জহির উদ্দিন স্বপন
এআই যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশের ফলে বিশ্বে যে নতুন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় যুবসমাজকে উপযুক্ত জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় যুবসমাজই সভ্যতার সবচেয়ে বড় শক্তি ও সম্পদ।
বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে ঢাকার ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের মধ্য দিয়ে যে নতুন ইকোসিস্টেম তৈরি হয়েছে, তা সভ্যতার জন্য একদিকে যেমন আশীর্বাদ, অন্যদিকে তেমনি নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সভ্যতার জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন বাস্তবতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তি ও নতুন জ্ঞান গ্রহণের ক্ষেত্রে যুবকদের সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে এআই-নির্ভর ভবিষ্যৎ পৃথিবীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের উপযুক্ত জ্ঞান, দক্ষতা ও মানসিক প্রস্তুতি দিয়ে গড়ে তোলা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমরা যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তার গভীরতা এতটাই বেশি যে আগামীকাল বা পরশু আমরা কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হব, তা অনেকাংশেই অনুমান করা কঠিন। তাই পুরোনো জ্ঞান ও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন জ্ঞান, নতুন দক্ষতা ও নতুন সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, তরুণদের শুধু প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই হবে না; তাদের ডিজিটাল সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, নতুন ইকোসিস্টেমের জন্য নতুন ধরনের প্রতিষ্ঠান ও জ্ঞানব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য তরুণদের উপযুক্ত জ্ঞান ও দক্ষতা দেওয়া এখন আর শুধু একটি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নয়; বরং ভবিষ্যৎ সভ্যতার জন্য এটি একটি অনিবার্য বিনিয়োগ।
সম্প্রচারমন্ত্রীর কথায়, যুবসমাজ শুধু একটি দেশের সম্পদ নয়; তারা সমগ্র মানবসভ্যতার সম্পদ। তারা পুরোনো প্রজন্মের চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ ও জ্ঞানসম্পন্ন। তাই তরুণদের শুধু ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে নয়, বর্তমানের পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুবসমাজকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। খেলাধুলা, সৃজনশীলতা, যুবসমাজের বিকাশ এবং পরিবর্তন ও জলবায়ু-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের ভূমিকার বিষয়গুলো ইতোমধ্যে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারের এ অবস্থান প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে যুবসমাজকে একটি প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে তারা শুধু বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক সভ্যতার অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে যুবসমাজকে কেন্দ্র করে আরও ব্যাপক কর্মসূচি, সচেতনতা সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে যুবসমাজকে প্রস্তুত করা মানে শুধু তাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করা নয়; বরং ভবিষ্যৎ সভ্যতার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এসএম জোবায়েদ হোসেন অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন স্বাগত বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমকে একে অপরের পরিপূরক উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য, তেমনি একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়।
মন্ত্রী গণমাধ্যমকে কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম স্বীকার করছে তাদের ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। বরং একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিক, মালিক ও সরকার পক্ষ যৌথভাবে কাজ করে চলেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায়, যেখানে গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের ন্যায্য মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা ও এ শিল্প অন্য যেকোনো ক্ষেত্রের চেয়ে ভিন্ন। এটি রাষ্ট্র ও সমাজের একটি অঘোষিত অথচ অনিবার্য চতুর্থ স্তম্ভ। ফলে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য গণমাধ্যম শিল্পের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেও শক্তিশালী হতে হবে।
তিনি বলেন, মালিকপক্ষ যদি ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসঙ্গত মুনাফা না পায়, তাহলে গণমাধ্যম শিল্প টেকসই হবে না। একইসঙ্গে শক্তিশালী বেসরকারি উৎপাদন অর্থনীতি ছাড়া পণ্য বিজ্ঞাপন বাজারও সম্প্রসারিত হবে না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে প্রচলিত গণমাধ্যমের সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হয়ে মিডিয়া ইকোসিস্টেমকে আরও জটিল করে তুলেছে। তথ্যমন্ত্রী এ পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতমুখী নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার, যাতে প্রত্যেক অংশীজনের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, সুশাসন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তিনি এ প্রবণতাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন।
তথ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও গত জাতীয় নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, গণমাধ্যম খাতেও সে সুযোগ কাজে লাগাতে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহবায়ক ও বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ও ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিইসির সদস্য সচিব ও সময় টেলিভিশনের সিইও জুবায়ের বাবু। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল।
৭ দিন আগে
আর যেন কেউ শিকল পরানোর সুযোগ না পায়, সেরকম কাঠামো তৈরি করতে চাই: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবারের শিকল ভাঙার মধ্য দিয়ে আমাদের শুধু নতুন করে জাগ্রত হলেই চলবে না, আর যেন কখনোই কেউ শিকল পরানোর সুযোগ না পায়, সেরকম একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আমরা তৈরি করতে চাই।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ শীর্ষক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বাংলাদেশ জন্মের ৫৫ বছর পেরিয়ে গেছে, অথচ শিকল ভাঙতে হচ্ছে এখনও। একটা স্বাধীন দেশ এবং তার মালিক জনগণ, তাদের কণ্ঠ, অধিকার ও সৃষ্টিশীল ক্ষমতাকে বারবার শিকলে বাঁধা হয়েছে। এই শিকলবদ্ধতার কারণেই দেশ ও জাতি তাদের কাঙ্ক্ষিত অর্জনে পৌঁছাতে পারেনি। তাই এবারের শিকল ভাঙার মধ্য দিয়ে আমাদের শুধু নতুন করে জাগ্রত হলেই চলবে না, আর যেন কখনোই কেউ শিকল পরানোর সুযোগ না পায়, সেরকম একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আমরা তৈরি করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘বারবার শিকল ভাঙতে আমাদের রক্ত দিতে হয়েছে, প্রাণ দিতে হয়েছে, বিসর্জন দিতে হয়েছে। অথচ পৃথিবীর অনেক দেশ ধারাবাহিকভাবে তাদের সমৃদ্ধির পথ ধরে রাখতে পেরেছে বলেই বিশ্বশক্তিতে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়নি।’
অতীতের আন্দোলনের সঙ্গে এবারের আন্দোলনের পার্থক্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আগের আন্দোলনগুলো ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ ও জনবিক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর আবারও পুরোনো ব্যবস্থা ফিরে এসেছে। এবার আমরা ফ্যাসিবাদ হটানোর পাশাপাশি দেশ গড়ার কথাও ভেবেছি। জনগণকে সেই পরিকল্পনা জানিয়েই আমরা এগিয়েছি।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অর্জিত প্রাণ ও রক্তের বিনিময়ে পাওয়া বিজয়কে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হলে পুরোনো ব্যবস্থা দিয়ে তা সম্ভব নয়। তাই একদিকে যেমন শিকল ভাঙার কথা বলেছি, অন্যদিকে রাষ্ট্র কাঠামো ও রাজনীতিকে মেরামতের কথাও বলেছি। আমাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অতীতে কখনোই আন্দোলন-সংগ্রামের আগে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আন্দোলন-পরবর্তী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেনি। এমনকি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও এমন লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল না। এবারের শিকল ভাঙার আন্দোলনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, শিকল ভাঙার পর আমরা কী করব, তা আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফার মাধ্যমে আগেই বলেছেন। আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই সংকলনের মোড়ক উন্মোচনের মাধ্যমে জাতিকে জানিয়ে রাখতে চাই, আমরা যেমন শিকল ভাঙতে পেরেছি, তেমনি শিকলমুক্ত গণতান্ত্রিক একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতেও আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
অনুষ্ঠান শেষে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, আপনারা সবাই আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া দেখেছেন। তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, সেটারই প্রতিধ্বনি করছি।’
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
পরিবর্তনের দাবি উঠলেই এ দেশের মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জনগণ যখনই পরিবর্তনের দাবি তুলেছে, তখনই তাদের জীবন দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন দেশের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে কাজ করবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা জুলাই শহিদ দিবসবিষয়ক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পরিবর্তন একটি চলমান ও অনিবার্য প্রক্রিয়া। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রতিটি ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য জনগণকে জীবন দিতে হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনেই রয়েছে মানুষের আত্মত্যাগ। স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর যদি পরিবর্তনের দাবিতে আবারও তরুণদের রক্ত দিতে হয়, তবে তা আমাদের জন্য আত্মসমালোচনার বিষয়।
১৫ দিন আগে
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি তথ্যমন্ত্রীর
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কুতুবপুরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। পরে সেখানে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী।
এ সময় জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক।
এ সময় তিনি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
পরে অনুষ্ঠানে আসা অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টুসহ অন্যরা।
১৭ দিন আগে
পেশাদারত্ব বজায় রাখতে সাংবাদিকদের তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকতা এমন একটি প্রক্রিয়া, যা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। তাই সাংবাদিকদের অ্যাক্টিভিস্ট নয়, বরং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন হওয়া উচিত।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬-এর একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব ও দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, হিমাল সাউথ এশিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কনক মনি দীক্ষিত, দ্য হিন্দুর কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দারসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যথাযথ তথ্য-উপাত্ত ছাড়া কোনো বিষয় সংবাদ নয়, সেটি কেবল মতামত হতে পারে। তিনি সমাজকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ ও চ্যালেঞ্জের ধরন ভিন্ন হলেও এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে একই রকম। তারা স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
পরে দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল কনফারেন্স অন এআই লিডারশিপ-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
সেখানে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র, শিল্প ও সেবা খাতের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এআই নিয়ে কাজ করা এখন সময়ের দাবি। এ প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
সম্মেলনে প্রযুক্তিবিদ প্রণব যোগেন্দ্র ব্রহ্মভট্ট, ব্যারিস্টার তাসমিয়া রহমান প্যাটেল, টেরি কে রুপার্টসহ দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
২০ দিন আগে
পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও মানবপ্রেমই প্রকৃত ধর্মচর্চার শিক্ষা: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রকৃত ধর্মবিশ্বাসীরা কখনও অন্যের ধর্মবিশ্বাসকে অসম্মান করেন না। সকল ধর্মের মানুষই নিজ নিজ উপায়ে সর্বশক্তিমানের সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করেন। তাই ধর্মীয় বিশ্বাসকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও মানবপ্রেমের ভিত্তিতে ধারণ করাই প্রকৃত ধর্মচর্চার শিক্ষা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের মহাপুরুষরা ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে সর্বশক্তিমানের আরাধনা করেছেন। আল্লাহ, ঈশ্বর বা ভগবান— যে নামেই তাকে ডাকা হোক না কেন, প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ অন্য সব ধর্মবিশ্বাসীর ঈশ্বরপ্রেমকেও সমানভাবে সম্মান করেন।
তিনি বলেন, শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা মানুষের সঙ্গে ঈশ্বরপ্রেমের এক অনন্য বন্ধনের প্রতীক। একইভাবে ইসলামে নামাজ, খ্রিস্টধর্মে প্রার্থনা, বৌদ্ধধর্মে উপাসনা কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় আচার— সবই মানুষের সর্বশক্তিমানের প্রতি ভালোবাসা ও আত্মসমর্পণের বহিঃপ্রকাশ।
পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সামাজিক সম্প্রীতির ভিত্তি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়।
বাংলাদেশে যেমন এ ধরনের অপতৎপরতা দেখা যায়, তেমনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রেও ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নজির রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী এ ধরনের অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের জাতি, ধর্ম ও মানবতার শত্রু হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নিজের ধর্মবিশ্বাসে অবিচল থেকে অন্য সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্যেই অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার ধর্ম, বর্ণ, ভাষা কিংবা পাহাড়-সমতলের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন মেনে নেবে না। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন সকল ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীকে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।
স্বামীবাগ আশ্রমের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী মহারাজের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
উল্টো রথযাত্রা মহোৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক আব্দুস সালাম।
২১ দিন আগে
একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্যটিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, কোনো একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য ভাষা বা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাছাড়া শুধুমাত্র ধর্মকে ভিত্তি করে একটি বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার (২২ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই বাংলাদেশের সকল ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, নৃগোষ্ঠী ও জনগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে ওঠা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়। এই দর্শন বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিককে সমানভাবে জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
তিনি বলেন, ভারত উপমহাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও শুধুমাত্র ধর্মকে ভিত্তি করে একটি বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতার ধারাবাহিক প্রকাশ।
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাহসী সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে যুদ্ধকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তার নেতৃত্ব ইতিহাসের প্রমাণিত উপাদান।
স্বাধীনতা-পরবর্তী জাতীয় পরিচয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয়ও দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন, যা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান মর্যাদায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক—তিনি যে ভাষায় কথা বলুন, যে ধর্ম পালন করুন কিংবা যে নৃগোষ্ঠীরই হোন না কেন—বাংলাদেশি পরিচয়ের মধ্যেই তার মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত হয়। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদ দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সংহতি এবং বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।
আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আধুনিক বিশ্বে জাতীয়তাবাদ কেবল ভাষা, ধর্ম কিংবা বর্ণের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত হয় না; বরং একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থ, ভূখণ্ড, সাংবিধানিক অঙ্গীকার এবং যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনও সেই আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তারই প্রতিফলন।
তিনি বলেন, কোনো একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য ভাষা বা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সকল ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৃগোষ্ঠীর পরিচয়কে সম্মান ও ধারণ করেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বিকশিত হয়েছে। এই দর্শনের মাধ্যমেই দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজেকে সমানভাবে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে অনুভব করতে পারেন।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ভিত্তি হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক এবং ভবিষ্যতেও দেশের অগ্রযাত্রায় পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নাসির আহমাদ।
২৩ দিন আগে
ডিজিটাল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য মন্ত্রণালয়ের আইন সময়োপযোগী করা হবে: তথ্যমন্ত্রী
প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বিস্তারের ফলে সৃষ্ট নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা সময়োপযোগী করা এবং প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন পর্যালোচনা ও বাস্তবতার নিরিখে যুগোপযোগী সুপারিশ প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রবিবার (৫ জুলাই) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইন সময়োপযোগীকরণ এবং নতুন আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাপন, চিন্তাভাবনা, যোগাযোগ ও সামাজিক আচরণের সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। প্রযুক্তি যেমন মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে, তেমনি এর সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে সেগুলোকে একটি কার্যকর আইনি কাঠামোর আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিদ্যমান সব আইন, বিধি, প্রবিধান ও নিয়মাবলি পর্যালোচনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কোন আইন আধুনিকায়ন প্রয়োজন, কোথায় নতুন আইন প্রয়োজন এবং কোন ক্ষেত্রে আইনি ঘাটতি রয়েছে এসব বিষয় গভীরভাবে পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রণয়ন করবে সংশ্লিষ্টরা।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধি মূলত প্রিন্ট মিডিয়া ও সম্প্রচারমাধ্যমে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বিকাশের ফলে অসংখ্য নতুন মাধ্যম তৈরি হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই প্রচলিত আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। তাই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনি কাঠামোও আধুনিকায়ন করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। এসব দেশের আইন ও অভিজ্ঞতা গভীরভাবে অধ্যয়ন ও পর্যালোচনার দায়িত্বও কমিটিকে দেওয়া হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তোলা যায়।
তিনি বলেন, সাইবার জগৎ, ডিজিটাল ট্রান্সমিশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সেবাকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনতে হলে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, টেলিযোগাযোগ ও অবকাঠামো-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মতামত গ্রহণেরও প্রয়োজন হতে পারে।
তথ্যমন্ত্রী উপস্থিত সকলকে নতুন চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত শনাক্ত করা, সংশ্লিষ্ট অংশীজন নির্ধারণ, দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনে কমিটির বাইরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী প্যানেলের সদস্যরা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪০ দিন আগে
গণমাধ্যম কমিশন গঠনে পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে হবে চূড়ান্ত প্রস্তাবনা: তথ্যমন্ত্রী
গণমাধ্যম কমিশন গঠনের লক্ষ্যে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে এবং সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বুধবার (২০ মে) ঢাকার একটি হোটেলে ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ও বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত ‘পিআইএমএইচআইই প্রকল্প: নীতিগত সংস্কার থেকে নিউজরুম চর্চা—শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি সরকার প্রধানের সঙ্গে মালিক সমিতি ও সম্পাদকদের বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে পূর্বে যেমন আলোচনা হয়েছে, পরামর্শক কমিটি গঠনের পর আবারও আলোচনা করা হবে, যাতে একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর কাঠামো তৈরি করা যায়।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। রাষ্ট্রের অন্যান্য স্তম্ভকে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে গণমাধ্যম কমিশন গঠন শুধুমাত্র সরকারের একক বিষয় নয়; এটি সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, সরকার একদিকে যেমন এ প্রক্রিয়ায় সমান অংশীদার হিসেবে কাজ করবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমন্বয়কারী ও ব্যবস্থাপকের দায়িত্বও পালন করবে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, গণমাধ্যম সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজন এ উদ্যোগে সরকারের সহযাত্রী হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, গণমাধ্যম কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ এবং ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান ও যমুনা টেলিভিশনের সিইও ফাহিম আহমেদ।
৮৬ দিন আগে