বর্তমান প্রযুক্তির যুগে হলুদ সাংবাদিকতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মধ্যকার পার্থক্য ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে আসছে, যা গণমাধ্যমশিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘হলুদ সাংবাদিকতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মধ্যকার ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে দুটির মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণকারী সীমারেখাটিও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।’
শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মালিবাগে কসমস সেন্টারে ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি) আয়োজিত ‘জেলা প্রতিনিধি সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউএনবির প্রধান সম্পাদক এনায়েতউল্লাহ খান অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান এবং ব্যস্ততার মধ্যেও বার্ষিক এই আয়োজনে অংশ নেওয়ায় জেলা প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান।
পরিবর্তনশীল গণমাধ্যম পরিস্থিতি তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, মানুষ ক্রমেই ডিভাইসনির্ভর হয়ে পড়ায় ছাপা সংবাদপত্রের পাঠক দিন দিন কমছে। অন্যদিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে।
তিনি বলেন, তথ্যের প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা অসংখ্য হলেও প্রকৃত তথ্যের উৎসের সংখ্যা সীমিত। ‘পুরো আকাশটাই এখন একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে গেছে, কিন্তু প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা এবং তথ্যের উৎসের সংখ্যা সীমিত। প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা ও উৎসের সংখ্যার মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে।’
স্বপন বলেন, নতুন গণমাধ্যম, বিদ্যমান গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যম নীতিনির্ধারকদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো—তথ্যের উৎস থেকে বিপুলসংখ্যক প্ল্যাটফর্মে তথ্য পৌঁছানোর সময় তার বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে সেই বস্তুনিষ্ঠতা তুলে ধরার সক্ষমতা তৈরি করা।
‘আমি মনে করি, এটাই নতুন গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ, বিদ্যমান গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ এবং গণমাধ্যম নীতিনির্ধারকদের চ্যালেঞ্জ,’ বলেন তিনি।
হলুদ সাংবাদিকতা বন্ধে দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মূলধারার সাংবাদিকতা থেকে ‘পরজীবী গণমাধ্যম’ ও অনলাইনে তৈরি হওয়া ‘ডিজিটাল জাঙ্ক’কে আলাদা করতে হবে।
স্বপন বলেন, ‘গণমাধ্যম সামাজিক কাঠামোতে এমন একটা উপাদান যে, এই গণমাধ্যমের কাজের বা প্রভাব প্রতিপত্তির জায়গাটা অনেক বড়। ভালো করলেও যেমন এটার একটা প্রভাব অনেক বড়, খারাপ করলেও কিন্তু এটার প্রভাব অনেক বড়।’
গণমাধ্যম সভ্যতার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কোনো রাষ্ট্র-সমাজ নিয়ন্ত্রকরা যদি ভাবেন যে গণমাধ্যমবিহীন, একটা স্বাধীন দায়িত্বশীল গণমাধ্যমবিহীন তারা রাষ্ট্র-সমাজ বিনির্মাণ করবেন, এটা অসম্ভব। চাইলেও এখন আর এটা পারা যাবে না।’