প্রধানমন্ত্রীর-কার্যালয়
আগস্টে পরীক্ষামূলক চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড
আগামী মাস, অর্থাৎ আগস্টের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ড’-এর পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ শুরু করবে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কার্ড-সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।
তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড বিষয়ক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কার্ডে থাকবে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিশেষ সুবিধা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রবাসী কার্ড প্রদানের মাধ্যমে সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করা।’
উপ-প্রেস সচিব জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রবাসী কার্ডও সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ, যার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আগামী মাসে শুরু হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রবাসী কার্ডধারীরা দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার, বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সেবা, বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ছাড় এবং দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং ও সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক-অ্যান্ড-ড্রপ সুবিধা পাবেন।
এছাড়া সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ ও বেসরকারি হাসপাতালে ছাড়, কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনা, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা, জমি নিবন্ধন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
১৬ দিন আগে
বায়ু-শব্দদূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, হর্ন নিয়ন্ত্রণে এআই ব্যবহারের তাগিদ
বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ, ইটভাটার দূষণ রোধ এবং অতিরিক্ত হর্ন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সারা দেশে, বিশেষ করে রাজধানীর পরিবেশগত পরিস্থিতির উন্নয়নে বায়ু ও শব্দদূষণ কমানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
তারেক রহমান ইটভাটা থেকে সৃষ্ট বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ইট উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
১৬ দিন আগে
বৈষম্য নয়, প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান প্রধানমন্ত্রী
কোনো জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য থাকবে না—এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন তার উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ)।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছেন। তিনি অধীর আগ্রহে তাদের বক্তব্য শুনেছেন।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অভিহিত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি এবং তার সরকার এমন একটা দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন যেখানে কোনো জাতি-গোষ্ঠীর বৈষম্য থাকবে না। সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি। কাউকে আলাদা মনে করেন না।
বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা সমস্যা সমাধানে ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন আয়োজন, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে গোত্রভিত্তিক পরিচয় প্রদান, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বা রিজার্ভ বনাঞ্চল থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসতি উচ্ছেদ বন্ধ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ঋণ সুবিধা দেওয়ার দাবি উপস্থাপন করা হয়।
১৮ দিন আগে
জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অমর চেতনা শুধু ইতিহাসের গৌরব নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। তিনি বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঐতিহাসিক জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘১৬ জুলাই। ঐতিহাসিক জুলাই শহিদ দিবস। শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশে সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সারাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।’
২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ কমপক্ষে ছয়জন শহিদ হন বলে বাণীতে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন শহিদ আবু সাঈদ। আবু সাঈদের বুকে পুলিশের গুলি করার দৃশ্য গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে। কোটা সংস্কারের দাবি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে মোড় নেয়। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মহান আল্লাহর দরবারে শহিদ আবু সাঈদ, শহিদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ ১৬ জুলাইয়ের সকল শহীদের মাগফিরাত কামনা করছি।’
তিনি বলেন, ১৬ জুলাই বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ। এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির নির্মম প্রয়োগ এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অথচ অদম্য সাহসী বীর ছাত্র-জনতা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহিদ আবু সাঈদের সেই অমলিন দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না; সেটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।’
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলন ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার রণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ।
তারেক রহমান বলেন, সেই আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের শক্তিতেই বাংলাদেশের মানুষ তাদের মর্যাদা, অধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ লাভ করেছে। ঐতিহাসিক সেই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর আজ সরকার শহিদদের পবিত্র আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শহিদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অমর চেতনা আমাদের জন্য কেবল ইতিহাসের গৌরব নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা।
রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যারা শহিদ হয়েছেন, সেই অকুতোভয় শহিদদের গৌরবময় আত্মত্যাগের পথ ধরে বর্তমানে দেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে বলে বাণীতে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহিদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করা যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আবারও আল্লাহর দরবারে সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
১৮ দিন আগে
ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, ২০৩৪ সালের মধ্যে ৯ কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য
সরকারের পর্যায়ক্রমিক সব কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় আনতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ২০৩৪ সালের মধ্যে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ এবং রাষ্ট্র উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ডের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের কোনো করুণা বা দয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে আলাদা আলাদা সব কার্ডের সমন্বয়ে এই সর্বজনীন বা ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয় ও কার্ডে সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।
তিনি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু যখন দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের কথা আসে, তখন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি এবং বিদেশি তাবেদারি রুখতে হলে রাষ্ট্র এবং দেশের জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী এবং শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই শক্তিশালীকরণের প্রথম ধাপই হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা।
দেশের ঋণনির্ভর অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়ে একটি টেকসই বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের বিস্তারিত রূপরেখাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সেখানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকেই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, সরকার কেবল যুবসমাজকে ঘরে বসিয়ে না রেখে দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তি সম্পদে রূপান্তর করতে চায়। এই লক্ষ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ, ব্লু ইকোনমি ও ইকোট্যুরিজম খাতে আরও ১০ লাখসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে পর্যায়ক্রমে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়া যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী গড়ে তুলতে দেশজুড়ে বিভিন্ন ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ১০ হাজার নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ার পরিকল্পনা
অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশ রক্ষায় একটি বিশাল সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশকে শুধু রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবেই শক্তিশালী করা আমাদের লক্ষ্য নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের ভূমিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বসবাসযোগ্য করে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে স্বেচ্ছাশ্রম এবং সরকারি উদ্যোগে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক সুবিশাল মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যার সফল বাস্তবায়নে প্রতি বছর গড়ে ৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। এই প্রকল্পের সফলতার জন্য দেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার, যার মাধ্যমে নতুন করে আড়াই লাখ তরুণ-তরুণীর বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী আনন্দের সঙ্গে জানান, আজ সকালেই তিনি প্রাথমিক স্কুলের বাচ্চাদের একটি অনুষ্ঠানে সশরীরে এবং দেশের বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হয়ে একযোগে প্রায় ২ লাখ গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
দুর্নীতির টুঁটি চেপে হলেও নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর সরকার
এ সময় দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও অগ্রাধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। এই বিপুল অর্থ পাচার ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণেই দেশের সার্বিক অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও জনজীবনের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কালো অধ্যায় থেকে দেশকে বের করে আনতে বর্তমান সরকার যে কোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরতে বদ্ধপরিকর।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। আমরা বাহিনীকে এমনভাবে গড়ে তুলব, যাতে তারা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে পারে।
এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সাধারণ নাগরিক, কৃষক, শ্রমিক ও শিক্ষকদের অন্যতম প্রধান চাওয়া একটি নিরাপদ পরিবেশ। প্রত্যেক মানুষ চায় দিনশেষে কাজ শেষে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে এবং পরিবার নিয়ে স্বস্তিতে সময় কাটাতে। জনগণের এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, সরকার কোনো ধরনের উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদ বরদাশত করবে না এবং এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখতে বিরোধী দলেরও সমর্থন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনি ৩১ দফাকে জনগণের ম্যান্ডেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের রায়ে এটি এখন সমগ্র দেশের উন্নয়ন রূপরেখায় পরিণত হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা এবং ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ এবং পাঁচ বিভাগে পাঁচটি ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিহিংসা নয়—ন্যায়পরায়ণতাই হবে রাজনীতির ভিত্তি।
১৯ দিন আগে
‘মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক’ তৈরিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
‘মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে কোমলমতি শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই কাজের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়। কারণ তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ এবং দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি একটি মানবিক বাংলাদেশ আমাদেরকে গড়ে তুলতে হয়, যদি একটি মানবিক বাংলাদেশ আমাদের গড়ে তুলতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের যে ছোট কোমলমতী শিশুগুলো আছে, তাদের আমাদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমরা যদি মানবিক মানুষ হিসেবে তাদের গড়ে তুলতে পারি, তাহলেই আমরা মানবিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রটি রচনা করতে পারব।’
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে—আসুন, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সহযোগিতা করুন। এই মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যে সৈনিকদের দরকার, সেই সৈনিকরা কিন্তু আপনাদের কাছে আছে, আপনাদের সামনে আছে। সেই সৈনিকদের আপনারাই নিয়ন্ত্রণ করেন। আপনারাই তাদের গড়ে তোলার কারিগর।
১৯ দিন আগে
বিজয়ীদের হাতে জাতীয় শিক্ষা পদক পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে কবিতা আবৃত্তি, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও বিষয়ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ২১টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার তুলে দেন।
একই সঙ্গে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকের আওতায় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পদক, সনদপত্র ও সম্মাননা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে শিশু শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
১৯ দিন আগে
শিশুদের প্রতিবছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব দেশ গড়তে সবাইকে বেশি করে গাছ লাগানোর অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি শিশুদের প্রতিবছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর এবং সেই গাছ সম্পর্কে জানার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানের আগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। একই সময়ে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে একযোগে প্রায় দুই লাখ গাছের চারা রোপণের কার্যক্রম শুরু হয়।
শিশু শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা চেষ্টা করবে প্রতিবছর অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে। সেটা স্কুলে হোক কিংবা বাসার আশপাশে—যেখানেই সুযোগ পাও, একটি গাছ রোপণ করবে।
তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছ সম্পর্কে জানতেও হবে। কোন গাছ কত অক্সিজেন উৎপাদন করে, মানুষের কী উপকারে আসে এবং পরিবেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এসব বিষয়ে ইন্টারনেট ও বিভিন্ন উৎস থেকে জানার পরামর্শ দেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর একটি নতুন গাছ সম্পর্কে জানতে পারলে তোমাদের জ্ঞানের পরিধিও বাড়বে। স্কুলে লাগানো গাছ বড় হয়ে একসময় তোমাদের ছায়া দেবে, বিশ্রামের জায়গা হবে। আর বাড়িতে লাগানো গাছ বড় হলে পরিবেশ হবে আরও শীতল ও বাসযোগ্য।
তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ কেবল একটি কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বিনিয়োগ। পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গাছ লাগানোর বিকল্প নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি অত্যন্ত স্মরণীয়। আজ আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের মাটিতে একসঙ্গে অসংখ্য গাছ রোপণ করলাম। এই উদ্যোগ দেশের সবুজায়নকে আরও এগিয়ে নেবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শিশু শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রাণ-প্রকৃতি বিষয়ক বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৯ দিন আগে
তরুণ উদ্যোক্তাদের পূর্ণ সরকারি সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
দেশের তরুণ উদ্যোক্তা ও সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোর জন্য সরকার সবসময় পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নতুন কিছু করার পথ সহজ নয়, তবে সরকার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করবে, যাতে তারা নিজেদের উদ্যোগের মাধ্যমে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখতে পারেন।
তারেক রহমান বলেন, আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে, আপনাদের সহযোগিতা করার জন্য, পথ দেখানোর জন্য। আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। কতটুকু পারব আমি জানি না, কিন্তু যতটুকু পারব সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
‘স্টার্টআপে গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা এখানে নতুন উদ্যোক্তা বা সম্ভাব্য উদ্যোক্তা রয়েছেন, যারা এগিয়ে আসতে চাচ্ছেন, যারা কিছু করতে চাচ্ছেন, আপনাদের শুধু একটা কথা বলি—আপনারা যেটা করতে চাইছেন, এটা খুব সহজ কাজ নয়, খুবই কঠিন। কিন্তু আপনি পারবেন যদি আপনার ইচ্ছা থাকে।
উদ্যোক্তাদের অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের এরকম অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে আপনাদের এতটুকু বলতে পারি, এই মুহূর্তে সরকারের অবস্থান থেকে আমি বলতে পারি, আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে, আপনাদের হেল্প করার জন্য, আপনাদের পথ দেখানোর জন্য। আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। কতটুকু পারব আমি জানি না, কিন্তু আমরা আছি, যতটুকু পারব সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।’
২০ দিন আগে
যার যার অবস্থান থেকে আশপাশের পরিবেশ রক্ষার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; নিজেদের বাড়ি, পাড়া, খাল ও জনসমাগমস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সবার।
সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন স্মৃতিসৌধ-সংলগ্ন সাগরদী খালের দুই পাশে সাড়ে তিনশ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এই খালের দুই পাশে সাড়ে তিনশর মতো চারা রোপন করব। স্থানীয়দের সবার কাছে আমার আহ্বান থাকবে, এই যে চারাগুলো আমরা আজকে রোপন করব, এগুলো রোপনের পরই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না; এই গাছগুলোর যত্ন আমাদের নিতে হবে।
স্থানীয় জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, এই যে খালটা বয়ে যাচ্ছে, এই গাছগুলো যখন বড় হবে, তখন খালটা দেখতে আরও সুন্দর হবে। খালের পাড়ে তখন বসতে আরও ভালো লাগবে। বেঞ্চে যখন আপনারা বসে থাকবেন, তখন নিশ্চয়ই বাতাসটা, বাতাসে আরামবোধ করবেন।
তারেক রহমান বলেন, সাগরদী খাল সংরক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং এর রক্ষণাবেক্ষণকে শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার কথায়, ‘এই খালটির যত্ন করা শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়, খালের দুপাশে যত মানুষ আছে, সবাইকে আমাদের এই খালের যত্ন করতে হবে।’
২১ দিন আগে