মরদেহ উদ্ধার
ঝিনাইদহে পাঁচ মাসে ২১ মরদেহ উদ্ধার, নেপথ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধ
ঝিনাইদহ জেলায় গত পাঁচ মাসে খুনসহ অন্তত ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার মরদেহগুলোর মধ্যে ১৩টি হত্যাকাণ্ড বলে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাকি ৮টি ঝুলন্ত বা রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা আত্মহত্যা বলে পুলিশি তদন্তে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত পাঁচ মাসে জেলায় যে ১৩টি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের বুলবুলি, পাগলাকানাই এলাকার খুশি খাতুন, মহেশপুর উপজেলার ঘোষপুর গ্রামের জোহরা আক্তার এবং কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের শিশু তাবাসসুমকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলাজুড়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের পেছনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধের চরম রূপ দেখা গেছে।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে বিরোধের জেরে দেলোয়ার নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। শৈলকুপার মাধবপুর গ্রামে সামাজিক বিরোধে নিহত হন মোহন শেখ। মহেশপুরের পলিয়ানপুর এলাকায় ইছামতি নদী থেকে আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদী ও রতিকান্ত জয়ধরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা পরে হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
এছাড়া হরিণাকুণ্ডুর কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে বিএনপি কর্মী আবুল কাশেম ও সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি নেতা তরু মুন্সিকে হত্যা করা হয়েছে। জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নীরবকে। এ ছাড়াও হরিণাকুণ্ডুর দৌলতপুর গ্রামে ভ্যানচালক জসিম এবং শৈলকুপার জয়ন্তিনগর গ্রামে কেসমত আলীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
১৩টি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ৮টি মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, এসব মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই ৮টি মৃত্যুর পেছনে আত্মহত্যার আলামত পাওয়া গেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক অবসাদই এসব আত্মহত্যার প্রধান কারণ বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঝিনাইদহের সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি সায়েদুল আলমের মতে, ঝিনাইদহে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির পেছনে মূলত রাজনৈতিক ও সামাজিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াই কাজ করছে। বিশেষ করে শৈলকুপা, হরিণাকুণ্ডু ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দলাদলি ও আধিপত্যের জেরে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। এছাড়া পারিবারিক কলহ ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে বিভিন্ন হত্যার ঘটনা ঘটছে, যার শিকার হচ্ছেন নারী ও শিশুরা।
এ বিষয়ে জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন আজ (সোমবার) দুপুরে জানান, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। দুইটি রাজনৈতিক হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার হয়েছেন, আবার অনেকেই আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। জেলায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের দমনে পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
৬ দিন আগে
নাটোরে পুকুর থেকে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ব্রহ্মপুর হাজীপাড়া এলাকার একটি পুকুর থেকে মিলন প্রাং (৪৫) নামে নিখোঁজ এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৯ মে) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মপুর হাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিলন প্রাং গত বুধবার (২৭ মে) বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি।
পরদিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে বাড়ির পাশের কালামের পুকুরপাড়ে তার ব্যবহৃত জামা ও জুতা পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজন সেগুলো বাড়িতে নিয়ে যান। আজ (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই পুকুরে একটি ভাসমান মরদেহ দেখতে পান তার স্ত্রী শাবানা খাতুন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে মিলনের মরদেহ দেখতে পান।
খবর পেয়ে নলডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানায়, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, মিলন প্রাং দীর্ঘদিন ধরে মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন এবং মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যেতেন।
তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে জানা যাবে জানিয়েছেন নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) নুরে আলম বলেছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
১৬ দিন আগে
বাড্ডায় চিপস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: দুই শ্রমিকের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর বাড্ডা থানার পূর্ব বাড্ডা কবরস্থান রোড এলাকার একটি চিপস ফ্যাক্টরি থেকে দগ্ধ অবস্থায় দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৫ মে) ভোরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতরা হলেন: মো. মোস্তফা (২১) ও মাহমুদুল হাসান (২৩)। মোস্তফা রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানার বড় কুমারপাড়া গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে। মাহমুদুল হাসান ওই থানার কাজীপাড়া গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। তারা ওই কারখানায় থাকতেন বলে জানা গেছে।
বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে আমরা ভোর ৪টার দিকে পূর্ব বাড্ডা কবরস্থান রোডে আমির হোসেনের চিপস কারখানায় পৌঁছাই। এরপর কারখানার ভেতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করি।
তিনি আরও বলেন, আশপাশের লোকজনের কাছে জানতে পারি, নিহত দুই যুবক ওই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। আগুনে দগ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
২০ দিন আগে
যশোরে বাঁশবাগান থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
যশোরের ঝিকরগাছার কীর্তিপুরে আবু হুরাইরা মিম (৩৫) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই যুবকের মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোরে বাড়ি থেকে একটু দূরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে একটি বাঁশবাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুবক ঝিকরগাছার কীর্তিপুর মোড় এলাকার মশিয়ার রহমানের ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (বুধবার) বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সারা রাত নিখোঁজ ছিলেন মিম। আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশের একটি বাঁশবাগান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এ সময় তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্ত্রী নিলা খাতুন জানান, তিনি একই গ্রামে তার বাপের বাড়িতে ছিলেন। গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। রাতে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও মিম আর সেখানে যাননি। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
তার দাবি, মিমের সঙ্গে তার কয়েকজন বন্ধুর বিরোধ ছিল। আর এই বিরোধের জের ধরেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কীর্তিপুরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশ থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
২৪ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনায় ২ জনের মরদেহ উদ্ধার
খাগড়াছড়ির রামগড়ে পৃথক ঘটনায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। অপরজনের মৃত্যুর কারণ এবং পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
সোমবার (১৮ মে) সকালে জালিয়াপাড়া-রামগড় সড়কের নাকাপা বাজার এলাকার একটি যাত্রীছাউনির সামনে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, গতকাল (রবিবার) রাতে নাকাপার চাষিনগর এলাকায় ঢাকাগামী শান্তি পরিবহনের একটি বাসের চাকা বিকট শব্দে ফেটে যায়। পরে বাসটি সড়কের এক পাশে থামিয়ে চাকা পরিবর্তনের কাজ চলছিল। এ সময় কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাসের চাকা মেরামতের সময় একইমুখী দ্রুতগতির শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহ আলম নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।
নিহত শাহ আলম খাগড়াছড়ি পৌরসভার শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি চিকিৎসা নিতে ঢাকায় যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। আহত ব্যক্তিকে রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নাকাপা পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাউছার পৃথক ঘটনায় দুটি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২৭ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ উদ্ধার
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর শওকত আলী (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) মধ্যরাতে উপজেলার পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান।
নিহত শওকত আলী শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুঁঠাপাড়া এলাকার মৃত মিজানের ছেলে ছিলেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত ৯ মে অন্যদের সঙ্গে গরু আনার জন্য ভারতের দিকে যান শওকত আলী। তবে তার সঙ্গীরা ফিরে এলেও নিখোঁজ ছিলেন তিনি। গতরাতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে গোপনে দাফনের প্রস্ততি নিলে খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
তবে স্থানীয়দের দাবি, গরু নিয়ে ফেরার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ হত্যা করে শওকতের মরদেহ নদীতে ফেলে দিয়েছে। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বিএসএফ।
ওসি মতিউর রহমান বলেন, মরদেহটি অর্ধগলিত থাকায় মৃত্যুর কারণ এখনও শনাক্ত করা যায়নি। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
গোদাগাড়ী নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জীবন রায় বলেন, মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে হাত, পা ও বুকের জখম গুরুতর। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ বলা যাবে না। ঘটনাটি তদন্তে বিজিবি কাজ করছে বলে জানান তিনি।
২৮ দিন আগে
খিলক্ষেতে বাসা থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন লেকসিটি এলাকার একটি বাসা থেকে ফারুক কবির বাদল (৬০) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৩ মে) মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতলে মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত ফারুক কবির মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার টিভি মালদা এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের সন্তান ছিলেন। বর্তমানে খিলক্ষেত লেকসিটি সুরভী ভবনে কনকর্ড ফ্লাট-১৫ নম্বর বাসায় তিনি একাই থাকতেন।
খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জীবন চন্দ্র দাস জানান, আমরা খবর পেয়ে গতকাল (শনিবার) বিকেল ৪টার দিকে খিলক্ষেতে লেকসিটি সুরভী ভবনে কনকর্ড ১৫ নম্বর ফ্লাটের ড্রয়িং রুমে অর্ধগলিত অবস্থায় ফারুক কবিরের মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, আমরা জানতে পেরেছি নিহত ব্যক্তি ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। তার স্ত্রী ও এক মেয়ে আমেরিকায় থাকেন। তিনি ওই ফ্ল্যাটে একা একাই রান্নাবান্না করে খেতেন। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বার্ধক্যজনিত কারণেই কয়েকদিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। এই কারণে তার মরদেহ পচন ধরেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
৪২ দিন আগে
কলাপাড়ায় পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মেহেরুন্নেছা উর্মি (২৮) নামের এক নারী পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২ মে) ভোরে টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের একটি ভাড়া বাসার তিন তলার কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত উর্মি বাউফল উপজেলার ইন্দ্রপুর গ্রামের বহিষ্কৃত পুলিশ সদস্য মহিববুর রহমান বাপ্পীর স্ত্রী ছিলেন। তিনি পার্শ্ববর্তী আমতলী পৌর শহরের শাহজাহান মিয়ার কন্যা এবং কলাপাড়া থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে স্বামী বাপ্পী, দেড় বছরের সন্তান ফারদিন ও চার বছরের সন্তান ফারিস্তাকে নিয়ে আমিরুল ইসলামের পাঁচতলা ভবনের তিন তলার বাসাটি ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন উর্মি। পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।
গতকাল (১ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বাপ্পী থানায় খবর দিয়ে জানান, তার স্ত্রী ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরে পুলিশ ভোরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, মানসিক সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ওই পুলিশ সদস্যের স্বামী ও দুই সন্তানকে থানায় আনা হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
৪৪ দিন আগে
গাজীপুরে বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার
গাজীপুরে রেললাইনের পাশ থেকে বাবা সোহেল হোসেনের এবং ঘর থেকে ছেলে সাকিবুল হাসান সোহেবের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় সোহেল হোসেনের বড় ছেলে সোহানকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে নগরের টঙ্গীর বনমালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহেল হোসেন টঙ্গীর বনমালার বাসায় তার বড় ছেলে সোহান ও ছোট ছেলে সাকিবুল হাসান সোহেবকে নিয়ে থাকতেন।
স্থানীয়রা জানান, টঙ্গীর বনমালা এলাকায় ঘরের ভেতর ছোট ছেলে সাকিবুল হাসান সোহেব ও রেলের পাশে বাবা সোহেল হোসেনের মরদেহ দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, নিজ ঘর থেকে সাকিব হোসেনের এবং রেললাইন থেকে তার বাবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করছে পুলিশ। সোহেল হোসেনের বড় ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৪৯ দিন আগে
ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার; চিরকুটে শিক্ষকের নাম, হেফাজতে ২
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে এক শিক্ষক ও এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড্ডা থানা পুলিশ উত্তর বাড্ডা পূর্বাচল উদয়ন ম্যানশন ১০ নম্বর লেনের ৫৯০ নম্বর বাড়ির নবম তলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের নাম মুনিরা মাহজাবিন মিমো (২৬)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাদারীপুর জেলার শিবচর থানা ডাইয়ারচর গ্রামের মো. গোলাম মোস্তফার মেয়ে ছিলেন তিনি।
তিনি নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
বাড্ডা থানা উপপরিদর্শক (এসআই) মোছা. ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা বলেন, আমরা খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তর বাড্ডার ওই বাসার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সবার অজান্তে নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে জানিয়ে পরিবারের লোকজন থানায় ফোন দিলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করি।
নিহতের মা তাহামিনা আক্তার জানান, জানতে পেরেছি যে আমার মেয়ের মরদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। ওই নোটে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভাল থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া।’
নিহত শিক্ষার্থীর সুইসাইড নোটে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তী এবং এক ঘনিষ্ঠ সহপাঠীর নাম উল্লেখ থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ আজ দুপুরে ইউএনবিকে জানান, মিমোর মরদেহ বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। একটি চিরকুটে তিনি একজন শিক্ষক ও একজন সহপাঠীর নাম উল্লেখ করেছেন।
ত্রিকোণ প্রেমের জটিলতায় মেয়েটি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে নিজের ধারণার কথা জানান এ শিক্ষক।
৪৯ দিন আগে