চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী। আর ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৯০ হাজার বেশি।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ৭৪ হাজার ৬০১ জন। বিপরীতে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৮৯ হাজার ৯২৮ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ ফল ঘোষণা করেন।
গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন এবং উত্তীর্ণ হতে পারেনি ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর ৩৭ দশমিক ৭৫ শতাংশই অকৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন। সে বছর উত্তীর্ণ হয়েছিল ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন। অর্থাৎ অনুত্তীর্ণ হয়েছিল প্রায় ৬ লাখ ৬৬০ জন। সেই হিসেবে, এক বছরে পরীক্ষার্থী কমেছে ৭৪ হাজার ৬০১ জন। কিন্তু অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্টো বেড়েছে ৮৯ হাজার ৯৪৮ জন।
এবারের পরীক্ষায় মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের অকৃতকার্যের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেশি লক্ষ করা গেছে।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মোট ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪ জন ছাত্র। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭৫৬ জনই অকৃতকার্য হয়েছে, যার শতকরা হার ৪২ দশমিক ১৪ শতাংশ। বিপরীতে ৯ লাখ ১১ হাজার ৭৯১ জন ছাত্রী পরীক্ষা দিয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৩ লাখ ৩ হাজার ৮৫২ জন, যার হার ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ফলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সমান হলেও মেয়েদের তুলনায় ৮২ হাজার ৯০৪ জন বেশি ছাত্র অকৃতকার্য হয়েছে।
বোর্ডভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তুলনায় মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর হার শতকার হিসেবে অনেক বেশি। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫ লাখ ৫ হাজার ৩২৯ জন শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, যা মোট শিক্ষার্থীর ৩৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে দাখিল পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণের হার সবচেয়ে বেশি; এখানে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৩২ হাজার ১৮৫ জনই অকৃতকার্য হয়েছে। এই বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৫১ শতাংশ পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৫৩,০৯৫ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৪১ দশমিক ৫০ শতাংশ।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পূর্ণ সিলেবাস ও পূর্ণ নম্বরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২০ মে পর্যন্ত চলে পরীক্ষা। সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্র এবং ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।