আইনশৃঙ্খলা
বেনাপোলের প্রিন্স হত্যা: আলোচিত উদ্ভাবক মিজানসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন
যশোরের বেনাপোলে ভাড়ায় মোটরসাইকেলচালক সুজায়েতুজ্জামান প্রিন্স হত্যা মামলায় জেলার আলোচিত উদ্ভাবক মিজানুর রহমান মিজানসহ চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। হত্যা মামলার ২১ বছর পর এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকালে এ রায় ঘোষণা করেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জয়ন্তী রানী দাস।
আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, রায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ড পাওয়া মিজান শার্শা উপজেলার আমতলা গাতীপাড়া গ্রামের আক্কাস আলী মোড়লের ছেলে এবং নিহত প্রিন্সের ভগ্নিপতি। অন্য তিনজন হলেন— ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ভাটাডাঙ্গা গ্রামের গোলাম মণ্ডলের ছেলে ইকবাল হোসেন, বেনাপোল কাগজপুকুর গ্রামের কালু ওরফে ঘাড়কাটা কালুর ছেলে সেকেন্দার ও একই গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে জসিম।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, প্রত্যেককে অর্থদণ্ড
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামি মিজান ও সেকেন্দার। বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২০ আগস্ট প্রিন্স মোটরসাইকেল নিয়ে নিজ বাড়ি পোড়াবাড়ি নারায়ণপুর গ্রাম থেকে বের হন। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। পরদিন সকালে ছোট নিজামপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর প্রিন্সের মামা বকতিয়ার অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় হত্যা মামলা করেন। তিনি এজাহারে সন্দেহ প্রকাশ করেন, প্রিন্সের মোটরসাইকেলের প্রতি তার দুলাভাই মিজানের আগ্রহ ছিল।
পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে, পরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেল ছিনতাই করতেই প্রিন্সকে হত্যা করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আফজাল হোসেন ওই চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এর দীর্ঘ ২১ বছর পর বহুল প্রতীক্ষিত এই মামলার রায় দেওয়া হয়।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান আধুনিকতার যুগে সামান্য মোটর মেকানিক থেকে একের পর এক যন্ত্র উদ্ভাবন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তার উদ্ভাবনী কাজের মধ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স, স্বয়ংক্রিয় সেচযন্ত্র, জ্বালানি সাশ্রয়ী পরিবেশবান্ধব যন্ত্র, যা ‘মিজান ইঞ্জিন’ নামে পরিচিতি পায়।
মিজানুর রহমানের স্থানীয় বাজারে মোটর মেকানিকের কাজের পাশাপাশি একটি ‘ফ্রি খাবার বাড়ি’ ছিল। বাড়িটি শার্শার শ্যামলাগাছী এলাকায় অবস্থিত। সেখান থেকে তিনি ভবঘুরে, ভিক্ষুক, গরিব ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ করতেন।
৩২৯ দিন আগে
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা পাচার মামলা
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পারিবারিক মালিকানাধীন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ভূয়া প্রতিষ্ঠান খোলার মাধ্যমে 'টাইম লোন' তুলে বিদেশে পাচার করেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এর উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ।
আরও পড়ুন: দুদকের নতুন সচিব খালেদ রহীম
এজাহারে বলা হয়েছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে খুলে দেওয়া হয় পাঁচটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান—ভিশন ট্রেডিং, আলফা ট্রেডার্স, ক্ল্যাসিক ট্রেডিং, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং। এরপর ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রাম বন্দর শাখায় এসব প্রতিষ্ঠানের নামে হিসাব খুলে গম, ছোলা, হলুদ ও মটর আমদানির নামে ২৫ কোটি টাকার টাইম লোন অনুমোদন করানো হয়। ব্যাংকের নিজস্ব 'ক্রেডিট কমিটি'র ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ উপেক্ষা করে ২০২০ সালের ৮ মার্চ পরিচালনা পর্ষদ ওই ঋণ অনুমোদন দেয়।
এরপর সেই টাকা ভাগ করে একই ব্যাংকে খোলা চারটি হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করে পাচার করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ব্যাংক পরিচালক, ঋণ আবেদনকারী এবং অনুমোদনকারী সবাই একে অপরের আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠ হওয়ায় সমন্বিত চক্রান্তের মাধ্যমেই এ লোন নেওয়া ও টাকা পাচার সম্ভব হয়।
মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ভাই আসিফুজ্জামান চৌধুরী, বোন রোকসানা জামান চৌধুরীসহ ব্যাংকের সাবেক ১৩ পরিচালক, ৬ কর্মকর্তা এবং আরামিট গ্রুপের ৯ কর্মচারীকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ করেছেন।
উল্লেখ্য, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সরকারের পতনের ঠিক আগে, ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট জাবেদ স্ত্রী ও সন্তানসহ লন্ডনে পাড়ি জমান বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
৩৩০ দিন আগে
৫ মামলায় ইসকন নেতা চিন্ময় দাসের জামিন নামঞ্জুর
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাসহ ছয়টি মামলার মধ্যে পাঁচ মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র বহিস্কৃত ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন খারিজ করেছেন আদালত।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাসানুল ইসলাম জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বেলা সোয়া ১১টার দিকে শুনানি শেষে বিচারক এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী।
আসামিপক্ষের পক্ষে জামিন শুনানিতে অংশ নেন ঢাকার আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি টিম। এদিন জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল উপস্থিতি ছিল।
চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ, একটি আইনজীবী হত্যার, বাকিগুলো—পুলিশের ওপর হামলা, বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগের মামলা।
২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ এনে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করেন। পরে ফিরোজ খানকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
পড়ুন: আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় দাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল
এ মামলায় চিন্ময় দাসকে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে তার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ওইদিন হামলায় গুরুতর আহত হয়ে নিহত হন তরুণ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ। তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যা মামলার পাশাপাশি কোর্ট চত্বরে পুলিশ ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা, বাধা প্রদান এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা হয়। এই ছয় মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৫১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে আইনজীবী হত্যায় জড়িত সন্দেহে ২১ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন।
৩৩০ দিন আগে
রংপুরে মহাসড়ক সংস্কারে অনিয়ম ধরল সেনাবাহিনী
রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের রংপুর চাকঘর থেকে তারাগঞ্জের চিকলী বাজার পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। ওই সড়কে প্রতি স্কয়ার মিটারে ৫ কেজি করে পাথর কম দেওয়া হয়েছে বলে সত্যতা পেয়েছে সেনাবাহিনীর একটি নিয়মিত টহল দল।
বুধবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় রংপুর সেনানিবাসের ৬৬ ডিভিশনের ৭২ পদাতিক ব্রিগেডের আওতাধীন ৩৪ বেঙ্গল রেজিমেন্ট পরিচালিত একটি নিয়মিত টহল দল লেফটেন্যান্ট নাজমুলের নেতৃত্বে সিটি মোড় এলাকায় কাজ পরিদর্শনে যায়। সেখানে সড়কের গঠন ও ব্যবহৃত উপকরণ পরিমাপে অনিয়মের প্রমাণ পায় সেনাবাহিনী।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান। রাস্তাটিতে প্রতি স্কয়ার মিটারে ২৩ কেজি পাথর দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ১৮ কেজি। তবে রাস্তা নির্মাণে কেন এরকম অনিয়ম হচ্ছে, সেনাবাহিনীকে তার কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি প্রকৌশলী।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর মেডিকেল মোড় থেকে পাগলাপীর বাজার, শলেয়াশাহ বাজার থেকে বরাতি সেতু, তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তারাগঞ্জ সেতু এবং তকনাগঞ্জ বাজার থেকে চিকলী বাজার পর্যন্ত মহাসড়কের ১৭ কিলোমিটার অংশে ডিবিএসটিসহ সংস্কারকাজে বরাদ্দ হয় ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকা।
আরও পড়ুন: কেওয়াটখালী সেতু প্রকল্পে নকশা পরিবর্তন ও দুর্নীতির অভিযোগ
৪ ফেব্রুয়ারি এই সড়কের সংস্কারকাজ পায় ডন এন্টারপ্রাইজ। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ১০ কিলোমিটার সড়কে ডিবিএসটি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ। অক্টোবরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সেনা কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকল্প অনুযায়ী প্রতি স্কয়ার মিটারে ২৩ কেজি পাথর ব্যবহারের শর্ত থাকলেও সেখানে দেওয়া হয়েছে ১৮ কেজি করে। তার মানে প্রতি স্কয়ার মিটারে ৫ কেজি পাথর কম ব্যবহার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডন এন্টারপ্রাইজের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শাহিনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রজেক্ট অনুযায়ী প্রতি স্কয়ারে ২৩ কেজি পাথর দেওয়ার কথা ছিল। সেনাবাহিনীর টেস্ট করার পর আমরা ১৮ কেজি পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো সড়ক ও জনপথের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কাজ করছি। বেশি জায়গা না, মাত্র ৮০০ মিটারে ৫ কেজি করে পাথর কম হয়েছে। আমরা এটা আবার রিপেয়ার (সংস্কার) করে দেব।’
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি মেরামতের শুরু থেকেই অনিয়ম করে আসছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তারা প্রতিবাদ করলেও কেউ কর্ণপাত করেনি। সেনাবাহিনী যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা ভালো কাজ করেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, রাস্তাটি ভালোভাবে মেরামত হলে সবারই উপকার হবে।
আরও পড়ুন: জবির ১৫ বছরের নিয়োগ-দুর্নীতির তদন্তে কমিটি গঠন
লেফটেন্যান্ট নাজমুল জানান, রাস্তা মেরামতে অনিয়ম হচ্ছে—এমন খবর পেয়েই তারা অভিযান চালান। এটি তাদের নিয়মিত অভিযানের মধ্যেই পড়ে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ডিজাইনে ছিল ২৩ কেজি, সেখানে ১৮ কেজি পেয়েছে। আমাদের দেখভাল করার লোকজন রয়েছে। যেহেতু দীর্ঘ একটা এলাকা, কমবেশি হতে পারে। সেটা অবশ্যই আমরা ঠিক করে দেব।’
৩৩০ দিন আগে
সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক গ্রেপ্তার
সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধানমণ্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভূঁইয়া তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি জানান, তথ্য এলে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালে খায়রুল হক শপথ নেন। পরের বছর ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টা, বিচারপতি ও সেনাপ্রধানকে হত্যার হুমকি দিয়ে গ্রেপ্তার আ. লীগ কর্মী
২০১৩ সালে তাকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই মেয়াদ শেষে কয়েক দফা একই পদে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয় সাবেক এই বিচারপতিকে।
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছিল না।
৩৩০ দিন আগে
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক গ্রেপ্তার
নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে আটজন নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক মহির উদ্দিনকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র্যাব। এরপর আগেই সড়ক নিরাপত্তা আইনে হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
নাটোর সদর উপজেলার বামনডাঙ্গা গ্রাম থেকে বুধবার (২৩ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ওই চালককে আটক করা হয়।
মহির নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জাহিদ হোসেনের আত্মীয় নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ট্রাকচালকের নামে বড়াইগ্রাম থানায় সড়ক নিরাপত্তা আইন-২০১৮-তে একটি মামলা করেন।
র্যাব-৫ নাটোর ক্যাম্পের কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজ আল অসাদ জানান, বড়াইগ্রামের বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের আইড়মারি ব্রিজ এলাকায় ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের সাতজন যাত্রী ও চালকসহ মোট আটজন নিহত হন। মাইক্রোবাসটি কুষ্টিয়া থেকে সিরাজগঞ্জে যাচ্ছিল।
আরও পড়ুন: নাটোরে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক মহির উদ্দিন গা ঢাকা দিয়েছিলেন। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করে বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে অসুস্থ এক আত্মীয়কে দেখতে যাচ্ছিলেন নিহতরা। পথে সিরামপুর এলাকার তরমুজ পাম্পের সামনে থেকে অন্য একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন।
পরে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও একজন নারী মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় চালক সাহাব উদ্দিন ও সীমা খাতুনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তাদেরও মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে মাইক্রোবাস চালকসহ ছয়জনের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামে। অপর দুইজনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে।
নিহতরা হলেন— জাহিদুল ইসলাম ফরাজী (৫৮), তার স্ত্রী সেলিনা বেগম (৫২), বোন রোসনায়ারা আক্তার ইতি (৪৮), চাচাতো বোন আয়োয়ারা বেগম (৫২), চাচাতো ভাবি আমেনা খাতুন আনু (৫০), মাইক্রোবাসের চালক সাহাব হোসেন রুবেল (৩৫) এবং জাহিদুল ইসলামের শাশুড়ি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার আঞ্জুমানয়ারা খাতুন (৭৪) ও শ্যালিকা সীমা খাতুন (৩৫)।
৩৩১ দিন আগে
মৃত্যুর প্রায় চার বছর পর নির্দোষ প্রমাণিত হলেন বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র কামাল
মৃত্যুর প্রায় চার বছর পরে উচ্চ আদালতের রায়ে দুর্নীতির মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) সাবেক মেয়র ও বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব কামাল।
এর আগে ২৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগে তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন বরিশালের তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। সেই রায়ের প্রেক্ষিতে ৮ মাস কারাগারেও ছিলেন তিনি।
বুধবার (২৩ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর একক বেঞ্চে দেওয়া এই সংক্রান্ত রায়ে কামালসহ পাঁচ আসামিকেই বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এই মামলায় কামালের জামিন বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া ৫০ লাখ টাকা তার পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
বিসিসির মেয়র থাকাকালে ১৯৯৫ সালের একটি ঘটনায় ২০০৯ সালে আহসান হাবিব কামালসহ ৭ জনের রিরুদ্ধে ২৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেই মামলায় ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর দেওয়া রায়ে কামালসহ ৫ জনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা করেন বরিশালের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। তখন এই রায়ে মামলার সাত আসামির মধ্যে ২ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছিলেন আদালত।
রায়ের প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ০৯ নভেম্বর থেকে ২০২০ সালের ১৬ জুলাই পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন সাবেক মেয়র কামাল। কারাগারে থাকা অবস্থায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হলে ৫০ লাখ টাকার জামিননামায় তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন বিচারপতি। নির্দেশনা অনুযায়ী ৫০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার পরও কামালের মুক্তি পেতে চার মাসেরও বেশি সময় লেগে যায়।
পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৩০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন কামাল। এ দিকে, উচ্চ আদালতে চলমান মামলার রায়ে আজ কামালসহ ৫ আসামিকে বেকসুর খালাস ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিম্নাদালতের দেওয়া রায় পর্যালোচনা ও ২০ জন স্বাক্ষীর দেওয়া স্বাক্ষ্য বিবেচনায় এনে এই রায় দেন বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী।
কামালের পক্ষের আইনজীবী বারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী জানান, সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালসহ বিসিসির তৎকালীন মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় মামলা করে দুদক। কিন্তু মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা হলেও তাকে আসামি করা হয়নি।
এ ছাড়া, সড়ক ও জনপদের একজন প্রকৌশলীর তদন্তে আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি করেছিল দুদক। কিন্তু সেই নির্বাহী প্রকৌশলী উচ্চাদালতে স্বাক্ষ্য দিতে আসেননি। স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য বিচার বিশ্লেষণ করে বিচারপতি এই সিদ্ধান্তে উপনিত হন যে, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। এই কারণে কামালের মৃত্যুর চার বছর পরে ঘোষিত উচ্চাদালতের রায়ে কামালসহ ৫ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালের ৩০ জুলাই ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন আহসান হাবিব কামাল। তিনি বরিশাল দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। কামাল কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্যজীবীবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯১ সাল থেকে বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান ও প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০০২ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে প্রথম ভারপ্রাপ্ত মেয়র মনোনীত হন। ২০১৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত হোসেন হিরণকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।
৩৩১ দিন আগে
এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে সংঘর্ষ: গোপালগঞ্জে আরও দুই মামলা দায়ের
গোপালগঞ্জে জাতীয় পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ কেন্দ্র করে টুঙ্গিপাড়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৮২ নেতাকর্মীর নামে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করা হয়। এছাড়া গোপালগঞ্জ সদর থানায় পৃথক আরেকটি মামলা হয়েছে।
বুধবার (২৩ জুলাই) টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাতে টুঙ্গিপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার বলা হয়েছে, গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে পণ্ড করতে ঢাকা-পিরোজপুর মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে যানবাহন চলাচলে বাধা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল করতে থাকে। এ ছাড়া মহাসড়কের আশপাশে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করারও চেষ্টা করা হয়।
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, ঘটনার দিন থেকে টুঙ্গিপাড়ায় এ মামলার এজাহারের ২৩ জনসহ মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে হওয়া এ মামলায় নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয়—সে বিষয়টি মাথায় রেখেই পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা ঘিরে হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায়, মঙ্গলবার রাতে জেলা কারাগারের জেলার বাদী হয়ে সদর থানায় আরেকটি মামলা করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জেলার তানিয়া জামান বাদী হয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের জেলা সভাপতি নিউটন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানসহ ১৬০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা এক হাজার জনকে আসামি করে সদর থানায় অন্য মামলাটি করেন।
৩৩১ দিন আগে
অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর
অর্থনীতিবিদ ও জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল বারকাতের জামিন নামঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন।
অন্যদিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (২৩ জুলাই) পৃথক দুই আদালতে জামিনের আবেদন ও রিমান্ডের আবেদন শুনানি হয়।
গত ১১ জুলাই দুপুরের পর আবুল বারাকাতকে দুর্নীতির একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। অন্যদিকে আবুল বারাকাতের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।
কিন্তু দিনটি শুক্রবার হওয়ায় ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত ছুটি থাকায় রিমান্ড ও জামিনের আবেদন শুনানি হয়নি।
সংশ্লিষ্ট আদালতে শুনানি হবে বলে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জানান। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আজ রিমান্ড শুনানির জন্য বারাকাতকে ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে হাজির করা হয়। জামিনের আবেদন থাকায় আজ তার জামিন আবেদন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।
সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন আইনজীবীকে জামিন শুনানি করতে বলেন। বারাকাতের আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম জামিন শুনানি করেন। আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে রিমান্ডের আবেদন শুনানি গ্রহণের জন্য ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন।
পরে দুপুরের পর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন রিমান্ডের আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করেন।
শুনানিতে বারাকাতের আইনজীবী আদালতকে বলেন, রিমান্ডে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আবুল বারাকাত একজন অর্থনীতিবিদ। তিনি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঋণ দেওয়ার বিষয়ে ব্যাংকের মাঠ পর্যায়ে এবং ব্যাংকের কর্মকর্তারাই সিদ্ধান্ত নেন কাকে ঋণ দেওয়া হবে, আর কাকে দেওয়া হবে না। ব্যাংক কর্মকর্তাদের নোটের ওপর বা সিদ্ধান্তের ওপর তিনি অনুমোদন দেন শুধু। তিনি বয়স্ক মানুষ। তিনি অসুস্থ। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।
এ পর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে আবুল বারাকাত আদালতকে বলেন, ‘আমি কোনো দুর্নীতি করিনি। কোনো অর্থ আত্মসাৎ করিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি ও বিধি-বিধান মেনে ঋণ অনুমোদন দিয়েছি মাত্র। আমার অনুমোদন দেওয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি।’
গত ১০ জুলাই রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে রাত পৌনে ১২টার দিকে আবুল বারকাতকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। পরে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান এবং অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাতসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে গত ২০ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তাদের বিরুদ্ধে অ্যাননটেক্স গ্রুপকে ঋণের নামে দেওয়া ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটি উপপরিচালক মো. নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
৩৩১ দিন আগে
ভারতে প্রবেশের সময় ৭ মামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে সাত মামলার পলাতক আসামি ছাত্রলীগ নেতা আব্দুস সামাদ আজাদকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট জমা দিলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আব্দুস সামাদ আজাদ মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। তিনি মৌলভীবাজারের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফাপুর গ্রামের আকিব আলীর ছেলে।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় আসামি ধরতে গিয়ে র্যাবের ৭ সদস্য আহত, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন মুন্সী জানান, আজ (বুধবার) সকালে ভারতে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট জমা দেন আব্দুস সামাদ আজাদ। এ সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তার তথ্য যাচাইয়ের পর তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন তার নামে মৌলভীবাজার থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোর্পদ করা হয়েছে। পরে সেখান থেকে আব্দুস সামাদকে মৌলভীবাজার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি রাসেল মিয়া বলেন, ‘মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ । তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা থাকায় তাকে মৌলভীবাজার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
৩৩১ দিন আগে