বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। এটা সম্পূর্ণ অপপ্রচার। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই বিএনপির রাজনীতি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে যে দাবি করা হয়েছে, তার পক্ষে কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও তা করা সম্ভব নয়। যেসব তথ্য একটি নির্দিষ্ট মিডিয়ায় এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেগুলোর ন্যূনতম বাস্তবতা বা সত্যতা নেই।
গত ২২ জানুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দলীয় কর্মসূচিতে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের অভিযোগ করেন, ১০ দলীয় জোটের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রধান আগামী নির্বাচন ঘিরে তিন শর্তে ভারতের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
এর জবাবে মাহদী জানান, ‘যদি জামায়াত নেতা ভুল তথ্য পেয়ে অথবা বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য ব্যবহার হয়ে থাকেন, তা তার অজ্ঞতার পরিচায়ক। আমাদের বিশ্বাস, এটা হয় একটি কৌশল, নয়তো অজ্ঞতার বিষয়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে ভারতের সঙ্গে বিএনপির কোনো চুক্তি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এটি প্রচারণার অংশ।’
তিনি বলেন, আমরা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বলতে সেটাই বুঝি যে এখানে ইতিবাচক রাজনীতি হবে। কোনো অপপ্রচার, অপরাজনীতি সেটা হওয়া উচিত না। কারণ বিএনপির রাজনীতি মানেই বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের যে রাজনীতি সেটা হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের ক্ষমতা এটিকে কেন্দ্র করেই বিএনপির রাজনীতি।
মাহদী আমিন জানান, একটি প্রতারক চক্র বিতর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার নামে কিছু কিছু জায়গায় টাকা চাচ্ছে। তারেক রহমানের নারীর ক্ষমতায়ন এবং কৃষকের সমৃদ্ধির জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার যে পরিকল্পনা, ইতোমধ্যে তা দেশব্যাপী আলোচিত-সমাদৃত হয়েছে। বিএনপি যদি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, ইনশআল্লাহ তখন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং যথাযথ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এই কার্ডগুলো পৌঁছে দেওয়া হবে। যদি কেউ এই বিষয়ে কোনো অসাধু উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করে সেক্ষেত্রে আপনারা আমাদের অবহিত করবেন এবং অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হবেন।’
মাহদী আমীন বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান তার নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আজকে চট্টগ্রামে যাচ্ছেন। সফরের শুরুতে তিনি আজ রাত ৭টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা থেকে বিমান যোগে চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাত্রিযাপন করবেন।
তারেক রহমান আগামীকাল অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারি সকালে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ইউথ পলিসি টক’ এ অংশগ্রহণ করবেন। এই পলিসি টকে তিনি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির পলিসি নিয়ে আলোচনা করবেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম পোলোগ্রাউন্ডে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন।
চট্টগ্রামে সমাবেশের পর বিএনপি চেয়ারম্যান ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়নগঞ্জে সমাবেশে অংশ নেবেন।