আইনশৃঙ্খলা
ট্রাইব্যুনালে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চেয়ে আবেদন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ আবেদন জমা দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।
আবেদনে তিনি দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জেরে ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মুখোশধারী ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এছাড়া আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিতে বাধ্য করা হয়। পরদিন তাকে কারওয়ান বাজার-বাংলামোটর এলাকায় ফেলে রেখে যান তারা। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আয়াস বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, খুন-গুমের হুকুমদাতা হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ভূমিকার প্রেক্ষাপটে যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তার কোনো আইনগত দায় বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
৯৪ দিন আগে
সাভারে ইয়ামিন হত্যা: ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারে গুলির পর পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে ফেলে শাইখ আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে এ মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এ নিয়ে আজ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আসামিরা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সাভার থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজামান, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া, সাভার উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, মো. আতিকুর রহমান, ফখরুল আলম সমর, মেহেদী হাসান তুষার, রাজু আহম্মেদ, মো. ফরিদ, জামান খান, মিজানুর রহমান জিএস মিজান ও শরীফ আশরাফুল আলম বাবুল।
এদের মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সোহেল, মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন ও কনস্টেবল মাসুদ মিয়া কারাগারে রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আসহাবুল ইয়ামিন সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (এমআইএসটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে শান্তিপূর্ণ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা চালান পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় ইয়ামিনকে ধরে টেনে পুলিশের সাঁজোয়া যানের কাছে নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে বুকের বাঁ পাশে গুলি করেন তারা। গুলিতে তার বুকের বাঁ পাশে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।
একপর্যায়ে ইয়ামিনকে টেনে সাঁজোয়া যানের ওপরে ফেলে রেখে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে ভীতি প্রদর্শনের জন্য গাড়িটি এপাশ থেকে ওপাশ প্রদক্ষিণ করতে থাকেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। প্রায় মৃত অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাঁজোয়া যানের ভেতর থেকে একজন পুলিশ সদস্যকে বের করে তার পায়ে পুনরায় গুলির নির্দেশ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়, ওই পুলিশ সদস্য ইয়ামিনকে মৃত ভেবে পায়ে গুলি না করে রাস্তার ওপরের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে টেনে নিয়ে সড়ক বিভাজকের পাশে ফেলে দেন। গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে তখনও নিঃশ্বাস নিতে দেখা যায়। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
৯৪ দিন আগে
টাকার বিনিময়ে মাদকের চালান ছেড়ে দেওয়ায় হাতীবান্ধার ৪ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়ে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি প্রাইভেটকারসহ বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা মেলায় থানার চার পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে (ক্লোজ) পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার।
অভিযুক্তরা হলেন— হাতীবান্ধা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন, এসআই রিমন মিয়া, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হাকিম এবং এএসআই লুৎফর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বোর্ডেরহাট বাজার এলাকায় এক চিহ্নিত মাদক কারবারির বাড়িতে অভিযান চালান ওই চার কর্মকর্তা। অভিযানে একটি সাদা প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জব্দ করা আলামত থানায় না নিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নেওয়া হয়। সেখানে দরকষাকষির একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে মাদকের চালান ও প্রাইভেটকারটি ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ওই স্থানের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
এদিকে, গত ১৮ জুলাই উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে আরেকটি অভিযানে গেলে ওই দলটি স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরবর্তী সময়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত চার কর্মকর্তাকে লালমনিরহাট পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ওসি আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় চার কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
৯৫ দিন আগে
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারে কাজ করছে সরকার: আইনমন্ত্রী
বর্তমান সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহারে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে আমরা এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে রয়েছি।’
মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে তিনি দুটি স্পষ্ট ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ধর্ষণের মামলা যতই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হোক না কেন, তা প্রত্যাহারের আওতায় আনা হবে না। অন্যদিকে, মাদকের মামলাগুলো বিরোধীদের হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছিল কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আইন দুটির চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়নের আগে সুশীল সমাজ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে তিন দফা মতবিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। বিল দুটি ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের পর দ্রুত জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেবল কাগজে-কলমে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য, দক্ষ ও সৎ বিচারক নিয়োগের মাধ্যমেই প্রকৃত স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, মানবাধিকারকর্মী আদিলুর রহমান খান এবং বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিচার বিভাগের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেন।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং গুমের বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। পাশাপাশি আধিপত্যবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, নৈরাজ্যবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে আইনমন্ত্রী সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে কিছুটা সময় চেয়ে বলেন, ‘আমরা ভুল করলে আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবেন। আমরা তা সাদরে গ্রহণ করব।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আধিপত্যবাদ, সাম্রাজ্যবাদ কিংবা মৌলবাদকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপকে আমরা সমর্থন করব না।’
অধিকারের সভাপতি ড. তাসমিন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, অধিকারের পরিচালক এএসএম নাসিরুদ্দিন এলানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
৯৫ দিন আগে
আরও ১৭ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর
পুলিশের ডিআইজি এবং অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার আরও ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী সই করেন।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন ডিআইজি, ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তারা বিধি অনুযায়ী অবসর সুবিধা পাবেন।
৯৭ দিন আগে
জিয়া হত্যা: মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন: বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। শুনানিতে তিনি জানান, মোজাফফর হোসেন বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন।
আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, কার্যকর ও যথাযথ তদন্তের স্বার্থে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা প্রয়োজন।
৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা ৭৭ বছর বয়সী মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গত বুধবার রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরদিন বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিহত হন। তার আগের দিন তিনি দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা, বয়ান ও বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাওয়া সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মোজাফফর হোসেন। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি জিয়াউর রহমানের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে যান এবং তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সে সময় পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।
জিয়াউর রহমান হত্যার পর ‘বিদ্রোহের’ অভিযোগে সামরিক আদালতে ১৮ সেনা কর্মকর্তার বিচার হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মেজর এস এম খালেদ ও মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
৯৯ দিন আগে
মামলাজট নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্রি-কেস (মামলাপূর্ব) বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সহজে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং আদালতে নতুন মামলা দায়ের উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক ফল দিয়েছে। এই উদ্যোগকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের দীর্ঘদিনের মামলাজট নিরসনে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (ইউএনবি) ঢাকায় আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি ১০টি জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন, যা বিচার ব্যবস্থার ওপর একটি বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতায় আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে বিচারপ্রার্থীর সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে এবং আদালতের ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
তিনি জানান, একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২০টি জেলায় প্রি-কেস মেডিয়েশন চালুর পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মে সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে বিভিন্ন আইনে মামলা দায়েরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর মধ্যে পারিবারিক আদালত আইনে মামলা ৩ হাজার ৫৫৯টি থেকে ১ হাজার ৭৪৪টিতে নেমে এসেছে, যা প্রায় ৫১ শতাংশ হ্রাস। সিভিল জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টন-সংক্রান্ত মামলায় ২ হাজার ১টি থেকে ৬৬১টি তে নেমে ৬৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এছাড়া, স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রিম্পশন মামলায় ১৭টি থেকে ২টিতে নেমে ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ, নন-এগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইনে ৩১টি থেকে ১৪টিতে নেমে ৫৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যৌতুক নিরোধ আইনে ৫ হাজার৬০৫টি থেকে ১ হাজার ৮১০টিতে নেমে ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইনে ৪৩টি থেকে ৩৫টিতে নেমে ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ মামলা কমেছে। সব মিলিয়ে গড়ে ৬২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ মামলা দায়ের হ্রাস পেয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আদালতে মামলা দায়েরের প্রবাহ এভাবে কমানো গেলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে যেগুলো আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, সেগুলো জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে মধ্যস্থতার জন্য রেফার করলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।
আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আদালত, জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে পরিচালিত মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই কার্যক্রমের মাধ্যমে অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা ও দ্রুত ন্যায়বিচারের সুযোগ পাচ্ছে—এই তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন উল্লেখ করে তিনি জেলা জজ, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের আগামী তিন মাসে মামলাজট দৃশ্যমানভাবে কমানোর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, প্রি-কেস মেডিয়েশন কার্যক্রম বাস্তবায়নে জাইকা, জিআইজেড এবং ইউএনডিপির সহযোগিতা প্রশংসনীয়। এ সহযোগিতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান।
মধ্যস্থতাকারীদের উদ্দেশে আসাদুজ্জামান বলেন, এই দায়িত্বকে কেবল চাকরি হিসেবে নয়, বরং জনসেবামূলক একটি দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তবে মধ্যস্থতা কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি কার্যকর, দ্রুত ও জনবান্ধব বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।
ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আরও বক্তব্য দেন যশোরের জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন, কক্সবাজারের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমান, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মান্নান।
বক্তব্য শেষে আইনমন্ত্রী ১০টি জেলায় একযোগে মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। জেলাগুলো হলো— বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল। আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ২১খ-এর বিধান অনুযায়ী এসব জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু করা হলো। এখন থেকে উল্লিখিত জেলাগুলোতে ৭টি আইনের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের পূর্বে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে।
৯৯ দিন আগে
অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না, বৈধ বাংলাদেশিদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বাংলাদেশ বরদাশত করবে না। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের তালিকা পাঠানো হলে জাতীয়তা যাচাই করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তরের শহিদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও দরবার শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশ-ইন’-এর অভিযোগ নাকচ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সতর্ক অবস্থানে আমরা প্রতিটি পুশ-ইন সফলভাবে প্রতিহত করেছি।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হতে পারে, যার সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশ সবসময় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যদি বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী পাঠানো হয়, তবে বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জাতীয়তা যাচাইয়ের মাধ্যমে তাদের ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না।
জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার ও সীমান্ত সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিজিবির প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১০৮ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
১০০ দিন আগে
আন্তঃদেশীয় অপরাধবিষয়ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডে গেলেন আইজিপি
স্ক্যাম সেন্টার কম্পাউন্ড এবং আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধ বিষয়ক আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
রবিবার (১৯ জুলাই) থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।
আগামী ২০ ও ২১ জুলাই থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে। রয়্যাল থাই পুলিশের সহযোগিতায় ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
সম্মেলনে স্ক্যাম সেন্টার কম্পাউন্ড এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর অপারেশনাল সমন্বয়, আঞ্চলিক কৌশল প্রণয়ন এবং সমন্বিত যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সম্মেলনে অংশ নেবেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি আইজিপি রয়্যাল থাই পুলিশের প্রধানের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন। এরপর আগামী ২২ জুলাই দেশে ফিরবেন আইজিপি।
১০১ দিন আগে
শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ: তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে প্রসিকিউশন
২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, বেসরকারি টেলিভিশনটির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর, তৎকালীন পুলিশ ও র্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশনের হাতে পৌঁছায়।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে সেটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এদিকে, মামলার অগ্রগতি জানতে আজ সকালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ১০ থেকে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যায়। দলের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের (মধুপুর পীর সাহেব) নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
এ সময় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দিনভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর গভীর রাতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে শাপলা চত্বর খালি করে। ওই অভিযানে বহু মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে।
১০১ দিন আগে