শিক্ষা
জাকসুকে ‘রাজনৈতিক স্বার্থে’ ব্যবহারের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদকে (জাকসু) রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন একদল সচেতন শিক্ষার্থী।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকাল ৪টার দিকে স্মারকলিপিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতির বরাবর দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও স্বার্থ রক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাকসু সবসময় নিরপেক্ষ ও সম্মানজনক অবস্থানে থাকবে—এমন প্রত্যাশা সাধারণ শিক্ষার্থীদের। তবে সম্প্রতি জাকসুকে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের একাধিক অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাকসুর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা ও প্রত্যাশার জায়গাতেও আঘাত হানছে। জাকসু কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ রক্ষার প্ল্যাটফর্ম নয়; বরং এটি সকল শিক্ষার্থীর অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা জাকসুর নাম, প্যাড ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ, এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জাকসুর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং জাকসুর মর্যাদা ও শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আ ফ ম কামালউদ্দিন হল সংসদের ভিপি জিএমএম. রায়হান কবীর বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে জাকসুর নাম ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যে ন্যক্কারজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে, তা শুধু নিন্দনীয়ই নয় বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সচেতন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে জাকসুকে তার স্বকীয়তা ও নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাই।’
জাকসুতে ছাত্রদল মনোনীত নারী এজিএস প্রার্থী আঞ্জুমান ইকরা বলেন, ‘সম্প্রতি “গণভোট অস্বীকার ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি” শিরোনামে যে কর্মসূচি জাকসুর ব্যানারে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি জাকসুর ক্ষমতার সীমা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। এটি কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে, নাকি একটি রাজনৈতিক অবস্থান চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা?’
তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, শিক্ষার্থীদের বাস্তব দাবি, অধিকার আদায়, এবং ক্যাম্পাসভিত্তিক সমস্যাগুলোর সমাধানে জাকসুর দৃশ্যমান ভূমিকা এখনও অনুপস্থিত।’
জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ‘জাকসু নির্বাচনের পর থেকে একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক স্বার্থে জাকসুকে ব্যবহার করছে এবং জাকসুর নামে এমন কার্যক্রম পরিচালনা করছে যা ছাত্রশিবিরের কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন বলে মনে হচ্ছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, জাকসুর ব্যানারে আয়োজিত “সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রে প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ” শীর্ষক সেমিনারের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রশাসনকে দ্রুত কর্মসূচি বন্ধের আহ্বান জানান, অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কঠর আন্দোলনের হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
১১৭ দিন আগে
এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে শিক্ষকের শূন্যপদ ৬০ হাজার ২৯৫: শিক্ষামন্ত্রী
বর্তমানে সারা দেশে এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজগুলোতে মোট ৬০ হাজার ২৯৫টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে এনসিপির সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সব মিলিয়ে এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজগুলোতে শিক্ষকের ৬০ হাজার ২৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া সরকারি কলেজগুলোতে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের অধীনে ৬৬৬টি প্রভাষকের পদ শূন্য আছে। সম্প্রতি জাতীয়করণ করা কলেজগুলোতে ২ হাজার ৪১০টি নন-ক্যাডার প্রভাষকের পদ খালি রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজগুলোতে ১ হাজার ৩৪৯টি অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদ বর্তমানে শূন্য। পাশাপাশি, এমপিওভুক্ত কলেজগুলোতে ১ হাজার ৩৪৪টি শূন্য পদের বিপরীতে বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এহছানুল হক মিলন বলেন, শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারি কলেজগুলোতে প্রভাষক নিয়োগের প্রক্রিয়া ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম, ৪৯তম এবং ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ লক্ষ্যে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের জন্য ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পদগুলো পূরণে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধানদের ১১ হাজার ১৫১টি শূন্য পদ পূরণের জন্য অষ্টম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৬ (সংশোধিত)-এর আয়োজন করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
চলমান এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শূন্য পদগুলো পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
১১৭ দিন আগে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে সেই কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে। অনলাইনেও ক্লাস নেওয়া হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত হবে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে। এর আগে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
তিনি আরও বলেন, সম্ভবত অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পর মন্ত্রিসভা বৈঠকে যাবে। মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংবাদ সম্মেলন করবে। এর মাঝে আমাদের বলার কিছু থাকবে না।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, আমরা আলোচনা করছি অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোকে উৎসাহিত করার। যেহেতু বিশ্বব্যাপী সংকট (জ্বালানি সংকট), তার মানে বাংলাদেশেও সংকট। আমরা কেউ জানি না, কতদিন এই সংকট চলবে। সে কারণে আমরা দেশের স্কুলব্যবস্থাকে অনলাইন ও সশরীর—এই মিশ্র পদ্ধতিতে আনার কথা ভাবছি।
সাধারণত প্রতি বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। সেই হিসাবে পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠক আগামী ৯ এপ্রিল।
গত বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) মন্ত্রিসভা বৈঠকে জ্বালানি সাশ্রয়ে অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। এটি আজ (রবিবার) থেকে কার্যকর হয়েছে। একইসঙ্গে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধেরও সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কিনতে ঋণ দেওয়া বন্ধ, জ্বালানি বরাদ্দের ৩০ শতাংশ কমানোসহ আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে। কারণ, এ বিষয়ে কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার দরকার আছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী রবিবার থেকে স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান–সংক্রান্ত আলাদা নির্দেশনা দেওয়া শুরু করবে। তবে শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, তা বিবেচনায় রাখা হবে।
১২০ দিন আগে
স্কুলে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় ব্রিটিশ কাউন্সিল চালু করল বৈশ্বিক ‘সেফগার্ডিং টুলকিট’
স্কুলে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন অনেক কষ্টসাধ্য। কেননা অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা দ্রুত পরিবর্তনশীল ঝুঁকি খুব সহজে শনাক্ত করা যায় না। এর মধ্যে রয়েছে সহপাঠীদের দ্বারা হওয়া ক্ষতি, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে করা হয়রানি। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় ইউনিসেফের সহায়তায় ব্রিটিশ কাউন্সিল একটি নতুন বৈশ্বিক ‘সেফগার্ডিং টুলকিট’ চালু করেছে। এর লক্ষ্য হলো স্কুলগুলোতে ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করা, পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সুরক্ষার অভিন্ন চর্চা নিশ্চিত করা।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ১৫ কোটি শিক্ষার্থী স্কুল বা তার আশপাশে সহপাঠীদের কাছ থেকে কোনো না কোনোভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এছাড়া, ইউনিসেফ ও আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা (আইটিইউ)-এর তথ্যমতে, বিশ্বের প্রতি তিন জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে একজন শিশু। ফলে অনলাইনে শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকি বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সাতজন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে একজন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে, যা প্রায়ই স্কুলের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।
ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, ‘সুরক্ষা কেবল ব্যক্তিগত অনুমান বা বিশেষ অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতে পারে না। এটি প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হতে হবে। নির্দিষ্ট দায়িত্ব, তথ্যের সঠিক নথিভুক্তকরণ এবং স্বচ্ছ ধাপগুলো বজায় রাখার মাধ্যমে সমস্যাগুলো শুরুতেই শনাক্ত করা সম্ভব এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এই টুলকিট মূলত স্কুলের সুরক্ষা নীতিকে প্রতিদিনের অভ্যাসে রূপান্তর করতে সহায়তা করবে।’
ইউনিসেফ স্পেনের চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার আলমোদেনা ওলাগুইবেল বলেন, ‘সেফগার্ডিং টুলকিটটি ব্রিটিশ কাউন্সিল ও ইউনিসেফের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। কার্যকর সুরক্ষা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ওপর নয়, বরং সুসংগঠিত ও শক্তিশালী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান সময়ে সুরক্ষা সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলো যত জটিল এবং কম দৃশ্যমান হয়ে উঠছে, ততই প্রস্তুতি, স্পষ্টতা এবং স্কুল-সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সম্মিলিত দায়িত্ববোধ অত্যন্ত অপরিহার্য হয়ে উঠছে।’
টুলকিটটি স্কুলের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যক্তিগত বিচার-বুদ্ধির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করবে। এটি সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বগুলো পরিষ্কার করবে, তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করবে এবং যৌথভাবে নির্ধারিত মানদণ্ড ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার পথনির্দেশনা দেবে। এছাড়া শিশুদের সুরক্ষা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের আচরণ আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
অনলাইন গ্রুমিং, হয়রানি, জালিয়াতি এবং এআই ব্যবহার করে তৈরি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওয়ের মতো অনলাইন ঝুঁকিগুলোর মোকাবিলায় এই টুলকিট স্কুলগুলোকে সহায়তা করবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বড় আকার ধারণ করার আগেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি দিকনির্দেশনা দেবে।
বিশ্বজুড়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ২ হাজার ৫০০টিরও বেশি সহযোগী স্কুলে এই টুলকিট চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থী সরাসরি সুরক্ষার আওতায় আসবে। স্থানীয় আইন ও প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রাখতে স্কুলগুলোকে সহায়তা করবে।
১২৫ দিন আগে
চাঁদপুরে ঈদে শোকের ছায়া নিয়ে বাড়ি ফিরলেন জাবির খাদিজা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজা (২৫) সাভারে রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের পর চাঁদপুরে নিজ বাড়িতে ফিরলেন শোকের ছায়া নিয়ে। ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে পরিবারের কাছে ফেরার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিথর দেহ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে আছরের নামাজের পর জানাজা শেষে তার মরদেহ কচুয়ার তেতৈয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত খাদিজা কচুয়া উপজেলার ৬ নম্বর কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের তেতৈয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাহজাহান মোল্লার মেয়ে ছিলেন। জাবির লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের তিনি আবাসিক ছাত্রী ছিলেন।
এদিকে, ঈদের আনন্দের সময় এমন মর্মান্তিক ঘটনায় কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া গ্রামসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গ্রামের প্রতিবেশিরা জানান, খাদিজা খুবই মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের মেয়ে ছিলেন। পরিবারের স্বপ্ন ছিল উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ শেষে দেশের নামকরা মানুষ হবে খাদিজা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সাভারের ইসলামনগর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফাহিম আল হাসান (২২) নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা।
এ হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।
এর আগে, এ ঘটনায় নিহত খাদিজার চাচা মনিরুল ইসলাম (৪৬) বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মনিরুল ইসলাম মামলার এজাহারে অভিযোগ করে বলেন, শারমিন জাহান খাদিজার সঙ্গে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম আল হাসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তারা গত ২৪ জুন ইসলামি শরিয়ত মেনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর আমাদের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়।
মামলার এজহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সেপ্টেম্বর মাস থেকে আশুলিয়া থানার ইসলামনগর জামে মসজিদ-সংলগ্ন জনৈক সুপ্তদের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়া বসবাস করেছিলেন তারা। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই উভয়ের দাম্পত্য জীবনে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে কলহ সৃষ্টি হয়। কলহের বিষয়টি খাদিজা তার বাবা ও মাকে জানিয়েছিলেন।
মনিরুল ইসলাম বলেন, চতুর্থ তলা বাড়িটির নীচ তলার বাম পাশের রুমে ঢুকে খাদিজাকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তখন আমি আশপাশের লোকজনের সহায়তায় আমার ভাতিজিকে চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, মর্গে মরদেহ পাঠানোর আগে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। খাদিজার কপালের ডান পাশে, মাথার ওপরে গভীর কাটা রক্তাক্ত জখম দেখা যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে জানতে পারি, আসামি ফাহিম সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভাড়া বাসায় ফিরে যান। এই সময়ের মধ্যেই ফাহিমসহ অজ্ঞাতনামারা পরস্পরের যোগসাজশে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা করেন।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ইসলামনগর গ্রামের একটি ভাড়া বাড়িতে নৃশংসভাবে খুন হন জাবির লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (৫১তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজা।
১৩৯ দিন আগে
স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল, ২০২৭ থেকে ফিরছে ভর্তি পরীক্ষা
দেশের সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে আর লটারি পদ্ধতি থাকছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (১৬ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে ভর্তিতে পরীক্ষা নেব। তবে খুব জটিল কোনো পরীক্ষা নেওয়া হবে না। ক্লাস ওয়ানে তো আর আমরা ওদের নিউরোসার্জন বানাব না। একটা সিম্পল টেস্টের মাধ্যমে স্কুলে ভর্তি করানো হবে।’
ভর্তি পরীক্ষা ফিরলে কোচিং বাণিজ্য ও তদবির বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কোচিং করানোর সুযোগ রাখা হবে না। সিম্পল টেস্ট হবে... সাধারণভাবে সবকিছু হবে। এটা নিয়ে অভিভাবকদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমি মনে করি, লটারি করে ভর্তি করানো কোনো শিক্ষাব্যবস্থায় থাকতে পারে না।’
১৪০ দিন আগে
জাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহ্ আলম, সম্পাদক রাজিব রায়হান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জাবিসাস) ২০২৬ সেশনের কার্যকরি পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে সভাপতি পদে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মা্হ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাজিব রায়হান নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর সোয়া ২টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহিদ আক্তার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। পরে দুপুর ১টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নবনির্বাচিত কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাসেল মাহমুদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মুশফিক রিজন।
এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে এশিয়া পোস্টের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সৈকত ইসলাম এবং দপ্তর ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে দৈনিক নয়া দিগন্তের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আতাউর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির কার্যকরী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেইলি সানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন, জাগো নিউজের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রকিব হাসান প্রান্ত এবং দৈনিক শিক্ষা ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মেহেদী ইসলাম।
নির্বাচনে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু সাইদ মো. মুনতাকিমুল বারী চৌধুরী এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সাহাদাত হোসেন।
১৪৬ দিন আগে
ওসি বলেন, আমাকে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে: খুন হওয়া ইবি শিক্ষিকার স্বামী
নিজ অফিস কক্ষে খুন হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমি যাদের এজাহারভুক্ত আসামি করেছি, তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো ভূমিকা নেই। তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে বলেন—প্রমাণ করার দায়িত্ব নাকি আমার! প্রমাণ করতে হবে আমাকে! ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) বলেন—প্রমাণ করেন আপনারা।’
আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে শনিবার (৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এই অভিযোগ করেন। নিহতের চার সন্তান, পরিবার ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, এই হত্যার বিষয়ে সেখানকার শিক্ষার্থীদের বক্তব্য আমি ওসিকে দেখাতে গিয়েছিলাম। উনি (ওসি) বলেন এটা আপনিই দেখেন। কত দেখতে পারবেন ইউটিউবে! এতে আমার দেখার কাজ নেই।
ওসিকে ধিক্কার জানিয়ে তিনি বলেন, ছিঃ ছিঃ! লজ্জার কথা। এই ওসি তদন্ত করে বিচার করবে, এটা আমি বিশ্বাস করি না।
নিহতের স্বামী আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রী সাদিয়ার সঙ্গে তার সহকর্মী শ্যামসুন্দর সরকার, বিশ্বজিৎ কুমার ও হাবিবুর রহমান একটি দিনের জন্যেও ভালো ব্যবহার করেননি। তারা যদি প্রমাণ করতে পারেন, একটি দিন তারা ভালো ব্যবহার করেছেন, কাজে সহযোগিতা করেছেন, তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেব।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অস্বচ্ছতার দিকে ইঙ্গিত করে ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সরকার লাখ লাখ টাকা তছরূপ করেছেন। প্রশাসন বারবার চিঠি দিয়েছে, একটিবার তার হিসাব দেননি। কই প্রশাসন তো কিছু বলেনি? বিশ্বজিতের (মামলার ২ নম্বর আসামি) মতো একজন কর্মকর্তা সাদিয়াকে বলেছিলেন—আমরা যেভাবে বলব, সেখানে সাক্ষর করবেন। কতটা ক্ষমতাবান হলে তারা এভাবে বলতে পারেন?
মানববন্ধনে অংশ নেয় নিহতের চার শিশু সন্তান। তাদের বয়স দেড় থেকে ৯ বছরের মধ্যে। সবচেয়ে বড় কন্যা ইফফাত তায়েবা বলেন, আমার মাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার খুনিদেরও যেন সেভাবে হত্যা করা হয়। মাকে ছাড়া আমার ছোট ভাইবোনগুলো সারা রাত ঘুমায় না। মা আমাদের কত আদর করে ঘুম পাড়াতো! আমরা এখন মাকে কোথায় পাব?
নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কুষ্টিয়া পলিট্যাকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক। মানববন্ধনে আসা তার সহকর্মীরা বলেন, এই মানববন্ধন আমাদের করার কথা নয়। এটা করা উচিত ছিল ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের, কিন্তু একজন শিক্ষকও এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাননি। এটা বড় লজ্জার কথা। একজন সামান্য কর্মচারীর হাতে শিক্ষক খুন হলো নিজের অফিস কক্ষে, অথচ তার কোনো সহকর্মী এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাননি। এটা বড় লজ্জার কথা।
সমাজকল্যাণ বিভাগের একজন শিক্ষার্থী বলেন, এখন থেকে সাত মাস আগে ক্যাম্পাসে খুন হলেন শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ। সেই খুনের রহস্য এখনও উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই ম্যামকে খুন করা হলো। এই ক্যাম্পাস আর কারো জন্যই নিরাপদ নয়।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ (বুধবার) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষিকা আসমা সাদিয়ার কক্ষে ফজলুর রহমান নামের এক কর্মচারী তাকে হত্যা করেন। পরে ওই ব্যক্তি নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৪৯ দিন আগে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেশনাল মাস্টার্সে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স (প্রফেশনাল) প্রোগ্রামে ভর্তি কার্যক্রমে অনলাইনে আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) তথ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রফেশনাল মাস্টার্স কোর্সে পাঠদানকারী কলেজগুলোতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিএড, বিপিএড, বিএমএড, বিএসএড, এমএড, এমএসএড ও এমপিএড; ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এলএলবি শেষপর্ব, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এমবিএ ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এমএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) প্রোগ্রামে ভর্তিতে অনলাইনে প্রাথমিক আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৬ মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। এছাড়া আবেদন ফিস বাবদ ১ হাজার টাকা আবেদনকৃত কলেজে (কলেজ কর্তৃক নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অথবা সরাসরি) ৩১ মার্চের মধ্যে জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ‘২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স (প্রফেশনাল) প্রোগ্রামে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি’র সকল শর্ত ও নিয়মাবলি অপরিবর্তিত থাকবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটের (www.nu.ac.bd/admissions) Prospectus/Important Notice অপশন থেকে জানা যাবে।
১৪৯ দিন আগে
শতভাগ স্বাক্ষরতা অর্জনে সময়সীমা নির্ধারণ করে কর্মসূচি নেওয়ার তাগিদ শিক্ষামন্ত্রীর
শতভাগ স্বাক্ষরতা অর্জনের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে কর্মসূচি গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষার মূল কাজ কেবল স্বাক্ষরতা দান করা নয়, এর পরিধি আরও বিস্তৃত। স্থানীয় কমিউনিটি, পথশিশু এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে যুক্ত কিশোরদেরও উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় আনতে হবে।
বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকায় উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রধান কার্যালয়ে দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, স্বাক্ষরতার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য চলমান প্রাক-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালনার উদ্যোগ নিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক দেবব্রত চক্রবর্তীসহ ব্যুরো ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ব্যুরোর কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রীকে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লক্ষ্য হলো শিক্ষা ও দক্ষতার সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
১৫১ দিন আগে