শিক্ষা
এসএসসি পরীক্ষার ফল ২০ জুলাই: শিক্ষামন্ত্রী
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সরকারের তিন মাসের কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের এসএসসির রেজাল্ট ২০ জুলাই আউট করবে, সেই নির্দেশনা আমরা দিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাব্যবস্থার চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি জানান, শিক্ষাক্রম (কারিকুলাম) পরিমার্জনের জন্য ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। আগামী বছর চারটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১ এপ্রিল। গত ২০ মে এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয়েছে। দাখিল এবং এসএসসি ও ভোকেশনালের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।
এ বছর মাধ্যমিক স্তর উত্তীর্ণ হওয়ার এ পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।
মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছেলে এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন মেয়ে। দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় তারা।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন ছেলে এবং ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন মেয়ে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন ছেলে এবং ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন মেয়ে। এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৭৪২টি কেন্দ্রে।
অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ জন ছেলে এবং ৩৩ হাজার ১৫১ জন মেয়ে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৬৫৩টি কেন্দ্রে।
৩ দিন আগে
প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান-প্রযুক্তির দক্ষতার ভিত্তি শক্তিশালী করা প্রয়োজন: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, তুরস্ক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, বাংলাদেশও ভবিষ্যতে সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে চায়। এজন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি ও সমস্যা সমাধানমূলক দক্ষতার ভিত্তি শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
রবিবার (৭ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তার দপ্তরে তুর্কি কোঅপারেশন অ্যান্ড কোঅরডিনেশন এজেন্সির (টিকা) ভাইস-প্রেসিডেন্ট ড. আলি এরজানের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্যে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তুরস্ক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, বাংলাদেশও ভবিষ্যতে সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে চায়। এজন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি ও সমস্যা সমাধানমূলক দক্ষতার ভিত্তি শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে একজন ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রবেশের সময় আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, সরকার বর্তমানে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ আরও জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসন, কারিকুলাম উন্নয়ন, অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বিষয়ে জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচি শুরু করেছে। একই ধরনের সহযোগিতা তুরস্কের সঙ্গেও গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
ভাইস-প্রেসিডেন্ট ড. আলি এরজান বলেন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নেতৃত্ব, কর্মস্পৃহা এবং প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে তার উদ্যোগ ও সংস্কার ভাবনা বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় উভয় পক্ষ প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সম্ভাব্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা, মডেল স্কুল উন্নয়ন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ এবং জাতীয় শিক্ষা দর্শন ও শিক্ষাদান পদ্ধতি বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে শিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করে উভয়পক্ষ।
৪ দিন আগে
দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে বর্তমানে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।’
রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসন শুধু জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারই কেড়ে নেয়নি, সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করার পাশাপাশি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকেও বিপর্যস্ত করেছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলাই হবে সেই পথের প্রধান ভিত্তি।
তারেক রহমান বলেন, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নিজেদের প্রস্তুত করতে না পারলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ এর অধিভুক্ত দুই হাজারের বেশি কলেজে বর্তমানে ৪০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন এবং ইতোমধ্যে এক কোটির বেশি শিক্ষার্থী এখান থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিস্তার মানুষের জন্য নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ দুটোই তৈরি করেছে। অটোমেশন (স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি) ও এআই-চালিত প্রযুক্তির কারণে অনেক প্রচলিত পেশা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বা বিলুপ্ত হয়েছে, আবার একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও তৈরি হয়েছে।
সরকারপ্রধান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও ফরেনসিক বিজ্ঞান, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্ঞানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, উপস্থাপন দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং আর্থিক সাক্ষরতার মতো দক্ষতাভিত্তিক বিষয় ছাড়া আধুনিক শিক্ষাক্রম পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না।
এছাড়া জেনেটিক প্রকৌশল, জৈবপ্রযুক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ইন্ডাসট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, ম্যাটারিয়াল সায়েন্স, ন্যানোপ্রযুক্তি, থ্রিডি প্রিন্টিং এবং পঞ্চম প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে প্রাথমিক স্তর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাক্রমকে বাস্তবভিত্তিক, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করার কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও পাঠ্যক্রমকে সময়োপযোগী, আধুনিক ও বাস্তবমুখী করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তিনি প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা এখন শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যম নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। এজন্য উচ্চশিক্ষাকে আরও কর্মমুখী করতে শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, ইন্টার্নশিপ এবং শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ বাধ্যতামূলক করা সময়ের দাবি।
৫ দিন আগে
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় হবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত: মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রূপ দিতে ও বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট যেকোনো নিয়োগে কোন ধরনের স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব বরদাশত করা হবে না। শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হবে। কারণ আমরা এ বিশ্ববিদ্যালয়কে সত্যিকার অর্থেই বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে চাই।
শুক্রবার (২৯ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠের পশ্চিম পাশে তাঁতীপাড়ায় স্থাপিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে হলে শিক্ষার মানের সঙ্গে কখনো আপস করা যাবে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো দলীয় প্রভাব চলবে না, কোনো স্বজনপ্রীতি চলবে না। যাদের সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকবে, তারাই নিয়োগ পাবেন।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি মেডিকেল কলেজ ও একটি বিশ্ববিদ্যালয়। সেই দাবি বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে উপাচার্য নিয়োগও সম্পন্ন হয়েছে এবং অস্থায়ী এ কার্যালয়ও চালু হলো যা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইসরাফিল শাহীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক ড. শহীদ উজ জামান, প্রফেসর মনতোষ কুমার দে, বিএনপির জেলা সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন প্রমুখ।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, বিএনপির জেলা সেক্রেটারি পয়গাম আলী, ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল লতিফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক ও সুধীজন।
১৩ দিন আগে
ঢাবির পরিসংখ্যান ৮৮ ব্যাচের উদ্যোগে কুড়িগ্রামের চরে কোরবানির মাংস বিতরণ
ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কালির আলগা চরের দরিদ্র মানুষের মাঝে কোরবানির গরুর মাংস বিতরণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ৮৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে যাত্রাপুর ইউনিয়নের কালির আলগা চরে আয়োজিত এ মানবিক কার্যক্রমে শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।
বিতরণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
আয়োজকরা জানান, ঈদুল আজহার আনন্দ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও চরাঞ্চলের অসহায় মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্য থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, নদীবেষ্টিত ও বিচ্ছিন্ন চরের মানুষের জন্য এমন সহায়তা ঈদের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যাত্রাপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রহিমুদ্দিন হায়দার রিপন, ইউপি সদস্য হোসেন আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
১৩ দিন আগে
ঢাবির ক্রীড়াবিদদের ১০ লাখ টাকার অনুদান: ড. সালমা আরজুর মানবিক উদ্যোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলা শুধু সহশিক্ষা কার্যক্রম নয়; এটি বহু শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, সংগ্রাম ও আত্মপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। প্রতিদিন ক্লাস শেষে অসংখ্য শিক্ষার্থী মাঠে গিয়ে কঠোর অনুশীলন করেন। কেউ জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, কেউ আবার দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখছেন। তবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের অনেককেই পুষ্টিকর খাবার, প্রয়োজনীয় ক্রীড়াসামগ্রী ও শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. সালমা আরজু (কবিতা) ও তার পরিবারের উদ্যোগ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। গত ২৮ মে ২০২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের সহায়তায় ১০ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বক্তারা এ উদ্যোগকে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবান্ধব মানবিক দায়বদ্ধতার এক অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ড. সালমা আরজু দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছেন। কাছ থেকে তিনি দেখেছেন তাদের নানামুখী সংগ্রাম—পুষ্টিহীনতা, আর্থিক সংকট, পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব এবং মানসিক চাপ। একজন ক্রীড়াবিদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও উপযুক্ত পরিবেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই বাস্তবতা থেকেই তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান অনুদানটিকে ক্রীড়াশিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও শিক্ষার্থীকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সহকারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, ‘ড. সালমা আরজু একজন প্রকৃত শিক্ষার্থী-বান্ধব মানুষ। শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধায় তিনি সবসময় আন্তরিকভাবে পাশে থাকেন। এই অনুদান তারই প্রতিফলন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেই ক্রীড়াপ্রতিভা বিকাশে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। ড. সালমা আরজুর উদ্যোগ সেই প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই সহায়তা তহবিলকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ড. সালমা আরজুর ব্যক্তিগত মানবিক গুণাবলিরও প্রশংসা করেন। তার এক সহকর্মী জানান, ২২ বছরের কর্মজীবনে তিনি বহু শিক্ষার্থীকে ক্রীড়াসামগ্রী, অনুশীলনের পর পুষ্টিকর খাবার এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় জরুরি চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে মত দেন, ড. সালমা আরজু শুধু একজন মানবিক মানুষ নন, তিনি একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠকও। তার নেতৃত্ব ও দূরদৃষ্টির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রও আরও এগিয়ে যাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তার ও তার পরিবারের এই উদ্যোগ সমাজের অন্যদের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে—নিজ নিজ অবস্থান থেকে তরুণ প্রতিভাদের পাশে দাঁড়ানো মানেই দেশের ভবিষ্যতের পাশে দাঁড়ানো।
১৫ দিন আগে
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির শোক
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আজওয়াত তাওসিফ রিয়াসাত ও লাবিব ওয়াদি সোপানের অকালমৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে মুন্সীগঞ্জের দেওভোগে বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মারা যান এই দুই শিক্ষার্থী।
রিয়াসাত ছিলেন মেজর (অব.) মো. ফজলী মুকিত ও মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল আসফিয়া তাসনিম নীতার দুই সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। অন্যদিকে, সোপান মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা প্রয়াত মোস্তাকুর রহমানের ছোট ছেলে।
তারা দুজনই ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আজ (শনিবার) ঢাকার মিরপুরে নামাজে জানাজা শেষে রিয়াসাতকে বনানী সেনা কবরস্থানে দাফন করা হয়। একইদিন মুন্সীগঞ্জের দেওভোগ মসজিদে জানাজা শেষে সোপানকে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
১৯ দিন আগে
ইউজিসির পূর্ণকালীন সদস্য হলেন ঢাবি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুনকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ শনিবার (২৩ মে) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী তাকে আগামী চার বছরের জন্য ইউজিসির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকেই এ নিয়োগ কার্যকর হবে। ইতোমধ্যে তিনি কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে যোগদানপত্র জমা দিয়েছেন।
ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডেলফি ইউনিভার্সিটিতে ফুলব্রাইট রিসার্চ প্রফেসরশিপ লাভ করেন। এছাড়া ২০২৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব জাপানে জাপান ফাউন্ডেশন ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হাডার্সফিল্ডের অর্থনীতি, অর্থায়ন এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা পদ্ধতির ওপর পোস্টগ্র্যাজুয়েট সার্টিফিকেট লাভ করেন।
এছাড়া ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব নর্থামব্রিয়া থেকে সার্টিফিকেট ইন ল ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি মার্কেটিং বিষয়ে এমবিএ ডিগ্রিধারী। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগ থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ড. মামুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে জাপানিজ স্টাডিজ, উন্নয়ন পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা, উন্নয়ন প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, সহায়তা কার্যকারিতা, উন্নয়ন সমাজবিজ্ঞান ও রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান।
ড. মামুনের দেশ-বিদেশে দীর্ঘ শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ডার্বি ও লিডস ট্রিনিটি ইউনিভার্সিটি, জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজ ও ইউনিভার্সিটি অব কোবে, ভারতের জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটি এবং ইন্দোনেশিয়ার ইউনিভার্সিটাস ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষকতা ও লেকচার প্রদান করেছেন।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি (এনএপিডি), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ব্র্যাক, আশা, ইউএসএআইডি, ইউএনডিপি, জেট্রো, জাপান ফাউন্ডেশন এবং জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (জেবিসিসিআই) সঙ্গে কাজ করেছেন।
গবেষণা ও প্রকাশনায়ও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অবদান। ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের প্রকাশিত বই, বইয়ের অধ্যায় ও গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৫০টির বেশি। তার গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি স্প্রিঙ্গার, রাউটলেজ, প্যালগ্রেভ ম্যাকমিলান এবং এমেরাল্ডের মতো খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা থেকে তার বই ও বইয়ের অধ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
১৯ দিন আগে
শিক্ষা কারিকুলামে বড় পরিবর্তন আসছে: ববি হাজ্জাজ
ঢাকা, ২০ মে (ইউএনবি)— প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবই ভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং নেতৃত্ব, নাগরিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে বিশ্বমানের নেতৃত্বে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার কারিকুলামে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
বুধবার (২০ মে) ঢাকায় বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ে ‘হলদে পাখি নীল কমল অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী প্রজন্মকে দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে এবং সরকার দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল চালুর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আজ আমি শুধু গার্ল গাইডদের মাঝে নেই, আমি আগামী বাংলাদেশের নেতাদের মাঝে আছি। আপনারাই ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্ব দেবেন। আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন কারিকুলামে শিশুদের শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং বাস্তবসম্মত দক্ষতা শেখানো হবে। শিক্ষার্থীরা শিখবে কীভাবে ভালো নাগরিক হতে হয়, কীভাবে নিজের স্কুল, ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হয় এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হয়। শিশুদের বয়স আনন্দের মাধ্যমে শেখার, তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ বা বড় বড় বই চাপিয়ে দেওয়ার সময় নয়। নতুন কারিকুলাম এমনভাবে সাজানো হবে যাতে শিশুরা গল্প, সৃজনশীলতা ও আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
অনুষ্ঠানে নীলকমল অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হলদে পাখির সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অর্জন দেশের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে। এ অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে মোট ৫৭ জন হলদে পাখি সদস্যকে নীল কমল অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গার্ল গাইডস নেতা, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২২ দিন আগে
২০২৭ সালের এসএসসি শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন
আগামী এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। আগামী বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। অন্যদিকে, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে শুরু হবে আগামী বছরে ৬ জুন এবং শেষ হবে ১৩ জুলাই।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ কথা জানান।
তিনি বলেন, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আমাদের এসএসসি ও সমমানের প্রায় ২০ লাখ এবং এইচএসসি ও সমমানের প্রায় ২০ লাখ; এই ৪০ লাখ শিক্ষার্থী—এদের লেখাপড়া, ভবিষ্যৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসএসসি পরীক্ষা দিতে এবং পাস করতে স্বাভাবিকভাবে একটি ছাত্রের জীবনে ১৬ বছর সময় লাগে। আর এইচএসসি অর্থাৎ টুয়েলফথ গ্রেড, হায়ার সেকেন্ডারি—আরও দুই বছর যোগ করলে ১৮ বছর সময় লাগে। কিন্তু আমরা ইতোমধ্যেই দেখেছি যে এই এইচএসসি পাস করতে ২০ বছর বয়স হয়ে যায়। অর্থাৎ জ্যামিতিক লভ্যাংশে আমরা দেখেছি যে জাতি ৪০ লাখ বছর পিছিয়ে যায়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সেই ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করছি সেশন জটকে কমিয়ে আনা, সিলেবাস কভার করা এবং সঠিকভাবে তাদের শিখন সম্পন্ন হওয়ার পরে পরীক্ষা নেওয়া। এই বিষয়গুলোকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। এসএসসি পরীক্ষার জন্য বসে থেকে ছাত্রছাত্রীদের প্রায় এক বছর নষ্ট হয় এবং এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ছাত্রছাত্রীরা বসে থেকে প্রায় এক বছর নষ্ট হয়। এই গ্যাপটাকে ক্রমান্বয়ে আমরা বন্ধ করতে চাচ্ছি। ধরে নিচ্ছি যে ডিসেম্বর বছরের শেষ মাস এবং এটা হলো পরীক্ষার মাস; সেই দিকে আমরা এগোচ্ছিলাম।
তিনি বলেন, নবম-দশম শ্রেণিতে দুই বছরের সিলেবাস কারিকুলাম ডিসেম্বরে শেষ হবে। সিলেবাস শেষ হওয়ার পরে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। ঠিক সেভাবে ফলাফল দুই মাসের মধ্যে বেরিয়ে যাবে। আবার এইচএসসিতে ভর্তি হবে এবং তারা সময়মতো বেরিয়ে যাবে। এবং পরীক্ষা দেওয়ার পর ফল বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন আবার তারা ভর্তি হতে পারে, সেই জিনিসগুলো আমরা সমন্বয় করার জন্য লক্ষ নির্ধারণ করেছি যে এসএসসি এবং এইচএসসির সেশন সমাপ্ত করার জন্য ডিসেম্বর হচ্ছে উপযুক্ত মাস।
এহছানুল হক মিলন বলেন, সেটাকে সামনে রেখে আমরা কাজ শুরু করেছি। এবার আমরা ২ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। তবে অংশীজনদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা সাপেক্ষে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আগামী এসএসসি পরীক্ষা আমরা শুরু করব ৭ জানুয়ারি এবং পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। আমরা রুটিন ইতোমধ্যে করেছি, একইসঙ্গে তা দিয়ে দিচ্ছি, যেন শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে পরিকল্পনা করে লেখাপড়া করতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, এইচএসসি নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। এখানে কিছুটা সময় আমরা গুছিয়ে এনেছি যেন তারা পরীক্ষায় পাস করার পর ফল সেমিস্টার (বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হওয়ার সময়কাল) ধরতে পারে। সেই টার্গেট নিয়ে এবং সিলেবাসও যেন কাভার করতে পারে। যদিও এর আগে অ্যাডমিশন কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে, সেটাকে আমরা গুছিয়ে আনছি। এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করব ৬ জুন এবং শেষ করব ১৩ জুলাই। এই পরীক্ষার রুটিনও আমরা করে ফেলেছি।
ফল প্রকাশের সময়সীমা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ফল প্রকাশের সময় দুই মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নীতি রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সংক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করা হবে।
উচ্চশিক্ষায় ভর্তি সমন্বয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফল প্রকাশের পর কোনো গ্যাপ না রেখে দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট না হয়।
২৮ দিন আগে