প্রধানমন্ত্রীর-কার্যালয়
সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি সফরে প্রথমবারের মতো বিভাগীয় শহর সিলেটে পৌঁছেছেন তারেক রহমান।
শনিবার (২ মে) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তিনি একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুত্তাদীর, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
হজরত শাহ জালাল (র.) ও হজরত শাহ পরাণের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মসূচি শুরু করবেন।
পরে বেলা ১১টার দিকে সিলেট সার্কিট হাউস-সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের চাঁদনিঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার সিলেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
আজ দুপুর ১২টায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর বেলা ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু ও কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বিকেল ৫টায় সিলেট শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এতে স্থানীয় রাজনীতি ও সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। সড়কদ্বীপে নতুন করে গাছ লাগানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফেস্টুন টানানো হয়েছে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন উন্নয়নসংক্রান্ত দাবিদাওয়াও সামনে আনছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত সমাপ্তকরণ।
সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ২৫ দফা দাবি জানিয়েছে সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরাম। সংগঠনের সভাপতি চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদের সই করা ওই দাবিগুলোর মধ্যে আছে— সিলেটকে ‘আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী’ ঘোষণা, বিভাগকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গেজেট প্রকাশ এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিনবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ।
এছাড়া সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ আধুনিকায়ন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বিমানবাহিনীর ঘাঁটি স্থাপন, সিলেটে প্রকৌশল ও পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পুনঃস্থাপনসহ নানা দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদ-নদী ও খাল খনন, তেল সংরক্ষণাগার স্থাপন এবং বিরতিহীন আধুনিক ট্রেন চালুর বিষয়টিও দাবির তালিকায় আছে।
প্রায় দুই দশক পর গত ২১ জানুয়ারি সিলেট সফর করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার প্রথম সিলেট সফর ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তার এই সফর সফল করতে দল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরে স্বাগত মিছিল করে মহানগর বিএনপি। স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও পৃথক মিছিল হয়েছে।
মিছিল শেষে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎসাহ দেখা গেছে। তার উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সিলেটসহ পুরো দেশ এগিয়ে যাবে বলে সবার প্রত্যাশা।
৪৮ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহাবুব আনাম স্বপন এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি. খোজিনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
৫২ দিন আগে
রান্নার কষ্ট লাঘবে নারীদের ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
রান্নার কষ্ট লাঘব করতে সরকার ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সারা দেশের মা-বোনদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের রান্নার কষ্ট দূর করতে এলপিজি কার্ডও দেওয়া হবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী খাল পুনর্খনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে শার্শায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে সমাবেশে তিনি বলেন, মা-বোনদের একটি কারণে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়, সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক, সেটি শহরের মা-বোনই হোক। আমরা যেমন সারা দেশের মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কাজ দিতে চাই; সেটি হবে এলপিজি কার্ড। এর মাধ্যমে মা-বোনদের কাছে এলপি গ্যাস পৌঁছে দেবো। যাতে করে মা-বোনদের রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।
তারেক রহমান বলেন, ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে অলস বসিয়ে রাখলে চলবে না। এই বিশাল জনশক্তিকে দেশ গড়ার কাজে লাগাতে হবে। বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তিলে তিলে রক্ত দিয়ে হলেও তা পালন করা হবে।
তিনি বলেন, গত ৫০ বছর ধরে এই খাল ভরাট ও দখল হয়ে পড়ে ছিল। এতে কৃষকের কোনো উপকার হয়নি। আমরা এই চার কিলোমিটার খাল পুনর্খনন করছি। এর ফলে ২০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে, ১ হাজর ৪০০ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে এবং প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সরাসরি সুফল পাবে। খালের দুই পাড়ে ৩ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালে পানি থাকলে মা-বোনেরা হাঁস পালন করে বাড়তি আয় করতে পারবেন। আগামী ৫ বছরে আমরা সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার ‘জিয়া খাল’ খনন করতে চাই যাতে করে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হয়।
নারী শিক্ষার প্রসারের ব্যাপারে তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করেছিলেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের শিক্ষা ডিগ্রি (উচ্চতর) পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ ফ্রি করা হবে। পাশাপাশি মেধাবীদের জন্য থাকবে বিশেষ উপবৃত্তি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা ওয়াদা করেছিলাম ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করব। সরকার গঠনের ১০০ দিনের মধ্যেই আমরা সেই কাজ শুরু করেছি। এছাড়া বন্ধ কলকারখানাগুলো চালুর প্রক্রিয়া চলছে যাতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হয়। মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সরকারি সম্মানি ভাতার কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এখন দেশ গড়ার পালা। আমরা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সব দল মিলে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছি। সেই সনদের প্রতিটি শব্দ আমরা বাস্তবায়ন করব।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ষড়যন্ত্রের আভাস দিয়ে তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি ও দল গণঅভ্যুত্থানের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনগণের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায়। ১৭৩ দিন হরতাল করে যারা অর্থনীতি ধ্বংস করেছিল, সেই ভূত এখন আবার অন্য কারো কাঁধে আছর করেছে। এদের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
৫৩ দিন আগে
যশোরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
উলশী খাল পুনর্খনন প্রকল্পের উদ্বোধন ও নাগরিক সংবর্ধনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিতে যশোরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, তারেক রহমান আজ সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
দিনব্যাপী এই সফরে শার্শা উপজেলায় উলশী খাল পুনর্খনন প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে আজকের কর্মসূচি শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখানে এক নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন তিনি।
পরবর্তীতে, যশোর সার্কিট হাউসে জোহরের নামাজ আদায় এবং মধ্যাহ্নভোজের পর তিনি যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন এবং যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন।
৫৩ দিন আগে
উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি এ নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের এমন জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে, যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎসাহের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন।
সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মিরপুর-১ এলাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন ও গুলিস্তানসহ কয়েকটি এলাকার সড়ক থেকে কয়েক শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
এ বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করে দেবে সরকার। পাশাপাশি নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যাতে তাদের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়।
স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু ও শেষের সময় সড়কে যানজট কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব মাঠের একটি অংশ গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার ও ডিআইজি (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান।
৫৫ দিন আগে
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাটের ব্যাগ, পোশাক দেবে সরকার
পাটশিল্প রক্ষা ও পরিবেশ দূষণ রোধে আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটের তৈরি ব্যাগ ও স্কুলের পোশাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রতিটি উপজেলার দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটজাত ব্যাগ ও স্কুলের পোশাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু হবে।
রুমন জানান, পাটশিল্পকে রক্ষা এবং পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে মুক্ত করতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সাংবাদিকদের বলেন, আগামী জুলাই থেকে প্রতিটি উপজেলায় দুইটি করে স্কুলে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পের স্কুল নির্বাচন করবে স্থানীয় প্রশাসন।
মাহদী বলেন, প্রথম মাসে এক লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পাটের স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস দেওয়া হবে। সরকারের এই কার্যক্রমে প্রথম ধাপে প্রতি উপজেলার ২টি স্কুল পাবে। পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাবে।
তিনি আরও জানান, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের ব্যবহার উৎসাহিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি স্থানীয় শিল্পের প্রসার ঘটাবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা ও ন্যায্যতার বার্তা ছড়িয়ে দেবে। এই উদ্যোগ ধনী-দরিদ্র বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ও ব্যয়ে তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় করে কাজ করবে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, পাট শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। পলিথিনের কারণে যে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, সেখান থেকে জনগণকে সরিয়ে নিয়ে আসতে শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব পণ্য পৌঁছে দিতে এই কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
৫৮ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্কাউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সাক্ষাৎ
বাংলাদেশ স্কাউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সম্মেলনকক্ষে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি আরও জানান, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
রুমন জানান, সাক্ষাৎকালে স্কাউটের নেতারা তাদের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী স্কাউটের কর্মপরিকল্পনা শুনেছেন এবং তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও মানবিক নাগরিক হিসেবে তুলতে স্কাউটিং আন্দোলনের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
প্রতিনিধিদল আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য একটি আন্তর্জাতিক স্কাউট সম্মেলন সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে একটি স্কাউট স্কার্ফ পরিয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় স্কাউট প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন এবং এসব কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহসানুল হকসহ জাতীয় স্কাউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৫৮ দিন আগে
ফাতেমা এখন আমাদের পরিবারের সদস্য: প্রধানমন্ত্রী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের পরিচারিকা ফাতেমা বেগমকে নিয়ে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফাতেমা এখন আমাদের পরিবারেরই একজন সদস্য হয়ে উঠেছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) সম্মেলন-২০২৬’-এ ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, একটি নামের সঙ্গে মনে হয় আপনারা সবাই না হলেও বেশ কিছু মানুষ পরিচিত আছেন, ফাতেমা। এই মেয়েটি আমার আম্মার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে জেলেও ছিলেন। যেহেতু আম্মা অসুস্থ ছিলেন। সে অনেকদিন অনেক বছর ধরে আছে, আমাদের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে গিয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এই সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে সারা দেশ থেকে ৫০০-এর বেশি ইউএইচএফপিও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছয়টি ক্যাটাগরিতে সেরা পারফরম্যান্সকারী কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
সাম্প্রতিক একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ফাতেমার এক আত্মীয় দুদিন আগে বরিশালে তার বাড়িতে প্রসবকালীন জটিলতার সম্মুখীন হন। তখন তাকে বরিশাল হাসপাতালে নেওয়া হলো। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা বিভিন্ন জটিলতার কথা উল্লেখ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, তিনি পরে তার স্ত্রীর মাধ্যমে জানতে পারেন যে স্থানীয় পর্যায়ে, এমনকি কিছু মৌলিক চিকিৎসাও প্রদান করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, তারা তাকে সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। ফাতেমা বিষয়টি আমার স্ত্রীকে জানান এবং আমার স্ত্রী কয়েকজন মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, যার ফলে তার সেই আত্মীয় উন্নত চিকিৎসা পেতে সক্ষম হন।
তবে এমন সুযোগ সবার জন্য নেই উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ তারেক রহমান বলেন, সবাই তো আর ফাতেমা নন, আর সবাই তার আত্মীয়ও নন। সেই পরিচয়ের কারণে আমার স্ত্রী বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন এবং তদারকি করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্তরা যদি আরও একটু মনোযোগী হতেন, তবে অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব হতো। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যদি একটু বেশি সতর্ক এবং যত্নশীল হতেন, তবে সব না হলেও অন্তত বড় ধরনের অনেক সমস্যাই এড়ানো যেত।
তিনি স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও দায়িত্বশীল এবং সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, এই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, আমাদের এবং সরকারকে সহায়তা করুন যাতে ফাতেমার ঘটনার মতো কাউকে ব্যক্তিগত পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে না হয়। প্রত্যেকটি মানুষ যেন অন্তত মৌলিক স্বাস্থ্যসেবাটুকু পায়।
আরও মানবিক এবং জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে দেশের সর্বত্র ন্যায্য ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।
৬২ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিচলিত না হয়ে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিচলিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাহুল্যতা বর্জন এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে অমিতব্যয়িতা পরিহার করার অনুরোধ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সব দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও আমরা জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এখন পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তটি নিইনি। এ খাতে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার চেষ্টা করছে আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।
তিনি বলেন, জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার।
তিনি আরও বলেন, আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জনগণের বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে আমরা যেন সবাই রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে, এমনকি পারিবারিক পর্যায়ে অমিতব্যায়িতা পরিহার করি, তার জন্য আমি দেশের সব মানুষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে কারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসনকাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
দেশে বর্তমানে এক বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। কর্মক্ষম এই জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করাই এই মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারপ্রধান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়ও বিপর্যয় নেমে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরেনি দুঃখজনকভাবে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দেশে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক এবং কর্মমুখী করতেই হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার কাজটিও আমরা ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের কোনো উদ্যোগই সহজে সফল হবে না। এভাবে প্রতি খাতকে চিহ্নিত করে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে সরকার।
৬৪ দিন আগে
সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়: প্রধানমন্ত্রী
সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয় বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই এই বাহিনীর একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবার হলে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের সম্পত্তি নয়। সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি এবং মর্যাদার প্রতীক। রাষ্ট্রীয় সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের অবিচল আস্থাই হতে হবে সশস্ত্র বাহিনীর পথ চলার প্রধান ভিত্তি। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই আমাদের প্রতিটি সদস্যের একমাত্র এবং পবিত্র দায়িত্ব।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে নানা ঘটনা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই ঘটনার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে বাহিনীকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা দেখা গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো আমলে সেনাবাহিনীর ভূমিকা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেনাবাহিনী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাহিনীর ভূমিকা আরও স্বচ্ছ ও পেশাদার হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় থেকে সেনাবাহিনীর মধ্যে যে দেশপ্রেম ও শক্তিশালী মনোভাব গড়ে উঠেছিল, তা অব্যাহত রাখা জরুরি। একটি ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণকে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সময়েই এই অর্জন আন্তর্জাতিকভাবে আরও উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
সরকারপ্রধান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কেবল যুদ্ধকালীন প্রয়োজনেই একটি অবশ্যম্ভাবী শক্তি নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সীমানার বাইরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর ভূমিকা বিশ্ব-স্বীকৃত।
তিনি বলেন, আমরা এমন এক সশস্ত্রবাহিনী চাই যাদেরকে বহি:শক্তি সমীহ করবে আর দেশের জনগণ আস্থায় রাখবে। পেশাদারত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করে সশস্ত্রবাহিনীকে সবসময় একটি সুউচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকতে হবে।
এদিন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
দরবারে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন।
বিশেষত, গত ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে এখন পযর্ন্ত দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কর্তৃক সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
দরবারে ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে অবস্থানরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।
৬৮ দিন আগে