সিলেট
আগস্ট মাসে সিলেটের সড়কে ঝরেছে ৪৭ প্রাণ
সিলেট বিভাগে আগস্ট মাসে ৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এ সময়ে আহত হয়েছেন ১২২ জন। চলতি বছরে এক মাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে সর্বোচ্চ ৫১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
আগস্ট মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেট অংশে ১০টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলায় তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আগস্ট মাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সিলেট জেলায়। কম দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায়।
প্রতিবেদনে আগস্ট মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, নিয়ম না মেনে বেপরোয়া ওভারটেকিং করা, অনুমোদনহীন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি মহাসড়কে চালানো, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, পথচারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব ও সড়কে নির্মাণ ত্রুটিকে উল্লেখ করা হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আগস্ট মাসে সিলেট বিভাগে ৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। আগস্ট মাসে সিলেট জেলায় ১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলায় পাঁচটি সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছেন। মৌলভীবাজার জেলায় চারটি সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন এবং হবিগঞ্জ জেলায় নয়টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন।
নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেট জেলার সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিশু গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জানান, পাঁচটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকার তথ্য, দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার তথ্য, অনুমেয় অনুজ্জ বা অপ্রকাশিত ঘটনা ও নিসচা সিলেটের শাখা সংগঠনগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে নিসচা বিভাগীয় কমিটি এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আগস্ট মাসে সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে ১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী, সাতটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন সিএনজি ও টমটম চালক ও আরোহী, ১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন চালক এবং সাতটি সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন পথচারী নিহত হয়েছেন।
এছাড়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে সাতটি দুর্ঘটনায় পাঁচজন, মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে আঘাতে একটি দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আগস্ট মাসে নিহত ৪৭ জনের মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ, ছয়জন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, জুলাই মাসে সিলেট বিভাগে ২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ জন নিহত ও ৭৫ জন আহত হয়েছেন।
২৩ ঘণ্টা আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৫৭
সিলেটে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জনে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সিলেট সদর এবং অন্যজন বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা। দুজনেরই চিকিৎসা হয়েছিল সিলেট নগরের শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১১৯ জন রোগী বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে।
নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি বর্তমানে হামের উপসর্গে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪৯৬টি শিশু। এর মধ্যে শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২০৫ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৪২ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২৯ জন এবং সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৬৩ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দুজন রুবেলা রোগীও রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে সিলেটে ৬০ জন, হবিগঞ্জে ১৭ জন, মৌলভীবাজারে ১২ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে ৪ জন, হবিগঞ্জে ৪ জন, মৌলভীবাজারে ১ জন এবং সুনামগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে সন্দেহজনক রোগী হিসেবে বিপুলসংখ্যক মানুষের হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি, রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাব্যবস্থা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
২ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে তরুণীকে ১৩ দিন আটকে রেখে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ১
সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে এক তরুণীকে ১৩ দিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী তরুণী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কানাইঘাট থানায় মামলা করেন। এরপর অভিযান চালিয়ে নাঈম উদ্দিন (২২) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদপূর্ব ইউনিয়নের দনা পাত্তিছড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শেরপুর জেলার বাসিন্দা ওই তরুণী প্রায় ৯ মাস আগে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। হায়দ্রাবাদে তার কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে।
গত ২০ আগস্ট জাহাঙ্গীর নামের এক আত্মীয়র সহযোগিতায় তিনি বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করলে বিএসএফের হাতে আটক হন ওই তরুণী। পরে তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে কানাইঘাটের দনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সীমান্ত অতিক্রমের পর স্থানীয় শানুর আহমদ, নাঈম উদ্দিন, কাওছারসহ ছয় যুবক তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অপহরণ করেন। পরে তাকে শানুরের বাড়িতে ১৩ দিন আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিনের সহায়তায় ওই তরুণী বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং গতকাল (বুধবার) কানাইঘাট থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মামলার দুই নম্বর আসামি নাঈম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী তরুণীকে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৩ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ভারতে অনুপ্রবেশকালে নারী-শিশুসহ ৮ বাংলাদেশি আটক
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে নারী ও শিশুসহ আট বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার ঘিলাতৈল ফুলবাড়ি সেতুর কাছ থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ গ্রামের মিলন খান (৩০) ও তার স্ত্রী শীমা খানম (২৩), যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাসুয়ালী গ্রামের আহাদ শেখ (৩১) ও তার স্ত্রী রেশমা পারভীন (৩৪), নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পোড়লী গ্রামের রিনা খাতুন (৩৮), আমরিল ভাঙ্গা গ্রামের চুমকি খাতুন (৩০) ও তার ছেলে নূর মোহাম্মদ (১২) এবং নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চর কালনা গ্রামের মিনা খাতুন (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। খবর পেয়ে জৈন্তাপুর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ঘিলাতৈল ফুলবাড়ি সেতু এলাকা থেকে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত ব্যবস্থা শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
৫ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে টাওয়ার থেকে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মিনাটিলা সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) থেকে এক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে সীমান্ত ফাঁড়ির বিওপির ওয়াচ টাওয়ার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিজিবি সদস্য জামিল হাসান শিষ (২৫) নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের ইশানঘাটি গ্রামের শেখ ফজলুর রহমানের ছেলে। তিনি বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮-এর অধীন জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী মিনাটিলা বিওপিতে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গতকাল (সোমবার) রাত ১২টা হতে ভোর ৬টার মধ্যে কোনো এক সময়ে মিনাটিলা বিওপির ওয়াচ টাওয়ারে গলায় ফাঁস দেন জামিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সকাল ৭টার দিকে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা এবং সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) মো. মনিরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম বিওপিতে উপস্থিত হন।
সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) ও বিজিবি কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। অধিকতর তদন্তের জন্য মরদেহটি এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, আজ (মঙ্গলবার) ভোরের কোনো এক সময় বিওপির টাওয়ারে গলায় ফাঁস দিয়ে জামিল আহমেদ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করা হবে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
৬ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৫৪
সিলেটে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ১৫৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হাম ও রুবেলা রোগের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। অপর শিশু হবিগঞ্জের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৯৯ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫৪টি শিশু। একই সময়ে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। সেখানে ১৬৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২৫ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৪ জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১৯ জন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৭ জন, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১ হাজার ৩১ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৩৬৩ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। হবিগঞ্জে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দুজন রুবেলা আক্রান্ত রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে সিলেটে ৫৭ জন, হবিগঞ্জে ১৭ জন, মৌলভীবাজারে ১২ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে ৪ জন, হবিগঞ্জে ৪ জন, মৌলভীবাজারে ১ জন এবং সুনামগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
৬ দিন আগে
রাজধানী থেকে সিলেট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম পল্লবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গতকাল (শনিবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বাড্ডা থানা পুলিশ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে আবুল কাশেম পল্লবকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, সিলেট, বিয়ানীবাজারসহ বিভিন্ন থানায় পল্লবের বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনাসহ অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও বিয়ানীবাজারে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে পল্লবের বিরুদ্ধে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মিছিল-সমাবেশ আয়োজন এবং আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
৮ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৫১
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫১ জনে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
একই সময়ে বিভাগে নতুন করে ছয়জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজনের বয়স পাঁচ মাস এবং অপরজনের বয়স ১১ মাস। এছাড়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে নয় মাস বয়সী আরও এক শিশু।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১২৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৫৯ জন, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬০ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নয়জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত ৩৫৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪০ জন এবং এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১০ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যরা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গ নিয়ে ১৪১ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫১ জনে।
১০ দিন আগে
খোয়াই নদীর স্থায়ী সমাধানে ব্যারেজ বা স্লুইস গেইট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ব্যারেজ কিংবা স্লুইস গেইট—যেটি প্রযোজ্য, সে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় ভাঙনকবলিত বাঁধ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দেড় মাসের ব্যবধানে গত রবিবার সকালে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ফের ভাঙন দেখা দেয়। এতে দ্রুত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়।
হবিগঞ্জ শহরকে বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়া থেকে রক্ষার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হবিগঞ্জ শহর যাতে বন্যার পানিতে প্লাবিত না হয়, সেদিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এখন এসব প্রকল্পের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বর্ষার শেষে সেই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু হবে।
খোয়াই নদীর সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যারেজ নাকি স্লুইস গেট করতে হবে—স্থায়ী সমাধানের জন্য যে যে প্রকল্প নেওয়া উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে তা গ্রহণ করা হবে। আগামীতে যেন এই এলাকার মানুষ নদী ভাঙনের মুখে না পড়েন, সে ব্যাপারে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করব।’
নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, যারা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদী যাতে ভাঙনের কবলে না পড়ে, সেদিকে প্রশাসন ও আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।
এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবনসহ পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ৭৩ লাখ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক
সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭৩ লাখ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের দায়িত্বাধীন সিলেট সীমান্তের কালাইরাগ, প্রতাপপুর, সংগ্রাম, দমদমিয়া ও সোনারহাট বিওপি এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, গরু, শাড়ি, চকলেট, সিগারেট, সুপারি, সবজি ও বিয়ার জব্দ করা হয়।
জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য ৭৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এ বিষয়ে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বদা জোরদার রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব চোরাচালান মালামাল আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জব্দ করা মালামালের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৩ দিন আগে