ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে বুচা জেলায় রাতভর রাশিয়ার হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
কিয়েভের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানান, হামলায় অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর একটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যা কয়েকটি বাড়ি ও একটি রেস্তোরাঁয় ছড়িয়ে পড়ে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, মিলা গ্রামের একটি গুদামে হামলা চালানো হলে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে।
ঘটনাস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত না জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, সরকারি অবহেলার অভিযোগে এ ঘটনায় ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নিয়মকানুন রয়েছে—বাড়িঘর বা অন্যান্য আবাসিক এলাকার কাছে গোলাবারুদ সংরক্ষণ করা যাবে না।’
জেলেনস্কি জানান, হামলায় বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিচর্যা কেন্দ্র এবং আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৩৭০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার-উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎস্কিও হামলার শিকার গুদামটি সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি। তবে তিনি চলতি মাসের শুরুতে কিয়েভের উপকণ্ঠ ভিশনেভেতে একটি গোলাবারুদের গুদামে হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। ওই হামলায় ২২ জন নিহত হন এবং বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে আশপাশের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ইতোমধ্যে দেখতে পাচ্ছি, ভিশনেভের ভয়াবহ ট্র্যাজেডি কোনো শিক্ষা হয়ে ওঠেনি। পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পঞ্চম বছরে এসে একই ভুল করা অপরাধমূলক অবহেলা। এ ঘটনায় দোষী প্রত্যেককে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মিলা গ্রামের ওই গুদামে দূরপাল্লার ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও উৎক্ষেপণ বুস্টার রাখা ছিল।
রুশ মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, তারা মাইকোলাইভ ও ইজমাইলের বন্দর, একটি লজিস্টিক কেন্দ্র এবং কিয়েভ অঞ্চলে ইউক্রেনের ‘ফ্লেমিঙ্গো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংরক্ষণের গুদামে হামলা চালিয়েছে।
কিয়েভে টানা বিমান হামলা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। এতে ইউক্রেনের রাজধানীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
এদিকে, শনিবার ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় দুইজন নিহত এবং আরও ২৭ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
খেরসন আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর প্রকুদিন বলেন, হামলায় বাড়িঘর ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
এর আগে, চলতি সপ্তাহে প্রকুদিন বলেন, রাশিয়া এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে। খেরসন অঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় তিনি অঞ্চলটির কয়েক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ এলাকায় সরে যাওয়ারও আহ্বান জানান।