বিএনপি
গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন স্থাপনে সরকার সর্বোচ্চ মানদণ্ড দেখিয়েছে: মাহ্দী আমিন
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ মানদণ্ড দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, এই সময়ে কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি এবং সরকারের ধৈর্য ও সহনশীলতার কারণে দেশে মতপ্রকাশের সুযোগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সরকারের গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন দেখেছি; যেখানে একটি বারের জন্য কখনো কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি। আমরা দেখছি সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা, অনেক সময় অনেকে সেই সীমা লঙ্ঘন করেছে। আমরা দেখেছি কীভাবে উস্কানি দেওয়া হয়েছে, অশোভন আচরণ করা হয়েছে, কিন্তু তারপরও সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য এবং সহনশীলতার মাধ্যমে ঠিক যেভাবে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটিকে ধারণ করেই এগিয়ে চলেছে জনগণের সরকার।’
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর জনগণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী ও দলকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়া সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতাকে ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন, ২০১৮ সালের নিশিরাতের নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের ডামি ভোটের নির্বাচন পেরিয়ে এই প্রথমবারের মতোই জনগণ নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে, নিজেদের পছন্দের দলকে ভোট দিতে পেরেছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, খালেদা জিয়ার জানাজা ও নির্বাচনি প্রচারণায় জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও সমর্থনের প্রতিফলন এসব ঘটনাতেও দেখা গেছে। গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতেও একই ধরনের জনসম্পৃক্ততা দেখা গেছে বলে তিনি জানান।
১ দিন আগে
ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে। দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় থাকা এই কমিটি যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণা হতে পারে।
এরই মধ্যে ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বিদায়ী বার্তা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ‘রাকিব-নাছির’ কমিটির অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন নেতৃত্বের আগমনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বিএনপির সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান ইতোমধ্যে ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতার কাছ থেকে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে মতামত নিয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তাদের মতামতসহ বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করে নতুন কমিটি চূড়ান্ত করবেন তিনি।
গেল বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছাত্রদলের বিদায়ী কমিটির শীর্ষ পাঁচ নেতার সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান অংশ নেন।
বৈঠকে বিদায়ী নেতাদের বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগের প্রশংসা করে নিয়ম অনুযায়ী নতুন প্রজন্মের হাতে ছাত্রদলের নেতৃত্ব হস্তান্তরের বার্তা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা ইউএনবিকে বলেন, বিগত বৈষম্যবিরোধী ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের অবদান এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারত্ব বজায় রাখার বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান আলোচনা করেছেন।
বৈঠকে বিদায়ী নেতাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে তোমরা অসামান্য আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছ। রাজপথের এই লড়াই ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে নিয়ম অনুযায়ী এখন ছাত্রদলে তোমাদের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়েছে। এখন সময় এসেছে নতুনদের সুযোগ করে দেওয়ার এবং তোমাদের মূল দলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার।’
গোপন ব্যালটে নতুন নেতৃত্বের মতামত
বৈঠকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে মতামত নেওয়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নেতা বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমাদের কাছে নতুন নেতৃত্বের পছন্দের তালিকা চেয়েছেন। গোপন ব্যালটে আমরা তা উনাকে জানিয়েছি। তিনি তা গ্রহণ করেছেন। এগুলোসহ সবকিছু যাচাই-বাছাই করে যেকোনো মুহূর্তে তিনি ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করতে পারেন।’
ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক হিসেবে তারেক রহমানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছে বর্তমান ‘রাকিব-নাছির’ নেতৃত্ব। ফলে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদায়ী বার্তা রাকিব-নাছিরের
তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তাদের পোস্টে বর্তমান নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ হওয়ার বিষয়টি কার্যত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পোস্টে রাকিব লিখেছেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ছাত্রদলে আমাদের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়েছে—এখন সময় এসেছে নতুনদের সুযোগ করে দেওয়ার এবং মূল দলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার।’
তিনি বলেন, অত্যন্ত সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দায়িত্ব পালনের সময়ে নিজের ভুলত্রুটির কথাও তিনি স্বীকার করেন। একইসঙ্গে ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে, নাছির উদ্দীন নাছির তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আজ শেষ দিন। একটি দীর্ঘ, কঠিন, ঘটনাবহুল এবং একই সঙ্গে গৌরবের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে।’
তিনি লেখেন, ‘বিদায়ের এই মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই চোখের সামনে ভেসে উঠছে অসংখ্য স্মৃতি—সংগ্রাম, সাফল্য, ব্যর্থতা, আনন্দ, বেদনা এবং সবচেয়ে বেশি করে আমার সহযোদ্ধাদের ভালোবাসা।’
২০২৪ সালের ১ মার্চ দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের সময়ের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় ছিল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বলে উল্লেখ করেন নাছির। ওই সময়ে নেতাকর্মীদের রাজপথে সক্রিয় রাখা, তাদের সাহস জোগানো এবং সংগঠনের প্রতিটি স্তরকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
‘আজ বিদায় নিচ্ছি একটি দায়িত্ব থেকে। কিন্তু সম্পর্ক থেকে নয়, সংগ্রাম থেকে নয়, আদর্শ থেকে নয়। দেখা হবে অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে, অন্য কোনো দায়িত্বে, অন্য কোনো সময়ে,’ লেখেন নাছির।
পরবর্তী নেতৃত্বের হাতে ছাত্রদল আরও শক্তিশালী হবে এবং সংগঠনটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী করার লড়াইয়ে অবিচল থাকবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
কঠিন সময়ে দায়িত্বে রাকিব-নাছির
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ছাত্রদলের দায়িত্ব পান রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির। পুরো মেয়াদেই তাদের কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।
২০২৪ সালের ১ মার্চ তৎকালীন আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব পান রাকিব ও নাছির। পরে একই বছরের ১৫ জুন ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর। সেই হিসাবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিদায়ী কমিটির স্বাভাবিক মেয়াদ পূর্ণ হয়। তারপর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।
বিদায়ী কমিটির সময়ে ছাত্রদলের ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক সাংগঠনিক ইউনিটে নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনটির নেতারা জানান। একই সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজপথের কর্মসূচিতেও সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।
সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা
নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা জোরালো হওয়ার পর পদপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দলীয় আলোচনা ও সংগঠনের মাঠপর্যায়ের হিসাব-নিকাশে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি শীর্ষ পদের জন্য বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম (২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষ)। এছাড়া খোরশেদ আলম সোহেল, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, সাফি ইসলাম ও এজাজুল কবির রুয়েলের (২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষ) নামও শোনা যাচ্ছে।
সভাপতি পদে আরও আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন (২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ)।
দলীয় সূত্র জানায়, আমান উল্লাহ আমান শীর্ষ নেতৃত্বের অংশ হলেও রাজপথে ধারাবাহিক উপস্থিতি, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তা এবং তরুণ নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার কারণে নতুন কমিটিতে সভাপতি পদের অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক, সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক ও মাসুম বিল্লাহর (২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ) নাম আলোচনায় রয়েছে।
বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ আদনানের নামও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্দোলনে মাঠে সক্রিয় থাকা আদনান ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও রাজপথে ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় নেতারা জানান।
এছাড়া ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, শামীম আখতার শুভ, গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল ও তারেক হাসান মামুনের (২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ) নামও আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আজকে আমার কাছে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা আসেনি। যদি সেরকম (নতুন কমিটি) কোনো সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই আসবে।’
‘রাকিব-নাছির’ কমিটির বিদায় প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে দলের হাইকমান্ড তাদের সঙ্গে কথা বলছে। তাদের সঙ্গে কী কথা হয়েছে, কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, এটা আমি এই মুহূর্তে বলতে পারব না। আর যদি চূড়ান্ত পর্যায়ের কিছু হয়, নতুন কিছু হয়, তো সেটা নিঃসন্দেহে আমরা প্রেস রিলিজ আকারে আপনাদের বলে দেব। এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি।’
বিএনপি ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি সাধারণত রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে প্রকাশ করা হয়। ফলে নতুন ছাত্রদল কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় রয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
৩ দিন আগে
বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভীসহ চার নেতা
সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চার নেতাকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছে দলটি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দলটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্যরা হলেন: অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
বিএনপি আশা প্রকাশ করেছে, নতুন সদস্যরা তাদের মেধা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে সুচিন্তিত পরামর্শ দিয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন।
৩ দিন আগে
সচিবালয়ে বিএনপির বৈঠক নিয়ে জামায়াতের প্রশ্ন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই করতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির বৈঠক আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, সচিবালয়ের মতো নির্বাহী জায়গায় রাজনৈতিক দলের বৈঠকের ইতিহাস তাদের জানা নেই।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে, শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে—এটার অতীতের রেকর্ড আমাদের জানা নাই। এই কাজটি উনারা করছেন। তাহলে উনারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? আমার দলের মতো হলে গণতন্ত্র, না হলে স্বৈরতন্ত্র!’
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার পরও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষা ও গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে জানান হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চায় একটি নতুন ধারা তৈরি করতে চাই। তবে ১৯৯১ সালে (রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে) যদিও একটা সম্ভাবনা ছিল বিএনপির আসন কম থাকাতে। এখানে তো সেই সম্ভাবনাও নাই। বিএনপিতে আগেই নিজেদের মেজোরিটি (সংখ্যাগরিষ্ঠতা) সুনিশ্চিত কলাকৌশল করে করে নিয়েছে। সেই কারণে তাদের ‘সেফ সাইড’ আছে।
আযাদ বলেন, ‘এখানে জিতব কি হারব—এটা নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক—এটা আমরা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।’
অলি আহমদকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে এই নেতা বলেন, তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতীয়ভাবে সমালোচনা-বিতর্কের ঊর্ধ্বে। দেশের জন্য অনেক অবদান রেখে আসছেন দীর্ঘ সময় ধরে। একসময় তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। আবার আলাদা দল করেছেন। এখন আবার আমাদের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে উনি রাজনীতি করে যাচ্ছেন। জাতি এটাকে অবশ্যই ইতিবাচক দেখছে এবং আমাদের ১১ দলের সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করছে।
তবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রে একটি বাধা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য তার দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না।
বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গোপন ব্যালটে ভোটের বিধান চালু করতে পারত বলেও দাবি করেন আযাদ। তিনি বলেন, সবাই মিলে যখন একমত (জুলাই সনদ) হয়েছি একটা অধ্যাদেশ জারি করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র উচ্চ পর্যায়ে থেকে চর্চা শুরু করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা করলেন না।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত হতো এবং এমপিরা স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট দিতে পারতেন। তবে গণভোটে এটা পাস হওয়ার পরও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপির ‘একগুঁয়েমি’ ও ‘দলীয় সংকীর্ণতা’র কারণে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে না পারায় এই সংস্কার বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের এই নেতা।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের বহিষ্কৃত জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আযাদ বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অবিকলভাবে বহাল আছে ততক্ষণ সেই অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোট দিতে হবে।
আজ বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটে এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়।
মনোনয়নপত্রে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করেন এবং এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন তার প্রার্থিতা সমর্থন করেন।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, নাজিবুর রহমান মোমেন ও মারদিয়া মমতাজ; এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন ও মাহমুদা মিতু; লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।
৫ দিন আগে
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বিএনপি
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে নির্বাচন ভবনে নির্বাচনি কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।
মনোনয়নপত্রে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করেন এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তার প্রার্থিতাকে সমর্থন জানান।
এ সময় বিএনপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন অপু, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম পিন্টু প্রমুখ।
এর আগে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার হাতে দলের মনোনয়ন তুলে দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব ও দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনটিও শূন্য হয়ে যাবে। পরবর্তীতে সেখানে উপনির্বাচন আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন।
এর আগে, দুপুর ১২টার দিকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। তার মনোনয়নপত্র জমা দেন জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
অলি আহমদের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। আর সমর্থক হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ও এনসিপির নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়নে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুসারে, আজ ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন। ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্টের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে। একাধিক প্রার্থী বৈধ থাকলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ হবে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
৫ দিন আগে
বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও মহাসচিব পদ ছাড়লেন ফখরুল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটি ও মহাসচিব পদ থেকে আজ বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা শেষে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় দলের স্থায়ী কমিটি ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করেছেন।
রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন। এছাড়া কিছুক্ষণের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে দলের মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। মন্ত্রিসভা থেকেও তিনি পদত্যাগ করবেন।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সভায় তাকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির এই নেতা।
প্রার্থী ঘোষণার পরই তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন মির্জা ফখরুল।
বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে আছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আব্দুস সালাম আজাদ ও সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
আজ বিকেল চারটার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত আছে। এরপর যাচাই-বাছাই করা হবে। ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। প্রত্যাহারের পর একাধিক প্রার্থী থাকলে রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন ২০ আগস্ট সংসদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।
মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত হন। বিশেষ করে দলের দুই প্রধান নেতা খালেদা-জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে নির্বাসনের পুরোটা সময় তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন।
এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ছয়বার কারাগারে যান। বিগত সরকারের নানা নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল।
৫ দিন আগে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল
দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। সংসদে বিএনপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তিনিই হতে যাচ্ছেন ২৩তম রাষ্ট্রপ্রধান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে মির্জা ফখরুলকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সভাপতিত্বেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বৈঠকের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যের শেষদিকে তারেক রহমান এ ঘোষণা দেন।
‘তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন,’ রুমন বলেন।
তিনি জানান, বৈঠকে উপস্থিত দলীয় নেতারা দীর্ঘক্ষণ করতালির মাধ্যমে এ ঘোষণাকে স্বাগত জানান।
বৈঠক শেষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের জানান, মির্জা ফখরুল ইতোমধ্যে দলের মহাসচিব ও মন্ত্রিসভার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার মনোনয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিজ্ঞ এই বিএনপি নেতাকে নির্বাচনি দৌড়ে নিয়ে এলো।
এর আগে, বিএনপির স্থায়ী কমিটি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব তারেক রহমানকে দিয়েছিল।
৫ দিন আগে
রাষ্ট্রপতি পদে দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে বিএনপি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।
রবিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ মনোনয়ন সংগ্রহ করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি গণমাধ্যমকে বলেন, ফরম একজনের জন্য নিয়েছি, কিন্তু কোনো ধরনের ভুল ত্রুটি যেন না হয় এ জন্য দুইটা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। তবে কারও নামে সেটি সংগ্রহ করা হয়নি। তফসিল অনুযায়ী আমরা মনোনয়ন জমা দেব।
এর আগে, ২০২৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগও রাষ্ট্রপতি পদে দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিল। সদ্য পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নামে দুটো মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া হয়েছিল।
একজনের একাধিক মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে একটি বৈধ হলে বাকিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের তারিখ আগামী ২০ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ ১৩ আগস্ট সকাল ১০ টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ই আগস্ট। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৮ই আগস্ট। আর ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটকক্ষ জাতীয় সংসদকক্ষ।
এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল জামায়াত।
প্রধান নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদের অধিবেশন না থাকলে স্পিকারের পরামর্শে এক দিনের বৈঠক আহ্বান করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট ভোট হবে। শেষ পর্যন্ত একাধিক প্রার্থী থাকলে তার সাত দিন আগে এক দিনের বৈঠক আহ্বান করবেন সিইসি। তবে সেটি সংসদের নিয়মিত অধিবেশন হিসেব গণ্য হবে না।
৯ দিন আগে
শেখ হাসিনা দেশের মাটিতে পা রাখলেই ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে পা রাখা মাত্রই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। ওইখানে বসে বসে রাজনীতি করে ধমক দেয়— আমি কিন্তু আসব। আসেন না, কই আসবেন?’
সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা কোম্পানীগঞ্জে এলে জনগণ কী করবে?’ এ সময় জনতার সমর্থন পেয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি ইঞ্চি মাটিতে শেখ হাসিনা যখনই নামবে, তখনই ফাঁসির আদেশ বাস্তবায়ন করা হবে।’
বক্তব্যে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আন্দোলনে গুলিতে আবু সাঈদ, শহীদ মুগ্ধসহ ৪০০ জনের মৃত্যুর জন্য তৎকালীন সরকার দায়ী। দুই বছরের মাথায় অনেকেই আবু সাঈদকে ভুলে যেতে পারেন। আবু সাঈদের সেই রক্ত ভুলে যেতে পারেন, কিন্তু আমরা যতদিন বাংলাদেশে জীবিত আছি ততদিন ভুলব না।’
সমাবেশের আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে বিএনপিকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন, সেই অবস্থানের বিরুদ্ধে গেলে বিএনপির পতন ঘটবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট বিদ্যমান। একইসঙ্গে কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সাধারণ মানুষের পরিবর্তে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হাতে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার প্রত্যাশামতো চালু না হওয়া এবং চীন সফর থেকে কাঙ্ক্ষিত চুক্তি না আসাও সরকারের ব্যর্থতা।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তাদের দলের তিনটি প্রধান দাবি ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তবায়ন এবং আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ কারণে সংস্কারবিরোধী অবস্থান নিলে বিএনপি জনসমর্থন হারাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক উবায়েদ আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতুসহ দলটির সিলেট জেলা ও মহানগরের নেতারা।
এ সময় বক্তারা বলেন, সারাদেশে দখলবাজি, টেন্ডারবাজি আর চাঁদাবাজি করছে বিএনপির কিছু লোক। এসব অপকর্মের সঙ্গে বিএনপির ৫ শতাংশ লোক জড়িত থাকলেও দায় নিতে হচ্ছে সবার। বিএনপির হাইকমান্ড কেন এই দুষ্টু লোকদের থামাতে পারছে না? তার মানে কি এই দুষ্টু লোকদের অপকর্মের উপার্জন হাইকমান্ড পর্যন্ত পৌঁছায়? যদি তা না হয়, তাহলে এদের অপকর্ম বন্ধ করুন।
১৮ দিন আগে
এনসিপি নতুন বন্দোবস্তের কথা বলে ‘নতুন ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে: রাশেদ খান
এনসিপি বাংলাদেশে নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে আসলে ‘নতুন ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, এনসিপি বাংলাদেশে নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে আসলে ‘নতুন ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে।
তিনি বলেন, এনসিপির রাজনীতি এখন জামায়াতের পরামর্শে ও মস্তিষ্ক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জামায়াতকে একটি ‘চালাক ও ধুরন্ধর দল’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এনসিপিকে গঠনমূলক রাজনীতি করার পরামর্শ দেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চিরতরে শেষ হয়ে গেছে এবং তা দিল্লিতে দাফন হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি না যে, আওয়ামী লীগ আর কখনও দেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবে।
এ সময় এনসিপির কিছু নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিনীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্য নেতারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এমপি ও মন্ত্রীদের গালিগালাজ করছেন। রাশেদ খান সতর্ক করে বলেন, এনসিপির নেতারা যদি রাজনীতির পরিবেশ নষ্ট করেন, তাহলে তার ‘উত্তম জবাব’ এবং জামায়াত-এনসিপির সব ষড়যন্ত্রের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত আছেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং দেশটা সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে গড়ার কথা বলছেন।
এর আগে, রাশেদ খান জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এমএ মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুধীজনরা। সভায় রাশেদ খান জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দেন।
১৯ দিন আগে