সংসদ-সচিবালয়
আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল
প্রবীণ রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।
বঙ্গভবনের দরবার হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্যরা এবং বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ২৫৫টি ভোট পান এবং অলি আহমদ পান ৮৮টি ভোট।
মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ছয়জন সংসদ সদস্য এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিলেন।
ভোট দিতে না আসা এই ছয়জন ভোটার হলেন—বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, মোস্তফা কামাল পাশা ও ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মো. অলি উল্লাহ।
ওইদিনই নির্বাচন কমিশন (ইসি) মির্জা ফখরুলকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
২৩ ঘণ্টা আগে
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর লাল গোলাপ শুভেচ্ছা
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ফল অনুসারে, ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
১ দিন আগে
জাতীয় সংসদ গবেষণা নীতিমালা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ গবেষণা নীতিমালা (সংশোধিত)-২০২৬-এর গবেষণা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি সাঈদ আল নোমানের সভাপতিত্ব এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় কমিটির সদস্য সংসদ সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, মহাপরিচালক আ.ন.ম. খলিলুর রহমান খান, পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. নাজমুন হক, উপসচিব মো. ফয়সাল মোর্শেদ, উপসচিব ড. মো. ওহিদুজ্জামান এবং উপপরিচালক মো. আলী আকবর অংশ নেন।
সভার শুরুতে কমিটির সভাপতি উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান। পরে জাতীয় সংসদের গবেষণা বরাদ্দ ও গবেষণা নীতিমালার আলোকে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়।
গবেষণার জন্য প্রস্তাব আহ্বানের লক্ষ্যে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার একটি করে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ গবেষণা নীতিমালা (সংশোধিত)-২০২৬-এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অনুযায়ী জাতীয় সংসদের কার্যক্রম, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, সংসদীয় কার্যক্রম এবং সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণার বিষয় ও ক্ষেত্র নির্ধারণ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনা শেষে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার একটি করে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় গবেষণা প্রস্তাব আহ্বানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া গবেষণার বিষয় নির্বাচন ও গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। বিষয়গুলো হলো—বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে কার্যকর সংসদীয় কমিটি ব্যবস্থা: বর্তমান অবস্থা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং সংস্কারের রূপরেখা; পোস্ট লেজিসলেটিভ স্ক্রুটিনি: বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তা ও কাঠামো; জনগণের সঙ্গে সংসদের সংযোগ: বর্তমান অবস্থা ও উন্নয়নের উপায় এবং ‘পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের কার্যকারিতা।
বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
পুলিশে নিয়োগে রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব বিবেচনা করেনি সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশে নিয়োগে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব বিবেচনা করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, পুলিশে নিয়োগ নিরপেক্ষভাবে এবং শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয় ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
এ প্রসঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশে নিয়োগে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব বিবেচনা করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে বিরোধী দলের দুজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা পুলিশে নিয়োগের বিষয়টি উত্থাপন করেননি।
বৈঠকে মাদক ও জুয়াকে দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এগুলো নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংসদ সদস্যরা মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে রয়েছেন উল্লেখ করে মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, মাদক নির্মূলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা, ট্রাইব্যুনাল ও এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গঠনসহ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সংস্থাগুলোর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট খাতওয়ারি বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের ৩০ জুন শেষ হতে চলা অর্থবছরের জন্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সব সংস্থার খাতওয়ারি বাজেট ও ব্যয় বিভাজনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মোট প্রস্তাবিত বাজেট ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন বাজেট ২৮ হাজার ৬৩৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন বাজেট ২ হাজার ৪৬০ কোটি ২১ লাখ টাকা।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মীর শাহে আলম, মো. কামরুজ্জামান, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নুরুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল বাতেন অংশ নেন।
এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরগুলোর মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এমপিরা ভোট দিতে পারবেন না: চিফ হুইপ
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন না হওয়ায় আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ ভোট দিলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয় নাই, সুতরাং এটা কার্যকর হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হবে।’
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভায় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ছাড়াও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপ জি কে গউছ, হুপ রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর সর্বক্ষেত্র ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২০২৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার, যাবতীয় লজিস্টিক সহায়তা প্রদান এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ-সংক্রান্ত সভার কার্যবিবরণী প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে যাবতীয় লজিস্টিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করারও পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরে সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিএনপির দলীয় প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দিয়েছে দল। তিনি প্রার্থী ঘোষণা করবেন।
বিরোধী দল থেকে ইতোমধ্যে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিমূলক সভাটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোট সংসদের ভেতরেই হবে এবং সেখানে একটি ব্যালট বাক্স থাকবে। সংসদ সদস্যরা তাদের বিভাগ, আসন নম্বর ও জাতীয় নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন।
তিনি বলেন, ভোট শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে ৩৪৯টি ভোট দেওয়া হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফলাফল তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হবে। আর যদি দেখা যায় একটি ভোট বাকি আছে, তাহলে সেটির জন্য বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। এরপর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত), সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং স্পিকারের (ভারপ্রাপ্ত) ভোট দেওয়ার সময় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর ভোট শেষ হওয়ার পর ভোট গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রক্রিয়াও সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের পরামর্শে সিইসি এক দিনের বৈঠক ডাকবেন বলেও জানান চিফ হুইপ।
বিএনপির প্রার্থী কবে চূড়ান্ত হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলে সবাই জানতে পারবেন। মনোনয়ন ফরম দাখিলের সময়ই সবাই প্রার্থীর বিষয়ে জানতে পারবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের জন্য একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন এবং তারা দেশবাসীকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানও জানাতে চান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যিনি প্রার্থী তাকে আমরা মনে করছি, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অভিভাবকত্ব হিসেবে তিনি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হবেন।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল। যেহেতু গণভোটের রায়ও সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। তাহলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতেন।
তিনি বলেন, ‘তারপরেও যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, এজন্য এটাকে বিনা কনটেস্টে (প্রতিযোগিতায়) দিতে চাই না। আমরা সে কারণে বিরোধী দলের জায়গা থেকে সেখানে প্রার্থী দিয়েছি।’
জুলাই সনদ অনুযায়ী, ৭০ অনুচ্ছেদে অর্থবিল ও আস্থাভোট ছাড়া অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মত দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপি আরও দুটি বিষয় যোগ করার কথা বলেছিল—সংবিধান সংশোধন এবং জাতীয় নিরাপত্তা (যুদ্ধ পরিস্থিতি)।
১০ দিন আগে
সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নিচতলায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ সভা শুরু হয়।
সভায় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপ মো. জি কে গাউছ, রাকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টমুক্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ।
সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জাতীয় সংসদ কক্ষ ব্যবহার, প্রয়োজনীয় সব ধরনের লজিস্টিক সহায়তা এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাসহ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৩ আগস্ট। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সাড়ে তিন দশক পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এরই মধ্যে বিরোধী জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে তাদের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট হয়। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। স্থানীয় সরকার ও সংসদ নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয় প্রকাশ্যে।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে ইসি। এরইমধ্যে নিয়ম অনুযায়ী সংসদের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
১০ দিন আগে
জনপ্রত্যাশা পূরণে সবার মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, পেশাজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকের মাঝে বাইরে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নবযাত্রা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর বিবর্তনমূলক প্রক্রিয়ায় যেসব গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেগুলো ধারণ করা হবে। এজন্য সব রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা উদার এবং ওপেন, আমরা সবার কথা শুনব। সর্বত্র যা যা সংশোধনের প্রয়োজন, সে সমস্ত সংশোধনীগুলো আমরা ধারণ করে সেভাবে আমরা রিপোর্ট প্রণয়ন করব।’
কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আসবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিল যখন আসবে, সংবিধান সংশোধনী বিল পার্লামেন্টে আলোচনা করে আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে সেই সংশোধনীটা গ্রহণ করতে চাই। যে সংশোধনী জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো সংশোধনী প্রস্তাবে রাখার চেষ্টা করবে কমিটি।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের এই নবযাত্রা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর যে আমরা বিবর্তনমূলক কার্যে যাচ্ছি এবং রাষ্ট্র কাঠামোর যে গণতান্ত্রিক সংস্কার আমরা করতে চাই, তার সবগুলো আমরা এখানে অ্যাড্রেস করব, ধারণ করব। যেটা আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটা এখনও আছে।’
প্রথম বৈঠকে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে তাদের তালিকা প্রণয়ন এবং মতবিনিময়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাদের মতামত নেওয়া হবে। কত দিনের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন তৈরি হবে, তা এখনই বলতে পারেননি সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, সময়টা এখন নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না।
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে প্রতিনিধিত্বের জন্য সরকার বিরোধী দলকে পাঁচজনের নাম দিতে অনুরোধ করলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো নাম দেয়নি।
এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যে পাঁচটি নাম দেওয়ার কথা ছিল সে নামগুলো আমরা এখনও পাইনি। আমি আশা করি, তারা অনুধাবন করবেন এবং একপর্যায়ে তারা তাদের নাম দিবেন। তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করব।’
বিরোধী দল নাম না দিলেও তাদের সংসদ সদস্যদের মতামত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হয়ে অথবা বৈঠকের বাইরে লিখিতভাবে প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘এ ছাড়াও নাম যদি না-ও দেয়, আমরা সকল বিরোধীদলীয় দলের সদস্য যারা আছেন, তাদের পরামর্শ আমরা গ্রহণ করব। তারা যদি মিটিংয়ে এসে দেয় ভালো, মিটিংয়ের বাইরে দিলেও আমরা সেটা গ্রহণ করব। লিখিতভাবে যদি দেয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এইভাবে আমরা একটা গ্রহণযোগ্য সংশোধনী আনতে চাই। জনপ্রত্যাশার সবকিছু আমরা ধারণ করতে চাই। সবার সাথে আলাপ আলোচনা করেআমরা সেই রিপোর্টটা প্রণয়ন করতে চাই।’
তিনি জানান, জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে। যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো সংশোধনী প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর যেসব বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত দিয়েছে, সেগুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে বিবেচনায় রাখা হবে।
এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা সংবিধান সংশোধনের অঙ্গীকারগুলোও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
কমিটির কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কমিটির সামনে চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের প্রত্যাশা আছে। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। এটাকে আমি চ্যালেঞ্জ বলতে চাই না।’
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। শহিদদের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আর সে জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সংবিধানেই নিশ্চিত করতে হবে।
১৭ দিন আগে
সারা দেশে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা স্থগিত না করার কারণ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখেও চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত না করার সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, জেলা প্রশাসন এবং মাঠ প্রশাসনের মতামতের ভিত্তিতেই চলতি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে কেবল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থাপনায় সেখানে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সম্পূরক প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেন, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহর জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা এক বা দুদিন পেছানোর দাবি জানালেও তা করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পেছাতে কী ধরনের সমস্যা ছিল—জানতে চান তিনি।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ৬৪টি জেলায় প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
তিনি বলেন, পরীক্ষা হওয়ার আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই তখন জানিয়েছিলেন যে আবহাওয়ার উন্নতি হবে এবং পরীক্ষা নিতে কোনো সমস্যা হবে না। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, পরদিন সকালে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠে পানি জমে গেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কলেজের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, একজন পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে পোশাক এনে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়। ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু করা হয় এবং পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করতে পরীক্ষার সময়ও এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও পরীক্ষা নিতে কোনো ধরনের দুর্যোগজনিত সমস্যা হয়নি বলে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন।
পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার দুটি প্রশ্নে ত্রুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের প্রক্রিয়া প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়। ফলে এবারের প্রশ্নপত্র আগের সরকারের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশন কমিটির মাধ্যমেই প্রস্তুত হয়েছে। তারপরও সরকার ভুল শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় প্রশাসন-জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। কোনো এলাকায় দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে।
তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সার্বক্ষণিক মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা আবারও পর্যালোচনা করছি। যদি কোথাও আমাদের প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার পর যদি পরীক্ষা না দিতে পেরে থাকে, এই জরিপটা আমাদের কাছে আসার পরে সেভাবে প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষাও নিতে পারি। আমরা চিটাগাং বোর্ডে এই ব্যবস্থাটি করেছি এবং সেই অবস্থান আমাদের রয়েছে। সেজন্য আবারও অনুরোধ করব, শিক্ষার্থীরা যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, তাদের চেয়ে আমরাই উদ্বিগ্ন। তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন যে কীভাবে আমরা তাদের পরীক্ষা সঠিকভাবে নেব। এই দুর্যোগ মোকাবিলা করব।
তিনি আরও বলেন, আমি আবারও আশ্বাস দিচ্ছি যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ধরনের ভুলত্রুটি হয়েছে, সেখানে পুনারায় পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। এরা আমাদের ভবিষ্যৎ। এদের আমরা কোনো অবস্থায় বঞ্চিত করতে পারি না, করব না। সেটাই আমি মহান সংসদের মাধ্যমে জাতিকে জানাতে চাচ্ছি।
৩৮ দিন আগে
জমির উদ্দিন সরকারের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের প্রতি সংসদে শ্রদ্ধা
জাতীয় সংসদে সদ্যপ্রয়াত সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা।
আলোচনা শেষে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদ সদস্যরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মোনাজাত শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দিনের কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত করে সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন। এরপর দক্ষিণ প্লাজায় বাদ আছর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জমিরউদ্দিন সরকার এমন একটা জনপদের মানুষ, যে জনপদটির অত্যন্ত দরিদ্র লোকের বাস, কিন্তু এই মানুষগুলোর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তারা এখনও তাকে তাদের অভিভাবক মনে করে। তিনি কোনোদিন কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি।’
তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের অতি প্রিয় মানুষটি শুধু উত্তরবঙ্গেই নয়, ঢাকাতেও জনপ্রিয় ছিলেন। সারা জীবনে তিনি যখন যেখানে কাজ করেছেন, পরম নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আইনের ও আইনের শাসনের প্রতি তার যে অবিচল আস্থা, গণতন্ত্রের প্রতি তার যে অবিচল আস্থা—এটা আমরা খুব কম দেখেছি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি একদিকে ইতিহাসের ছাত্র ছিলেন, সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন, পরে আইনের পেশাকে বেছে নিয়েছিলেন। যেকোনো বিষয়ে তিনি অবলীলায় অনেকক্ষণ কথা বলতে পারতেন এবং জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য রাখতে পারতেন। আমাদের সকলের কাছে তিনি অনুসরণীয়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দলের প্রতি তার যে আনুগত্য, রাজনীতির প্রতি যে আনুগত্য, উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি তার যে আনুগত্য—এ ব্যাপারে তিনি অবিচল ছিলেন। আমাকে সবসময় একটা কথা বলতেন, “ইলেকশন করবে, ইলেকশনের মধ্যে দিয়ে যাবে। ইলেকশন ছাড়া কিন্তু কখনও গণতন্ত্রে পৌঁছানো যায় না।”’
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার পেশাগত জীবনে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে সফল ও বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। ব্যক্তি এবং দল হিসেবে আমি এবং আমরা তার ক্লায়েন্ট ছিলাম, বিশেষ করে আমাদের কষ্টের দিনগুলোতে, ফ্যাসিবাদী আমলে।’
তিনি বলেন, ‘আইনের যাঁতাকলে যখন আমরা পিষ্ট, তখন প্রায়ই আমরা তার কাছে যেতাম। তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েই শুধু আমাদের কাজ সারেননি, বরং আমাদের মজলুম নেতৃবৃন্দের পক্ষে আদালতে বারবার দাঁড়িয়েছেন।’
ডা. শফিকুর বলেন, ‘প্রথমবার থেকেই আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাকে কিছু ফি দিতে চেয়েছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হইনি। তিনি বলতেন, “এটা আমার নৈতিক দায়িত্ব। এটি আমার জন্য সুযোগ।” একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। তার এই অবদান স্মরণ করে আমার চোখে পানি আসছে। আমরা তার ঋণ পরিশোধ করতে পারব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি স্পিকার হিসেবে সংসদকে প্রাণবন্ত করে রেখেছিলেন। আইনের অঙ্গনে তিনি অনেকের গুরু। তার চলন-বলনসহ সবকিছুই ছিল শিক্ষণীয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন, আইনজীবী ছিলেন। তিনি আইন প্রণয়নকারী ছিলেন, স্পিকার ছিলেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এরকম একজন সফল মানুষ আমাদের জন্য ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।’
তিনি বলেন, ‘উনার যে কর্মজীবন, আমার বয়সের সমান উনার কর্মজীবনের পরিধি। এই কর্মজীবনে তার সুনাম ছাড়া কোনো ব্যক্তি, কোনো ক্লায়েন্ট কিংবা আইনজীবী হিসেবে তার বিরুদ্ধে কোনোদিন কোনো সমালোচনা করেননি।’
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মরহুম জমিরউদ্দিন সরকার একজন অত্যন্ত সফল আইনজীবী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সিরিয়াসভাবে তার ক্লায়েন্টদের জন্য কাজ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘তিনি একজন সফল আইনজীবী, একজন সফল রাজনীতিবিদ। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও বিভিন্ন পদে অবদান রেখেছেন এবং এই সংসদে স্পিকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।’
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, ‘১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পঞ্চম জাতীয় সংসদকে যারা প্রাণবন্ত করে রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জনাব জমিরউদ্দিন সরকার।’
তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন। সেই সময় দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। বিশেষ করে তখন একটি ফ্যাসিবাদী দল বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল। আমরা দেখেছি, তিনি অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে শান্তভাবে সেই দায়িত্ব পালন করে গেছেন।’
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, ‘তিনি শুধুমাত্র একজন আইনজীবী ছিলেন না। আজকের রাজনীতিবিদদের জন্যও তিনি শিক্ষণীয়। তিনি ১২টি বই লিখেছেন। আইনজীবী ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে লেখালেখির সেই চর্চা এখন কমে গেছে। এ ক্ষেত্রে তিনি আমাদের জন্য উদাহরণ।’
সরকারি দলের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘আইন পেশায় সুনাম অর্জনের কারণে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত পাঁচবার তাকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান।’
এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ‘যারা নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, সেই স্বপ্নের সঙ্গে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের যে স্বপ্নের আবহ ছিল, সেটাকে মিলিয়ে নিয়ে সামনের দিনে আমরা যেন সেই স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়ন করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে তার অতীত জীবনের কর্মকাণ্ড, বক্তব্য এবং অনুপ্রেরণাদায়ী ভূমিকা ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে সংরক্ষণ করতে পারলে সেটি বাংলাদেশের জন্য আরও ভালো একটি উদাহরণ হবে।’
সংসদ সদস্যরা তাদের বক্তব্যে মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
সবশেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘জাতি একজন আইনজ্ঞ এবং একজন সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে। আপনাদের বক্তব্য শুনে আমিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। আমিও কয়েকটি সংসদে তার সহকর্মী ছিলাম। আপনাদের ওখানে বসেই (সংসদ সদস্যের আসনে) এই চেয়ার থেকে তিনি যখন অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই সংসদ পরিচালনা করতেন, সেটি দেখে মুগ্ধ হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘তিনি একজন বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ, যার সম্পর্কে কখনো কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ শুনতে পাইনি। জাতি এক মহান সন্তানকে হারাল।’
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে মরহুমের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতনের পরিচালনায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা অতীতে দেখেছি, সংসদ চলাকালে কোনো সাবেক স্পিকার মারা গেলে তার ওপর শোক প্রস্তাব এনে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলোচনা করে ওই দিনের জন্য সংসদের কার্যক্রম মুলতবি করা হয়। এটা তাকে সম্মান জানানোর জন্য করা হয়। সুতরাং আর কোনো আলোচনা না করে এই বিষয়ে প্রস্তাব এনে সংসদের কার্যক্রম মুলতবি করার আহ্বান জানাই।’
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার যেটুকু অভিজ্ঞতা, কোনো বর্তমান সংসদ সদস্য মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে সংসদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। আজ পর্যন্ত কর্মরত অবস্থায় কোনো স্পিকার মারা গেছেন বলে আমার জানা নেই। আগে কখনও এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো সদস্য, এমনকি স্পিকার মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে সংসদ মুলতবি হয়ে যায়। আজ যেহেতু একজন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্পিকার ইন্তেকাল করেছেন, সে কারণে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সংসদ মুলতবি করিনি।’
তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আলোচনা করব। আলোচনা করার পরেই আজকে সংসদের বাকি কার্যক্রম অনিষ্পন্ন রেখে মূলতবি করা হবে।’
সাবেক স্পিকার, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আজ রবিবার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
৪০ দিন আগে
পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও কারসাজির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেছেন, সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।
সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর পক্ষে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতনের প্রধান কারণগুলো কী কী ছিল, শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদকের মাধ্যমে অনুসন্ধান ও কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও অন্যান্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত কিনা তা উদঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ার বাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদঘাটনে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পরিচালিত কার্যক্রমে শেয়ার বাজারের ধারাবাহিক পতনের পেছনে নিম্নোক্ত কারণগুলো সক্রিয় ছিল।
সংসদ নেতা বলেন, বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো, কিছু কোম্পানির আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বল তদারকি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া, কর্পোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং বাজারে আস্থার সংকট, নীতিগত অসঙ্গতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও পুঁজিবাজার বান্ধব করনীতির অভাব ইত্যাদি কারণ রয়েছে।
তিনি বলেন, শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এক হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া দায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণে গঠিত তদন্ত কমিটির গঠন ও প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরপর তিনি পুঁজিবাজার সংস্কারে সরকারের ১৭টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
পুঁজিবাজার সংস্কারে সরকারের পদক্ষেপ
১. বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকার ৪ জুন পুঁজিবাজার বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনারকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নিয়োগ প্রদান করেছে।
২. নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাজারে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করেছে।
৩. লাভজনক সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণে উদ্বুদ্ধ করা। এ ছাড়াও, বহুজাতিক কোম্পানিসহ উচ্চ মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিসমূহের শেয়ারও স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা।
৪. এসএমই কোম্পানিসহ ভাল মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা।
৫. পুঁজিবাজার কারসাজি বন্ধে অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ ও প্রদানকারীর (হুইসেলব্লোয়ার) প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও উৎসাহ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৬. তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের হিসাব নিরীক্ষা, উপর্যুক্ত অডিটরের মাধ্যমে নিরীক্ষার নিমিত্ত ‘এনলিস্টমেন্ট অব প্যানেল অব অডিটরস অ্যান্ড অডিট ফার্মস’ নীতিমালা প্রণয়ন করা।
৭. ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট (এফপিআই) অনবোর্ডিং পোর্টাল চালু, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সংস্কার, ওয়ান স্টপ সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান সার্ভিস চালু, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাসকরণ, লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর বাতিল এবং বিও অ্যাকাউন্ট খোলা ও মূলধন প্রত্যাবসান প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা।
৮. পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়ের সংক্রান্ত বিধান সিকিউরিটিজ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা।
৯. পুঁজিবাজারের সংস্কারকল্পে একটি 'পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন' এবং অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা।
১০. পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কেট ও পণ্য উভয়ই সম্প্রসারিত করা।
১১. ই-কেওয়াইসি-এর মাধ্যমে অনলাইন ও মোবাইল ভিত্তিক বিও হিসাব খোলা ও ট্রেডিং সুবিধা চালু করা।
১২. বিনিয়োগবান্ধব ও যুক্তিসঙ্গত করনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া।
১৩. ব্যাংক ও এমএফএসের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করা।
১৪. এআইভিত্তিক শক্তিশালী নজরদারির মাধ্যমে বাজারের অনিয়ম ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রাখা।
১৫. তালিকাভুক্ত ইস্যুয়ার কোম্পানিসমূহে সুশাসন জোরদারকরণে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে অর্জিত সুদ আয়ের অংশ বিশেষ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলে জমা করার বিধান প্রণয়ন করা।
১৬. আইনকানুন যুগোপযোগী করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ আরও সুরক্ষিত করা।
১৭. সরকারি সিকিউরিটিজসমূহের (ট্রেজারি বন্ড, ট্রেজারি বিল ও সরকারি সুকুক) লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা ইত্যাদি।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।
৪৪ দিন আগে