জহির উদ্দিন স্বপন
পেশাদারত্ব বজায় রাখতে সাংবাদিকদের তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকতা এমন একটি প্রক্রিয়া, যা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। তাই সাংবাদিকদের অ্যাক্টিভিস্ট নয়, বরং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন হওয়া উচিত।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬-এর একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব ও দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, হিমাল সাউথ এশিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কনক মনি দীক্ষিত, দ্য হিন্দুর কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দারসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যথাযথ তথ্য-উপাত্ত ছাড়া কোনো বিষয় সংবাদ নয়, সেটি কেবল মতামত হতে পারে। তিনি সমাজকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ ও চ্যালেঞ্জের ধরন ভিন্ন হলেও এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে একই রকম। তারা স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
পরে দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল কনফারেন্স অন এআই লিডারশিপ-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
সেখানে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র, শিল্প ও সেবা খাতের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এআই নিয়ে কাজ করা এখন সময়ের দাবি। এ প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
সম্মেলনে প্রযুক্তিবিদ প্রণব যোগেন্দ্র ব্রহ্মভট্ট, ব্যারিস্টার তাসমিয়া রহমান প্যাটেল, টেরি কে রুপার্টসহ দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
১১ ঘণ্টা আগে
পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও মানবপ্রেমই প্রকৃত ধর্মচর্চার শিক্ষা: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রকৃত ধর্মবিশ্বাসীরা কখনও অন্যের ধর্মবিশ্বাসকে অসম্মান করেন না। সকল ধর্মের মানুষই নিজ নিজ উপায়ে সর্বশক্তিমানের সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করেন। তাই ধর্মীয় বিশ্বাসকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও মানবপ্রেমের ভিত্তিতে ধারণ করাই প্রকৃত ধর্মচর্চার শিক্ষা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের মহাপুরুষরা ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে সর্বশক্তিমানের আরাধনা করেছেন। আল্লাহ, ঈশ্বর বা ভগবান— যে নামেই তাকে ডাকা হোক না কেন, প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ অন্য সব ধর্মবিশ্বাসীর ঈশ্বরপ্রেমকেও সমানভাবে সম্মান করেন।
তিনি বলেন, শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা মানুষের সঙ্গে ঈশ্বরপ্রেমের এক অনন্য বন্ধনের প্রতীক। একইভাবে ইসলামে নামাজ, খ্রিস্টধর্মে প্রার্থনা, বৌদ্ধধর্মে উপাসনা কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় আচার— সবই মানুষের সর্বশক্তিমানের প্রতি ভালোবাসা ও আত্মসমর্পণের বহিঃপ্রকাশ।
পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সামাজিক সম্প্রীতির ভিত্তি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়।
বাংলাদেশে যেমন এ ধরনের অপতৎপরতা দেখা যায়, তেমনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রেও ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নজির রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী এ ধরনের অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের জাতি, ধর্ম ও মানবতার শত্রু হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নিজের ধর্মবিশ্বাসে অবিচল থেকে অন্য সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্যেই অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার ধর্ম, বর্ণ, ভাষা কিংবা পাহাড়-সমতলের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন মেনে নেবে না। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন সকল ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীকে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।
স্বামীবাগ আশ্রমের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী মহারাজের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
উল্টো রথযাত্রা মহোৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক আব্দুস সালাম।
১ দিন আগে
একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্যটিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, কোনো একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য ভাষা বা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাছাড়া শুধুমাত্র ধর্মকে ভিত্তি করে একটি বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার (২২ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই বাংলাদেশের সকল ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, নৃগোষ্ঠী ও জনগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে ওঠা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়। এই দর্শন বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিককে সমানভাবে জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
তিনি বলেন, ভারত উপমহাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও শুধুমাত্র ধর্মকে ভিত্তি করে একটি বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতার ধারাবাহিক প্রকাশ।
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাহসী সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে যুদ্ধকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তার নেতৃত্ব ইতিহাসের প্রমাণিত উপাদান।
স্বাধীনতা-পরবর্তী জাতীয় পরিচয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয়ও দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন, যা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান মর্যাদায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক—তিনি যে ভাষায় কথা বলুন, যে ধর্ম পালন করুন কিংবা যে নৃগোষ্ঠীরই হোন না কেন—বাংলাদেশি পরিচয়ের মধ্যেই তার মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত হয়। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদ দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সংহতি এবং বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।
আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আধুনিক বিশ্বে জাতীয়তাবাদ কেবল ভাষা, ধর্ম কিংবা বর্ণের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত হয় না; বরং একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থ, ভূখণ্ড, সাংবিধানিক অঙ্গীকার এবং যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনও সেই আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তারই প্রতিফলন।
তিনি বলেন, কোনো একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য ভাষা বা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সকল ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৃগোষ্ঠীর পরিচয়কে সম্মান ও ধারণ করেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বিকশিত হয়েছে। এই দর্শনের মাধ্যমেই দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজেকে সমানভাবে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে অনুভব করতে পারেন।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ভিত্তি হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক এবং ভবিষ্যতেও দেশের অগ্রযাত্রায় পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নাসির আহমাদ।
৩ দিন আগে
ডিজিটাল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য মন্ত্রণালয়ের আইন সময়োপযোগী করা হবে: তথ্যমন্ত্রী
প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বিস্তারের ফলে সৃষ্ট নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা সময়োপযোগী করা এবং প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন পর্যালোচনা ও বাস্তবতার নিরিখে যুগোপযোগী সুপারিশ প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রবিবার (৫ জুলাই) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইন সময়োপযোগীকরণ এবং নতুন আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাপন, চিন্তাভাবনা, যোগাযোগ ও সামাজিক আচরণের সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। প্রযুক্তি যেমন মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে, তেমনি এর সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে সেগুলোকে একটি কার্যকর আইনি কাঠামোর আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিদ্যমান সব আইন, বিধি, প্রবিধান ও নিয়মাবলি পর্যালোচনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কোন আইন আধুনিকায়ন প্রয়োজন, কোথায় নতুন আইন প্রয়োজন এবং কোন ক্ষেত্রে আইনি ঘাটতি রয়েছে এসব বিষয় গভীরভাবে পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রণয়ন করবে সংশ্লিষ্টরা।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধি মূলত প্রিন্ট মিডিয়া ও সম্প্রচারমাধ্যমে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বিকাশের ফলে অসংখ্য নতুন মাধ্যম তৈরি হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই প্রচলিত আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। তাই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনি কাঠামোও আধুনিকায়ন করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। এসব দেশের আইন ও অভিজ্ঞতা গভীরভাবে অধ্যয়ন ও পর্যালোচনার দায়িত্বও কমিটিকে দেওয়া হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তোলা যায়।
তিনি বলেন, সাইবার জগৎ, ডিজিটাল ট্রান্সমিশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সেবাকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনতে হলে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, টেলিযোগাযোগ ও অবকাঠামো-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মতামত গ্রহণেরও প্রয়োজন হতে পারে।
তথ্যমন্ত্রী উপস্থিত সকলকে নতুন চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত শনাক্ত করা, সংশ্লিষ্ট অংশীজন নির্ধারণ, দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনে কমিটির বাইরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী প্যানেলের সদস্যরা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০ দিন আগে
গণমাধ্যম কমিশন গঠনে পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে হবে চূড়ান্ত প্রস্তাবনা: তথ্যমন্ত্রী
গণমাধ্যম কমিশন গঠনের লক্ষ্যে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে এবং সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বুধবার (২০ মে) ঢাকার একটি হোটেলে ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ও বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত ‘পিআইএমএইচআইই প্রকল্প: নীতিগত সংস্কার থেকে নিউজরুম চর্চা—শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি সরকার প্রধানের সঙ্গে মালিক সমিতি ও সম্পাদকদের বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে পূর্বে যেমন আলোচনা হয়েছে, পরামর্শক কমিটি গঠনের পর আবারও আলোচনা করা হবে, যাতে একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর কাঠামো তৈরি করা যায়।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। রাষ্ট্রের অন্যান্য স্তম্ভকে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে গণমাধ্যম কমিশন গঠন শুধুমাত্র সরকারের একক বিষয় নয়; এটি সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, সরকার একদিকে যেমন এ প্রক্রিয়ায় সমান অংশীদার হিসেবে কাজ করবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমন্বয়কারী ও ব্যবস্থাপকের দায়িত্বও পালন করবে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, গণমাধ্যম সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজন এ উদ্যোগে সরকারের সহযাত্রী হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, গণমাধ্যম কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ এবং ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান ও যমুনা টেলিভিশনের সিইও ফাহিম আহমেদ।
৬৬ দিন আগে
ইতালিতে বৈধ পথে আরও বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে আরও বেশি অভিবাসী গ্রহণের জন্য ইতালি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইতালির বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতালি বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।
মন্ত্রী গণযোগাযোগ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সম্প্রচার খাতে ইতালির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে ইতালির অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন থেকে জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রেও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, ইতালিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসী সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন এবং তারা বাংলাদেশ ও ইতালি উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
এ সময় তিনি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সমুদ্রপথে ইতালিতে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদারে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেন।
তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে ইতালিতে অভিবাসন বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
জবাবে ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে বৈধ অভিবাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং গত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে ২০ হাজার মানুষ ইতালিতে অভিবাসী হয়েছেন।
৬৭ দিন আগে
সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেছেন, অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের রাজনীতির কারণে দেশে এমন এক সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিবেশও বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সৌজন্যে আয়োজিত ‘ইসলামিক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, একসময় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের পরিচয়, টুপি, দাড়ি কিংবা নামাজ আদায়ের মতো ধর্মীয় অনুশীলনকেও কিছু মহল সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেছিল যা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির সংস্কৃতির পরিপন্থী।
তিনি বলেন, যারা ভোটারবিহীনভাবে গণবিচ্ছিন্নভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা জনগণের মধ্যে বিভিন্ন কারণে বিভেদ তৈরি করত।
তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভোটারবিহীন ও গণবিচ্ছিন্ন শাসনব্যবস্থা জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছিল। ধর্মীয় বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা ছিল তার অন্যতম অংশ।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে নানা ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। ইসলামসহ সকল ধর্মই অন্যের বিশ্বাসকে সম্মান করার শিক্ষা দেয়। তাই সমাজে বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টি করার কোনো সুযোগ নেই।
ইসলামিক প্রতিযোগিতার আয়োজন মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিভা, যুক্তিবোধ ও নৈতিক শিক্ষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তথ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ভারসাম্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণ ও অর্থনৈতিক সংকট বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে সময় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। আগামী দুই বছর দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখা গেলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। তাই সকল নাগরিককে বিভেদ ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় সংসদে গঠনমূলক বিতর্ককে গণতন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংসদের বিতর্ক ও মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই রাজপথে সংঘাত বা বিশৃঙ্খলার কারণ না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চাকারীদের সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজে শান্তি, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে আলেম-উলেমা ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, বায়তুল মোকাররমের খতিব আল্লামা মুফতি আব্দুল মালেক, হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমীসহ আলেম-উলেমা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
৭৩ দিন আগে
প্রযুক্তিভিত্তিক সমষ্টিগত জ্ঞানচর্চাই হবে ভবিষ্যৎ সভ্যতার কৌশলগত শক্তি: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক জ্ঞান ও সৃজনশীল চিন্তার সমষ্টিগত চর্চাই হবে ভবিষ্যৎ সভ্যতার জন্য কৌশলগত শক্তি। দেশের সৃজনশীল মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে একত্রিত করে জাতীয় উন্নয়নের সম্পদে রূপান্তর করতে হবে।
রবিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীতে টেলিকম, ডাটা ও সাইবার সিকিউরিটি বিল, ২০২৬ বিষয়ে বাংলাদেশ আইসিটি স্টেকহোল্ডারস অ্যাসোসিয়েশন (বিসা) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী উপস্থিত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের এই সমবেত হওয়া শুধু উপস্থিতি নয়; আপনারা আপনাদের সৃজনশীল চিন্তাকেও এক জায়গায় নিয়ে এসেছেন। এ ধরনের সৃজনশীল চিন্তার সমষ্টিগত চর্চা জাতির জন্য একটি সম্পদে পরিণত হবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিসা এমন একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে যেখানে দেশের প্রযুক্তি খাতের অংশীজনরা সম্মিলিতভাবে তাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও চিন্তাশক্তি বিনিয়োগ করতে পারবেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে এখন সেমিকন্ডাক্টর, রেয়ার আর্থ ম্যাটেরিয়াল এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উপাদানে পরিণত হয়েছে। আগে বৈশ্বিক সংঘাতের প্রধান কারণ ছিল জ্বালানি সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ; এখন রেয়ার আর্থ ম্যাটেরিয়াল ও প্রযুক্তিগত কাঁচামালের প্রাপ্যতাও আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সংঘাতের বড় কারণ হয়ে উঠছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশ ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে; তাই প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সভ্যতার চাহিদা অনুযায়ী সমসাময়িক নীতি প্রণয়নে বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান ও পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত জ্ঞান ও গবেষণা সরকারকে সময়োপযোগী, বাস্তবসম্মত ও আধুনিক নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
৯০ দিন আগে
গণমাধ্যমে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউনেস্কোর সহায়তা কামনা তথ্যমন্ত্রীর
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমে নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নে ইউনেস্কোর সহযোগিতা কামনা করেছেন। এক্ষেত্রে সংস্থাটির জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার (২২ এপ্রিল) মন্ত্রীর নিজস্ব অফিসকক্ষে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সঙ্গে সরকারের যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
সাক্ষাৎকালে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি বাংলাদেশে সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম বিশেষত গণমাধ্যমের উন্নয়ন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট নীতিমালা এবং ভুলতথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে ইউনেস্কোর উদ্যোগ সম্পর্কে মন্ত্রীকে জানান।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ইউনেস্কো অপপ্রচারের বিস্তার রোধে ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম জোরদারে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও পরিচালিত হচ্ছে।
এই সাক্ষাতে তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমে অপতথ্যের বিস্তার রোধ ও ফ্যাক্ট চেকিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণের গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে ইউনেস্কোর সহযোগিতা কামনা করেন। ইউনেস্কোর প্রতিনিধিও এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তাকে।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
৯৪ দিন আগে
প্রবাসীদের মেধা ও শ্রমে শক্তিশালী হচ্ছে দেশের অর্থনীতি: তথ্যমন্ত্রী
প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের জন্য অমূল্য সম্পদ উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তাদের জ্ঞান, মেধা, প্রজ্ঞা ও পরিশ্রম দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি ভবিষ্যতেও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারের টেমসাইড কাউন্সিলের সিভিক মেয়র কাউন্সিলর শিবলি আলমের সঙ্গে সাক্ষাকালে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ইংল্যান্ড গণতন্ত্রের সূতিকাগার। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিরা শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেই নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছেন।
সাক্ষাৎকালে কাউন্সিলর শিবলি আলম বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীরা ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশি নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় উভয়পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৯৭ দিন আগে