বিএনপি
স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রহরী হিসেবে কাজ করছে সরকার: রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান সরকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রহরী হিসেবে কাজ করছে, গণতন্ত্রের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কাজ করছে। তাই, এই সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত আছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, অনেক রক্ত, আত্মত্যাগ ও ব্যাপক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই সরকার স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রহরী হিসেবে কাজ করছে এবং গণতন্ত্রের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কাজ করছে। সুতরাং এই সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত আছে। পরাজিত শক্তিরা নানা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করতে পারে, ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে। সেটা যাতে করতে না পারে, সেই কারণে আমরা আগে থেকেই সবাইকে সচেতন করছি এবং আমাদের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যাতে একেবারে পাহারাদারের মতো কাজ করেন। তাদের বলা হয়েছে, হিন্দু ধর্মের ভাইবোনদের সঙ্গে তারা যেন একযোগে দুর্গাপূজায় প্রহরীর কাজ করেন। শুধু এবারেই নয়, আমরা গত দুর্গাপূজা, তার আগের দুর্গাপূজাসহ সমস্ত পূজাতে একইভাবে দলের নেতাকর্মীদের এই নির্দেশ দিয়েছিলাম। প্রত্যেকেই বিভিন্ন পূজা মন্ডপে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং সেখানে বক্তব্য দিয়েছি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের পূজাপার্বণে আমরা দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের পাশে থাকার, তাদের নিরাপত্তাবিধানের জন্য যে কাজগুলো করেছি, এবারও তাদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা এবং উল্টো রথের এই আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একইভাবে তাদের পাশে থাকবে।
তবে এটি নিয়ে কেউ যাতে আবার কোনো রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়েও দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ অন্যান্য যে সমস্ত নৃগোষ্ঠীরা আছেন, সবাই এখন ঐক্যবদ্ধ। বিভিন্ন সময়ে এই জাতির মধ্যে বিভাজন-বিভক্তি কারা করত, এটা তারা বুঝে গেছেন। গত নির্বাচনে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, কোনো ধরনের অপশক্তি আর আমাদের ঐক্য ভাঙতে পারবে না।
দেশের অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রীর নিরলস প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে বিএনপির এ শীর্ষ নেতা বলেন, সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। বর্ষায় পানি সংরক্ষণ এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও মৎস্যচাষের সুবিধা নিশ্চিত করতে খাল খননের বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি দিনরাত দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন। এ অগ্রযাত্রায় কোনো অপশক্তি বা এজেন্ট যেন উস্কানি দিয়ে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য জনগণ এবং বিএনপিসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, কর্মসূচির অগ্রগতির বিষয়ে যদি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সঠিক তথ্য না দেন, তাহলে সরকার যতই চেষ্টা করুক না কেন, কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। মাঠপর্যায়ে গতিশীলতা বজায় রাখা এবং কর্মকর্তারা যেন কোনো প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারের কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেন, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিকে একটি মহৎ ও মানবিক উদ্যোগ উল্লেখ করে এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, প্রায় ১৫০টি উপজেলায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিফিন সরবরাহ করা হচ্ছে। এটি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
তবে যেসব এলাকায় স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, সেসব এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল ইসলাম এবং ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ অন্যান্য নেতারা।
১০ ঘণ্টা আগে
পাঁচ মাস পর খুলনার বিএনপি নেতা কচির মরদেহ উত্তোলন
খুলনা আলিয়া কামিল মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মহিবুজ্জামান কচি (৬৩) নিহতের ঘটনায় করা হত্যা মামলা নতুন মোড় নিয়েছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এবার কচির মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পাঁচ মাস পর আদালতের নির্দেশে সোমবার (৬ জুলাই) মহানগরীর টুটপাড়া কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশ দেন।
খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে জারি করা আদেশ অনুযায়ী, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সাকিবের উপস্থিতিতে দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ উত্তোলনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
মরদেহ উত্তোলনের সময় টুটপাড়া কবরস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি দেখা যায়। পরে মরদেহ পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন খুলনা সদর উপজেলার আলিয়া কামিল মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে কচির মৃত্যু হয়। তিনি খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটগ্রহণ শুরুর পর কেন্দ্রের ভেতরে পুকুরপাড় এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি ভোটারদের একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছিলেন। এর প্রতিবাদ করলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কচির ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে মাদরাসার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহিম সরদার তার গলা চেপে ধরে ধাক্কা দিলে তিনি গাছের সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তৎকালীন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, হামলার কারণেই কচির মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, কচি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শরীরে বড় ধরনের দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়। কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যরাও বড় ধরনের সংঘর্ষ বা হাতাহাতির ঘটনা তাদের নজরে না আসার কথা জানিয়েছিলেন।
নিহতের পরিবার শোকাহত থাকায় ঘটনার কিছুদিন পর খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ হারুন মজনু খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দায়ের করা ওই মামলায় আব্দুর রহিম সরদারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেন।
সোমবার মরদেহ উত্তোলনের সময় মামলার বাদী ইউসুফ হারুন মজনু বলেন, নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে গিয়ে তিনি হট্টগোল দেখতে পান। তার দাবি, কচির ওপর হামলা হয়েছিল এবং পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্যই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে জানান তিনি।
মজনু বলেন, মহিবুজ্জামান কচি খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ছিলেন। আমরা চাই, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কচির মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। এক পক্ষ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করলেও অন্য পক্ষ হৃদরোগে স্বাভাবিক মৃত্যুর কথা বলে আসছে। এ অবস্থায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং তদন্তকে আরও নির্ভরযোগ্য করতে পিবিআই মরদেহ উত্তোলনের আবেদন করেছে।
৩ দিন আগে
১৮ বছর নির্যাতনের পর অস্থিরতা স্বাভাবিক, ধৈর্য ধরুন: নেতাকর্মীদের দুদু
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্দোলন–সংগ্রাম ও নির্যাতনের কারণে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা থাকতেই পারে, তবে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারকে দক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রবিবার (৫ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের উদ্যোগে অসুস্থ তিন প্রবীণ নেতা—মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং জুলাই আগস্ট আন্দোলনের আহতদের আরোগ্য কামনায় আয়োজিত এক দোয়া অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমাদের তিনজন প্রবীণ জননেতা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান এবং ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন। তাদের আরোগ্য লাভের জন্য আপনারা আজকের দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে শরিক হয়েছি। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, বিএনপির ছোট, বড় নেতাকর্মীরা ১৮ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের প্রাপ্তির খাতা ছিল শূন্য। শুধু নেতাকর্মীরাই নন, তাদের পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাদের চাকরি পাওয়ার কথা ছিল, শেখ হাসিনার আমলে তারা সেই সুযোগ পাননি। এ কারণে একধরনের অস্থিরতা থাকতেই পারে। তবে নেতা কর্মীদের ধৈর্য ধরতে হবে।
দুদু বলেন, শেখ হাসিনার আমলে যারা অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, বর্তমান সরকার তাদের বিষয়ে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। তার দাবি, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শহিদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার। তার মধ্যে কোনো প্রতিহিংসা নেই। অথচ এই পরিবারই সবচেয়ে বেশি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে।’
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি সেই নেতৃত্ব অর্জন করেছিলেন। একইভাবে ১৮ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেছেন।
কৃষক দলের সাবেক এই আহ্বায়ক বলেন, অনেকে অনেক ধরনের জনপ্রিয়তার দাবি করেন। আমি কাউকে ছোট করছি না। কিন্তু দেশবাসী গণ–অভ্যুত্থানের প্রধান শক্তি হিসেবে বিএনপিকেই গ্রহণ করেছে। কারণ, ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা বিএনপিকেই ভোট দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এক ১১ এর নির্যাতনে তারেক রহমান নিহতও হতে পারতেন, তবে আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন। আর বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, এমনকি চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ এমন একটি হিংস্র নেতৃত্বের অধীনে ছিল। সেই বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তরিত করতে হবে।
সরকারকে দক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দুদু বলেন, একটি মহল বিভিন্ন স্থানের ছোটখাটো ঘটনাকে বড় ঘটনায় রূপ দিতে চায়। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আমাদের নেতা মির্জা আব্বাস চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন। নজরুল ইসলাম খান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রয়েছেন প্রবীণ নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। তাদের লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। আমরা তাদের প্রতি সম্মান জানাব, আল্লাহর কাছে দোয়া করব। কারণ, তারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন মানুষের জন্য, দেশের জন্য এবং গণতন্ত্রের জন্য।
তিনি বলেন, আজকের দোয়া অনুষ্ঠানে সবাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন, যেন এই তিন নেতা দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মানুষের সেবায় ও দলের কর্মকাণ্ডে ফিরে আসতে পারেন।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সালাউদ্দিন খান পিপিএমের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, কৃষকদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
৪ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাসের শারীরিক খোঁজ নিলেন আলাল
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা–৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক খোঁজ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
শনিবার (৪ জুলাই) মালয়েশিয়ায় আলাল ও তার সহধর্মিণী মির্জা আব্বাসের সঙ্গে দেখা করেন।
সাক্ষাৎ শেষে আলাল বলেন, মির্জা আব্বাস বর্তমানে আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
মির্জা আব্বাস তার দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য দলের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
৫ দিন আগে
ঋণখেলাপি হওয়ায় শপথ নিতে পারবেন না বিএনপির আসলাম চৌধুরী: আপিল বিভাগ
ঋণখেলাপি হওয়ায় চট্টগ্রাম-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে তার ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে, গত ১৫ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন।
আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মো. ফারুক।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানিতে অংশ নেন। ব্যাংক এশিয়া পিএলসির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম শুনানি করেন।
এর আগে, গত ২০ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা নিয়ে আপিল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালত বন্ধু) হিসেবে মতামত দিতে দুজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে মনোনয়ন দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তারা হলেন এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগী। একইসঙ্গে আসলাম চৌধুরীর আপিল আবেদন শুনানির জন্য গতকাল (সোমবার) দিন ঠিক করেছিলেন আপিল বিভাগ।
গত ৯ জুন আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে ব্যাংকটির করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়।
গত ৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।
শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ওই আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। ইসির এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করে অভিযোগকারী পক্ষ। পরে ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট শুনানি শেষে রিট আবেদন দুটি খারিজ করে দেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হাইকোর্টের আদেশে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী প্রার্থিতা ফিরে পান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরী অংশ নেন। নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও তার ফলাফল প্রকাশ উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে লিভ টু আপিল করেন জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী। সেই আবেদন গত ৩ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ।
আদেশে বলা হয়, যদি তিনি (আসলাম চৌধুরী) নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে সফল হন তবে সংশ্লিষ্ট আসনে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশসহ এ সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
লিভ টু আপিল মঞ্জুর হওয়ার পর জামায়াতের প্রার্থী গত ৩১ মার্চ পৃথক আপিল আবেদন করেন। এরপর ২৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ঠিক করে পাঠান। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার আবেদনটি শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের কার্যতালিকায় উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি হয়।
এদিকে, চট্টগ্রাম ৪ আসনে আবার নির্বাচন হলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থি হতে বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
৯ দিন আগে
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং না হলে ১০৮টি আসন পেত জামায়াত: গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেছেন, বিএনপি ও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর কারণে জামায়াত ভোটে প্রত্যাশিত ফল পায়নি। এ ধরনের প্রভাব না থাকলে দলটি ১০৮টি আসন পেত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের’ দাবিতে আয়োজিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে আয়োজিত এ সমাবেশের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য, ময়মনসিংহ বিভাগ।
সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে মিলে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের হারিয়েছে। তা না হলে আমরা ১০৮টি আসন নিয়ে সংসদে যেতাম। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, রাজনৈতিক সংঘাত, দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বার্থে আমরা নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি।
তিনি বলেন, আজ গণভোটের রায় কার্যকর না করলে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চলবে। যদি বিএনপি সেই বিপদজনক পথে হাঁটে এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ৭০ ভাগ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করে, তাহলে যে পথে শেখ হাসিনা গেছেন, সেই পথেই তারেক রহমান যাবেন।
এ সময় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকুন। আমরা মানুষের অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরব ইনশাল্লাহ।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেন, কৃষক কার্ড আর ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে দেশের ৭০ ভাগ মানুষের ভোটের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চাইলে যে পথে শেখ হাসিনা গেছেন, সেই পথেই তারেক রহমান যাবেন।
তিনি বলেন, গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। আমরা তার শান্তিপূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। বর্তমান সরকার যদি তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, আর যদি বিএনপি ও তারেক রহমান পাকিস্তানি স্বৈরশাসক ও ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার মতো জনগণের ভোটাধিকার হরণের পথে হাঁটে, তাহলে তাদেরও ভিন্ন পরিণতি হবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঞা বলেন, দেশ পরিচালনায় বিএনপি বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। গণহত্যার বিষয়ে তাদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। তেল, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি চীন ও মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে দেশের জন্য কী নিয়ে এসেছেন, তা দেশের মানুষকে জানাতে পারছেন না।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১১ দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
১২ দিন আগে
সাভারে এনসিপির দুই শতাধিক নেতা-কর্মীর বিএনপিতে যোগদান
সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুবশক্তির ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক সেজুতি হোসাইনসহ দুই শতাধিক নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর হাতে ফুল দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন।
সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর বাসভবনে এ উপলক্ষে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় ডা. সালাউদ্দিন বাবু বিএনপিতে যোগ দেওয়া সেজুতি হোসাইন ও এনসিপির নেতাকর্মীদের স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। জুলাই যোদ্ধারা এ দলে যোগ দিতে চাইলে তাদের স্বাগত জানানো হবে।
বিএনপিতে যোগদান শেষে সেজুতি হোসাইন বলেন, দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলের হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি সমাজ উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবর্ধনা সভায় এনসিপি থেকে যোগদান করা নেত্রী হেলেন জাহান রিফা ও সুজন আহমেদ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা দেওয়ান মইন উদ্দিন বিপ্লব, সাভার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বদীর, পৌর বিএনপির সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ প্রদীপ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা।
১৩ দিন আগে
আইসিএপিপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন ইসমাইল জবিউল্লাহ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ (আইসিএপিপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
সোমবার (২২ জুন) আইসিএপিপির মহাসচিব এক ই-মেইল বার্তায় এ তথ্য জানান।
এর আগে, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের পক্ষ থেকে আইসিএপিপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নাম প্রস্তাব করেন।
আগামী ২৫ থেকে ২৮ জুন মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটরে অনুষ্ঠিতব্য আইসিএপিপির ৪৫তম স্থায়ী কমিটির সভায় মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল দলের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন।
সভায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক সহযোগিতা, রাজনৈতিক সংলাপ, গণতন্ত্র, সুশাসন, উন্নয়ন এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় করবেন।
এর আগে, ২০০৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আইসিএপিপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর এ মনোনয়নকে বিএনপির আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিএনপির কূটনৈতিক সফলতা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি মাপকাঠি হিসেবেও এ মনোনয়নকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ, সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক সংলাপে অংশগ্রহণের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আইসিএপিপি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম। এর লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ, সহযোগিতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থা বৃদ্ধি করা এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখা।
১৭ দিন আগে
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে যুবদলকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান ফখরুলের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার লক্ষ্য ও ভিশন বাস্তবায়নে যুবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নিয়ে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় সারা দেশ থেকে আগত যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়নে দেশের তরুণ সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। যুবদল সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি কার্যকর শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে তরুণদের হাত ধরেই। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথ অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।
এর আগে, আজ সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘রোডম্যাপ অন ট্রেড গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি কনফারেন্স’-এ বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
২৬ দিন আগে
মাত্র সাড়ে তিন বছরে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে নতুন রূপ দিয়েছিলেন: মঈন খান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, মাত্র সাড়ে তিন বছরের রাষ্ট্র পরিচালনায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে নতুন রূপ দিয়েছিলেন, যা পরবর্তী ৪৫ বছরেও অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত ‘রাষ্ট্র বিনির্মাণে মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান যে স্বাধীনতার ঘোষণাটি দিয়েছিলেন এটি কি তাৎক্ষণিক ছিল? নাকি এই চিন্তাধারা যার মনে অনেক আগে থেকেই ছিল?
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়ে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ও চিন্তাধারা নিয়ে ইতিহাসভিত্তিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি, যা দীর্ঘদিনের একটি ঘাটতি। এ বিষয়ে সরকার শিগগিরই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মঈন খান বলেন, জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার সময়কাল ছিল স্বল্প, তবে ওই সময়েই তিনি দেশের প্রশাসন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, পরবর্তী ৪৫ বছরে কেন সেই অর্জন পুনরাবৃত্তি করা সম্ভব হয়নি?
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ইতিহাসের অংশ। করাচিতে অবস্থানকালেও তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনগণের বঞ্চনা নিয়ে আলোচনা করতেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ১৯৭৫ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পান এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রশাসনিক দক্ষতা ও অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দেশকে অগ্রগতির পথে নিতে ভূমিকা রাখেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছিল।
মঈন খান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা, সততা ও দেশপ্রেম, এই তিনটি বিষয়কে জিয়াউর রহমানের মূল আদর্শ হিসেবে দেখা হয় এবং এগুলোর বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন অনুষ্ঠান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত।
৩২ দিন আগে