আইনশৃঙ্খলা
চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় বাদীর উপস্থিতি চেয়ে সমন জারি
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতা শুনানির জন্য বাদীর ব্যক্তিগত উপস্থিতি চেয়ে সমন জারি করেছেন আদালত। আগামী ২৫ আগস্ট বাদীর উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
রবিবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৬ষ্ঠ আদালতের বিচারক এস এম আলাউদ্দীন এ আদেশ দেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, নিহত আলিফের পিতা ও মামলার বাদী বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীর বরাবরে সমন ইস্যু করে ২৫ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেন।
আরও পড়ুন: আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় দাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল
গত ১ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মাহফুজুর রহমান ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ৪২ জন আসামি রয়েছে, এদের মধ্যে চারজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে ২০ জন গ্রেপ্তার ও ১৮ জন পলাতক।
২০১৯ সালের ২৫ অক্টোবর সনাতনী সম্প্রদায়ের বড় সমাবেশের সময় সংঘটিত ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলা শুরু হয়। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ বিভিন্ন আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। মামলার এক পর্যায়ে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
৩৫৮ দিন আগে
দ্রুতই সাংবাদিক তুহিন হত্যার চার্জশিট: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রবিবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে উপদেষ্টা এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা জাতি হিসেবে অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছি। আগে সমাজে কোনো খারাপ ঘটনা ঘটতে থাকলে লোকজন তা প্রতিহত করত, যাতে ঘটনা না ঘটে। কিন্তু এখন সবাই ভিডিও করার জন্য ব্যস্ত থাকে।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘জনসমক্ষে একটি ঘটনা ঘটছে, কিন্তু কেউ তা প্রতিহত করছে না। গাজীপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের সমাজে এ ধরনের ঘটনা কেউ কল্পনাও করতে পারে না। তবে এটা ঘটেছে।’
তিনি জানান, ‘গাজীপুরের ঘটনায় জড়িত বেশিরভাগকে আইনের আওতায় এনেছি। কিন্তু যেই জীবন চলে গেছে, সেই ক্ষতি পূরণের উপায় নেই। আসামিদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভিডিও ফুটেজে ঘটনার স্পষ্টতা তুলে ধরে চার্জশিট কত দ্রুত দাখিল করা যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চার্জশিট দ্রুত দেওয়া হবে। কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করাও বাকি রয়েছে।’
পড়ুন: পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের সন্ধান দিলে মিলবে পুরস্কার
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পুলিশের মনোবলের ঘাটতি নিয়ে বলেন, ‘আমরা একটি সংকটময় পরিস্থিতি পেয়েছি। আগে এমন পরিস্থিতি বাংলাদেশে ছিল কি না জানা নেই। পুলিশ কাজ করছে না, আনসার বিদ্রোহ করছে, অন্য বাহিনীগুলোও তত সক্রিয় নয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক উন্নতি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা যতটা আশা করেছিলাম, হয়তো তত ভালো হয়নি, কিন্তু একটি স্ট্যান্ডার্ডে পৌঁছেছি। আমাদের আরও কিছু সময় আছে, আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। আমরা আশা করছি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারব।’
৩৫৮ দিন আগে
আসন্ন নির্বাচনে পুলিশের জন্য ৪০ হাজার ‘বডিক্যাম’ সংগ্রহের পরিকল্পনা
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশের জন্য কমপক্ষে ৪০ হাজার শরীরে ধারণ উপযোগী ক্যামেরা (বডি-ওয়্যার ক্যামেরা) সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
শনিবার (৯ আগস্ট) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় এই পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকস চৌধুরী এবং ফয়েজ তৈয়ব আহমেদও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ফয়েজ তৈয়ব আহমেদ বলেন, ৪০ হাজার বডি ক্যামেরা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে যা সাধারণত ‘বডিক্যাম’ নামে পরিচিত। এই ডিভাইসগুলো হাজার হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অক্টোবরের মধ্যে বডিক্যামগুলো সংগ্রহ করতে চাই যাতে পুলিশ বাহিনী এসব ক্যামেরার এআই সক্ষমতাসহ মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর ওপর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পেতে পারে।’
তিনি জানান, ক্যামেরা সরবরাহের জন্য জার্মানি, চীন ও থাইল্যান্ডের তিনটি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা নির্বাচনের সময় ডিভাইসগুলো তাদের বুকে পরবেন।
আরও পড়ুন: আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন: সিইসি
এই ক্যামেরাগুলো দ্রুত কিনে হাজার হাজার পুলিশ কর্মীর জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে এ সময় কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই সমস্ত ভোটকেন্দ্রে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তাতে খরচ যাই হোক না কেন। আমাদের লক্ষ্য হলো ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ করা।’
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার টেলিযোগাযোগ ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী আসন্ন ভোটের জন্য একটি নির্বাচনী অ্যাপ চালু করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
তার প্রস্তাব অনুসারে, অ্যাপটি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ওপর বিশদ তথ্য প্রদান করবে। এর মধ্যে প্রার্থীর বিবরণ, ভোটকেন্দ্রের আপডেট ও অভিযোগ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
প্রস্তাবিত অ্যাপটি দ্রুত চালু করতে এবং দেশের ১০ কোটিরও বেশি ভোটারের জন্য এটি ব্যবহার উপযোগী কিনা, তা নিশ্চিত করতেও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা।
৩৫৯ দিন আগে
গাজীপুরের সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলার ৭ আসামির ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
গাজীপুরের বহুল আলোচিত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ৭ আসামির প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে গ্রেপ্তার আসামিদের গাজীপুরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আলমগীর আল মামুন আসামিদের প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— কেটু মিজান, কেটু মিজানের স্ত্রী পারুল আক্তার ওরফে গোলাপি, আল আমিন, স্বাধীন, শাহজালাল, ফয়সাল হাসান ও সুমন।
আরেক আসামি আরমান পলাতক রয়েছেন, তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
এদিকে, শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা সদরের পুরাতন বাজার থেকে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। র্যাব-১৪ এর কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়ক মো. আশরাফুল কোভিড বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তায় মসজিদ মার্কেটের সামনে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে চাপাতি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এদিন (৭ আগস্ট) দিবাগত রাতেই গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত তুহিনের বড় ভাই মো. সেলিম। মামলায় অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
৩৫৯ দিন আগে
মোহাম্মদপুর ও আদাবরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযানে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দিনব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে শুক্রবার (৮ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ তালেবুর রহমান।
মোহাম্মদপুর থানায় তথ্য অনুযায়ী, এই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুই কেজি গাঁজা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- জাবির (২৫), মিঠু (১৯), আদর (২২), অনন (১৮), নয়ন (২০), হৃদয় (২৬), মেহেদী হাসান (২১), আল আমিন (২১), দিগন্ত (২২), জুয়েল (২৭), রায়হান (১৯), মনির (২৯) ও শাহীন (৩৫)।
অন্যদিকে, আদাবর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তারা হলেন: মো. মামুনুর রশীদ ওরফে আবির (৩৫), কাজী মো. জায়েদ (৩২), মো. ইউনুস (২২) ও মো. রুস্তম আলী (৫০)। অভিযানে একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি, পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৩৬০ দিন আগে
হাতিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র ও হাতবোমাসহ আটক ১
নোয়াখালীর হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক নিজাম নামের একজনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। এসময় তার কাছ থেকে ৯টি পাইপগান, ৩ রাউন্ড কার্তুজ, ২৯টি হাত বোমা ও ৩টি বগিদা জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকালে এক প্রেসবিফিংয়ে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রিফাত আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে চরঈশ্বর ইউনিয়নের বাংলাবাজার মাছঘাটের বিসমিল্লাহ মৎস্য আড়ত থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক আবু বক্কর সিদ্দিক নিজাম (৪৫) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার বাসিন্দা।
কোস্টগার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলা বাজার মাছ ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিসমিল্লাহ আড়ৎ থেকে নিজামকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আড়তে তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ, বগিদা ও হাতবোমাগুলো জব্দ করা হয়। নিজাম দীর্ঘদিন থেকে এ ঘাটে অবস্থান করে মাছের ব্যবসার আড়ালে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রিফাত আহমেদ জানান, ডাকাত আবু বকর সিদ্দিক নিজামের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে তাকে হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করা হবে।
৩৬০ দিন আগে
গাজীপুরে সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, আটক ৫
গাজীপুরের চৌরাস্তা এলাকায় সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানায় এ মামলা হয়। নিহত তুহিনের বড় ভাই মো. সেলিম মামলাটি করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন খান জানান, আজ (শুক্রবার) দুপুর পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহজনক পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, তুহিনের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিহত তুহিন (৩৮) দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে। স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তুহিন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পড়ুন: গাজীপুরে সাংবাদিককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তা মসজিদ মার্কেট এলাকায় এক নারী ও পুরুষের বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এ সময় অস্ত্রধারী একদল দুর্বৃত্ত ওই লোককে হামলা করে। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন তুহিন। অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, একজন নারীকে কেন্দ্র করে বাদশা মিয়াকে আক্রমণ করা হয়। ওই নারীর পূর্বপরিচিত ৪-৫ জন চাপাতিসহ এসে যুবকটিকে কোপাতে থাকে। তখন তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এরপর কী ঘটেছে তা আর সিসি ক্যামেরায় পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি, হামলার ঘটনাটি সাংবাদিক তুহিন তার মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। এর ফলে ঘাতকরা তুহিনকে আক্রমণ করে। তিনি এই ভিডিও কেন করেছে তা জানতে চান এবং সেটি ডিলিট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এরপর তুহিন যখন ডিলিট করতে রাজি হননি কিংবা ভিডিওর বিষয়টি অস্বীকার করেন, তখন ওই অবস্থাতেই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং তাকে মেরে ফেলে হামলাকারীরা।’
৩৬০ দিন আগে
রংধনু গ্রুপ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৮৭৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা
রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, তাঁর ছেলে ও ভাইসহ পরিবারের আট সদস্যের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৭৮ কোটি টাকা পাচার ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পাশাপাশি অভিযুক্তদের ১৩টি ব্যাংক হিসাব আদালতের আদেশে জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
আসামিরা হলেন—রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, তাঁর ভাই আবদুল হাই এবং ছেলেরা—কাউসার আহমেদ অপু ও মেহেদী হাসান দিপু। এ ছাড়া তাঁদের স্ত্রী, ভাগনে ও আত্মীয়সহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)–এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, আসামিরা প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জন করে বিদেশে পাচার করেছেন এবং ওই অর্থের মাধ্যমে অ্যান্টিগা ও বারবুডায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে সে দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, ‘অভিযুক্তরা প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এসব অর্থ বিদেশে পাচার করে এক দেশের নাগরিকত্ব পর্যন্ত গ্রহণ করেছেন। এটি সুপরিকল্পিত মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনা।’
সিআইডি জানায়, মামলার তদন্তে দেখা গেছে, ২০২২ সালে মেহেদী হাসান দিপু ও কাউসার আহমেদ অপু বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রির নামে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু জমি বুঝিয়ে না দিয়ে ওই অর্থ আত্মসাৎ করেন।
রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে রংধনু গ্রুপ পুলিশের একটি নির্মাণ প্রকল্প—পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড—এর নামে ভুয়া কার্যাদেশ ও বিল দেখিয়ে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৭০ কোটি টাকা এবং ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ২০০ কোটি টাকা ঋণ নেন। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বারিধারা শাখা থেকে ভুয়া মূল্যায়ন রিপোর্ট দেখিয়ে আরও ৪০০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৭৮ কোটি টাকা।
পড়ুন: পাঁচ দিনের রিমান্ডে মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিন
এ অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করে বিভিন্ন দেশে সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। সিআইডি জানায়, আসামিরা একে অপরের সহযোগিতায় মানিলন্ডারিং করেছেন এবং এতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরাও সহায়তা করেছেন।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, ‘বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অনুরোধে সিআইডি ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের ১৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। এসব হিসাবে মোট প্রায় ১৭ কোটি টাকা রয়েছে।’
এ ছাড়া, যমুনা ফিউচার পার্কে রংধনু গ্রুপের মালিকানাধীন এক লাখ বর্গফুটের বেশি বাণিজ্যিক স্পেস (লেভেল–০২) আদালতের আদেশে ক্রোক করা হয়েছে। সিআইডি আরও জানায়, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার অন্যান্য আসামিদের পরিচয় ও সম্পৃক্ততা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও সম্পত্তি ক্রোকের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
৩৬১ দিন আগে
বেরোবির সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহসহ পাঁচজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ও এ কে এম নূর-উন-নবীসহ পাঁচ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই আদেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার(৭ আগস্ট) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
দুদকের পক্ষে সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন।
এছাড়া একই আদালত নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কমকর্তা কলিমউল্লাহকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন ।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া অন্যরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার মো. আ. সালাম বাচ্চু এবং এম এম, হাবিবুর রহমান।
আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি উপেক্ষা করে নকশা পরিবর্তন করেন।
তারা মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অনুমোদন ছাড়া ৩০ কোটি টাকা মূল্যের বেশি চুক্তি করেন। ঠিকাদারের রানিং বিল থেকে কেটে নেওয়া নিরাপত্তা জামানতকে এফডিআর হিসেবে ব্যাংকে জমা রাখা এবং সেইউ এফডিআর ঠিকাদারকে লোন দেওয়ার জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট অনুমোদন তথা গ্যারান্টার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের চার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
পড়ুন: সাবেক বেরোবি ভিসি ড. কলিমউল্লাহ গ্রেপ্তার
ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিতে অগ্রিম অর্থ দেওয়ার কোনো আইন না থাকা সত্ত্বেও অগ্রিম বিল দেন এবং অগ্রিম দেওয়া বিল সমন্বয়ের আগেই বিলের বিপরীতে প্রদত্ত ব্যাংক গ্যারান্টিগুলো অবমুক্ত করা হয়।
প্রথম পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ড্রইং বা ডিজাইন না মেনে সরকারি খাতে ক্রয় পদ্ধতির বিধি বহির্ভূতভাবে দ্বিতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়।
অস্বাভাবিক হারে মূল্য দাখিল বা ফ্রন্ট লোডিং থাকা সত্ত্বেও পিপিআর ২০০৮ -এর বিধান অনুযায়ী দরপত্র মূল্যায়ন না করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সেজন্য তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।
৩৬১ দিন আগে
শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের মামলা হাইকোর্টে বাতিল
আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা মামলার কার্যক্রম বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। মামলা বাতিল চেয়ে করা তার আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি করে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান চৌধুরী।
এর আগে এক আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৪ নভেম্বর আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে করা এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। ওই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানির পর আজ হাইকোর্ট রুল মঞ্জুর করে মামলাটির কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ওই বছরের ৬ আগস্ট রমনা থানায় শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি শহিদুল আলম তার ফেসবুক টাইমলাইনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে কল্পনাপ্রসূত অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এর মাধ্যমে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণিকে শ্রুতিনির্ভর (যাচাই-বাছাই ছাড়া কেবল শোনা কথা) মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে উসকানি দিয়েছেন, যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর রূপে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন করেছেন। আসামি শহিদুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ জনমনে ভীতি ছড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং তা বাস্তবায়নের জন্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার করেছেন।
৩৬১ দিন আগে