বিএনপি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দি দিবস আজ
আজ ৭ মার্চ বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দি দিবস। ২০০৭ সালের এই দিনে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে কোনো ওয়ারেন্ট, মামলা বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই গ্রেপ্তার করে।
শনিবার (৭ মার্চ) গ্রেপ্তারের দুই দশক পূর্ণ হওয়ায় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করছে।
গ্রেপ্তারের পর তারেক রহমানকে বেশ কয়েকটি মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, রিমান্ডে থাকাকালীন তিনি অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন, যার ফলে তিনি গুরুতর শারীরিক আঘাত পান।
দলের মতে, তৎকালীন সরকার বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করেছিল।
গ্রেপ্তারের পর তারেক রহমান প্রায় ১৮ মাস কারাগারে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে করা সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি মুক্তি পান। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা থেকে লন্ডনে যান।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা করেছিল। তিনি বলেন, সব মামলাই ছিল মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যার লক্ষ্য ছিল বিএনপিকে দুর্বল করা এবং তারেক রহমানকে হেয় প্রতিপন্ন করা।
এ্যানি বলেন, রাজনৈতিক জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তারেক রহমান দলকে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন এবং শেষ পর্যন্ত দলকে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছেন।
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য স্মরণসভার আয়োজন করেছেন।
২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান লন্ডনের ১৭ বছরেরও বেশি সময়ের প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরে আসেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করে ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান বাংলাদেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১ দিন আগে
এমপিদের নিয়ে বিএনপির দ্বিতীয় দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা চলছে
দ্বিতীয় দিনের মতো বিএনপি আয়োজিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। আজকের কর্মসূচিতে ঢাকাসহ তিন বিভাগের সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সকাল ১০টায় কর্মশালার সমাপনী দিনের সকালের অধিবেশন উদ্বোধন করেন। অধিবেশনে ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও ঢাকা বিভাগের সংসদ সদস্যরা অংশ নেন।
বিকেলের সমাপনী অধিবেশনে সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগের সংসদ সদস্যদের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান এবং জ্যেষ্ঠ নেতা ওসমান ফারুকসহ আরও অনেকে।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান গতকাল (শুক্রবার) এ দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন। প্রথম দিনে সকালের অধিবেশনে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা অংশ নেন এবং বিকেলের অধিবেশনে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ফরিদপুর বিভাগের কিছু সংসদ সদস্য এতে যোগ দেন।
আসন্ন সংসদ অধিবেশনের জন্য নিজেদের সংসদ সদস্যদের প্রস্তুত করতে বিএনপি এই কর্মশালার আয়োজন করেছে। সংসদ বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যরা সংসদকে কার্যকর করতে এমপি এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করছেন।
বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, এই কর্মশালায় সংসদ সদস্যদের কীভাবে পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপন করতে হয়, বিলের ওপর বিতর্কে অংশ নিতে হয়, নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকার সমস্যাগুলো সংসদে তুলে ধরতে হয়, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করতে হয় এবং সংসদ অধিবেশনে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হয় তা শেখানো হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ সকাল ১১টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই অধিবেশন আহ্বান করেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনে বিএনপির ২০৯ জন এমপির মধ্যে ১৪৬ জনই এবার প্রথমবারের মতো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
১ দিন আগে
সংঘর্ষে জামায়াত কর্মী নিহত: চুয়াডাঙ্গায় সড়ক অবরোধ, অপরাধীকে গ্রেপ্তারে আলটিমেটাম
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হাফিজুর রহমান নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিএনপি কর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা।
রবিবার (১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাসস্ট্যান্ড ট্রাফিক আইল্যান্ডে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়।
সমাবেশে বক্তারা নিহত হাফিজুর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিএনপি কর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তারা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে জীবননগরে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং এই পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
বিক্ষোভ চলাকালে নেতা-কর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। এতে প্রায় ৩০ মিনিট শহরের যান চলাচল বন্ধ হয়ে থাকে এবং এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের প্রশিক্ষণ সম্পাদক জিয়াউল হক, জেলা মাজলিসুল মুফাসসিরিন পরিষদের সভাপতি মাওলানা হাফিজুর রহমান এবং জীবননগর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন।
এদিকে সংঘর্ষে নিহত হাফিজুর রহমানের জানাজা আজ (রবিবার) বিকেল ৩টায় জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও হাসাদাহ বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তার ছেলে মেহেদী হাসানকে মারধরের অভিযোগ উঠে জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মেহেদি হাসানকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর সুটিয়া থেকে হাসাদাহ বাজারে আসার পথে হাসাদাহ মডেল ফাজিল মাদরাসার সামনে মেহেদী হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ খবর পেয়ে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। তাদেরকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।
পরবর্তীতে বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে যশোর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়।
জীবননগর পৌর জামায়াতের পৌর যুব বিভাগের সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমির আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি ও তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জামায়াত নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে চারজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এর মধ্যে আমির মফিজুর রহমানের ভাই হাফিজুর রহমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া মফিজুর রহমানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।
৭ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতার ভাই নিহত
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষে জামায়াতের এক ইউনিয়ন আমিরের বড় ভাই নিহত হয়েছেন। এছাড়া জামায়াতের ইউনিয়ন আমির ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হাসাদাহ বাজারের কামিল মাদরাসা ফটকের সামনে ইফতারের পর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে দুদফায় এ সংঘর্ষ ঘটে।
নিহত হাফিজুর রহমান (৫৫) জীবননগর শহরের ‘ঢাকা জুয়েলার্স’-এর মালিক ও একজন স্বনামধন্য জুয়েলারি ব্যবসায়ী ছিলেন। গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার কাকরাইলে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নিহতের ছোট ভাই মফিজুর রহমান। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জামায়াতের পক্ষের অন্য আহতরা হলেন— সুটিয়া গ্রামের মফিজুর রহমান (৪০), খায়রুল ইসলাম (৫০) ও সোহাগ (৩৫)। তাদের মধ্যে দুজন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, সংঘর্ষে বিএনপির তিনজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন— বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার (৫০), সদ্য বহিষ্কৃত হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান (৪০) এবং তার বাবা জসীম উদ্দিন (৬৫)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে গতকাল ইফতারের পর হাসাদাহ বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসরাফিল এবং পার্শ্ববর্তী বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের নেতা সুটিয়া গ্রামের সোহাগের সঙ্গে মেহেদী ও তার বাবা জসীম উদ্দিনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
তারা আরও জানান, প্রথমে ইসরাফিল ও সোহাগ মারধর করেন মেহেদী ও তার বাবাকে। পরে মেহেদীর স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে তাদের ধাওয়া দিলে তারা সেখান থেকে সরে যান। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট পর জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বাজারে জড়ো হলে আবারও সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা মফিজুর রহমানের ওপর হামলা চালালে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান হাফিজুর রহমান। তখন হামলাকারীরা হাফিজুর রহমানকে মারধর করেন। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা হাফিজুর রহমান ও মফিজুর রহমানকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাফিজুর রহমান ও মফিজুর রহমানকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। হাফিজুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মফিজুর রহমানের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকার আরেকটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, সন্ধ্যায় হাসাদাহ বাজারে বিএনপির দুজন আহত হওয়ার পর রাত ১২টার দিকে বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জীবননগর থানায় জামায়াত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গেলে পুলিশের সামনেই তার ওপর হামলা হয়। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান হোসেন ফোর্স নিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘বিএনপির লোকজন আমাদের নিরীহ নেতা-কর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
ওসি সোলাইমান হোসেন বলেন, হাসাদাহে দুপক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
৭ দিন আগে
১৩ সচিব পদ এখনও খালি
বিএনপি সরকার গঠনের পর আগের সরকারের সময়ে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া সচিবদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে। একই সঙ্গে কয়েকজন সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক শীর্ষ পদে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া নয়, এমন জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবদের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়। এরা সবাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রায় সবার মেয়াদই চলতি বছরের শেষের দিকে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ওইদিন গত সরকারের সময়ে সচিব হওয়া তিনজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, প্রশাসনে ১৩টি সচিবের পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের পদ খালি রয়েছে।
এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সচিব পদমর্যাদায় তিনজন সদস্যের পদ খালি রয়েছে। ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য এবং শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য পদেও কোনো কর্মকর্তা নেই।
আবার জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদও শূন্য রয়েছে। মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) জ্যেষ্ঠ সচিবদের পদটিও খালি রয়েছে।
এসব পদে নিয়োগ পেতে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ চলছে। সরকার আস্থাভাজন হিসেবে অবসরে যাওয়া কিছু কর্মকর্তাকে এসব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে ফেরাতে চাইছে বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র।
তবে সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের উদ্যোগের কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অবসরপ্রাপ্ত সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে এক বছরের চুক্তিতে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার এক দিন আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদও বাতিল করা হয়। তিনিও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
৮ দিন আগে
মাগুরায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫
মাগুরায় সরকারি চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শিবরামপুর ও বাটিকাডাঙ্গা এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, ঈদ উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তারিকুল শেখ ও একই ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা আবু মিয়ার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে তাদের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাঁধে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ সময় বিএনপি ওয়ার্ড সভাপতির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ শিবলী সাদিক জানান, পৌর এলাকার বাটিকাডাঙ্গা পাকার মাথায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাগুরা থানায় মামলা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
১০ দিন আগে
সঠিক সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সঠিক সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব কথা জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারি কতগুলো নিয়মকানুন আছে। সরকারি যেসব প্রথাগুলো আছে সেগুলোর মধ্যে কতগুলোর মেয়াদ আছে, কতগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে… সবগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে এসে আমরা সরকারের তরফ থেকে একটা সঠিক সময়ে এই নির্বাচনগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা করব। তবে নিঃসন্দেহে এই নির্বাচনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
প্রশাসক নিয়োগে নির্বাচন বিলম্বিত হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি হবে না বলে জানান।
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম দলীয় কার্যালয় পরিদর্শন।
সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়নের যোগ্যতা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নারী আসনের নির্বাচন, এটা তো আপনার পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত হবে। আর প্রার্থী মনোনয়নের যোগ্যতা হবে দলের আদর্শ, নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে হবে, জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, নিবিড় সম্পৃক্ততা থাকতে হবে; দলের জন্য ত্যাগ থাকতে হবে। আমাদের দলের মধ্যে যারা দলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত আছেন, যাদের ত্যাগ রয়েছে, তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।’
একই পরিবারের দুই সদস্যকে নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা এখনই কিছু বলা যাবে না। এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
কিছু এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় চালু হওয়ার খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আমরা চাইনি। যেহেতু আইনগতভাবে বলা আছে যে তাদের (আওয়ামী লীগের) কার্যক্রম নিষিদ্ধ, সেইভাবে এটাকে দেখা হবে সব জায়গায়।’
১৩ দিন আগে
মব জাস্টিস নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতেই হবে: মির্জা ফখরুল
নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মব জাস্টিস নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যতটুকু খারাপ ছিল, সেটাকে উন্নত করার চেষ্টা করতেই হবে।
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সরকার গঠনের পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সবকিছু মিলিয়ে আপনার এই সময়ের চ্যালেঞ্জ, সরকারের চ্যালেঞ্জটা কী—প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসছি আমরা। চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে, টু বিল্ড দ্য নেশন (দেশকে গড়ে তোলা)। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, যিনি আমাদের এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তার প্রথম কথাটি ছিল— বাংলাদেশের জন্য, আই হ্যাভ এ প্ল্যান (আমার একটা পরিকল্পনা আছে)। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি তার মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। মন্ত্রিসভা তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে, বাংলাদেশের মানুষের সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করবে এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সামনের দিকে।’
তিনি বলেন, ‘ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্র) হচ্ছে আমাদের প্রধান ইনগ্রেডিয়েন্ট (উপাদান), যাকে নিয়ে আমরা সামনে এগোচ্ছি। অর্থাৎ আমাদের সবকিছুর মধ্যেই গণতন্ত্র থাকবে। আমরা সেই গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়; এটার পুরোপুরি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, একেবারে গ্রাসরুট (তৃণমূল) মানুষের সঙ্গে।
‘আমার একটা অ্যাডভান্টেজ (সুবিধা) আছে, আমি কিন্তু একসময় নিজে লোকাল গভর্নমেন্টে (স্থানীয় সরকার) ছিলাম। তাই আমরা এই জিনিসগুলো সম্পর্কে কিছু ধারণা রাখি। আমি বিশ্বাস করি যে, আপনাদের এই মন্ত্রণালয়কে অত্যন্ত ডাইনামিক (গতিময়) একটা মন্ত্রণালয়ে পরিণত করতে পারব। মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে, সেই সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা কাজ করতে পারব।’
দেশের ‘আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি ভঙ্গুর’ দাবি করে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘না না, অতটা খারাপ না। আপনারা যতটা খারাপভাবে দেখছেন, অতটা খারাপ না। আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ইমপ্রুভ (উন্নতি) হয়েছে। অর্থনীতি—ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি (ব্যাষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা)—এটা অনেক ফিরে এসেছে। ব্যাংক তো অনেকটা কন্ট্রোলে (নিয়ন্ত্রণে) এসেছে। এগুলো তো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আমরা মনে করি, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এটাকে আরও ভালো করতে পারব।’
গেল দেড় বছর ব্যাপক মব জাস্টিস হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যতটুকু খারাপ ছিল, এটাকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করতেই হবে। একটা বড় ঝড় গেছে আমাদের। একটা বিপ্লব হয়েছে, বিদ্রোহ হয়েছে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এসব মুহূর্তের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে—এটা মনে করার কারণ নেই। এক-দেড় বছর আমরা পার হয়েছি একটা ইন্টারিম গভর্নমেন্টের (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) অধীনে। তারা একটা ইলেকশন দিয়ে গেছে। ইলেকশন করে একটা গভর্নমেন্ট হয়েছে—ইলেকটেড গভর্নমেন্ট (নির্বাচিত সরকার) হয়েছে। এটাই তো একটা বড় অ্যাচিভমেন্ট (অর্জন)। আমি তো মনে করি, দ্যাটস অলসো এ ভেরি বিগ অ্যাচিভমেন্ট (এটা একটা বড় অর্জন)।’
আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, এটা কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সবাই বলছে—এটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন (অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন) হয়েছে। এবং এটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন হয়েছে বলেই আজকে এটা একসেপ্টেবল টু অল (গ্রহণযোগ্য) হয়েছে, সকলের কাছে।’
আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কী হবে, প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা আমরা রাজনৈতিকভাবে পরে আপনাদের জানাব। আমাদের সরকারের আলোচনার পরে জানাব।
অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন নেই। কারণ তারা একটা বিশেষ মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়েছে। সেই সময়, আমি মনে করি, আমার দলও মনে করে, যতটুকু প্রয়োজন ছিল, তারা সেই কাজের সিংহভাগ করতে পেরেছে। মূল সমস্যাটা কী ছিল? ট্রানজিশন টু ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্রে রূপান্তর)। সেটা তো তারা করে দিয়ে গেছে। সুতরাং ইউ মাস্ট গিভ ক্রেডিট টু দেম (তাদের সেই কৃতিত্ব), দিতেই হবে। তারা অনেক ভালো কাজ করেছে।
১৮ দিন আগে
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেরিয়ে মন্ত্রিসভায় কায়কোবাদ
যাবজ্জীবনের কারাদণ্ড পেরিয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ছয়বারের এই সংসদ সদস্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় তার নির্বাচনি এলাকা কুমিল্লা-৩ আসনসহ (মুরাদনগর) জেলাজুড়ে খুশির আমেজ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেনেড হামলা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ পান কায়কোবাদ। সাজাভোগ এড়াতে এক যুগেরও বেশি সময় তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি দেশে ফেরেন। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি।
তার ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, কায়কোবাদ মুরাদনগরে মাটি ও মানুষের নেতা। তিনি মুরাদনগরবাসীর নিকট ‘দাদা ভাই’ হিসেবে পরিচিত। তাকে ধর্মমন্ত্রী করায় উপজেলায় খুশির জোয়ার বইছে। সদর থেকে গ্রাম পর্যন্ত চলছে গণহারে মিষ্টি বিতরণ।
উল্লেখ্য, কায়কোবাদ ৫০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন। তিনি ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
এর আগে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য ছিলেন কায়কোবাদ। ১৯৮৬ সালে সংসদে হুইপের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর ১৯৮৮ সালে তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার পেলেন পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা।
১৮ দিন আগে
জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা
সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে আবারও স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তারেক রহমান।
এ সময় তিন বাহিনীর একটি সুশৃঙ্খল চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে; বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।
পরে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে সংরক্ষিত দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি পারিজাতের চারাও রোপণ করেন।
১৮ দিন আগে