বিএনপি
বিএনপির মন্ত্রিসভায় থাকার প্রশ্নই আসে না: আসিফ নজরুল
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় নিজের থাকার প্রশ্নই আসে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আসিফ নজরুল আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবশালী এই উপদেষ্টা বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায়ও জায়গা পেতে যাচ্ছেন বলে গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল।
এ বিষয়ে আজ সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, আপনি পরবর্তী মন্ত্রিসভায় থাকছেন বলে শোনা যাচ্ছে; এ বিষয়ে কী বলবেন? উত্তরে আসিফ নজরুল বলেন, ‘প্রশ্নই আসে না।’
১১ ঘণ্টা আগে
দলে ফিরিয়ে নিন, নাহলে শপথ নেব না: হান্নান
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর বিজয়ী বিএনপির বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী (চিংড়ী প্রতীক) এম এ হান্নান বলেছেন, ‘আমাকে আমার প্রিয় দল বিএনপিতে ফিরিয়ে নিন, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করুন। অন্যথায় আমি শপথে অংশ নেব না।’
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নির্বাচনোত্তর এক সংবাদ সম্মেলনে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দলের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশে তিনি এই আকুতি জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি মামুনুর রশীদ পাঠান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন প্রেসক্লাব সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ।
হান্নান বলেন, আমি ছাত্রজীবন সময় থেকে প্রিয় নেতা জিয়াউর রহমান, তার দল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শ্রদ্বা করি ও ভালবাসি। আমার প্রাণের দল বিএনপি। আমরণ এ দলে আছি, থাকব। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্বে ষড়যন্ত্র করে আমাকে মনোনয়নবঞ্চিত করে।
এ ঘটনায় অত্যন্ত দুঃখ পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই দুঃখকে বুকে নিয়ে কুচক্রীদের সমুচিত জবাব দিতে আল্লাহর ওপর ভরসা করে আমি এমপি ইলেকশনে নামি ও জয়লাভ করি। কারণ আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মহান আল্লাহ ও উপজেলা, পৌরসভা ও ১৬ ইউনিয়নের আপামর জনগণ আমার সঙ্গে আছে।
তিনি আরও বলেন, তাই দলের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে আমাকে আমার প্রিয় দলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরিয়ে নিন। না হয় আমি শপথ অনুষ্ঠানে যাব না। শপথও নেব না।
‘ভোটে কারচুপি করে জয়ী হয়েছেন’—ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী হারুনর রশীদের এমন অভিযোগকে তিনি (হান্নান) ‘ঢাহা মিথ্যা, মনগড়া ও ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, রমজানে তিনি উপজেলার সকল ইউনিয়নের ছোটবড়, ময়মুরুব্বি—সবার সঙ্গে দেখা করবেন।
নবনির্বাচিত এ সংসদ সদস্য বলেন, সব ভেদাভেদ ভুলে এখন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ফরিদগঞ্জের উন্নয়নে কাজ করব।
এ সময় তার সঙ্গে ফরিদগঞ্জের সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
তারেক রহমানকে মিষ্টি ও ফুল পাঠালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান এই ফুল ও মিষ্টি গ্রহণ করেন। এ সময় গুলশান কার্যালয়ের বিশেষ কর্মকর্তা মেহেদুল ইসলাম মেহিদী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের আমার সকল ভাইবোন ও সাধারণ মানুষকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। তাদের সবাইকে জানাই অগ্রিম রমজান মোবারক। এই বিশাল জয়ের জন্য আমার ভাই তারেক, তার দল এবং অন্য সকল দলকে অভিনন্দন। প্রার্থনা করি আপনারা সবাই ভালো ও সুখে থাকুন।’
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। একইসঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ৩০০ আসনের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে এককভাবে সরকার গঠন করতে কমপক্ষে ১৫১ আসন প্রয়োজন হয়। দুই শতাধিক আসন পাওয়ায় বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবেন। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
অন্যদিকে, একইদিন সকালে সংসদ ভবনে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।
১৬ ঘণ্টা আগে
জনগণ বিশ্বাস-ভালোবাসা দেখিয়েছে, এবার প্রতিদানের পালা: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ বিএনপির প্রতি যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা দেখিয়েছে এবার তার প্রতিদান দেওয়ার পালা।
তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) দেশের জনগণ আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে। জনগণ বিএনপির প্রতি যে বিশ্বাস এবং ভালোবাসা দেখিয়েছে, এবার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজের মাধ্যমে জনগণের এ বিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার পালা। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।’
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল–এর গ্র্যান্ড বলরুমে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয় পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ আবারও বিএনপিকে বিজয়ী করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় গণতন্ত্রের। আজ থেকে আমরা সবাই স্বাধীন। তবে মনে রাখতে হবে, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি আর বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’
দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আপনারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছেন। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর করে দেওয়া সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি... এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি।
‘আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। আর কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে...এ জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
তারেক রহমান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোই মূলতঃ গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার এবং বিরোধী দল যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে অবশ্যই দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহবান জানাই, দেশ গঠনে আপনাদের চিন্তাভাবনাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
‘আমাদের পথ এবং মত ভিন্ন থাকতে পারে কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’
তিনি বলেন, ৭১-এর স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ... এই দীর্ঘ সময়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, হতাহত হয়েছেন, যাদের রক্ত মাড়িয়ে, কষ্টের সিঁড়ি বেয়ে আজকের এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সেসব বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি। যারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন, হতাহত হয়েছেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আপনাদের ভূমিকাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ রাখবে।
জনগণের রায় পেলে বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল এবং সারাদেশে জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছিল। ৩১ দফার আলোকে ঘোষণা করা হয়েছিল দলীয় ইশতেহার। একই সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে বিএনপি জুলাই সনদেও স্বাক্ষর করেছিল। আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।
সারাদেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থক ছাড়াও দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে আজকের এই সময়টি ভীষণ আনন্দের উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এমন এক আনন্দঘন পরিবেশে আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আমাদের ভারাক্রান্ত করে। রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার এমন একটি গণতান্ত্রিক সময়ের প্রত্যাশায় তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়েছিলেন। স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কখনোই আপোষ করেননি। দেশ এবং জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে বরাবরই তিনি ছিলেন অটল, অবিচল। আমরা আল্লাহর দরবারে মরহুম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনা করছি।
তিনি সারা দেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শত নির্যাতন-নিপীড়নের পরও আপনারা রাজপথ ছাড়েননি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অটুট, অনড় ছিলেন। এবার দেশ গড়ার পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় আপনি, আমি—আমাদের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই বিজয়কে শান্তভাবে, দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদযাপন করেছি। নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশে যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এ জন্য শত উসকানির মুখেও আমি সারাদেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের শান্ত এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কোনো অপশক্তি যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নিতে না পারে... এ জন্য নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর আমি সারাদেশে বিএনপি এবং জোটভুক্ত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিল বের করতে নিষেধ করেছিলাম। আমরা আল্লাহর দরবারের শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে বিজয় উৎসব পালন করেছি।
তারেক রহমান বলেন, আমার বক্তব্য স্পষ্ট, যে কোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দল-মত, ধর্ম, বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না। ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সকল প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, অন্য মত কিংবা ভিন্নমত... প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই আইন সমান। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে নির্বাচনের মাঠে হয়তো কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ-প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।
দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন, যেভাবে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছিলাম, একইভাবে এবার দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যে যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি। একটি নিরাপদ, মানবিক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে আমি ভিন্ন দল কিংবা ভিন্নমতের সকলের সহযোগিতা আশা করছি। বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক শক্তি, সকল প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের প্রতি আবারও বিজয়ের অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডা. এজেডম জাহিদ হোসেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ আহমেদ পাভেল ও চেয়াপারসনের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জয়নুল আবেদিন, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দীন আহমেদ অসীম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
১ দিন আগে
নাটোরে পৃথক নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষে ১৪ জন আহত
নাটোরের বড়াইগ্রাম ও সিংড়ায় পৃথক সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ সেতুর নিকট একটি হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গতকাল বিকেলে ধানাইদহ বাজারে জামায়াতের পক্ষে ভোট করা নিয়ে সাবেক বিএনপি কর্মী সাব্বিরকে মারপিট করে বিএনপি সমর্থক ফয়সাল ও ফাহিম। এর জেরে নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাসিনুর রহমানের নেতৃত্বে আজ (শনিবার) দুপুরে ধানাইদহ সেতুর কাছে জামায়াত সমর্থকরা জড়ো হন। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ফাহিমের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জামায়াতের লোকজনের ওপর হামলা চালান। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে হাসিনুরসহ ৫ জন আহত হন।
আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও ঈশ্বরদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এর আগে, সকালে সিংড়া উপজেলার পারসিংড়া এলাকায় ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৫ নারীসহ অন্তত ৯ জন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুন নূর জানান, এ ঘটনায় নেহাল নামের স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদের এক সমর্থককে আটক করা হয়েছে।
১ দিন আগে
বিকেলে তারেক রহমানের সংবাদ সম্মেলন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আজ (শনিবার) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আসবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।
যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ দেড় দশকের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফিরে রাজনৈতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেলেও কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি তিনি।
নির্বাচনে ঘোষিত ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে পেয়েছে ২০৯টি আসন। তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হয়েছেন।
১ দিন আগে
তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অভিনন্দন বার্তায় তারেক রহমানের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এই সুস্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনার প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনকল্যাণমুখী চেতনার আলোকে আপনি দেশকে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমি স্মরণ করছি আপনার পিতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাষ্ট্রদর্শন এবং আপনার মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের কথা। তাদের আদর্শ ও মহান কর্ম আপনার আগামী দিনের চলার পথকে আলোকিত করবে বলে আমি একান্তভাবে আশা করি।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জলবায়ু সহনশীলতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ—এসব ক্ষেত্রে সুসমন্বিত মেধা, মননশীলতা ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ অপরিহার্য। আশা করি, আপনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার মূল্যবান সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পরিবর্তনের এই সংবেদনশীল সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা, সহনশীলতা প্রদর্শন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ক্ষেত্রে আপনার ইতিবাচক অবস্থান জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আপনার সকল উদ্যোগ সফল হোক, এই কামনা করি। মহান আল্লাহ্ আপনাকে দেশ ও জাতির সেবায় প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও দৃঢ়তা দান করুন।
১ দিন আগে
বরগুনা-১-এ হাতপাখা ও বরগুনা-২-এ ধানের শীষের বিজয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা।
বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ৪ হাজার ১৪৬ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনে পোস্টালসহ সব কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ১৯১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯১টির ফলাফলই প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লক্ষ ৪০ হাজার ২৯১টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা পেয়েছেন ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ১৪৫টি ভোট। হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. অলিউল্লাহ ৪ হাজার ১৪৬টি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী নিয়ে গঠিত বরগুনা ১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ জন। এ আসনে ৩৭ হাজার ৯৬০ জন নতুন ভোটার হয়েছেন। এছাড়াও বরগুনা ১ আসনে ৬ হাজার ২৯৮ জন পোস্টাল ভোটার রয়েছেন।
এদিকে বরগুনা-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নূরুল ইসলাম মনি।
নির্বাচনে পোস্টালসহ সব কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৩টির ফলাফলই প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯০ হাজার ৬৪৩টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা: সুলতান আহম্মেদ পেয়েছেন ৮৫,২৪৭ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি ৫ হাজার ৩৯৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
বরগুনা-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৪। মোট পোস্টাল ভোটার ছিলেন ৫ হাজার ৪ জন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন।
২ দিন আগে
পাবনায় ৫ আসনের তিনটিতে জামায়াত, দুটিতে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনায় ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৩টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও ২টি আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করেছে। পাবনা-১, ৩ ও ৪ আসনে জামায়াত এবং পাবনা-২ ও পাবনা-৫ আসনে জিতেছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাবনা জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা বেসরকারিভাবে ৫টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ব্যারিষ্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামসুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ২৪৫ ভোট। নাজিবুর রহমান মোমেন ২৫ হাজার ৭২৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
পাবনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী একেএম সেলিম রেজা হাবিব ২ লাখ ১৫ হাজার ৪০৬ ভোটে পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হেসাব উদ্দিন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ২৪২ ভোট। ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৬৪ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন সেলিম রেজা হাবিব।
পাবনা-৩ আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মাদ আলী আছগর। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট। মুহাম্মাদ আলী আছগর ৩ হাজার ২৬৯ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন ।
পাবনা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯২ ভোট। ৩ হাজার ৬৮৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন আবু তালেব মন্ডল ।
পাবনা-৫ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ১৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৮৬ ভোট। ১৭ হাজার ৯৮৩ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন শিমুল বিশ্বাস।
২ দিন আগে
দিনাজপুরের ছয়টি আসনের ৫টিতে ধানের শীষ, একটিতে স্বতন্ত্রের জয়
দিনাজপুরের ৬টি নির্বাচনি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক। আর একটি আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পেয়েছেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ- কাহারোল) আসনে বিএনপি প্রার্থী মনজুরুল হক ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৮১ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতা মতিউর রহমান।
দিনাজপুর-২ (বিরল- বোচাগঞ্জ) আসনে ধানের শীষে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম আফজালুল আলম দাঁড়িপাল্লায় পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৮৮৭ ভোট।
দিনাজপুর সদর-৩ আসনের বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ১ লাখ ৪০ হাজার ৬০৮ ভোট পেয়ে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। এর আগে তিনি দিনাজপুর পৌরসভায় পরপর তিনবার মেয়র ছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী সরকার আমলে তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের হুইপ ইকবালুর রহিমের বিপরীতে এমপি পদে নির্বাচন করেছিলেন। তবে জয় মিলেনি তার। জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা অ্যাডভোকেট মাঈনুল আলম ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৩৯ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন।
দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর - খানসামা) আসনে বিএনপির ধানের শীষে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক এমপি আক্তারুজ্জামান মিয়া। বেসরকারিভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামায়াতে ইসলামীর আফতাব উদ্দিন মোল্লা পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ ভোট।
দিনাজপুর ৫ (পাবর্তীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজোয়ানুল হক। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৮৪। এর আগে বিএনপির হয়ে ৬ বার এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন প্রবীণ এ বিএনপি নেতা। তবে ত্রয়োদশ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল তারেক রহমানের আইনজীবি ব্যারিষ্টার এ কে এম কামরুজ্জামানকে। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিতে লন্ডন থেকে উড়ে এসেছিলেন তিনি। ধানের শীষ মার্কায় ৯৮ হাজার ৫৪৪ ভোট পেয়ে তিনি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। নিকটতম দ্বিতীয় অবস্থানে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী এনসিপির ডা. আব্দুল আহাদ পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট।
দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট) আসনে বিএনপির ধানের শীষে ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন ২ লাখ ৫ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। পাশাপাশি দলের চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে খ্যাতি পরিচিতি রয়েছে তার। জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৭০৩ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন।
২ দিন আগে