বৈদেশিক-সম্পর্ক
রোহিঙ্গা সংকট খুবই সংবেদনশীল রাজনৈতিক ব্যাপার, রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে: শামা ওবায়েদ
রোহিঙ্গা সংকট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক সমস্যা এবং এটি রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা একেবারেই একটা পলিটিক্যাল প্রবলেম, এটা খুবই সংবেদনশীল একটা ব্যাপার এবং এই সমস্যাটা আমাদের পলিটিক্যালি সমাধান করার প্রয়োজন।’
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে রোহিঙ্গা সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এ সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের বর্তমান সরকার, রাখাইন রাজ্য ও আরাকান আর্মিসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর তৎকালীন সরকার এর সমাধানে কোনো বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারেনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যথাযথভাবে যুক্ত করতে পারলে হয়তো চার-পাঁচ বছরের মধ্যে সংকট সমাধানের দিকে যাওয়া যেত, কিন্তু তা হয়নি। ফলে বর্তমানে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে সম্প্রতি নির্বাচন হয়ে নতুন সরকার এসেছে। এর পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। সব মিলিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অনেক বেশি জটিল। ‘আমাদের বর্ডারে অনেক সমস্যা হচ্ছে, সিকিউরিটি প্রবলেম হচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের ক্রাইমের কথা শোনা যাচ্ছে—মানব পাচার, ড্রাগ ট্রাফিকিং এসব হচ্ছে।’
রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা এখন সঠিকভাবে বলা কঠিন উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রতিদিন কমবেশি মানুষ আসছে এবং মিয়ানমারের শিবিরগুলোতে বছরে গড়ে প্রায় ৩০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করছে।
‘তো সেই ক্ষেত্রে আমরা সংখ্যাটাও ঠিকমতো এখন জানি না, কিন্তু ডেফিনেটলি ১ দশমিক ৩ মিলিয়নের (১৩ লাখ) উপর হবে,’ বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ সরকার রাখাইন রাজ্য, আরাকান ও মিয়ানমারের বর্তমান সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ ও সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বের পক্ষ থেকেও মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায় কি না, সেই বিষয়েও বাংলাদেশ কাজ করছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজি) প্রেসিডেন্সি সেশনে রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। ওই অধিবেশন থেকে সংকট সমাধানে আরও কিছু দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।
এমওইউ থেকে বেরিয়ে এসে লাভ নেই
২০১৭ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন নিয়ে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা বা তা থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, এমওইউ থেকে বেরিয়ে আসলে খুব একটা লাভ হবে বলে তিনি মনে করেন না।
তার কথায়, ‘এমওইউ তো একটা হয়েছে। এটা থেকে বের হয়ে আসলে যে খুব একটা লাভ হবে, আমি ব্যক্তিগতভাবে সেটা মনে করি না।’ বরং জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য একটি ‘অ্যাডেড বেনিফিট’ বা অতিরিক্ত সুবিধা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলার ক্ষেত্রে একটি বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়েছে। ‘সেই জায়গাটা থেকে আমরা মনে করি যে অ্যাট লিস্ট (অন্ততপক্ষে) আগামী এক বছর আমরা এই সক্ষমতাটাকে একটু ভালোমত ব্যবহার করতে পারব।’
চীনসহ সব অংশীজনকে আরও গুরুত্ব দিয়ে কথা বলছে বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ এবং চীনের প্রস্তাবিত করিডর এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, আগের সরকারের সময় ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিতভাবে এগোতে পারেনি।
তিনি বলেন, তৎকালীন সরকার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যথেষ্ট সচেষ্ট ছিল না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার না হওয়ায় চীনের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টির সক্ষমতাও তাদের ছিল না।
তবে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত জোরালোভাবে সব দেশের সঙ্গে সমঅধিকার ও সম্মানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ বজায় রেখে কথা বলছেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত জোরালোভাবে সবার সঙ্গে সমঅধিকার নিয়ে এবং সম্মানের সঙ্গে নিজেদের স্বার্থ বজায় রেখে যখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে কথা বলছেন, তখন চীনসহ অন্যান্য সকল স্টেকহোল্ডার (অংশীদার) আরও মনোযোগের সঙ্গে, আরও সিরিয়াসলি আমাদের কথাগুলো শুনছে।’
বর্তমান প্রেক্ষাপট আগের চেয়ে ভিন্ন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন একটি নির্বাচিত সরকার এসেছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেগোসিয়েশনের (দরকষাকষি) ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।
৬৪ দিন আগে
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
সম্ভাব্য ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে বাংলাদেশ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে যদি একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়, তাহলে সেটিতে যোগদান তো কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মক্কা ডিফেন্স প্যাক্টে আমরা আগ্রহ প্রকাশ করছি।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি দেশ হিসেবে বিভিন্ন উদ্যোগে আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অংশীজন ও বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন বাংলাদেশের নেতৃত্বকে বিভিন্ন জায়গায় আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।
‘আর মক্কা নিয়ে তো সবসময়ই একটা আলাদা জায়গা, মক্কা বাংলাদেশের হৃদয়ের... মানুষের হৃদয়ে,’ বলেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, তো মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে যদি একটা প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়, তাহলে ওখানে যাওয়া তো আর অস্বাভাবিক না। সুতরাং, দেখা যাক, কী হয়! তবে এটা ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতির একটি কৌশলগত কাঠামো তৈরি করেছে এবং এখন সেই ভিত্তির ওপর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন দায়িত্ব পেলেও এটি তার জন্য পুরোপুরি নতুন কোনো কাজ নয়। প্রধানমন্ত্রী তাকে নতুন দায়িত্ব দিয়েছেন এবং আগের কাজের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে গত ছয় মাস ধরে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন। এখন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতায় বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
৬৪ দিন আগে
ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাট চালুর উদ্যোগ
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু, স্থলবন্দরগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি এসেছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে কীভাবে ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সহজ ও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বৈঠকে স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা, বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও প্রস্তাব এসেছে। এর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যে গতি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের উদ্যোগে আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।
বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও সাধারণ মানুষ উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ ও ভারত দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। কেউ বড় বা ছোট নয়, সবাই সমান। এই সমতার ভিত্তিতেই দুই দেশকে কাজ করে যেতে হবে বলেও যোগ করেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী হলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
ভারতীয় হাইকমিশনার যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত সফল। এই খাতে ভারত জিপার, মেশিনারি, বোতামসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে। এতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা পোশাক দেখে তিনি গর্ব অনুভব করেন। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যেতে পারে।
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৬৫ দিন আগে
পানি-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার
পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষি কোল্ড স্টোরেজসহ বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সরকার।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষি হিমাগারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগানো হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।
তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের সরকার। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি।’
বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
সাক্ষাতের শুরুতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন মন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান। তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার খাতেও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।
সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৬৫ দিন আগে
রাষ্ট্রপতি ফখরুলকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় বলেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাকে অভিনন্দন।
বার্তায় আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রপতি ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
৬৬ দিন আগে
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরেছে
ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ আজ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মধ্যরাতে কলকাতার হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন। তাদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার পর থেকেই কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিহতদের পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন এবং মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর গত রাতে নিহতদের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত সাত বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে আজ সকালে সাতক্ষীরার এস এম আলীমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা-ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন করা হয় এবং তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এছাড়া কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের তিন সদস্য—আফসানা শারমিন, স্বর্ণশীষ দত্ত ও মো. আকরাম আলী—একই পরিবারের চারজনের মরদেহ এবং ঢাকার আমিনবাজারের বাবু আহমেদের মরদেহ পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আজ বিকেলে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।
কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন মরদেহ সংরক্ষণ, পরিবহন ও দেশে ফেরত পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এছাড়া, সাতক্ষীরার নিহত রেবতি সরকারের মরদেহ তার পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী গতকাল রাতে কলকাতায় সৎকার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন আর্থিক ও অন্যান্য সব ধরনের সহযোগিতা করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে।
৬৭ দিন আগে
তাড়াহুড়া নয়, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর: হুমায়ুন কবির
তাড়াহুড়া করে নয়, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনায় অগ্রগতি হলে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করা হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। তবে কোনো দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির।
ভারত সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটু অগ্রগতি হোক। আলোচনার ভিত্তিতে এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আমরা অবশ্যই যাব, যখন সময়টা উপযুক্ত হবে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ভারতের সঙ্গে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চাই। কেন রাখব না? তারা আমাদের প্রতিবেশী। আমাদের একটি কার্যকর সম্পর্ক থাকা উচিত।
তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু ভারত নয়, কোনো দেশের সঙ্গেই আমাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে আমরা কিছু করতে পারি না।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর দেড় হাজার মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী হিসেবে ভারতে গেছেন। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলও এসেছে। আরও অনেক মামলা বিচারাধীন।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে। সুতরাং এগুলো নতুন কোনো শর্ত বা নতুন কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার বিষয় নয়; এগুলো চলমান বিষয়।
ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাসহ অন্য অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, আরও অপরাধী আছে, যারা পালিয়ে ভারতে আছে। এটা বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিক দাবি এবং তাদের অনুভূতির বিষয়। সেই প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারতের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত হতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হব। আমরা একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চাই। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই তা করতে হবে।
ভারত সফরে কোনো তাড়াহুড়া নেই জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি আগামীকালও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারি, তাহলে আগামী সপ্তাহে যেতে পারি, অথবা পরের সপ্তাহেও যেতে পারি। এখানে কোনো তাড়াহুড়া নেই।
প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফরের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও আলোচনা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে আলোচনা করার বিষয় আছে, প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয় আছে। প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফর তো এমন নয় যে হুট করে গিয়ে হয়ে গেল। এটা কোনো খেলার বিষয় নয়।
তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের আগে কিছু প্রস্তুতি ও ভিত্তি তৈরি করতে হবে। আমরা সেটিই করছি।
ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, সেখান থেকেও ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার ইঙ্গিত আসছে।
বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতির বিষয়টি ভারতও স্বীকার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা দেখছেন, ভারত থেকেও এ বিষয়ে বক্তব্য আসছে। তারা স্বীকার করেছে যে বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে—বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর পলাতক শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তারা বিষয়টি লক্ষ করেছে।
এটিকে ‘একটি ভালো সূচনা’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা দেখি, বাকি আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয় কি না। আলোচনার ভিত্তিতে এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সময় উপযুক্ত হলেই আমরা অবশ্যই ভারত সফরে যাব।
৬৭ দিন আগে
কলকাতায় নিহতদের মরদেহ দ্রুত ফেরাতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: শামা ওবায়েদ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত জানা গেছে, ওই হোটেলে পাঁচজন বাংলাদেশি ছিলেন এবং স্থানীয় পুলিশ তাদের শনাক্ত করতে পেরেছে।
তিনি বলেন, কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার সার্বক্ষণিকভাবে বিষয়টির খোঁজখবর রাখছেন। তিনি ঘটনাস্থলের হোটেল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, কলকাতায় বাংলাদেশের মিশন ইতোমধ্যে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশে যোগাযোগ করেছে। নিহতদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কলকাতার মিশন কাজ করছে।
মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ সরকার বহন করবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিহতরা শ্রমিক বা প্রবাসী কল্যাণের আওতাভুক্ত না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যবস্থা হয়তো এখানে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। তবে নিহতদের পরিবার যদি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন করতে না পারে, তাহলে সরকার অবশ্যই বিষয়টি দেখবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে ওই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিহত বাংলাদেশিরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলটিতে অগ্নিনিরাপত্তার মৌলিক ব্যবস্থা ছিল না। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হোটেলের মালিক ও কর্মীদের খোঁজা হচ্ছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
৭০ দিন আগে
কলকাতার হোটেলে আগুনে ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু, আহত ৬ জন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে আজ ভোরে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ও আহতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে স্থানীয় পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। অপর নিহতদের পরিচয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি।
এছাড়া, অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ইতোমধ্যে উপ-হাইকমিশন একটি সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু করেছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে।
৭০ দিন আগে
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, বাংলাদেশিসহ নিহত ৯
ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে ওই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
আগুনে হোটেলের কয়েকজন অতিথি ভেতরে আটকা পড়েন। পরে প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।
এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিহত বাংলাদেশিরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলটিতে অগ্নিনিরাপত্তার মৌলিক ব্যবস্থা ছিল না। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হোটেলের মালিক ও কর্মীদের খোঁজা হচ্ছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও এর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের কক্ষগুলো ধোঁয়ায় ভরে যায়। আতঙ্কিত অতিথিরা দ্রুত বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। রাত ২টা ৭ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের ভেতরে আটকা পড়াদের উদ্ধারে কাজ করেন এবং একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ঘন ধোঁয়ার কারণে দমকলকর্মীদের সিঁড়ি দিয়ে উঠে উপরের তলায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। নয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, আটকা পড়াদের উদ্ধার করা এবং আগুনের কারণ নির্ধারণ করাই তাদের অগ্রাধিকার ছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
কলকাতার এই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় আরেকটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আটজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।
১৭ আগস্ট ভোরে তারাপীঠের হোটেল বিদেশিনীতে ওই আগুন লাগে। পাঁচতলা হোটেলটির নিচতলায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তখন অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন।
মেঘালয়ের একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য ওই ঘটনায় নিহত হন। তারা হোটেলের সর্বোচ্চ তলায় অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার পর শিশুদের নিয়ে একসঙ্গে বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় নিচে নামার পথে আগুনের মুখে পড়েন তারা।
৭০ দিন আগে