বিএনপি
সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগে সহযোগিতা করছে না বিরোধী দল: মাহদী আমিন
দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা না করে বিরোধী দল উল্টো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। বর্তমান সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।
মাহদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময় এবং গত প্রায় দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বহুমুখী অপপ্রচারে লিপ্ত থাকলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য সচেতন নাগরিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে শক্ত অবস্থান নিয়ে এসব মিথ্যাচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই জন্য গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম, এই অল্প সময়ের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় সরকার যে সমস্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, বিরোধী দল সেই কাজের জন্য সামগ্রিকভাবে সহযোগিতা করবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, তারা সেটি না করে সংসদে হট্টগোল করা, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি, গুজব-অপপ্রচার ছড়ানোসহ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রার পথে প্রতিবন্ধকতা।
তিনি আরও বলেন, গতকাল বর্তমান সরকারের মেয়াদ দুমাস পূর্ণ হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকার নির্বাচনের আগে ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দুর্বার গতিতে অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে। প্রতিটি সেক্টরে এবং গণমানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা এক অবিস্মরণীয় অর্জন। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গত দুমাসে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের ও প্রতিটি নাগরিকের অগ্রযাত্রা নিশ্চিতে যেসব কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার মধ্যে ৬০টি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
এরপর সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত দুই মাসে নেওয়া ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের তালিকাও উপস্থাপন করেন তিনি। সেগুলো হলো:
১. প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাইলট প্রকল্প শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
২. প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দেশের কৃষক কৃষাণীর জন্য ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সংবলিত ‘কৃষক কার্ড’ প্রচলন করা। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলার ২২ হাজারেরও বেশি প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে।
৩. প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।
৪. সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায়, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই করে আবার সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, মানবাধিকার হরণের শিকার দল হিসেবে বিএনপি এগুলো বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।
৫. সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল এবং জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় এই কাজ শুরু করা হয়েছে।
৬. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
৭. জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সোলার বা সৌরশক্তি ব্যবহার করে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
৮. জ্বালানি নেওয়ার জন্য ফুয়েল কার্ডের পাইলটিং প্রজেক্ট ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে।
৯. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের একটি অগ্রাধিকার। প্রতিকূল বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে পবিত্র রমজান মাসে এবং এখনও অন্যান্য বছরের তুলনায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
১০. ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও পালকরা মাসিক সম্মানি পাচ্ছেন। এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সব মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
১১. ঈদুল ফিতরের সময় সারা দেশে অসহায় ও গরিবদের ত্রাণ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলামিক স্কলার ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১২. শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৩. বিগত সময়ের তুলনায় হজযাত্রার খরচ টিকিটপ্রতি ১২ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতেই ‘নুসুক হজ কার্ড’ দেওয়া হয়েছে।
১৪. দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে শূন্যপদ চার লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। শূন্যপদ পূরণে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
১৫. পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রাধান্য পাচ্ছে চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্প।
১৬. স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাইটেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম তৈরি শুরু করা হয়েছে।
১৭. সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অধিকতর শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তর। এ লক্ষ্য অর্জনে খাতভিত্তিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
১৮. অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নিতে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
১৯. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০. প্রায় ১৮ বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কোনো শ্রমিককে হাহাকার করতে হয়নি। শ্রমিক, মালিক, সরকার ও অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনার ভিত্তিতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকিং সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ঈদের আগেই বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি পরিশোধ করা হয়েছে।
২১. দীর্ঘদিন পর আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের অভূতপূর্ব যৌথ বিবৃতিতে উঠে এসেছে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের জনকল্যাণ।
২২. বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে ইউরোপের সাতটি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২৩. দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর অংশ হিসেবে সরকার বিদেশে অধিক সংখ্যক জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষ এবং আধা দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দিয়ে অভিবাসনের পরিমাণ এবং গুণমান উভয়ই বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে দেশজুড়ে কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং কারিগরি শিক্ষায় বহুভাষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কারিকুলামে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
২৪. উত্তরবঙ্গকে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের ‘হাব’ বা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২৫. পেপ্যাল ও অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ের কার্যক্রম বাংলাদেশে শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
ইলিয়াস আলীর জন্য সিলেট জেলা বিএনপির দোয়া মাহফিল
নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কামনায় সিলেট জেলা বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ মসজিদে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, ইলিয়াস আলী ছিলেন একজন ত্যাগী, সাহসী ও গণতন্ত্রকামী নেতা। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সবসময় জনগণের অধিকার ও অবাধ নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন ইলিয়াস। দেশের জন্য কথা না বললে হয়তো তিনি গুম হতেন না। তিনি গণতন্ত্র ও নির্বাচনের জন্য লড়াই করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ে বিএনপি আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে দলের বহু নেতা-কর্মী নিহত ও আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীকে হয়তো আমরা ফিরে পাব না, কিন্তু তার পরিবারসহ পুরো সিলেটবাসী এখনও প্রতীক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাসিয়া নদী খনন কাজের উদ্বোধন এবং জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম উদ্বোধনের লক্ষ্যে তারেক রহমান শিগগিরই সিলেট সফর করবেন।
সিলেট জেলা বিএনপি সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘এম ইলিয়াস আলী দলের ক্রান্তিলগ্নে সিলেটকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি গণমানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
‘১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্য গভীর বেদনা ও উদ্বেগের। আমরা এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাই।’
সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া ছিল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলের এক কলঙ্কজনক কালো অধ্যায়।’
দোয়া মাহফিলে ইলিয়াস আলীর প্রত্যাবর্তন কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি দেশবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মঙ্গল কামনায় দোয়া করা হয়।
মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আশিক উদ্দিন আশুক পিপি, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সহ-সভাপতি শহিদ আহমদ, মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সাল, যুগ্ম-সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, আনোয়ার হোসেন মানিক, কোহিনুর আহমদ, অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ, আবুল কাশেম, শাকিল মোর্শেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আল আসলাম মুমিন, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আহমদ রানু, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজিজুর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম, সহ-প্রচার সম্পাদক শাহীন আলম জয় এবং জেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
১ দিন আগে
সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের চূড়ান্ত বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। আজ শুক্রবার থেকে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সামনে আগ্রহী প্রার্থীরা সাক্ষাৎকার দিতে শুরু করেছেন।
এদিন বিকেলে বিএনপির চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ড এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু করে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, যারা সংরক্ষিত আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছিলেন, আজ বিকেলে তাদের সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রথম দিনে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর এবং ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। চারশরও বেশি প্রার্থী এই সাক্ষাৎকারে অংশ নিচ্ছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শনিবার বিকেল ৩টায় শুরু হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মনোনয়নের মানদণ্ড সম্পর্কে আলোকপাত করে রিজভী বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আমাদের এক ভয়াবহ দুঃসময় পার করে আমরা আজকের গণতন্ত্র উত্তরণের এই পর্যায়ে পৌঁছেছি এবং গণতন্ত্র সচল ও শক্তিশালী করতে এটাকে এগিয়ে নিতে হবে। সেই ক্ষেত্রে মহিলারা যে অবদান রেখেছেন বিগত ১৫-১৬ বছরের আন্দোলনে, নিঃসন্দেহে তাদের সেই অবদানকেও মূল্যায়ন করা হবে।’
বিএনপি নেতা আরও জানান, সেক্ষেত্রে আপনারা জানেন, অনেক মহিলা নেত্রী আমাদের, তাদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে, তারা শর্টগানের গুলি খেয়েছেন, তাদের বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে, তাদের সন্তানদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে এবং রাজনৈতিক আদর্শের কারণে, এই পৈশাচিক বিভীষিকা তো ১৬-১৭ বছর ধরেই চলেছে। দল এসব বিষয় বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, এর বাইরে পাশাপাশি সংসদে কথা বলা এবং আইন প্রণয়নের ব্যাপারে যে জ্ঞান থাকা দরকার, যে শিক্ষা থাকা দরকার, এই বিষয়গুলো এখানে বিবেচিত হবে বলে আমি মনে করি। সবকিছু বিবেচনা করেই আমাদের যে মনোনয়ন বোর্ড, তারা চূড়ান্ত করবেন, কারা মহিলা সংসদ সদস্য হবেন।
এর আগে, গত ৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আসন বণ্টন অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৩৬টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি আসন পাবে।
শুক্রবার দুপুর থেকেই বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকরা গুলশান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। নিরাপত্তাকর্মীরা কেবল প্রার্থীদের কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন। কার্যালয়ের ভেতরে প্রার্থীদের বসার জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করা ছিল। সেখানে তাদের বসানো হচ্ছে।
১ দিন আগে
সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে এসেছেন। আপনাদের প্রাণের একটি আকুতি আছে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এটা নিয়ে যাবেন এবং দলের যে পার্লামেন্টারি বোর্ড, সেই বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে।
রিজভী বলেন, আন্দোলনে আপনাদের ভূমিকা, বিগত ১৬-১৭ বছরের আন্দোলনে ভূমিকা, আপনাদের দক্ষতা এবং পার্লামেন্টে কথা বলার দক্ষতা এবং অন্যান্য সমস্ত যে যোগ্যতা থাকা দরকার, সবগুলো বিবেচনা করেই দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম বা পার্লামেন্টারি বোর্ড তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।
পার্লামেন্টারি বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা সবাইকে মানার আহ্বান জানিয়ে এ বিএনপি নেতা বলেন, এটা (মনোনয়ন) আমি পেলাম না এবং ও পেল বলে এক ধরনের পরিবেশ তৈরি করা, বিশ্রি পরিবেশ তৈরি করা, এইটা করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আপনারা এই দলের জন্য অনেক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছেন, অনেক বেদনা আপনাদের পোহাতে হয়েছে। সুতরাং দলীয় সিদ্ধান্ত আপনারা সবাই মান্য করবেন, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
তিনি জানান, আজ শুক্রবার থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হবে, চলবে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যেই তা জমা দিতে হবে।
ফরম সংগ্রহের জন্য সকাল থেকেই কয়েকশ নারী নেত্রী দলীয় কার্যালয়ে ভিড় জমান। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা। এ সময় উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রথম মনোনয়ন ফরমটি জেরিন দেলোয়ার হোসেনের হাতে তুলে দেন রিজভী। দ্বিতীয় ফরমটি তুলে দেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদের স্ত্রী ফাতেমা আসাদের হাতে।
এর আগে, গত বুধবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। সেখানে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ মে।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল, বাছাই ২২-২৩ এপ্রিল এবং আপিল দায়েরের শেষ তারিখ ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭-২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। ১২ মে সংসদ সদস্যদের ভোটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনগুলো ৩০০টি সাধারণ আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে পূরণ করা হয়। যদি কোনো আসনে একের অধিক প্রার্থী থাকে তবেই সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে দলগুলো সাধারণত তাদের জন্য বরাদ্দকৃত আসনের সমান সংখ্যক প্রার্থী মনোনীত করে বলে ভোটের প্রয়োজন পড়ে না।
ইসির তথ্যমতে, ৩০০ আসনের আনুপাতিক হারে বিএনপি ও তার মিত্ররা ৩৬টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তার জোটসঙ্গীরা ১৩টি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা ১টি আসন পাবেন।
আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
৮ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক কারখানার ঝুট মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে এক শিশুসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার এনায়েতনগরে শাসনগাঁও চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ইমরান (১১), রাকিব (২৩) এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক (৪০)।
চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড’ নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুট মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপের সঙ্গে যুবদলের অভি-মনির গ্রুপের সংঘর্ষে বাঁধে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে ওই পোশাক কারখানায় ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী সালাম। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে ফতুল্লা থানা যুবদলের সভাপতি ফারুক মন্ডলের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ সেখানে হামলা চালায়। এই গ্রুপটি বেশ কিছুদিন ধরে এখানে চাঁদা দাবি করছিল। এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন ফতুল্লার আরেক ঝুট ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাসেল মাহমুদ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে অভি গ্রুপের সশস্ত্র লোকজন বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় এনায়েতনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব গুলিবিদ্ধ হন। পরে রাসেল মাহমুদের নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ এলাকায় প্রবেশ করে গোলাগুলি করে। এতে ১১ বছর বয়সী শিশু ইমরান গুলিবিদ্ধ হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে আহত শিশু ইমরানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চাঁদনী হাউজিং এলাকার বাসিন্দারা জানান, সংঘর্ষের সময় অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলিতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জীবন রক্ষায় সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি শুরু করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
এনায়েতনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকা জানান, ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক হাজী মাসুদুর রহমান মাসুদের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া অভি, মনির, সুমন, জসিমসহ ২০-৩০ জন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে দাবি করেন তিনি ।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) হাসিনুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুট মালামাল নিয়ে বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের শুরু হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
৯ দিন আগে
বরিশালে নতুন কমিটির দাবিতে ছাত্রদল কর্মীদের সড়ক অবরোধ
বরিশালে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন মহানগর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় প্রকৃত ছাত্রদের নিয়ে জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনের দাবি জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল সদর হাসপাতালের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, বরিশাল ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ ৮/৯ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন করে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। বহুদিন ধরে নতুন কমিটির দাবি উঠলেও তা পূরণ হয়নি। সেই দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন তারা।
বিক্ষোভ মিছিলটি জেলখানা মোড়, বিবির পুকুরপাড় হয়ে অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে অশ্বিনী কুমার হল চত্বরের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এ সময় হাতেম আলী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবির বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে ছাত্রদলের জেলা ও মহানগরে কোনো কমিটি নেই। এখন টের পাচ্ছি, যাদের ছাত্রত্ব নেই, তারা নতুন করে কমিটিতে ঢোকার পায়তারা করছে। আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের পাশে পাইনি, তারা যেন এই কমিটিতে ঠাঁই না পায়। এজন্যই আমাদের এই বিক্ষোভ।
বিক্ষোভে উপস্থিত অন্যান্য নেতা-কর্মীরা বলেন, আমরা নতুন কমিটি চাইছি। আমাদের যাদের ছাত্রত্ব আছে, তারাই যেন এই কমিটিতে থাকে। ছাত্রত্ব নেই এমন কেউ যেন এই কমিটিতে না থাকে, এই দাবি জানাচ্ছি।
প্রায় ৩০ মিনিট সড়ক অবরোধের পর বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।
৯ দিন আগে
মির্জা আব্বাসকে কেবিনে স্থানান্তর
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নিউরোসার্জিক্যাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ১৯ দিন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর কেবিনে স্থানান্তর করা হয় তাকে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। আজ সকালে আমি ভাবির (মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস) সঙ্গে কথা বলেছি। ধীরে ধীরে উনার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। আজই তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেবিনেই চিকিৎসকরা উনাকে উন্নত ফিজিওথেরাপি দেবেন। যেহেতু ব্রেইনের জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছে, সেজন্য চিকিৎকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে উনার চিকিৎসা চলছে, চালিয়ে যেতে হবে। পুরোপুরি সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন মির্জা আব্বাসের পরিবারের সদস্যরা।
গত ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এর আগে, ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে মির্জা আব্বাসকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসার জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় নিউরোলজিস্টদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তখন তার মস্তিষ্কে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য অস্ত্রোপচারের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গত ১৫ মার্চ তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
১৫ দিন আগে
অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক, সমাজের কেবল একটি অংশ নয়, বরং আমরা সবাই মিলে যেন ভালো থাকতে পারি। আমরা সবাই মিলে ভালো থাকার চেষ্টা করব এবং ইনশাআল্লাহ আমরা তা সফল করব।
তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের দ্বারা গঠিত এবং এটি জনগণেরই সরকার। জনগণের আকাঙ্ক্ষা বিশাল হলেও দেশের সম্পদ সীমিত, ফলে জাতির প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে একটি ব্যবধান রয়ে গেছে।
তারেক রহমান বলেন, একজন নাগরিক এবং রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই এবং দেশের জন্য একযোগে কাজ করি, তবে অবশ্যই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হব। এই মহান স্বাধীনতা দিবসে আমি দেশের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষ এবং আমার রাজনৈতিক সহকর্মীদের প্রতি এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চাই।
লক্ষ্য অর্জনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কল্যাণে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খনন কর্মসূচির মতো নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে।
বিকেল ৩টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা সভাটি শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৩টা ৫৭ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সালাহউদ্দিন আহমদ।
২২ দিন আগে
বরিশালে পুলিশের সামনে পিটিয়ে হত্যা, জড়িত অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকে একজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আর এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাহাঙ্গীর হাওলাদার নামে এক বিএনপি নেতা দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন।
রবিবার (২২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার চরহোগলা গ্রামে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতের নাম খোরশেদ সিকদার (৬৫)। পুলিশের সামনে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হলেও সংঘর্ষ থামাতে এবং খোরশেদ সিকদারকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটির সদস্যরা।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খোরশেদ সিকদারকে কয়েকজন মিলে বেদম মারধর করছেন। কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সামনেই ঘটছে এ ঘটনা। পুলিশ সদস্যরা হামলা থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। চেয়ার আর লাঠির উপর্যুপরি আঘাতে একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন খোরশেদ সিকদার। পরে তাকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মেহেন্দিগঞ্জ পৌর বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদারকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ রিয়াজ শাহিন লিটন ও সদস্যসচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী দিনু মিয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল (রবিবার) রাতেই বিষয়টি জানানো হয়।
মেহেন্দীগঞ্জ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বশির আহম্মেদ জানান, ঘর নির্মাণের পাওনা টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। রবিবার বিকেলে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশ বসে। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
তিনি আরও বলেন, নিহত ব্যাক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টাও চলছে।
বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিল।
২৬ দিন আগে
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ঘরে ঢুকে বিএনপি নেতাকে গুলি
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ওসমান গনিকে (৪২) তার ঘরে ঢুকে গুলি ও কুপিয়ে আহত করেছে মুখোশ পরা দুর্বৃত্তরা। হামলার সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার বাবা-মাকেও আহত করা হয়।
রবিবার (২৩ মার্চ) রাত ৮টার পর সরফভাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গঞ্জম আলী সরকারের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় ওসমান গণির হাতে ও পেটে এবং তার বৃদ্ধা মা আছিয়া বেগমের পায়ে গুলি লেগেছে। এছাড়া ওসমান গনির একটি হাতে ও পিঠে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। তার বাবা রশিদ আহমদের মাথায়ও আঘাত লেগেছে বলে জানান তাদের স্বজনরা।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ওসমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার মা ও বাবাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তারা আশংকামুক্ত বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক।
ঘটনার খবর শুনে রাতেই উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ ওসমান গণির বাড়িতে যান।
স্থানীয়রা জানান, হামলায় ওসমানের শরীরে একাধিক ছররা গুলি লেগেছে। এর মধ্যে পেটে লাগা গুলিটি গুরুতর। এছাড়া তার একটি হাত কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। চিকিৎসক বলেছেন, এটি কেটে ফেলতে হতে পারে। তবে বিএনপি নেতারা অনুরোধ করেছেন, না কেটে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া যায় কিনা। তার মেরুদণ্ডেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন হামলার ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মুখোশ পরা চার-পাঁচজন দুর্বৃত্ত বিএনপি নেতা ওসমান গণির বাড়িতে হামলা করেছে। শুনেছি তিনি গুলিতে আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ওই এলাকায় গেছে। দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
২৬ দিন আগে