মরদেহ উদ্ধার
ধানক্ষেত থেকে ভ্যানচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
রংপুরের পীরগঞ্জে বিপুল চন্দ্র বর্মন (৪২) নামের এক ভ্যানচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বড় মজিদপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিপুল চন্দ্র বর্মন উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মহান চন্দ্র বর্মনের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিজস্ব জমিজমা না থাকায় বিপুল অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদের পাশাপাশি দিনমজুরির কাজ করতেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে রাতে ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালান তিনি।
প্রতিদিনের মতো গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন বিপুল। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে আজ (মঙ্গলবার) সকালে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান।
স্থানীয়রা জানান, এদিন সকালে বড় মজিদপুর মৌজায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে একটি ধানক্ষেতে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশে একটি ভ্যানও পড়ে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে ধানক্ষেতের বেশ কিছু ধানগাছ ভাঙা ছিল। এ থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে বিপুলের ধস্তাধস্তি হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পীরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের আটকে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৯ দিন আগে
বাগেরহাটে শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে পানবরজ থেকে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে পুলিশ কচুড়িয়া গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত মুসলিমা খাতুন (৭) উপজেলার কচুড়িয়া গ্রামের ভ্যানচালক ইসলাম শেখের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্রী ছিল বলে জানা গেছে।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহদাৎ হোসেন জানান, উপজেলার কচুড়িয়া গ্রামে পানবরাজের পাশে বস্তায় শিশুর মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি মুসলিমার মরদেহ উদ্ধার করে। শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, হত্যার কারণ উদঘাটন ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
১৮ দিন আগে
ধানমন্ডি লেক থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডি ১০ নম্বর রোডের লেকের পাড়ে আবেশ অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ৭ নম্বর শাখার পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মৃত ব্যক্তির নাম মো জাভেদ আহম্মেদ (৫১)। তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকে বসবাস করতেন।
ধানমন্ডি থানা পুলিশ জানায়, সকালে মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে মরদেহের পকেটে একটি এনআইডি কার্ড খুঁজে পায়। পরে নিহতের পরিবারকে খবর দিলে তার স্ত্রী শাহানা জাবিন খান তার মরদেহ শনাক্ত করেন।
শাহানা পুলিশকে জানিয়েছেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন বেকার ছিলেন এবং আর্থিক সংকটের কারণে বিপর্যস্ত ছিলেন।
তবে কীভাবে তিনি ওই লেকে গিয়ে মারা গেলেন বা তার আর্থিক সংকট এই মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিনা, সেসব বিষয়ে প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গফুরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তবে জাভেদ আহম্মেদের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
২৩ দিন আগে
খুলনায় হোটেল কক্ষ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, আটক ১
খুলনা নগরীর আবাসিক হোটলের কক্ষ থেকে সোহেল রানা ওরফে বাবু নামের এক যুবককের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের কথিত স্ত্রী ফাতেমাকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সদর থানার খানজাহান আলী রোডের কপোতাক্ষ আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার ১০ নম্বর কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুবক লবণচরা থানার হরিণটানা অটোস্টান্ড রোডের লোকমান ফকিরের ছেলে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গেল শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাবু ও ফাতেমা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলে অবস্থান করেন। তাদের উভয়ের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন ফাতেমা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাবুর মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। অন্যদিকে, ফাতেমাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন রিপন বলেন, বাবুর আরেকজন স্ত্রী রয়েছেন। তিনি ঢাকায় থাকেন। তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না বাবুর। ফাতেমার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। ফলে ফাতেমা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, গতকাল (রবিবার) রাতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেছে বলে ফাতেমা প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এরই জেরে তাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান ওসি।
২৪ দিন আগে
ন্যাম ভবন থেকে এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীতে একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর এলাকার ন্যাম ভবন থেকে মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ন্যাম ভবন এলাকার ৫ নম্বর ভবনে যায়। এ সময় তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ দেখা যায়।
ওসি জানান, ঘটনাস্থলে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দল এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিটের সদস্যরা পৌঁছেছেন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। মরিয়ম কখন আত্মহত্যা করেছেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ওসি মনির।
২৫ দিন আগে
কুবি শিক্ষিকার নিখোঁজ ছেলের মরদেহ উদ্ধার
মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়ে নিখোঁজ অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজের পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপ্রতিম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (শুক্রবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়া গেছে। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে, অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
২৬ দিন আগে
বরিশালে যাত্রীবাহী বাস পুকুরে, একজনের মরদেহ উদ্ধার
বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কের গড়িয়ারপাড় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। এ ঘটনায় আব্দুল মালেক (৫৫) নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় একাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল মালেক বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী হাই স্কুল-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা।
বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, বাসটি যাত্রী নিয়ে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদের দিকে যাচ্ছিল। পথে গড়িয়ারপাড় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।
তিনি বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাসের অনেক যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর আহতদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি উদ্ধারের কাজ শুরু করেছেন বলে জানান ওসি।
২৬ দিন আগে
নিখোঁজের ৭ দিন পর শিশুর বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার
পাবনা সদর উপজেলায় নিখোঁজের ৭ দিন পর কামরুন্নাহার কলি (১০) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার মরদেহটি বস্তার ভেতরে টুকরো টুকরো অবস্থায় ছিল।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত কামরুন্নাহার কলি উপজেলার দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে। সে কুলুনিয়া আল ফালাহ অ্যাকাডেমির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার অসংখ্য মানুষ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায় কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরে বাজারের ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে বাড়ির পাশে চলে যায় সে। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে শিশুটির পরিহিত স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে শিশুটির বাবা পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে শিশুটির সন্ধান চেয়ে প্রচার চালানো হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পাবনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন নিহতের স্বজন ও সহপাঠীরা।
এর এক দিন পর আজ (বুধবার) সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় বস্তাবন্দি অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি কলির বলেই শনাক্ত করেন তার স্বজনরা।
স্থানীয়দের ধারণা, তাকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে বন্তায় বন্দি করে এই ডোবায় ফেলে রেখেছে দুর্বৃত্তরা।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তারা পুলিশকে বেশ কিছু তথ্য ও সম্ভাব্য ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে সেগুলো নিয়ে যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি। তাদের ধারণা, স্থানীয় কেউ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে শিশুর পরিবারের সঙ্গে এলাকার কারও কোনো পূর্ববিরোধ ছিল না বলেও জানান তারা।
শিশুটির বাবা কামাল প্রামাণিক বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আমার মেয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকেই আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি।
তিনি বলেন, আমার মেয়েকে কারা হত্যা করেছে, কারা আমাদের এত বড় সর্বনাশ করল তা জানতে চাই। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এমনকি ফাঁসি দিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, একটি শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, এসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ। খুব শিগগিরই হত্যার রহস্য ও কারা জড়িত তা উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ওসি।
২৯ দিন আগে
রাজধানীতে ভাড়া বাসা থেকে আইনজীবীর অর্ধগলিত দেহ উদ্ধার
রাজধানীর লালবাগে ভাড়া বাসা থেকে মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন নামের এক আইনজীবীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই থেকে তিন দিন আগে স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লালবাগ থানার শহীদনগরের বউবাজার ৩ নম্বর গলির ১০/১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, পাশের কক্ষের এক ভাড়াটিয়া আনোয়ার হোসেনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনি কার্যক্রম শুরু করে। এ সময় সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জজ কোর্টের আইনজীবী ছিলেন। ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের অ্যানেক্স ভবনের প্রথম তলার ২১৪ নম্বর কক্ষে তার চেম্বার। তিনি ওই বাসায় একাই থাকতেন। তার পরিবার গ্রামে থাকে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।
লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামিল হোসেন বলেন, আনোয়ার হোসেন জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট ছিলেন এবং ওই বাসায় ব্যাচেলর হিসেবে থাকতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহটি দুই থেকে তিন দিন আগের হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আনোয়ারের ড্রাইভিং লাইসেন্স পুলিশের কাছে রয়েছে। সেটি যাচাই করে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
মরদেহের সুরতহালসহ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
৩৩ দিন আগে
মধুখালীতে তিন বস্তায় যুবকের ছয় টুকরো অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার
ফরিদপুরের মধুখালীতে ধানখেতের পাশ থেকে তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা এক অজ্ঞাতনামা যুবকের ছয় টুকরো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বোয়ালিয়া স্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ গজ সামনে ফরিদপুরগামী সড়কের ডান পাশে লাভলু মল্লিক ও ইসহাক মিয়ার ধানখেতের পাশে একটি তালগাছের গোড়ায় তিনটি মুখ বাঁধা প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান স্থানীয় পথচারীরা। বস্তাগুলো পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হলে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবং মধুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বস্তাগুলোর মুখ খুললে সেগুলোর ভেতর থেকে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহের ছয়টি বিচ্ছিন্ন অংশ পাওয়া যায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুজ্জামান জানান, উদ্ধার করা মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিচয় শনাক্ত না হলে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৩৩ দিন আগে