মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ প্রাণহানি, মৃত্যু বেড়ে ৯১৫
দেশে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩১টি শিশু।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮১৬টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯১৫টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৫০টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৮১। এই সময়ে ৯২৯টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৭৪টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭৮, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৯৩০। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৬ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ৯১৩ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
২ ঘণ্টা আগে
ঘাস মারতে জমিতে বিষ প্রয়োগ, দর্শনায় মারা গেল শতাধিক দেশীয় পাখি
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ায় ঘাসের জমিতে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় প্রায় শতাধিক দেশীয় পাখি মারা গেছে। এ ঘটনায় গতরাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত জমির মালিকের ছেলেকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে দক্ষিণপাড়ার আতিয়ার রহমান তার ঘাসের জমিতে ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমনে বিষ প্রয়োগ করেন। পরে বিষমিশ্রিত ধান ও বিষাক্ত পোকামাকড় খেয়ে সেদিন রাত থেকে পরদিন রবিবার দিনভর বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় পাখি মারা যেতে থাকে।
বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে গতরাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দামুড়হুদা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক শাহীন আলম। এ সময় জমির মালিকের ছেলে রাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জমিতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি স্বীকার করেন।
পরে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজনকে ৫০০ টাকা জরিমানাসহ ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করতে সতর্ক করেন তিনি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম বলেন, ফসল রক্ষায় কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষকদের অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। কীটনাশকের কারণে পাখিসহ পরিবেশের ক্ষতি হয় এমনভাবে বিষ প্রয়োগ করা যাবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কৃষকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
নওগাঁয় ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহীগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ইলিয়াস হোসেন (২২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইলিয়াস হোসেন সাহাগোলা ইউনিয়নের চাপড়া গ্রামের লেবু মিয়ার ছেলে।
আজ সকালে সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল উদ্দিন জানান, গতকাল (রবিবার) রাতে সান্তাহার থেকে ছেড়ে যাওয়া রাজশাহীগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় ইলিয়াস হোসেন ইয়ারফোন লাগিয়ে রেল লাইনের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ থানায় নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরাও থানায় আসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায়ই ট্রেন চলাচলের সময় মানুষের চলাচল করতে দেখা যায়। এর আগেও এ এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ফলে রেললাইন ও স্টেশন এলাকায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ওসি মো. দুলাল উদ্দিন জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা করা হয়েছে।
এদিকে, ইলিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
২ ঘণ্টা আগে
বিহারে মন্দিরে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক, পদদলিত হয়ে নিহত ৭
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যের একটি হিন্দু মন্দিরে আজ সোমবার পদদলনের ঘটনায় সাতজন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, বিহারের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে পশ্চিমবঙ্গের তীর্থযাত্রীদের একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লেগে অন্তত সাতজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
বিহারের লাখিসরাই জেলার অশোক ধাম মন্দিরের কাছে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার হাজার হাজার ভক্ত প্রার্থনা করতে ওই মন্দিরে জড়ো হয়েছিলেন।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে শ্রাবণ মাসটি শিবের উপাসনার জন্য উৎসর্গীকৃত এবং এ সময় উপবাস, প্রার্থনা ও বর্ষাকালীন বিভিন্ন উৎসব পালিত হয়।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু মানুষকে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক কর্মকর্তা শৈলেন্দ্র কুমার। তিনি বলেন, পদদলনের কারণ এখনও তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মন্দির প্রাঙ্গণের বাইরে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে ভক্তরা পালানোর চেষ্টা করলে এ ঘটনা ঘটে।
শৈলেন্দ্র কুমারের বরাতে প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) খবরে বলা হয়, হুড়োহুড়ি করে এগিয়ে আসা মানুষের চাপে ব্যারিকেডের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে অনেকে পড়ে গেলে তাদের ওপর অন্যরা পড়ে যান এবং পদদলনের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মন্দিরনগরী তারাপীঠে আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চারতলা একটি হোটেলের নিচতলায় আগুন লাগে। তখন অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছে পিটিআই।
খবরে বলা হয়, হোটেলের অনেক অতিথিই তারাপীঠে প্রার্থনা করতে আসা তীর্থযাত্রী ছিলেন। সেখানে একটি বড় মন্দির কমপ্লেক্সে শিবের একটি মন্দিরও রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের বেশ কিছু সময় পর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। সেখান থেকে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন দগ্ধ হওয়ার চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, অন্যরা ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ ও শ্বাসরোধজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ সংবাদ সংস্থাটিকে জানায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বৈদ্যুতিক উপাদানে আগুন লাগার পর অভ্যর্থনা এলাকার কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ধর্মীয় উৎসবের সময় ভারতে এ ধরনের পদদলনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে সাধারণ। বড় বড় ধর্মীয় সমাবেশে কখনো কখনো লাখ লাখ মানুষ সীমিত জায়গায় জড়ো হন, যেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে না।
গত বছরের জানুয়ারিতে মহাকুম্ভ উৎসবের সময় নদীতে স্নান করতে গিয়ে পদদলনের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন। মহাকুম্ভকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২০১৩ সালে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের একটি মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবে অংশ নেওয়া তীর্থযাত্রীরা একটি সেতু ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ওই ঘটনায় পদদলিত হয়ে এবং নিচের নদীতে ডুবে অন্তত ১১৫ জন নিহত হন।
৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় ৩০ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা, নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এ বন্যায় স্থানীয় সময় শনিবারও ব্যাপক বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
বৃষ্টির মধ্যেই উদ্ধারকর্মীরা নৌকা ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করছেন বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
খবরে বলা হয়, অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ইন্ডিয়ানাপোলিসের মেয়র জো হগসেট এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য উচ্ছেদের সতর্কতা মেনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার বিভাগের উপপ্রধান জেরি মার্টিন বলেন, ‘ছয় ইঞ্চি পানি যেকোনো গাড়িকে অচল করে দিতে পারে। আট ইঞ্চি পানি গাড়িগুলো সড়ক থেকে ভাসিয়ে নিতে পারে। এমনকি তিন ইঞ্চি পানিও একজন মানুষকে ফেলে দিতে পারে। বন্যার পানি অত্যন্ত বিপজ্জনক।’
নগরীর গণপূর্ত বিভাগের পরিচালক টড উইলসন বলেন, ‘পানির উচ্চতা এখনও বাড়ছে। সারা দিনই এটি বাড়তে থাকবে।’
অঙ্গরাজ্যের আরও পূর্বে ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে গেল শুক্রবার শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যার পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তার মৃত্যু হয়।
এছাড়া নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর বুধবার থেকে নিখোঁজ থাকা এক কিশোরের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে জেনিংস কাউন্টিতে একটি গাছের নিচে চাপা পড়ে চার বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়।
এদিকে, মধ্য ইন্ডিয়ানার উত্তর-পূর্ব হেনড্রিকস কাউন্টি ও উত্তর মারিয়ন কাউন্টিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ বন্যা আর দেখা যায়নি। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কিছু এলাকায় দুই দিনে ২৮ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অ্যান্ডারসন ও নোবলসভিল এলাকায় হোয়াইট নদীর পানি ৭ দশমিক ৩২ মিটার ছাড়িয়ে গেছে, যা ১৯১৩ সালে রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
অভূতপূর্ব এ বন্যায় উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিকভাবে বন্যার ঝুঁকি ছিল না এমন এলাকাতেও এবার পানি ঢুকেছে।
ইন্ডিয়ানার রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ব্রাউন শনিবার নিশ্চিত করেছেন, বন্যা মোকাবিলা ও পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তার করা ফেডারেল সম্পদের অনুরোধ অনুমোদনের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, উত্তর ইন্ডিয়ানাপোলিসের কিছু এলাকা থেকে অন্তত ৪০০ মানুষ নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে ৩৫০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টিপটন কাউন্টির একটি প্রবীণদের ভ্রাম্যমাণ আবাসনও খালি করা হচ্ছে। ফায়েত কাউন্টিতে উদ্ধার ও বাসিন্দাদের খোঁজ নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার বিভাগের মুখপাত্র রিটা রেইথ জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৯৫ জন মানুষ ও ৪৫টি পোষা প্রাণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। দিনভর জরুরি সেবার জন্য শত শত ফোনকল পেয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শনিবার বিকেল পর্যন্ত উত্তর ইন্ডিয়ানা পাবলিক সার্ভিস কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যে দেড় লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন।
২১ ঘণ্টা আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ প্রাণহানি, মৃত্যু বেড়ে ৯০৮
দেশে আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১০১টি শিশু।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮০৯টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯০৮টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৮০টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২১। এই সময়ে ৯৬৩টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৫০টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৭, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৮৮০। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৭ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
১ দিন আগে
রাঙামাটিতে পিকআপ উল্টে নিহত ৪
রাঙামাটি সদর উপজেলায় পিকআপ উল্টে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
রবিবার (১৬ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাপছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন: মেঘরানী চাকমা (৪৫), শান্তনা চাকমা (৩৮), শোভা চাকমা (৫২) এবং শান্তি রঞ্জন চাকমা (৬৫)।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত জ্ঞান বিকাশ চাকমা (৫০) এবং সুমন চাকমা (৪৫)-কে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটি শহর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি পিকআপ কুতুকছড়ি বাজারের উদ্দেশে যাওয়ার পথে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে পিকআপটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত উদ্ধার করে আহতদের রাঙামাটি হাসপাতালে পাঠায়। এর মধ্যে চারজনকে রাঙামাটি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার মানিকছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোকন কান্তি রুদ্র জানান, অনাকাঙ্খিত এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
১ দিন আগে
সাদাপাথরে পানিতে ডুবে এক পর্যটকের মৃত্যু
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে পানিতে গোসল করতে নেমে মাইনুল ইসলাম রিফাত (২১) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বন্ধুদের সঙ্গে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
নিহত রিফাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিজয়েশ্বর গ্রামের হাতিম মিয়ার ছেলে। তিনি নবীনগর সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার বন্ধু মিলে আজ (শনিবার) ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে বেড়াতে যান। দুপুর ১২টার দিকে তারা পর্যটনকেন্দ্রের পানিতে গোসল করতে নামলে একপর্যায়ে রিফাত পানিতে তলিয়ে যান। তাকে আশপাশে দেখতে না পেলে বিষয়টি তার বন্ধুদের নজরে আসে। এরপর তারা স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাদাপাথর থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে ধলাই নদীর কালিরডর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তার বন্ধুরা নৌকা ও গাড়ি যোগে দ্রুত তাকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সিলেট থেকে নিহতের বন্ধু সাব্বির রহমান জানান, তারা চার বন্ধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সিলেটের সাদাপাথর বেড়াতে আসেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে পর্যটনকেন্দ্রে পৌঁছে তারা নদীতে গোসল করতে নামেন। কিছুক্ষণ পর রিফাতকে নদীর পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নাতিকুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই রিফাতের মৃত্যু হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম গাজী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি জানান, সাদাপাথর বেড়াতে এসে এক পর্যটক নিহত হয়েছেন। মরদেহ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১ দিন আগে
হাতীবান্ধায় অটোরিকশা চাপা দিয়ে শোরুমে ঢুকল ট্রাক, নিহত ২
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ট্রাকের চাপায় অটোরিকশার দুইজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও তিনজন পথচারী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: উপজেলার শিংগিমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল (৫০) ও একই উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সারডুবি গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে জহুরুল হক (৪৮)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, উপজেলার বড়খাতা এলাকা থেকে ভাড়ায় চালিত একটি অটোরিকশা হাতীবান্ধা সদরে যাচ্ছিল। রিকশাটি ঘটনাস্থলে পৌছলে বিপরীত দিক লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা বুড়িমারীগামী একটি ট্রাক সেটিকে চাপা দেয়। এ সময় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি মোটরসাইকেল শোরুমে ঢুকে পড়ে। ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রী নিহত ও তিনজন পথচারী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
১ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ৩৮
ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে আজ শনিবার ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। এতে বহু ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এনদে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। মূল ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতা জারি করে উপকূলীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় উপকূলীয় জনপদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না পাওয়ায় পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো জানান, উদ্ধারকারীরা অন্তত ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নিহতদের বেশির ভাগই সিক্কা, মাংগারাই ও পূর্ব মাংগারাইয়ের তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা। মাংগারাইয়ের রেওক গ্রামে ভূমিধসে চাপা পড়ে থাকা ১৬ জনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, ভূমিকম্পে আহত অন্তত ১৩ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
২ দিন আগে