মৃত্যু
বজ্রপাতে শৈলকূপায় দুই কৃষক নিহত, আহত আরও ৪
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পেঁয়াজের খেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন রনজিত বিশ্বাস ও প্রকাশ বিশ্বাসসহ আরও চার কৃষক।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার খড়িবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন, খড়িবাড়িয়া গ্রামের প্রকাশ বিশ্বাসের ছেলে অপু বিশ্বাস (২০) ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের সুশীল বিশ্বাসের ছেলে সুশীল বিশ্বাস (৪০)।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, হতাহত কৃষকরা আজ (শনিবার) দুপুরে মাঠে কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত ও চার কৃষক আহত হন। খবর পেয়ে হতাহতদের স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেন।
হাসপাতালের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডা. এহতেশাম শহীদ জানান, বজ্রপাতে হতাহতদের শরীর ঝলসে গেছে।
১০ ঘণ্টা আগে
স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের স্ত্রী দিলারা হাফিজ মারা গেছেন
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৯ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
মৃত্যুকালে স্বামী, এক ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।
শায়রুল বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আনা হবে। তিনি জানান, আগামী ৩০ মার্চ বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কেন্দ্রীয় মসজিদে জোহরের নামাজের পর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে বনানী সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন দিলারা হাফিজ। তবে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ঈদুল ফিতরের দিন বিকেলে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
কর্মজীবনে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন দিলারা হাফিজ। তিনি ইডেন মহিলা কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
ঢামেকে যুদ্ধাপরাধী কয়েদির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত আব্দুর মান্নান হাওলাদার (৮৬) নামে এক কয়েদির ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
আব্দুর মান্নানের বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায়। তার বাবার নাম মৃত হাসান আলী হাওলাদার।
কারারক্ষী সুজন জানান, ওই কয়েদি গত রাতে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা কয়েকজন কারারক্ষী চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেডিসিন ভবনের ৬০১ নম্বর ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। ময়নাতদন্তের পর কারাকর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
১ দিন আগে
লঞ্চের ধাক্কায় তরমুজবোঝাই ট্রলার ডুবি, পটুয়াখালীতে নিহত ২
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় লঞ্চের ধাক্কায় তরমুজবোঝাই একটি ট্রলার ডুবে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) ভোরে উপজেলার লোহালিয়া নদীর বামনিকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রেজাউল করীম (২৮) ও নাছির ফকির (৪২)। রেজাউল রাঙাবালী উপজেলার চরলাটসাহেব এলাকার ওয়াজেদ হাওলাদারের ছেলে এবং নাছির একই উপজেলার চরবিষ্টন এলাকার আব্দুল ফকিরের ছেলে। তারা দুজনই পেশায় শ্রমিক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন তরমুজ চাষি রাঙাবালী থেকে তরমুজ বোঝাই একটি ট্রলার নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। একই সময়ে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী এমভি আওলাদ-৭ নামের একটি ডাবল ডেকার লঞ্চ ভোর প্রায় ৪টার দিকে বামনিকাঠী এলাকায় পৌঁছালে ট্রলারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রলারটি মুহূর্তের মধ্যে ডুবে যায়।
ঘটনার সময় ট্রলারের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা রেজাউল ও নাছির বের হতে না পেরে মারা যান। তবে ট্রলারের অন্য যাত্রীরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।
স্থানীয়দের ধারণা, নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চচালক ট্রলারটি দেখতে না পাওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
কালাইয়া বন্দর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৩ দিন আগে
ঝিনাইদহে বাওড়ে মাছ ধরতে নেমে 'সাপের কামড়ে' যুবকের মৃত্যু
ঝিনাইদহের মহেশপুরের নস্তি বাওড়ে মাছ ধরতে নেমে আশিক আহম্মেদ (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সাপের কামড়ে বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আশিক নওগাঁ জেলার রাণিনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের ডাকাহারপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি পুলিশের গাড়িচালক ছিলেন।
নস্তি বাওড়ের সদস্য নিত্য হালদার ও নায়েব আলী জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাকিল আহম্মেদ, কনস্টেবল মো. আরিফ হোসেন মুন্সী ও ড্রাইভার আশিক আহম্মেদ বাওড়ে মাছ ধরতে আসেন। বাওড়ে নামার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আশিককে বিষধর সাপে কামড় দেয়।
তিনি আরও জানান, এ সময় তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা আশিককে মহেশপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হাবিবুর রহমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক হাবিবুর রহমান জানান, তিনি ওই সময় হাসপাতালে কর্তব্যরত ছিলেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রোগী মারা গেছেন। তবে তার পায়ে সাপে কাটার মতো ক্ষতচিহ্ন ছিল। এছাড়া তার হাতের নখগুলো নীল হয়ে গিয়েছিল। সাপেকাটা রোগীর যে ধরনের লক্ষণ থাকে, আশিকেরও সেরকম ছিল।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, ঝিনাইদহ থেকে আশিকসহ চার পুলিশ সদস্য মহেশপুর থানায় আসেন গাড়ি মেরামত করতে। কাজ শেষে তারা নস্তি বাওড়ে যান। এ সময় তারা বড়শি দিয়ে মাছও ধরেন। মাছধরা শেষ করে গোসল করতে নেমে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন বাওড়ে মাছ ধরার সময় হয়তো বিষধর সাপে আশিককে দংশন করেছিল।
৩ দিন আগে
কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত অন্তত ৬৬
উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই কলম্বিয়ায় একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৬৬ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) দেশটির ছোট শহর পুয়ের্তো লেগিসামোতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ১২৮ আরোহী নিয়ে উড্ডয়ন করেছিল ওই বিমানটি।
পুয়ের্তো লেগিসামো আমাজন অঞ্চলের পুতুমায়ো প্রদেশে অবস্থিত, যা ইকুয়েডর ও পেরুর সীমান্তবর্তী এলাকা।
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে এবং সেনাবাহী একটি ট্রাক ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যাচ্ছে।
কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল হুগো আলেহান্দ্রো লোপেজ বারেতো জানান, এখনও চারজন সামরিক সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমাদের ৬৬ জন সামরিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
বারেতো বলেন, ‘এটি কোনো অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ছিল কিনা, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা ইঙ্গিত এই মুহূর্তে নেই।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে সহকারী মেয়র কার্লোস ক্লারোস জানান, নিহতদের মরদেহ শহরটির মর্গে নেওয়া হয়েছে। আহতদের প্রথমে স্থানীয় দুটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে তাদের বড় শহরে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিতদের সহায়তায় এগিয়ে আসা পুয়ের্তো লেগিসামোর মানুষদের আমি ধন্যবাদ জানাই।’
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেস এক্সে দেওয়া বার্তায় জানান, সোমবার বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি পুতুমায়োর আরেক শহরে সেনা সদস্যদের নিয়ে যাচ্ছিল।
বিমানটিতে মোট ১২৮ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে ১১৫ জন সেনাসদস্য, ১১ জন ক্রু এবং ২ জন জাতীয় পুলিশের সদস্য। বারেতো জানান, দুর্ঘটনার পর ৫৭ জনকে উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মোটরসাইকেলে করে আহত সেনাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
কলম্বিয়ার বিমান বাহিনীর কমান্ডার কার্লোস ফের্নান্দো সিলভা বলেন, দুর্ঘটনার বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি, তবে বিমানটিতে সমস্যা দেখা দিয়েছিল এবং এটি বিমানবন্দর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে সেটি বিধ্বস্ত হয়।
তিনি আরও জানান, আহতদের রাজধানী বোগোটা ও অন্যান্য স্থানের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ৭৪ শয্যাবিশিষ্ট দুটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতার’ কারণে এই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।
পেত্রোর ভাষ্যে, ‘বেসামরিক বা সামরিক প্রশাসনিক কর্মকর্তারা যদি দায়িত্ব পালনে সক্ষম না হন, তবে তাদের সরিয়ে দিতে হবে।’
তবে সমালোচকরা দাবি করেছেন, পেত্রো প্রশাসনের অধীনে বাজেট ঘাটতির কারণে সামরিক বিমানগুলোর উড্ডয়ন ঘণ্টা কমে গেছে, যার ফলে ক্রু-দের অভিজ্ঞতার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
কলম্বিয়ার বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বিশ্লেষক এরিক সাউমেথ জানান, বিধ্বস্ত হারকিউলিস সি-১৩০ বিমানটি ২০২০ সালে কলম্বিয়াকে অনুদান হিসেবে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তিন বছর পর এতে ‘ওভারহল’ করা হয়, যেখানে ইঞ্জিন পরীক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, যন্ত্রাংশের ঘাটতির কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।’ তবে কেন উড্ডয়নের পরই চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট বিমানটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ল, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী সানচেসও জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি লিখেছেন, ‘এই দুর্ঘটনা দেশের জন্য গভীর বেদনাদায়ক। আমরা আশা করি, আমাদের প্রার্থনা কিছুটা হলেও এই শোক লাঘব করবে।’
৪ দিন আগে
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ঝিনাইদহের পাঁচজনের পরিবারে শোকের মাতম
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে ঝিনাইদহ জেলার পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাদের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে শোকাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন সদস্য রয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লা পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের পিন্টু হোসেনের স্ত্রী লাইজু খাতুন (২৭) এবং তাদের দুই মেয়ে খাদিজা (৫) ও মরিয়ম (৩), ভালাইপুর গ্রামের সোনালি বেগম (৫০) এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশঙ্করপুর ইউনিয়নের অনামী গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে জোহাদ হোসেন।
নিহতরা ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষ করে ঝিনাইদহ থেকে মামুন পরিবহনের একটি বাসে নোয়াখালীতে আত্মীয়বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলেন।
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকার পাঁচজনের মৃত্যুতে গ্রামগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
মহেশপুরের পাতিবিলা গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, তার ভাই পিন্টু ছিলেন মামুন পরিবহনের ড্রাইভার। তার শ্বশুরবাড়ি নোয়াখালী জেলায়। ওই গাড়িতেই তার ভাইয়ের পরিবার নোয়াখালী যাচ্ছিল। ঢাকায় পিন্টু বদলি ড্রাইভার হিসেবে নেমে পড়েন। গাড়িতে তার স্ত্রী লাইজু ও দুই মেয়ে ছিল। দুর্ঘটনায় তারা সবাই প্রাণ হারান।
তিনি আরও জানান, তাদের মৃত্যুর খবরে গোটা পরিবার শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানান, তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এই মৃত্যুর খবর শুনেছেন। মরদেহগুলো বাড়িতে আসলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা করা হবে।
দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলার পাঁচজন নিহত হয়েছেন জানিয়ে শোক প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। নিহতদের পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
৬ দিন আগে
জামালপুরে ভাসমান সেতু উল্টে ৫ শিশু নিহত
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত ভাসমান সেতু ধসে নিখোঁজ আরও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে করে ওই দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ থানা মোড় এলাকায় আনন্দভ্রমণে আসা অতিরিক্ত মানুষের চাপে সেতুটি উল্টে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো— দেওয়ানগঞ্জের ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে মায়ামনি (১০) ও ছেলে হাফেজ মিহাদ (১৬); ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব (৮) ও মেয়ে খাদিজা (১৪) এবং বেলতলি এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে আবির হোসেন (১৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে নির্মিত ভাসমান সেতুটিতে নারী ও শিশুসহ অসংখ্য মানুষ উঠে পড়ে। অতিরিক্ত মানুষের চাপে সেতুর পশ্চিমাংশের বড় একটি অংশ হঠাৎ উল্টে যায়। এতে শতাধিক মানুষ পানিতে পড়ে যান। তাদের অধিকাংশই সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও বেশ কয়েকটি শিশু নিখোঁজ হয়।
খবর পেয়ে দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে জামালপুর থেকে ডুবুরি দল এসে অভিযানে অংশ নেয়। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ছয় শিশুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য এক শিশুকে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান জানান, আর কোনো নিখোঁজ না থাকায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
দুর্ঘটনার পর রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জামালপুরের নবাগত পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন। তিনি জানান, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ সেতুতে ওঠায় এবং কয়েকজন রেলিং ধরে ঝুলে থাকায় ভারসাম্য হারিয়ে সেতুটি উল্টে যায়। তিনি জনসাধারণকে চলাচলে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেন।
একসঙ্গে পাঁচ শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৬ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত, খবরে ‘স্ট্রোকে’ দাদার মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষে শিমুল হোসেন কাজি (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর শুনে শিমুলের দাদা নাজিম উদ্দিন কাজি (৭০) স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। সংঘর্ষের ঘটনায় নারী-পুরুষসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষ ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত শিমুল হোসেন কাজি ওই গ্রামের লাবু হোসেনের ছেলে। নাজিম উদ্দিন কাজি তার দাদা এবং মৃত ইংরেজ আলী কাজির ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ওই গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে হৃদয় হোসেন ঢাকায় অবস্থানকালে কয়েক দিন আগে ফেসবুকে একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাস দেন। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। ঈদের দুই দিন আগে তিনি বাড়িতে ফিরলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
ঈদের দিন (শনিবার) দুপুরে হৃদয় হোসেনের সঙ্গে সাহাবুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে হৃদয় ও তার চাচা বজলু আহত হন। পরে পাল্টা হামলায় আব্দুল্লাহর মা আলিয়া বেগম, তরিকুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আহত হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে পূর্বশত্রুতার জেরে হান্নান-কুবির গ্রুপ ও লাল খাঁ-জাহাঙ্গীর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে কুবির কাজি ও শিমুল কাজি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় শিমুলের মৃত্যু হয়।
এদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে নাজিম উদ্দিন কাজি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় পড়ে গিয়ে স্ট্রোক করেন। পরে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে।
৬ দিন আগে
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ প্রাণহানি: তদন্তে ৩ কমিটি, ২ গেটম্যান বরখাস্ত
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় বাস ও ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে কর্তব্যে অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট রেললাইনের দুই গেটম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে পদুয়া বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচের রেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এর মধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (চট্টগ্রাম) আনিসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের একটি কমিটি এবং জোনাল পর্যায়ে চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ সফিকুর রহমানকে আহ্বায়ক করে আরও একটি ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
এছাড়া দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে গেটম্যান মেহেদী হাসান ও মো. হেলাল উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনায় আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৫ জন সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ১৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ শুরু করে। ইতোমধ্যে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি লাইন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানান, দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হলেও বর্তমানে ডাউন লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। সকাল ৭টা ১৮ মিনিটে কুমিল্লা স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ট্রেন ছেড়ে গেছে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর শোনার পরপরই জেলা প্রশাসক, হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার এবং রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
৬ দিন আগে