ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছের তালিকায় এবার ঠাঁই পেয়েছে সতেজ ও তরতাজা রেইনট্রি গাছ। জেলার কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের আড়পাড়া নামক স্থানে কোনোপ্রকার টেন্ডার (দরপত্র) ছাড়াই তিনটি কড়ই গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। ‘মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ’ অজুহাতে এভাবে জীবন্ত গাছ কেটে সাবাড় করায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল।
স্থানীয়রা বলেন, কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের আড়পাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বড় কড়ই গাছ গত কয়েকদিন ধরে কাটা হচ্ছে। গাছগুলো সম্পূর্ণ সতেজ এবং ডালপালায় সবুজ পাতা ছিল। কোনোভাবেই এগুলো মৃত বা সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তির মৌখিক আবেদনে জেলা পরিষদ গাছগুলো কাটার অনুমতি দেয় বলে দাবি তাদের।
তাদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি সম্পদ বিক্রয় বা কাটার আগে টেন্ডার প্রক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, এক্ষেত্রে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি।
আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাবলু হোসেন বলেন, আমার বাড়ির সামনের গাছের একটি ডাল তার তিনতলা ভবনের ছাদের অনেক ক্ষতি করছিল। ডালগুলো কাটার জন্য কিছুদিন আগে জেলা পরিষদে আবেদন করি। গত ১৯ মে জেলা পরিষদের কর্মচারি মিল্টন শ্রমিক দিয়ে ডালগুলো কেটে দেন। এ জন্য তিনি তার কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকাও নিয়েছেন। কিছু ডাল মিল্টন কালীগঞ্জে বিক্রিও করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আড়পাড়া এলাকার আব্দুর রউফ জানান, এই শতবর্ষী গাছগুলো কালীগঞ্জের ঐতিহ্য। তরতাজা এই গাছগুলো এভাবে কেটে ফেলা চরম অন্যায়। এলাকাবাসীদের সঙ্গে নিয়ে তারা এই গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এই গাছ কাটায় উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় পরিবেশবিদ মিজানুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটময় সময়ে যেখানে দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহ চলছে এবং বেশি বেশি গাছ লাগানোর তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ উল্টো পথে হাঁটছে। মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার দোহাই দিয়ে যেভাবে বিনা টেন্ডারে তরতাজা ও ছায়াঘন কড়ই গাছগুলো কেটে ফেলা হলো, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এটি সরকারি সম্পদের অপচয় এবং পরিবেশের ওপর চরম আঘাত।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের কর্মচারী মিল্টন বলেন, ওই এলাকার বাবলু হোসেন নামের একজন অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছেন। অফিস আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে এটি দেখভাল করার জন্য। সেখান থেকে কিছু ডাল বিক্রি করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে।
জেলা পরিষদের সিএ শফিউদ্দিন জানান, আড়পাড়া গ্রামের বাবলু হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি ঐ গাছগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ও মৃত দাবি করে সেগুলো কাটার জন্য জেলা পরিষদে আবেদন করেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই গাছগুলো কাটা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম রেজা জানান, বিভিন্ন সড়কে জেলা পরিষদের ডালপালাবিহীন, মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ২৯ মার্চ জেলা পরিষদের সভায় এ সংক্রান্ত অনুমোদন নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেকই আড়পাড়া এলাকার গাছগুলো কাটা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘গাছ কাটার পরে নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার আহ্বান করা হবে।’