শিক্ষা
বন্যায় স্থগিত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২৭ জুলাই
বন্যার কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২৭ জুলাই থেকে শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন ৫ জেলায় গত ৮ জুলাইয়ের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পরে ১৬ জুলাই পর্যন্ত সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরপর চট্টগ্রাম বোর্ডের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
তবে, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে গত ১৩ জুলাই দেশের বাকি আটটি শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্র পরীক্ষা নেওয়া হয়।
মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী ২৭ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাগুলো আগের রুটিন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জানান, স্থগিত পরীক্ষাগুলোর জন্য নতুন সময়সূচি প্রণয়ন করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নতুন সূচি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, যারা বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা যারা দিতে পারেননি, তারা নিবন্ধন করে পরীক্ষা দিতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর লেখাপড়া ও ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আমরা সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। স্থগিত পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার পাশাপাশি যারা বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুপস্থিত ছিল, তাদের জন্যও পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
১১ দিন আগে
শিক্ষার্থীকে মারধর: শাবিপ্রবি ছাত্রদলের ২ নেতা বহিষ্কার, দুই বছর ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) হলের খাবারের মান নিয়ে কথা বলায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে তারা দুই বছর ক্যাম্পাসে অবস্থান ও প্রবেশ করতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১০টায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক জহির বিন আলম।
বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন— পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং পরিসংখ্যান বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের শাখা সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। তারা শাহপরান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে গত রবিবার (১৯ জুলাই) তাদের দুজনকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক জহির বিন আলম বলেন, ‘তদন্ত ও শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা দুই বছর পর নিয়মিত শিক্ষার্থী হলেও আবাসিক হলের শিক্ষার্থী হতে পারবে না।’
এছাড়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিযোগ করায় গত ১৮ জুলাই শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে উঠে শাখা ছাত্রদলের ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাহপরাণ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। মারধরের পর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
১২ দিন আগে
চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ে অপপ্রচার, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান
আগামী ২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এমন বিজ্ঞপ্তিকে সম্পূর্ণ অসত্য, ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। এই ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা বিজ্ঞপ্তি বোর্ডের পক্ষ থেকে জারি করা হয়নি বলে পরিষ্কার জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি’-এর নাম ব্যবহার করে একটি বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২৭ জুলাইয়ের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুসারেই অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি নজরে আসার পর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি স্পষ্ট করেছে যে, এই সংবাদটি সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এই অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির কোনো সম্পর্ক বা সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসত্য তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি সকল পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, পরীক্ষার কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সাধারণ জনগণকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত যেকোনও তথ্য সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়া কেউ যেন বিশ্বাস বা শেয়ার না করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি জানিয়েছে, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-সংক্রান্ত সকল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সময়সূচির পরিবর্তন, নতুন বিজ্ঞপ্তি ও যেকোনো নির্দেশনা শুধুমাত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডসমূহের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নিয়মিত প্রকাশ করা হয়।
জনস্বার্থে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের যেকোনো ভুয়া ও গুজব সৃষ্টিকারী তথ্য প্রচার থেকে সকলকে বিরত থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১৩ দিন আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ লাখ টাকার দুটি ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠা
শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও গবেষণা সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ লাখ টাকার দুটি ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে সোমবার (২০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে ২০ লাখ টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়।
উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম তালুকদার, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শফিউল আলম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসতিয়াক এম. সৈয়দ, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনশী শামস উদ্দিন আহম্মদ এবং দাতা সদস্য ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ ও আফরোজা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এর মধ্যে ‘ড. মাজিদ স্কলারশিপ ট্রাস্ট ফান্ড’ প্রতিষ্ঠার জন্য ১০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এই ট্রাস্ট ফান্ডের আয় থেকে প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিএস (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী দুই শিক্ষার্থীকে এমএস শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় এককালীন ৪০ হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ‘রোজি আনোয়ারা মাজিদ ট্রাস্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রতিষ্ঠার জন্য আরও ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এই তহবিলের আয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের বিএসসি (সম্মান) শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মেধাবী ও অসচ্ছল দুই শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য মাসে তিন হাজার টাকা হারে গবেষণা বৃত্তি দেওয়া হবে। এ হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষার্থী মোট ৩৬ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় দাতা সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে এগিয়ে আসছেন, যা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং অন্যান্য প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে।
উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অগ্রযাত্রায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে অ্যালামনাইদের সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গবেষণা অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতির সংরক্ষণ ও গবেষণা তহবিল বৃদ্ধিতে তাদের সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
১৪ দিন আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাবি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (২০ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটির সুপারিশ অনুসারে গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
এদিকে, ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে উপজীব্য করে সংকলন প্রকাশ, সেমিনার, স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা।
এ উপলক্ষে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ‘জুলাই স্মৃতিকথন’ শীর্ষক বিশেষ সংকলন প্রকাশ করবে।
এছাড়া বিভিন্ন আবাসিক হল জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করবে। এর মধ্যে শামসুন নাহার হল ২৬ জুলাই, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও ফজলুল হক মুসলিম হল ২৪ ও ২৫ জুলাই, রোকেয়া হল ৩০ জুলাই, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ২৫ জুলাই, শেখ মুজিবুর রহমান হল ১ থেকে ৪ আগস্ট, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ২৪ জুলাই, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ২৫ জুলাই, অমর একুশে হল ২৩ থেকে ২৫ জুলাই, বিজয় একাত্তর হল ২৩ জুলাই, নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী ছাত্রী নিবাস ২২ জুলাই এবং ড. কুদরাত-ই-খুদা হোস্টেল ৫ আগস্ট জুলাই অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
১৪ দিন আগে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭ জুলাইয়ের পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন
অনিবার্য কারণবশত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের অনার্স প্রথম বর্ষের একটি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। পরিবর্তিত এ সূচি ২১১৫২১ ও ২১১৫০১ পত্রকোডের পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষার পূর্বঘোষিত কেন্দ্র, সময়সূচি এবং অন্যান্য সব শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।
পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
১৪ দিন আগে
ট্রল করে, অপবাদ দিয়ে দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল করে কিংবা অপবাদ দিয়ে দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষা ভাবনাকে বাদ দিয়ে যারা উশৃঙ্খল কথাবার্তার মাধ্যমে সমাজকে উসকানি দিতে চান, তরুণ প্রজন্ম তাদের ব্যর্থ করে দেবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী শহরের বরুনকান্দি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচন করেন।
সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে যারা ট্রল করল, তারা কেউ পরীক্ষার্থী না। সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, ভিকারুননেসার মতো প্রতিষ্ঠানের কাউকে দেখেনি আন্দোলন করতে। এইভাবে আন্দোলন করে মিসগাইডেড করে কি একটা হ্যাভক (বিশৃঙ্খলা) সৃষ্টি করা হলো।’
তিনি বলেন, ‘স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা এসেছি, এই জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব পেয়েছি। যে যত ট্রলই করেন না কেন, যত অপবাদই দেন না কেন, আমাদের সঠিক দায়িত্ব থেকে আপনারা বিচ্যুত করতে পারবেন না। শিক্ষা ভাবনাকে বাদ দিয়ে যারা উশৃঙ্খল কথা বলে সমাজকে উস্কানি দিতে চায়, আমাদের এই তরুণ প্রজন্ম তাদের ব্যর্থ করে দেবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলাম। আজকে তারই জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের অধীনে আমি দায়িত্ব পালন করছি। কী করে ভাবতে পারেন যে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হবে? নিশ্চয়ই না।’
সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্বে অটল থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা আপনাদের দায়িত্বে অটল থাকুন। লেখাপড়া আমাদের করতেই হবে এবং তার মান আমাদের উন্নয়ন করতেই হবে।’
সম্প্রতি কুমিল্লায় এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থেই মানবিক বিবেচনায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ানোর বিষয়ে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পরীক্ষা ছাড়া মেধার মূল্যায়ন ও সনদ প্রদান সম্ভব নয়।
ড. মিলন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ যেন পড়াশোনা করতে বাংলাদেশে আসে, সেভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অনেক মেধাবী। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যেই সরকার উচ্চশিক্ষাকে নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নিতে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
১৬ দিন আগে
এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে সরকারের ৫ উদ্যোগ তুলে ধরলেন মাহ্দী আমিন
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সরকারের নেওয়া পাঁচটি শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব উদ্যোগের কথা জানান।
মাহ্দী আমিন বলেন, আজ চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত সারা দেশে ২,৫৮৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও যথেষ্ট উদ্দীপনা ও উৎসাহ নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা গ্রহণে জটিলতা নিরসনে নির্বাচিত সরকার সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
‘এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে শিক্ষার্থীবান্ধব ৫টি উদ্যোগ’ শিরোনামের ওই পোস্টে তিনি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।
প্রথম উদ্যোগ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সারা দেশের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ, এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে, বিপুলসংখ্যক সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীর স্বার্থকে প্রধান্য দিয়ে, সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া সারা দেশে পরীক্ষা চালু রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয় উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধিসহ যে কোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় উদ্যোগে বলা হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, সেই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন পরীক্ষাপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
চতুর্থ উদ্যোগ হিসেবে তিনি জানান, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নের জন্য সকল পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
পঞ্চম উদ্যোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ী ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে মাহ্দী আমিন আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসি শুধু একটি পরীক্ষা নয়; এটি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগরদের ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এ কারণে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনায় সচেষ্ট রয়েছে। সেই পথযাত্রায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম অগ্রাধিকার।’
১৯ দিন আগে
দুর্যোগে পরীক্ষা দিতে না পারা এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পুনঃপরীক্ষার সুযোগ পাবে: শিক্ষামন্ত্রী
বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব শিক্ষার্থী চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়ার এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, এ বছর সারা দেশের দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও দেশের কয়েকটি জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া ও অন্যান্য অনিবার্য কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন পরীক্ষাপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
তিনি বলেন, যেহেতু এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, তাই বিশেষ বিবেচনায় এই বিশেষ সুযোগ প্রদান করা হলো।
বিবৃতিতে মন্ত্রী আরও জানান, পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি আবারও আশ্বস্ত করছি, পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে যে ভুল হয়েছে, তার জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।’
১৯ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত’ শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের প্রত্যয় মাহ্দী আমিনের
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের ‘বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত’ শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, সাতটি জেলা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসেছে। ‘এই ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি যে আবেগ, উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসা, এটিই প্রমাণ করে যে একজন জনগণের নেতা যখন রাষ্ট্র পরিচালনায় আসেন, কীভাবে তিনি দেশের মানুষের ভাগ্যকে বদলে দিতে পারেন। ইনশাআল্লাহ, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সেই রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এবং তার হাতকে শক্তিশালী করে বাংলাদেশের বিপর্যস্ত, লুণ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তুলব। সবাই মিলে বিনির্মাণ করব এমন একটা শিক্ষাব্যবস্থা, যেখানে শিক্ষার্থীরা হবে আগামী বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর, মূল অগ্রদূত।’
তিনি বলেন, আমরা চাই এমন একটা শিক্ষাব্যবস্থা, যেখানে প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা, বিরূপ প্রকৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে আমাদের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করবে, আগামীর বাংলাদেশের কান্ডারী তারাই। প্রধানমন্ত্রী যে সমৃদ্ধ এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকল্প চেয়েছেন, সেটি তাদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আজ দেশের প্রতিটি জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে। ‘এখানে যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ দেখলাম, সেগুলোতে কিন্তু আমাদের সেই শিক্ষার্থীরাই অংশগ্রহণ করেছে যারা সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে উঠে এসেছে। আজ দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে বন্যাকবলিত সাতটি জেলার শিক্ষার্থীরাও প্রবল বন্যা ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছোট্ট ছোট্ট শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ জেলার স্বাতন্ত্র্য, সাফল্য ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে উপস্থিত হয়েছে। তাদের এই উপস্থিতি শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতির পাশাপাশি প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য মানসিকতারও এক অনন্য প্রতিফলন।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে একটি উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, যার প্রতিফলন নির্বাচনি ইশতেহারেও রয়েছে। ‘তার একটি প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আজকে প্রায় ৬৫ হাজার স্কুলে একসঙ্গে আমরা প্রায় দুই লাখ বৃক্ষরোপণ করেছি। এই বৃক্ষরোপণ সমাপ্ত হবে না। আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ স্কুলে এই বৃক্ষগুলোকে পরিচর্যা করবে।’
মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা চাই এমন একটা শিক্ষাব্যবস্থা যেখানে মানবিক মূল্যবোধ থাকবে। যেখানে শিক্ষার্থীরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তারা বাংলাদেশের যে পতাকা সেটি আমাদের বাংলাদেশের ভূখণ্ড ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে প্রসারিত করবে, আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আজকে আমাদের যে শিক্ষাব্যবস্থা সেখানে কিন্তু সবচাইতে বড় ভূমিকা ছিল শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের। আমাদের যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম রয়েছে গণশিক্ষা, সে গণশিক্ষা কিন্তু শহিদ জিয়ার হাত ধরে সারা বাংলাদেশজুড়ে ছড়িয়ে গিয়েছিল। আজকে যে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্ব আমরা করছি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সেটি কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে শুরু হয়েছিল। আর আমাদের আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সুদীর্ঘ রাজনীতিতে তিনি বারবার তৃণমূলে ছুটে গিয়েছেন, বারবার ছুটে গিয়েছেন প্রান্তিক এলাকায় এবং নিশ্চিত করতে চেয়েছেন সব জায়গাতেই অবশ্যই ভালো শিক্ষক থাকতে হবে। অবশ্যই ভালো শিক্ষার্থী থাকতে হবে, অবশ্যই ভালো কারিকুলাম থাকতে হবে।
বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব যারা করবে, আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব যারা দেবে, সেই শিক্ষার্থীদের যার যেই সাবজেক্ট পড়তে ভালো লাগে, যার যেই ফিল্ডে ভালো করতে ইচ্ছা হয়, রাষ্ট্রের দিক থেকে, সরকারের দিক থেকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব।
তিনি বলেন, আমরা চাই প্রধানমন্ত্রীর যে ভিশন রয়েছে, তার আলোকে সারা বছরজুড়ে সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সন্নিবেশের মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশজুড়ে সে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেরা শিক্ষার্থীরা, মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভা এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন পাবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, ইতোমধ্যে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের ভেতরে আমরা ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটা ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আগামীতে প্রাইম-মিনিস্টার্স ফুটবল গোল্ড কাপের জন্য তিনি আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করবেন।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই শিক্ষা পদক অনুষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে বছরের পর বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে এবারের আয়োজনটি বিশেষভাবে ভিন্নমাত্রা বহন করছে। কারণ, গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছেন, তার অন্যতম ভিত্তি হলো তৃণমূলের ক্ষমতায়ন। দেশের একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর লক্ষ্য, স্বপ্ন ও এগিয়ে যাওয়ার অভিযাত্রাকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি ও মূল্যায়নের মাধ্যমে আজকের এই অনুষ্ঠানে সেই দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন আমরা প্রত্যক্ষ করছি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৯ দিন আগে