মৃত্যু
ভাটারায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ মামা-ভাগনির মৃত্যু
রাজধানীর ভাটারা থানাধীন নতুন বাজার ১০০ ফিট এলাকার একটি বাসায় গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ জন দগ্ধের ঘটনায় মো. শাহীন (২৪) ও তাদের ভাগ্নি হাফছা (৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থায় মারা গেছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহীনের মৃত্যু হয়। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে মারা যায় হাফছা।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, ভাটারা এলাকায় গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে আমাদের এখানে তিনজন এসেছিলেন। তাদের মধ্যে শাহিন আজ সকাল ৬টায় আইসিইউতে মারা যান। তার শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। গতকাল রাত ১২টার দিকে আইসিইউতে তার ভাগ্নি হাফছাও মারা যায়। তার শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় শাহিনের স্ত্রী ফাহিমা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে এবং তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
এর আগে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে দগ্ধ অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. জসিম জানান, দগ্ধ শাহীন একটি দোকানের কর্মচারী ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে ভাটারার নতুন বাজার ১০০ ফিট রোডের একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলায় থাকতেন। ওইদিন ভোরে গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। পরে দগ্ধ অবস্থায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।
৩ দিন আগে
কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৯৩০ ছাড়াল
কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে, ইতুরি প্রদেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের অসন্তোষের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ জুলাই) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, শনিবার ২ হাজার ৩৪৪ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।
গত ১৫ মে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই এটি আগের সব রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়েছে। এ প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও ভাইরাসটি ইবোলা সৃষ্টিকারী অন্যান্য ভাইরাসের তুলনায় কম পরিচিত। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও কোনো অনুমোদিত টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই।
এদিকে, ইবোলার প্রাদুর্ভাবে কঙ্গোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতুরি প্রদেশ। সেখানে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষে অনেক এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম সীমিত হয়ে যাওয়ায় ইতুরি প্রদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, মে মাসের মাঝামাঝি প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অন্তত ১২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে বেতন না পাওয়ার প্রতিবাদে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী কর্মবিরতি পালন করছেন।
কঙ্গোতে এ পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ৭২৪ জন রোগী হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পাশাপাশি সরকার আক্রান্ত এলাকাগুলোতে রোগ মোকাবিলার কার্যক্রম আরও জোরদার করছে।
৭ দিন আগে
ভালুকায় ইটিপি ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে দুই শ্রমিকের মৃত্যু
ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি সিরামিকস কারখানার নির্মাণাধীন ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও এলাকায় অবস্থিত এক্সিলেন্ট সিরামিকস কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার নকসা গ্রামের ফারুক গাজীর ছেলে ও মেকানিক্যাল ওয়েল্ডার শফিকুল ইসলাম (২৮) এবং নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার বল্লী গ্রামের কুহিল মিয়ার ছেলে ও সিভিল হেলপার রুমেল মিয়া (২৫)।
সহকর্মীদের অভিযোগ, কাজ করার সময় প্রথমে শফিকুল ইসলাম ইটিপি প্ল্যান্টের ট্যাংকে নামেন। বেশকিছু সময় তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রুমেল মিয়া নিচে নামেন। তিনিও বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে অন্য শ্রমিকরা তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এর আগেই কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ দুটি বর্তমানে মমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ময়মনসিংহ শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনছার উদ্দিন বলেন, এ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি বা উদ্ধারকাজে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৯ দিন আগে
সাত জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৫৭
টানা অতিবৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ধসে দেশের সাত জেলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খোলা ১১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৪ হাজার ৭৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বন্যাকবলিত জেলা সাতটি। এগুলো হলো: খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৭টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ৩৩৪টি এবং পৌরসভা ৯টি।
জেলাভিত্তিক হিসাবে রাঙামাটিতে ৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, কক্সবাজারে ৩২ জন (স্থানীয় ১৯ ও রোহিঙ্গা ১৩), চট্টগ্রামে ১৫ জন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন।
আহতদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে একজন, বান্দরবানে দুজন, কক্সবাজারে ২৫ জন (স্থানীয় ২০ ও রোহিঙ্গা ৫) এবং চট্টগ্রামে ১২ জন রয়েছেন।
দুর্যোগবকলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। কক্সবাজারে নগদ অর্থ, চাল ও ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা, এক হাজার ২০০ টন চাল এবং ৪৯ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনা খাবার।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানায়, ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় বন্যা ও অতিবৃষ্টিপ্রবণ জেলাগুলোর জন্য নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ হিসাবে সাত জেলার জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের ৬৪ জেলার সাধারণ ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
১২ দিন আগে
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর শোক
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রবিবার (১২ জুলাই) পৃথক শোকবার্তায় তারা শোক প্রকাশ করেন।
শোকবার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন দেশের একজন অভিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট আইনজীবী এবং বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। তিনি আজীবন গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
পৃথক শোকবার্তায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে সংসদীয় গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশ ও জনগণের কল্যাণে তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, প্রজ্ঞাবান ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদকে হারাল।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
১৫ দিন আগে
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের সৈনিক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং রাজনীতিবিদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহর দরবারে তার মাগফিরাত কামনা করছি। ’
তিনি বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। সুদীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শে অবিচল ছিলেন। দলের দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও দুঃসময়ের কোনো পর্যায়েই কখনো কোনো পরিস্থিতিতেই তিনি আদর্শচ্যুত হননি। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, নিপীড়ন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দলীয় জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সমুন্নত রেখেছেন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বিশেষ করে বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সাহসিকতা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ় প্রত্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবিস্মরণীয় অবদান বিএনপির ইতিহাসে যেমন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রারও এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, এবং সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে হারাল। তার আদর্শ, প্রজ্ঞা, সততা ও কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
‘আমি মহান আল্লাহ তাআলার কাছে মরহুমের মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমি একই সঙ্গে মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
১৫ দিন আগে
নওগাঁয় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত
নওগাঁয় পৃথক উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে রাণীনগর ও মান্দা উপজেলায় মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন— রাণীনগর উপজেলার মালশন গ্রামের মোহাম্মদ খয়বর আলীর ছেলে সাখাওয়াত হোসেন (৫৫) ও মান্দা উপজেলার এলেঙ্গা মৃধাপাড়া এলাকায় তহির সরদারের ছেলে ইসমাইল সরদার (৫০)।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, গতকাল (বুধবার) মধ্যরাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। সকালে সাখাওয়াত হোসেন বাড়ির পাশে তার নিজ জমিতে কৃষি কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিন মণ্ডল বলেন, সকালে ইসমাইল সরদার নিজ জমিতে কাজ করতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হলে বিকটশব্দে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নওগাঁর রাণীনগর ও মান্দা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত প্রতিটি পরিবারকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ফান্ড থেকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থ সহযোগিতা করা হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে।
১৮ দিন আগে
লামায় টানা ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে ঘুমন্ত শিশুসহ নিহত ৫
টানা চার দিনের ভারী বর্ষণের ফলে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় এক শিশুসহ দুই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি মিশন পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— মো. ইউনুছ (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২) ও চার বছরের ছেলে মো. সোলেমান এবং অপর পরিবারের মো. জুয়েল ( ২৭) ও তার স্ত্রী কুলসুমা আক্তার (২৩)।
অন্যদিকে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের এক হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত ও পাহাড় ধসে পড়ে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। এছাড়া লামা-আলীকদম সড়কের কেয়ারারঝিরি, রেপারপাড়া আবাসিক ও লাইনঝিরি এলাকা ঢলের পানিতে ডুবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ ছাড়াও, টানা ভারী বর্ষণে বিভিন্ন ইউনিয়নে চলতি মৌসুমের বীজতলা এবং বিভিন্ন ফসলাদি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সড়কের উপর পাহাড় ধসে পড়ে, সড়ক ধসে ও ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়ে অভ্যন্তরীণসহ লামা-আলীকদম সড়ক যোগযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, উজান থেকে নেমে আসা সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানি পৌর এলাকাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে ওইসব এলাকার ঘরবাড়ি, দোকানপাট, সরকারি-বেসরকারি কার্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়।
মাতামুহুরী নদী, লামা খাল, বমু খাল, ইয়াংছা খাল, বগাইছড়ি খাল, ও পোপা খালসহ বিভিন্ন স্থানের পাহাড়ি ঝিরিগুলোতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে বিভিন্ন পেশাজীবির প্রায় ১২ হাজার মানুষ। কর্মহীন হয়ে বেকায়দায় পড়েছে ওইসব এলাকার শ্রমজীবি মানুষগুলো।
গত মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের দোকান ও ঘরবাড়ির মালামালসহ গৃহপালিত পশু নিরাপদে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বন্যা আক্রান্তরা।
এদিকে, প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে আশ্রয় নিতে বিভিন্ন মাধ্যমে মাইকিং শুরু করে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলো। এর পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা আশিকার উদ্যোগেও দুর্যোগ আগাম বার্তা ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দুর্যোগকবলিতরা আশ্রয় নিতে ৫৫ বিদ্যালয়কে অস্থায়ী আশ্রয়ন কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেয় প্রশাসন। এতে কয়েকশ পরিবার আশ্রয়ন নিয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর নাগাদ মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হয়।
টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ বন্যাসহ পাহাড় ধসে আরও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন আজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, অব্যাহত ভারী বর্ষণের ফলে আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ায় আজ ভোর ৪টার দিকে পৃথকভাবে আচমকা পাহাড় ধসে মো. ইউনুছ ও জুয়েল এর বসত ঘরের ওপর পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করেন। কিন্তু ততক্ষণে দুই পরিবারের ঘুমন্ত ৫ সদস্য নিহত হন।
এর আগে, রাত দেড়টার দিকে ইউনিয়নের উত্তর পাড়ায় আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেহানা বেগমের ঘরে পাহাড় ধসে পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক জানান, তার ইউনিয়নে ৫০টির মতো ঘরবাড়ি পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, পাহাড় ধসে ৫০টি ও ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে ১০০ ঘরবাড়ি। পানিবন্দি হয়েছে ১ হাজার পরিবার।
ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে ব্যাপক হারে পাহাড় ধসে ঘরবাড়ি ও রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয় বলে জানান ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জিয়াবুল হক।
এছাড়া গজালিয়া, সরই, রুপসীপাড়া ইউনিয়নেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানা গেছে।
পাহাড় ধসে পাঁচজন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাইছার হামিদ বলেন, পাহাড় ধসে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক।
এ বিষয়ে লামা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, টানা বর্ষণের শুরুতেই ঢলের পানিতে ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ পৌরবাসিদের যথাসময়ে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়। শুধু তাই নয়, বাড়ি বাড়ি গিয়েও তাগাদা দেওয়া হয়। এরপরেও পাহাড় ধসে আজিজনগরের মিশন পাড়ায় শিশুসহ ৫ জন নিহত ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে এক হাজারের মত দোকানপাট-ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রসহ বন্যাকবলিতদের মাঝে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল না থাকায় ও রাস্তা-ঘাট ভেঙে তছনছ হওয়ার কারণে আজ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি।
১৮ দিন আগে
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নিহত বেড়ে ৮
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় ধসে একটি মাদরাসার শিক্ষকসহ আটজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাব-ব্লক এ-৩ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩-এর বাসিন্দা আব্দুস শুক্কুরের দুই মেয়ে উম্মে নেছাত (১৩) ও উম্মে সালমা (১১), রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা হাশিম উল্লাহর মেয়ে কাওসনা (১১) এবং মাদরাসার শিক্ষক শামসুল আলম।
উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, টানা বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে মাদ্রাসার ছাদের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
রোহিঙ্গা মাঝি ইলিয়াস মিয়া জানান, আজ সকাল থেকেই টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর একটি সাব-ব্লকে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় একটি মাদরাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আটকা পড়েছিল। স্থানীয় রোহিঙ্গারা তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, পাহাড় ধসে আটকা পড়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উদ্ধারকাজ চলছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এ ঘটনার তিন দিন আগে, গত ৬ জুলাই ভোরে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিজনিত পৃথক পাহাড়ধসে দুই পরিবারের সাত সদস্যসহ মোট নয়জন নিহত হন।
সর্বশেষ এ ঘটনা মিলিয়ে তিন দিনে কক্সবাজার জেলায় পৃথক পাহাড়ধসে মোট ১৭ জনের মৃত্যু হলো।
১৯ দিন আগে
চট্টগ্রামে পৃথক স্থানে পাহাড় ধসে দুই শিশু নিহত
চট্টগ্রাম মহানগরীর ষোলশহর মেয়র গলি ও জেলার সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে পৃথক পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে দুই শিশু নিহত হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। আজ দুপুর ১টার দিকে নগরীর শোলক বহর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়ে সুমাইয়া আক্তার (১২) নামে একটি মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
নগরীর পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিয়াজুল সালেহীন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কলোনিতে পাহাড়ের পাদদেশে ছয়টি ঘর ছিল। তার মধ্যে ৩ ও ৪ নম্বর ঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এ সময় ৩ নম্বর ঘরে থাকা সুমাইয়ার মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, পাহাড় ধসের পরপরই চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ৮ নম্বর শুলক বহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদের টিম মিলে উদ্ধারকাজ চালায়। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় মেয়েটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, জেলার সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে ঘরের ওপর মাটি ধসে মো. আশরাফুল ইসলাম তানভীর নামে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত তানভীর ওই এলাকার বাগান বাড়ির বাসিন্দা মহিন উদ্দীনের ছেলে।
আজ সকাল ১০টার দিকে জঙ্গল সলিমপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের কিনারে থাকা ঘরটির ওপর মাটি ধসে পড়ে। এ সময় শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো যায়নি।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জুনায়েত কাউছার জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে পড়েছে ঘরটির ওপর। ঘরটি একেবারেই কাঁচা ছিল। এতে ওই ঘরে থাকা ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার নগরীর পাঁচলাইশে পাহাড় ধসে পড়ে সফিকুল ইসলাম নামে একজন নিহত হন।
১৯ দিন আগে