ঝিনাইদহ
কালীগঞ্জের শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: আসামির মৃত্যুদণ্ড
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২২ জুন) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে জেলা ও দায়রা জজ ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান জনাকীর্ণ আদালতে এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত আসামিকে ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার এই টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, হত্যার পর মরদেহ গুম করার অপরাধে আসামিকে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এর ফলে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত ১১৬ দিনের (৩ মাস ২৬ দিন) মধ্যে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও রায় ঘোষণা হলো, যা ঝিনাইদহের আদালতে এক অনন্য নজির।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার ৪ বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুম মূলত মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে ছিল। তবে শিশুটির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জের বারবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম স্থানীয় একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী এবং মা হালিমা খাতুন বেসরকারি সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ কর্মরত।
আদালত ও মামলায় রায় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করতে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।
ঘটনার পরদিনই পুলিশ আসামি আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তাবাচ্ছুম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক জেল্লাল হোসেন।
গত ১৬ জুন মামলার চার্জ গঠন, ১৭ জুন সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ (সোমবার) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম ও আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন। মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এই সর্বোচ্চ সাজার রায় প্রদান করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম জানান, ‘মাত্র ১১৬ দিনে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচারব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো এবং সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হলো।’
অন্যদিকে, শিশু তাবাচ্ছুমের বাবা ও মা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আসামি আবু তাহেরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।
১৭ দিন আগে
বিশ্বকাপের রঙে রঙিন কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ি
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা কেবল টেলিভিশনের পর্দা কিংবা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা যেন ছড়িয়ে পড়েছে ঝিনাইদহের এক শান্ত সবুজ পল্লীতেও। আর সেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ‘মুসলিম জাগরণের কবি’ খ্যাত গোলাম মোস্তফার স্মৃতিবিজড়িত আদি বাড়ি।
শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের ঐতিহাসিক এই বাড়িটি এখন ল্যাটিন আমেরিকার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রঙিন। কবিবাড়ির এই অভূতপূর্ব রূপান্তর পুরো গ্রামকে পরিণত করেছে এক টুকরো ‘ফুটবল ভিলেজে’।
সরেজমিনে মনোহরপুর গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে এক ভিন্নজগৎ। চারদিকে শুধু ফুটবল আর ফুটবল। রাস্তার দুপাশে উড়ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা, তবে মূল আকর্ষণ কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ি। কবির বাড়ির মূল ফটক, কাচারিঘর, সবুজ আঙিনা, বসতঘর থেকে শুরু করে আশপাশের গাছপালা সবই এখন মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ফুটবল আবেগে। একদিকে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা, অন্যদিকে ব্রাজিলের সবুজ-হলুদ রঙের নান্দনিক দেয়ালচিত্র ও পতাকা শোভা পাচ্ছে। দেয়াল আর বাঁশের খুঁটিতে শোভা পাচ্ছে লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পেদের বিশাল সব প্রতিকৃতি। কোথাও আবার আঁকা হয়েছে কাঙ্ক্ষিত সোনালী ট্রফি।
ফুটবল আর ইতিহাসের এই অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কবিবাড়িতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসছেন। মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকেই।
বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। কেউ প্রিয় দলের জার্সি পরে, কেউবা পতাকা কাঁধে জড়িয়ে উৎসবে মেতে উঠছে। স্থানীয়রা বলছেন, দলের সমর্থনে ভিন্নতা থাকলেও এই আয়োজন পুরো গ্রামের মানুষকে এক সুতোয় বেঁধেছে। এটি এখন শুধু ফুটবল উন্মাদনা নয়, বরং সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা।
ফরহাদ হোসেন নামে এক যুবক মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে বিশ্বাস করতে পারিনি। এখানে এসে মনে হচ্ছে কোনো বিদেশি ফ্যান জোনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্রামীণ আবহে এমন নান্দনিক আয়োজন সত্যিই চোখ জুড়িয়ে দেয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা সিজার জিকরুল বলেন, ‘বিশ্বকাপ এলেই গ্রামে আনন্দ হয়, কিন্তু এবার কবিবাড়িকে কেন্দ্র করে যে সাজসজ্জা হয়েছে, তা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের আগমনে আমাদের গ্রামজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।’
এই বর্ণিল উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন স্থানীয় একঝাঁক উদ্যমী তরুণ। কয়েক সপ্তাহের অক্লান্ত পরিশ্রমে তারা কবিবাড়ি ও আশপাশের এলাকাকে এভাবে সাজিয়ে তুলেছেন।
তরুণ সংগঠক শাওন শ্রাবন ও শিহাব হোসেন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপের বৈশ্বিক আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে মাঠের খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করা। নিজেদের পকেটের টাকায়, নিজেদের পরিশ্রমে এই আয়োজন করেছি। দর্শনার্থীদের হাসিমুখ আর ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই যত জমছে, মনোহরপুরের কবিবাড়িতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা ততই বাড়ছে। ফুটবল আর ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন যেন প্রমাণ করছে—খেলাধুলা শুধু মাঠের লড়াই নয়, তা মানুষের হৃদয়কে এক করার এক শক্তিশালী মাধ্যম।
১৮ দিন আগে
ঝিনাইদহে পাঁচ মাসে ২১ মরদেহ উদ্ধার, নেপথ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধ
ঝিনাইদহ জেলায় গত পাঁচ মাসে খুনসহ অন্তত ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার মরদেহগুলোর মধ্যে ১৩টি হত্যাকাণ্ড বলে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাকি ৮টি ঝুলন্ত বা রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা আত্মহত্যা বলে পুলিশি তদন্তে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত পাঁচ মাসে জেলায় যে ১৩টি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের বুলবুলি, পাগলাকানাই এলাকার খুশি খাতুন, মহেশপুর উপজেলার ঘোষপুর গ্রামের জোহরা আক্তার এবং কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের শিশু তাবাসসুমকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলাজুড়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের পেছনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধের চরম রূপ দেখা গেছে।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে বিরোধের জেরে দেলোয়ার নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। শৈলকুপার মাধবপুর গ্রামে সামাজিক বিরোধে নিহত হন মোহন শেখ। মহেশপুরের পলিয়ানপুর এলাকায় ইছামতি নদী থেকে আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদী ও রতিকান্ত জয়ধরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা পরে হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
এছাড়া হরিণাকুণ্ডুর কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে বিএনপি কর্মী আবুল কাশেম ও সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি নেতা তরু মুন্সিকে হত্যা করা হয়েছে। জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নীরবকে। এ ছাড়াও হরিণাকুণ্ডুর দৌলতপুর গ্রামে ভ্যানচালক জসিম এবং শৈলকুপার জয়ন্তিনগর গ্রামে কেসমত আলীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
১৩টি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ৮টি মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, এসব মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই ৮টি মৃত্যুর পেছনে আত্মহত্যার আলামত পাওয়া গেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক অবসাদই এসব আত্মহত্যার প্রধান কারণ বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঝিনাইদহের সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি সায়েদুল আলমের মতে, ঝিনাইদহে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির পেছনে মূলত রাজনৈতিক ও সামাজিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াই কাজ করছে। বিশেষ করে শৈলকুপা, হরিণাকুণ্ডু ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দলাদলি ও আধিপত্যের জেরে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। এছাড়া পারিবারিক কলহ ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে বিভিন্ন হত্যার ঘটনা ঘটছে, যার শিকার হচ্ছেন নারী ও শিশুরা।
এ বিষয়ে জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন আজ (সোমবার) দুপুরে জানান, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। দুইটি রাজনৈতিক হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার হয়েছেন, আবার অনেকেই আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। জেলায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের দমনে পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
৩১ দিন আগে
শৈলকুপায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় বিএনপির দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৬৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে সামাজিক দল গঠন নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহত বিএনপি নেতা মতিয়ার রহমান সমর্থিত বেষ্টপুর গ্রামের মিরাজ জোয়ার্দার, আবু তালেব, উল্লাস, ইমরান, শাহিন মন্ডল, ফজলুর রহমান, সেলিম এবং একই গ্রামের কফিল মেম্বার সমর্থিত মো. লাল্টু বিশ্বাস, মো. আক্তার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম, মফিজুল আলী, মোশারফ হোসেন, আনিস মোল্লা, সাকিব, আব্দুল কাদের, মো. বিল্লাল হোসেন, অক্ষন, সাঞ্জু, আবেদ আলীর পরিচয় মিলেছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় গ্রামের বসিন্দা ইউনুস আলী জানান, সামাজিক দল গঠন নিয়ে মতিয়ার ও কফিল উদ্দীনের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। উভয় গ্রুপের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোকজন ভেড়ানো নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে গ্রামটিতে সামাজিক দল ভেঙে যায়।
স্থানীয়রা জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে বিষ্ণুপুর গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বাকি খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে আওয়ামী লীগ ঢুকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় অন্তত ১৫টি বাড়ি ঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের মতিয়ার রহমান সমর্থিত আহতরা ঝিনাইদহে ও কফিল মেম্বরের লোকজন শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ জনের অবস্থা বেশ গুরুতর বলে জানান শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রাশেদ আল মামুন।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, সামাজিক বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। এখনও এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়নি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন দুপুরে জানান, এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি। আহতরা এখনো তাদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। বিকালে বা রাতে হয়তো মামলা হতে পারে।
৩৫ দিন আগে
মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে সংঘর্ষে ঝিনাইদহে একজন নিহত
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো ও সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে দেলোয়ার (৪৫) নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের বরইতলা মাঠের মধ্যে একটি শরবত ও চায়ের দোকানের পাশে ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানান হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার।
পাখিমারা গ্রামের লাল্টু এবং হরিশপুর গ্রামের শুভর মধ্যে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো ও সাইড দেওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি উভয় পক্ষের গ্রামবাসী জানতে পারলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর হামলা করে। এতে হরিশপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, শুভ ও আবু তালেব আহত হন। আহতদের কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার দেলোয়ার হোসেন মারা যান।
পুলিশ জানায়, পাখিমারা গ্রামের লাল্টু, মশা ফকির, মাহাবুব ও বাদশার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে হরিশপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় হরিশপুর গ্রামের খয়বর মন্ডলের ছেলে দেলোয়ার হোসেনের গলায় মারাত্মক আঘাত লেগে ছিদ্র হয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শুক্রবার) ভোরে দেলোয়ার মৃত্যুবরণ করেন।
ওসি অসিত কুমার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে মারা গেছেন। এখনও থানায় কোনো মামলা হয়নি। এলাকায় পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
৪১ দিন আগে
টেন্ডার ছাড়াই ঝিনাইদহে জেলা পরিষদের গাছ সাবাড়
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছের তালিকায় এবার ঠাঁই পেয়েছে সতেজ ও তরতাজা রেইনট্রি গাছ। জেলার কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের আড়পাড়া নামক স্থানে কোনোপ্রকার টেন্ডার (দরপত্র) ছাড়াই তিনটি কড়ই গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। ‘মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ’ অজুহাতে এভাবে জীবন্ত গাছ কেটে সাবাড় করায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল।
স্থানীয়রা বলেন, কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের আড়পাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বড় কড়ই গাছ গত কয়েকদিন ধরে কাটা হচ্ছে। গাছগুলো সম্পূর্ণ সতেজ এবং ডালপালায় সবুজ পাতা ছিল। কোনোভাবেই এগুলো মৃত বা সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তির মৌখিক আবেদনে জেলা পরিষদ গাছগুলো কাটার অনুমতি দেয় বলে দাবি তাদের।
তাদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি সম্পদ বিক্রয় বা কাটার আগে টেন্ডার প্রক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, এক্ষেত্রে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি।
আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাবলু হোসেন বলেন, আমার বাড়ির সামনের গাছের একটি ডাল তার তিনতলা ভবনের ছাদের অনেক ক্ষতি করছিল। ডালগুলো কাটার জন্য কিছুদিন আগে জেলা পরিষদে আবেদন করি। গত ১৯ মে জেলা পরিষদের কর্মচারি মিল্টন শ্রমিক দিয়ে ডালগুলো কেটে দেন। এ জন্য তিনি তার কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকাও নিয়েছেন। কিছু ডাল মিল্টন কালীগঞ্জে বিক্রিও করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আড়পাড়া এলাকার আব্দুর রউফ জানান, এই শতবর্ষী গাছগুলো কালীগঞ্জের ঐতিহ্য। তরতাজা এই গাছগুলো এভাবে কেটে ফেলা চরম অন্যায়। এলাকাবাসীদের সঙ্গে নিয়ে তারা এই গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এই গাছ কাটায় উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় পরিবেশবিদ মিজানুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটময় সময়ে যেখানে দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহ চলছে এবং বেশি বেশি গাছ লাগানোর তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ উল্টো পথে হাঁটছে। মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার দোহাই দিয়ে যেভাবে বিনা টেন্ডারে তরতাজা ও ছায়াঘন কড়ই গাছগুলো কেটে ফেলা হলো, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এটি সরকারি সম্পদের অপচয় এবং পরিবেশের ওপর চরম আঘাত।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের কর্মচারী মিল্টন বলেন, ওই এলাকার বাবলু হোসেন নামের একজন অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছেন। অফিস আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে এটি দেখভাল করার জন্য। সেখান থেকে কিছু ডাল বিক্রি করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে।
জেলা পরিষদের সিএ শফিউদ্দিন জানান, আড়পাড়া গ্রামের বাবলু হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি ঐ গাছগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ও মৃত দাবি করে সেগুলো কাটার জন্য জেলা পরিষদে আবেদন করেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই গাছগুলো কাটা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম রেজা জানান, বিভিন্ন সড়কে জেলা পরিষদের ডালপালাবিহীন, মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ২৯ মার্চ জেলা পরিষদের সভায় এ সংক্রান্ত অনুমোদন নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেকই আড়পাড়া এলাকার গাছগুলো কাটা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘গাছ কাটার পরে নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার আহ্বান করা হবে।’
৪৭ দিন আগে
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ২২ জনের নামে এবার ছাত্রদলের মামলা
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রদলের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে এবার এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে ছাত্রদল পাল্টা মামলা করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) ঝিনাইদহ সদর থানায় এই মামলাটি করেন ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহ-সভাপতি মো. এনামুল কবির।
মামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঝিনাইদহ ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী তারেকুল ইসলাম তারেক রেজাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০/৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন: মেহেদী হাসান আশিক, সিয়াম উদ্দিন তুর্য, তানাঈম, আসিফ, অয়ন রহমান খান, তাইন, জয়নাল, আলমগীর, শাহরিয়ার অভীক, হৃদয় মাস্টার, লাবাবুল বাশার লাবু, শিহাব শাহ, নয়ন, সুলতান শাহ, হৃদয়, রুবায়েত হাসান তুর্য, শেখ সামি, রিফাত, হাকিম, কাইসার ও ইমরানসহ অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে বাদী মো. এনামুল কবির ঝিনাইদহ পৌরসভাধীন পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যান। নামাজ শেষে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে মসজিদ থেকে বের হয়ে তিনি দেখতে পান, এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়কারী নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী জেলা শাখার নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন।
বাদীর অভিযোগ, ওই বক্তব্যে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর সমালোচনা করছিলেন, যাতে ১ নম্বর আসামি তারেক রেজা উস্কানি দেন। এ সময় বাদী ও সাধারণ মুসল্লিরা এই বক্তব্যের প্রতিবাদ ও অনুরোধ জানালে ১ নম্বর আসামির হুকুমে এনসিপির নেতা-কর্মীরা ছাত্রদল নেতাদের ওপর চড়াও হন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে বাদীকে ঘিরে ধরে এবং মারপিট শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামি তানাঈম বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তার কপাল ফেটে গুরুতর জখম হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সভাপতি হৃদয় হোসেন এবং জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহ-সভাপতি নয়ন হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে পিস্তলের বাট, ধারালো দা ও ইট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান আজ (শনিবার) বিকেলে জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে, ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১৫ জন নেতা-কর্মীর নামে এনসিপির পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই পাল্টা মামলা করা হলো।
৪৭ দিন আগে
ধান ওড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষক দম্পতির মৃত্যু
ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ধান ওড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন মজিবর খাঁ (৬০) ও মোমেনা খাতুন (৫৫) নামে এক দম্পতি।
সোমবার (১৮ মে) সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের গাগান্না গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
প্রতিবেশী খায়রুল ইসলাম জানান, ভোরে মজিবর খাঁ নিজ বাড়ির আঙিনায় বৈদ্যুতিক ফ্যান চালু করে ধান ওড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ফ্যানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পরপরই তার পুরো শরীর বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে এবং তিনি বৈদ্যুতিক তারে আটকে যান। চোখের সামনে স্বামীকে ছটফট করতে দেখে এক মুহূর্তও ভাবেননি স্ত্রী মোমেনা খাতুন। জীবনসঙ্গীকে বাঁচানোর আকুলতা নিয়ে তিনি দ্রুত মজিবরকে টেনে ছাড়াতে যান। কিন্তু কোনো সেফটি বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় তিনিও মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এই দম্পতি।
খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। ধানের ওপরেই পড়ে ছিল এই দম্পতির মরদেহ।
গ্রামীণ জনপদে ধান কাটার এই মৌসুমে যেখানে উৎসবের আমেজ থাকার কথা, সেখানে গাগান্না গ্রামে এখন শুধুই কান্নার রোল। প্রতিবেশীরা এই ভালোবাসার করুণ পরিণতি দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছে না।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক ফ্যানের ছেঁড়া তার থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।
৫২ দিন আগে
স্মার্টফোন আসক্তি ও সামাজিক অস্থিরতা: ঝিনাইদহে বিপথগামী প্রজন্ম নিয়ে উৎকণ্ঠায় অভিভাবকরা
ঝিনাইদহ জেলার শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুল-কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের আচরণ, মনোযোগ ও মানসিক স্থিরতায় ভয়াবহ পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনে আসক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট শিক্ষার্থীদের আচরণে এক ধরনের ‘বেপরোয়া ভাব’ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টিকে ইতোমধ্যেই ‘অ্যালার্মিং’ বা চরম উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।
শিক্ষকরা বলছেন, কয়েক বছর আগেও শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ যেমন ছিল, বর্তমানে তার সঙ্গে বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও সরকার পরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের মধ্যে আইন-কানুন বা নিয়ম-নীতির প্রতি এক ধরনের অনীহা ও অবাধ্যতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষক বা অভিভাবকদের শাসন না মানা, জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠের ভেদাভেদ ভুলে যাওয়া এবং তুচ্ছ কারণে ঔদ্ধত্য প্রদর্শনের মতো ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে যা সামাজিক শৃঙ্খলাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
জেলার সীমান্তবর্তী মহেশপুর উপজেলার আনোয়ার হোসেন নামে এক শিক্ষক জানান, ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন। সামান্য বিরতি পেলেই তারা মোবাইল ফোন, গেম কিংবা ছোট ভিডিও (শর্ট কনটেন্ট)-এর দিকে ঝুঁকে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক শিষ্টাচারের চরম অভাব।
ঝিনাইদহ পৌর এলাকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি মানসিক সংযোগ তৈরি করা যেত। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি উদ্ধত। বড়দের সম্মান করা বা শিক্ষকের নির্দেশ মানার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে চরম গাফিলতি ও অনীহা দেখা যাচ্ছে।’ এর পেছনে ভার্চুয়াল জগতের আসক্তির পাশাপাশি বর্তমান সামাজিক অস্থিরতাও বড় কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারি কেশবচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবু বক্কর সিদ্দিকীর মতে, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী বাস্তব জীবনের চেয়ে ভার্চুয়াল জগতেই বেশি সময় কাটায়। ফলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক মূল্যবোধ থেকে তারা দিন দিন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এর প্রভাবে সমাজে যে শ্রদ্ধাবোধ ও জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠ সুসম্পর্ক থাকার কথা, তা ক্রমে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
যশোর অটিজম ও এনডিডি সেবাকেন্দ্রের মনোবিজ্ঞানের পরামর্শক সাব্বির আহমেদ জুয়েল এ বিষয়ে বলেন, ‘অতিরিক্ত স্ক্রিন-টাইম কিশোরদের মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে তারা বাস্তব জীবনে খিটখিটে মেজাজের ও অবাধ্য হয়ে ওঠে। যখন তারা চারপাশের সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিবেশে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা লক্ষ করে, তখন অবচেতনভাবেই সেটিকে নিজেদের আচরণের অংশ করে নেয়।’
ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান শিক্ষার্থীদের এই মানসিক ও নৈতিক বিকাশের ক্রান্তিকালে পরিবারকে ‘সবচেয়ে বেশি দায়িত্বশীল’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সন্তানদের কেবল স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখলেই হবে না, তাদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা ও বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত কাউন্সিলিং প্রয়োজন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, জেলা প্রশাসন পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
একটি সুস্থ ও সুশৃঙ্খল প্রজন্ম গড়তে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
৫৪ দিন আগে
ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’
নিজের আপন ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে এক অভিনব ও লোমহর্ষক ‘ছিনতাই নাটক’ সাজিয়েছিলেন ভাতিজা লিটন শেখ। তবে সিসিটিভি ফুটেজ আর প্রযুক্তির দক্ষতায় পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন সেই ভাতিজাসহ ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া পুরো ৬ লাখ টাকা। এই কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, গতকাল (সোমবার) দুপুরে মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের সেলিনা বেগম চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের জনতা ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে আপন ভাতিজা লিটন শেখের মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দত্তনগর ফার্ম-সংলগ্ন মথুরা বীজ উৎপাদন খামারের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ছিনতাইকারীরা চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে টাকার ব্যাগটি হ্যাঁচকা টান দিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে সেলিনা বেগম আহত হন।
ওসির ভাষ্যমতে, ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী নারী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মহেশপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করে। এর সূত্র ধরেই একে একে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
পুলিশ সোমবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। আটকরা হলেন— ভুক্তভোগী সেলিনা বেগমের আপন ভাতিজা এবং ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী লিটন শেখ (৪০), জলিলপুর গ্রামের আমিনুর রহমান খান (২৪) ও একই গ্রামের মোস্তফা জামান ওরফে বরকত বিশ্বাস (৪৭)। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত শাওন বদ্দি (২৩) নামে আরও এক যুবক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
ওসি মেহেদি হাসান আরও জানান, সেলিনা বেগমের ভাতিজা লিটন শেখই ছিলেন এই সাজানো ছিনতাইয়ের ‘মাস্টারমাইন্ড’। তিনি শাওন বদ্দির সঙ্গে মিলে এই পরিকল্পনাটি করেছিলেন। পুলিশের তৎপরতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
৫৮ দিন আগে