বৈদেশিক-সম্পর্ক
পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানে দুই দেশের আন্তরিকতা জরুরি: হুমায়ুন কবির
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের পানি বণ্টন সমস্যার সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান খুঁজে পেতে দুই দেশের রাজনৈতিক ও সরকারি পর্যায়ে আন্তরিকতা থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে যদি আন্তরিকতা থাকে—সিনিয়র কর্মকর্তা পর্যায়ে, নেতৃত্ব পর্যায়ে এবং দুই পক্ষের পানি নিয়ে কাজ করা আলোচকদের মধ্যে...আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি।’
দুই দেশের নেতৃত্ব সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে এলে পানি সমস্যার সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধান সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘নেতৃত্বের যদি এগিয়ে এসে সহযোগিতা করার মানসিকতা থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই এই সমস্যার একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’
তিনি মনে করেন, সিনিয়র কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পানি নিয়ে আলোচনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে আন্তরিকতা থাকলে অর্থবহ অগ্রগতি সম্ভব হবে।
পানিসম্পর্কিত সমস্যার সমাধানে বৃহত্তর পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, কূটনীতি ও সংলাপই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ।
তিনি বলেন, ‘আলোচনা, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই এসব বিষয় সমাধান করতে হবে।’
এসব সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইন বিবেচনায় নিচ্ছে বলেও জানান হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে আমরা এই অবস্থানেই আছি।’
গঙ্গা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমা-কুশিয়ারা ও ফেনীসহ বাংলাদেশ ও ভারত ৫৪টি অভিন্ন নদী ভাগ করে নেয়। ফলে পানি ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্য বণ্টন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিন্ন নদীর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার প্রধান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা হিসেবে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করে।
এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সংলাপ অব্যাহত রয়েছে এবং উভয় পক্ষ নিজ নিজ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আলোচনা ও সংলাপ চলমান রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। আমাদের অবস্থান থেকে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।’
১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিতসহ বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে একটি নতুন ব্যবস্থার জন্য বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছে।
বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে পানি কূটনীতি বোঝা এবং অন্যান্য সমমনা দেশের সঙ্গে সহযোগিতা ও নিজেদের প্রচেষ্টা জোরদারে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সুযোগ চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়।
সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সুযোগ এবং পানি ন্যায়বিচারে তরুণদের কণ্ঠ আরও জোরালো করার বিষয়টি নিয়ে বক্তারা আলোচনা করেন।
একই সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণ নেতৃত্ব ও তাদের অংশগ্রহণের সম্ভাব্য পথ নিয়েও আলোচনা হয়।
২০ দিন আগে
পর্যটন, মৎস্য খাতে মালদ্বীপের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের আহ্বান
পর্যটন ও মৎস্য খাতে মালদ্বীপের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পর্যটন উন্নয়ন ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঢাকায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মালদ্বীপ হাইকমিশন আয়োজিত দ্য গ্রেট টুনা গালা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বাণিজ্য, ব্যবসা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারের পাশাপাশি মালদ্বীপের টেকসই টুনা মৎস্য আহরণ, রন্ধন ঐতিহ্য ও পর্যটনের সুযোগ তুলে ধরতে এ আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনীন রশীদ মালদ্বীপ ও সমুদ্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং দেশটির অর্থনীতি, জনজীবন ও সংস্কৃতিতে মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
তিনি মালদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী ছিপ ও বড়শি দিয়ে টুনা ধরার পদ্ধতি এবং টেকসই মৎস্য আহরণ পদ্ধতি বজায় রাখার গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারে মালদ্বীপের টুনা ও অন্যান্য মৎস্যজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা জানান।
হাইকমিশনার দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করেন এবং এর ফলে পর্যটন, বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানান।
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের সঙ্গে সমুদ্রের গভীর সম্পর্ক এবং দেশটির অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও দ্বীপাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জীবনে মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
মালদ্বীপের মৎস্য খাতের প্রধান অবলম্বন টুনা মাছকে ঘিরে ছিল অনুষ্ঠানের বড় অংশ। অতিথিদের মালদ্বীপের বিভিন্ন ধরনের মৎস্যজাত পণ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
সেই সঙ্গে মালদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী ছিপ ও বড়শি দিয়ে মাছ ধরার পদ্ধতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ পদ্ধতিতে প্রতিটি টুনা মাছ আলাদাভাবে ধরা হয়। মালদ্বীপে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চর্চিত এই পদ্ধতি সামুদ্রিক সম্পদের দায়িত্বশীল ও টেকসই ব্যবহারের প্রতি দেশটির দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
২১ দিন আগে
বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব চায় ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিস মাত্তা সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে তার দেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন আনিস মাত্তা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের আমন্ত্রণে আনিস মাত্তা ৫ থেকে ৯ অক্টোবর সরকারি সফরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি ও স্বাস্থ্য সহযোগিতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, কনস্যুলার সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পুরো পরিসর এবং আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিস মাত্তাকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা পুনরায় চালু করা, ইন্দোনেশিয়ায় ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি ওষুধজাত পণ্য আমদানির অনুরোধ, ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন পণ্যের পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ের জন্য জি-টু-জি ব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে পাটের ব্যাগ কেনা, বাংলাদেশি আলুর জন্য ইন্দোনেশিয়ার বাজার উন্মুক্ত করা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা শুরু করা।
২২ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট এখন বৃহত্তর নিরাপত্তা উদ্বেগের সঙ্গে জড়িত: ঢাকা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট এখন আর শুধু মানবিক উদ্বেগের বিষয় নয়, এর সঙ্গে বৃহত্তর নিরাপত্তা ও অনিয়মিত অভিবাসনের বিষয়ও জড়িত। সেই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আরও জোরালো আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশবিষয়ক যুক্তরাজ্যের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) চেয়ার ও এমপি আফসানা বেগমের নেতৃত্বে সফররত একটি প্রতিনিধিদল মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক জোরদারে এপিপিজির অব্যাহত আগ্রহের প্রশংসা করেন। প্রতিনিধিদলে হাউস অব লর্ডসের সদস্য শওকত আদম এমপি ও লর্ড কুরবান হুসেইনও ছিলেন।
এ সময় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংহতি ও সংস্কার উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সরকারের সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট, বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে এপিপিজির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতি ও বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ততা তৈরিতে এপিপিজির সহযোগিতা চান।
প্রতিনিধিদলটি বুধবার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবে উল্লেখ করে এপিপিজির প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের দুর্দশা মোকাবিলায় তাদের সমর্থনের কথা জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সোচ্চার থাকার আশ্বাস দিয়েছে প্রতিনিধিদলটি।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সংসদীয় সহযোগিতা ও বিনিময় জোরদার গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সংহতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি কাজে লাগানো এবং মানবাধিকারের মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করে এবং সংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় চ্যানেলের মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে।
২২ দিন আগে
হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা চায় বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ
দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনতে চলমান প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ভারত ত্বরান্বিত করবে বলে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছাও সমান গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় তো রয়েছেই, তবে এর পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছাও থাকতে হবে। আসামিদের ফেরত আনার জন্য যে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে, তা যেন আরও দ্রুত সম্পন্ন হয়—ভারত সরকার সেই দিকে নজর দেবে বলেই আমরা আশা করি।’
দুই দেশেরই রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অবশ্যই রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে এবং ভারত সরকারেরও একই ধরনের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা প্রয়োজন।
প্রত্যর্পণ চুক্তির কাঠামোর আওতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ করা অবশ্যই সম্ভব এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে গতকাল (শনিবার) বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আপনাদের সরাসরি উত্তর দিতে গেলে, ভারত সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মাধ্যমে বারবার এ বিষয়ে বলেছে, একটি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় আইনি বিষয় জড়িত, আর এটি একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া। সুতরাং সেই দিক থেকে প্রক্রিয়াটি চলমান।’
বিষয়টি আদালত সংশ্লিষ্ট হওয়ায় ‘কেউ কোনো সময়সীমা দিতে পারবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকায় চলমান বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনেরর অংশ হিসেবে ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স: ম্যানেজিং গ্রেট-পাওয়ার কম্পিটিশন উইদাউট কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো সমাধানে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন হাইকমিশনার।
দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার প্রতিটি সমস্যারই সমাধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো গোপন করে রাখার কোনো মানে নেই, আর বিষয়গুলো নিয়ে কথা না বলারও কোনো মানে নেই।’
বেশ কয়েকটি প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, পানি, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, যোগাযোগ, পরিবহনসহ সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে উপযুক্ত ফোরামের মাধ্যমে দুই দেশের আলোচনা করা প্রয়োজন।
দুই দেশের মধ্যে সম্পৃক্ততার প্রক্রিয়া ধীরগতির হতে পারে, তবে তা থেমে যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে যথাযথ ফোরামে সংলাপ হতে হবে। আর সেই সংলাপ হতে হবে ধারাবাহিক।’
ভারতীয় এই কূটনীতিক বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি, প্রক্রিয়ায় কোনো বিরতি নেই। প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশ্বাস করুন, এর সমাধান হতে হবে এবং সমাধান হবেই।’
২৪ দিন আগে
পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে জয়শঙ্কর ও রিয়াজ হামিদুল্লাহর আলোচনা
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের বিদায়ী হাইকমিশনার মো. রিয়াজ হামিদুল্লাহ ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে তাদের এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
সাক্ষাতের পর জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, বিদায়ী সাক্ষাতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে পেয়ে তিনি আনন্দিত।
এছাড়া তিনি তার পোস্টে বাংলাদেশি হাইকমিশনারের অবদানের প্রশংসা এবং ভবিষ্যতের সব উদ্যোগে তার সাফল্য কামনা করেন।
অন্যদিকে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে ১৮ মাস দায়িত্ব পালনকালে পারস্পরিক আস্থা, মর্যাদা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার কথা জানিয়েছেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ।
তিনি বলেন, প্রচলিত কূটনৈতিক পথ অনুসরণের পরিবর্তে তিনি দুই দেশের মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গতকাল (শনিবার) দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো সমাধানে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার প্রতিটি সমস্যারই সমাধান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকায় চলমান বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের অংশ হিসেবে ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স: ম্যানেজিং গ্রেট-পাওয়ার কম্পিটিশন উইদাউট কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ত্রিবেদী এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়গুলো গোপন করে রাখার কোনো মানে নেই, আর বিষয়গুলো নিয়ে কথা না বলারও কোনো মানে নেই।’
বেশ কয়েকটি প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, পানি, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, যোগাযোগ, পরিবহনসহ সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে উপযুক্ত ফোরামের মাধ্যমে দুই দেশের আলোচনা করা প্রয়োজন।
দুই দেশের মধ্যে সম্পৃক্ততার প্রক্রিয়া ধীরগতির হতে পারে, তবে তা থেমে যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে যথাযথ ফোরামে সংলাপ হতে হবে। আর সেই সংলাপ হতে হবে ধারাবাহিক।’
ভারতীয় এই কূটনীতিক বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি, প্রক্রিয়ায় কোনো বিরতি নেই। প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশ্বাস করুন, এর সমাধান হতে হবে এবং সমাধান হবেই।’
২৪ দিন আগে
হাসিনাকে ভারতীয় বিমান বা সেনাবাহিনী ভারতে আনেনি: ত্রিবেদী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে সে দেশের বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী নিয়ে যায়নি—এ কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান এবং বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় এর কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে এক প্যানেল আলোচনায় প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বারবার ভারত সরকার এ বিষয়ে বলেছে, একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, আর সেই প্রক্রিয়াটি আইনি ও সুসংগঠিত। সুতরাং এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় ‘কেউ কোনো সময়সীমা দিতে পারবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা যে পরিস্থিতিতে ভারতে পৌঁছান, সে বিষয়েও ত্রিবেদী কথা বলেন। তিনি বলেন, ওই পরিস্থিতির জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত ছিল না।
বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনার চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি।’
সে সময় বাংলাদেশের ‘মর্মান্তিক পরিস্থিতির’ কারণে ঘটনাটি ঘটেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি বিশ্বের কোথাও যেন আর কখনও না ঘটে।
হাইকমিশনার বলেন, শেখ হাসিনা যখন ভারতে পৌঁছান, তখনও তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং প্রতিবেশী দেশ হিসেবে নয়াদিল্লিকে ওই পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে হয়েছিল।
২৫ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ইতিবাচক ঢাকা-দিল্লি, চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার আশা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠবে। সেই সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফলাফল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী মন্ত্রণালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান।
হাইকমিশনারের সঙ্গে ‘খুব ভালো, আন্তরিক ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। এছাড়া সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা আশাবাদী যে আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারব। আর অবশ্যই, যখন একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে, তখন প্রধানমন্ত্রীও সফর করতে পারেন...আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে পরে তা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, ‘তাই আমরা যখন পরিবেশ অনুকূল হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সফর করব।’
তবে সফরের সম্ভাব্য সময় হিসেবে নভেম্বর নিয়ে যে গুঞ্জন রয়েছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘অনেক গুঞ্জনই থাকে, কিন্তু আমি গুঞ্জন নিয়ে কথা বলি না। আমি বাস্তবতা নিয়ে কথা বলি, আর বাস্তবতা হলো—আজকে আমাদের খুব ভালো বৈঠক হয়েছে।’
সম্পর্ক ‘সম্পূর্ণ ইতিবাচক’
অন্যদিকে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ ইতিবাচক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হাইকমিশনার বলেন, আমি আবারও বলছি, আমাদের আমন্ত্রণ খোলা আছে। আমার মনে হয় না, তাড়াহুড়ার কোনো প্রয়োজন আছে। সবকিছুই খুব ইতিবাচক। তবে আমাদের যথাযথ সময় দিতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে ভারতের সঙ্গে দূরদর্শী ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
অন্যদিকে ত্রিবেদী আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরবর্তী যোগাযোগের জন্য পারস্পরিকভাবে সুবিধাজনক সময় খুঁজে নেবে। তিনি বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যখনই নিজেদের সুবিধাজনক মনে করবেন, তখনই বিষয়টি এগিয়ে যাবে। এ বিষয়ে তারা খুবই আত্মবিশ্বাসী।
নেতিবাচক কোনো কিছুর প্রশ্নই ওঠে না উল্লেখ করে ত্রিবেদী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো প্রশ্নই নেই। আমি ইতিবাচক, প্রতিমন্ত্রী ইতিবাচক এবং বাংলাদেশের জনগণও ইতিবাচক। সবকিছুই সম্ভব।’
এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশেরই রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘কাজ এগিয়ে চলছে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে তার কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, তার সঙ্গে একটি ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে এবং তিনি হুমায়ুন কবিরকে খুবই নীতিবান, অত্যন্ত স্পষ্টবাদী ও খোলামেলা হিসেবে বর্ণনা করেন।
তাদের আলোচনা খোলামেলা ও ইতিবাচক হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ত্রিবেদী। তিনি জানান, এটি মূলত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানোর একটি সুযোগ ছিল।
তিনি বলেন, ‘এটি পুরোপুরি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল, হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে, ভারতের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানাতে পেরে আমি খুশি। পাশাপাশি তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকেও আমার শুভেচ্ছা জানিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নিউইয়র্ক সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কে তার চমৎকার বৈঠক হয়েছে।’
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় এবং নিউইয়র্কে সদ্য সমাপ্ত ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে গত সপ্তাহে ভারত আবারও জানিয়েছিল, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী উপায়ে এগিয়ে নিতে চায়। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার আগ্রহও প্রকাশ করে দেশটি।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী সম্পর্ক চায়।
বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ভারত প্রস্তুত বলেও জানান মুখপাত্র।
জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো এই সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে, গঠনমূলক দিকে এবং দূরদর্শী উপায়ে এগিয়ে নেওয়া।’
২৯ দিন আগে
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আলোচনা
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আলোচনা হয়।
এ সময় মন্ত্রীর কার্যালয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন তারা।
এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান হাইকমিশনার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থাকাকালীন তাদের আগের বৈঠকগুলোর কথা স্মরণ করেন হাইকমিশনার।
৩০ দিন আগে
বোয়িং চুক্তিতে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বোয়িংয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তির পেছনে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশ বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখবে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমান চলাচলের কেন্দ্র হতে হলে আমাদের বহর সম্প্রসারণ করতে হবে। এর পেছনে কিছুই নেই...কোনো গোপন এজেন্ডাও নেই। বাংলাদেশ প্রয়োজনের ভিত্তিতেই এটি করেছে। আমাদের বহর সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
এ সময় আন্তঃসরকারি সংস্থা অনুবিভাগের সচিব এম ফরহাদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পররাষ্ট্রসচিব (জনকূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকার বিষয়) এ কে এম শহীদুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
হুমায়ুন কবির দেশের বিমান চলাচল খাতের স্বার্থে বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজের সমন্বয়ে একটি বহর রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণকে ‘সফল ও অর্থবহ’ হিসেবে বর্ণনা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। নিউইয়র্কে চার দিনের সফরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা ও কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হয়।
চুক্তি সইয়ের কিছুক্ষণ আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, বিশ্বের সেরা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজগুলোর আরও ১১টি কেনার চুক্তির জন্য বোয়িং ও বিমানকে অভিনন্দন। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য এটি আরেকটি লাভজনক চুক্তি!
এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে সরকার। দুই পক্ষই তখন ঘোষণা দেয়, ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিটি বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ ক্রয়াদেশ।
৩০ দিন আগে