ দেখা গেছে। তবে পাটি কার, কীভাবে সেটি সেখানে এল এবং কে বা কারা মাটিচাপা দিয়ে রেখেছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ, ফরেনসিক টিম, সিআইডি ও পিবিআইয়ের সদস্যরা গিয়েছিলেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাংগ্রিন, ক্যান্সার বা অন্য কোনো রোগের কারণে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাটি কেটে ফেলা হয়ে থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
ওসি বলেন, হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পা কাটার পর সেটি বর্জ্য হিসেবে অনিরাপদভাবে ফেলে দেওয়া হয়েছে বা অন্য কোনোভাবে সেখানে রাখা হয়েছে, এমন সম্ভাবনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা এলাকায় অযথা চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে। উদ্ধার হওয়া পাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।’
এর আগে, খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ময়ূর ব্রিজ এলাকার নিচ থেকেও একটি কাটা পা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
২ দিন আগে
ঝিনাইদহে বাসচাপায় স্ত্রীসহ সেনা সদস্য নিহত
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গড়াই পরিবহনের একটি বাসের চাপায় এক সেনা সদস্য ও তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভুটিয়ারগাতী বাইপাস সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সেনা সদস্য ল্যান্স করপোরাল সোহেল কাজী নড়াইল জেলার কালিয়া থানার কলাগাছি গ্রামের মাহবুব কাজীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১২ বেঙ্গলে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি (২৫) ছিলেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ বড়দাহ গ্রামের মো. বুলু মণ্ডলের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভাটিয়ারি বিএমএ থেকে বগুড়া সেনানিবাসে বদলি হন সোহেল কাজী। নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার আগে ছুটি পেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে বের হন তিনি। তাদের দুই শিশুকন্যা—পাঁচ বছরের খাদিজাতুল মুনতাহা ও তিন বছরের আয়েশা বিনতে আগেই তাদের নানাবাড়িতে অবস্থান করছিল। বাবা-মা আসবে, তাদের পছন্দসই উপহার নিয়ে আসবে—এই আশায় পথ চেয়ে বসে ছিল দুই বোন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় মুহুর্তের মধ্যে তাদের জীবন থেকে চিরতরে বাবা-মায়ের ছায়া সরে গেল।
প্রত্যক্ষদর্শী মহিরুল ইসলাম জানান, আজ (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভুটিয়ারগাতী বাইপাস এলাকায় গ্যাস ডিপোর সামনে খুলনাগামী ‘গড়াই পরিবহনের’ একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় বাসের চাকার নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তুলি।
খবর পেয়ে ঝিনাইদহ দমকল বাহিনীর উদ্ধারকর্মীরা গুরুতর আহত সোহেল কাজীকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে দুপুরে তাকে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। সিএমএইচে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় সেনা সদস্য ও তার স্ত্রী দুজনই মারা গেছেন। নিহতের মরদেহ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানার, গড়াই পরিবহনের বাসটি আটক করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
২ দিন আগে
শৈলকুপায় ঘাস কাটার মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দম্পতি নিহত
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় গবাদিপশুর জন্য ঘাস কাটা মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক বৃদ্ধ দম্পতি নিহত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে শৈলকুপার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: মাধবপুর গ্রামের অমরেন্দ্রনাথ ভৌমিক (৭০) এবং তার স্ত্রী মিনা ভৌমিক (৬০)।
প্রতিবেশী মুকুল হোসেন জানান, আজ (বুধবার) সকালে অমরেন্দ্রনাথ তার বাড়ির গোয়ালঘরে গবাদিপশুর খাবার প্রস্তুত করার জন্য বৈদ্যুতিক মেশিনে ঘাস কাটতে যান। কাজের একপর্যায়ে তিনি দুর্ঘটনাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্বামীকে ছটফট করতে দেখে তাকে উদ্ধার করতে স্ত্রী মিনা রানী এগিয়ে যান। কিন্তু কোনো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা না থাকায় তিনিও ঘটনাস্থলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়েন।
প্রতিবেশীরা টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদুজ্জামান জোহা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক জানান, ‘হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মূলত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কারণে দ্রুত তাদের মৃত্যু হয়েছে।’
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকায় তদন্ত ছাড়াই মরদেহ সৎকারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর এমন আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় মাধবপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
২ দিন আগে
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বেনাপোল দিয়ে আজ আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আজ বুধবার সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও দুদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে পুনরায় এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের সকল কার্যক্রম শুরু হবে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান জানান, দুদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে।
বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) দিবসে সরকারি ছুটি থাকায় আজ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে বন্দরে পণ্য খালাস করা ভারতীয় খালি ট্রাকগুলো ফিরে যেতে পারবে।
২ দিন আগে
৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পঁচে গেছে, কুষ্টিয়ায় ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা
গেল কয়েক বছর মন্দা যাচ্ছিল ব্যবসায়। চলতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার কেনা পেঁয়াজ পঁচে গেছে। সবমিলে ব্যাংক ও এনজিওর ঋণ এবং স্বজনদের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় কয়েক কোটি টাকা। সেই ঋণ আর ধারদেনার চাপ সইতে না পেরে হারুন অর রশিদ খালেক (৩৮) নামের এক ব্যবাসীয় গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) গভীর রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পান্টি ইউনিয়নের বিরিকয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে মরদেহটি উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
হারুন অর রশিদ খালেক বিরিকয়া গ্রামের সদর উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, খালেক একজন বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ধান, পাট, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলাদি কিনে তা বিক্রি করতেন। গেল কয়েক বছর ব্যবসায় লোকসান হচ্ছিল তার। চলতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পঁচে গেছে। সবমিলিয়ে ব্যাংক, এনজিও ও স্বজনদের কাছে কয়েক কোটি টাকার ঋণী ছিলেন তিনি।
সেই ঋণের চাপ সইতে না পেরে গতকাল (সোমবার) দিবাগত রাত ১টার দিকে ছোট ভাই আব্দুল মালেককে মুঠোফোনে জানান, ‘আমার ছোয়ালডা থাকল তুই দেখিস’। এ কথা শুনে মালেক জিজ্ঞেস করেন, ‘তুই কোনে? উত্তরে খালেক বলেছিলেন, ‘ওমক (শফিউল্লাহর আমবাগান) জায়গা সকালে পাবিনি’। এ কথা শুনেই মালেক, তার বাবা ও ভাবি দ্রুত শফিউল্লাহর বাগানে গিয়ে দেখেন একটি আমগাছের ডালে রশিতে ঝুলছে খালেকের মরদেহ।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, পান্টি-যদুবয়রা সড়ক ঘেঁষে বিরিকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত ব্যবসায়ী খালেকের বাড়ি। সেখানে আহাজারি করছেন তার স্বজনরা। উৎসুক জনতা তাদের শান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ঋণের চাপে এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ সময় কয়েক কোটি টাকা ঋণের কথা স্বীকার করে খালেকের বাবা সদর উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর ব্যবসা ভালো যাচ্ছিল না খালেকের। তার ভাষ্য, ঋণের চাপ সইতে না পেরে খালেক আত্মহত্যা করেছেন।
এ বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পঁচে গেছে। এ নিয়ে সব সময় খালেক দুশ্চিন্তা করতেন বলে জানালেন খালেকের স্ত্রী মালা খাতুন। তিনি বলেন, সংসারে কোনো ঝগড়া-ঝামেলা ছিল না। তবে অনেক টাকা ঋণ ছিল তার। হয়ত সেজন্যই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা মালা খাতুনের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেকের এক বন্ধু বলেন, আমাকে দিয়ে ৫ লাখ টাকা ঋণ করিয়েছিলেন খালেক। এভাবে অনেককে দিয়ে ব্যাংক থেকেও ঋণ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে তিন থেকে চার কোটি টাকা ঋণ রয়েছে তার।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের চাপে আত্মহত্যা করেছেন খালেক।
৩ দিন আগে
পুলিশি হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে মহাসড়কে ট্যাংকলরি রেখে খুলনায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ
পুলিশি হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে খুলনায় মহাসড়কে ট্যাংকলরি রেখে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন জ্বালানি তেল পরিবহন শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খুলনা-যশোর মহাসড়কের ফুলতলা থেকে পথের বাজার পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টায় শ্রমিকরা ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন না করে খুলনা-যশোর মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এদিন শ্রমিকরা প্রথমে ফুলতলা থানার সামনে কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে তারা খানজাহান আলী থানার পথের বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন।
খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এনাম মুন্সীর সভাপতিত্বে সমাবেশে জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সহ-সভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন, খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতা মীর মোকসেদ আলী এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলী আজিম বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, কাগজপত্র যাচাইয়ের অজুহাতে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন রাস্তায় ট্যাংকলরি থামিয়ে চাঁদাবাজি ও হয়রানি করছেন।
তারা বলেন, জ্বালানি তেল পরিবহনের আগে টার্মিনালেই ট্যাংকলরির কাগজপত্র যাচাই করার নিয়ম রয়েছে। তাই মহাসড়কে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই করা উচিত নয়।
তারা বলেন, মহাসড়কে ট্যাংকলরি থামানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ প্রতিটি ট্যাংকলরিতে প্রায় ৯ হাজার লিটার দাহ্য পদার্থ থাকে। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি ও হয়রানি করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পুলিশি হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
৩ দিন আগে
ঝিনাইদহে শিক্ষিকাকে অচেতন করে সোনার গহনা লুট, গ্রেপ্তার ২
চলন্ত বাসে সুকৌশলে চেতনানাশক ডাবের পানি খাইয়ে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় আন্তঃজেলা অজ্ঞান পার্টির দুই দুর্ধর্ষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশের যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর ও মাগুরায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা দামোদর গ্রামের দুলাল হাওলাদার ওরফে ‘মলম দুলাল’ (৪০) এবং মাগুরা সদর উপজেলার বোগিয়া গ্রামের মো. তিলক খান (৪৪)।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গত ২৯ জুন যশোর থেকে ‘শাপলা পরিবহনে’ চড়ে কোটচাঁদপুরে ফিরছিলেন এক মাধ্যমিক শিক্ষিকা। বাসটি কোটচাঁদপুরের এলাঙ্গী বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে অজ্ঞান পার্টির এক সদস্য তাকে চেতনানাশক মেশানো ডাবের পানি পান করতে দেন। পানি পানের কিছুক্ষণ পরই ওই শিক্ষিকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরবর্তী সময়ে বাস গন্তব্যে পৌঁছালে তার স্বামী গাড়ির ভেতরে স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ সময় চক্রটি শিক্ষিকার পরিহিত সোনার গহনা (চেইন, আংটি ও খাড়ু) খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরদিন গত ৩০ জুন ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা করেন।
এরপর লুটপাটের চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেন।
নির্দেশনার পর তদন্তকারী দল ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর গাজীপুরের টঙ্গী এবং মাগুরা সদরে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা ‘মলম দুলাল’ ও তার সহযোগী তিলক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের দায়িত্বরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইখলাচুর রহমান মিঠু জানান, প্রযুক্তির নিখুঁত বিশ্লেষণে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে মাগুরা ও গাজীপুরে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার দুই অপরাধীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় চলন্ত বাস ও যাত্রীবাহী যানবাহনে বিষাক্ত দ্রব্য প্রয়োগ করে মালামাল লুটের একাধিক মামলা রয়েছে।
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান জানান, ‘সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ রাখতে এবং অপরাধীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। অজ্ঞান পার্টিসহ যেকোনো সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
৩ দিন আগে
৫০ দিন অপেক্ষা করেও ঝিনাইদহে দাফন হওয়া আফগান নাগরিকের মরদেহ নিতে ব্যর্থ ভাই
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া সুদূর আফগানিস্তানের নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ দাফনের পৌনে পাঁচ মাস পর মরদেহ নিতে বাংলাদেশে এসেছেন তার আরেক ভাই ইমাল মোহাম্মদী। তিনি বাংলাদেশে ৫০ দিন ধরে অবস্থান করলেও দাপ্তরিক জটিলতায় কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়াটি আটকে আছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত নিয়ে নিহতের ভাই প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ সুদূর আফগানিস্তান থেকে ঝিনাইদহে এসে পৌঁছালেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে পরিবারটি।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। পিবিআই আঙুলের ছাপ নিয়ে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজে কোনো মিল না পাওয়ায় মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ১৪ এপ্রিল ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহের ছবি দেখে নিহতের স্বজনরা নিশ্চিত হন যে নিহত ব্যক্তি আফগানিস্তানের কাবুলের পাঞ্জাশির এলাকার কুন্ডুস গ্রামের ইয়াসিন মোহাম্মদী ও সকিনা মোহাম্মদী দম্পতির ছেলে হাসমত মোহাম্মদী। হাসমতের মৃত্যুর পর তার লন্ডন প্রবাসী আরেক ভাই মীর ওয়াইস মোহাম্মদী লন্ডন থেকে ঝিনাইদহে আসলেও আইনি জটিলতার কারণে মরদেহ না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
এরপর নিহতের দাফন হওয়ার ৪ মাস ২৪ দিন পর তার আরেক ভাই ইমাল মোহাম্মদী ভাইয়ের মরদেহ স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে গত ৬ জুলাই ডিএনএ টেস্টের নথিপত্র, মন্ত্রণালয়ের চিঠি, পরিচয়পত্র ও প্রমাণাদিসহ ঝিনাইদহে আসেন।
মৃত হাসমত মোহাম্মদীর বাংলাদেশি আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন শাখা-১-এর উপসচিব কাজী আরিফুর রহমান গত ১১ আগস্ট পররাষ্ট্র সচিব, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর এক পত্রে নিহতের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে আফগানিস্তানে পাঠাতে অনাপত্তি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি না থাকায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া থেমে আছে।
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টিতে যেহেতু একটি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিক জড়িয়ে আছেন, তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও হস্তান্তর সম্ভব হচ্ছে না।
ঝিনাইদহের একটি হোটেলে অবস্থানরত ইমাল মোহাম্মদী অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে তার ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তারা শুধু চান ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মরদেহটি নিজ দেশে নিয়ে দাফন করতে। এভাবে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘোরাঘুরি করাটা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে। এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফিরতি চিঠির অপেক্ষা করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, মানবিক দিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে করে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে নিতে পারে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন আজ (সোমবার) বিকেলে জানান, আমরা সব ধরনের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত আছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেলে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
৪ দিন আগে