আইনশৃঙ্খলা
রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কোস্ট গার্ড অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোনো ব্যক্তি, দল বা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদরদপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক প্রদান, ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোস্ট গার্ড বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সরকার বিন্দুমাত্র শৈথিল্য দেখাবে না।
তিনি বলেন, নির্বাচনে যারা নীতিবিবর্জিত কাজ করবে, লোভের বশবর্তী হয়ে অন্যায় কাজ করবে, দায়িত্ব এড়িয়ে চলবে, দায়িত্ব অবহেলা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোস্ট গার্ড সদস্যদের অবদান তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, উপকূলীয় এলাকা ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, ডাকাতি ও জলদস্যুতা দমনে কোস্ট গার্ড সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্ঘটনাকবলিত নৌযান ও নাবিকদের উদ্ধার কার্যক্রমও সফলভাবে পরিচালনা করছে বাহিনীটি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কোস্ট গার্ডের ভূমিকার প্রশংসা করে উপদেষ্টা বলেন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগে উপকূলীয় জনগণকে সচেতন করা, উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ, শীতবস্ত্র ও লাইফ জ্যাকেট বিতরণ এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসন কার্যক্রমে কোস্ট গার্ডের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
সীমান্তবর্তী নদী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে মানবপাচার, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড আঞ্চলিক সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ বাহিনীটির প্রশংসা করেছে এবং যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্যসহ সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে ১০০টি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে।
এ সময় দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের আস্থা ধ্বংস করে দেয়।
অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৪০ জন কোস্ট গার্ড সদস্যদের পদক প্রদান করা হয়। কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি।
১৩৬ দিন আগে
র্যাবের নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’
এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। র্যাবের নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’। শিগগিরই এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করা হবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
উপদেষ্টা বলেন, ‘বাহিনীটির কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পোশাকও বানানো হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘র্যাব পুনর্গঠনে জন্য প্রধান উপদেষ্টা প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজকে সভাপতি করে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি র্যাবের নতুন নাম সুপারিশ করেছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স বা এসআইএফ। প্রধান উপদেষ্টা সেটি অনুমোদন দিয়েছেন। এটি আজকে থেকেই কার্যকর হবে। এই বাহিনীটির কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু হবে। এ বিষয়ে সরকারি একটা অর্ডার (আদেশ) হবে।’
নাম পরিবর্তনেসর সঙ্গে সঙ্গে র্যাবের কাজের মানে পরিবর্তন আসবে কিনা জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা দেখছেন যে তাদের কাজের মানে পরিবর্তন ইতোমধ্যে চলেও এসেছে। আপনি যদি তাদের দেড় বছর আগের কাজের মান দেখেন আর এখন দেখেন, সেটার মধ্যে পরিবর্তন অনেক এসেছে।’
এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘মানুষ ওই (র্যাব) নামটাকে খারাপ মনে করত, এজন্য নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।’
১৩৬ দিন আগে
পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির বিশেষ হটলাইন নম্বর প্রকাশ
সদর দপ্তরের অপারেশন কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা তথ্য জানাতে এসব নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য সাধারণ জনগণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল হাসানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অপারেশন কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বরগুলো হলো: ০১৩২০০০১২২৩, ০১৩২০০০১৩০০ ও ০১৩২০০০১২৯৯।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি-সংক্রান্ত অভিযোগ ও তথ্য গ্রহণে এসব নম্বর ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।
অপরদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান বলেন, এসব হটলাইন নম্বরের মাধ্যমে নির্বাচন-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা অভিযোগ সহজে ও দ্রুত পুলিশকে জানাতে পারবেন নগরবাসী।
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন বা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে, এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডে পুলিশের হস্তক্ষেপের অভিযোগ বিষয়ে নিচের মোবাইল নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
নম্বগুলো হলো: ০১৩২০০৩৭৩৫৮, ০১৩২০০৩৭৩৫৯ ও ০১৩২০০৩৭৩৬০ ।
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
১৩৭ দিন আগে
নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে মারণাস্ত্র ব্যবহার করবে না বিজিবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে দায়িত্ব পালনের সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মারণাস্ত্র ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিজিবি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ সময় দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। ভোটাররা যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—সে লক্ষ্যেই এই মোতায়েন।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় এককভাবে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবে এই বাহিনী। ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের সব ৩০০ সংসদীয় আসনে বিজিবি ভ্রাম্যমাণ ও স্থির বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। উপজেলাভেদে দুই থেকে চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট), হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স এবং বিশেষায়িত কে–৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিট প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিজিবির ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এ এস এম আবুল এহসান বলেন, ‘বিজিবি মহাপরিচালকের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের সময় মারণাস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।’
১৩৯ দিন আগে
রাজধানীতে এক ব্যক্তির হাতবাঁধা ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর রামপুরা থানা এলাকায় হাসান ভূঁইয়া (৪৩) নামে এক ব্যক্তির হাতবাঁধা ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় তার স্ত্রী মিলাকে (২৮) জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত হাসানের বড় ভাই নাসির ভূইয়ার অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মিলা তাকে হত্যা করেছে। পরে পুলিশ এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রেম করে ৬ বছর আগে মিলাকে বিয়ে করে আমার ছোট ভাই। বিয়ের পর থেকে আমাদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। তাদের ৫ বছরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে।
‘গতকাল সকালে জানতে পারি, ভাই আমার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি গলায় ফাঁস লাগানো আছে ঠিকই, কিন্তু তার পেছনে হাত বাঁধা রয়েছে। বাসার ছাদের পানির ট্যাংকির পাইপের সঙ্গে গলায় রশি ও হাত বেঁধে আমার ভাইকে তার স্ত্রী মিলা হত্যা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, তার স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কোনো বিষয় নিয়ে ঝামেলার কারণে তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে সে। এ ঘটনার পর মিলাকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। আমি বাদী হয়ে রামপুরায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছি।’
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মতিঝিল বিভাগের খিলগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আল আমিন জানান, গতকাল হাসান ভূঁইয়া নামে একজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু মরদেহ উদ্ধার করার সময় তার হাত শরীরের পেছনে বাঁধা অবস্থায় ছিল। এতে মনে হচ্ছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড।
নিহতের বড় ভাই অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন বিষয়ে মাথায় রেখে তদন্ত করছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
১৩৯ দিন আগে
ফেনীতে আলোচিত নাশিত হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
ফেনীতে চাঞ্চল্যকর চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ আল মাঈন নাশিতকে (১০) অপহরণের পর হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ এন এম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।
নিহত নাশিত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের আনসার আলী ফকির বাড়ির মাঈন উদ্দিন সোহাগের ছোট ছেলে। পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফেনী পৌরসভার একাডেমি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আশরাফ হোসেন তুষার (২০), মোবারক হোসেন ওয়াসিম (২০) ও ওমর ফারুক রিপাত (২০)।
এদিন বেলা ১১টার দিকে কারাগার থেকে তিন আসামিকে আদালতে আনা হয়। এজলাসে নেওয়ার সময় তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে ঔদ্ধাত্যপূর্ণ আচরণ করেন। রায় ঘোষণা শেষে আদালত সাজার রায় দিয়ে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের অ্যাকাডেমি এলাকার আতিকুল আলম সড়কে কোচিং ক্লাস শেষ করে স্থানীয় বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যায় নাশিত।
১৪১ দিন আগে
জাহাজবাড়ি হত্যা মামলা: শেখ হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল
রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বাড়িতে’ কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের নামে ৯ জনকে হত্যার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগটি জমা দেয় প্রসিকিউশন।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম সাংবাদিকদের জানান, ২০১৬ সালে কল্যাণপুরের ওই ভবনে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ জনকে হত্যার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
২০১৬ সালের ২৫ জুলাই কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বাড়ি’ নামক বাড়িতে ৯ জনকে আটকে রেখে কথিত জঙ্গি নিধন অভিযানের নামে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ করা হয়। গত বছরের ২৪ মার্চ এ মামলায় সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং ডিএমপি মিরপুর বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন মোল্লাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
এর আগে, চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা জানতে পেরেছে, ওই ৯ তরুণকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের কেউ কেউ দুই-তিন মাস ধরে ডিবি হেফাজতে ছিলেন। পরে তাদের ওই বাড়িতে জড়ো করা হয়। ঘটনার রাতে ‘ব্লক রেইড’-এর কথা বলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে হাজির হন। গুলি করে হত্যার পর তারা বিষয়টিকে ‘জঙ্গি হত্যা’ হিসেবে প্রচার করেন।
১৪১ দিন আগে
ধানমণ্ডিতে পিঠা খাওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাত, গাড়িচালক নিহত
রাজধানীর ধানমণ্ডি থানার তিন নম্বর রোডে ফুটপাতে পিঠা বিক্রেতার সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে রনি খন্দকার (৪৭) নামে এক গাড়িচালক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে আজ (বুধবার) সকালে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠায় পুলিশ।
ধানমণ্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজালাল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমরা খবর পেয়ে রাতে ধানমণ্ডির একটি আমরা বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গতকাল রাতে ধানমণ্ডির তিন নম্বর রোডের ফুটপাতে একটি পিঠার দোকানে পিঠা খাওয়াকে কেন্দ্র করে দোকানদারের সঙ্গে ঝগড়া হয় ওই ব্যক্তির। একপর্যায়ে পিঠাওয়ালা তার পিঠে ও বুকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান এসআই শাহজালাল।
নিহতের ছেলে মো. রায়হান খন্দকার বলেন, আমার বাবা একটি প্রাইভেট কোম্পানির গাড়িচালক ছিলেন। আমরা জানতে পেরেছি, পিঠা খাওয়াকে কেন্দ্র করে পিঠা বিক্রেতার সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই বিক্রেতা আমার বাবাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। কী কারণে ওই পিঠা বিক্রেতা বাবাকে ছুরিকাঘাত করেছেন, আগে থেকে কোনো শত্রুতা ছিল কি না—এ বিষয়ে আমরা বলতে পারি না।
তিনি আরও জানান, তাদের বাড়ি বাগেরহাট জেলা চিতলমারী থানার শ্যামপাড়া গ্রামে। বর্তমানে রাজধানীর হাজারীবাগের বউবাজার এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন রনি খন্দকার।
১৪২ দিন আগে
মোটরশ্রমিক নেতা বাসু হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
গোপালগঞ্জ মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান বাসু হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে চার আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুর রশীদ মোল্লা সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— বুলবুল শেখ, হেদায়েত শেখ, তফসির শেখ, কিবরিয়া আল কাজী ও ঝন্টু শেখ।
আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মিন্টু শেখ,কেনাই শেখ, আলীমুজ্জামান বিটু, প্রিন্স খাঁ। এ ছাড়াও, ইকবাল খা, টুটুল শেখ, রনি শেখ, আক্রাম আলী, হাবিব কাজী, বুলগান কাজী, সজিব শেখ, পনির শেখ, সিহাব শেখ, রাশেদ শেখ ওরফে রাশেদ খাঁ ও শওকত শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিপি।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে গোপালগঞ্জের কুয়াডাঙ্গা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় থেকে মৌলভীপাড়ার বাসায় ফেরার পথে বাসুকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় একদল হামলাকারী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ওই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর থানায় বাসুর ছোট ভাই জাসু শেখ মামলা করেন। এরপর ওই বছরের ১২ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হযরত আলী ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
১৪২ দিন আগে
ফরিদপুরে বিচারকের আচরণ ঘিরে চলছে আইনজীবীদের আদালত বর্জন
ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তিনি আইনজীবী ও মক্কেলদের সঙ্গে রুঢ় আচরণ ও অশোভন ব্যবহার করেন—এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এ পরিস্থিতিতে, ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে এক জরুরি সভা ডেকে ওই আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজও (বুধবার) আইনজীবীদের আদালত বর্জন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। সমস্যা সমাধানে আইনজীবী সমিতির সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ জিয়া হায়দার।
সমিতির সভাপতি আইনজীবী খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু বলেন, ‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক সেলিম রেজা আইনজীবী এবং মামলার পক্ষদের সঙ্গে নিয়মিত খারাপ আচরণ এবং রুঢ় ব্যবহার করেন। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সমিতি এই জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকলেও বিচারপ্রক্রিয়ায় সম্মান ও মার্জিত আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আইনজীবীদের সঙ্গে এমন আচরণ সহ্য করা যায় না। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) কোর্ট বর্জন ঘোষণার পরই জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলমান কিছু মামলার শুনানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আইনজীবীদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। তারা বলছেন, এটি শুধু আদালতে কর্মপরিবেশের মান রক্ষা নয়, বরং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি সবার আস্থা বজায় রাখার একটি পদক্ষেপ।
এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে বিষয়টি মনিটর করা হচ্ছে। স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার জন্য উদ্বেগজনক। এটি সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার আহ্বায়ক আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম স্ট্যালিন জানান, ফরিদপুরের আইনজীবী সমাজ এই প্রেক্ষাপটে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যাতে আদালতের মর্যাদা ও আইনশৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তারা বলছেন, আদালত হলো ন্যায়ের শেষ ঠিকানা, আর সেখানে সকল পক্ষের প্রতি শালীন ও সম্মানজনক আচরণ অপরিহার্য।
১৪২ দিন আগে