বৈদেশিক-সম্পর্ক
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষিবিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে কৃষি ও শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে কৃষি, বনজ সম্পদ এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর আলোকপাত করে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পরিবেশ রক্ষায় বনায়ন এবং শিক্ষা খাতে দক্ষতা উন্নয়নে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে।
নজরুল ইসলাম খান এসব ক্ষেত্রে চীনের আরও সক্রিয় সমর্থন কামনা করেন। অন্যদিকে, চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে চীনা দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সিলর লি শাওপেং এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইতালি সফরের আমন্ত্রণ রাষ্ট্রদূতের
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ইতালি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি বছরের সুবিধাজনক সময়ে ইতালি সফর করবেন বলে রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো সালাহউদ্দিন আহমেদকে এ আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। দেশটির সঙ্গে নিরাপদ অভিবাসনসহ সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র রয়েছে। ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেজন্য বাংলাদেশ ইতালির সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বজায় রাখাসহ অদূর ভবিষ্যতে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ।
বৈঠকে আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ইতালি দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে চলমান রাখাসহ এটিকে বিস্তৃত করতে আগ্রহী। তিনি জানান, ইতালির বর্তমান সরকার নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে বদ্ধপরিকর। অভিবাসন ইস্যুটি দেশটির অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
তিনি বলেন, ইতালিতে আগামী জুন মাস থেকে নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর হবে। এটি চালু হলে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতসহ অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজতর হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে নিরাপদ অভিবাসন, দ্বিপাক্ষিক শ্রমবাজার, এবং দক্ষ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা গত বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের পরবর্তী সভা ইতালিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান আলেসান্দ্রো।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিনন্দনপত্র সালাহউদ্দিন আহমদের হাতে তুলে দেন এবং মন্ত্রীকে ইতালি সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি এ বছরের সুবিধাজনক সময়ে ইতালি সফর করবেন বলে রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন।
বৈঠকে দুদেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, নিরাপদ অভিবাসন, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ বিষয়ক পরিচালক অনির্বাণ নিয়োগী এবং ইতালি দূতাবাসের হেড অভ কনসুলার চ্যান্সেরি লরা শেলা উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
জ্বালানিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে আরও জাপানি বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, অবকাঠামো, ওষুধ শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শ্রমবাজার এবং উৎপাদনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২০ এপ্রিল সেনেগালের ডাকারে অনুষ্ঠিত ‘শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক ডাকার আন্তর্জাতিক ফোরামে’র একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল বৈঠকের পর জাপানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওনিশি ইয়োহেইয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এ আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াসহ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করে।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাপানের অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মিয়ানমারে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন সহজতর করতে জাপানের আরও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
১৪ দিন আগে
দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ-ইইউ পিসিএ চুক্তিতে প্রাথমিক সই
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে ‘অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ)’-তে প্রাথমিক স্বাক্ষর হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে এই চুক্তি সই হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং ইইউয়ের পক্ষে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক) পাওলা পাম্পালনি চুক্তিতে সই করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের হাই রিপ্রেজেনটেটিভ কাজা কাল্লাস এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পিসিএটি বাংলাদেশ-ইইউ কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
তারা বলেন, মানবাধিকার ও সুশাসন থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিবেশগত টেকসই ও জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি, পরিবহন ও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন নীতিগত ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে সহায়তা করবে।
এ ছাড়াও বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে পিসিএ স্বাক্ষর করা প্রথম দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার সময় এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে বলে তারা উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ঢাকায় বাংলাদেশ ও ইইউয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের মাধ্যমে পিসিএ চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর থেকে দুই পক্ষ ঢাকা ও ব্রাসেলসে শারীরিক ও ভার্চুয়ালি কয়েক দফা আলোচনা ও বেশ কয়েকটি কারিগরি বৈঠকে অংশ নেয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে পঞ্চম দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষ চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করে।
পঞ্চম দফার আলোচনায় বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে আইনি ও বিচার বিভাগীয় সহযোগিতা, মেধাস্বত্ব অধিকার, জ্বালানি সহযোগিতা, মৎস্যচাষ, জলজ চাষ ও মহাসাগর প্রশাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবাধিকার, শুল্ক সহযোগিতা ইত্যাদি।
১৫ দিন আগে
জুলাইয়ে প্রথমার্ধে সৌদি আরব সফরের আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
আগামী জুলাই মাসের প্রথমার্ধে সৌদি আরব সফর করতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় দুপক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের একপর্যায়ে রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান। মন্ত্রী এ আমন্ত্রণের জন্য রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে জুলাই মাসের প্রথমার্ধে সৌদি আরব সফর করতে পারেন বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠককালে তারা দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, সৌদি আরবে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার (মিয়ানমারের নাগরিক) বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান, পর্যটন ও জ্বালানি খাতে সৌদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। জনশক্তি রপ্তানি ছাড়াও বাংলাদেশের জ্বালানি ও পর্যটন খাতে সৌদি আরবের বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি এসব খাতে বিনিয়োগসহ দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান।
সৌদি আরবে অবস্থানরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যুর প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রদূত এই প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের যেসব নাগরিকের বাংলাদেশি নথিপত্র রয়েছে বা যারা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে, তাদের দ্রুত পাসপোর্ট প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে সৌদি আরব থেকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংগ্রহ করে পুনরায় যাচাই-বাছাই করার জন্যও তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৫ দিন আগে
‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ হরমুজ পারাপারে তেহরানকে অনুরোধ ঢাকার
বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেন নিরাপদে পার হতে পারে, সেজন্য ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ আহ্বান জানান।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন এবং রবিবার রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে জানান, পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ (সোমবার) জানিয়েছে, এই বিষয়ে দুই নেতা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করবেন। ড. খলিলুর বর্তমানে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস সফর করছেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষই উপসাগরীয় অঞ্চলের উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলমান ঘটনাবলি নিয়ে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সব পক্ষকে সংযম, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে তেহরান সফর করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ বাংলার জয়যাত্রাকে নিরাপদে যাতায়াতের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কাজে লাগানোর জন্য ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ইরান যখন জাহাজ হরমুজ পাড়ি দেওয়ার অনুমতি পাওয়া ছয়টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, তখন আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ ছিলাম।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অনুসরণ করেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বাংলার জয়যাত্রার পাশাপাশি অপরিশোধিত তেল বহনকারী বাংলাদেশগামী আরেকটি জাহাজের নিরাপদ যাত্রার সুবিধার্থে অনুরোধ করেন। প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত জানান, এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যথাযথ পর্যায়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
বর্তমান সংকটে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করেন তিনি। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পরে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে শোকপ্রস্তাব গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. নজরুল ইসলামকে ইরান দূতাবাসে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করার জন্য পাঠানোর জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।
ইরানি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর ব্যবস্থা করায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি প্রশংসা জ্ঞাপন করেন।
ওই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর উল্লেখ করেন, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে ইরান থেকে আজারবাইজানে নিরাপদে সরিয়ে নিতে ইরান সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
১৫ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত রয়েছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা নিতে হবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তুরস্কে চলমান আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম–২০২৬-এর ‘গ্লোবাল রিফিউজি প্রোটেকশন সিস্টেম ইন দ্য ফেস অব ডিসপ্লেসমেন্ট ক্রাইসিস’ শীর্ষক সেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন বৃদ্ধি, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি— উভয় পক্ষই তাকে স্বাগত জানিয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা। তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
১৭ দিন আগে
ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের আহ্বান জানাল বাংলাদেশ
গবেষণা ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান ডিজিটাল বিভাজন হ্রাসে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কমিশনের ঊনষাটতম অধিবেশনে তিনি এ আহ্বান জানান। উদীয়মান প্রযুক্তির নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী তথ্য-গোপনীয়তা সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও আন্তর্জাতিক জনসংখ্যা ও উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং গবেষণার অপরিহার্য ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উল্লেখ করেন, বিশ্বে এখনও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগে গভীর বৈষম্য সৃষ্টি করছে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, টিকাদান কর্মসূচির সম্প্রসারণ, কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। পাশাপাশি টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা এবং রিয়েল-টাইম রোগ নজরদারির মতো প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় দেশটির সম্প্রসারণের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
তরুণ জনগোষ্ঠীতে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনকে টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
১৯ দিন আগে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশকে সমর্থন ব্রাজিলের
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের (২০২৬–২০২৭) সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে সমর্থন জানিয়েছে ব্রাজিল।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি ব্রাজিলের সমর্থনের কথা জানান।
সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি, কৃষিখাত, পোলট্রি শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় করেন তারা।
২২ দিন আগে
আটকা পড়া বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারবে: ইরানি রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী বলেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে অনেক জাহাজ অপেক্ষায় আছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের কিছু জাহাজও রয়েছে।
তিনি বলেছেন, ইরান বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে এবং দ্রুত এসব জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ আয়োজিত ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ: মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতা দাবি’ শীর্ষক শোক সমাবেশ ও যুদ্ধাপরাধবিরোধী প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ইরান বাংলাদেশকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বিবেচনা করে। বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশগুলোকেও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
তিনি বলেন, মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনা হলে ইরান অংশ নেবে, অন্যথায় কোনো আলোচনায় যাবে না—এই বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত যুদ্ধবিরতির সময় পর্যন্ত ইরান হামলা থেকে বিরত থাকবে, তবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে ইরানও প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবে।
ইসলামাবাদে আলোচনার ফলাফল প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, এর আগেও আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃতপক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতেই আলোচনায় অংশ নেয়।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা চালিয়েছে এবং ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখতে চায়।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন সফল হয়নি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, হামলার মাধ্যমে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে জনগণ সরকারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র সফল হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
ইরানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি আয়োজন করায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব হামলায় হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ও শিশুদের প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি বলেন, ইরান এসব হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং দেশটি যুদ্ধ চায় না, কারণ যুদ্ধ মানবজাতির জন্য ক্ষতিকর। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী নয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এসব হামলায় শিশুদের হত্যা করা বিশ্ব বিবেকের ওপর আঘাত এবং অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ইরানের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নেত্রী মরিয়ম জামিলা তামান্না।
আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান, সদস্য সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, সহকারী সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ ও জিহাদী ইহসান, মো. আরিফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক সানোয়ারা খাতুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াজ আহমদ, ঢাকা আলীয়া মাদরাসা শাখার আহ্বায়ক রকিব মণ্ডল, সদস্য সচিব জিনাত হোসাইন ও যুগ্ম আহ্বায়ক সালমান ফারসি, মাহফুজুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, আল আমীন শেখ এবং জালালুদ্দিন রুমি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ প্রমুখ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানি শিশুদের স্মরণে প্রতীকী কফিন, রক্তাক্ত স্কুলব্যাগ ও ছবি প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি যুদ্ধবিরোধী স্বাক্ষর কর্মসূচিও পালন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাক্ষর দিয়ে যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান।
২৩ দিন আগে