মরদেহ উদ্ধার
গাজীপুরে এক দিনে পাঁচ মরদেহ উদ্ধার
গাজীপুরে এক দিনে পৃথক ঘটনায় পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে কাপাসিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নিলয় সরকার নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। কালিয়াকৈরে জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ।
এছাড়া নিখোঁজের পর কাপাসিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে পাঁচ বছরের শিশু এবং কালিয়াকৈরে বংশাই নদী থেকে ছয় বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিন মৌচাক রেলস্টেশন এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক বাক্প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে কাপাসিয়া ও কালিয়াকৈর উপজেলার পৃথক স্থান থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পৃথক ঘটনাগুলো ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রতিটি ঘটনার পৃথক তদন্ত করছে।
ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
কাপাসিয়ার পাবুর দক্ষিণপাড়া বলখেলা বাজার এলাকায় গরুর ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাই রাসেলের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে নিলয় সরকারকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
নিহত নিলয় ওই এলাকার মনির সরকারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাজারে ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে নিলয় ও রাসেলের মধ্যে বিরোধ হয়। পরে নিলয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাসেল তার ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুর রশিদ এতিমখানার পাশে পাকা সড়কে পৌঁছালে রাসেল ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিলয়ের মাথায় কোপ দেন। গুরুতর আহত হয়ে নিলয় সড়কে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবক নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত রাসেল পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
জঙ্গলে ঝুলছিল অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ
আজ দুপুরে কালিয়াকৈর উপজেলার গলাচিপা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জঙ্গলের ভেতরে একটি গাছের সঙ্গে মরদেহটি ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
কালিয়াকৈর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নিখোঁজের তিন দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
কাপাসিয়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে পাঁচ বছরের শিশু জাহিদ হাসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে ব্রহ্মপুত্র নদের একটি ঘাটে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
জাহিদ হাসান কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের খিরাটি গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে ছিল।
বংশাই নদীতে শিশুর মরদেহ
কালিয়াকৈরে বংশাই নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ছয় বছরের শিশু সাথী আক্তারের মরদেহ ভেসে উঠেছে।
গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড়ইতলী এলাকায় নদীতে ডুবে নিখোঁজ হয় সাথী। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বিকেল ৫টা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান পায়নি। পরে আজ শনিবার সকালে নদীতে মরদেহ ভেসে ওঠে।
কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, শুক্রবার দিনভর তল্লাশি চালিয়েও শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। আজ সকালে মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান।
ট্রেনে কাটা পড়ে যুবক নিহত
এদিকে, গাজীপুরের মৌচাক রেলস্টেশন এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে আবু বকর নামে এক বাক্প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে জয়দেবপুর-ঢাকা রেলসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক আহমেদ জানান, নিহতের বাড়ি রেলস্টেশন এলাকায়। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেছেন।
৫ দিন আগে
কক্সবাজারে ট্রলারডুবিতে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের নাজিরারটেক পয়েন্টে বিদেশি পর্যটকবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ নিউজিল্যান্ডের নাগরিক আলবার্ট জংয়ের মরদেহ একদিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার পরিবারের আরও তিন সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে সমিতিপাড়া সমুদ্র উপকূলে একটি মরদেহ ভেসে আসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় পরিবারের চার সদস্যই পানিতে পড়ে যান। তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আলবার্ট জং নিখোঁজ ছিলেন। পরে আজ বুধবার বিকেলে তার মরদেহ ভেসে আসে।
উদ্ধার হওয়া এডওয়ার্ড, তার স্ত্রী বেলা এবং ১৩ বছর বয়সী ছেলে রালফ বর্তমানে কোস্টগার্ডের হেফাজতে রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান।
গতকাল সকালে নাজিরারটেক-সোনাদিয়া মোহনা এলাকায় প্রচণ্ড ঢেউয়ের ধাক্কায় তাদের বহনকারী নৌকাটি ডুবে যায়। নিখোঁজ আলবার্টকে উদ্ধারে ওই দিন রাতে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ড সমুদ্রে অভিযান চালায়। পরে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ শাপলা ও একটি দ্রুতগামী বোটও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।
নিউজিল্যান্ড থেকে আসা পর্যটক পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে। কক্সবাজার জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা জানান, তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় সম্প্রতি তারা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।
৮ দিন আগে
শেরপুরে নিখোঁজের পর পুকুর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে নিখোঁজের সাড়ে ১৪ ঘণ্টা পর একটি পুকুর থেকে ভেসে ওঠা দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের মধ্য নাকশী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো: ওই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে রোহান মিয়া (৭) ও এবাদুল ইসলামের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (রবিবার) দুপুর ১২টার দিকে শিশু দুটি বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাত আড়াইটার দিকে স্থানীয় একটি পুকুরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাসীর সহযোগিতায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করেন।
স্থানীয় একটি সূত্রে জানা যায়, শিশু রোহান ও ইসমাইলের মাছ ধরার শখ ছিল। তবে সাঁতার ভালোভাবে না জানলেও মাঝেমধ্যে তারা জলাশয়ে মাছ ধরতে নামত।
মাছ ধরতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলামান রয়েছে।
১১ দিন আগে
ইয়াবা সেবন দেখে ফেলা ও বাধা দেওয়ায় শিক্ষক পরিবারের চারজনকে খুন: পুলিশ
রাতের নীরবতা ভেঙে ছাদে শব্দ। শব্দ শুনে দেখতে গিয়েছিলেন সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী। ছাদে গিয়ে দেখলেন, পরিচিত দুই তরুণ ইয়াবা সেবন করছে। বাধা দিয়েছিলেন তিনি। এরপর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একে একে নিভে যায় একটি পরিবারের চারটি প্রাণপ্রদীপ।
পুলিশ বলছে, নিজেদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ১২ বছরের শিশুসন্তানকে হত্যা করে দুই তরুণ। পরে লুটের নাটক সাজিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে ভোলা, মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী আগামী (২৫) এবং জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুশকে হত্যার ঘটনায় দুই তরুণকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। আজ রবিবার ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন: মাছুয়াপাড়ার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই। মুগ্ধ নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন, আর সিদ্ধার্থ পিকে পাল জুয়েলার্সে প্রায় আট বছর ধরে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে ছাদে যান গণপতি। তাদের বাধা দিলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
গণপতির চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতেই তাকে হত্যা করা হয়। এরপর মেয়েকে এবং সর্বশেষ ১২ বছরের শিশু প্রিয়মকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রিয়ম আসামিদের চিনত। সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তাকেও হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যার পরও ওই বাড়িতেই ছিলেন দুজন। তারা গোসল করেন, খেজুর খান এবং ইয়াবা সেবন করেন। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। যাওয়ার আগে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির ঘটনা বলে তদন্তকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ কমিশনার আরও জানান, ঘরে পাওয়া একটি স্বর্ণের চুড়ি আগুনে পরীক্ষা করার আলামত থেকেই তদন্তে নতুন সূত্র মেলে। পরে সিদ্ধার্থের স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞতার বিষয়টি সামনে আসে। লুট করা স্বর্ণালংকার তাদের দেখানো মতে একটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া বাড়ির দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, আলামত নষ্ট করতেই এমনটি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামত, খেজুরের বিচি ও কামড় দেওয়া শসাও উদ্ধার করা হয়েছে। খেজুরের বিচি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ‘হত্যার আগে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নগরের একটি বাসায় ইয়াবা সেবন করেছিল। পরে মাছুয়াপাড়ায় এসে আবার ইয়াবা সেবন করে। পুলিশ ইয়াবা সরবরাহকারী হিসেবে খুশি ওরফে প্রশান্তর নামও পেয়েছে। তদন্তে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।’
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশ বলছে, দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
১২ দিন আগে
রংপুরে এক পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার, ডাকাতি করতে গিয়ে হত্যা সন্দেহ পুলিশের
চারজনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ। বাড়িতে সাড়া নেই, ভেতর থেকে আসছিল পচা দুর্গন্ধ। স্বজনেরা খুঁজতে এসে প্রাচীর টপকে বাড়িতে ঢুকে দেখেন, ঘরে, চিলেকোঠা ও ছাদে পড়ে আছে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ। পুলিশের ধারণা, তিন-চার দিন আগে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া মন্দির এলাকায় একটি বাড়ি থেকে শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন: রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)।
পুলিশ বলছে, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির বিভিন্ন কক্ষের জিনিসপত্র এলোমেলো এবং টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙাচোরা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
গণপতি চক্রবর্তী শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর নিজ বাড়িতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী রংপুরের কারমাইকেল কলেজে স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তাদের গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে।
পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবারের কাউকে মোবাইল ফোনে কল করে না পেয়ে স্বজনদের সন্দেহ হয়। তারা বাড়িতে এসে প্রধান দরজা বন্ধ পান। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পাশের বাড়ির প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢোকেন। পরে ঘরের জানালা খুলে ভেতরে সবকিছু এলোমেলো ও দুর্গন্ধ দেখতে পান। একপর্যায়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
পরে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটসহ পুলিশের বিভিন্ন শাখার সদস্যরাও ঘটনাস্থলে যান।
ঘটনাস্থলে গণপতি চক্রবর্তীর ভাবি শেফালী রানী বলেন, শনিবার রাত ১০টার দিকে তারা খবর পান, বাড়ির কেউ ফোন ধরছেন না। পরে মেয়ে ও জামাইকে সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে সেখানে আসেন তিনি।
নিহত গণপতি চক্রবর্তীর শ্যালিকা পূজা রানী বলেন, শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে প্রথমে তিনি বোনকে ফোন করেন। ফোন বন্ধ পান। পরে ভাগ্নি, দুলাভাই ও ছোট ভাগ্নেকে ফোন করেও সবার ফোন বন্ধ পান। এতে তার সন্দেহ হয়। এরপর স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বোনের বাড়িতে যান তিনি।
মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমূল কাদের বলেন, পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাদে একজন, চিলেকোঠায় দুইজন ও ঘরে একজনের লাশ পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে বলা যাচ্ছে না কীভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে লাশ দেখে ধারণা করা যাচ্ছে, তিন-চার দিন আগে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, বাড়ির যেসব স্থানে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণ রাখা হয়, সেগুলো ভাঙা এবং ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো পাওয়া গেছে। বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল। ডাকাতির ঘটনা হতে পারে—এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে তদন্ত না করে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
১২ দিন আগে
রাজধানীর পৃথক স্থানে দুই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও বাড্ডায় পৃথক বাসা থেকে দুই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতরা হলেন: অটোরিকশাচালক মো. নয়ন (৩০) এবং প্রাইভেটকারচালক মো. রবিউস সানি (৩১)।
নয়ন শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার বয়াতি কান্দি গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে কামরাঙ্গীরচরে থাকতেন।
কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াদ মাহমুদ নাহিদ জানান, আমরা খবর পেয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল পৌনে ৯টার দিকে কামরাঙ্গীরচর এলাকার হাসান নগর সিকদার স্কুল গলির একটি নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের সিঁড়ি-সংলগ্ন বাঁ পাশের একটি কক্ষ থেকে নয়নের মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা ময়নাতদন্তের ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারি, নিহত নয়ন পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। তার পাঁচ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মার্চ মাসে তার স্ত্রী তাদের একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান। নয়ন বেশ কিছুদিন ধরে আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে নানা চিন্তাভাবনায় রাতে কোনো এক সময় তিনি নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে কালো ফিতা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
অপরদিকে, উত্তর বাড্ডার স্বাধীনতা সরণির একটি ভবন থেকে রবিউস সানি (৩১) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত রবিউস সানি কুমিল্লা সদরের আদর্শ নগর এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। বর্তমানে তিনি উত্তর বাড্ডার জামতলা এলাকায় থাকতেন।
বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়ন্ত দত্ত জানান, খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উত্তর বাড্ডার স্বাধীনতা সরণির জামতলা স্বাধীন সরণির স্বর্ণা ড্রিমস প্রাইভেটের সাততলার ৬-ডি ইউটার্নের পূর্ব পাশের কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তে জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, নিহত রবিউস সানি পেশায় একজন প্রাইভেট কারচালক ছিলেন। পারিবারিক ও অফিশিয়াল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। এসব নানা বিষয় নিয়ে ভোরে কোনো এক সময় জানালার লোহার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেন তিনি। পরে আমরা খবর পেয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠাই। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
২১ দিন আগে
সিলেটে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
সিলেট মহানগরীর রায়নগর আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে এক দম্পতির ও তাদের গৃহকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগরের মিতালী ১১১ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন: রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মৃত আবরু মিয়ার ছেলে এমএ সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং একই বাসার গৃহকর্মী নগরীর জল্লারপাড় এলাকার তাহমিনা (২৫)।
পুলিশ জানায়, ৪ তলা ভবনের দুতলার ফ্লাটে মালিক আব্দুস সত্তার মিয়া, তার স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাই শুধু থাকতেন। বাকি ফ্লাটগুলোতে ভাড়াটেরা থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস সত্তার মিয়া আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ছিলেন। রায়নগরে নিজের বাসায়ই থাকতেন তিনি। আজ সকালে তার বাসা থেকে চিৎকার শোনা গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এই দম্পত্তির চার সন্তানের মধ্যে দুই সন্তান লন্ডনে ও দুই সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
নিহত দম্পতির ভাগ্নে মুন্না মিয়া জানান, রায়নগরের এই বাসায় আমার মামা-মামি একাই থাকতেন। তাদের সঙ্গে থাকত এক গৃহকর্মী। তিনি বলেন, আজ সকাল ৯টার দিকেও তাদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তার পরে কোনো সময় তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা মুন্না মিয়ার।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকালে রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসার ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ গৃহকর্মীকে খুন করেছে।
তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির বলেন, হাজী আব্দুস সত্তার মিয়া, তার স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে খুন করেছে। আব্দুস সত্তার মিয়া ওই এলাকার প্রবীণ মুরব্বি হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এসএমপির কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম বলেন, আজ সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় একজন আমাকে ফোন করে বলেন, মিতালী ১১১ নম্বর বাসার দোতলার ফ্ল্যাটের বন্ধ দরজার ভেতর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি দল নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। ওই বাসায় গিয়ে দরজা খুলে দেখতে পাই, বাসাটির মালিক এমএ সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্রাইম সিন ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেছে। পিবিআই ও সিআইডির ক্রাইম সিন বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তদন্তের জন্য একটা স্পেশাল টিম গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘এই বাড়ির এক ভাড়াটিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, সকালে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুনেছেন। সে হিসেবে ঘটনাটি সকালেই ঘটেছে বলে ধারণা করছি।’
তিনি বলেন, বাসাটির পরিবারের সদস্যদের ব্যবহৃত ওয়ারড্রোব ও আলমারিগুলো খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালংকার বা অন্য কোনো মূল্যবান জিনিস সরানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি ডাকাতি, নাকি এর পেছনে পারিবারিক কোনো শত্রুতা বা পূর্ববিরোধ রয়েছে, সেটি আমরা তদন্ত করে দেখছি। এখানে একটি দলিলও পাওয়া গেছে। সেটিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’ শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খবর পেয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সকালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
২৩ দিন আগে
পদ্মায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ সেই বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পৃথক স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে কুষ্টিয়ার বাংলাবাজার পাকশী সেতু-সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে নৌকার মাঝি কাওসার আলীর (৬০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুরে রাজশাহীর পবা উপজেলার সাতবাড়িয়া চর এলাকা থেকে তার ছেলে জিয়ারুল হকের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর গত দুই দিন ধরে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল যৌথভাবে তল্লাশি চালায়। পদ্মায় প্রবল স্রোতের কারণে মরদেহ দুটি দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে ভেসে যায়। উদ্ধার শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাজশাহী নগরের পদ্মা গার্ডেন-সংলগ্ন এলাকায় ঝাউগাছবোঝাই একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে আটজন যাত্রী নিয়ে লালন শাহ মুক্তমঞ্চের উদ্দেশে রওনা দেওয়া নৌকাটি মাঝনদীতে অতিরিক্ত ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নৌকার মাঝি কাওসার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল হক নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘ দুই দিনের অনুসন্ধান শেষে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
৩৫ দিন আগে
পাবনায় শৌচাগারের ট্যাংকে মিলল স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত এলাকায় শৌচাগারের ট্যাংক থেকে এক স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বাড়ির পাশে টয়লেটের ট্যাংকি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত গীতা রানী (৪৫) উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের একদন্ত বারইপাড়া গ্রামের নন্দ দাসের স্ত্রী। তিনি চাচকিয়া ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গীতা রানী বাড়িতে একাই থাকতেন। তার স্বামী ঢাকায় থাকেন। গতরাত ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা সিঁধ কেঁটে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। পরে গীতা রানী টের পেলে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তাকে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত শৌচাগারের ট্যাংকে দুর্বৃত্তরা ফেলে দেয় বলে স্থানীয়দের ধারণা।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে তাকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে শৌচাগারের ট্যাংকে তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি নাজমুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
কারা, কেন এবং কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৩৬ দিন আগে
ঢামেক হাসপাতালের পাশ থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশ থেকে অজ্ঞাতনামা দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বয়স আনুমানিক ৫৮ ও ৬০ বছর।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারের (ওসেক) পেছন থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আইয়ুব আলী জানান, আজ (সোমবার) সকাল দশটার দিকে আমরা জানতে পারি জরুরি বিভাগের পাশে অচেতন অবস্থায় দুই নারী পড়ে আছেন। পরে ট্রলিম্যানদের সহায়তায় জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মরদেহ দুটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের পরিচয় জানার জন্য ইতোমধ্যেই সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
৩৯ দিন আগে