আইনশৃঙ্খলা
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ড: মোবারকের আপিলের রায় ৩০ জুলাই
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে ১১ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার মো. মোবারক হোসেনের করা আপিলের ওপর রায়ের জন্য ৩০ জুলাই তারিখ রেখেছেন আপিল বিভাগ। শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ রায়ের এ তারিখ ধার্য করেন। তিনি আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ছিলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে আপিল করেন মোবারক, যার ওপর ৮ জুলাই শুনানি শুরু হয়। ১৬ জুলাই দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি হয়। সেদিন শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ মঙ্গলবার শুনানির জন্য দিন রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রায়ের জন্য ৩০ জুলাই তারিখ ধার্য করেন।
পড়ুন: আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলায় পলাতক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোবারককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১ ওই রায় ঘোষণা করেন। তার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুটি প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে ১ নম্বর অভিযোগে মোবারককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আর ৩ নম্বর অভিযোগে মোবারককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। অপর তিনটি অভিযোগ (২, ৪ ও ৫ নম্বর অভিযোগ) প্রমাণিত না হওয়ায় এগুলো থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।
রায়ে বলা হয়, একাত্তরে মোবারক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজাকার বাহিনীর অন্যতম সদস্য ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালের রায় থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় মোবারক জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি জামায়াতের ইউনিয়ন পর্যায়ে রুকন হন। পরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন। মোবারক ২০১২ সাল পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর দণ্ডাদেশ বাতিল ও খালাসের আরজি জানিয়ে মোবারক ২০১৪ সালে আপিল করেন। এ আপিল ওপর মঙ্গলবার শুনানি শেষ হয়। আদালতে মোবারকের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও ইমরান এ সিদ্দিক শুনানি করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম শুনানিতে অংশ নেন। পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক বলেন, ১ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও ৩ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। দুটি অভিযোগ থেকে খালাস চেয়ে আপিল করা হয়। আপিলের ওপর শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ৩০ জুলাই রায়ের জন্য তারিখ ধার্য করেছেন।
৩৩২ দিন আগে
বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হয়ে ছাত্র-ছাত্রীসহ বহু হতাহতের ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিটের প্রাথমিক শুনানি করে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে বিমান বিধ্বস্তের কারণে হতাহতদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে রুল জারি করেছেন আদালত।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান, তানিম খান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির ও মো. ঈসা।
এর আগে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হয়ে ছাত্র-ছাত্রীসহ বহু হতাহতের ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি ও ঢাকাসহ দেশের সব জনবহুল এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ বিমান এবং যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়।
অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান রায়হান বিশ্বাস বাদী হয়ে এ রিট দায়ের করেন। রিটে বিমানবাহিনীর অধীনে ত্রুটিপূর্ণ বিমানের সংখ্যা কত এবং এদের রক্ষণাবেক্ষণের কী কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে, তা জানতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া মাইলস্টোন স্কুলের আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো, মাইলস্টোন স্কুলে আগুনে পুড়ে যাওয়া নিহত শিক্ষার্থীদের ৫ কোটি টাকা এবং আহত শিক্ষার্থীদের ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে দুর্ঘটনায় পড়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান। বিমানটি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে গিয়ে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিমান ও স্কুল ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। যে ভবনে এটি বিধ্বস্ত হয় সেখানে বহু স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিল, যাদের বেশিরভাগই হতাহত হয়েছে।
এ বিমান দুর্ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (মঙ্গলবার সকাল ৮টা) নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে এবং নিহতদের মধ্যে ২৫ জনই শিশু। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে অনেকে।
৩৩২ দিন আগে
জাতীয় নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য হাতে সময় রয়েছে। এ বিষয়ে প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
রবিবার (২০ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন ও তৎসংলগ্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।
‘নির্বাচন নিরাপদ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে নির্বাচন করতে কোনো অসুবিধা হবে না,’ যোগ করেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন ও তৎসংলগ্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সকল উপকমিশনার (ডিসি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর সংশ্লিষ্ট কমান্ডিং অফিসার এবং সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে পূর্বের ও বর্তমান সময়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ জানতে চেয়েছিলাম। তারা জানিয়েছে, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় গণগ্রেফতার হচ্ছে না। তবে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি কোনো অবস্থাতেই যেন দুষ্কৃতকারী ছাড়া না পায় এবং নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়।
উপদেষ্টা বলেন, যারা অন্যায় করেছে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গোপালগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি বলেন, সাংবাদিক হিসেবে এই যে আপনারা আমাকে প্রশ্ন করছেন—এটা হচ্ছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। সবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে যেন কোনো আক্রমণাত্মক বা অশালীন ভাষা ব্যবহার না হয়—সেটি খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র চর্চা করলে প্রকৃত সত্য সবসময় প্রকাশ পায়।
ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন।
৩৩৪ দিন আগে
হাসিনার প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলার বিচার প্রক্রিয়া বদলির নির্দেশ
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানাসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা ছয় মামলার বিচার বদলির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২০ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত এ আদেশ দেন।
দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, দুদকের করা ছয় মামলায় বিচারের জন্য পৃথক পৃথক আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও আদালতের নাম ও তারিখ ঠিক করা হয়নি। এসব মামলায় আসামিদের অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরু হতে যাচ্ছে।
পড়ুন: হাসিনা কখনোই ক্ষমা পাবে না: মির্জা ফখরুল
মামলার অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন: রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।
প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়।
সম্প্রতি সবগুলো মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
৩৩৪ দিন আগে
রাজধানীতে মা-মেয়ে হত্যা: দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর কদমতলী এলাকায় মোসাম্মৎ ইয়াসমিন আলম ও তার মেয়ে ইরিনা আলম তানহাকে হত্যার অভিযোগে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করেছেন আদালত।
রবিবার (২০ জুলাই) ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নার্গিস ইসলাম এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—আল আমিন, মো. মিরাজ মোল্লা। আসামি আল আমিন ও মিরাজ কারাগারে আছেন।অপর আসামি নুর আলম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। মামলার অপর আসামি নুরুল আলমের বিচার শিশু আদালতে চলমান রয়েছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমের স্বামীর পূর্বের স্ত্রী ও অন্যান্য আসামিদের সহযোগীতায় ২০১০ সালের ৮ মে হাত-পা বেঁধে ও গলায় ফাঁস দিয়ে ইয়াসমিন আলম ও তার মেয়ে ইরিনা আলম তানহাকে হত্যা করা হয়।
ওই ঘটনায় কদমতলী থানায় নিহতের ভাই মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ২০১০ সালের ৩১ আগস্ট গোয়েন্দা ও অপরাধ বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক শেখ মাহবুবুর রহমান তিন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত। বিচার চলাকালে ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
৩৩৪ দিন আগে
সারজিস আলমের বিরুদ্ধে করা আদালত অবমাননার আবেদন নিষ্পত্তি
সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস ঘিরে আদালত অবমাননার অভিযোগে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় সংগঠক সারজিস আলমের বিরুদ্ধে করা আবেদন পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রবিবার (২০ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আবেদনকারী আইনজীবী জানান, পূর্ণাঙ্গ আদেশের অনুলিপি হাতে পেলে আদালতের পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এর আগে গত ২৪ মে ফেসবুকে উচ্চ আদালত সম্পর্কে দেওয়া স্ট্যাটাসকে ‘মর্যাদাহানিকর’ ও ‘অবমাননাকর’ উল্লেখ করে সারজিস আলমকে আইনি নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় গত ২৮ মে তিনি হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করেন।
এই আবেদনের ওপর শুনানি হয় ৭ জুলাই। শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য রবিবার দিন ধার্য করেন। এদিন আদালত আবেদনটি ‘ডিসপোজড অফ’ (নিষ্পত্তি) করেছেন বলে রায় দেন।
আদালতে উপস্থিত ছিলেন আবেদনকারী আইনজীবী জসিম উদ্দিন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির।
পরে জসিম উদ্দিন জানান, পূর্ণাঙ্গ আদেশ পাওয়ার পর তিনি আপিল বিভাগের দারস্থ হবেন।
প্রসঙ্গত, গত ২২ মে হাইকোর্ট বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকার মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করে দেন। এর প্রেক্ষিতে এনসিপি নেতা সারজিস আলম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘মব তৈরি করে যদি হাইকোর্টের রায় নেওয়া যায়, তাহলে এই হাইকোর্টের দরকার কী?’
এই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে পাঠানো আইনি নোটিশে তাকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। একই সঙ্গে নোটিশ পাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষমা না চাওয়ায় তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়।
আরও পড়ুন: কেউ চাঁদাবাজি করলে তা মুখের ওপর বলব: সারজিস
৩৩৪ দিন আগে
গোপালগঞ্জে ১৪ ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মার্চ টু গোপালগঞ্জ কর্মসূচিতে দফায় দফায় হামলার পর চলমান কারফিউ ১৪ ঘণ্টার জন্য শিথিল করা হয়েছে। শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ জেলায় জনসাধারণের চলাচলে কোন বাধা নেই বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার পাশাপাশি জনগণের ভোগান্তি কমাতেই কারফিউ সাময়িক শিথিল করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে কারফিউ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
পড়ুন: গোপালগঞ্জে কারফিউ অব্যাহত: জনমনে আতঙ্কের মধ্যে মামলা
গত বুধবার (১৬ জুলাই) এনসিপির কর্মসূচিতে হামলা চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হওয়া খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ওইদিনই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরে সেদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কারফিউ জারি করা হয়। এরপর কয়েক দফায় কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
৩৩৫ দিন আগে
গাইবান্ধায় আসামি ধরতে গিয়ে র্যাবের ৭ সদস্য আহত, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অপহরণ মামলার আসামি ধরতে গিয়ে অপহরণকারীর সহযোগীদের হামলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সাত সদস্য আহত হয়েছেন। পরে, ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এরপর, অপহ্নত কিশোরীকে উদ্ধার ও অপহরণকারী লিয়ন বাবু (২২) সহ তিন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে (১৮ জুলাই) জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের কুড়ি পাইকা গ্রামের শাহীন মিয়ার স্কুল পড়ুয়া ১৩ বছরের মেয়ে শারিয়া মোস্তারিনকে অপহরণের অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়। খবর পেয়ে অপহ্নত কিশোরীকে উদ্ধার করতে র্যাব সদস্যরা চাঁদপুর গ্রামে নান্নু মিয়ার বাড়িতে অভিযান শুরু করে।
এসময়, অপহরনকারী লিয়ন বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এমতাবস্থায় অপহরনকারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা করে অপহরনকারী বাবুকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।
এতে র্যাব-১৩ ক্যাম্পের ৭ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার মো.নওশের আলম। এক পর্যায়ে র্যাব ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় র্যাব অপহৃত স্কুলছাত্রী শারিয়া মোস্তারিনকে উদ্ধার ও অপহরণকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
আহত র্যাব সদস্যদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামি ও সহযোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব। আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পর আজ তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
৩৩৬ দিন আগে
বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ১৭ আগস্ট
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ১৭ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছে আদালত।
এছাড়াও সম্রাটের জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক জাকারিয়া হোসেন এ আদেশ দেন।
মামলাটির অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে সম্রাট আদালতে হাজির হননি। তার আইনজীবী সম্রাট অসুস্থ বলে সময়ের আবেদন করেন।
পড়ুন: সাবেক যুবলীগ নেতা সম্রাটের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের পক্ষ থেকে অভিযোগ গঠনের আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
একই সঙ্গে জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
২৫ জানুয়ারি অস্ত্র আইনের মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় একই আদালত। সেই মামলার তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করে।
দুদকের এই কর্মকর্তাই মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে।
২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সম্রাট আত্মগোপন করেন।
পরবর্তীতে ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সেদিন বিকালে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।
অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১ হাজার ১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং ‘নির্যাতন করার’ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানানো হয় র্যাবের পক্ষ থেকে।
২০২২ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ১১ মে’র মধ্যে চার মামলায় জামিন পান সম্রাট।
৩৩৭ দিন আগে
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক-বাবরের খালাসের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি ফের ২৪ জুলাই
বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) প্রথম দিনের শুনানি আগামী ২৪ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ শুনানি নিয়ে এই মূলতবির আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ সকালে শুনানির শুরুতে মামলার পেপারবুক থেকে পাঠ করা শুরু করেন।
আদালতে বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত ১৫ জুলাই আপিল বিভাগ এ মামলার আপিল শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
গত ১ জুন এই গ্রেনেড হামলা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের অনুমতি চেয়ে করা আবেদন (লিভ টু আপিল) মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। পরে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করে।
গত বছরের ১ ডিসেম্বর এই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামিকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত ও কয়েকশ’ মানুষ আহত হন। ওই গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সিআইডি এই মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দিলে শুরু হয় বিচার।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই মামলায় অধিকতর তদন্তে আসামির তালিকায় যুক্ত করা হয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে।
দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন আলোচিত মামলার রায় দেন। ওই রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন—আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজির সাবেক আমির ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, ‘কাশ্মীরি জঙ্গি’ আব্দুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. উজ্জ্বল, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ।
বিচারিক আদালতের রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন ও ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন—খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হুজি সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল ওরফে খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল ওরফে ইকবাল হোসেন, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু।
এছাড়া, বিচারিক আদালতের রায়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আশরাফুল হুদা ও শহিদুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাগনে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, ডিজিএফআইয়ের মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন, ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, আরেক সাবেক উপকমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খোদা বখশ চৌধুরী, সিআইডির সাবেক বিশেষ সুপার মো. রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ, সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমানকে দুই বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এই মামলার আরেকটি ধারায় খোদা বখশ চৌধুরী, রুহুল আমিন, আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমানকে তিন বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেয় আদালত।
বিচারিক আদালতের এই রায়ের দেড় মাসের মাথায় ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার নথি হাইকোর্টে আসে। ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিল শুনানি শুরু হয়। বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি চলছিল। তবে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর হাইকোর্ট বেঞ্চ পুনর্গঠন হলে শুনানি শেষে গত ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এই মামলার সব আসামিকে খালাস দেন।
আরও পড়ুন: একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক-বাবরের খালাসের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি বৃহস্পতিবার
৩৩৭ দিন আগে