মৃত্যু
কক্সবাজারে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে নিহত ৯
কক্সবাজারে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড় ধসে দুই পরিবারের সাত সদস্যসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে কক্সবাজারের পৃথক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ৮ জন উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এবং অন্যজন কক্সবাজার পৌরসভায় নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।
তিনি জানান, গতকাল (রবিবার) রাত ১টার দিকে উখিয়ার ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি ঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়লে এক পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন—মোহাম্মদ কামাল হোসেন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস।
একই সময়ে কুতুপালংয়ের ৭ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড়ের ঢাল থেকে মাটি চাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
এরপর গতকাল দিবাগত রাত ৩টার দিকে ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপর এক পাহাড় ধসের ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যের প্রাণহানি ঘটে।
নিহতরা হলেন—উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩) এবং দুই ছোট ভাই রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। এই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
পৃথক আরেকটি ঘটনায়, আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের সাত্তার ঘোনা এলাকায় আলী আকবরের (৫০) ঘরের ওপর পাহাড়ের বিশাল মাটির চাঙ্গর ধসে পড়ে। এতে আলী আকবর ও তার পরিবারের আরও দুই সদস্য ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল (রবিবার) সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণের কারণে এই পাহাড় ধসের ঘটনাগুলো ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই ভারী বর্ষণ হয়েছে।
তিনি জানান, আজ (সোমবার) সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং এই বৃষ্টি আরও দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানান, পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঝুঁকি এড়াতে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
১ দিন আগে
রংপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেলের আরোহী দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতরা সম্পর্কে পিতা-পুত্র। এছাড়া তাদের সঙ্গে থাকা নাতি আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মানদ্রাইন এলাকার নির্মল চন্দ্র রায় (৭৫) ও তার ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় (৩৫)। প্রশান্ত পেশায় পল্লী চিকিৎসক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্মল চন্দ্র রায়, তার ছেলে প্রশান্ত এবং নাতি বন্ধন একটি মোটরসাইকেলে করে তুলশীহাটে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। পথে মন্থনা বাজারে সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগে। এ সময় প্রশান্ত চন্দ্র রায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় নির্মল চন্দ্র রায়কে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। আহত বন্ধন চন্দ্র রায় বর্তমানে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর জানান, ট্রাকটির চালক পলাতক রয়েছে। ট্রাকটি থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৫ দিন আগে
রাজবাড়ীতে বিটুমিন কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ: অগ্নিদগ্ধ ২ শ্রমিকের মৃত্যু
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পশ্চিম উজানচর এলাকায় ঢাকা পাইরোলাইসিস কোম্পানির বিটুমিন তৈরির কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ ঘটনার ৫ দিন পর অগ্নিদগ্ধ দুই শ্রমিক মারা গেছেন।
সোমবার (২৯ জুন) পুলিশ ও ঢাকা পাইরোলাইসিস কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আহত দুই শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া দুই শ্রমিক হলেন— সোহেল রানা (২৪) ও শাওন মন্ডা (১৬)। সোহেল রানা গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মোল্লা পাড়া গ্রামের সামসুদ্দিনের ছেলে এবং শাওন মন্ডা মৌলভীবাজার জেলার জুরি উপজেলার বিনন্দাপুর গ্রামের ছুনু মন্ডার ছেলে ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে সোহেল গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এবং শাওন মুন্ডা আজ (সোমবার) বেলা ১১টার দিকে মারা যান। আগুনে সোহেলের দেহের অন্তত ৬০ শতাংশ এবং শাওনের দেহের ৭০ শতাংশ ঝলসে গিয়েছিল।
জানা গেছে, গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো তারা কারখানার বয়লারের মধ্যে টায়ার পুড়িয়ে বিটুমিন তৈরির কাজ করছিলেন। হঠাৎ কারখানার বয়লার বিস্ফোরিত হয়ে দুজন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হলে অন্য কর্মচারী ও স্থানীয়রা দ্রুত তাদের দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৫ বছর আগে গোয়ালন্দের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যাক্তি আওয়ামী লীগ নেতার সহায়তায় পরিবেশ অধিদপ্তরকে ‘ম্যানেজ’ করে জনবহুল এই এলাকায় পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এ কারখানাটি স্থাপন করেন। ইতোমধ্যে কারখানাটির অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও চলতি বছর পুনারায় অনুমোদন না নিয়েই বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটি হতে বের হওয়া টায়ার পুড়ানোর কালো ধোয়ার দুর্গন্ধে তাদের বাড়িঘরে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাতাসে কালো ধোয়া এসে ঘর বাড়ি, গাছপালা ও মাঠের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কালো ধোয়া ও দূর্গন্ধে তারা ঠিকমতো খাবার দাবারও গ্রহণ করতে পারছে না।
দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী বাহাউদ্দীন বাহার বলেন, ‘আমরা মারা যাওয়া দুই শ্রমিককে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করি। কিন্তু তাদের বাঁচানো গেল না।’
তিনি দাবি করেন, কারাখানায় বয়লার বিস্ফোরণ ঘটেনি। বয়লারের ভেতরের অতিরিক্ত গরম গ্যাস বের হয়ে দুই শ্রমিক দ্বগ্ধ হন। শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু নিজেদের অসাবধানতার জন্য দুই শ্রমিক আহত হন। কোম্পানির পক্ষ হতে মৃত দুই শ্রমিকের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, মারা যাওয়া দুই শ্রমিকের মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কারখানাটি এখনও তালাবন্ধ আছে এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সবাই আত্নগোপনে রয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবরটি আমি শুনেছি। বিষয় অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে পরবর্তীতে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৮ দিন আগে
প্রবাদপ্রতিম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন
বিশিষ্ট শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
এক শোকবার্তায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, বাংলাদেশের প্রবাদপ্রতিম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বাংলা একাডেমির সম্মানসূচক ফেলো মুস্তাফা মনোয়ার সোমবার সকালে মারা গেছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ দেশের গণমাধ্যমের সৃজনশীল বিকাশে মুস্তাফা মনোয়ারের অবদান অবিস্মরণীয়।
এছাড়া তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মুস্তাফা মনোয়ার দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
মুস্তাফা মনোয়ার ‘বাংলাদেশের পাপেট ম্যান’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পশ্চিমবঙ্গের শরণার্থী শিবিরগুলোতে যুদ্ধ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে পুতুলনাচের আয়োজন করেছিলেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনে তার জনপ্রিয় পাপেট অনুষ্ঠান ‘মনের কথা’ টানা ১২ বছর প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানটিতে পারুল নামে এক কিশোরী ও তার সাত ভাই চম্পার গল্প তুলে ধরা হয়, যারা অভিশাপে ফুলে পরিণত হয়েছিল।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর যশোরে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তিনি ছিলেন ছয় ভাইবোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। তার বাবা ছিলেন খ্যাতিমান কবি গোলাম মোস্তফা।
মুস্তাফা মনোয়ার নারায়ণগঞ্জ সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে স্বল্প সময় অধ্যয়ন করেন।
পরবর্তীতে তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্রাফটে ভর্তি হন এবং ১৯৫৯ সালে চারুকলায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করার পর তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপমহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং জাতীয় গণযোগাযোগ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
এই বরেণ্য শিল্পাচার্য অল ইন্ডিয়া ফাইন আর্টস কম্পিটিশন পুরস্কার, জয়নুল আবেদিন স্বর্ণপদক এবং সর্বোপরি ২০০৪ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন।
তার সৃজনশীল কর্মযজ্ঞ কয়েক প্রজন্মের শৈশবকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।
৮ দিন আগে
ভেনেজুয়েলায় বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ, ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১,৪৩০
ভেনেজুয়েলের লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে থাকা মানুষদের খুঁজছে, তখন সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উত্তেজনা ও মরিয়া ভাব আরও বাড়ছে। দেশটিতে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর এরই মধ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর শনিবার পর্যন্ত অন্তত ৬৮ হাজার ৯০০ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছে পরিবারগুলো।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর অন্যতম লা গুয়াইরা। সেখানকার ধসে পড়া কংক্রিটের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজে কোদাল, ভারী যন্ত্রপাতি, দড়ি ও খালি হাতেই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোও। ধসে পড়া ভবনের ফাটল গলে তাদের ভেতরে ঢোকার দৃশ্য শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর মনে ক্ষীণ হলেও আশার আলো জাগাচ্ছে।
তবে সরকারের অপর্যাপ্ত পদক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন চরমে পৌঁছেছে। দেশটির সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সামরিক ক্যাডেটদের উপস্থিতি থাকলেও এত বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতিতে স্পষ্ট ঘাটতি লক্ষ করা গেছে। এর মধ্যেই সরকারি তৎপরতা খুব জোরালো, সরকারের এমন একটি ভাবমূর্তি জাহির করার চেষ্টায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষকে জীবিত উদ্ধারের জন্য প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে খাবার ও পানির উৎস থাকলে এই সময়সীমা আরও বাড়তে পারে। ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০-রও বেশি উদ্ধারকর্মী নিয়ে ১৭টি বিমান দেশটিতে অবতরণ করেছে।
৯ দিন আগে
গ্রেপ্তারের এক দিন পর চট্টগ্রাম কারাগারে যুবলীগ নেতার মৃত্যু
গ্রেপ্তারের এক দিন পর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নুরুল আলম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানায় কারাগার কর্তৃপক্ষ।
অসুস্থ হওয়ার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুল আলমের মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, মৃত নূরুল আলমের বড় বোন বকুলি বেগম ও ভগ্নিপতি অভিযোগ করেন, ‘রাজনৈতিক কারণে নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ব্যবসায়িক কারণে এলাকার একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করিয়েছে। তাকে আটকের পর ডিবি পুলিশ নির্যাতন করে হত্যা করেছে। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। এর আগেও তাকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। আমারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।’
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে একটি মামলায় নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে নেওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আজ (বুধবার) সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৩ দিন আগে
ঢাবিতে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে নিচে পড়ে মালির মৃত্যু
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে নিচে পড়ে ছিয়াকুল (৩৯) নামে এক বাগান মালির মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ছিয়াকুলের বাড়ি নড়াইলের নড়াগাতী থানার দেবদূত এলাকায়। তার বাবার নাম রয়জুল। বর্তমানে তিনি ঢাবির রোকেয়া হলের বাগানের মালি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের সহকর্মী সুনীল জানান, আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রোকেয়া হলের গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়ছিলেন ছিয়াকুল। এ সময় অন্য আরেকটি কাঁঠাল তার মাথার ওপর পড়লে গাছ থেকে নিচে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আমরা তাকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতাল নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১৪ দিন আগে
লখনউয়ে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৪
ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহর লখনউয়ের একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।
সোমবার (২২ জুন) লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকার একটি ভবনে আগুন লাগে। ভবনটির নিচতলায় একটি পোষা প্রাণীর দোকান ও পশু চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া ওপরের তলাগুলোতে একটি কোচিং সেন্টার ও অ্যানিমেশন স্টুডিও ছিল।
দুর্ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ভাঙা জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। একটি ভিডিওতে একজনকে ওপরের তলা থেকে নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি বেঁচে গেছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘন ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ভবনের পেছনের দেওয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। ধোঁয়া অপসারণে এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করা হয় এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ও শৌচাগারে জীবিতদের অনুসন্ধান করেন।
অ্যানিমেশন স্টুডিওর কর্মী মোহাম্মদ আসিন জানান, দুপুরের খাবারের বিরতি শেষে কর্মীরা কাজে ফিরছিলেন, ঠিক তখনই আগুন লাগার খবর পান।
তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম এটি ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড, কিন্তু বের হওয়ার চেষ্টা করার আগেই কক্ষ ও চলাচলের পথ ধোঁয়ায় ভরে যায়।’
ভারতে প্রায়ই প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দেশটিতে ভবন নির্মাণ আইন ও নিরাপত্তা বিধিমালা অনেক ক্ষেত্রেই নির্মাতা ও বাসিন্দাদের মাধ্যমে লঙ্ঘিত হয়।
গত ৩ জুন দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও ছিলেন।
১৫ দিন আগে
মিরপুরে ইটের আঘাতে আহত সেই সাজিদ মারা গেছেন
রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে ছোড়া ইটের আঘাতে গুরুতর আহত আরোহী সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সোমবার (২২ জুন) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো সাজ্জাদ হোসেন জানান, মোটরসাইকেলচালক সাজিদ চৌধুরী রাফি আজ (সোমবার) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন— প্রধান আসামি মো. পারভেজ, ফয়সাল ওরফে কালু এবং আনোয়ার হোসেন বাবু।
মৃত রাফির চাচা মো. নুর হোসেন চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন রাফিকে প্রথমে শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন ১০ জুন তাকে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। প্রায় ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, ৯ জুন দিবাগত রাত রাত সোয়া ১টার দিকে পূর্ব শেওড়াপাড়া দিয়ে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন রাফি। আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একজন তাকে থামার সংকেত দেন। তিনি না থামলে আরেকজন চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট ছুড়ে আঘাত করেন। এতে রাফি রাস্তায় পড়ে যান। এ সময় দিয়ে আঘাতকারী ব্যক্তি চিৎকার করে বলেন উপর থেকে রাফির ওপরে ইট পড়েছে। তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। তিনি নিজেই ইট দিয়ে রাফিকে আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করার পর চিৎকার করে আশপাশের লোকজনের কাছে সাহায্য চান। পরে রাফিকে একটি অটোরিকশায় করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে মনে করেছিলেন। পুলিশও প্রথমে সেই দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তবে তদন্তের পরে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, হামলাকারীরা রাফির পূর্বপরিচিত। ঘটনার দিন রাফি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত কালু, পারভেজসহ কয়েকজন সহযোগী ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। রাফিকে একা পেয়ে তারা তাকে আটকের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কালু তাকে থামাতে ব্যর্থ হলে সামনে অবস্থান নেওয়া পারভেজ একটি বড় ইটের টুকরো দিয়ে রাফির মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে অভিযুক্তরাই আহত রাফিকে প্রথমে সোরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও পরে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
১৫ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ জনে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক সময়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে একজনের বয়স ৯ মাস এবং অপরজনের বয়স প্রায় ৩ মাস। তাদের একজনের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগরে এবং অপরজনের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৭১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৬৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা হামের উপসর্গে মারা গেছে।
১৯ দিন আগে