আইনশৃঙ্খলা
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে সিরাজগঞ্জ বিএনপির ১৩ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের বিএনপির ১৩ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক শেখ মো. এনামুল হকের সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়া নেতারা হলেন— জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক দুলাল হোসেন খান, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুল ইসলাম, জেলা বিএনপির তথ্য গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি আয়নুল হক, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা কামাল হোসেন, আমিনুল বারী তালুকদার, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ব্যারিস্টার আব্দুল বাতেন, জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য রহিত মান্নান লেলিন, রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি খায়রুল ইসলাম ভূঁইয়া, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল, সাবেক সদস্য আব্দুল হাশেম মেম্বার, রায়গঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি হাতেম আলী সুজন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম হিরণ ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রুম বাদশা। এছাড়া, বিএনপির সহযোগী সংগঠন—ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আরও ২১ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ জুন তাড়াশ উপজেলার শাহ শরীফ জিন্দানীর (রহ.) মাজার জিয়ারতের সময় নেতাকর্মীরা ‘টুকু ভাইয়ের সালাম নিন, দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিন’—এমন শ্লোগান দেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এটি দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
নোটিশে ১৩ নেতাকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের কাছে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিএনপির সহযোগী সংগঠনের ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, ‘এই ঘটনায় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: খুলনায় এসআইকে মারপিট করে পুলিশে দিল বিএনপির নেতাকর্মীরা
৩৫৮ দিন আগে
খুলনায় শেখ হাসিনাসহ ১৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
খুলনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। দুই বছর আগে বিএনপির দলীয় কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় এ মামলা করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বেলা ১২টার দিকে খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার আবেদন জমা দেন বাদীর আইনজীবী সৈয়দ শামীম হাসান।
আবেদনের বিষয়ে আদালত আজ আদেশ দেবেন বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ জুলাই
শামীম হাসান বলেন, ‘২০২৩ সালের ১৯ মে খুলনা প্রেসক্লাবে বিএনপির কর্মসূচিতে লাঠিচার্জ ও গুলি করে পণ্ড করে দিয়েছিল পুলিশ। এ ঘটনায় বাদী শফিকুল আলম তুহিনসহ ৫০ থেকে ৬০ জন আহত হন এবং ৯ জনকে আটক করা হয়। মামলায় শেখ হাসিনাকে হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।’
এ ছাড়া, মামলার আবেদনে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সাবেক এমপি, মন্ত্রী, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ ১৫৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
৩৫৮ দিন আগে
তিন দিনের রিমান্ডে সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মোস্তফা জামান এই আদেশ দেন।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শামসুজ্জোহা সরকার তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
গতকাল (বুধবার) ঢাকার মগবাজার থেকে কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি দল।
তার দুদিন আগে রবিবার (২২ জুন) আওয়ামী লীগ আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বিএনপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
আরও পড়ুন: সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল গ্রেপ্তার
অভিযোগে সাবেক সিইসি কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ, কেএম নূরুল হুদা এবং কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
এর আগে, রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরা থেকে আরেক সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকেও তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর সোমবার (২৩ জুন) তাকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার একটি আদালত।
৩৫৮ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা মামলা: তদন্তে অভিযুক্ত ৩০ জন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউসনের কাছে জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এতে ৩০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম প্রতিবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই করে আগামী রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনাল-২-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে বলে আশা করছি।’
আরও পড়ুন: আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ
এর আগে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালে এই মামলার চার আসামিকে ট্র্যাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এরপর আসামিদের মধ্যে পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে ১৮ জুন এবং বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশকে ১৯ জুন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্র্যাইব্যুনাল-১।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে সারা দেশে যখন আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, তার মধ্যে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদেই সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।
৩৫৮ দিন আগে
ময়মনসিংহে মার্কেট মালিকের বিরুদ্ধে মোবাইলের দোকান থেকে মালামাল লুটের মামলা
ময়মনসিংহ শহরের একটি মোবাইলের দোকান থেকে সম্প্রতি মালামাল লুটের ঘটনায় মামলা করেছেন একজন ব্যবসায়ী।
কোতোয়ালি মডেল থানা মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে মামলাটি গ্রহণ করে।
গত ২০ জুন মালামাল লুটের ঘটনার পর মামলা করতে গেলেও শুরুতে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন আতিকুর রহমান খান।
এ ব্যবসায়ীর ভাষ্য, হারুন টাওয়ার নামের যে মার্কেটে তার দোকান, সেখানকার মালিক গোলাম আম্বিয়া হারুনের প্রভাবে এতদিন মামলা নেয়নি কোতোয়ালি মডেল থানা।
কী আছে মামলার এজাহারে
আতিকুর রহমান খান কোতোয়ালি মডেল থানায় মার্কেট মালিক হারুনসহ ১০ থেকে ১২ জনের নামে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আতিকুর ২০০৬ সালের এপ্রিল থেকে ময়মনসিংহ শহরের ৭ নম্বর সি কে ঘোষ রোডে হারুন টাওয়ারের নিচ তলায় ‘সাঈম টেলিকম’ নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। তিনি আট লাখ টাকায় ৫ নম্বর দোকানটির পজেশন কেনেন। এ ছাড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করেন।
আরও পড়ুন: মব জাস্টিস এখন মানবতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: তারেক রহমান
এতে বলা হয়, ১৮ জুন মার্কেট মালিক হারুন জানান, ১৯ জুন হারুন টাওয়ারের নিচতলার সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। সে কথা অনুযায়ী তিনি দোকানটি বন্ধ রাখেন। পরবর্তী সময়ে ১৯ জুন তিনি জানতে পারেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ দিয়ে মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। এ খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি মার্কেটে গিয়ে হারুনের দেখানো মতে ১৩টি দোকানের উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু দেখেন।
ব্যবসায়ীর এজাহারে উল্লেখ করা হয়, উচ্ছেদের বিষয়ে হারুনের সঙ্গে কথা বললে তাকে জানানো হয়, যারা নিয়মিত ভাড়া দিচ্ছেন, তাদের দোকান উচ্ছেদ করা হবে না এবং তিনি যেন বাড়িতে চলে যান। সে কথা অনুযায়ী তিনি বাড়িতে চলে যান, কিন্তু পরের দিন ২০ জুন মাগরিবের নামাজের পর তিনি খবর পান, হারুনসহ অভিযুক্তরা তার দোকানের সব মালামাল নিয়ে যাচ্ছেন। এ খবরের ভিত্তিতে তিনি মার্কেটের সামনে গিয়ে মালামাল নিয়ে যেতে দেখেন।
তার অভিযোগ, মার্কেটের সামনের কলাপসিবল গেটের তালা বন্ধ করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় বাইরে থেকে ডাকাডাকি করলেও কর্ণপাত করেননি অভিযুক্তরা। তারা গেটও খোলেননি। এ ছাড়া অভিযুক্তরা দোকান মালিককে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চলে যেতে বলেন।
আতিকুর রহমান খান উল্লেখ করেন, ২০ জুন বিকাল ৩টা থেকে তার দোকানের শাটার, সাইনবোর্ড ও আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রকাশ্যে মালামাল নিয়ে যান অভিযুক্তরা। এসব পরিস্থিতি দেখে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
দোকান থেকে মোবাইল, এক্সেসরিজ, আসবাবপত্রসহ মোট ৮৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫৩ টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ করেন স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান খান।
এ ছাড়া হারুনসহ অন্যরা দোকান ভাড়া পরিশোধের রসিদ, তিনটি ব্যাংকের চেকবই, বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তিপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন এ ব্যবাসয়ী।
জানতে চাইলে হারুন টাওয়ারের মালিক গোলাম আম্বিয়া হারুন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তোলা হয়েছে।’
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘ওই ঘটনার কথা শুনেছি। একটি মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
৩৫৮ দিন আগে
সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় ঢাকায় গ্রেপ্তার ৩
রাজধানীর মিরপুরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ।
গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন যুবলীগ নেতা জিএম ওয়াহিদ পারভেজ এবং দুই যুবক সাগর বিশ্বাস (২৫) ও মো. আপন (২০)।
বুধবার (২৫ জুন) ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার তালেবুর রহমান জানান, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ২২ ও ২৩ জুন রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারবিরোধী মিছিলের নেতৃত্ব দেন জিএম ওয়াহিদ পারভেজ। আজ মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, আজ দুপুর আড়াইটার দিকে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে সিটিটিসির আরেকটি দল সাগর বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের ভাষ্য, সাগর একজন চিহ্নিত অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী এবং ছিনতাইকারী।পরে সাগরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ হাউজিং এলাকা থেকে মো. আপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উভয়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা রয়েছে বলে জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, `গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।'
৩৫৯ দিন আগে
সাবেক সিইসি নুরুল হুদাকে জুতাপেটার মামলায় হানিফসহ ৩ জনের জামিন
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাকে জুতাপেটা করার ঘটনায় গ্রেপ্তার উত্তরা পশ্চিম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. হানিফের (৩৮) জামিন মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত। বুধবার (২৫ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহ এ আদেশ দেন।
এছাড়াও এদিন মামলার আরও দুই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। তারা হলেন- মামলার প্রধান আসামি মোজাম্মেল হক ঢালী ও উত্তরা পূর্ব থানা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কাইয়ূম।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালতের উত্তরা পশ্চিম থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান খান।
গতকাল মঙ্গলবার (২৪ জুন) হানিফকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামানের আদালত। এদিন আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল গ্রেপ্তার
এর আগে সোমবার রাতে সেনাবাহিনীর একটি দল হানিফকে উত্তরা এলাকা থেকে আটক করে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন রাজধানীর উত্তরার বাসায় ঢুকে একদল লোক নুরুল হুদাকে বের করে আনেন। জুতার মালা পরিয়ে তাকে হেনস্তা করে পুলিশে সোপর্দ করেন। জুতা দিয়ে নুরুল হুদাকে আঘাত ও ডিম নিক্ষেপ করেন। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ২৪ জুন উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক সজীব হাসান বাদী হয়ে মামলা করেন।
উল্লেখ্য, সোমবার (২৩ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান কে এম নুরুল হুদার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
৩৫৯ দিন আগে
শুধু মাদকের বাহকদের নয়, গডফাদারদেরও ধরতে হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আমরা শুধু মাদকের বাহকদের ধরছি৷ শুধু বাহকদের ধরলে হবে না৷ এদের গডফাদারদের ধরতে হবে৷’
বুধবার (২৫ জুন) মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে ৩২টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ শেষে প্রেস ব্রিফিং তিনি এসব কথা বলেন৷
উপদেষ্টা প্রতিনিধিদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার মাদক নিরাময় কেন্দ্র দেওয়া হলো৷ জনবল বাড়ানো হলো৷ আপনারা হাতিয়ার চাইলেন সেটাও দেওয়া হলো৷ এবার মাদকের গডফাদারদের ধরতে হবে৷ শুধু বাহকদের ধরে কোনো লাভ হবে না।
আরও পড়ুন: সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল গ্রেপ্তার
তিনি আরও বলেন, ‘একটি দেশের বাহিনী সীমান্তের মাদক পাচারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করছে৷ এখান থেকে আয় করে তারা ঘর সংসার চালাচ্ছে৷ এটা কিভাবে বন্ধ করা যায় চেষ্টা করছি৷’
আমরা পুরোপুরি সফল হয়েছি বিষয়টা তা নয়৷ তবে আমরা চেষ্টা করছি৷ আজকাল অনেক বদি (কক্সবাজারের ইয়াবাসম্রাট হিসেবে কুখ্যাত সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমান বদি) তৈরি হয়ে গেছে৷ তাদের কিভাবে ধরা যায়, সেটাই চেষ্টা করছি।
৩৫৯ দিন আগে
বিডিআর বিদ্রোহ: গোয়েন্দা সংস্থার চরম ব্যর্থতার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিশন
জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এ এল এম ফজলুর রহমান বলেছেন, ২০০৯ সালের ২৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চরম অবহেলা এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যর্থতার কথা কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে।
বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় নতুন ভবনে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিদ্রোহ চলাকালে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো নিষ্ক্রিয় ছিল, যার সুযোগে হত্যাকাণ্ডসহ ভয়াবহ অপরাধ সংগঠিত হয়।
কমিশনের তথ্যমতে, তদন্তে এখন পর্যন্ত ১৫৮ জন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তির সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৫০ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার কথা রয়েছে। এরমধ্যে তদন্তের খসড়া প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে, যা কমিশনের সদস্যরা পর্যালোচনা করছেন।
এ ছাড়া, বিদেশি দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এজন্য চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমার সময় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘মিলিটারি অ্যাকশন শুরু হলে এত বড় প্রাণহানি, নৃশংসতা ও সহিংসতা এড়ানো যেত। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছেও বিদ্রোহের আগে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল, কিন্তু তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
আরও পড়ুন: সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল গ্রেপ্তার
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের অজুহাত দিয়ে প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ সময় গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতার পাশাপাশি তৎকালীন দুটি তদন্ত কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তিনি।
তিনি বলেন, “বিদ্রোহের প্রকৃত রহস্য আড়াল করতে পুরনো দুটি তদন্ত কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাটিকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া কয়েকটি বক্তব্যে বিদ্রোহের সঙ্গে বিদেশি সংশ্লিষ্টতার বিষয় উঠে এসেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
২০০৯ সালের ২৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর সদরদপ্তরে সংঘঠিত বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
ওই ঘটনার পর হত্যা ও বিস্ফোরণ আইনে করা মামলায় ১৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। এ ছাড়া, আরও অন্তত ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
৩৫৯ দিন আগে
সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল গ্রেপ্তার
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আওয়ামী লীগ আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগে রবিবার (২২ জুন) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বিএনপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
অভিযোগে সাবেক সিইসি কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ, কেএম নূরুল হুদা এবং কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
এরপর সেদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরা থেকে এ কে এম নূরুল হুদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর সোমবার (২৩ জুন) তাকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার একটি আদালত।
আরও পড়ুন: সাবেক সিইসি নুরুল হুদার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
সাবেক সিইসি হুদার গণপিটুনিকে সমর্থন করে না বিএনপি: সালাহউদ্দিন
৩৫৯ দিন আগে