বিএনপি
জুলাই নিয়ে অপতৎপরতা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে বিএনপি: সেতুমন্ত্রী
জুলাইকে ঘিরে যেকোনো অপতৎপরতা বিএনপি রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, সেতু, রেল ও নৌমন্ত্রী এবং ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা ও অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা হবে।’
বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকা কলেজের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ আ ন ম নজীর উদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে কলেজ শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শাশ্বত জুলাই’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, জুলাই আমাদের নতুন করে শাণিত হতে, সংশোধিত হতে এবং সমৃদ্ধ জাতি হতে শিখিয়েছে। একই সঙ্গে একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন নিশ্চিত হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। এ আন্দোলন ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের শিক্ষা দিয়েছে এবং সেই পরিবর্তন বাধ্যতামূলকভাবে এসেছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং আগামী দিনের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সূতিকাগার হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার শিক্ষা দিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের পতন নিশ্চিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের সরকারও নিশ্চিত হয়েছে। এখন বাকি রয়েছে রাষ্ট্র ও জনগণকে আরও সমৃদ্ধ, মানসম্পন্ন ও শাণিত করা। জনগণের নির্বাচিত সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে এবং সেই সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান।
ঢাকা কলেজ তার নির্বাচনি এলাকার অন্তর্ভুক্ত উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার বিশেষ দায়বদ্ধতা রয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা কলেজ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা, অবকাঠামো, আবাসন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নে আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা কলেজের সুনাম ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
ঢাকা কলেজের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন দপ্তর, পরিদপ্তর, অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগে ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা দায়িত্ব পালন করছেন। একসময় সারা দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়া ছিল একটি স্বপ্ন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনা সভার আগে শেখ রবিউল আলম ঢাকা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক, কলেজের অধ্যক্ষ, সাবেক শিক্ষক, সাবেক ছাত্রনেতা, ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
হবিগঞ্জে এনসিপি-বিএনপির অঙ্গসংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশ, ১৪৪ ধারা জারি
হবিগঞ্জে একই স্থানে এনসিপি ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ায় হবিগঞ্জ জেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় স্থানীয় টাউন হল প্রাঙ্গণে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আহ্বান করে এনসিপি। অপরদিকে, জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলও একই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় প্রশাসন আজ বুধবার সকাল ১০টায় ১৪৪ ধারা জারির আদেশ দেয়।
এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম, এমপি আখতার হোসেন, এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ ও এমপি ড. আতিক মোজাহিদ হবিগঞ্জের পথে রয়েছেন। এ ঘটনার পর জেলার সর্বত্র থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীপূর্বঘোষিত জুলাই গণজাগরণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে যোগ দেন। বিকেলে শহরের টাউন হলের সামনে পথসভায় বক্তব্য দিয়ে ফেরার পথে কোর্ট মসজিদের সামনে তারা হামলার শিকার হন। এ সময় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার জন্য সারজিস আলম ছাত্রদল ও যুবদলকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে ফেরার পথে অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় আমাদের একজন সহকর্মীর চোখে রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অপর একজনের মুখ গুরুতরভাবে জখম করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টাউন হলের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীহবিগঞ্জে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাস বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। হবিগঞ্জ সদর আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউসের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তিনি।
শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সার্কিট হাউসের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি জাহিদুল হক জানান, উশৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘এনসিপি নেতারা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধে অশ্লীল বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে তাদের সামান্য ঠেলাধাক্কা হয়েছে।’
গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত এনসিপি নেতারা সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘এনসিপি হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, বাহুবল উপজেলার সংগঠক নবীর হোসেন হৃদয়সহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা আমার ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’
১৬ ঘণ্টা আগে
১৭ বছর ধরে জুলাই অভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে বিএনপি: পানিসম্পদমন্ত্রী
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে আজকের বিরোধী দল কোথায় ছিল, গত ১৭ বছর কোথায় ছিল—এসব তো প্রশ্নের বিষয়। আমরা তো জোট করেছি, যুগপৎ আন্দোলন করেছি। আজকে ৫ আগস্টের পর তারা বলে যে, বিরোধী দল নাকি একাই আন্দোলন করেছে!
তিনি বলেন, এ কথা তো অনস্বীকার্য যে একটা অভ্যুত্থানের ভিত্তি লাগে। সেই ভিত্তি ছিল বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বিভাজন নয় ঐক্য’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘আমরা বাংলাদেশি’ নামের একটি সংগঠন।
সংগঠনটির সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে ও নির্বাহী সদস্য তমিজ উদ্দিন টিটুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দি ইকরাম, বিএনপি নেতা মোমিনুল আমিন, ইউনাইটেড লেবার পার্টির আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সব আওয়ামী লীগ তো পালিয়ে যায়নি। সবার মামলা তো একরকম নয়। বিরোধী দল সংসদে বলছে, তারা নাকি ভালো আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নেবে। এটা নিয়ে তো বিভেদের শুরু। নির্বাচনের আগে আমরা শুনেছি যে তাদের অনেকে বহু টাকার মালিক হয়েছেন। কারও পিএস বা সহকারীর কাছ থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছে। যারা বিগত দিনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজকে ৭১ সালের কথা বাদই দিলাম, কিন্তু ৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদ থেকে শুরু করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলনে তারা ছিল। তারা ভেবেছিল যে এবার ক্ষমতায় আসবে, কিন্তু বাস্তবে দিল্লি বহুদূর।
জাতীয় সংসদে বিরোধী দল কিছু আসন পেয়েছে উল্লেখ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এক্ষেত্রে কিছু কিছু নির্বাচনি এলাকায় বিএনপির সমস্যা ছিল; একাধিক প্রার্থী ছিল। সেজন্যই তারা ভালো করেছে। অনেকগুলো আসনে প্রবাসী ভোটেও আমাদের দুর্বলতা ছিল। প্রবাসী ভোটকে প্রভাবিত করা হয়েছে। এসব আসনে যাতে ফ্রেশ ইলেকশন (সুষ্ঠু নির্বাচন) হয়, এখন থেকেই তার খবর রাখতে হবে।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, আমরা ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করেছি। মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশা আছে। তারা চায় স্বাভাবিক জীবন। সরকারের মাত্র পাঁচ মাস হলো। এখনও খুব বেশি সমাধান করতে পেরেছি, সেটা বলা যাবে না। তবে প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন। তিনি কিছু কর্মসূচি নিয়েছেন। আশা করি, আমরা সবাই তাকে সহযোগিতা করলে দেশে কোনো অভাব থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে চুরি ও লুটপাটের কারণে আমাদের নানামুখী সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। জমি কমছে, মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ছোট্ট একটি দেশে ২০ কোটির ওপর মানুষ। তবে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অসংখ্য প্রকল্প নিয়েছিলেন। আমরাও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনেকগুলো প্রকল্প নিয়েছি। এগুলোর জাগরণ তৈরি করতে চাই।
অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমরা বিভেদ নয় ঐক্য চাই।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি, তারা আজকে সংসদে বিরোধী দল হয়েছে। এটা দেশের জন্য লজ্জার। আজকে তাদের ১১ দলীয় জোটে ভাঙন শুরু হয়েছে। আদতে এটি এখন ৯ দলে পরিণত হয়েছে। তারা নাকি আবার বিএনপি সরকারের পতন ঘটাবে। আমি বলবো—নিজেদের পতন আগে ঠেকান। জনগণ আপনাদের প্রচারণা বুঝে গেছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কী করবে, তা তাদের এমপিদের কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছে।
রাশেদ খান বলেন, আজকে বাংলাদেশের মানুষ তারেক রহমানের জাদুতে মুগ্ধ। তিনি যেভাবে চলাফেরা করছেন, ব্যয় সংকোচন করছেন, তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। বিএনপি ঐক্যে বিশ্বাস করে, কিন্তু জামায়াত সেটি করে না।
তিনি বলেন, ড. ইউনূসের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, তবে তার তো মাইনাস ফর্মুলা ছিল। তিনি বিএনপিকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন। জামায়াত এনসিপিকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। সেজন্য তারা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায়নি। নির্বাচন আদায় করে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আজকে বিরোধী দল অভ্যুত্থানের হুমকি দেয়। এটা কী কখনও সম্ভব? গণঅভ্যুত্থানের নায়ক যে নাহিদ জামায়াতের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছিল, সে-ই আজকে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, আমরা সবার আগে বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্লোগান ধারণ করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেই লক্ষ্যেই আমরা বাংলাদেশি সংগঠনের সূচনা।
১ দিন আগে
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপিকে লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপিকে লালকার্ড দেখানোর জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আয়োজিত জুলাই জাগরণ কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করেছে এবং সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কার্যকর অবস্থান নেয়নি।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে বিএনপি শুধু ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। এ কারণে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণকে বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক, হবিগঞ্জ জেলা এনসিপির আহবায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সদস্য সচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে এনসিপির চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল আহমেদ প্রমূখ।
১ দিন আগে
সরকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা মানুষের ইচ্ছা আমলে নেওয়া খারাপ কিছু নয়: দুদু
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘রাস্তায় নেমে রক্ত ও শ্রম দিয়ে যারা বর্তমান সরকারকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাদের দাবি থাকতেই পারে। জীবন দিয়ে যারা এই সরকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের কথা বলার অধিকার রয়েছে এবং তাদের ইচ্ছাকে আমলে নেওয়ায় খারাপ কিছু নেই।’
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (ডিইএব)-এর সেমিনার হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘রক্তাক্ত জুলাই এবং পেশাজীবীদের ভুমিকা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ডিইএব-এর ডিপিডিসি শাখা।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের দাবিগুলো যৌক্তিক। সরকার যখন তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং আমলে নেয়, তখন সেবামূলক কাজ মানুষ উপভোগ করতে পারে। কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি আবেগের বশে কোনো মন্তব্য করতেই পারেন, তবে সেটিকে সরকারের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।’
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আহত, ক্ষতিগ্রস্ত ও চাকরি হারানো ব্যক্তিদের স্মরণ করে দুদু বলেন, ভাষা, স্বাধীনতা ও অধিকারের জন্য বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি পেশাজীবীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কোনো আন্দোলন পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ ছাড়া সফল হয় না।
তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, নারী-পুরুষ, এমনকি শিশু সন্তানকে কোলে নিয়েও অনেকে রাজপথে নেমেছিলেন। তাই তাদের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে সরকার সচেতন।
সরকারপ্রধান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, পেশাজীবীদের সমস্যা ও দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং সেগুলোর সমাধান করবেন।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আন্দোলন একটা তারাই করতে চায়, যারা পার্শ্ববর্তী দেশের সেবাদাস। ১৮ বছর তারা জোর করে ক্ষমতা দখল করেছিল। আর এই সরকার তো ভোটের মধ্য দিয়ে এসেছে। এই সরকার তো মানুষের সমর্থন, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে।
জনগণের সরকার হিসেবে সংশ্লিষ্টদের দাবিগুলো সরকার আমলে নেবে এবং মীমাংসা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংগঠনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মীর হোসেন পাটোয়ারীর (মিলন) সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান জুয়েলের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রকৌশলী তরিকুল হক, প্রকৌশলী রেজাউল করিম, শ্রমিক দল নেতা দেলোয়ার হোসেন, প্রকৌশলী আবুল মনসুর, প্রকৌশলী এএসএম তারেক তুষার, প্রকৌশলী ওবায়দুল আলম প্রমুখ।
এদিন প্রধান অতিথি শামসুজ্জামান দুদুকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে অনুষ্ঠানের সভাপতি মীর হোসেন পাটোয়ারীর হাতেও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি শামসুজ্জামান দুদু।
৪ দিন আগে
সরকারের মূল লক্ষ্য বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুরক্ষা: মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বাকস্বাধীনতা সুরক্ষা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস দেশের জনগণ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা)-এর আয়োজনে এই সম্মেলন হয়।
মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। বিগত ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে সংঘটিত রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নৃশংসতার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বিএনপি। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে মৃত্যু কিংবা ভুয়া মামলার পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে বিএনপি। এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, এর একটি বড় কারণ হলো বিএনপি সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল।
বিগত ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কেবল একটি দলই নয়, বরং গণতন্ত্রকামী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকেও লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল। ক্ষমতার আকার বা শক্তি যা-ই হোক না কেন, গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলা সব অংশীদারই নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
গুমের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকা ব্যক্তিরাও গুমের শিকার হয়েছিলেন। আল্লাহর রহমতে গুমের শিকার কিছু ভুক্তভোগী ফিরে আসতে পেরেছেন, কিন্তু অনেকের সেই ভাগ্য হয়নি। অনেকেই আর কখনোই ফিরে আসেননি।
তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার মানুষের বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে। ৭০০-এর বেশি মানুষ গুম হওয়ার পর এখনও ফিরে আসেননি। যে শিশুদের বাবা কিংবা যে স্ত্রীদের স্বামী আর ফেরেননি, তাদের এই অপূরণীয় ক্ষতির বেদনা নতুন সরকার অনুধাবন করে।
প্রধানমন্ত্রী নিজেও স্বজন হারানোর এই ব্যথা গভীরভাবে উপলব্ধি করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও এর একজন ভুক্তভোগী। তার বাবা যখন দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তখন দেশের জন্যই প্রাণ হারিয়েছেন। তার মা মারা গেছেন, কারণ তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় জেলে রাখা হয়েছিল। এবং তার ভাইও নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশের জন্য প্রাণ হারিয়েছেন। ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বেদনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আত্মিকভাবে যুক্ত।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজে এমন অবস্থায় ছিলেন যে তাকে কথা পর্যন্ত বলতে দেওয়া হয়নি। আদালত ও আইন ব্যবহার করে তার বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি কেবল শারীরিক নির্যাতনের শিকারই হননি, দীর্ঘদিন দেশে ফিরতে পারেননি, তার বাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। তার স্ত্রী চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও তার চাকরি বাতিল করা হয়েছিল। সুতরাং, এটি এমন একটি পরিবার যা একদম ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে গুমের শিকার হয়েছিলেন। মন্ত্রিসভার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ প্রতিটি নেতা-কর্মী একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন। অনেকের নামে শত শত ভুয়া মামলা দেওয়া হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, অতীতে একজন নারী ভোটার কেবল বিএনপিকে ভোট দেওয়ার অপরাধে গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছিল। এগুলোই ইতিহাস। তৃণমূল থেকে শুরু করে সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা চরম দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র আরও বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা এমন একটি সরকার পেয়েছি, যার ক্ষমতার মূল উৎস দেশের সাধারণ জনগণ। এটি বিগত দেড় দশকের শাসন ব্যবস্থার চেয়ে একটি বিশাল পরিবর্তন। অতীতে ক্ষমতার উৎস জনগণ ছিল না, বরং ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রের একাংশ— পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন। যেসব প্রতিষ্ঠানের কাজ ছিল জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা, অথচ সেগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছিল স্বৈরাচারী সরকারকে টিকিয়ে রাখতে এবং জনগণকে দমন করতে
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার একটি ‘রিসেট বোতাম’চেপে সম্পূর্ণ পরিষ্কার এজেন্ডা নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য। এসব সংস্কার কেবল মুখের কথা নয়, বরং সরকারের প্রথম পাঁচ মাসের কাজের মধ্য দিয়েই তা বাস্তবায়িত হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, আমাদের জানামতে গত পাঁচ মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, হেফাজতে মৃত্যু কিংবা গুমের একটি ঘটনাও ঘটেনি। আমরা এই ইতিবাচক ঐতিহ্যটিই ধরে রাখতে ও সামনে এগিয়ে নিতে চাই।
রাজনীতিতে প্রতিশোধের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ন্যায্য বিচারের এক নতুন ধারা প্রতিষ্ঠা করতে চায় বর্তমান সরকার বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, একদিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীদারদের ভিন্ন ভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গির সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে, অন্যদিকে বিগত শাসনামলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল অপরাধী ও হুকুমদাতাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, আমাদের লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট— কোনো অপরাধী যেন পার না পায়, আবার একইসঙ্গে কোনো নির্দোষ মানুষ যেন একটি গণতান্ত্রিক দেশে মুক্ত মানুষ হিসেবে বাঁচার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত না হয়।
বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর থেকে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে পুনর্মিলন ও সমঝোতার যে পথ তৈরি হয়েছে, তাকেই বর্তমান সরকার তার মূল নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, গত চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশ সরকারবিহীন থাকা অবস্থায় বৃহত্তম দল হিসেবে বিএনপির নেতৃত্বে সকল গণতন্ত্রকামী দল রাজপথে থেকে শান্তি ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করেছিল।
মাহদী আমিন জানান, সামনের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। একইসঙ্গে আমাদের উন্নয়ন এজেন্ডার অংশ হিসেবে লক্ষ্য হলো নারী ও যুবসমাজকে ক্ষমতায়িত করা এবং এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষম উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া, যা কেবল গুটি কয়েকের জন্য নয়, বরং সকলের জন্য প্রযোজ্য হবে।
বর্তমান সরকার তার ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রথম পাঁচ মাসের সফলতা পুরো মেয়াদেও বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
৫ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে ‘গুজবে’ কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে চলা ‘গুজবে’ কান না দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুই দিনব্যাপী ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সংক্রান্ত গুঞ্জন উড়িয়ে দেন। এ সময় তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তবে বিএনপি সব সময় গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি আস্থাশীল এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও গণজবাবদিহিতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
৫ দিন আগে
গণভোট অবৈধ হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপি সরকারও অবৈধ: সারজিস
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘জনাব সালাহ উদ্দিন আহমেদ দেশে-বিদেশে যেখানেই থাকেন, এই গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও অবৈধ, বিএনপি সরকারও অবৈধ।’
বুধবার (২২ জুলাই) রাতে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বানিনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘জুলাই পথযাত্রা’ শেষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময় মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুটপাট হয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পেই ১০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। বিএনপিও খাল খননের মেগা প্রকল্প নিয়ে লুটপাট করছে। শ্রমিক দিয়ে খাল খননের কথা বলে বিএনপির নেতাকর্মীদের এবং যারা ১০ বছর আগে মারা গেছেন, তাদের নামও দেওয়া হয়েছে। পরে সেই খাল তারা ড্রেজার দিয়ে খনন করেছে। সেই বালু-পাথরও তারা লুটপাট করেছে। বিএনপির নেতা-খেতাদের টাকা না দিলে কোনো ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা সদস্য হতে চাইলে বিএনপির নেতা-খেতা হতে হবে। চাঁদাবাজ হোক, দুর্নীতিবাজ বা লম্পট যাই হোক, বিএনপির পদে থাকতে হবে। নয়তো সম্ভব নয়।
‘রাতের নির্বাচন, ডামি নির্বাচন করা ডিসি-এসপিরা ভেবেছিলেন যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সচিব হবেন, উপদেষ্টা হবেন, বড় বড় পদ বাগিয়ে নেবেন। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, আজকে একজনেরও চাকরি নেই।’
এ সময় দলটির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘হাসপাতালে নার্স থাকলে ডাক্তার নেই, ডাক্তার থাকলে নার্স নেই। নার্স থাকলে ওষুধ নেই। এ জেলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঠিক নেই। শিক্ষা ব্যবস্থারও ঠিক নেই। জেলায় একজন মাফিয়া আছেন। তিনি সারা দেশে ত্রাণ বিতরণ করে বেড়াচ্ছেন, অথচ লালমনিরহাট জেলায় ত্রাণ নেই।’
এনসিপির লালমনিরহাট জেলা কমিটির সদস্যসচিব শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
৬ দিন আগে
রাজনৈতিক দলগুলো বোঝাপড়ার মধ্যে না থাকলে গণতন্ত্র আবারও বিপন্ন হবে: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো বোঝাপড়ার মধ্যে না থাকলে আবারও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। এই বিপন্ন হওয়ার মধ্যে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাটাও বিপন্ন হতে পারে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো মিলিতভাবে ন্যূনতম প্রধান বিষয়ে একটা ন্যূনতম বোঝাপড়ার মধ্যে থাকতে হবে। এই বোঝাপড়ার মধ্যে না থাকলে আবারও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। এই বিপন্ন হওয়ার মধ্যে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাটাও বিপন্ন হতে পারে।
জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে এই রাজনীতিক বলেন, এই জুলাই, ১৮ জুলাই, সেই বেদনাবিধুর স্মৃতি আমরা এখনও ভুলে যাইনি।
তিনি বলেন, সেই মুগ্ধ যে শহিদ হয়েছেন, আমরা তার কথা তো ভুলতে পারি না। একজন ভয়ঙ্কর দানব রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে ছিলেন জোর করে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে। নির্বাচন কমিশন, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান; গণতন্ত্র যেখান থেকে শক্তিশালী হয়, সেই বিচারব্যবস্থা, ইলেকশন কমিশন, মিডিয়া— সবকিছুকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছেন তিনি। তিনি যা বলবেন মিডিয়ায় তাই প্রচার করতে হবে—এমন অবস্থা ছিল। মুগ্ধদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে সেই দানবকে দমন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এই ধরনের একটি ভয়ঙ্কর দানবীয় রাষ্ট্র থেকে কমপক্ষে গণতন্ত্রের কিছুটা আলো দেখানোর চেষ্টা হয়েছে জুলাই-আগস্টের এই পরিবর্তনের মধ্যে। একটা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের তো কমপক্ষে ব্যবস্থা হয়েছে। কমপক্ষে কেউ যদি সরকারের জোরালো সমালোচনা করেন, সে গুম হবেন—এই পরিস্থিতি তো আর নেই। কেউ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হবেন—এই পরিস্থিতি তো আর নেই। কথা বলা, সমালোচনা করা, এটা তো একটা গণতান্ত্রিক সমাজের একটা অন্যতম অপরিহার্য উপাদান, সেটি তখন ছিল না; জুলাই আমাদের সেটি নিশ্চিত করেছে। তাই জুলাইয়ের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর এবং তীক্ষ্ণ। এই তাৎপর্যকে আমাদের আরও উপলব্ধি করতে হবে এবং আমাদের রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য যে সমস্ত কাজগুলো আমাদের বাকি আছে সে কাজগুলো আমাদের করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ এটা নিয়ে সরকার বা সরকারি দল, সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলগুলো আলোচনা করে আরও যদি কিছু সেখানে কথা বলার থাকে, কিছু সংযোজন করার থাকে, সেটা করতে অসুবিধা কোথায়? সেটা করে যেগুলো আইনিকরণ করা দরকার সংসদে, যেগুলো সংবিধানে সংশোধন করা দরকার, সেগুলো করে আমাদের জুলাই সনদকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু সেটার জন্য একটা টেবিলে বসতে হবে, বসে কথা বলে ঠিক করে এটিকে আইনিকরণ করা সম্পন্ন করতে হবে।
৯ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হলেন রাশেদ খাঁন
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতা মো. রাশেদ খাঁন।
রবিবার (১৯ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে তার নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাশেদ খাঁন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ (কালিগঞ্জ উপজেলা ও সদর আংশিক) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এর আগে, তিনি গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর সই করা আদেশে বলা হয়েছে, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে বিদ্যমান কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাশেদ খাঁনের নিয়োগ তার যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে। এই নিয়োগের মেয়াদ থাকবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে, যেটি আগে ঘটে সেই সময় পর্যন্ত।
সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে এ নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলি সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। রাশেদ খাঁনের এই নিয়োগকে সরকারের রাজনৈতিক কার্যক্রম সমন্বয়, নীতিনির্ধারণী সহায়তা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে, রাশেদ খাঁন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় ঝিনাইদহ ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
৯ দিন আগে