জামালপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক ঘটনায় এক স্কুলছাত্রীসহ চারজনের অপমৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে, একজনকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায়, একজনকে গাছে ঝুলন্ত এবং অপর একজনকে ট্রেনে কাটা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার পাগলাপাড়া গ্রামে পানির ট্যাংকে বিদ্যুতের সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আবু বক্কর (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, নিজ বাড়িতে পানির ট্যাংকের বৈদ্যুতিক লাইনের কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন আবু বক্কর। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, আজ সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার আইরমারী গ্রামে নিজ বাড়ির পাশের একটি কামরাঙা গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মোতালেব সরকার (৫৫) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি মৃত আবদুল হাই সরকারের ছেলে।
ওসি মকবুল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অন্যদিকে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার চাঁনপুর গ্রামে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে ঐশামনি (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রী। সে এনায়েত করিম ওরফে ইব্রাহিম মাস্টারের মেয়ে।
নারায়ণপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মকবুল হোসেন জানান, ঘটনার আগে ঐশামনি তার মাকে বলেছিল, তার লেখাপড়া ভালো লাগে না। মা তাকে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন। কিছুক্ষণ পর রান্নাঘর থেকে ফিরে এসে তিনি মেয়েকে ঘরের মধ্যে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা তাকে নামিয়ে মৃত অবস্থায় পান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর আগে, বুধবার রাতে জামালপুর রেলস্টেশনের অদূরে ট্রেনে কাটা পড়ে সুফিয়া বেগম (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। তিনি শহরের ডাকাপাড়া এলাকার আব্দুল আজিজের স্ত্রী।
স্বজনরা জানান, বুধবার মাগরিবের নামাজের পর থেকে সুফিয়া বেগম নিখোঁজ ছিলেন। পরে রেলওয়ে পুলিশের মাধ্যমে তার মরদেহ শনাক্ত করা হয়।
জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, স্থানীয় রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ভুয়াপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পরে পিবিআইয়ের সহায়তায় আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।