বৈদেশিক-সম্পর্ক
রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ লাখ ইউরো দিচ্ছে ফিনল্যান্ড
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে (ইউএনএইচসিআর) ২০ লাখ ইউরো অনুদান দিচ্ছে ফিনল্যান্ড সরকার।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিসহ এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে, যেখানে এত দিন অর্থের ঘাটতি ছিল।
মিয়ানমারে লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসার প্রায় এক দশক পরও বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সীমিত জীবিকার সুযোগের কারণে তারা মূলত মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ২৩ শতাংশ শরণার্থী পরিবার ‘কাজের বিনিময়ে অর্থ’ কর্মসূচির মাধ্যমে আয় করেছে, যা তাদের জন্য অনুমোদিত একমাত্র আনুষ্ঠানিক জীবিকামূলক কার্যক্রম। ৪২ শতাংশ পরিবারের আয়ের উৎস ছিল অস্থায়ী এবং অনিশ্চিত, আর ৩৫ শতাংশ পরিবারের আয়ের কোনো উৎসই ছিল না।
তহবিল সংকোচনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারী, কিশোরী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বয়স্ক মানুষ। পাশাপাশি ২০২৪ সালের শুরু থেকে বাংলাদেশে আসা প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গাও এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ক্যাম্পগুলোতে জায়গার অভাবে তাদের অনেকেই এখনও আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছেন।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার প্রচেষ্টা এখন একটি নাজুক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ক্রমহ্রাসমান তহবিল, ক্যাম্পের অবনতিশীল পরিস্থিতি, ক্রমবর্ধমান সুরক্ষা ঝুঁকি এবং মিয়ানমারের চলমান অস্থিতিশীলতা এর প্রমাণ। এই পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডের বর্ধিত প্রতিশ্রুতি তাদের অসাধারণ উদারতার পরিচয় বহন করে।’
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের পরিস্থিতি স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।’
নয়াদিল্লিতে ফিনল্যান্ড দূতাবাসের অন্তর্বর্তীকালীন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মারি আহমেদ বলেন, ‘ফিনল্যান্ড বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা জনগণের পাশে রয়েছে। বাস্তুচ্যুতির প্রায় এক দশক পরও রোহিঙ্গারা এখনও তাদের জীবন পুনর্গঠনের সুযোগের অপেক্ষায় আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক সহায়তার পাশাপাশি একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে দক্ষতা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। একইসঙ্গে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং তাদের দুর্দশা যেন বৈশ্বিক দৃষ্টি থেকে হারিয়ে না যায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।’
এই অনুদান এমন সময়ে এল, যখন জাতিসংঘ ও এর মানবিক অংশীদাররা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় নতুন করে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। গত ২০ মে তারা রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের জন্য যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার (জেআরপি) ২০২৬ সালের হালনাগাদ সংস্করণ প্রকাশ করে।
পরিকল্পনাটির আওতায় শরণার্থী ও স্থানীয় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীসহ ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার চাওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জেআরপির তুলনায় এ অর্থের পরিমাণ ২৬ শতাংশ কম। এটি মূলত জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম অর্থায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
ইউএনএইচসিআর জানায়, বছরের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় এই আবেদনের ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সুরক্ষায় ফিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০২৬ সালে দেশটি ইউএনএইচসিআরের মূল তহবিলে আরও ৭০ লাখ ইউরো দিচ্ছে, যা সংস্থাটি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবে।
ইউএনএইচসিআরের মতে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করতে এবং মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ও অর্থায়ন অব্যাহত রাখা জরুরি।
১৯ দিন আগে
লাইবেরিয়ায় বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বারোপ
নাইজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিয়া মো. মাইনুল কবির লাইবেরিয়ার রাষ্ট্রপতি জোসেফ বোয়াকাইয়ের কাছে দেশটিতে বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন।
সোমবার (২৫ মে) পরিচয়পত্র পেশের পর রাষ্ট্রদূত মাইনুল কবির দেশটির রাষ্ট্রপতি বোয়াকাইয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে লাইবেরিয়ার সরকার ও জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
লাইবেরিয়ায় বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে বাংলাদেশের সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত মাইনুল কবির যুদ্ধবিধ্বস্ত লাইবেরিয়ার পুনর্গঠনে, বিশেষ করে চিকিৎসা ও অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা বাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য—তৈরি পোশাক, ওষুধশিল্প, পাটজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে লাইবেরিয়ায় এসব পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সহযোগিতা কামনা করেন।
কৃষিখাতে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি লাইবেরিয়ায় কন্ট্রাক্ট ফার্মিং উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব দেন।
এছাড়া বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত মাইনুল কবির সুবিধাজনক সময়ে লাইবেরিয়ার রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানান।
জবাবে রাষ্ট্রপতি জোসেফ বোয়াকাই বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানান এবং লাইবেরিয়ায় বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা বাহিনীর অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বাংলাদেশ ও লাইবেরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লাইবেরিয়ার চলমান ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আলোচনায় উত্থাপিত বিষয়গুলো তার সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। একইসঙ্গে তিনি রাষ্ট্রদূতকে দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে লাইবেরিয়ার ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইথেল ডেভিস এবং রাষ্ট্রপতি ভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৩ দিন আগে
কুয়েতে বাংলাদেশের খাদ্য সহায়তা হস্তান্তর, সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বরোপ
কূটনৈতিক সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে কুয়েতের জনগণের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রেরিত খাদ্য সহায়তার প্রথম চালান আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) কুয়েতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জাররাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ’র নিকট বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পাঠানো খাদ্যসামগ্রী হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে এটিকে বাংলাদেশ-কুয়েত ভ্রাতৃত্বের অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে মোট ২৪০ টন খাদ্যসামগ্রী উপহার হিসেবে কুয়েতে পাঠানো হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভ্রাতৃপ্রতিম কুয়েতের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি, সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কুয়েতের আমির শেখ মেশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহর উদ্দেশে পাঠানো একটি পত্রও আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
২৫ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি বাড়াতে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা করতে হবে।
রবিবার (২৪ মে) সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যে নামটি প্রতিনিধিত্ব করা হয়, সেটি হলো বাংলাদেশ। সঙ্গত কারণে দেশের ভাবমূর্তি, রপ্তানি সক্ষমতা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনও তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। তবে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য, খাদ্যপণ্য এবং সৌদি ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি পোশাক রপ্তানির বড় সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা নিতে হবে।
প্রবাসী কর্মীদের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন। তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ব্যক্তি, পরিবার ও দেশ—সবাই উপকৃত হবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে।
উপস্থিত প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোন খাতে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, কোথায় নীতিগত সহায়তা দরকার এবং কোথায় আর্থিক বা খাতভিত্তিক সহযোগিতা দরকার—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে। বাস্তবসম্মত প্রস্তাব পেলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
বৈঠকে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার জন্য বড় ধরনের রপ্তানি ও বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ২০২৭ সালের মধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।
প্রতিনিধিদলটি জানায়, সৌদি ভিশন ২০৩০, ওয়ার্ল্ড এক্সপো এবং বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গ্রিন টেকনোলজি, পরিবেশ, মরুভূমি বনায়ন, কৃষি ও খাদ্য খাত এবং ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক অর্থায়নের মতো খাতে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও খাতভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
২৬ দিন আগে
ইতালিতে বৈধ পথে আরও বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে আরও বেশি অভিবাসী গ্রহণের জন্য ইতালি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইতালির বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতালি বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।
মন্ত্রী গণযোগাযোগ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সম্প্রচার খাতে ইতালির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে ইতালির অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন থেকে জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রেও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, ইতালিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসী সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন এবং তারা বাংলাদেশ ও ইতালি উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
এ সময় তিনি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সমুদ্রপথে ইতালিতে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদারে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেন।
তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে ইতালিতে অভিবাসন বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
জবাবে ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে বৈধ অভিবাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং গত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে ২০ হাজার মানুষ ইতালিতে অভিবাসী হয়েছেন।
৩১ দিন আগে
বাংলাদেশের ৫টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আজ কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলি বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররির নেতৃত্বে কাতারের প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ-কাতার সপ্তম যৌথ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের ৫ নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং সেক্টরে কর্মী নিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী।
সোমবার (১৮ মে) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা সমাধান ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণে কাতার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জরুরি চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে কাতারের আমির যে মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন, সেজন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী।
আরিফুল হক চৌধুরী কাতারকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় শ্রমবাজার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে চার লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মী কাতারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অবদান রাখছেন।
মন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৮ জন বাংলাদেশি কর্মী কাতারে গিয়েছেন। চলতি বছর কাতার কর্তৃপক্ষ এই সংখ্যার দ্বিগুণ কর্মী গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কাতারগামী কর্মীদের জন্য বর্তমানে ঢাকায় মাত্র একটি ভিসা ও মেডিকেল সেন্টার রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ সময় স্বল্প সময়ে ভিসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে কাতারের ভিসা সেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের জন্য কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়ের অধীন ১১০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট ৫৫টি ট্রেডে মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক কাতারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নার্স, কেয়ারগিভার, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খতিব ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে আহ্বান জানান।
বৈঠকে কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশের কর্মীদের কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে জানান, বর্তমানে কাতারে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন, যার মধ্যে ৩০ শতাংশ উন্নয়ন খাতে এবং বাকিরা অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের ৫টি নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং সেক্টরে কর্মী নিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ড. আলি বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি জানান, কাতারে অদক্ষ কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে ইতোমধ্যে দুইটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিভাগীয় শহরে ভিসা সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধির অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি আশ্বস্ত করেন, বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করবেন।
যৌথ কমিটির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত আলি মাহদি সাঈদ আল-কাহতানি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩২ দিন আগে
শান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, টেকসই উন্নয়ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একইসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের রাজনৈতিক, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগের মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সামাজিক-অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও দুর্বলতা মোকাবিলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে চলমান তারল্য সংকটের মধ্যেও শান্তিরক্ষা ম্যান্ডেট অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
বৈঠকে সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদান এবং শান্তি ও নিরাপত্তা উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
৩৫ দিন আগে
সবুজ প্রযুক্তিনির্ভর টেক্সটাইল শিল্পে বাংলাদেশ-চীন অংশীদারত্ব জোরদারের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পকে আরও টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চীনের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ-চীন গ্রিন টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, চীনের শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে অর্থবহ বিনিয়োগের আহ্বান জানান, যাতে উভয় দেশের জন্য ‘উভয়ের লাভজনক’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনা প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বন্ধ রাষ্ট্রীয় মিল-কারখানা পুনরুজ্জীবন, পাটখাতের আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সবুজ শিল্পায়নে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক সবুজ সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানা রয়েছে, যা দেশের উদ্যোক্তাদের পরিবেশ সচেতনতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করে টেক্সটাইল শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করতে হবে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ ধরনের প্রদর্শনী প্রযুক্তি বিনিময়, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং টেকসই শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
৩৬ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ওআইসির সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা—ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর জোরালো সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো হয়।
সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, টেক্সটাইল ও ওষুধশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
৩৮ দিন আগে
অবৈধ অভিবাসনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানাল সরকার
সাম্প্রতিক সময়ে ‘বাংলাদেশ-লিবিয়া-ইতালি’ রুটে অনিয়মিত অভিবাসনের সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে কয়েকজন বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়েছে সরকার।
এ লক্ষ্যে সোমবার (১১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি-বাংলাদেশ সিচুয়েশন’ শীর্ষক এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এতে পররাষ্ট্র সচিব, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত, লিবিয়া দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত এবং ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মিশন প্রধান অংশ নেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অবৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত অসাধু সিন্ডিকেটগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় ইতালির রাষ্ট্রদূত জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন চলতি বছরের জুনে রাজনৈতিক আশ্রয় ও অভিবাসন বিষয়ে নতুন বিধিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
বৈঠকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন সম্প্রসারণের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ভাষাগত পারদর্শিতা অর্জনের পাশাপাশি নিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়াকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, নিয়মিত অভিবাসন সফলভাবে পরিচালনার জন্য গন্তব্য দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিতে হবে। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার মতো অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে তারা রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ভিশন বাস্তবায়নে আরও বেশি অবদান রাখতে পারেন।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা অবৈধ অভিবাসন রোধ, নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করা এবং পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়াকে মানবিক, নিয়মিত ও অধিকারভিত্তিক রাখতে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।
৩৯ দিন আগে