বৈদেশিক-সম্পর্ক
লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ১৭৫ বাংলাদেশি
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৫ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাদের ঢাকায় আনা হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ফিরে আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ত্রিপলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ১১৩ জন এবং বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ৬২ জন ছিলেন।
প্রত্যাবাসিতদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তাদের অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা তাদের অভ্যর্থনা জানান।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রত্যাবাসিতদের তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করার আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা প্রত্যেক প্রত্যাবাসিতকে পথখরচা, খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে।
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
৩৪ দিন আগে
৬ বাংলাদেশি জাহাজকে হরমুজ পারাপারে অনুমতি দিয়েছে তেহরান
হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া ছয়টি বাংলাদেশি জাহাজকে পার হয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা পরিষদ।
বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, জাহাজগুলোর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও ইরান যৌথভাবে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসলে পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধের কবলে ঠেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলের পেতে রাখা ‘ফাঁদে’ পা দেয়নি। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্ররোচনায় সেই ফাঁদে পা দিয়েছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওই অঞ্চলের মুসলিমরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
জলিল রহিমি আরও উল্লেখ করেন, ইরান থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গত মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান একটি চিঠি লিখেছেন। দুই দেশের সম্পর্ককে ভ্রাতৃপ্রতিম উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরান বাংলাদেশকে বন্ধু দেশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং কঠিন সময়ে পারস্পরিক সমর্থন প্রত্যাশা করে।
জাতিসংঘের সনদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এক রাষ্ট্রের ওপর অন্য রাষ্ট্রের আগ্রাসন অবৈধ এবং ইরান এ ধরনের আগ্রাসনের শিকার। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং জাতিসংঘ ও ওআইসির সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এই আগ্রাসন এবং নারী ও শিশু হত্যার তীব্র নিন্দা জানাবে বলে প্রত্যাশা করে তেহরান।
৩৪ দিন আগে
ডিজিটাল সেবা উন্নয়নে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভুটানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাসো কর্মা হামু দর্জি সাক্ষাৎ করেছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে চলমান অগ্রগতি, ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রাষ্ট্রদূতকে জানান।
রাষ্ট্রদূত দাসো কর্মা বাংলাদেশের এ ধরনের উন্নয়ন অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। উভয়পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি বিনিময় এবং ডিজিটাল সেবা উন্নয়নে একত্রে কাজ করার বিষয়ে একমত হন।
এ সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান, ভুটান দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর জিগড্রেল ওয়াই শেরিং এবং বাণিজ্য বিষয়ক কাউন্সিলর দাবা শেরিং উপস্থিত ছিলেন।
৩৫ দিন আগে
মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা যাচ্ছে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মিয়ানমারে চলমান অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এ মুহূর্তে শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দলীয় (জামায়াত) চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে প্রশ্নের উত্তর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। তবে সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমর্থন জোরদার করার পাশাপাশি কূটনৈতিক, আইনি এবং মানবিক সকল প্রকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ।
সত্তরের দশকের শেষভাগ এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বিগত বিএনপি সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সংঘাত সত্ত্বেও অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে বর্তমানে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চললেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মন্ত্রী জানান, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ প্রথমবার ২ লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশের সম্মুখীন হয়েছিল। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে তাদের সবাইকে সফলভাবে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে ২ লাখ ৩৬ হাজার জনকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সফল নেতৃত্বে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ফেরত পাঠানো হয়।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।
৩৬ দিন আগে
জাপানি শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ভাষা শিখবে বাংলাদেশিরা
জাপানে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে জাপানি মাতৃভাষাভাষী শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের একটি প্রতিনিধিদল সোমবার (৩০ মার্চ) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের সঙ্গে তার দপ্তরে সাক্ষাৎ করেছে।
সাক্ষাতে তারা জাপানের ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়াও জাপানি মাতৃভাষাভাষী শিক্ষকদের মাধ্যমে বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রস্তাবিত বিষয়গুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে উভয়পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জাপানি প্রতিনিধিদের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীনে দেশজুড়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত চমৎকার প্রশিক্ষণকেন্দ্র রয়েছে। আপনারা এই অবকাঠামোসমূহ ব্যবহার করে আমাদের শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে পারেন।’
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই জাপান অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পাশে রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারা আরো সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ ও যুগ্মসচিব মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
৩৬ দিন আগে
উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিতে কাতারের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের
উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিতে কাতারের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার বার্তা নিয়ে দোহায় কাতারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির।
রবিবার (২৯ মার্চ) সরকারি সফরে কাতারের রাজধানী দোহায় গিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন হুমায়ূন কবির। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে একটি সংহতিপত্র হস্তান্তর করেন তিনি।
সংহতিপত্রে প্রধানমন্ত্রী উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কাতারের নেতৃত্ব, সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি ব্যক্ত করেন। তিনি কাতারে বসবাসরত প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাতার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
একইসঙ্গে কাতারের যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া, ২০২৫ সালের জানুয়ারি ও মে মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জরুরি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাতায়াতে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দেওয়ায় কাতারের আমিরের মহানুভবতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আঞ্চলিক শান্তি, সংলাপ ও মানবিক কূটনীতিতে কাতারের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
সফরকালে তিনি কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররির সঙ্গেও বৈঠক করেন। এ সময় সাম্প্রতিক এক সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় শ্রমমন্ত্রীর এক নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শোক ও সমবেদনা জানান।
সফরকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দোহাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শন করেন এবং সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন।
তার এই সফর দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যকার অংশীদারত্বকে আরও গতিশীল করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই উদ্দেশ্যে দোহা থেকে আরও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ সফরের কথা রয়েছে উপদেষ্টা হুমায়ূন কবিরের।
৩৬ দিন আগে
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের আশা বাংলাদেশ-ইইউয়ের
ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) চতুর্দশ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দুই পক্ষই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির বাণিজ্যবিষয়ক কমিশনার মারোস সেফকোভিচ। তার সঙ্গে ছিলেন ট্রেড ডিরেক্টর জেনারেল সাবিন ওয়েয়ান্ডসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদারের বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন সরকার বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যা টেকসই বাণিজ্যনির্ভর প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।
বাংলাদেশের আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানান, যাতে রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখা এবং অর্থনীতিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়। একইসঙ্গে, বাংলাদেশের প্রধান তৈরি পোশাক রপ্তানি বাজার হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্রুত একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পন্ন করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ ও সিইপিএ নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রম খাতে সংস্কার কার্যক্রমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং সংশোধিত শ্রম আইন শিগগিরই প্রণয়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-সংক্রান্ত প্রস্তুতি সময় বৃদ্ধির অনুরোধকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয় এবং শ্রমখাতে চলমান সংস্কারের প্রশংসা করা হয়। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত এফটিএ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শেষে মূল্যায়ন করা হবে বলেও জানানো হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে সমতাভিত্তিক পরিবেশ, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারসাম্যপূর্ণ সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সকল অংশীদারের জন্য বৈষম্যহীন ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশ।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
৩৬ দিন আগে
মানবপাচার বন্ধ ও অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং এই অমানবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রবিবার (২৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মানবপাচারচক্র জড়িত। এ চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ ও লিবিয়া উভয় দেশেই সক্রিয়। তারা উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিপজ্জনক পথে পাঠিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
দ্রুত এ চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইন ও বাংলাদেশের আইন উভয় ব্যবস্থায় বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিসে পৌঁছানোর জন্য একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ নৌপথ ব্যবহার করছিলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের মিশনগুলো সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। যারা উদ্ধার হয়েছেন, তাদের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছি।
টাকা উপার্জনের নেশায় মানুষ এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে—বিষয়টিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, যাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তাদের হাসপাতালে অথবা ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল তথ্য থাকলে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা, গ্রিস সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং শারীরিক ও আইনি অবস্থা বিবেচনা করার পরই তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৩৭ দিন আগে
সাকাইকে ‘স্মার্ট সিটি ৩.০’ হিসেবে গড়ে তুলতে ড. ইউনূসের সহায়তা চাইলেন মেয়র
জাপানের টোকিও শহরের নিকটবর্তী উদ্ভাবননির্ভর শহর সাকাই (ইবারাকি প্রিফেকচার) পরিদর্শন করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) শহরটিতে পৌঁছালে মেয়র মাসাহিরো হাশিমোতো তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
মেয়র হাশিমোতো জানান, অধ্যাপক ইউনূসের ‘তিন শূন্য’ ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সাকাই শহরকে একটি মডেল ‘স্মার্ট সিটি ৩.০’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন তারা।
সাকাই শহর স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি এবং ‘হোমটাউন ট্যাক্স’ ব্যবস্থার মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য পরিচিত। এই কর ব্যবস্থার মাধ্যমে টোকিওর মতো বড় শহরের বাসিন্দারা তাদের করের একটি অংশ নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করতে পারেন।
পরিদর্শনকালে অধ্যাপক ইউনূস একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান। সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে একটি আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রবৃদ্ধি ও নবায়নের প্রতীক হিসেবে তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি চেরি গাছ রোপণ করেন।
সাকাইয়ের রূপান্তর প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিতে অধ্যাপক ইউনূস ও তার দলের দিকনির্দেশনা কামনা করেন মেয়র হাশিমোতো। আলোচনায় সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠন এবং কমিউনিটি পর্যায়ে উদ্ভাবন ও সামাজিক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যে ‘তিন শূন্য ক্লাব’ বা ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ চালুর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
পরবর্তীতে অধ্যাপক ইউনূস জাপানের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ চেইন ‘বান্দো তারো কোম্পানি লিমিটেড’ পরিদর্শন করেন। শতাধিক শাখাসম্পন্ন এই রেস্তোরাঁ চেইনটি পরিবারবান্ধব ব্যবসা মডেলের জন্য পরিচিত। এই মডেলে প্রতিটি রেস্তোরাঁর সঙ্গে একটি করে নার্সারি সংযুক্ত থাকে, যাতে কর্মীরা কাজের সময় তাদের সন্তানদের কাছাকাছি রাখতে পারেন। সেখানে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক হিসেবে ড. ইউনূস একটি পিচ গাছ রোপণ করেন।
৩৮ দিন আগে
ডব্লিউটিও সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে ‘ডব্লিউটিও রিফরম: ফান্ডামেন্টাল ইস্যুস’ শীর্ষক সেশনে তিনি এ আহ্বান করেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ডব্লিউটিওর মূল ভিত্তি হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যনির্ভর উন্নয়নকে উৎসাহিত করা। বৈষম্যহীনতা ও অন্তর্ভুক্তির নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঐকমত্যভিত্তিক ও নিয়মভিত্তিক এই বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ (এমএফএন) শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার (ডিএফকিউএফ) এবং বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা (এসঅ্যান্ডডিটি)-এর মতো ব্যবস্থাগুলো বিশ্ব বাণিজ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
৩৯ দিন আগে