বৈদেশিক-সম্পর্ক
মক্কা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা আল-মুকাররমাহকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ মক্কা আল-মুকাররমাহ এবং সৌদি আরবের অন্যান্য পবিত্র স্থানের পবিত্রতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পুনর্ব্যক্ত করছে। একইসঙ্গে এসব স্থান সুরক্ষায় সৌদি আরব ও সেই দেশের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলছে, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সর্বদা পূর্ণমাত্রায় নিশ্চিত ও সমুন্নত রাখতে হবে।
৪২ দিন আগে
স্বাস্থ্য খাত ও এসডিজি অর্জনে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ হুমায়ুন কবিরের
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহুপক্ষীয় অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজ দপ্তরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, রোগ প্রতিরোধ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৪২ দিন আগে
ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মোহাম্মদ তালহা
ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে খন্দকার মোহাম্মদ তালহাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী খন্দকার মোহাম্মদ তালহার অভোগকৃত অবসরোত্তর ছুটি ও এ-সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত করে তাকে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (গ্রেড-১) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়োগের মেয়াদ ৩ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এছাড়া নিয়োগের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, তাকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম ও সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে।
জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
পেশাদার কূটনীতিক খন্দকার মোহাম্মদ তালহা ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি প্রথমবারের মতো ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান।
তিনি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সংক্রান্ত উইংয়ের মহাপরিচালক, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত লন্ডনে বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার ও ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চিফ অব প্রটোকল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিদেশে বিভিন্ন দায়িত্বের মধ্যে ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালন করেন তালহা। সেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক), জাতিসংঘের তহবিল ও কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিষয় দেখভাল করেন।
এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করেন। দুই জায়গাতেই তিনি বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) গ্রুপের সমন্বয় করেন।
এর আগে ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তেহরানে বাংলাদেশ মিশনের উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালনের সময় ২০০৪ সালে জাতিসংঘের জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কমিশনের ভাইস-চেয়ারও নির্বাচিত হন তালহা। এছাড়া জেনেভায় দায়িত্ব পালনের সময় ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কাউন্সিলের ৯৯তম অধিবেশনে র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তালহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে এমবিএ এবং মেলবোর্নের মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৈদেশিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
৪৩ দিন আগে
সীমান্তের ওপারে বিএসএফের গুলি: আসাদুলের মরদেহ দেশে, গুলিবিদ্ধ দুজন ভারতের কারাগারে
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তের ওপারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হকের মরদেহ দেশে ফিরেছে। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বেঁচে যাওয়া আরও দুই বাংলাদেশি মোস্তাকিম ও শ্রী উদাকে ভারতে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আসাদুল হক (৩৮) পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে। আহত মোস্তাকিম একই উপজেলার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে এবং শ্রী উদা নারায়ণের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোররাতে কয়েকজন বাংলাদেশি যুবক চান্দেরহাট বিওপির আওতাধীন সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভারতের উত্তর দিনাজপুরের ৬৩ নম্বর চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
এতে আসাদুল, মোস্তাকিম ও শ্রী উদা গুলিবিদ্ধ হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদুলকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
পরে ভারতীয় পুলিশ আসাদুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। অন্যদিকে চিকিৎসা দেওয়ার পর মোস্তাকিম ও শ্রী উদাকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ।
তাদের বিরুদ্ধে ভারতের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর ২১ ধারাসহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়। পরে তাদের রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
আসাদুলের মরদেহ দেশে ফেরাতে বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চান্দেরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে দিনাজপুর ৪২ বিজিবি এবং ভারতের পক্ষে বিএসএফের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে আসাদুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার রাত ১০টার দিকে বিএসএফ আসাদুলের মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
আসাদুলের স্বজনেরা বলেন, আসাদুল আর কোনোদিন তাদের মাঝে ফিরবেন না—এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। তারা ভেবেছিলেন, আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে হয়তো তিনি বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার মরদেহ ফিরেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
মোস্তাকিমের পরিবারের সদস্যরা বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে ভারতীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে জানতে পেরে তারা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মোস্তাকিম বেঁচে আছেন, এটিই এখন তাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
শ্রী উদার পরিবারের সদস্যরাও তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। তারা বলেন, গুলিতে আহত হওয়ার পর শ্রী উদা বেঁচে আছেন, কিন্তু এখন ভারতের কারাগারে। পরিবারের সঙ্গে আবার কথা বলতে পারাটাই তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।
বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাজাহান আলী বলেন, বিএসএফের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি ওই এলাকায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানার পর বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হয়। পরে বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে। রোববার রাতে আসাদুলের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হয়েছে। অন্য দুইজনকে ভারতের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে রবিবার রাত ১০টার দিকে বিএসএফ আসাদুলের মরদেহ ফেরত দিয়েছে।
৪৪ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
স্বৈরাচারী সরকারের অধীনে ১৫ বছর অস্বস্তিকর সম্পর্কের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানান।
জাতিসংঘ সফরের আগে বা সাইডলাইনে ভারতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ভালো ও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাংলাদেশ একটি দ্বিপক্ষীয় সফরকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে কোনো বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে অন্য দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলিনি যে প্রতিটি বহুপক্ষীয় জায়গায় গেলে আমরা কাউকে মিট করব না। দুটি বিষয় আলাদা।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাই। আমরা সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চাই। এতদিন একটি ঝামেলাগ্রস্ত, ত্রুটিপূর্ণ, লুটেরা, স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে ১৫ বছরের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এখন একটি নতুন সম্পর্কের দিকে যাব। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমেই করব।’
তবে জাতিসংঘের মতো বহুপক্ষীয় ফোরামে ভারতের সঙ্গে কোনোভাবেই বৈঠক হবে না—এমন ধারণা ঠিক নয় বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে বহুপক্ষীয় যেকোনো জায়গায় গেলে প্রাতিষ্ঠানিক আমন্ত্রণে আমরা সাইডলাইনে বৈঠক করব না। সেটি কখনই বলা হয়নি।’
ভারত প্রসঙ্গে একের পর এক প্রশ্ন না করে নিজেদের দেশের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডেইলি ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট খাইতেই ইন্ডিয়া, লাঞ্চ খাইতেই ইন্ডিয়া, ডিনার খাইতেই ইন্ডিয়া—তাহলে ভাই, আপনার নিজের দেশের খাবার কোন সময় খাবেন? খালি যদি ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া করেন! নিজের দেশের চিন্তা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যার সঙ্গে যখন আমাদের দ্বিপক্ষীয় (বৈঠক) করতে হবে, বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে কথা বলতে হবে, আমরা তা করব। যেখানে যে সুযোগ থাকবে, আমরা সম্পৃক্ত হব। নেতারা সবার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। অনেক আমন্ত্রণ থাকে। সাইডলাইনে অনেক অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নেব।’
এছাড়া সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশিদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলোর বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এসব বিষয় কূটনৈতিকভাবে ভারতের জাতীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সীমান্ত ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত প্রটোকল রয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কাঠামোগত চুক্তিও রয়েছে। এসবের আওতায় উদ্বেগের বিষয়গুলো প্রতিটি পর্যায়ে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে ১০১টি চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং সংসদীয় কমিটিতে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে চিফ হুইপের কাছে জানতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের ভিশন তুলে ধরবেন উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির জানান, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার সম্ভাবনা রয়েছে তার। এ সময়ে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও বিভিন্ন বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, টেকসই সমাধান ও সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশের ভূমিকার কথাও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে থাকবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্থানীয় অর্থনীতিতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা তৈরি, বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ এবং জলবায়ু নিরাপত্তা ও জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিষয়গুলোও ভাষণে স্থান পেতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে কার কার সঙ্গে বৈঠক হবে, তা চূড়ান্ত হতে সময় লাগতে পারে। বহুপক্ষীয় ফোরামে এ ধরনের বৈঠক শেষ মুহূর্তেও নির্ধারিত হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সাইডলাইনে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আয়োজন করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি ‘টপ প্রায়োরিটি’ এবং জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের ক্ষেত্রেও এটি অগ্রাধিকার পাবে। এই সংকটের বিষয়ে সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা পুরো সভাপতিত্বের সময়জুড়ে অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
৪৫ দিন আগে
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ-নরওয়ে
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অফশোর অনুসন্ধান, সবুজ বিনিয়োগসহ জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন এসব বিষয়ে আলোচনা করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ঢাকায় অবস্থিত নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিলডেন এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সায়েদ মুনতাসির বায়েজীদ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা আনতে, বিদ্যুতের সঠিক চাহিদা নিরূপণে দক্ষতা বাড়াতে এবং সিস্টেম লস কমাতে পাওয়ার অডিটিংয়ে নরওয়ে সরকারের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।
এছাড়া অফশোর বিডিংয়ে অংশগ্রহণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগসহ বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরে নরওয়ের চলমান অংশগ্রহণ এবং দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি রোডম্যাপ অনুযায়ী প্রযুক্তি হস্তান্তর, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে নরওয়ের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নরওয়েজিয়ান বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে নরডিক দেশগুলোর অধিকতর অংশগ্রহণকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়।
অন্যদিকে রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা, বিশেষ করে অফশোর নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ প্রযুক্তি খাতে সম্পর্ক আরও গভীর করার ব্যাপারে নরওয়ের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে আরও সহযোগিতার ক্ষেত্র অন্বেষণে তার সরকারের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল হক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪৮ দিন আগে
ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ নেই: হুমায়ুন কবির
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি উল্লেখ করে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের কোনো প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি; বরং বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কীভাবে যাব? বাংলাদেশ সরকারের কাউকে কি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কে আপনাদের বলেছে যে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাহলে এই প্রশ্ন করছেন কেন?’
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর কোনো বহুপক্ষীয় সফর হতে পারে না। সময় অনুকূল হলে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর আয়োজনের বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
গত বছরের এপ্রিলে আগামী দুই বছরের জন্য বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের জোট বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এ দায়িত্ব গ্রহণ করে।
বিমসটেকের সদস্য দেশগুলো হলো: বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড।
ভারত জানিয়েছে, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় আমন্ত্রণও রয়েছে।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও অংশ নেবেন।
ব্রিকসের ২০২৬ সালের চেয়ারম্যান ভারত। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। ভারতের এবারের ব্রিকস সভাপতিত্বের মূল প্রতিপাদ্য, ‘স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ’।
সম্মেলনে অভিন্ন অগ্রাধিকারের বিষয়ে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন নেতারা।
ভারতের সভাপতিত্বে এ বছর দেশটির ২৫টির বেশি শহরে ৩৫০টিরও বেশি বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ—এই তিনটি মূল ক্ষেত্রে ব্রিকসের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্ব বাস্তবভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী ফলাফলের দিকে সহযোগিতা এগিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
ভারত ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং এর আগে ২০১২, ২০১৬ ও ২০২১ সালে তিনবার জোটটির সভাপতিত্ব করেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি দেশটি চতুর্থবারের মতো ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব নেয়। এ বছর ব্রিকস প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্তিও হচ্ছে।
৪৮ দিন আগে
গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল ছিল: হুমায়ুন কবির
গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, এখন জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকায় বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আলোচনা করতে পারবে।
বৃহস্পতিবার (সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর প্রসঙ্গ তুলে বাংলাদেশ কেন একইভাবে প্রত্যাবাসন শুরু করতে পারছে না—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, মালয়েশিয়ায় গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে এবং দেশটিতে নির্বাচনের একটি প্রক্রিয়া ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছিল না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের তো কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই ছিল না। কারণ সেটি ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশে আমাদের একটি নিপীড়নমূলক সরকার ছিল, যার নেতৃত্বে ছিল সন্ত্রাসী শেখ হাসিনা।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই সরকারের জনগণের ম্যান্ডেট ছিল না এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। ফলে মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার সময় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দুর্বল।
তিনি বলেন, নিজের দেশের মানুষের অনেক অধিকারই যারা কেড়ে নিয়েছিল, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের কীভাবে সম্মান করা হবে? মিয়ানমারও বিষয়টি জানত। ফলে তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী ছিল না।
তার কথায়, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলার সুযোগ আমাদের ছিল খুবই দুর্বল। এখন আমাদের একটি নির্বাচিত সরকার আছে। আমরা শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলব, কারণ আমাদের জনগণের ম্যান্ডেট রয়েছে।’
রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, এ সংকট সমাধানে একক কোনো পক্ষের পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। এ জন্য বহু সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়। তাই আমরা এটি একসঙ্গে সমাধান করব। তবে এখানে বহু সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ লাগবে। একজন অংশীজনের পক্ষে একা সবকিছু সমাধান করা সম্ভব নয়।’
মিয়ানমার সরকারও এবার কোনো না কোনোভাবে বাংলাদেশের নির্বাচনে বিজয়ী সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে একটি সরকার ক্ষমতায় এসেছে—মিয়ানমারকে বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে এবং সেই সরকারকে সম্মান দিতে হবে।
‘এটাই আমাদের শক্ত অবস্থান। জনগণের ম্যান্ডেট ও অনুমোদন নিয়ে আমরা জোরালোভাবে এগিয়ে যাব এবং যত দ্রুত সম্ভব ধাপে ধাপে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব,’ বলেন তিনি।
কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ধৈর্য ধরতে হবে। তবে সংকটের জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে যত দ্রুত সম্ভব এই সংকটের সমাধান করতে চায় বাংলাদেশ।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আপনি বলতে পারেন না যে আমি আগামীকালই এটির সমাধান করব। কিন্তু আমরা এটি সমাধান করব এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এতে অগ্রগতি হবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাব।’
জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকটের গুরুত্ব বাড়াবে বাংলাদেশ
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের সভাপতিত্বকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার কথা জানান হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সভাপতিত্বকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের প্রধান বহুপক্ষীয় এই ফোরামে আবারও এই সংকটের গুরুত্ব তুলে ধরব।’
চীন, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, আসিয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় অংশীদার এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব অংশীদারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে ধাপে ধাপে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ।
রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়
বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে প্রয়োজনের সময়ে সর্বোচ্চ মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্বের কোনো ইউরোপীয় বা উত্তর আমেরিকান দেশ এ ধরনের সংকটে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে আশ্রয় দিতে রাজি হতো না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু বাংলাদেশের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
‘এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। বাংলাদেশ এরই মধ্যে যথেষ্ট করেছে। এটি বিশ্বেরও সমস্যা এবং তাদের একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে,’ বলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু সংহতি প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অর্থায়ন এবং সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকট সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যেমন উদ্বেগের, তেমনি এর প্রভাব পুরো অঞ্চল এবং এর বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক সম্প্রদায়ের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় অংশীদারদের সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশকে মিয়ানমারের সঙ্গে সংকট সমাধানে সহায়তা করা প্রয়োজন।
৪৮ দিন আগে
হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রপ্তানিতে জোর
হংকংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাজা ফল, পাট ও চামড়াজাত পণ্যসহ উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হংকং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সামিটের সাইডলাইনে হংকং ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (এইচকেটিডিসি) নির্বাহী পরিচালক সোফিয়া চংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪১৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ৩০৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করলেও রপ্তানি করেছে ১০৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি সামান্য বেড়ে ১০৯ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সরাসরি প্রবেশ বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৈঠকে বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল ও লেবুসহ প্রিমিয়াম ফল হংকংয়ের সুপারমার্কেট ও বড় আমদানিকারকদের কাছে পৌঁছাতে ব্যবসা-টু-ব্যবসা (বিটুবি) ম্যাচমেকিং আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হংকংয়ের গ্রিন রিটেইল ও ডিজাইন শিল্পে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ বাড়াতে ভর্তুকিযুক্ত বা বিনামূল্যের প্রদর্শনী স্টল, ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেট অব অরিজিন চালু, শুল্ক প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং যৌথ শিপিং ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হংকংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, হংকংকে দক্ষিণ চীন ও গ্রেটার বে এরিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়।
সোফিয়া চং বাংলাদেশের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়াতে হবে। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
বৈঠক শেষে সোফিয়া চংয়ের নেতৃত্বে এইচকেটিডিসির একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
৪৮ দিন আগে
মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর তারিখ শিগগিরই ঘোষণা হবে: দীনেশ ত্রিবেদী
ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে জানিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ট্রেনটি চালুর নির্দিষ্ট তারিখ শিগগিরই ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এখন আমরা এরোপ্লেনে যাই, সেটি হচ্ছে একটি আলাদা ক্লাস। সেখানে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষ সড়ক ও রেল দিয়ে যাতায়াত করে। আমি তো রেলমন্ত্রী ছিলাম। রেলমন্ত্রী মানে সাধারণ মানুষ।
তিনি আরও বলেন, রেল মাঝে যে কারণেই হোক, বন্ধ ছিল। কিন্তু মালবাহী ট্রেন বন্ধ হয়নি। আমি শুনলাম যে অলমোস্ট দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সেটি খুবই ভালো কথা। তার মানে বাণিজ্য চলছে।
মালবাহী ট্রেনের এই অগ্রগতিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের ভাবতে হবে কীভাবে সড়ক, রেল আর জলের এই ট্রেড আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।
মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, মনে হচ্ছে খুব শিগগিরই আমরা একটা ভালো খবর দিতে পারব, মৈত্রী এক্সপ্রেসের।
তিনি আরও বলেন, আমার মনে হচ্ছে, একটি শুভ খবর আসছে। সেটি খুব শিগগিরই আসবে। এ ব্যপারে যত দ্রুত সম্ভব চেষ্টা করা হচ্ছে।
এছাড়া ট্রেনটি চালুর নির্দিষ্ট তারিখ যেকোনো সময় ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানান হাইকমিশনার। তিনি বলেন, মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি চালুর বিষয়ে খুব শিগগিরই আমরা একটা ফিক্সড ডেট দিয়ে দিতে পারব। এ ব্যাপারে মিটিং চলছে।
দুই দেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ করার বিষয়ে আলোচনার কথা জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, মন্ত্রী মহোদয় একটা কথা বললেন যে, একটি রুটে এখন ছয় ঘণ্টা, সাত ঘণ্টা লাগছে, কীভাবে তিন ঘণ্টা কমানো যায়। এ ব্যাপারে পদ্মা ব্রিজ নিয়ে টেকনিক্যালি কথা হয়েছে।
৪৯ দিন আগে