আইনশৃঙ্খলা
মুক্তি পাচ্ছেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৬ বন্দী
সরকার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে ২০ বছরের অধিক সাজাভোগকারী ৫৬ বন্দীকে মুক্তি দেবে। সরকার তার ক্ষমা করার ক্ষমতাবলে এসব বন্দীর সাজা মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কারা সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (কারাগার, গণমাধ্যম) জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, জেল কোডের ৫৬৯ বিধি, যা সাধারণত 'বিশ বছরের বিধি' নামে পরিচিত এবং ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ধারা ৪০১(১) এর অধীনে এই মুক্তি অনুমোদিত হয়েছে।
এআইজি জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার (১ জুলাই) বেশ কয়েকজন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের পর দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পর্যায়ক্রমে বাকিদের মুক্তি দেওয়া হবে।
পড়ুন: কারাগারে 'ঈদ খাবার উদ্যোগে’ শিক্ষার্থীদের সহায়তা, বন্দীদের মুখে হাসি
জেল কোড অনুসারে, বাংলাদেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩০ বছর হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। তবে, সরকারি বিবেচনা এবং ভালো আচরণের ভিত্তিতে, সিআরপিসির বিধি ৫৬৯ এবং ধারা ৪০১(১) অনুসারে, কমপক্ষে ২০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করার পর, বন্দীদের প্রাথমিক মুক্তির জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে, যার মধ্যে মওকুফও অন্তর্ভুক্ত।
তবে কোন কোন কারাগার থেকে কোন কোন বন্দী মুক্তি পেয়েছেন তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
৩৫৩ দিন আগে
প্রহসনের নির্বাচনের জন্য দোষ স্বীকার সাবেক সিইসি নূরুল হুদার
প্রহসনের নির্বাচন ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুই দফায় চারদিন করে আটদিনের রিমান্ড শেষে নূরুল হুদাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক শামসুজ্জোহা সরকার।
এরপর নূরুল হুদা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন এ তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
নূরুল হুদার পক্ষে অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম সজিব এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আজকে রিমান্ড শেষে নূরুল হুদাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আমরা তার জামিনের দরখাস্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থিত হয়। এরপর আদালতে এসে জানতে পারি তিনি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিচ্ছেন।
পড়ুন: সাবেক সিইসি নুরুল হুদাকে জুতাপেটার মামলায় হানিফসহ ৩ জনের জামিন
গত ২২ জুন সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরে নূরুল হুদার বাড়িতে গিয়ে ‘স্থানীয় জনতা’ তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পরদিন প্রভাব খাটিয়ে প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। চারদিনের রিমান্ড শেষে একই মামলায় গত ২৭ জুন আবারও চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার সিএমএম আদালত।
একই মামলায় গত ২৯ জুন তিনদিনের রিমান্ড শেষে সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ২২ জুন দশম থেকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করা তিন সিইসি যথাক্রমে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, নূরুল হুদা ও কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগে শেরেবাংলানগর থানায় মামলা করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহ উদ্দিন খান।
পরবর্তীতে গত ২৫ জুন এ মামলায় নতুন করে রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ধারা যুক্ত করা হয়।
সাবেক সচিব নূরুল হুদা ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সিইসি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন দেশের দ্বাদশ সিইসি। তার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের কমিশনের অধীনে ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের সব ভোট হয়।
৩৫৩ দিন আগে
শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলা: মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আসামির আপিল শুনবেন হাইকোর্ট
মাগুরায় আলোচিত শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ে তাকে দেওয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। হিটু শেখ শিশুটির বোনের শ্বশুর।
বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার(১ জুলাই) এ আদেশ দেন। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হিটু শেখের করা আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতে তার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন।
আইনজীবী মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে হিটু শেখের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। তার অর্থদণ্ডও স্থগিত করা হয়েছে।’
শিশুটি বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
এর আগে ৮ মার্চ শিশুটির মা মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয় এবং ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়।
পরে ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ৬ মার্চ ঘটনার দিন থেকে গণনা করলে ৭৩ দিনের মাথায় গত ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ২৫ জুন হাইকোর্টে আপিল করেন হিটু শেখ। এছাড়া ডেথ রেফানেন্স হিসেবে গত ২১ জুন মামলাটির যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এখন একসঙ্গে ডেথরেফারেন্স ও আসামির করা আপিলের শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
পড়ুন: আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড
৩৫৩ দিন আগে
এনবিআরের আরও ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আরও পাঁচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ— তারা অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পক্ষপাতিত্বের সঙ্গে জড়িত।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুদক এই তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে এই কর্মকর্তারা বড় পরিসরে কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এতে করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
এমন সব অভিযোগে যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে তারা হলেন— বড় করদাতা বিভাগের (ভ্যাট) অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল রশিদ মিয়া, সদস্য মো. লুৎফুর আজিম, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন, ঢাকার কর অঞ্চল-১৬ এর উপ-কর কমিশনার মো. শিহাবুল ইসলাম এবং যুগ্ম কমিশনার মো. তারেক হাসান।
এর আগে ২৯ জুন দুদক এনবিআরের আরও ছয়জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। যাদের বিরুদ্ধে কর্তৃত্বের অপব্যবহার ও গত দুই দশক ধরে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ছয় কর্মকর্তা হলেন— আয়কর নীতি বিভাগের সদস্য একেএম বদিউল আলম, ঢাকা কর অঞ্চল-৮ এর অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, বিসিএস কর একাডেমির যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন খান, ঢাকার কর অঞ্চল-১৬ এর উপ-কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, অডিট-গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর-ভ্যাটের ঢাকার অতিরিক্ত কমিশনার হাসান তারেক রিকাবদার এবং কাস্টমস-আবগারি ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ) এর অতিরিক্ত কমিশনারসাধন কুমার কুন্ডু।
এই ছয় কর্মকর্তার মধ্যে হাসান তারেক এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বাধীন পরিষদটি রাজস্ব বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পরিবর্তে এর অভ্যন্তরে কাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে।
দুদকের মুখপাত্র আক্তারুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা কর দায় কমানোর বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার কেউ কেউ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দায়ের করেছেন—যারা তাদের অবৈধ দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও রয়েছে যে, করদাতাদের কর ফেরত ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে করদাতাদের তাদের পাওনা পেতে ঘুষ দিতে বা উপহার দিতে বাধ্য করা হয়েছে। কখনো কখনো এই ঘুষের পরিমাণ ছিল করদাতাদের পাওনার অর্ধেকের সম পরিমাণ।
পড়ুন: হাসনাতের পোস্ট ‘যাচাইবিহীন ও মানহানিকর’ দাবি দুদকের
৩৫৩ দিন আগে
ক্রিকেটার নাসির-তামিমার আত্মপক্ষ শুনানি ১৪ জুলাই
তালাক না দিয়ে অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে করা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি আগামী ১৪ জুলাই ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন জাকির হোসাইন গালিবের আদালত এই আদেশ দেন।
এদিন মামলাটির ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিলো। তবে আসামিদের পক্ষের আইনজীবীরা শুনানি পেছানোর জন্য আবেদন করেন।
সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৪ জুলাই আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির জন্য নতুন করে এই তারিখ ধার্য করেন আদালত। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
শুনানিকালে ক্রিকেটার নাসির হোসাইন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে তামিমা সুলতানা তাম্মি চাকুরি থেকে ছুটি না পাওয়ায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। তার পক্ষে সময়ের আবেদন করেন আইনজীবীরা।
এর আগে, গত ২৮ এপ্রিল নাসির-তামিমার মামলা শুনানিতে বিব্রত প্রকাশ করে বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে বদলির নির্দেশ দেন। এ নিয়ে মামলায় মোট দশজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ক্রিকেটার নাসির ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ: আইসিসি
উল্লেখ্য,২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার প্রথম স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় নাসির তামিমাকে বিয়ে করেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী অবৈধ।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা এবং তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই। এরপর ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
৩৫৩ দিন আগে
কামরাঙ্গীরচরে রকি হত্যা: প্রধান দুই আসামি গ্রেফতার
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে রকি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাদারীপুরের কালকিনি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন—আবু তালেব মেম্বার (৩৭) ও মো. পলাশ খাঁ (৩৩)।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এমন তথ্য জানিয়েছেন লালবাগের ডিসি মোহাম্মদ জসিমউদ্দিন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ২৩ জুন রাত ১২টা ৫ মিনিট থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে কামরাঙ্গীরচরের ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি রিকশা গ্যারেজের সামনে সড়কে রকিকে কুপিয়ে জখম করে একদল দুর্বৃত্ত।আরও পড়ুন: প্রাইম এশিয়ার ছাত্র পারভেজ হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
পরিকল্পিত এই হামলায় অংশ নেয় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামিসহ পলাতক আবু বক্কর, দুলাল মিয়া ও আরও দু-তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি। স্থানীয়দের সহায়তায় রকিকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রকির মা রাজিয়া বেগম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে নেমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া আসামিরা জানিয়েছে, ২২ জুন বিকেলে এক রিকশাচালকের কাছ থেকে টাকা নেয় তালেব মেম্বার ও শাওন। এ ঘটনায় রকি প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও গালাগাল হয়। এর জের ধরেই রকিকে হত্যা করা হয় বলে তারা স্বীকার করেছে।
৩৫৩ দিন আগে
পুলিশ পরিচয়ে ফেসবুক ব্যবহার করা যাবে না: আরপিএমপি কমিশনার
পুলিশ পরিচয়ে ফেসবুকসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি)। এ বিষয়ে সব পুলিশ সদস্যকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আরপিএমপি কমিশনার মো. মজিদ আলী।
সোমবার (৩০ জুন) বিকালে রংপুর পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় সদস্যদের ‘বাংলাদেশ পুলিশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০২৫’ যথাযথভাবে অনুসরণে এসব নির্দেশ দেন তিনি।
আরপিএমপি কমিশনার বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য পুলিশ পরিচয়ে ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক সদস্যকে অনলাইন জিডি বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা রাখতে হবে, যাতে সাধারণ জনগণকে আরও উন্নত ও সেবাপ্রবণ সহায়তা দেওয়া যায়।
আরও পড়ুন: ঢাকা ও ময়মনসিংহে চালু হচ্ছে সব ধরনের অনলাইন জিডি
এ সময় সব সদস্যকে সতর্কতা ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে সচেষ্ট থাকারও আহ্বান জানান।
এদিন সভার শুরুতে উপস্থিত সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন পুলিশ কমিশনার। এ সময় গত মাসের কল্যাণ সভায় উত্থাপিত সমস্যাগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন তিনি। পাশাপাশি উপস্থিত অফিসার ও সদস্যদের কাছ থেকে সরাসরি বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে তিনি তাৎক্ষণিক সমাধানের নির্দেশনা দেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সফিজুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) হাবিবুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) তোফায়েল আহম্মেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুর রশিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৩৫৩ দিন আগে
সাত দিনের রিমান্ডে সাবেক এমপি ফয়সাল বিপ্লব
মুন্সীগঞ্জে সজল হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ফয়সাল বিপ্লবের জামিন নামঞ্জুর করে তার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকালে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে মুন্সীগঞ্জের ১ নম্বর আমলী আদালতের বিচারক আশিকুর রহমান এই আদেশ দেন।
এদিন মব এড়াতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টায় আদালতে আনা হয় তাকে। আদালতে তোলা হয় ৯টা ৫ মিনিটে।
আসামির পক্ষে জামিন ও রিমান্ড নামঞ্জুরের আবদেন নিয়ে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট শাহিন মো. আমানুল্লাহ ও অ্যাডভোকেট হাসান মৃধা। আর রাষ্ট্রপক্ষে আদালত পরিদর্শক ছাড়াও সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম ও সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি) নূর হোসেন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। প্রায় ২০ মিনিট ধরে শুনানি হয়। এরপর তাকে ৭ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত।
আরও পড়ুন: সাবেক এমপি তুহিন ও শাহে আলম মুরাদ রিমান্ডে
আদাশের পর তাকে সরাসরি জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তার কিছুক্ষণ পরেই আদালত এলাকায় তার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেয় অর্ধ সহ্রাধিক মানুষ। ছাত্র-জনতা ব্যানারে এই বিক্ষোভ থেকে মুন্সীগঞ্জে ৪ আগস্টের সহিংসতার জন্য তাকে দায়ী করা হয়। বিক্ষোভ থেকে ফয়সাল বিপ্লবের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, সাধারণত সকাল ১০টার আগে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয় না। কিন্তু আজ এত আগে তাকে আদালতে আনা হবে, তা তারা জানতেন না।
গত ২২ জুন রাতে রাজধানীর মনিপুরী পাড়া থেকে গ্রেপ্তার হন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য। পরে ২৩ জুন তাকে ঢাকার আদালতে তোলা হয়। এরপর ৩০ জুন (সোমবার) ফয়সাল বিপ্লবকে মুন্সীগঞ্জ কারাগারে নেওয়া হয়।
মুন্সীগঞ্জে গত বছরের ৪ আগস্টের সহিংসতায় তিনজন নিহত হন। এই তিনটি হত্যা মামলা ও আরও দুইটি হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল বিপ্লব।
৩৫৩ দিন আগে
মেহেরপুরে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মেহেরপুরে স্ত্রীকে হত্যার মামলায় স্বামী সেন্টু মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছর কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাছিম রেজা এই আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সেন্টু মিয়া মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার আকুবপুর বাজারপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৫ জুন তার স্ত্রী সাগরিকাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা চালান সেন্টু। পরে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে ময়নাতদন্তে রিপোর্টে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩০২/২০১ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে সেন্টু মিয়া দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সাজা ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও দুই বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন।
মামলায় সরকারি পক্ষের কৌসুলি ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সাইদুর রাজ্জাক ও আসামি পক্ষের কৌসুলি ছিলেন অ্যাডভেকোট নুরুল হাসান রন্টু।
৩৫৪ দিন আগে
গাজীপুরে চোর অপবাদ দিয়ে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা, কারখানা বন্ধ ঘোষণা
গাজীপুরের কাশিমপুর রোডে একটি পোশাক কারখানায় ইলেকট্রিক মেকানিককে চোর অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই লিটন বাদী হয়ে কোনাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (৩০ জুন) কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৭ জুন) রাত আনুমানিক ৮টা থেকে শনিবার (২৮ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করায় ঘটনাটি দেরিতে প্রকাশ পেয়েছে। এরপর থেকে কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, নিহত ইলেকট্রিক মেকানিক হৃদয় হোসেন (১৯) টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার শুকতারবাইদ এলাকার বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে। তিনি মা ও বোনের সাথে কোনাবাড়ীর হারিনাবাড়ী এসরারনগর হাউজিং এলাকায় মিরাজের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পাশাপাশি স্থানীয় গ্রিনল্যান্ড লিমিটেড গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে ডাইং সেকশনের ইলেকট্রিক মেকানিক হিসেবে অস্থায়ীভাবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হাসান মাহমুদ মিঠুন টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী থানার হাদিরা বাজার এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন কুদ্দুসনগর এলাকায় আয়নালের বাড়ির ভাড়াটিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৮ জুন) সকালে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হৃদয়ের হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। দুপুরের দিকে হৃদয় মারা যায়। ঘটনার খবর আশপাশের অন্যান্য পোশাক কারখানার কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকা ও ময়মনসিংহে চালু হচ্ছে সব ধরনের অনলাইন জিডি
পরে, প্রায় ৪০০-৫০০ শ্রমিক রাস্তায় নেমে এসে গ্রীনল্যান্ড গার্মেন্টসের সামনে গিয়ে কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হৃদয় হত্যার বিচার দাবি করেন। এ সময়ে তারা কয়েক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর কর্তৃপক্ষ গার্মেন্টসের মূল ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ সাঁটিয়ে পালিয়ে যায়।
সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে (২৮ জুন শনিবার) কতিপয় লোক হৃদয়কে দড়ি দিয়ে হাত-পিঠ বেঁধে কারখানার ভিতরে একটি কক্ষে নিয়ে যাচ্ছে। পরে ওই কক্ষে তার ওপর অমানুষিক ও নির্মম নির্যাতন করা হয়। শনিবার সকাল ১০টা ১৪ মিনিটে কারখানা ভেতরে একটি এম্বুলেন্স প্রবেশ করতে দেখা যায়। মৃত অবস্থায় হৃদয়কে নিয়ে ১০টা ২১ মিনিটে এম্বুলেন্সটি কারখানা ত্যাগ করে।
হৃদয় মারা যাওয়ার পর তার শরীরের একাধিক ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। তাতে তার হাঁটুতে, কোমরে, পিঠে, হাতের কব্জিতে, কনুইতে, হাতের নখে, গলায়, মুখমন্ডলে রক্তাক্ত ও কালচে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এসব থেকে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা অনুমান করা যায়।
ধারণা করা হচ্ছে, কারখানার ভিতরে নির্যাতনের তার মৃত্যু হওয়ার পর বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে আহত দেখিয়ে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে বলে হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে উল্লেখ করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে স্থানান্তর করে।
নিহতের ভাই ও মামলার বাদি লিটনের মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৮ জুন বিকাল সাড়ে ৪টার সময় বাদীর মা মোবাইলে ফোন করে বাদীকে জানায় যে, গত ২৭ জুন রাত্র আনুমানিক ৮টার দিকে হৃদয় খাওয়া-দাওয়া শেষে বাসা থেকে বের হয়ে ডিউটির উদ্দেশ্যে যায়। এরপর থেকে সে এখন পর্যন্ত বাসায় ফিরে আসেনি।
এই সংবাদ পেয়ে বাদী তাৎক্ষণিক মায়ের বাসায় এসে মাকে নিয়ে হৃদয়ের অফিসে যায়। সেখানে গিয়ে লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন যে হৃদয়ের হত্যার ঘটনায় গ্রিণল্যান্ড লিমিটেড ফ্যাক্টরীর শ্রমিকরা টাঙ্গাইল-গাজীপুরগামী মহাসড়কের রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করছেন।
তখন পরিবারের লোকজন হৃদয়ের লাশের সন্ধান করলে কারখানার লোকজন জানায় যে, হৃদয়ের লাশ শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে। পরে পরিবারের লোকজন হাসপতালে উপস্থিত হয়ে হৃদয়ের লাশ শনাক্ত করে।
মামলার এজাহারে আরো বলা হয়, ওই সংবাদ পেয়ে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ও হৃদয়ের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে হাসপাতালে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির আগের আদেশ স্থগিত
এ বিষয়ে কোনাবাড়ী থানার ওসি সালাহ উদ্দিন বলেন, আমাদের কাছে খবর আসে একজন চোর কারখানার দেয়াল টপকে ভিতরে আসার সময় ড্রেনে পরে আহত হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায়, ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
ওসি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রকৃত ঘটনা শোনার পর কারখানায় অভিযান চালিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও হত্যায় ব্যবহৃত অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমরা হত্যাকান্ডের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মামলার অজ্ঞাত আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
৩৫৪ দিন আগে