আইনশৃঙ্খলা
পুলিশের চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বে রদবদল
বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন পদের চার কর্মকর্তার দায়িত্বে রদবদল ও পদোন্নতি হয়েছে।
রবিবার (১৫ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ অধিশাখার উপসচিব মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের কমান্ড্যান্ট আলি আকবর খানকে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি করা হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের আর্ম পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মো. শামসুল হককে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি করা হয়েছে।
এ ছাড়াও ঢাকা আর্ম পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ নজরুল ইসলামকে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি করা হয়েছে। আর সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি রোমানা আক্তারকে ঢাকা রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।
জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩২৪ দিন আগে
খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাকে মারপিট করে পুলিশে দিল জনতা
খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও খানজাহান আলী থানার সাবেক সভাপতি বেগ লিয়াকত আলীকে মারপিট করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।
শনিবার (১৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর ফুলবাড়িগেট বাজার মোড় থেকে তাকে আটক করা হয়।
বেগ লিয়াকত আলীর বাড়ি খানজাহান আলী থানার বাদামতলা পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাটিতে বসা বেগ লিয়াকত আলীর জামার কলার ধরে আছেন এক ব্যক্তি। অন্যরা তাকে ঘিরে ধরে বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের ওপর বেগ লিয়াকতের চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে গালাগাল করছেন। কয়েকজন তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন।
এ সময় মধ্য বয়স্ক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার বুড়ো বাপকেও তুই ছাড়িসনি। তাকেও মারতে গেছিস’।
জানা যায়, ৫ আগস্টের পর বেগ লিয়াকাত আলীর বিরুদ্ধে দিঘলিয়া, দৌলতপুর, খান জাহান আলী এবং সাভার থানায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়। গত ১৩ মে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পরের দিন তিনি আদালতে জামিন নিতে গেলে পুলিশ সেখান থেকে তাকে আটক করে। ঈদের সপ্তাহখানেক আগে তিনি জামিনে কারামুক্ত হন। সেই থেকে তিনি বাড়িতেই থাকতেন।
আরও পড়ুন: দ্রুত ও কম খরচে মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কাজ করছে আইন মন্ত্রণালয়: আসিফ নজরুল
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন অনেকটা জোরপূর্বক তিনি ফুলবাড়িগেট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি পদ দখলে রেখেছিলেন। বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী, এমনকি আওয়ামী লীগের সমর্থক ব্যবসায়ীরাও নির্বাচনের দাবি জানালেও তিনি কান দেননি। এসব কারণে বাজারের ব্যবসায়ীরা তার উপর ক্ষুব্ধ ছিল।
নগরীর খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, বেগ লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। শনিবার একটার দিকে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
৩২৫ দিন আগে
রাজধানীতে নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর ব্যবসায়ীর খন্ডিত লাশ উদ্ধার
রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর এক ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীর খন্ডিত লাশ মাটি খুড়ে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকালে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যবসায়ীর নাম জাকির হোসেন (৫৫)। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
সত্যতা নিশ্চিত করে সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক এসআই শামসুল আমিন বলেন, গত ৪ জুন থেকে ঐ ব্যবসায়ী নিখোঁজ ছিলেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, তারই পরিচিত আজহার নামে এক ব্যাক্তি তাকে ফোনে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। এরপর থেকে আর তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাজধানীর মহানগর এলাকা থেকে প্রথমে আজহারকে আটক করি। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাসে তিনি স্বীকার করেন যে, তারাই জাকিরকে হত্যা করে জাকিরের বাড়ির পাশে বাইকদিয়া এলাকার একটি জঙ্গলে ফেলে রাখে। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তার ক্ষতবিক্ষত ছয় টুকরা করা দেহ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: খুলনার আঠারো বেকী নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার
তিনি বলেন, জাকিরকে প্রথমে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। সে নিচে পড়ে গেলে, তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে শরীর থেকে বিভিন্ন অংশ আলাদা করা হয়।
তিনি বলেন, আমরা তার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কি কারণ তাদের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল, যার কারণে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে পুলিশের ঐ কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করে পরে জানানো যাবে।
সবুজবাগ বাইকদিয়া এলাকায় থাকতেন ব্যাবসায়ী জাকির হোসেন। তার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান নন্দিপাড়া এলাকায়।
নিহতের ছোট ভাই মাসুদ হোসেন জানিয়েছেন, বহুবছর যাবত বাকইদিয়া এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল স্থানীয় ফারুক, মেহের আলীসহ অনেকের সঙ্গে।
অভিযোগ করে ভাই মাসুদ বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষদের সম্পদ তারা দখল করে রেখেছে। ঐ সব জমিজমা নিয়ে মামলা চলছিল। ভাই জাকির হোসেন ঐ মামলা পরিচালনা করে আসছিলেন।
তার দাবি, ঐ চক্ররা পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটিয়ে লোক দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন, গত ৪ জুন রাতে ভাইয়ের পূর্ব পরিচিত আজাহার, তাকে (ভাই) ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, ভাইয়ের কাছে কয়েক লাখ টাকা ছিল। ভাই, বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আর বাসায় ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আমাদের সন্দেহ হয়, ভাই নিখোঁজের পেছনে স্থানীয়রা জড়িত। পুরো বিষয়টি জানিয়ে আমরা থানায় আজাহার, স্বপন, ইমন, রাজিব, শুক্কুরসহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অপহরণ মামলা করি।
পরে পুলিশ আজাহারকে গ্রেপ্তার করে তার দেখানো মতে ভাইয়ের খন্ডিত লাশ উদ্ধার করেন।
৩২৭ দিন আগে
চার সীমান্ত দিয়ে ৭০ জনকে ঠেলে দিলো বিএসএফ
সিলেট ও সুনামগঞ্জের চারটি সীমান্ত দিয়ে ৭০ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ। বুধবার (১১ জুন) দিবাগত রাতে ও বৃহস্পতিবার (১২ জুন) ভোরে পুশইন করার পর তাদের আটক করে বিজিবি।
আটকদের মধ্যে ২২ জন পুরুষ, ১৮ জন মহিলা এবং ৩০ জন শিশু রয়েছে। আটকদের ৪৩ জনের বাড়ি কুড়িগ্রাম এবং ২৭ জনের বাড়ি লালমনিরহাটে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, মোকামপুঞ্জি, মিনাটিলা এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ সীমান্ত দিয়ে ৫৩ জন, এবং সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নোয়াকোট সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে পুশইন করা হয়।
এদিকে, জৈন্তাপুরের শ্রীপুর বিওপি ২টি পরিবারের ১৭ জনকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ, ৪ জন নারী এবং ৯ জন শিশু রয়েছে। তারা ৭ জন কুড়িগ্রাম জেলার এবং ১০ জন লালমনিরহাট জেলার বাসিন্দা।
অন্যদিকে, মিনাটিলা বিওপি ৪টি পরিবারের ২৩ জনকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ, ৭ জন নারী এবং ৭ জন শিশু রয়েছে। সবাই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা।
আরও পড়ুন: করোনার চোখ রাঙানি: পর্যটকপ্রিয় রাঙ্গামাটিতে স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যাপক প্রস্তুতি
এছাড়া, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ বিওপি ২টি পরিবারের ১৩ জনকে আটক করেছে, যাদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ৬ জন শিশু রয়েছে। তারা সবাই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা।
ছাতক উপজেলার নোয়াকোট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ছনবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ৪টি পরিবারের ১৭ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করা হয়। আটকদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ৪ জন নারী এবং ৮ জন শিশু রয়েছে।
বিজিবির ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি টহল জোরদার করেছে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
৩২৭ দিন আগে
শনিবার থেকে হাইকোর্ট এলাকায় সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা
আগামী শনিবার (১৪ জুন) থেকে প্রধান বিচারপতির বাসভবনসহ হাইকোর্ট এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-III/৭৬) এর ২৯ ধারায় আগামী শনিবার (১৪ জুন) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবন, বিচারপতি ভবন, জাজেস কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের প্রধান গেট, মাজার গেট, জামে মসজিদ গেট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ ও ২ এর প্রবেশ গেট, বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট ভবনের সম্মুখে সকল প্রকার সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হলো।
এতে, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায় ও প্রতিবাদ কর্মসূচির নামে যখন-তখন সড়ক অবরোধ করে যান চলাচলে বিঘ্ন না ঘটানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়।
এর আগে, গত ২৬ মে সচিবালয় ও যমুনা-সংলগ্ন এলাকায় সভা-সমাবেশে নিষিদ্ধ করেছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
আরও পড়ুন: সচিবালয় এলাকায় সব ধরনের সভা সমাবেশ-জমায়েতে নিষিদ্ধ করল ডিএমপি
৩২৭ দিন আগে
পল্লবীর পেপার সানি হত্যাকাণ্ড: মাদক কারবারের দ্বন্দ্ব নাকি সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান?
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে পেপার সানি নামে পরিচিত রাকিবুল হাসান সানি (৩২) হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। একাধিক সূত্র বলছে, দীর্ঘদিনের মাদক কারবারের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, সানি এলাকায় কিশোর গ্যাং ও মাদকচক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাকে খুন করা হয়েছে।
নিহত সানি কালশীর মোহাম্মদ সোহেলের ছেলে। স্ত্রী ও মা-বাবাসহ পরিবারের সঙ্গে মিরপুরের পল্লবী এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। তিনি ফুটপাতে কাপড়ের ব্যবসা ও অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন বলে দাবি করছেন তর পরিবার।
মাদক কারবার ও পুরোনো দ্বন্দ্ব
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সানি ও তার এক সময়কার ঘনিষ্ঠ রুবেল গ্রুপের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ গ্রুপের সদস্যরা হলেন— কুখ্যাত ল্যাংড়া রুবেল, বোমা কাল্লু, টানা আকাশ, জিন্দা ও কাসরা সোহেলসহ আরও অনেকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এরা সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত এবং পল্লবী এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
আরও পড়ুন: মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতি, আটক ৩ ডাকাত কারাগারে
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সানি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে এলাকার কিশোর গ্যাং ও মাদক চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতো। এটাই তার অপরাধ। এজন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
রহস্যময় রাত ও হত্যাকাণ্ডের চিত্র
মামলার এজাহার অনুযায়ী, হত্যার আগের রাতে সোমবার (৯ জুন) সানিকে স্বপন নামে এক যুবক মিরপুর সাড়ে ১১ এলাকায় ফোন করে আড্ডা দেওয়ার জন্য ডেকে নিয়ে যায়। রাত ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে গেলেও আর ফেরেননি তিনি। পরদিন মঙ্গলবার (১০ জুন) মিরপুর ১১ এলাকার বি ব্লকের ৩ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাসার সামনে একটি ফাঁকা জায়গায় সানির লাশ পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা জানান, হাতকড়া ও গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় লাশটি পড়ে ছিল। সানির মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন খোয়া যায় বলে এজাহারে বলা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, তাকে সকাল ৬টার দিকে হাতকড়া পরিয়ে, দুই পা বেঁধে গলা কাটা হয়।
রুবেল গ্রুপের অন্ধকার জগৎ
সূত্র জানায়, রুবেল আগে পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। পরে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে সে। এক সময় সানি ও রুবেল একসঙ্গে কাজ করলেও পরবর্তীতে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এলাকাবাসী জানায়, বোমা কাল্লু সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে এসেছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তাকে ব্যবহার করা হয়েছে।
ঘটনার আগের দিন সোমবার রুবেল একটি প্রাইভেটকারে করে বোমা কাল্লুকে মিরপুর ১১ এলাকার বাংলা স্কুলের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায়। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ফাজজু নামে আরেকজন মাদক ব্যবসায়ী। এরপর এলাকায় আধাঘণ্টা ধরে শোডাউন করে তারা। পরদিনই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও পুলিশের অবস্থান
ঘটনার পর নিহতের মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে মঙ্গলবার (১০ জুন) পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ল্যাংড়া রুবেল, বোমা কাল্লু, স্বপন, জিন্দা ও টানা আকাশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম বলেন, ‘আসামিদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।’
ওসি ইউএনবিকে বলেন, ‘পেপার সানিকে তার প্রতিপক্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রুপ হত্যা করেছে। এটি দুই পক্ষের মাদক নিয়ন্ত্রণের দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে। নিহত সানির বিরুদ্ধেও থানায় ৮ থেকে ৯টি মামলা ছিল।
নিরাপত্তাহীনতায় এলাকাবাসী
গত ১০ মাস ধরে পল্লবী এলাকার বাসিন্দারা রুবেল গ্রুপের তাণ্ডবে অতিষ্ট। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই গ্রুপের সদস্যরা একের পর এক অপরাধ করলেও, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। পেপার সানির মতো কেউ প্রতিবাদ করলেই তার করুণ পরিণতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ওই এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, এখানে এখন আইনের শাসন নেই। কেবল আছে কিশোর গ্যাং ও মাদক সন্ত্রাস। আমাদের প্রতিদিনই আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। আজ সানিতে হত্যা করা হয়েছে, কাল হয়তো আরেকজনকে করা হবে।
৩২৮ দিন আগে
মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতি, আটক ৩ ডাকাত কারাগারে
ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের তিন নম্বর রোডের প্রবেশ মুখে ডাকাতির প্রস্তুতির নেওয়ার সময় আটক তিন ডাকাতকে উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার(১১ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন, মো. মিজান (৬৫), মো. রাসেল (২৭) ও মো. হাসান (১৯)।
আরও পড়ুন: লাউয়াছড়ায় ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন ভোরে উত্তরা পশ্চিম থানার আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ১৭ থেকে ১৮ জন ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে শলাপরামর্শ করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করে এবং বাকিরা পালিয়ে যায়।
জিজ্ঞাসাবাদের আসামিরা স্বীকার করেন, তারাসহ পলাতক আসামিরা বিভিন্ন স্থান থেকে চাপাতি, চাকু, স্টিলের ধাতব মুষ্টির রিং ও স্টিলের অর্ধ বৃত্তাকার ধারালো অংশ বিশেষ সংগ্রহ করে ঘটনাস্থলসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে এবং সুযোগ বুঝে পথচারী ও বিভিন্ন গাড়ি আটক করে ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল। পরবর্তীতে ১১ জুন এ তিন পলাতক আসামিকে আব্দুল্লাহপুর ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৩২৮ দিন আগে
গোপালগঞ্জ থেকে কাশিমপুর কারাগারে আ.লীগ নেতা সাহাবুদ্দিন
বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজমকে গ্রেপ্তারের পর গোপালগঞ্জ জেলা কারাগার হয়ে ঢাকার কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ জান) রাত ১০টার দিকে বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে বিশেষ নিরাপত্তার মাধ্যমে তাকে ঢাকার কাশেমপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
গোপালগঞ্জ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে চিকিৎসা ভিসায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে গেলে তার পাসপোর্ট লক অবস্থায় পাওয়া যায়। সে সময় খোঁজ নিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশ জানতে পারে, তিনি হত্যাসহ একাধিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গ্রেপ্তার করে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে তাকে বিশেষ নিরাপত্তায় গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অনুশ্রী রায়ের আদালতে তাকে সেনাবাহিনীর ওপর হামলা ও গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর সেখান থেকে সাহাবুদ্দিন আজমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
আরও পড়ুন: ভারতে যাওয়ার সময় গোপালগঞ্জের আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার
গোপালগঞ্জে জেলা কারাগারের জেলার তানিয়া জামান জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে সাহাবুদ্দিন আজমকে ঢাকার কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
জিএম সাহাবুদ্দিন আজম ঢাকার যাত্রাবাড়ি থানার হত্যা মামলা, গোপালগঞ্জের একটি সহিংসতা মামলা এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের ক্রীড়া সম্পাদক দিদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে এজাহারভুক্ত রয়েছেন।
৩২৮ দিন আগে
ভারতে যাওয়ার সময় গোপালগঞ্জের আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার
ভারতে যাওয়ার সময় গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি. এম. সাহাবউদ্দিন আজমকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। তার স্ত্রী সঙ্গে থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গোপালগঞ্জ সদর থানার বিনাপানি গার্লস স্কুল রোডের প্রয়াত মইনদ্দিনের ছেলে।
ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে তিনি তার পরিবার নিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় পাসপোর্ট জমা দেন। তার পাসপোর্টে স্টপ লিস্ট থাকার কারণে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
পরবর্তীতে, তার বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ ও ঢাকার যাত্রাবাড়ি থানায় দুটি পৃথক মামলা থাকায় বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করেন। তার বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন মুন্সী বলেন, “ইমিগ্রেশনে খবর ছিল গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি. এম. সাহাবউদ্দিন আজম বেনাপোল দিয়ে ভারতে যেতে পারে। সেই মোতাবেক সকল অফিসারদের সতর্ক করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বেনাপোল ইমিগ্রেশন ভবনে প্রবেশ করে পাসপোর্ট জমা দিলে অনলাইনে তার স্টপ লিস্ট থাকায় সন্দেহ হলে এক পর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
আরও পড়ুন: নাসিরনগরে দুই পক্ষের সংর্ঘষে আহত ৫০
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাসেল মিয়া জানান, “ইমিগ্রেশনে আটক আওয়ামী লীগ নেতাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ ও ঢাকার যাত্রাবাড়ি থানায় তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, তাকে গোপালগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
৩২৯ দিন আগে
মেহেরপুর সীমান্তে নারী-শিশুসহ ১২ জনকে পুশইন
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১২ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
মঙ্গলবার (১০ জুন) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ৯৭/১ সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে তাদের পুশ ইন করে বিএসএফ। পরে বিজিবি খবর পেয়ে তাদের আটক করে এবং মুজিবনগর থানা পুলিশকে হস্তান্তর করে।
পুশ ইন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার ফুলমতি গ্রামের রহমত আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪২), তার স্ত্রী শাহাজাদী খাতুন (৩০), ছেলে মিরাজ আলী (১৫), একই থানার কবুরামাবুদ গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের স্ত্রী লাভলী খাতুন (৪২), ছেলে হাছেন আলী (২০), বাবুল হোসেন (২৪), বাবুল হোসেনের স্ত্রী জেনমিন খাতুন (২০), ছেলে জহিদ হোসেন (৩), জাকির হোসেন (১), হাছেন আলীর স্ত্রী জান্নাতী খাতুন (১৮), ১০ দিন বয়সী মেয়ে হাসিনা খাতুন, শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আজিজুল ইসলামের ছেলে ইয়াসিন হোসেন (২৫)।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ২০ জনকে পুশইন
পুলিশ জানায়, পুশ ইন হওয়া ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়— কেউ ১০ বছর আগে, কেউ ১৫ বছর আগে ভারতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে বিভিন্ন ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, “পুশ ইন হওয়া ব্যক্তিরা বাংলাদেশি বলে দাবি করছে। আমরা তাদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মুজিবনগর থানায় হস্তান্তর করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। এছাড়া পুশ ইন বিষয়ে আমরা রাঙ্গেরপোতা ১৬১ বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের জন্য চিঠি দিয়েছি।”
৩২৯ দিন আগে