মৃত্যু
কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ৬ নবজাতকের মৃত্যু, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটা একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে। তাদের অবহেলার কারণে ছয়টি প্রাণ ঝরে গেছে। এসির সঙ্গে অক্সিজেন সাপোর্টের একটি সংযোগ ছিল। সেখানে তারা এসি বন্ধ করে দেয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত সেটি চালু করা হয়নি। এদিকে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় ছয়টি শিশু মারা গেছে।’
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) সেখানে গেছেন। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
‘যতটুকু শাস্তির প্রয়োজন, আমরা তা নিশ্চিত করবো। পাশাপাশি এ ঘটনার মাধ্যমে অন্যদের জন্যও একটি বার্তা দেওয়া হবে,’ বলেন মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব ক্লিনিকের লাইসেন্স নেই, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে চিকিৎসক ছাড়া নার্স দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করানো হয়, সেসব প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করা হয়েছে।’
এ সময় হাম সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য বিগত সরকারকে দায়ী করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। ইউনিসেফ, গ্যাভি ও এডিবির পক্ষ থেকে পাঁচবার অনুরোধ করার পরও তারা বেসরকারি উৎস থেকে হাম ও অন্যান্য টিকা কিনেছে।’
মন্ত্রী দাবি করেন, ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করা হয়নি।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিভিন্ন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।
২০ ঘণ্টা আগে
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। আগামী ৪০ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আজ ভোরে হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একটি অস্বাভাবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ১১ জন মায়ের মধ্যে ছয়জনের নবজাতক সন্তান মারা যায়। শিশুদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিনের মধ্যে। বাকি পাঁচ নবজাতক এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল।
অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তারা ওয়ার্ডে ‘সাফোকেটিভ’ বা শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের উপস্থিতি পেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসি জটিলতা বা ভেন্টিলেশন সমস্যার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, এসি বন্ধ করলে সেখানে আর কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের একজন উপপরিচালক এবং অধিদপ্তরের আরেক কর্মকর্তা রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, কমিটি নবজাতকদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, ওয়ার্ডের পরিবেশ উপযুক্ত ছিল কি না এবং এসি বা অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না—সেসব বিষয় তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করবে।
প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, সেবায় গাফিলতি, ব্যবস্থাপনায় অবহেলা বা অবকাঠামোগত কোনো ত্রুটি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান উপস্থিত ছিলেন।
২৩ ঘণ্টা আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৪১ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া এই সময়ে নতুন করে আরও ১৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৪৭ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১৭ মাস ও ৮ মাস বয়সী দুই ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি জানান, গত ২০ মে নেত্রকোনার পূর্বধলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ১৭ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ মে রাতে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটি মারা যায়।
অন্যদিকে, ১৬ মে নেত্রকোনার কলমাকান্দা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৮ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে করা ভর্তি হয়। তাকেও যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। ২৬ মে রাতে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় তারও মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।
ডা. গোলাম মাওলা আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১ হাজার ৬২৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৩৫ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ৪১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে হাসপাতালে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি । তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
১ দিন আগে
ভোলার চরফ্যাশনে বজ্রপাতে জেলে নিহত, মনপুরায় ঝড়ে দোকানপাট লন্ডভন্ড
ভোলার চরফ্যাশনে ঈদের আগে আকস্মিক ঝড়ো বাতাসসহ বজ্রপাতে এক জেলে নিহত হয়েছে। ঝড়ে আরেক উপজেলায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে চরফ্যাশনে বজ্রপাতে এক জেলের মৃত্যু হয়। একই সময়ে ে। এতে প্রায় ১৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়রা জানান, চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের আলম মৎস্যঘাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন সজীব (২৯) নামে এক জেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সামছুল হক মাঝির ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও এক জেলে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে মাছ ধরতে নদীতে গেলে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বজ্রাঘাতে নৌকাতেই সজীবের মৃত্যু হয়। পরে অন্য জেলেরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ আহমেদ জানান, এটি বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরদিকে, মনপুরা উপজেলার ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট এলাকায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে পাঁচটি দোকানঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দোকানে খাদ্যসামগ্রী ও বিভিন্ন মালামাল মজুত করেছিলেন তারা। কিন্তু ঝড়ের তীব্রতায় দোকানঘর ভেঙে পড়ে এবং অনেক মালামাল নদীতে ভেসে যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু মুসা বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১ দিন আগে
বরিশালে বাসচাপায় এক পরিবারের ৩ জন নিহত
বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল-আরোহী একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর পৌনে ১টার দিকে মহাসড়কের বাটাজোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান জানান, ঢাকা থেকে বরিশালগামী তাজ আনন্দ পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে ধাক্কা দিলে মটরসাইকেলে তাকা এক ব্যক্তি এবং তার স্ত্রী ও সন্তান ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নিহতরা হলেন: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার আব্দুল হাকিম হাওলাদারের পুত্র ফিরোজ হাওলাদার (৩৬), তার স্ত্রী মনিরা বেগম (২৮) এবং মেয়ে জান্নাত (১০)।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তার ধারণা, ঈদ উপলক্ষে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি উজিরপুরে ফিরছিল পরিবারটি।
ঘটনার পরপরই বাসের চালক বাসটি ফেলে রেখে পালিয়ে যান। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটি ভাঙচুর করে।
মিজানুর রহমান আরও জানান, পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে পৌঁছানোর পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২ দিন আগে
ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ভবন ধসে ৪ জন নিহত, এখনও নিখোঁজ ১৭
ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ৯ তলা একটি ভবন ধসে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনও ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
হতাতহত ও নিখোঁজদের বেশিরভাগই ছিলেন নির্মাণশ্রমিক। আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৪ মে) ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলের অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে এই ভবন ধসের ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরেকজনকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও মারা যান।
এ সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তারা দেখেন, শত শত উদ্ধারকর্মী, দমকলবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে কংক্রিটের স্ল্যাব, লোহার রড ও অ্যালুমিনিয়ামের স্ক্যাফোল্ডিংয়ের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বের করে আনার চেষ্টা করছেন। আটকে থাকা অবস্থায় তখনও তারা জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাদের বের করে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আটকে পড়া এক ব্যক্তিকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখতে উদ্ধারকারীরা তাকে পানি ও শিরায় ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা করেন। আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জেস মেন্দেজ এপিকে বলেন, আটকে পড়া ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
সোমবার ধ্বংসস্তূপ থেকে যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তার সম্পর্কে অ্যাঞ্জেলেস সিটির প্রধান তথ্য কর্মকর্তা জে পেলায়ো জানান, উদ্ধার করা ওই ব্যক্তি নিখোঁজ ১৭ জনের তালিকায় ছিলেন না।
এছাড়া এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া চতুর্থ নিহত ব্যক্তি ছিলেন এক মালয়েশিয়ান পর্যটক। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষের একটি অংশ পাশের একটি সরাইখানার ওপর গিয়ে পড়লে তিনি সেখানে আটকা পড়েন। পরে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
গতকাল (রবিবার) প্রবল বজ্রঝড়ের পর বিকট শব্দে ভবনটি ধসে পড়ে। এক দিন পার হয়ে গেলেও উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। অ্যাঞ্জেলেস সিটির মেয়র কারমেলো লাজাতিন বলেন, আগে জীবিতদের উদ্ধার অভিযান চলবে। এরপর মরদেহগুলো উদ্ধার করা হবে।
তিনি বলেন, আমার এখনও আশা আছে, আমরা আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে পারব। আমরা আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিবারকে আশাহত করতে চাই না।
ধ্বংসস্তূপের পাশেই অস্থায়ীভাবে আশ্রয় তৈরি করে অপেক্ষা করে যাচ্ছেন নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা। তাদের সবার মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক কাজ করছে।
মেয়র লাজাতিন বলেন, উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন। কারণ বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো অ্যালুমিনিয়ামের স্ক্যাফোল্ডিংয়ের স্তুপের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে আটকে আছে। যেকোনো সময় সেগুলো ভেঙে পড়ে উদ্ধারকর্মীদের ওপর আছড়ে পড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, ভবন ধসের সময় সেখানে থাকা ২৬ জন শ্রমিক উদ্ধার হয়েছেন, অথবা নিজেরাই দৌড়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। যারা ভবনের নিচতলায় ছিলেন, তারা দ্রুতেই বের হয়ে আসতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
দেশটির জাতীয় পুলিশ প্রধান জেনারেল হোসে মেলেনসিও নারতাতেজ জুনিয়র বলেন, ভবন ধসে পড়ার কারণ এবং ভবন নির্মাণে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করবে পুলিশ।
২ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগে হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে।
রবিবার (২৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মৃত শিশুটির বাড়ি দক্ষিণ সুনামগঞ্জে। সিলেটের ডা. শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ মাস বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আজ (রবিবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৭৩ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৯৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় সিলেটে বিভাগে একজনের হাম রোগ শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা হামের উপসর্গে মারা গেছে ।
৩ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে খাদে পড়ে নিহত ৪
কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি বাস খাদে পড়ে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০-২৫ জন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
শনিবার (২১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খোকসা শিয়ালডাঙ্গী মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তানহা পরিবহনের একটি বাস রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়ার দিকে আসছিল। পথিমধ্যে খোকসা শিয়ালডাঙ্গী মসজিদের সামনে পৌঁছালে একটি ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষের উপক্রম হয়। পরে ভ্যানটিকে বাঁচাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসটি খাদে পড়ে যায়।
খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুল হক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জনের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। এছাড়া আহত ২০ জনকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে। এরমধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ইকবাল হাসান জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় আনা ৪ জনের মধ্যে একজন নারী এবং একজন পুরষ মারা গেছেন। বাকি ২ জন পুরুষকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৪ দিন আগে
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩১৫
দেশে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩১৫টি শিশু।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ২টি শিশুর।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৪১৪টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮৫টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৪৯৯টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৫৪টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৬১।
এই সময়ে ১ হাজার ১০৪ টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৭৫ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ৫৪০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৩২৯।
এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৪৭ হাজার ৫১১ রোগী, যাদের মধ্যে ৪৩ হাজার ৪১১ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
৫ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে ৫ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে।
শুক্রবার (২২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মৃত পাঁচ শিশুর মধ্যে দুজন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, দুজন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এবং একজন সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে হামের উপসর্গে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যু।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৭৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৮৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১৫৮ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মৃত শিশুদের মধ্যে ৪ জন নিশ্চিত হাম আক্রান্ত ছিল। বাকিরা সন্দেহভাজন রোগী ছিল।
হাম-উপসর্গে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০টি এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪টি আইসিইউ বেড স্থাপন করা হয়েছে।
৫ দিন আগে