বৈদেশিক-সম্পর্ক
হাসিনা ও কামালকে হস্তান্তরে ভারতকে চিঠি পাঠানো হবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে হস্তান্তরের জন্য ভারতের কাছে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত পাঠানোর চিঠি এখানে ভারতের মিশনে অথবা দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, এর আগেও আমরা চিঠি পাঠিয়েছি, কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। আজ রায় হয়ে গেছে, আমাদের তাকে (শেখ হাসিনা) ফেরত আনতে হবে।
এর আগেও বাংলাদেশের চিঠির জবাব দেয়নি ভারত। এ ছাড়া এই আইনে নানা ফাঁক রয়েছে—এই প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাংবাদিকদের তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা চিঠি দেব। আইনি ফাঁক যদি থাকে, তবে সেটা আইনবিদরা দেখবেন।
প্রচলিত আইনে ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে বাধ্য কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনি বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না। আইনের মানুষরা এটি নিয়ে বলতে পারবেন।
ভারত যদি শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেয়, তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আমি অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোনো মন্তব্য করব না।
সোমবার দুপুরে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই গণহত্যার মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এই মামলার অন্য আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক।
এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জবানবন্দিতে বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সরাসরি ‘লেথাল উইপন’ (মারণাস্ত্র) ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার ওই নির্দেশনা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মাধ্যমে পেয়েছিলেন তিনি।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরীহ, নিরস্ত্র দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং ৩০ হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই পাঁচ অভিযোগ হলো— উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা।
১৬৯ দিন আগে
কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন খলিলুর রহমান
আগামী ১৯ ও ২০ নভেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) সপ্তম এনএসএ-স্তরের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এই আঞ্চলিক ফোরামে অংশ নেওয়ার জন্য ড. খলিলুরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।
নয়াদিল্লিতে সিএসসি বৈঠকে তার অংশগ্রহণকে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকার আঞ্চলিক সহযোগিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থার সভায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। গত এপ্রিলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিমসটেকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পাশাপাশি সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতেও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
ড. খলিলুর রহমান এর আগে চীনের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত চায়না-ইন্ডিয়ান ওশান রিজিয়ন ফোরামে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
১৭২ দিন আগে
ডাবলিন ও বুয়েনস আইরেসে দূতাবাস খুলবে ঢাকা
আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন ও আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে দুটি নতুন দূতাবাস স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরর উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৪৮তম সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে বার্তায় বলা হয়েছে।
১৭৩ দিন আগে
ভারতীয় মিডিয়ায় শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়ে ঢাকার অসন্তোষ প্রকাশ
দিল্লিতে থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ঢাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানিয়েছেন, বুধবার ঢাকায় ভারতীয় উপ-হাইকমিশনার পবন ভাদেকে ডেকে নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় কূটনীতিককে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তিনি যেন নয়াদিল্লিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে প্রবেশাধিকার তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার অনুরোধ পৌঁছে দেন।
১৭৪ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট: কানাডীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকার নিরাপত্তা উদ্বেগের ইঙ্গিত
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে অবস্থান করায় মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র-গোলাবারুদ চোরাচালানের মতো নিরাপত্তা-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ ক্রমেই বাড়ছে, যা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠী—উভয়ের ওপরই প্রভাব ফেলছে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) কানাডার সিনেটের একজন সদস্য ও দুজন সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে হিউম্যান কনসার্ন ইন্টারন্যাশনাল (এইচসিআই) নামে একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে সাক্ষাৎ করলে তিনি এ কথা বলেন।
উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বৈশ্বিক মনোযোগ ও অর্থায়ন ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক তহবিল বাড়াতে কানাডার সহায়তা চান তিনি। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধান প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের সামগ্রিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়; বিশেষ করে প্রতিনিধিদল সম্প্রতি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে যে সরেজমিন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা শেয়ার করে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রোহিঙ্গা ইস্যুতে কানাডার ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা ও দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা ও উদারতার প্রশংসা করে জানায়, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
কানাডীয় সংসদ সদস্যরা, যারা একইসঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটি এবং নাগরিকত্ব ও অভিবাসনসংক্রান্ত কমিটির সদস্য, বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়ে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি টেকসই সমাধানের পথে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
কানাডার প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার গুরুত্ব, বিশেষ করে তরুণদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, শিক্ষা রোহিঙ্গা তরুণদের দক্ষতা বাড়াবে, মানবপাচারের ঝুঁকি কমাবে, ইতিবাচক সামাজিক আচরণ উৎসাহিত করবে এবং শেষ পর্যন্ত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াতেও সহায়তা করবে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জানান, এই প্রক্রিয়াটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন, কারণ এতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের বিষয় জড়িত থাকতে পারে, যা স্থানীয় মজুরির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ, যাচাই ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব উদ্বেগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে দৃঢ়, বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
১৭৪ দিন আগে
প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্য ‘ভুল’ ও ‘অসম্মানজনক’
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি যে মন্তব্য করেছেন, তাকে ‘ভুল’ এবং ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচারের প্রতি অসম্মানজনক’ বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ঢাকা জানিয়েছে, ভারত সঙ্গে পারস্পরিক কল্যাণকর সম্পর্কের প্রতি বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম ইউএনবিকে বলেছেন, ‘আমরা মনে করি, রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্য ভুল এবং সেটি (দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে) সহায়ক নয়; সেইসঙ্গে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও সৌজন্যের প্রতিও সম্মানজনক নয়।’
সম্প্রতি নেটওয়ার্ক-১৮ গ্রুপের প্রধান সম্পাদক রাহুল যোশীর সঙ্গে একান্ত আলাপনে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন না চাইলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে কথা বলার ক্ষেত্রে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। গত শুক্রবার ওই গ্রুপের সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
রাজনাথ সিং বলেন, ‘নয়াদিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক চায় না। অধ্যাপক ইউনূসের উচিত, তিনি কী বলছেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম, যদিও আমাদের লক্ষ্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।’
এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে এস এম মাহবুবুল আলম ইউএনবিকে জানান, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য অন্তর্বর্তী সরকারের নজরে এসেছে।
তিনি বলেন, ‘সার্বভৌম সমতা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সম্মান’— এই নীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক কল্যাণকর সম্পর্কের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, গঠনমূলক ও সম্মানজনক সংলাপের মাধ্যমেই মতপার্থক্য বা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সর্বোত্তম সমাধান হয়।’
১৭৭ দিন আগে
আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনসাল মাসুদ জামিল খানের আমন্ত্রণে নৈশভোজে আইরিশ রাষ্ট্রদূত ও সফররত ব্যারোনেস
বাংলাদেশে আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনসাল ও কসমস গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ জামিল খান সম্প্রতি তার বাসভবনে ব্যারোনেস নুয়ালা ও’লোন ও বাংলাদেশে আয়ারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত কেভিন কেলিকে (ভারতের দিল্লি ভিত্তিক) সম্মানসূচক একটি নৈশভোজের আয়োজন করেছেন।
ব্যারোনেস নুয়ালা ও’লোন যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সদস্য এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রথম পুলিশ ওম্বাডসম্যান ছিলেন। তিনি পুলিশ সংস্কার ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।
নৈশভোজে শিক্ষাবিদ, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত কেভিন কেলি বলেন, ‘আপনাদের সুন্দর বাসভবনটি যেন একটি আর্ট গ্যালারি, এখানে এসে আমরা সবসময়ই উষ্ণ অভ্যর্থনা পাই।’
আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পারস্পরিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাইকেল মিলার (ইইউ রাষ্ট্রদূত) ও সারা কুক (যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার) এই উদ্যোগে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আয়ারল্যান্ড ও ব্রিটেনের নতুন সরকারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চলছে, যাতে শান্তি প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করা যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সেই যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, এখানেও এই মিলনমেলার সত্যিই অনন্য।’
১৭৯ দিন আগে
বাণিজ্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ-নেপাল বৈঠক
বাণিজ্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান নেপাল চেম্বার অব কমার্সের (এনসিসি) আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে সংস্থার কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে চেম্বারের চেয়ারম্যান কমলেশ কুমার আগরওয়ালের নেতৃত্বে চেম্বারের সদস্যদের ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এনসিসি নেপালের প্রাচীনতম বাণিজ্য সংগঠন, যা বাণিজ্য ও ব্যবসা সহজীকরণের কাজে নিয়োজিত এবং চলতি বছর তার কার্যক্রমের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে।
চেম্বারের চেয়ারম্যান বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম ও উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বাংলাদেশের পক্ষের বাণিজ্য ঘাটতি ও দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য পরিস্থিতি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।
বৈঠকে উভয় দেশ কীভাবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি ও শক্তিশালী করা যাবে এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নত করা সম্ভব হবে তা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
এনসিসি চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন, সার্ক, বিবিআইএন ও বিমস্টেকের মতো আঞ্চলিক সংগঠন ও উদ্যোগগুলো কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি উভয় দেশ ও অঞ্চলকে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত করবে।
রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান দুই দেশের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্মরণ করে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদন, কৃষি-ব্যবসা, মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে আলোকপাত করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে শক্তিশালী ও গতিশীল অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা ভ্যালু চেইন সৃষ্টি করে বাণিজ্য ও বাজারে প্রবেশাধিকারে সহায়তা করবে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও পর্যটন খাতে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ ছাড়া বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলো নেপালের পণ্য পরিবহনে ব্যবহার এবং নেপালের জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পারস্পরিক সুযোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন যে, দূতাবাস উভয় দেশের ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সহায়ক নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (ট্রেড, প্রমোশন ও কালচার) উপস্থিত ছিলেন।
১৮১ দিন আগে
নির্বাচনে ১৫০ থেকে ২০০ জনের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে ইইউ: মিলার
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্ধারিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের একটি বড় প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ইইউ, যা ২০০৮ সালের পর প্রথম এমন পূর্ণাঙ্গ মিশন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ তথ্য জানান।
মিলার বলেন, ইইউ পর্যবেক্ষক দল এখনও চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবে এটি ১৫০ থেকে ২০০ সদস্যের মধ্যে থাকতে পারে। কিছু প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে এবং অন্যরা ভোটের সপ্তাহখানেক আগে যোগ দেবেন।
প্রধান উপদেষ্টাকে তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালের পর এই প্রথমবারের মতো ইইউ বাংলাদেশে এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে।’ একই সঙ্গে ভোট চলাকালে স্থানীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগেও সহায়তা করবে ইইউ।
ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে উভয় পক্ষ সুশাসন ও সাংবিধানিক সংস্কার, নির্বাচনি প্রস্তুতি, বিচার বিভাগীয় ও শ্রম সংস্কার, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
জুলাইয়ের জাতীয় সনদের প্রশংসা করে এটিকে একটি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ নথি হিসেবে বর্ণনা করে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, এটি (বাংলাদেশে) গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে সুগম করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ সময় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদারে সম্প্রতি অনুমোদিত শ্রম আইন সংস্কার ও উদ্যোগের প্রশংসা করে এগুলোকে ‘উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ বলেও তিনি অভিহিত করেন।
ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রচেষ্টায় ইইউ’র অব্যাহত সমর্থনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো সবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ সেই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনকে ‘দেশের সুনাম পুনর্বিন্যাসের সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়া যেন নির্বিঘ্ন হয়, সে লক্ষ্যে ইইউ বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সম্ভাবনা এবং বিমান চলাচল ও জাহাজ চলাচলে নতুন সম্ভাবনার সন্ধানসহ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করে। মানবপাচার এবং অবৈধ অভিবাসন রোধে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়েও তারা সহমত পোষণ করে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া টার্মিনালের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ গ্লোবাল শিপিং জায়ান্ট এপি মোলার-মায়ের্সকের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মিলার জানান, কোম্পানি লালদিয়াকে এই অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় টার্মিনালগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে গড়ে তুলতে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
এ ছাড়াও নির্বাচনি পরিবেশ, প্রার্থীদের যোগ্যতা এবং ভোটের আগে মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে যথাযথ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করে।
১৮৯ দিন আগে
এক লাখ কর্মী নিয়োগ: প্রধান উপদেষ্টাকে অগ্রগতি জানাল জাপানের প্রতিনিধিদল
বাংলাদেশ থেকে এক লাখ দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রগতি জানাতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে জাপানের ‘ন্যাশনাল বিজনেস সাপোর্ট কম্বাইন্ড কোঅপারেটিভস’ (এনবিসিসি)-এর প্রতিনিধিদল।
রোববার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় ২৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
‘ন্যাশনাল বিজনেস সাপোর্ট কম্বাইন্ড কোঅপারেটিভস’ হলো ৬৫টিরও বেশি কোম্পানির একটি জাপানি ব্যবসায়িক ফেডারেশন, যারা সম্প্রতি দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সুবিধার্থে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওআই) স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির লক্ষ্য জাপানে বাংলাদেশিদের প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন এবং কর্মসংস্থানের জন্য একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা, যার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (টিআইটিপি) এবং স্পেসিফাইড স্কিলড ওয়ার্কার্স (এসএসডব্লিউও)-এর মতো কর্মসূচির আওতায় এক লাখের বেশি কর্মী নিয়োগ করা হবে।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানান, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রথম ধাপে আগামী বছর দুই হাজার দক্ষ কর্মী নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। পরবর্তীতে ২০২৭ সালে ছয় হাজার ও ২০২৮ সালে ১৮ হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে।
এর মধ্যে নির্মাণ খাত, সেবা খাত, এভিয়েশন খাত, গার্মেন্টস ও কৃষিতে সবচেয়ে বেশি কর্মী প্রয়োজন বলে জানান তারা। পাশাপাশি, আগামী দিনে গাড়িচালক, অটোমোবাইল ও রিসাইক্লিং খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়বে বলেও তারা জানান।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে খুলনা ও গাজীপুরের কাপাসিয়ায় দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সম্ভাব্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই এনবিসিসি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কেন্দ্র দুটি পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা কর্মীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে কোনো ঘাটতি রয়েছে কিনা, তা জানতে চান।
প্রতিনিধিদলের প্রধান, এনবিসিসি-এর চেয়ারম্যান মিকিও কেসাগায়ামা বলেন, ‘আমি গত মার্চ মাসে ট্রেনিং সেন্টারদুটি পরিদর্শন করেছিলাম। এবার এসে অবাক হয়েছি। সাত মাসের মধ্যে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। প্রশিক্ষণ নিয়ে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। আমরা আশাবাদী, আগামী বছরই দুই হাজার দক্ষ কর্মী নিয়োগ দিতে পারব।’
তবে প্রশিক্ষকদের ভাষাগত দক্ষতায় উন্নতি করা গেলে আরও ভালো হতে পারে বলে জানান তিনি।
‘ভাষাগত দক্ষতা অর্জনই বড় চ্যালেঞ্জ’ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এ জন্য ভার্চুয়াল ক্লাস নেওয়া যেতে পারে। জাপান থেকে শিক্ষকরা অনলাইনে ক্লাস নেবেন। পাশাপাশি, জাপান থেকে প্রশিক্ষকদের এখানে নিয়ে এসে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় কিনা, সেটিও বিবেচনা করা যেতে পারে।’
এ সময় বাংলাদেশের নারীদের পারদর্শিতা ও কঠোর পরিশ্রমের কথাও উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কেয়ারগিভিং সেক্টরে বাংলাদেশের নারীরা অনন্য। তারা অত্যন্ত যত্নশীল। ভাষাগত দক্ষতা ও অন্যান্য প্রশিক্ষণ পেলে বাংলাদেশের মেয়েরা জাপানের কেয়ারগিভিং সেক্টরে অনন্য ভূমিকা রাখবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে কিছুটা কঠিন মনে হলেও বাংলাদেশের মেয়েদের একবার শিখিয়ে দিলে তারা নিজেরাই অন্যদের শেখাতে পারবে। একবার যাওয়া শুরু হলে অন্যরাও উৎসাহ পাবে।’
এনবিসিসি প্রতিনিধিরা জানান, আগামী কয়েক বছরে জাপানে ৪ লাখের বেশি দক্ষ নার্সের প্রয়োজন হবে। তারা বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি নার্স নিয়োগের বিষয়ে বিবেচনা করবেন।
বৈঠকে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, সরকার জাপানে কর্মী নিয়োগে অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করছে। এ ব্যাপারে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রণালয় থেকে জাপানে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনে একটি নির্দিষ্ট সেল গঠন করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা।
১৯০ দিন আগে