শিক্ষা
মানসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ: ইউজিসি চেয়ারম্যান
উচ্চশিক্ষার ব্যাপক সম্প্রসারণ হলেও মানসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা অনেক ক্ষেত্রে চাকরির বাজার ও বাস্তব জীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে না। তাই শিক্ষাকে জীবন ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন বরণ-২০২৬ ও নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুধু একাডেমিক জ্ঞান নিয়ে বের হলে হবে না। কর্মক্ষেত্র ও বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সামাজিক, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবেও সক্ষম হতে হবে। শুধু মেধা দিয়ে সফল হওয়া যায় না; এর সঙ্গে পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও অঙ্গীকার প্রয়োজন। পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে বলেও মত দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানবসম্পদ। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনে বিনিয়োগ করা হলে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। চাকরির সুযোগ না থাকলেও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করা সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তবুদ্ধির চর্চার বিষয়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মুক্তবুদ্ধির চর্চা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তভাবে কথা বলা, জ্ঞানচর্চা ও মতামত প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে। তবে সবকিছুরই একটি সীমা রয়েছে। তাই স্বাধীন চিন্তার পাশাপাশি দায়িত্ববোধও থাকতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এমন একাডেমিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মুক্তবুদ্ধির চর্চা হবে দায়িত্বশীলভাবে।
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ইউজিসির ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউজিসি শুধু নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না; বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সহযোগিতা ও সহায়তা করতে চায়। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউজিসি কোনো পার্থক্য করে না। যে বিশ্ববিদ্যালয় ভালো করছে এবং উন্নতির চেষ্টা করছে, তাদের এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) ও একাডেমিক প্রশাসনের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনে তাদের দায়িত্ব ও এখতিয়ার নির্ধারিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্বের মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করতে হবে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগও বাড়াতে হবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট কমানোর প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ইউজিসির সুপারিশে সরকার ভ্যাট ৫ শতাংশ কমিয়েছে। আগামী বছর আরও ৫ শতাংশ কমানোর জন্য ইউজিসি কাজ করছে। ভ্যাট কমানোর ফলে যে আর্থিক সুযোগ তৈরি হবে, তা শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয়ের প্রত্যাশা করছে ইউজিসি।
গবেষণার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমান সুযোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়নে বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি না বেসরকারি, পুরনো না নতুন—তা বিবেচনা করা হবে না। প্রস্তাবের মেধা ও গুণগত মানই হবে মূল বিবেচ্য। দেশের বাস্তব সমস্যা ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ সমাধানে উদ্ভাবনী গবেষণায় ইউজিসি সহযোগিতা করবে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মানবসম্পদ ও জ্ঞান ভাগাভাগিতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শহর ও গ্রামের বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষকে ডিজিটালভাবে যুক্ত করে উচ্চশিক্ষার বৈষম্য কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষক ও গবেষকদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত করা এবং পিএইচডি ফেলোশিপের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
নজরুলের সাহিত্য ও দর্শনের প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নজরুলের চিন্তা এখনও প্রাসঙ্গিক। প্রতিকূলতা মোকাবিলায়ও তার চিন্তা অনুপ্রেরণা দেয়।
অনুষ্ঠানে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস রহমান, ডিন অধ্যাপক ড. অনুপ চৌধুরীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিওটি সদস্য ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
সিলেট বোর্ডে পুনঃনিরীক্ষণে বদলেছে ২,৫৮৭ শিক্ষার্থীর ফল
সিলেট শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে ২ হাজার ৫৮৭ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছে ১৮৬ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২১ জন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বোর্ডের তথ্যমতে, এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য এ বছর ২০ হাজার ৭৮৩ জন শিক্ষার্থী মোট ৫০ হাজার ৭১৩টি আবেদন করে। পুনঃনিরীক্ষণের পর ২ হাজার ৩২০ শিক্ষার্থীর নম্বরে পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া ১ হাজার ২৮৬ জনের জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। জিপিএ গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ৯৮৬ জনের। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২১ জন এবং ফেল থেকে পাস করেছে ১৮৬ জন।
চলতি বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় ৮৯ হাজার ৬৮৬ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল। পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮৯ হাজার ৭৯ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
এবার সিলেট বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া মোট পরীক্ষার্থীর ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ ফেল করেছে।
বিভাগভিত্তিক ফলে বিজ্ঞান বিভাগে ৩ হাজার ৬০৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ছেলে ১ হাজার ৬৮৪ এবং মেয়ে ১ হাজার ৯২৪ জন। মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২০ জন। তাদের মধ্যে ছেলে ২৪ এবং মেয়ে ৯৬ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৮ জন। এর মধ্যে ছেলে ৩৭ এবং মেয়ে ৭১ জন।
১৭ ঘণ্টা আগে
বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই ব্যবহারে স্পষ্ট নীতিমালা তৈরির পরামর্শ ইউজিসি চেয়ারম্যানের
বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন কাজে এটি ব্যবহার করা যাবে, কোথায় ব্যবহার করা যাবে না এবং কোথায় এআই ব্যবহারের বিষয়টি জানাতে হবে—তা স্পষ্ট করে নীতিমালা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড রিসার্চ ইন্টিগ্রিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরামর্শ দেন।
এআই ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘এআই ডিসক্লোজার স্টেটমেন্ট’ চালুর পরামর্শ দিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, নীতিমালায় কোন এআই টুল কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এআই থেকে পাওয়া তথ্য কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, তা উল্লেখ থাকতে হবে।
এআইয়ের যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শুধু এআই শনাক্তকারী সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীর নিজস্ব শেখা, চিন্তা ও কাজের প্রক্রিয়া মূল্যায়নের পরামর্শ দেন তিনি।
মৌখিকভাবে কাজের ব্যাখ্যা নেওয়া, গবেষণার খসড়া ও নথি সংরক্ষণ, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের মতো পদ্ধতি চালুরও পরামর্শ দেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ।
এআই ও অ্যাকাডেমিক অসততা মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য চারটি পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন তিনি। এগুলো হলো—এআই ব্যবহারে স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, পদোন্নতিতে গবেষণার সংখ্যার পরিবর্তে মানকে গুরুত্ব দেওয়া, গবেষণার সততা ও যথাযথ উদ্ধৃতি বিষয়ে বাধ্যতামূলক কোর্স চালু এবং গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি ও এআই-সহায়তা শনাক্তে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো।
পদোন্নতিতে গবেষণার মানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পাঁচটি নিম্নমানের গবেষণাপত্রের চেয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মানসম্মত গবেষণাপত্র বেশি মূল্যবান। শুধু প্রকাশনার সংখ্যা বাড়ানোর প্রবণতা থেকে ‘গবেষণা প্রকাশ কর, নইলে পিছিয়ে পড়বে’ সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই প্রবণতার সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ নিম্নমানের বা প্রিডেটরি জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করছেন এবং এআই ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য-উপাত্ত তৈরি করছেন উল্লেখ করে তিনি এসব বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
গবেষণার সততা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিষয় যাই হোক, স্নাতক হওয়ার আগে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে গবেষণার সততা ও যথাযথ উদ্ধৃতি বিষয়ে একটি বাধ্যতামূলক কোর্স করতে হবে।
একাডেমিক ও গবেষণার সততা নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। এতে চৌর্যবৃত্তি, লেখকত্ব, তথ্য ব্যবস্থাপনা, নৈতিক অনুমোদন, স্বার্থের সংঘাত, গবেষণা তত্ত্বাবধান এবং এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, এআই নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়। বরং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রযুক্তিটি দায়িত্বশীল ও নৈতিকভাবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। এআই শিক্ষা ও গবেষণার কাজ দ্রুত করতে পারে, তবে এটি ভুল তথ্য ও সূত্র দিতে এবং পক্ষপাত ছড়াতে পারে।
‘লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল কোনো উত্তরের দায় নিতে পারে না। তাই এর মাধ্যমে তৈরি ফলাফলের দায়িত্ব আমাদেরই,’ বলেন তিনি।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রযুক্তি মানুষকে আরও বুদ্ধিমান করবে, অলস নয়। বাংলাদেশকে বিশ্বমানের গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত করতে হলে গবেষণার সততা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য রাশেদা কে চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ এম ইউসুফ হায়দার, টার্নিটিনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক চৈতালি মিত্র এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য দেন। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
প্রাথমিকের কারিকুলামে ভাষা শিক্ষার মৌলিক দক্ষতায় গুরুত্ব দেওয়া হবে: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিকের নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের শ্রবণ ও কথা বলার দক্ষতাকে সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, শিক্ষা হতে হবে দক্ষতাভিত্তিক, ক্যারিয়ারমুখী ও নৈতিকতাসম্পন্ন। এ লক্ষ্য অর্জনে ভাষা শিক্ষাকে শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট—পিটিআইতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ টিএমটিই (ট্রেনিং অব মাস্টার ট্রেইনার্স ইন ইংলিশ) সদস্য সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভাষা শিক্ষার চারটি মৌলিক দক্ষতার ওপর সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ‘শুনে বোঝার’ দক্ষতা তৈরির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ ভাষা শেখার ক্ষেত্রে শ্রবণ ও অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, একজন বিজ্ঞানী, চিকিৎসক বা প্রকৌশলীর জন্য নিজ নিজ বিষয়ে দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলী তৈরি হয় শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে। তাই শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।
বিশেষ করে ইংরেজি ভাষায় সংরক্ষিত বিপুল বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানে শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শুধু সাক্ষরতার হার বাড়ালেই শিক্ষিত সমাজ তৈরি হয় না। এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন করবে, সেই জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারবে এবং বিশ্বজ্ঞান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রহণ করতে পারবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা হতে হবে সবার অধিকার এবং তা সবার দুয়ারে পৌঁছে দিতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষায় শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষাদান যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শেখানোর ক্ষেত্রে ভিডিও, ওয়ার্কবুক, ডিজিটাল কনটেন্ট, খেলা ও অন্যান্য আধুনিক শিক্ষণ-উপকরণ কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষকদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে।
টিএমটিই বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক রিয়াজ পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের উপপরিচালক এবং টিএমটিই বাংলাদেশের সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
মিড ডে মিল অনুগ্রহ বা দয়া নয়, শিক্ষার্থীদের অধিকার: ববি হাজ্জাজ
মিড ডে মিল কোনো অনুগ্রহ বা দয়া নয়, এটি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রতিটি শিক্ষার্থীর অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিশুদের সুস্থতা, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও শেখার সক্ষমতা বাড়ানো স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খুলনায় একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুর পুষ্টি ও শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা বা নিম্নমানের খাবার সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হবে না। এ কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না’ ও ‘প্রতিটি শিশু সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে’ —প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করছে, যা শেখার সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষায় বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। এই বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়; বরং প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা, তার পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে একটি দক্ষ ও শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তোলা।
খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মতিয়ার রহমান, ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপবৃত্তি) মো. মাসুদ হোসেন, খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত ও খুলনা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ১৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করতে একটি করে ট্যাব এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে সাইকেল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাজেটের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এটিকে ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চান।
তিনি আরও বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে একসঙ্গে চারটি বিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছিল। শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ জটিলতায় আটকে আছে। দ্রুত এসব জটিলতা দূর করে নিয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ খোলার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট এবং আর্কিটেকচারের পাশাপাশি আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিংয়ের মতো বিভাগ চালুর আগে প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করা উচিত। লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিভাগের ক্ষেত্রে ল্যাব সুবিধা ও দেশে বিদ্যমান বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানও বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের যুগে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে ইভি-সংশ্লিষ্ট কোর্স চালু করা জরুরি।
পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্সের মতো আধুনিক বিষয় চালু করতে হবে। এ সময় তিনি এআই কোর্স চালুর আবেদন দুই বছর ধরে ইউজিসিতে আটকে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের ব্যয় প্রায় ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তাই শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, এই বিনিয়োগের যথাযথ ফল নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা কোথায় চাকরি করছেন এবং কর্মজীবনে তাদের অবস্থান কী — অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে এসব তথ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে সফল হওয়া শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের অংশ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও পাওয়া উচিত।
কুয়েট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১ সেপ্টেম্বর কুয়েট দিবস বা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করা হয়। ২০০৩ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠানটি বিআইটি থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র্যালি, প্রদর্শনী, বিভিন্ন বিভাগের প্রজেক্ট উপস্থাপন, ল্যাব উন্মুক্তকরণ, ক্রীড়া, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
৯ দিন আগে
চর ও দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের জন্য দূরত্বভিত্তিক ভাতা চালু করা হবে: ববি হাজ্জাজ
চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে দূরত্ব ও যাতায়াতের বাস্তবতা বিবেচনায় বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেছেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ের অবস্থান, যাতায়াতের দূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা ও দুর্গমতার মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে ভাতার কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। দেশের বিভিন্ন জেলার দুর্গম চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোকে এ উদ্যোগের আওতায় আনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) রংপুরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয় এ কর্মশালার আয়োজন করে।
দুর্গম এলাকার ভাতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন কোন এলাকা প্রকৃত অর্থে দুর্গম হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সেখানে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তারা কী ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন, তা নতুন করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে দুর্গম এলাকা চিহ্নিত করার বিষয়ে কর্মশালায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ের মতামত ও সুপারিশ লিখিতভাবে সংকলন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এর ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি অঞ্চলভেদে বিদ্যমান বৈষম্য কমাতে সরকার বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নিচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও জবাবদিহিতা সুস্পষ্ট করে কার্যকর নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, শুধু পদসোপান থাকলেই হবে না, প্রত্যেক কর্মকর্তাকে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি সামগ্রিক ব্যবস্থার প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
১১ দিন আগে
খুবিতে ভর্তি পরীক্ষা ডিসেম্বরে, কুয়েটে জানুয়ারিতে
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) একই শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ২০২৭ সালের ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
খুবি কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভায় খুবির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৭ ডিসেম্বর ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ‘সি’ ইউনিটের আওতায় রয়েছে কলা ও মানবিক স্কুল, সামাজিক বিজ্ঞান স্কুল, আইন স্কুল, শিক্ষা স্কুল ও চারুকলা স্কুলের ডিসিপ্লিনসমূহ। ‘ডি’ ইউনিটের আওতায় রয়েছে ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিসিপ্লিনসমূহ।
পরদিন ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা। ‘এ’ ইউনিটের আওতায় রয়েছে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুল এবং ‘বি’ ইউনিটের আওতায় রয়েছে জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিসিপ্লিনসমূহ।
অন্যদিকে, কুয়েটের ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, বিইউআরপি ও বিআর্ক) ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৮ জানুয়ারি, ২০২৭ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১১৮তম বিশেষ সভায় স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি-সংক্রান্ত আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষাটি এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি ভর্তি পরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও আবাসনসংক্রান্ত ভোগান্তি কমাতে এবার খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী—এই তিনটি বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
১৩ দিন আগে
বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানি-সংক্রান্ত অভিযোগ আমলে না নিলে ব্যবস্থা নেবে ইউজিসি
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করাই যথেষ্ট নয়, বরং এসব কমিটিকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। যৌন হয়রানি-সংক্রান্ত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে ইউজিসি ভবনে ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মক্ষেত্র, জনপরিসর ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ইউজিসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে এসব কমিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে না।
তিনি বলেন, ‘কমিটি শুধু গঠন করলেই হবে না, সেটিকে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে। কোনো নারী অভিযোগ করার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ যেন বলতে না পারে—এটা আমার কাজ নয়।’
প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. মামুন আহমেদ বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ইউজিসি ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শূন্য সহনশীলতার নীতি কার্যকর করতে হবে।
যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির জন্য জাতীয় পর্যায়েও একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। প্রস্তাবিত কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইউজিসির প্রতিনিধিরা থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকিতে এ কমিটি কাজ করবে।
১৪ দিন আগে
প্রাথমিক বিদ্যালয় ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, গ্রাম থেকে নগর—কোনো শিশুই যেন স্কুলের বাইরে না থাকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন নির্দেশনা রয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহিদ সাটু হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি কার্যকরভাবে কাজ করছে না। কমিটি গঠনের সময় কিংবা বিদ্যালয়ে কোনো বরাদ্দ এলে তাদের সক্রিয়তা দেখা গেলেও অন্য সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এ কারণে এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করে বিদ্যালয়ের ‘বন্ধু’ হিসেবে একটি অনানুষ্ঠানিক রেজিস্টার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট রয়েছে। এ সংকট পূরণে সরকার কাজ করছে। কারণ একজন ভালো শিক্ষক বটতলার শিক্ষার্থীকেও ভালোভাবে গড়ে তুলতে পারেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাইট গার্ড ও নিম্ন অধস্তন কর্মচারী সদস্য (এমএলএসএস) নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ফিডিং কর্মসূচির আওতায় রান্না করা পুষ্টিকর খাবার বিতরণের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, উন্নত ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসুচির প্রকল্প পরিচালক আবুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাখাওয়াত হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক শহিদুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
১৫ দিন আগে