রাষ্ট্রপতির-কার্যালয়
প্রথমবার বঙ্গভবন পরিদর্শন ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ স্কুলশিক্ষার্থীদের
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন চালু হওয়া নীতির আওতায় প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনে স্কুলশিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সুশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে বঙ্গভবনে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তোমরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তোমাদের মধ্যেই আমরা দেখতে পাই নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গভবন ভ্রমণ-সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬-এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদের নেতৃত্বে শিক্ষকদের সঙ্গে সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির নির্বাচিত একদল মেধাবী শিক্ষার্থী বঙ্গভবন পরিদর্শনে যায়।
শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবনের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখার পর দরবার হলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সেখানে রাষ্ট্রপতি তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশ নেন তিনি।
তরুণ প্রজন্মকে বঙ্গভবন ও রাষ্ট্রের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্যে মির্জা ফখরুল মা-বাবা, শিক্ষক ও বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি সন্তানদের মা-বাবার ত্যাগের কথা মনে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজেদের সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে যেমন মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ হবে, তেমনি জাতির প্রত্যাশাও পূরণ হবে।
বঙ্গভবন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, এটি শুধু একটি ভবন নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতীক ও ইতিহাসের সাক্ষী।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গভবন, রাষ্ট্র ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বিষয়ে আগ্রহ গড়ে তুলতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে বঙ্গভবনে নিয়ে আসা হবে।
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন উদ্ভাবন নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান মির্জা ফখরুল।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব, প্রেস সচিব ও বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
গণতান্ত্রিক গণমাধ্যম জনগণের সবচেয়ে বেশি উপকারে আসে: রাষ্ট্রপতি
গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম যদি গণতান্ত্রিক হয় এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে কাজ করে, তাহলে তা জনগণের সবচেয়ে বেশি উপকারে আসে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
গণমাধ্যম কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিতে সংগঠনের ভূমিকার ওপরও গুরুত্বরোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, সব কর্মী ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণে সোচ্চার হতে হবে। তিনি সাংবাদিকদের নিজেদের পায়ে শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর ওপরও জোর দেন।
এ সময় অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুতি, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতার বিচার নিশ্চিতসহ গণমাধ্যম কর্মীদের মূল সমস্যাগুলো সমাধানে পেশাদার সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে ডিআরইউ প্রতিনিধিদল সংগঠনের পরিচিতি ও সংগঠনের সদস্যের জন্য ডিআরইউ পরিচালিত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে।
তারা সংগঠনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ‘বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানায় প্রতিনিধিদল।
রাষ্ট্রপতি এ সময় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে তার বিভিন্ন কর্মসূচির কথা স্মরণ করেন এবং সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি ডিআরইউর উন্নয়নে সহায়তার বিষয়ে সদস্যদের আশ্বস্ত করেন এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা ছিলেন।
এছাড়া সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, প্রেস সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, অন্যায়, অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং সেগুলো পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল বার্তা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকার রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা খুব দৃঢ় কণ্ঠে বলতে পারি, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক যে সম্প্রীতি রয়েছে, তা বিশ্বের আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই।’
বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, সহিংসতা ও বিদ্বেষ বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্গাপূজা তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব ন্যায়বিচার, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের মূল্যবোধ তুলে ধরে।
তিনি আরও বলেন, এ দেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব ঘটেছে, আর বাংলাদেশের মানুষ তাদের পরাজিত করেছে।
রমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয় এবং পরে ১৯৭৩ সালে এটি ভেঙে ফেলা হয়। যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলত, তাদের হাতেই এই অপকর্ম হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে ২০০১ সালে মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।
১০ দিন আগে
বেকারত্ব কমাতে শ্রমবাজারমুখী উচ্চশিক্ষার ওপর রাষ্ট্রপতির গুরুত্বারোপ
সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা।
এ লক্ষ্য অর্জনে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষম স্নাতক তৈরি করতে পারে এবং কেউ বেকার না থাকে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ করারও আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক স্নাতক বেকার থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কারখানা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বিশেষায়িত সংস্থা, এমনকি বেসরকারি সংস্থাগুলোকে বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আধুনিক ও উচ্চমানের শিক্ষা দেওয়ার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দক্ষ ও চাকরির উপযোগী জনশক্তি গড়ে তুলতে শিল্প ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের পরামর্শও দেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি মূলত দাতব্য ও অলাভজনক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
মেধাবী, আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও বিশেষ কোটার আওতাভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩২ কোটি টাকার টিউশন ফি মওকুফ ও বৃত্তি দিয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।
এ সময় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিবের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সচিব, ট্রাস্টি, সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।
১১ দিন আগে
কৃষিশ্রমিক ধরে রাখতে কৃষিকে লাভজনক করার ওপর গুরুত্ব রাষ্ট্রপতির
কৃষিকাজ থেকে পর্যাপ্ত আয় না হওয়াই কৃষিশ্রমিক পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ার প্রধান কারণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ খাতকে লাভজনক করতে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) সফরকালে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মাঠে গিয়ে দেখবেন, শ্রমিক পাওয়া যায় না। কারণ কী? কারণ হচ্ছে, সে মাঠে একটু কাজ করে যে আয় করে, সেটা তার জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট নয়।’
তিনি আরও বলেন, কৃষিতে শ্রমিকের সংকটকে শুধু শ্রমিক খুঁজে পাওয়ার সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। মানুষকে এই পেশার প্রতি নিরুৎসাহিত করা মূল অর্থনৈতিক কারণগুলোরও সমাধান করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, কৃষিকাজ এখন আর লাভজনক না হওয়ায় মানুষ এ পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে আপনাদের কাজ করতে হবে এবং কৃষিকে লাভজনক করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে কাজ করার সময় এসেছে।
তরুণদের আত্মত্যাগ ও গণ-অভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিরল সুযোগ তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। সবাই একটু ধৈর্য ধরে ধীরে ধীরে যদি সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করি, তাহলে অবশ্যই আমরা সফল হতে পারব বলে বিশ্বাস করি।
সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, বারির মহাপরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির ও ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বারির মহাপরিচালকের স্বাগত বক্তব্যের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রীও বক্তব্য দেন।
এর আগে সকাল সোয়া ১০টায় রাষ্ট্রপতি বারিতে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়।
পরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এরপর উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্রে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন।
১৩ দিন আগে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি চান রাষ্ট্রপতি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকা মাদকমুক্ত রাখতে এবং শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাদকের অপব্যবহার থেকে সুরক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা ও সমস্যার বিষয়েও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধিদলকে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
উপাচার্য উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্যও রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা, সহকারী অধ্যাপক ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও শিক্ষা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি
মেয়েদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা এবং তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে সরকার, পরিবার ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ প্রতিপাদ্যে এ বছর দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ শুধু একটি বিয়ে নয়। এটি শৈশবের অবসান, শিক্ষার ব্যাঘাত ও সম্ভাবনার অপচয়।’
তিনি মেয়েদের স্কুলে যাতায়াতের পথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইন জগতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার ও আইনের কঠোর প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পেতে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯, ১০৯৮ ও ৯৯৯ সম্পর্কে পরিবার ও শিশুদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সঠিক সময়ে করা একটি ফোনকল শিশুর জীবন ও শৈশব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মেয়েদের শিক্ষা মৌলিক অধিকার, আর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেন, ‘কন্যাশিশুর জন্ম কোনো বোঝা নয়; এটি অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, বাল্যবিবাহের ফলে অল্প বয়সে মাতৃত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ও সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মেয়েরা নিজেদের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
তিনি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি মেয়েদের কল্যাণে ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মেয়েদের আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে আলোচনার সময় ছেলেদের পাশাপাশি তাদেরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
বাল্যবিবাহের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দারিদ্র্যের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মেয়েদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষা, উপবৃত্তি, বিদ্যালয়ে পুষ্টিকর খাবার এবং সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জন্মনিবন্ধন যাচাইব্যবস্থা শক্তিশালী করা, মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।
নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ১৯৭৬ সালে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং ১৯৭৮ সালে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়টির নাম পরিবর্তন করে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় করা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময় বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মেয়েদের বিনা মূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকারও মেয়েদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের সুফল প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েসহ প্রত্যেক কন্যাশিশুর কাছে পৌঁছাতে হবে, যাতে লিঙ্গপরিচয়, নিরাপত্তার উদ্বেগ কিংবা পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা তাদের স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের নারীদের অর্জনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি পর্বতারোহী নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট জয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, দেশের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীরা সাহসিকতা দেখিয়েছেন ও নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছেন।
শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, ব্যবসা, জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীরা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন করেন, ‘শৈশবে এসব মেয়ের হাতে বইয়ের বদলে যদি বিয়ের শাড়ি তুলে দেওয়া হতো, তাহলে কি আজ আমরা তাদের এই অর্জনগুলো দেখতে পেতাম?’
তিনি আরও বলেন, ‘কন্যাশিশুরা জয় করবে বিশ্ব’ স্লোগানটি নিছক কাব্যিক কথা নয়; এটি বাংলাদেশের বাস্তব সম্ভাবনার প্রতিফলন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মানবসভ্যতা ও এর অগ্রগতিতে নারী ও পুরুষ পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে অবদান রেখেছেন।
মেয়েদের বোঝা নয়, সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করতে এবং ছেলে ও মেয়ের জন্য সমান মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের সম্মান করতে এবং তাদের মতামতের মূল্য দিতে শেখানোর পরামর্শ দেন তিনি।
কন্যাশিশুদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে, দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি বড় স্বপ্ন দেখতে ভয় না পেয়ে লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
অন্যায়, নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হলে নীরব না থেকে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি। প্রয়োজনে উপযুক্ত হেল্পলাইনের মাধ্যমে সহায়তা নিতেও বলেন তিনি।
মেয়েদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, প্রশাসনিক দক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, বিবাহ নিবন্ধক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে প্রতিটি কন্যাশিশু নিরাপদে জন্ম নেবে, ভয়হীন পরিবেশে বেড়ে উঠবে, শিক্ষা গ্রহণ করবে, দক্ষতা অর্জন করবে, স্বাবলম্বী হবে এবং নিজের দেশ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গর্ব করতে পারবে।
তিনি বলেন, ‘আর কোনো বাল্যবিবাহ নয়। আর কোনো বৈষম্য নয়। কোনো কন্যার স্বপ্ন থামিয়ে দেওয়া হবে না। কন্যা এগিয়ে যাবে। কন্যারাই বিশ্ব জয় করবে।’
বাংলাদেশের সব কন্যাশিশুর সুস্থ, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শিশুর নিরাপদ, সফল ও কল্যাণময় জীবন কামনা করেন তিনি।
১৬ দিন আগে
সেবার মান বাড়লে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমবে: রাষ্ট্রপতি
দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সেবার মান আরও বাড়ানো গেলে রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা আরও কমে আসবে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশের হেপাটোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পেশাজীবীদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করা উচিত, যাতে তারা আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম রাষ্ট্রপতিকে জানান, দেশেই এখন লিভার ট্রান্সপ্লান্টের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ডায়াবেটিস, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে দেশে ফ্যাটি লিভারের রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এবং হেপাটাইটিস-বি রোগীর সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
এ সময় অধ্যাপক শাহিনুল আলম আসন্ন এশিয়ান প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার (এপাসল) সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে প্রতিনিধিদলকে আশ্বাস দেন।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও বাংলাদেশের হেপাটোলজি সোসাইটির সদস্য লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
১৭ দিন আগে
গঠনমূলক সমালোচনা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: রাষ্ট্রপতি
মতপার্থক্য, গঠনমূলক সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (৭ অক্টোবর) হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এইচএসটিইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এনামুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি গণতন্ত্রের বিকাশকে ব্যাহত করে।’
বৈঠকে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টিও রাষ্ট্রপতিকে জানান।
শিক্ষক পদে শূন্য পদ পূরণ, ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনসহ অন্যান্য বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন উপাচার্য।
এ সময় রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধিদলকে এসব সমস্যা সমাধানে তার সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দেশের তুলনামূলকভাবে কম উন্নত উত্তরাঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষার মান বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতিকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।
২১ দিন আগে
গণতন্ত্রের জন্য অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন ও বিরোধীদের পরিসর জরুরি: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে গণতন্ত্রের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। সেই সঙ্গে তিনি গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং বিরোধী দল ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের পর্যাপ্ত পরিসর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে গণতন্ত্রের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। এ জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অপরিহার্য।’
গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে বিরোধী দল ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের পর্যাপ্ত পরিসর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে তার নিজস্ব গতিতে কার্যকরভাবে চলতে দিতে হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠই নয়, বাংলাদেশের রাজনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার মান আরও উন্নত করে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ৫৪তম সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেন, তিনি সমাবর্তনে উপস্থিত থাকবেন।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে