সুন্দরবনের ডাকাত সুমন বাহিনী প্রধানসহ সাত ডাকাত সদস্য বাংলাদেশ উপকুল রক্ষাকারী বাহিনী—কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় ডাকাত সদস্যরা তাদের ব্যবহৃত পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি জমা দিয়েছেন।
রবিবার (১৭ মে) রাত ১১টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলাধীন সুন্দরবনের নন্দবালা খাল-সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ডের কাছে ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীসহ সাতজন ডাকাত আত্মসমর্পণ করেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে বাগেরহাটের মোংলা কোস্টগার্ড বেইজে ডাকাত সদস্যদের আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন— ডাকাত বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) এবং মাহফুজ মল্লিক (৩৪) । এদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোংলা এবং রামপাল উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায়।
এরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।
ডাকাত সদস্যদের জমা দেওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপ গান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদারসহ ডাকাত দলের সাত সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গত ১৭ মে রাত ১১টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের নন্দবালা খাল-সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
তিনি আরও জানান, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে, বাওয়ালি, মৌওয়াল ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
কোস্টগার্ডের তথ্য মতে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত কোস্টগার্ড সুন্দরবনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৬ টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৭৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ার গান গোলা ও ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করে এবং ২১ জন বনদস্যুকে আটক করে। এ সময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ২০ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে সুন্দরবনের সক্রিয় ডাকাতদের দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান হচ্ছে। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে, অন্যথায় আরও কঠোর অবস্থানে যাবে কোস্টগার্ড।