আইনশৃঙ্খলা
জবি ছাত্রী অবন্তিকার মৃত্যু: মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম
গত বছরের ১৫ মার্চ ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টের কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা আত্মহত্যা করেন। তার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অবন্তিকার সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী (আম্মান) অভিযুক্ত হয়েছেন।
রবিবার (১০ আগস্ট) কুমিল্লার আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মিজানুর রহমান অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার প্রায় দেড় বছর পর রবিবার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান জানান, অবন্তিকার মা সহপাঠী আম্মান ও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলাটির তদন্তে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অবন্তিকার মোবাইল ফোন থেকে বেশ কিছু ছবি, স্ক্রিনশট, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের কিছু সংক্ষিপ্ত বার্তা জব্দ করা হয়েছে। তার ফেসবুকে দেওয়া ‘সুইসাইড নোট’ও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মোবাইলটি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। আম্মান বিভিন্নভাবে অবন্তিকাকে মানসিকভাবে হয়রানি করতেন। মোবাইলে এমন কিছু ক্ষুদে বার্তাও পাওয়া গেছে। এসব হয়রানির কারণে অবন্তিকা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এসব বিষয় উল্লেখ করেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ১৫ মার্চ রাতে কুমিল্লা নগরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন অবন্তিকা। এর আগে ফেসবুক পোস্টে শিক্ষক দ্বীন ইসলাম ও সহপাঠী আম্মানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেন তিনি। পরদিন ১৬ মার্চ তার মা তাহমিনা শবনম দুইজনকে আসামি করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন।
অবন্তিকার মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মেয়ের মৃত্যুর নেপথ্যে যারা জড়িত, তারা শাস্তি পাবে কিনা শুরু থেকেই সন্দেহ ছিল। যে জবি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও মেয়েকে বাঁচাতে পারিনি, সেই প্রশাসন কীভাবে দায় এড়াতে পারে?’
তিনি আরও বলেন, ‘অবন্তিকার মতো অসংখ্য মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়রানির শিকার হয়। কেউ নীরবে সহ্য করে, কেউ প্রতিবাদ করে মৃত্যুর মুখে পড়ে।’
৩৫৭ দিন আগে
মৌচাকে হাসপাতালের পার্কিং থেকে দুটি লাশ উদ্ধার
রাজধানীর মৌচাক এলাকায় সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পার্কিং লটে একটি প্রাইভেট কার থেকে দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান জানান, নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাসপাতালের সূত্রে জানা যায়, ওই গাড়িটি শনিবার সকাল সাড়ে ৫টায় পার্কিংয়ে প্রবেশ করেছিল। নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, গাড়ির ভেতরে একজন রোগী ছিলেন।
গাড়িটি দুই দিন ধরে পার্কিংয়ে থাকায় সোমবার দুপুরে নিরাপত্তাকর্মীরা গাড়ির মধ্যে দুইটি লাশ দেখতে পান।পরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু করে।
৩৫৭ দিন আগে
খায়রুল হকের জামিন শুনানিতে আইনজীবীদের হট্টগোল
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন ও মামলা বাতিল আবেদনের শুনানিতে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের এজলাস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
এই সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তারা বিচার বিভাগকে ধ্বংস করেছে, এখন মায়া কান্না দেখাতে এসেছে।’ সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে যখন দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন?
পরে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী রোববার মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। জানা গেছে, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ি থানায় করা হত্যা মামলা বাতিল ও জামিন চেয়ে গত রোববার আবেদন করা হয়। আজ দুপুরে এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল।
শুনানির আগেই খায়রুল হকের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এম কে রহমান, মহসিন রশিদ, জেড আই খান পান্না, মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু, সৈয়দ মামুন মাহবুবসহ অনেকে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বিচারক এজলাসে ওঠার পর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জানানো হয়, গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল অংশ নিবেন। পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রাসেল আহমেদ যোগাযোগ করেন এবং জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল এক সপ্তাহ সময় চেয়েছেন।
এ সময়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ‘আমরা এখানে চার-পাঁচজন, যারা ৭৫ বছরের ওপরে। আমরা শুনানির জন্য অপেক্ষা করছি, আজ শুনানি কেন হবে না? শুনানি করে রুল জারি করুন।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী এম কে রহমান ও মহসিন রশিদ আদালতকে বলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতিকে পিঠমোড়া দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আসামিকে রিমান্ডে না পাঠানোর জন্য তদন্ত কর্মকর্তা ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। আমরা কোন আদালতে আছি? এমন বিচার বিভাগ আগে দেখিনি। আমরা জুডিশিয়ারিকে রক্ষা করতে এসেছি।’
এর উত্তরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ‘খায়রুল হকের মতো কুলাঙ্গার আর কেউ এই বিচার বিভাগে আসেনি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তার কারণে। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে যখন দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, তখন কেউ কোথাও কথা বলেনি, এখন কেন মায়াকান্না দেখাতে আসছেন? তখন মায়াকান্না কোথায় ছিল।’
এই সময় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো: উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম, ছাত্র থাকাকালে আমার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা হয়েছিল। তখন সিনিয়ররা কোথায় ছিলেন? কেউ আমার পক্ষে দাঁড়ায়নি।’
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে জানান, আজ শুনানি হবে না, এক সপ্তাহ পর শুনানির দিন ধার্য করা হলো।
এ সময় এম কে রহমান বলেন, ‘আদালতকে ডিকটেট করবেন না।’ এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তারা প্রতিবাদ জানায়।
এজলাস কক্ষে ধীরে ধীরে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আসামিপক্ষের এক আইনজীবীকে ধাক্কাও মারা হয়।
পরবর্তীতে আদালত আগামী রোববার বেলা ১১টায় মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওইদিন রাতেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ি থানায় আব্দুল কাইয়ুম হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হন।
২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন খায়রুল হক। প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে সাংবিধানিক শূন্যতার সূচনা করেন। অবসর নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ আগে ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় দেন।
এই রায়ের ফলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
গত বছরের ২৮ আগস্ট সুপ্রিম আইনজীবী কোর্টের মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন দুর্নীতিমূলক, বিদ্বেষাত্মক ও জালিয়াতিমূলক রায় দেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া গত বছরের ২৫ আগস্ট খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
গত ২৭ এপ্রিল ‘বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্র ধ্বংসের মূল কারিগর সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেফতার ও বিচারে সোপর্দকরণ’ দাবিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সংবাদ সম্মেলন করে।
৩৫৭ দিন আগে
সাংবাদিক তুহিনের শরীরে ৯টি গভীর আঘাতের চিহ্ন: ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন
গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিনের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ৯টি গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
রবিবার (১০ আগস্ট) রাতে পুলিশের কাছে ওই প্রতিবেদন জমা দেয় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ব্যক্তির— গলা, ঘাড়, বুক, পিঠ ও হাতে ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর ৯টি গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আঘাতগুলো আকারে ছোট-বড় হলেও প্রতিটিই সমান, গুরুতর ও গভীর ছিল।
পাশাপাশি, সোমবার (১১ আগস্ট) তুহিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাত আসামি দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে গ্রেপ্তারদের মধ্যে আসামি শাহজালাল দুপুরে তুহিনকে হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এই আসামি গাজীপুরের মেট্রোপলিটন আদালত-৩ এর বিচারক ওমর হায়দাররের আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে রিমান্ডে থাকা সাতজনকেই জেল হাজতে পাঠানো নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক।
পড়ুন: গাজীপুরের সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলার ৭ আসামির ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দুলাল চন্দ্র দাস জানান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানায় রিমান্ডে থাকার সময়ে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা তুহিনকে হত্যার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
এ ছাড়া আসামিদের মধ্য থেকে একজন ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে হত্যার সাথে জড়িত বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। নিহত আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর প্রতিনিধি ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা নগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। ওই ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ থেকে শনাক্ত করে এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হত্যা মামলায় পুলিশ ও র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া সাত আসামি হলেন-—মিজান ওরফে কেটু মিজান ও তার স্ত্রী পারুল আক্তার ওরফে গোলাপি, আল-আমীন, স্বাধীন, মো. শাহজালাল, মো. ফয়সাল হাসান, সুমন ওরফে সাব্বির।
অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ও শহিদুল কে অন্য একটি মামলা চালান করা হয়েছে। সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার ঘটনায় তার ভাই মোঃ সেলিম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে গত ৮ আগস্ট জিএমপির বাসন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
৩৫৭ দিন আগে
অতিরিক্ত আইজি হলেন পুলিশের সাত কর্মকর্তা
পুলিশের ডিআইজি পদমর্যাদার সাত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত আইজি করেছে সরকার।
সোমবার (১১ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অতিরিক্ত আইজি হলেন যারা–এপিবিএনের ডিআইজি মো. আলী হোসেন ফকির, এসবির ডিআইজি জি এম আজিজুর রহমান, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মো. সরওয়ার, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ডিআইজি মো. মোস্তফা কামাল, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি কাজী মো. ফজলুল করিম, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এবং অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৫ শাখার ০৯-১০-২০২৪ তারিখের ০৭.১৫৫.০১৫.৪৪.০৩.০৩৪.২০১০ (অংশ-২)-৫৪০ নং পত্রে উল্লিখিত সব আনুষ্ঠানিকতা পালন শেষে নবসৃষ্ট সাতটি সুপারনিউমারারি পদের বিপরীতে উপরোক্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হলো।ৎ
আরও পড়ুন: বাধ্যতামূলক অবসরে ৯ পুলিশ পরিদর্শক
এতে আরও বলা হয়েছে, পদগুলোতে কর্মরত পদধারীদের পদোন্নতি, অবসর, অপসারণ কিংবা অন্য কোনো কারণে পদ শূন্য হলে পদগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে ও পদ সৃজনের তারিখ থেকে সাতটি সুপারনিউমারারি পদের মেয়াদ হবে এক বছর। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা স্বপদে বহাল থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
৩৫৭ দিন আগে
নবজাতকের চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ: ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রুল
রাজধানীর ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গিয়ে পাঁচ দিন বয়সী নবজাতকের হাত ভাঙার অভিযোগে চিকিৎসা অবহেলায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সেই সঙ্গে চিকিৎসায় অবহেলায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই নবজাতকের হাত ভাঙার অভিযোগের তদন্ত করে আগামী তিন মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নবজাতকের বাবার করা রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন বলে জানান সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. শফিকুল ইসলাম (সোহেল)।
গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর ডেলটা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া পাঁচ দিন বয়সী নবজাতকের চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে শিশুর পিতা মো. নূরের সাফাহ্ পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে হাইকোর্টে রিট করেন।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ‘নি হাও! চায়না-বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা উন্নয়ন প্রদর্শনী’ সেমিনার অনুষ্ঠিত
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল সাত দিনের নবজাতকের শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এ কে খাইরুল আনাম চৌধুরীর অধীনে ভর্তি করেন মিরপুরের বাসিন্দা নবজাতকের বাবা মো. নূরের সাফাহ্। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ নবজাতকের বাবার। বিষয়টি নিয়ে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শিশুর বাবা নূরের সাফাহ্ বলেন, গত ৩ এপ্রিল সাত দিনের নবজাতকের বিলিরুবিনের মাত্রা বেশি থাকায় ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি ফটোথেরাপি দেওয়ার জন্য। ভর্তির পরপরই তারা জানায় যে, দীর্ঘ সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে থেরাপি দেওয়ার জন্য তারা দুই থেকে তিনবার ব্রেস্ট ফিডিং করতে দেবে এবং বাকি সময় ব্রেস্ট পাম্প করে তাদের কাছে দিলে তারাই নিজ দায়িত্বে বাচ্চাকে খাইয়ে নেবে। ট্রিটমেন্ট চলাকালীন সময়ে কেউ বাচ্চার কাছে যেতে পারবে না এবং দেখতে পারবে না। রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মা ও বাচ্চার কাছে যেতে পারবে না।
তাদের নিয়ম অনুযায়ী, আমার স্ত্রী বাচ্চাকে রাত ১২টায় স্বাভাবিকভাবে খাইয়ে দিয়ে আসে। সকাল ৭টায় তারা পুনরায় তাকে খাওয়ানোর জন্য ডেকে নিয়ে গেলে আমার স্ত্রী অনেক চেষ্টা করেও খাওয়াতে পারেনি, কারণ বাচ্চা ঘুমাচ্ছিল এবং কোনোভাবেই ঘুম থেকে উঠছিল না। কর্তব্যরত নার্স জানায় যে, ঘুম থেকে উঠলে খাওয়ানোর জন্য ডেকে দেবে। তখন সে আবারও ব্রেস্ট পাম্প করে তাদের নিকট খাওয়ানোর জন্য দিয়ে আসে।
তিনি বলেন, পরের দিন সকাল ১০টায় ডিউটি চিকিৎসক জানায় যে বাচ্চার বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তাকে রিলিজ দিয়ে দেবে—আমরা যেন বিল ক্লিয়ার করে আসি। ১১টার দিকে তারা বাচ্চাকে তার মায়ের কাছে দিয়ে যায় এবং জানায় যে বাচ্চার ডান হাতে ক্যানোলা পরানোর কারণে ব্যথা আছে, তাই এই হাত যেন কম নাড়ানো হয়। এখানে জানিয়ে রাখা ভালো যে তখনো বাচ্চা ঘুমাচ্ছিল এবং পুরো শরীর কাঁথা দিয়ে মোড়ানো ছিল। বাসায় নিয়ে আসার পর কাঁথা থেকে বের করে খাওয়ানোর চেষ্টা করার সময় দেখা যায় যে বাচ্চার ডান হাত কনুইয়ের উপরে ভাঙা, যেটা স্পর্শ করলেই সে মারাত্মকভাবে কান্না করছে।
হাত ভাঙা থাকার বিষয়টি বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই দুপুর ১২টার সময় আমরা পুনরায় তাকে ডেলটা মেডিকেল কলেজের নিয়োনেটাল ওয়ার্ডে নিয়ে যাই, যেখানে সে ভর্তি ছিল। তাদেরকে দেখানোর পর ডিউটি চিকিৎসক জানায় যে, সে নিজে চেক করে দিয়েছিলো ডিসচার্জ করার আগে এবং তাদের দাবি আমরা বাসায় নেওয়ার পর টানাটানি করে হাত ভেঙে ফেলেছি।
মনে হচ্ছিল, মোবাইল কেনার মতো কেন চেক করে বাচ্চা নেইনি, সেটা আমাদের অপরাধ—যোগ করেন নবজাতকের বাবা মো. নূরের সাফাহ্।
আরও পড়ুন: শাহরাস্তিতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ভাঙচুর-তালাবদ্ধ
তিনি বলেন, এ পর্যায়ে তারা একটি এক্স-রে করার পরামর্শ দিয়ে আমাদের শ্যামলীর পঙ্গু হাসপাতালে যেতে বলে, কারণ তাদের ওখানে এক্স-রে করার সুযোগ নাকি নেই। এ পর্যায়ে আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়ে চলে আসি, কারণ বাচ্চার ট্রিটমেন্ট আমাদের কাছে জরুরি ছিল। সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত ট্রিটমেন্ট চলাকালীন বাচ্চা ঘুমিয়েই ছিল এবং কোনোভাবেই তাকে খাওয়ানো যায়নি। সন্ধ্যার পরপরই বাচ্চা স্বাভাবিক হওয়া শুরু করে এবং খাওয়া শুরু করে। যেহেতু রাত ১২টায়ও বাচ্চা স্বাভাবিক ছিল এবং খাওয়াতে পেরেছে, কিন্তু সকাল ৭টায় পুনরায় দেখার পর থেকে সে ঘুমিয়েই কাটিয়েছে—তাতে আমাদের ধারণা, রাতের কোনো এক সময়ে হাত ভেঙেছে এবং সেটা স্বাভাবিক দেখানোর জন্য তাকে কোনো ধরনের সিডেটিভ ব্যবহার করে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল যেন আমরা না বুঝতে পারি।
৩৫৭ দিন আগে
পল্লবী থানা হেফাজতে জনি হত্যা: দুই পুলিশ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন দণ্ড বহাল
রাজধানীর পল্লবীতে পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনে গাড়িচালক ইশতিয়াক হোসেন জনি হত্যা মামলায় পল্লবী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কামরুজ্জামানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।
এদিন অপর আসামি এএসআই রাশেদুল হাসানের যাবজ্জীবন দণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। গতকাল (রবিবার) এই রায় ঘোষণা শুরু হয় এবং আজ (সোমবার) তা শেষ হয়।
আদালতে আসামিপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আইনজীবী মো. আবদুর রাজ্জাক এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান তপাদার উপস্থিত ছিলেন। বাদীপক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী এস এম রেজাউল করিম।
রায় ঘোষণার সময় মামলার বাদী নিহত ইশতিয়াকের ভাই ইমতিয়াজ হোসেন ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: জনি হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
এর আগে গত ৭ আগস্ট হাইকোর্টে শুনানি শেষে ১০ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।
দণ্ডিত পাঁচ আসামির মধ্যে কামারুজ্জামান (তৎকালীন এএসআই) শুরু থেকেই পলাতক। অন্য আসামি সুমন সাজাভোগ করে কারামুক্তি পেয়েছেন। বাকি তিনজনের বিষয়ে আজ রায় দেন হাইকোর্ট।
জনির মৃত্যুর ঘটনায় ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর অধীনে জনি হত্যার মামলাটি করা হয়। এই মামলায় ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রায় দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ।
৩৫৮ দিন আগে
বাধ্যতামূলক অবসরে ৯ পুলিশ পরিদর্শক
পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) পদমর্যাদার ৯ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। রবিবার (১০ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিগত সরকারের সময় তারা বিভিন্ন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এসব পুলিশ পরিদর্শক। অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা হলেন বগুড়ার এপিবিএন ৪–এর পুলিশ পরিদর্শক শিকদার মো. শামীম হোসেন, সিআইডি কন্ট্রোল রুমের পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল লতিফ, নারায়ণগঞ্জ জেলার রিজার্ভ অফিসের পুলিশ পরিদর্শক এস এম কামরুজ্জামান, সিআইডি নরসিংদীর পুলিশ পরিদর্শক আ. কুদ্দুছ ফকির, ট্যুরিস্ট পুলিশের মুন্সিগঞ্জ ও পদ্মা সেতু জোনের পরিদর্শক মামুন অর রশিদ, সিআইডির মৌলভীবাজারের পুলিশ পরিদর্শক নুরুল ইসলাম, নৌ পুলিশে কর্মরত যমুনা সেতু-পূর্ব নৌ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. কামাল হোসেন, কুলাউড়া রেলওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. সেলিমুজ্জামান এবং টাঙ্গাইলের মধুপুর সার্কেল অফিসের পুলিশ পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক।
৯ জনকেই সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী অবসরে পাঠানো হয়। আইনের ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর যেকোনো সময় সরকার জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে কোনো কারণ না দর্শিয়ে তাকে চাকরি থেকে অবসর দিতে পারবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইনের বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো। বিধি অনুযায়ী তাঁরা অবসরজনিত সুবিধা পাবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
৩৫৮ দিন আগে
কুমিল্লায় আইনজীবী হত্যা: সাবেক এমপি বাহারসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
কুমিল্লায় আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও তার মেয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনাসহ ৩৫ জনের নামে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
রবিবার (১০ আগস্ট) কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা কোতয়ালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মহিনুল ইসলাম।
কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিনুল ইসলাম জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট কুমিল্লা নগরীর মোগলটুলি এলাকায় বিজয় মিছিলে অতর্কিত গুলিতে আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ আহত হন। দশ দিন পর ১৬ আগস্ট ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঘটনার পর নিহত আবুল কালাম আজাদের সহকর্মী আইনজীবী মোস্তফা জামান জসিম বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, তার মেয়ে ও সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনা এবং আরও ৩৫ জনের নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে।
নিহত আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ কুমিল্লা আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লা নগরীর রাণীর দিঘির দক্ষিণপাড় এলাকায় এবং গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায়।
৩৫৮ দিন আগে
সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ চার জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে রাজধানীর রামপুরায় ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর রবিবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।
হাবিবুর রহমান ছাড়াও এ মামলার পলাতক অপর তিন আসামি হলেন— খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। এ মামলায় গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে আজ আদালতে হাজির করা হয়।
আগামী ১৭ আগস্ট এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের তারিখ রেখে সেদিনও তাকে হাজির করতে বলা হয়েছে। এর আগে, গত ৭ আগস্ট সকালে এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর দাখিল করা হয়।
জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আমির হোসেন জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন। আমিরের ভাষ্য, বাসার কাছে তখন পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার মধ্যে পড়ে যান তিনি। এসময় পুলিশ গুলি করা শুরু করে। তখন আমির হোসেন দৌড়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনের চারতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে পুলিশ ভবনটির চারতলায় উঠে যায়। সেখানে আমির হোসেনকে পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে বারবার নিচে লাফ দিতে বলেন। একজন পুলিশ সদস্য তাকে ভয় দেখাতে কয়েকটি গুলিও করেন। ভয়ে আমির হোসেন লাফ দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের রড ধরে ঝুলে থাকেন। তখন তৃতীয় তলা থেকে একজন পুলিশ সদস্য আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি করেন। গুলিগুলো আমিরের দুই পায়ে লাগে।
পরে পুলিশ চলে গেলে আমির হোসেন ঝাঁপ দিয়ে কোনোরকমে তৃতীয় তলায় পড়েন। তখন তার দুই পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। প্রায় তিন ঘণ্টা পর একজন শিক্ষার্থী ও দুজন চিকিৎসক আমির হোসেনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নির্মম এই ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান আমির হোসেন।
এছাড়া রামপুরায় ওই একই দিন ঘটনাস্থলের সামনে আরও দুজনকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৬ জানুয়ারি রাতে আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো সাবেক এএসআই চঞ্চল সরকারকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি দল। পরে এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে গত ২৮ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
গত ১৪ জুলাই দুই মাসের মধ্যে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গত ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার, মঈনুল করিম ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
৩৫৮ দিন আগে