সংসদ-সচিবালয়
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে সরেজমিন পরিদর্শনের সুপারিশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেও বিগত সরকারের সময় বৈষম্যের কারণে এমপিও সুবিধা থেকে বঞ্চিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাবোর্ডসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব অভিযোগ তদন্তে সংসদীয় কমিটির সরেজমিন পরিদর্শনের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া এমপিওভুক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার পরও বিগত সরকারের সময়ে বৈষম্যের শিকার হয়ে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সেগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে এমপিওভুক্তির বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে জ্ঞানভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও নৈতিকতাসম্পন্ন জাতি গঠনের লক্ষ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কমিটি আরও জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২৫ হাজার অবসরভোগী শিক্ষকের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে এবং এ বছর বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে।
কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া, মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, মো. জাহান্দার আলী মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মো. মুজিবুর রহমান ও আতিকুর রহমান মুজাহিদ অংশ নেন। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৮ ঘণ্টা আগে
এসআরবি বিল পাস, বিলুপ্ত র্যাব
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। এর ফলে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনের পথ তৈরি হলো।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র বিরোধিতার মধ্যেই জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিলটি পাস হয়।
২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ থেকে র্যাব-সংক্রান্ত বিধানগুলো বাদ দিয়ে এসআরবি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে এ বিলে। ওই অধ্যাদেশের ভিত্তিতেই র্যাব গঠনের আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছিল। সংশোধিত ওই অধ্যাদেশের অধীনে ২০০৪ সালে র্যাব গঠিত হয়। তার পর থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুমের অভিযোগসহ বিভিন্ন সমালোচনার মুখে পড়ে বাহিনীটি।
এখন সরকার ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে এসআরবি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) জন্য পৃথক আইন প্রণয়ন করছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর সংসদে এসআরবি বিলটি উত্থাপন করা হয়। ওই সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিলটি উত্থাপনের বিরোধিতা করে বলেন, নতুন নামে কার্যত র্যাবকেই পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সংসদীয় কমিটিতে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময়ও তারা আটটি বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি দ্রুত বিবেচনার জন্য সংসদে তোলেন। কিন্তু বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর পাশাপাশি পাসের আগে জনমত নেওয়ার দাবি জানান।
আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন, মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, নুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এস কে মুজিবুর রহমান ইকবাল।
বিলে পুলিশের অধীনে এসআরবি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মকর্তা, সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগ বা পদায়নের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করা হবে।
এসআরবির সদস্যদের পদমর্যাদার কাঠামো, নিয়োগপ্রক্রিয়া ও চাকরির শর্তাবলি বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। ইউনিটটির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও নির্ধারিত পোশাক থাকবে।
এছাড়া এসআরবির মহাপরিচালক হবেন কর্মরত কোনো পুলিশ কর্মকর্তা, যার পদমর্যাদা অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) নিচে হবে না।
বিল অনুযায়ী, র্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক স্থিতি, দায়-দায়িত্ব, চুক্তি, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, নথিপত্র ও অন্যান্য দলিল এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নতুন আইনের অধীনে বিধি প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ২০০৫ সালের বিধির আওতায় র্যাব-সংক্রান্ত বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম ও আদালতের কার্যক্রম বহাল থাকবে।
এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও সম্পত্তি জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হবে। ইউনিটটির অধীনে হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখারও বিধান রয়েছে।
এছাড়া নাগরিকদের অভিযোগ ও ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। ইউনিটটির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ও গুমের ঘটনায় কথিত সম্পৃক্ততার কারণে মানুষ এখনও র্যাবকে ভয় পায়।
যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে বিলটি পাসের সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানান।
বিরোধীদলীয় এই সংসদ সদস্য আরও প্রশ্ন করেন, প্রস্তাবিত অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির কাছে অভিযোগগুলোর যথাযথ প্রতিকার দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকবে কি না। তিনি কমিটির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতিকে রাখার প্রস্তাবও দেন।
তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কোথায় রাখা হবে, বিলটিতে তা স্পষ্ট করা হয়নি। এসআরবির সব স্থাপনা ও কার্যালয় গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করারও দাবি জানান তিনি।
নাজিবুর রহমান ২০১৪ সালের নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ওই ঘটনার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া র্যাব বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পরে খালেদা জিয়া র্যাবকে ‘ক্যানসার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এবং ২০২৪ সালে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে র্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক ব্যবস্থা, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও র্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল।
তার মতে, র্যাবের জনবল, কার্যালয়, ক্ষমতা, নথিপত্র, সম্পদ, চুক্তি ও দায়-দায়িত্ব এসআরবির কাছে হস্তান্তরের অর্থ হলো ‘শুধু সাইনবোর্ড পরিবর্তন করা হচ্ছে’।
শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে র্যাব বিলুপ্ত করার দাবি ছিল। তবে একই ধরনের আরেকটি বাহিনী গঠনের দাবি কেউ করেনি।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত আইনে র্যাবের সদস্য, সুযোগ-সুবিধা, লজিস্টিকস ও জনবল বহাল রেখে শুধু নাম পরিবর্তনের বিষয়টি দেখা যাচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতা সরকারকে বিলটি প্রত্যাহার করে প্রথমে এ ধরনের একটি বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা কেন রয়েছে, তা নির্ধারণের আহ্বান জানান।
বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করা বিএনপির অঙ্গীকার ছিল। বিলটি বিলম্বিত করার অর্থ হবে র্যাবের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা।
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় কমিটিতে বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে জনমত দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও এটি রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ইউনিটের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অভিযোগের বিষয়গুলো অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি দেখবে।
তিনি আরও বলেন, আইনটি পাস হওয়ার পর র্যাব বিলুপ্ত হবে এবং এরপর এসআরবি নামে নতুন একটি ব্যাটালিয়ন গঠন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে র্যাবের কাছে থাকা সম্পদ ও সরঞ্জাম কোথাও না কোথাও হস্তান্তর করতেই হবে, কারণ এগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। নতুন সংস্থার কাছে এসব হস্তান্তর করা হলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নতুন করে কেনাকাটা করতে হবে না বলেও জানান তিনি।
এপিবিএন বিলও পাস
এসআরবি বিল পাসের পর জাতীয় সংসদ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬-ও পাস করেছে। এর মাধ্যমে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।
বিলে পুলিশের অধীনে এপিবিএন ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, পার্বত্য ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন ও সরকার নির্ধারিত অন্য যেকোনো ব্যাটালিয়ন থাকবে।
প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রযোজ্য অন্যান্য আইনের অধীনে থেকে তারা কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, সম্পত্তি জব্দ ও গ্রেপ্তারও করতে পারবে।
এছাড়া উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া এপিবিএনের সদস্যদের সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা নথি প্রকাশ করা কিংবা প্রকাশে সহায়তা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো ও জনমত নেওয়ার বিষয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে এপিবিএন বিল পাস হয়।
২০ ঘণ্টা আগে
সংসদে আরও একটি কমিটি গঠন, পুনর্গঠিত দুটি
অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এ পর্যন্ত গঠিত সংসদীয় কমিটির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬টিতে।
হবিগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়াকে সভাপতি করে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এই কমিটি গঠন করা হয়।
এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয় ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত দুটি বিদ্যমান সংসদীয় কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে দুটি কমিটির কয়েকজন সদস্যের পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এদিন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি একটি কমিটি গঠন ও বিদ্যমান দুটি কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেন। পরে সংসদে কণ্ঠভোটে তার প্রস্তাবগুলো পাস হয়।
জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ৩৯টি ও বিষয়ভিত্তিক কমিটি ১১টি। তবে এই ৫০টি সংসদীয় কমিটির মধ্যে এ পর্যন্ত ৪৬টি গঠন করা হয়েছে।
১ দিন আগে
আরও ৪ সংসদীয় কমিটি গঠন
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আরও চারটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এ পর্যন্ত গঠিত সংসদীয় কমিটির সংখ্যা দাঁড়াল ৪০টিতে।
নবগঠিত চারটি কমিটি হলো—কার্যপ্রণালি বিধি-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি, সরকারের প্রতিশ্রুতি-সম্পর্কিত কমিটি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং পিটিশন কমিটি।
কার্যপ্রণালি বিধি-সম্পর্কিত কমিটি ও পিটিশন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে। অন্যদিকে সরকারের প্রতিশ্রুতি-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে (নোয়াখালী-১) এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিএনপির সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশাকে (বগুড়া-৬)।
প্রথম তিনটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। আর পিটিশন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
পরে সংসদে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবগুলো পাস হয়।
জাতীয় সংসদে ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি স্থায়ী কমিটি ও বিষয়ভিত্তিক ১১টি কমিটি রয়েছে।
এ পর্যন্ত ৪০টি সংসদীয় কমিটি গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩১টি স্থায়ী কমিটি ও বিষয়ভিত্তিক ৯টি কমিটি রয়েছে।
৩ দিন আগে
সরকার ৩ চাকার বৈদ্যুতিক যান নিয়ন্ত্রণে আনবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইকসহ আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ তিন চাকার বৈদ্যুতিক যানকে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু (সংরক্ষিত নারী আসন-৪) কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেওয়া নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তুলনামূলক কম ভাড়া, সহজলভ্যতা ও স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের সুবিধার কারণে গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও এ ধরনের তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান শহর ও গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, এ খাত চালক, মালিক, গ্যারেজ মালিক ও শ্রমিক, ব্যাটারি ও খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী, চার্জিং সেবা প্রদানকারী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি বড় অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান নেটওয়ার্কও তৈরি করেছে।
তবে এ খাতের দ্রুত ও অনেকাংশে অনিয়ন্ত্রিত সম্প্রসারণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, যানজট, পরিবেশদূষণ, জনস্বাস্থ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক যানবাহন একই সময়ে চার্জ দেওয়ায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
মন্ত্রী এসব যানবাহনে ব্যবহৃত লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি অনিরাপদভাবে ব্যবহার এবং নিয়ম না মেনে পুনর্ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এই বিপুল চাহিদার বিপরীতে দেশে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। অন্যদিকে শুধু ঢাকাতেই অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে ৪৮ হাজারের বেশি। তিনি বলেন, এর ফলে অনুমোদনহীনভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
নিবন্ধনহীন যানবাহন, অপ্রশিক্ষিত চালক, ত্রুটিপূর্ণ নকশা, দুর্বল ব্রেক ও আলোকব্যবস্থা, অতিরিক্ত গতি এবং মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তার উল্লেখ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৯১১ জন নিহত ও ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ ছিল ব্যাটারিচালিত রিকশা।
রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে পরিচালিত রিকশার গ্যারেজের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) যৌথ অভিযানও পরিচালনা করছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অটোরিকশাকে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হলে অনুমোদিত ও বৈধ অটোরিকশাকে নম্বর প্লেট দেওয়ার মাধ্যমে লাইসেন্সিং ব্যবস্থার আওতায় আনা, কিউআর কোডের মাধ্যমে চালকদের নিবন্ধন শনাক্ত করা এবং ধাপে ধাপে চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, সম্ভাব্য নির্দেশনার আলোকে অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া, রুট নির্ধারণ, চালক ও তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগ করা হবে। এসব পদক্ষেপ রাজধানীর যানজট কমাতে, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।
যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে রাজধানীর ১৭টি ট্রাফিক সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা চালু রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে এসব ক্যামেরা ইতিবাচক ফল দিয়েছে। রমনা ও তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের আওতায় আরও ২০০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া ঢাকার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়েও ধীরে ধীরে আরও এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
রেহানা আক্তার রানু তার নোটিশে বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এআইভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপনের পর, বিশেষ করে রাজধানীর সড়কে ধীরে ধীরে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। লাল বাতি অমান্য করা, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লেন পরিবর্তন ও গতিসীমা অতিক্রমের মতো আইন লঙ্ঘনের ঘটনা কমেছে। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো এখনও নিয়ম না মেনে বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, এসব যানবাহনে নম্বর প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরা সেগুলো শনাক্ত করতে পারলেও জরিমানা করা সম্ভব হয় না।
তিনি আরও বলেন, এসব বেপরোয়া যান নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই। অন্তত প্রধান সড়কগুলো থেকে এসব রিকশা সরিয়ে নিতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অটোরিকশার নকশার ত্রুটি দূর করে নম্বর প্লেট সংযোজন, চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ও লাইসেন্স দেওয়াসহ সবকিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।
বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা এ খাতের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না করে সরকারকে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা উচিত বলেও মনে করেন রানু। তিনি বলেন, জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা না করে তাদের যানবাহন জব্দ করে ফেলে দেওয়া এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা ঠিক নয়।
জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারকেও শর্ত হিসেবে রাখা হবে এবং নিবন্ধন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে সংযোগ নিয়ে অবৈধ চার্জিং স্টেশন পরিচালনার কারণে রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে এবং এর সঙ্গে দুর্নীতিও জড়িত। যারা এসব অবৈধ চার্জিং কার্যক্রম পরিচালনা ও ব্যবহার করছে, তাদের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মকর্তাও এর সঙ্গে জড়িত বলেও মন্ত্রী অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, বেকারত্ব যাতে না বাড়ে, কর্মসংস্থান যাতে ব্যাহত না হয়, পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে, যানবাহনে শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি হয়—সরকার সব দিক বিবেচনায় রাখবে।
৩ দিন আগে
উপজেলা পর্যায়ে স্ট্রোক-পরবর্তী থেরাপি চালুর কথা ভাবছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, উপজেলা পর্যায়ে স্ট্রোক-পরবর্তী থেরাপি সেবা চালু করার বিষয়টি সরকারের ধাপে ধাপে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে এ জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও সরঞ্জাম থাকা সাপেক্ষে এ সেবা চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর (চট্টগ্রাম-১৫) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টার দিকে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, ডেঙ্গু, সাপের কামড় ও অন্যান্য মৌসুমি রোগের চিকিৎসায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ এবং মজুত ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হবে।
এছাড়া চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হামে সন্দেহভাজন ৮৮০ জনের মৃত্যু ও নিশ্চিতভাবে ৯৯ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত হামে সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা ৮৯৭ এবং নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ১০০-তে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৭।
৩ দিন আগে
১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে: প্রতিমন্ত্রী
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ আশার কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগস্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে সৃষ্ট মানুষের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অবগত এবং এ পরিস্থিতির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে এ কথা বলছি। নিছক কথার আড়ালে সত্যকে লুকাতে চাই না। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে বাংলাদেশের মানুষ কষ্টে আছে।
চলমান সংকটের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের নীতিগত ভুলকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটও যুক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি, যা জ্বালানি সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর বাংলাদেশের অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস (এমএমসিএফডি) প্রয়োজন।
এই চাহিদার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ালে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে বিদ্যুৎ, শিল্প ও আবাসিক—এই তিন খাতের মধ্যে সরকারকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের কয়েকটি ইউনিট বন্ধ থাকাও বিদ্যুৎ সংকটের কারণ বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। আর মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একই ক্ষমতার আরেকটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ওই গ্রুপের কাছ থেকে বাংলাদেশের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
একই সঙ্গে আমদানি করা এলএনজি ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান তিনি। গত ২১ জুলাই সমস্যাটি দেখা দেয় এবং তা মেরামতে ২১ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হয়। তবে তিনি দাবি করেন, সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, এখন সরকার পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলো দ্রুত চালু করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে আগস্টে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তা যেন অন্তত সেপ্টেম্বর মাসে আর পোহাতে না হয়, সে জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’
আগামী গ্রীষ্মের কথা মাথায় রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ জোরদারে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনসহ দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় সরকারের নেওয়া ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন নীতি আগামী গ্রীষ্মে চলমান সময়ের মতো বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্বেগকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সংসদ সদস্যদের সঠিক তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি এ খাতকে ঘিরে থাকা ভুল-বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করবে সরকার।
৮ দিন আগে
দেশে-বিদেশে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ চালুর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে সংসদ অধিবেশন শুরুর পর প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়। প্রথম ৩০ মিনিটে তারেক রহমান সরাসরি চারটি লিখিত প্রশ্ন ও ছয়টি সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন।
মনিরুল হকের একটি তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৬ সালে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সব কওমি মাদরাসার সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনার জন্য ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামী’য়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর অধীনে সরকার ২০১৮ সালে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সনদকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমমান দিয়ে একটি আইন প্রণয়ন করে এবং ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়।
সেই ছয়টি বোর্ড হলো বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আনজুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ (কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড), আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তাঅলীম বাংলাদেশ বোর্ড, তানজিমুল মাদারিসিদ্বীনিয়া বাংলাদেশ ও জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ।
তারেক রহমান জানান, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ সংশোধনের পর গত ২৩ জুন ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদ স্বীকৃতি পায়।
এর ফলে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) ডিগ্রির পাশাপাশি ইলমুল কিরাত বা হিফজুল কোরআন সনদধারীরা সহকারী মৌলভী (ক্বারী) ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সাধারণ শিক্ষা কারিকুলামে আরও আরবি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা ইতোমধ্যে নিয়মিত কারিকুলামের অংশ এবং সরকার এটিকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায় তা পর্যালোচনা করে দেখতে পারে।
এছাড়া ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণের বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান তাকে এ বিষয়ে আলাদা নোটিশ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, আপনি আমাকে একটি আলাদা নোটিশ দিলে আমি বিষয়টি সঠিকভাবে খতিয়ে দেখব এবং বিস্তারিত তথ্য সংসদে উপস্থাপন করব।
৮ দিন আগে
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
আজ বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বর্তমান সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমানসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সময় বণ্টন এবং অধিবেশনের মেয়াদ নিয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ছুটির দিন এবং ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন বসবে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর অধিবেশন মুলতবি করা হবে।
প্রয়োজনে অধিবেশনের সময়সূচি ও কার্যদিবসে পরিবর্তন আনতে স্পিকারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে আগামী এক বছরে সংসদের সম্ভাব্য অধিবেশনের সময়সূচি ও মেয়াদ নিয়েও আলোচনা করা হয়।
তৃতীয় অধিবেশনের জন্য মোট ২ হাজার ৮১৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য ১৪২টি এবং অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্ন রয়েছে।
এছাড়া জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে ৮১টি নোটিশ এবং একই বিধিমালার ১৩১ বিধিতে প্রস্তাবের জন্য ২৪৯টি নোটিশ জমা পড়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এটিএম আজহারুল ইসলাম এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
স্পিকারের বিশেষ আমন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও বৈঠকে অংশ নেন।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া বৈঠকে সাচিবিক সহায়তা দেন।
১৪ দিন আগে
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু
৪৩ দিনের বিরতির পর আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন প্রসঙ্গে গতকাল (বুধবার) চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, এই অধিবেশনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশন পাঁচ, সাত বা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ বাড়ানো হবে।
চিফ হুইপ জানান, অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করা হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল রয়েছে।
সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি গত ১১ আগস্ট সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেন।
এর আগে, বর্তমান সংসদের দ্বিতীয় তথা বাজেট অধিবেশন ১৫ জুলাই ২৭ কার্যদিবস পর মুলতবি করা হয়।
ওই অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়। এটি বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট।
এছাড়া ওই অধিবেশনে মোট ১১টি বিল পাস এবং ১১টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটি এবং নয়টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল চলতি বছরের ১২ মার্চ।
১৪ দিন আগে