বিএনপি
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ৩০ মে। এবার নানা কর্মসূচির মাধ্যমের দলের প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ করবে বিএনপি।
এ উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল এবং দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে।
শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, শনিবার (৩০ মে) ভোর ৬টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে।
এছাড়া সকাল ১১টায় শেরেবাংলা নগরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
রিজভী বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল এবং সামাজিক কার্যক্রম।
তিনি জানান, ঢাকা মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে। এসব কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।
তিনি আরও বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম প্রতীক। তার আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এসব কর্মসূচি পালন করা হবে।
১ দিন আগে
প্রথম ১০০ দিনে ২০০ উদ্যোগ গ্রহণ, দৃশ্যমান পরিবর্তনের দাবি সরকারের
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে প্রায় ২০০টি উদ্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যার ফলে জনজীবন ও সমাজে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং প্রকাশিত এক ই-বুকে দাবি করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত ই-বুকটি পিএমওর ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে সরকারের বিভিন্ন খাতভিত্তিক কার্যক্রম, নীতিগত পদক্ষেপ এবং উল্লেখযোগ্য অর্জনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রকাশনায় বলা হয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ই-বুকটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।
ই-বুকে উল্লেখ করা হয়, এসব উদ্যোগ ও প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার জাতির সামনে আশার বার্তা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেছে।
প্রকাশনাটিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার।
এতে বলা হয়, অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট, সীমিত কর্মসংস্থান এবং দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও সরকার দ্রুত জনমুখী ও নীতিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এই সময়ে প্রশাসন ও বিচার বিভাগে ডিজিটাল ও কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তামূলক কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।
ই-বুকে উল্লেখিত প্রধান উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, স্পোর্টস কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ডিজিটাল ভূমিসেবা, ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা, খাল পুনঃখনন কর্মসূচি, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় নেতাদের আর্থিক ভাতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প এবং শিক্ষা ও যুব উন্নয়নমূলক নতুন কর্মসূচি।
এতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল সীমিত করা, সরকারি ব্যয় কমানো, মাঠপর্যায়ের সমস্যার দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার মতো প্রধানমন্ত্রীর কিছু ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সরকারের রাজনৈতিক বার্তাকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
তবে প্রকাশনাটিতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়নকে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তারপরও সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম, সক্রিয় ও জনমুখী প্রশাসনের একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বলে ই-বুকে উল্লেখ করা হয়।
এতে বলা হয়, অনেক কর্মসূচি এখনও বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ই-বুকে আরও বলা হয়, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো প্রায়ই রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেসব প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ নেয়, তার ওপরই নেতৃত্বের মূল্যায়ন নির্ভর করে।
প্রকাশনাটিতে দাবি করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য দেওয়া সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনা বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, বিনিয়োগ স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাসহ একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।
ই-বুকে বলা হয়েছে, প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই নীতিনির্ধারণে গতি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক প্রবণতার লক্ষণ দৃশ্যমান হয়েছে।
এতে আরও দাবি করা হয়, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দেশব্যাপী নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। কারণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবা নিশ্চিত করা।
৩ দিন আগে
সরকারের ১০০ দিনে মন্ত্রিসভার ৬২ শতাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের ১০০ দিন পূর্ণ করেছে বিএনপি। এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, ‘সরকারের অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞে সাধারণ মানুষের জীবনমানে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।’
তিনি বলেছেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি কেবিনেট সভা সম্পন্ন করেছে। এসব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ এরইমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’
তিনি দাবি করেছেন, সরকার গঠনের পর এত স্বল্প সময়ে মন্ত্রিসভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের উল্লেখযোগ্য অংশ কার্যকর করতে সক্ষম হওয়া সরকারের দ্রুততা, কার্যকারিতা ও আন্তরিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মঙ্গলবার (২৫ মে) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের একশ দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সাফল্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মাহদী আমিন বলেন, গুম-খুন, হামলা-মামলা এবং দমন-পীড়নের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার প্রতিফলন গত ১০০ দিনের উদার ও সহিষ্ণুতার নতুন মানদণ্ডে বারবার প্রতীয়মান হয়েছে। অন্যদিকে, বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার, বিদ্বেষ বা বিষোদগারের যে রাজনীতি একটি গোষ্ঠীর অপকৌশলে পরিণত হয়েছে, সেই চর্চা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মাত্র ১০০ দিনের পথচলাতেই দেশের নানা ক্ষেত্রে দৃশ্যমান, সুস্পষ্ট ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। একইসঙ্গে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষমতায়ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার এক নতুন, দৃঢ় ও ইতিবাচক মেলবন্ধন।
তিনি আরও বলেন, গৃহীত বহুমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে জনজীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও শৃঙ্খলা। সরকারের রূপকল্পে দেশের ২০ কোটি মানুষ যদি একসঙ্গে কাজ করে, তরুণ ও নারীরা যদি ক্ষমতায়িত হন, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা অবশ্যই একটি মর্যাদাশীল ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হব।
৪ দিন আগে
‘পুলিশ-বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে’ ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা, ক্ষোভে কিশোরীর গলায় ফাঁস
নরসিংদীতে পুলিশ ও বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে ধষর্ণের ঘটনায় সালিশ চলাকালে ক্ষোভে এক কিশোরীর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কিশোরীকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীর পাশের শিবপুর উপজেলায় বিয়ে হয়েছিল ওই কিশোরীর। বিয়ের পর থেকেই প্রতিবেশী প্রাইভেটকারচালক এক যুবক তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত ও বিয়ের প্রলোভন দেখাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই কিশোরীকে তার স্বামীর সংসার থেকে নিয়ে আসেন যুবকটি। এরপর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি। এ ঘটনা জানাজানি হলে ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবার ছেলেটিকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু সে বিয়ে করতে অস্বীকার করলে কিশোরীর পরিবার আইনি সহযোগিতা নিতে চাইলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মীমাংসা করে দেবে বলে জানান।
পরবর্তী সময়ে ওই কিশোরীর পরিবার উপায়ন্তর না পেয়ে সালিশি বিচারে রাজি হয়। পরে গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আউলাদ হোসেন মোল্লা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল হক টিটু, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খোকা, চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন, ইউনিয়ন যুবদল নেতা জাহাঙ্গীরসহ একাধিক নেতার উপস্থিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সেখানে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইউনুস নামে একজন পুলিশ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, সালিশ দরবারে উপস্থিত নেতারা বিয়ের পরিবর্তে ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকায় মীমাংসা করার প্রস্তাব উঠান। এ খবর ওই কিশোরী জেনে সালিশ চলাকালেই ঘরের দরজা আটকে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এ সময় পরিবারের লোকজন ঘটনা বুঝতে পেরে ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে তাকে উদ্ধার করে অচেতন অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে সে এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা অভিযুক্ত যুবককে দোষী দাবি করে বলেন, সে আমার মেয়ের সংসার ভেঙেছে। আমার মেয়েকে গত এক বছর ধরে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। আমার মেয়ে বিয়ের কথা বললে সে তালবাহানা করতে থাকে। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। মানুষ আমার মেয়েকে নিয়ে বাজে কথা বলায় সে বাইরে যেতে পারত না। আজকের সালিশে বিচারকরা বিয়ের কথা না বলে প্রথমে ২০ হাজার, ৩০ হাজার ও পরে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মীমাংসার কথা বলেন। এ কথা শুনে আমার মেয়ে ক্ষোভে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এখন সে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
তার অভিযোগ, আমি থানায় আগেই লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু বিচার পাইনি। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আউলাদ হোসেন মোল্লা বলেন, আমি অল্প সময়ের জন্য দরবারে গিয়েছিলাম। ছেলে ও মেয়ের কথা শোনার পর জরুরি কাজ থাকায় চলে এসেছি। পরে জানতে পেরেছি, দরবারে ১১ জনের একটি বোর্ড বসেছিল। তারা সকলের কথা শুনে ৮ জন বিয়ের পক্ষে ও তিন জন টাকা দিয়ে সমাধানের পক্ষে মতামত দেন। এর মধ্যে কেউ টাকা দিয়ে সমাধানের বিষয়টি জানালে মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে দরবার থেকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিয়ের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
ধর্ষণ সালিশযোগ্য কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি উভয়পক্ষের অনুরোধে গিয়েছিলাম। যেখানে এলাকার অনেক মানুষ ছিল।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. খায়রুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যায় ফাঁস নেওয়া এক কিশোরীকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়।
চিনিশপুর ইউনিয়নের বিট কর্মকর্তা মো. ইসহাক মিয়া বলেন, সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় সালিশে আমি ছিলাম না তবে মো. ইউনুস নামে একজন পুলিশ সদস্য ছিলেন।
তিনি জানান, আমি ঘটনার খোঁজ খবর নিয়েছি, কিন্তু সালিশে ছিলাম না।
তবে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন ওই শালিসে কোনো পুলিশ সদস্যের উপস্থিত থাকার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সালিশে আমাদের কোনো পুলিশ সদস্য ছিলেন না। আমরা শারীরিক সম্পর্কের ঘটনায় একটা মৌখিক অভিযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি।
৭ দিন আগে
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।
সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ, দোয়া মাহফিল এবং দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করবে।
তিনি জানান, ঈদুল আজহা মাঝামাঝি সময়ে পড়ায় কোনো কর্মসূচি এক-দুই দিন পিছিয়ে আয়োজন করা হলেও তাতে সমস্যা হবে না।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩০ মে ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিন বেলা ১১টায় দলের মহাসচিব, জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাজার জিয়ারত করবেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান রিজভী।
১২ দিন আগে
দেওয়ালে ‘জয় বাংলা’ গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে হামলা: কক্সবাজারে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের
কক্সবাজারের উখিয়ায় ছেলেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মারধর থেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম ছৈয়দা খাতুন (৫০)।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ছৈয়দা খাতুন ওই এলাকার সৈয়দ হোসেনের স্ত্রী ছিলেন।
নিহতের ছেলে আব্দুর রহমানকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ দাবি করে মারধর করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
নিহতের স্বজনরা জানান, সম্প্রতি দেওয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মামলার আসামি দাবি করে আব্দুর রহমানকে আটক করা হয়। এরপর তাকে মারধর শুরু করেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও ছাত্রদল নেতা জিসানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। ছেলেকে রক্ষা করতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মা ছৈয়দা খাতুন, কিন্তু হামলাকারীদের মারধরে তিনিও গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলে যাওয়া উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উমেছিং মারমা বলেন, খবর পেয়েছিলাম একজন আসামিকে এলাকাবাসী আটক করে রেখেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুর রহমানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মারধরের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, আব্দুর রহমানকে সন্দেহভাজন হিসেবে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে কোন মামলায় তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে পারেননি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে আব্দুর রহমান কোন মামলার আসামি ছিলেন, সে বিষয়ে তিনিও স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি।
১৩ দিন আগে
মাদক কারবারিকে ছাড়াতে গিয়ে কুষ্টিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের ৫ নেতাকর্মী আটক
কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় মাদকসহ আটক হওয়া এক আসামিকে ছাড়ানোর জন্য তদবির করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের পাঁচ নেতাকর্মী।
শনিবার (৯ মে) রাতে ৮ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া এক মাদক কারবারিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার তদবির করতে গেলে পুলিশ সদরপুর ইউনিয়নের এক বিএনপি নেতা ও জামায়াতের চার নেতাকর্মীকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুর থানার আমলা ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) রকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল সদরপুর ইউনিয়নের টেকনিক্যাল কলেজ সড়ক এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে নওদা আজমপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে রবিউলকে ৮টি ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে মিরপুর থানায় নিয়ে গিয়ে মাদক আইনে মামলা দেওয়া হয়।
মাদকসহ রবিউল গ্রেপ্তার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে তাকে ছাড়িয়ে নিতে স্থানীয় জামায়াত-বিএনপির পাঁচ নেতাকর্মী মিরপুর থানায় উপস্থিত হন। তারা হলেন— সদরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও বিএনপি নেতা এনামুল হক এবং স্থানীয় জামায়াতের কর্মী সুজন আলী, আলাউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম।
থানা পুলিশ জানায়, আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তারা দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ওপর দফায় দফায় চাপ সৃষ্টি করেন। পুলিশ বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা মাদক ব্যবসায়ীকে মুক্ত করার দাবিতে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদবির করতে আসা ওই ৫ জনকেই আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা অনৈতিকভাবে তদবির করছিলেন। এতে প্রতীয়মান হয় যে, তারা হয় এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, অথবা তারা মাদক ব্যবসায়ীদের উৎসাহ প্রদান করেন। এ কারণেই তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রবিবার (১০ মে) সকাল ১০ টা পর্যন্ত আটককৃত ৫ নেতাকর্মী ও মাদক কারবারি রবিউল মিরপুর থানা পুলিশি হেফাজতে ছিল।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
২০ দিন আগে
জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠন এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেছে: দুদু
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে সংগঠনটির ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
দুদু বলেন, আজ ৭ মে, একটি ঐতিহাসিক দিন। জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
তিনি বলেন, এই সংগঠন এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেছে। গত পতিত (সরকার), গণহত্যাকারী গায়ের জোরে তিনটা নির্বাচনে তথাকথিত বিজয়ের মাধ্যমে যে দম্ভোক্তি করেছে, তা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ম্লান করেছে। আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছে, তাদের উপহাস করেছে। এ কারণেই তারা এ দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠন নিয়ে তিনি জানান, যে আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন সেই আদর্শ ও লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সময়ের পরিক্রমায় সংগঠনটি শত শত নেতা-কর্মী তৈরি করেছে, যারা পরবর্তীতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পৃক্ত হয়েছেন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আমরা মনে করি, বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কর্মকাণ্ডে এই সংগঠনটি যেভাবে যুক্ত, তার ভেতর দিয়েই শত শত নেতা-কর্মী তৈরি হয়েছে, যারা পরবর্তীতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পৃক্ত হয়েছেন।
সংগঠনটির উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।
এ সময় জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠন ঢাকা দক্ষিণ, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২৩ দিন আগে
নয়াপল্টনে শ্রমিক দলের জনসভা শুরু
মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের শ্রমিক সমাবেশ শুরু হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে দলে দলে নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হচ্ছেন।
শুক্রবার (১ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির সূচনা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং শ্রমিক নেতারা এতে বক্তব্য দেবেন।
বিরূপ আবহাওয়া এবং রাতভর বৃষ্টিতে ঢাকার অনেক রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়লেও সকাল থেকেই মানুষ সভাস্থলে আসতে শুরু করেছে। আয়োজকরা মনে করছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়বে। সমাবেশস্থলে একটি ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে নিরাপত্তা কর্মীরা পুরো এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন।
শ্রমিক দল সূত্রে জানা গেছে, আজ ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ থাকবে এবং যানবাহন বিকল্প পথ দিয়ে যেতে হবে। জরুরি সেবা, বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জনসভায় আসা দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প এবং ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও সব আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়েছে। মঞ্চ প্রস্তুত এবং সভাস্থলে পর্যাপ্ত সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর শিল্পাঞ্চল থেকে শ্রমিকরা এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ অন্যান্য শিল্প জেলা থেকে শ্রমিকরা এতে অংশগ্রহণ করবেন।
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে লাল গালিচা বিছানো হয়েছে। উত্তরমুখী এই মঞ্চের দুই পাশে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়াউর রহমান, প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ফকিরাপুল, পল্টন এবং কাকরাইল এলাকাজুড়ে ১৫০টিরও বেশি লাউডস্পিকার লাগানো হয়েছে।
এই জনসভাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। অনেককে লাল টুপি ও টি-শার্ট পরে, ব্যানার হাতে এবং ঢোল বাজিয়ে সভাস্থলে আসতে দেখা গেছে।
সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছেন, যার ফলে পুরো এলাকা স্লোগান ও করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে।
সকালে ভারী বৃষ্টির কারণে নয়াপল্টনের কিছু অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়লেও দুপুরের আগেই পানি নেমে যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর এটিই রাজধানীতে বিএনপির প্রথম কোনো বড় ধরনের দলীয় কর্মসূচি।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আশা প্রকাশ করেন যে, এই কর্মসূচি উপলক্ষে ঢাকায় শ্রমিকদের এক বিশাল ঢেউ নামবে।
ন্যায্য মজুরি, শ্রমের মর্যাদা এবং আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে ১৮৮৬ সালে শিকাগোতে যেসব শ্রমিক জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, মে দিবস তাদের সেই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। শ্রমিকদের অধিকার ও সংহতির প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালিত হয়।
২৯ দিন আগে
মে দিবসের সমাবেশের জন্য প্রস্তুত নয়া পল্টন, ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
ঐতিহাসিক মে দিবস উপলক্ষে বিএনপির বিশাল জনসভার জন্য নয়াপল্টন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। আজ শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই জনসভা শুরু হবে। এটি আয়োজন করছে বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলটি আশা করছে, এই সমাবেশে লক্ষাধিক শ্রমিকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ঘটবে। জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং শ্রমিক নেতারা এতে বক্তব্য দেবেন।
জনসভার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করা হয়েছে।
বিরূপ আবহাওয়া এবং রাতভর বৃষ্টিতে ঢাকার অনেক রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়লেও সকাল থেকেই মানুষ সভাস্থলে আসতে শুরু করেছে। আয়োজকরা মনে করছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়বে। সমাবেশস্থলে একটি ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে নিরাপত্তা কর্মীরা পুরো এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন।
শ্রমিক দল সূত্রে জানা গেছে, আজ ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ থাকবে এবং যানবাহন বিকল্প পথ দিয়ে যেতে হবে। জরুরি সেবা, বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জনসভায় আসা দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প এবং ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও সব আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়েছে। মঞ্চ প্রস্তুত এবং সভাস্থলে পর্যাপ্ত সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন জানান, ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর শিল্পাঞ্চল থেকে শ্রমিকরা এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। তিনি বলেন, আমরা দুপুর আড়াইটায় আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু করব। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ অন্যান্য শিল্প জেলা থেকে শ্রমিকরা এতে অংশগ্রহণ করবেন।
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে লাল গালিচা বিছানো হয়েছে। উত্তরমুখী এই মঞ্চের দুই পাশে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়াউর রহমান, প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ফকিরাপুল, পল্টন এবং কাকরাইল এলাকাজুড়ে ১৫০টিরও বেশি লাউডস্পিকার লাগানো হয়েছে।
এই জনসভাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। অনেককে লাল টুপি ও টি-শার্ট পরে, ব্যানার হাতে এবং ঢোল বাজিয়ে সভাস্থলে আসতে দেখা গেছে।
সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছেন, যার ফলে পুরো এলাকা স্লোগান ও করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে।
সকালে ভারী বৃষ্টির কারণে নয়াপল্টনের কিছু অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়লেও দুপুরের আগেই পানি নেমে যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর এটিই রাজধানীতে বিএনপির প্রথম কোনো বড় ধরনের দলীয় কর্মসূচি।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আশা প্রকাশ করেন যে, এই কর্মসূচি উপলক্ষে ঢাকায় শ্রমিকদের এক বিশাল ঢেউ নামবে।
ন্যায্য মজুরি, শ্রমের মর্যাদা এবং আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে ১৮৮৬ সালে শিকাগোতে যেসব শ্রমিক জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, মে দিবস তাদের সেই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। শ্রমিকদের অধিকার ও সংহতির প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালিত হয়।
২৯ দিন আগে