ঝিনাইদহ
সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আসাদুজ্জামান
রাজনীতিতে যেখানে বিজয়ের পর প্রার্থীদের মাঝে দেখা যায় দূরত্ব, বিরূপতা ও প্রতিহিংসার ছায়া, সেখানে ভিন্ন এক চিত্র দেখলেন ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের ভোটাররা। জয়-পরাজয়ের বিভাজনরেখা সরিয়ে আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফল অনুসারে, ঝিনাইদহ-১ আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তিনি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবু সালেহ মো. মতিউর রহমান ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে পান ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট। এতে ১ লাখ ১৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আসাদ।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভোট গণনা শেষে রাতেই জানা যায় আসাদুজ্জামানের জয়ের খবর। এরপর আজ (শুক্রবার) সকাল হতেই ফুলের মালা হাতে তিনি ছোটেন মতিউর রহমানের বাড়িতে। শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের নাদপাড়া গ্রামে তাদের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে তৈরি হয় এক ভিন্ন আবহ।
কুশল বিনিময়ের পর আসাদুজ্জামান নিজের বিজয়মাল্য পরিয়ে দেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর গলায়। মুহূর্তটি উপস্থিত দুপক্ষের নেতা-কর্মী ও স্থানীয়দের কাছে প্রতীকী বলে মনে হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয় সম্পর্কের অটুট বন্ধন।
ঝিনাইদহ-১ আসনের ভোটাররা অতীতে জয়-পরাজয়ের পর উত্তেজনা, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা বহুবার দেখেছেন। কিন্তু এবারের দৃশ্য ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। বিষয়টি শান্ত, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ সময় অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান তার সমর্থক ও গ্রামবাসীর উদ্দেশে বলেন, “ভোটে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধন যেন অটুট থাকে। বিভেদ নয়, ঐক্যই হোক নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও তরুণদের আত্মবলিদান যেন বৃথা না যায়। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যাব।’
স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ রাজনীতিতে ইতিবাচক সংস্কৃতির চর্চাকে উৎসাহিত করবে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার এই বার্তা শুধু ঝিনাইদহ নয়, সারা দেশের জন্যে তাৎপর্যপূর্ণ।
ভোটের ফলাফল সংখ্যায় মাপা যায়, কিন্তু আন্তরিকতার এই দৃশ্য মনে রাখবে ঝিনাইদহ-১ আসনের আপামর মানুষ। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায়ও যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের স্থান রয়েছে, নাদপাড়া গ্রামের একটি উঠানে তারই নীরব সাক্ষী হয়ে রইল একটি ফুলের মালা।
৩ দিন আগে
ঝিনাইদহ-১ আসনে বেসরকারি ফলে নির্বাচিত বিএনপির আসাদুজ্জামান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বেসরকারি এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
বেসরকারি ফল অনুযায়ী, নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট। তার বিপরীতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট পড়েছে ৫৫ হাজার ৫৭৭।
একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঝিনাইদহ-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৯৫ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ২৭৫ জন।
৩ দিন আগে
ঝিনাইদহে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, এক কেন্দ্রে ২ ঘণ্টায় পড়েছে ১৪০০ ভোট
ঝিনাইদহে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। শুরু থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে কেন্দ্রগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ঝিনাইদহ পৌরসভার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে নারী-পুরুষ ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে।
শহরের প্রবাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল থেকেই নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জাফরান কবির জানান, এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৫ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ হাজার ৬১০ জন এবং নারী ভোটার ৩ হাজার ১৭০ জন।
তিনি জানান, ভোট শুরুর ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের মধ্যেই প্রায় ১ হাজার ৪০০ ভোট পড়েছে।
কেন্দ্রের বাইরে তখনও শত শত ভোটারকে লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
এছাড়া শহরের সিটি কলেজ, কেশব চন্দ্র মহাবিদ্যালয়, আব্দুর রকিব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উজির আলী ভোটকেন্দ্রেও ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ করা গেছে। তরুণ ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রতিটি ভোট কক্ষে বিএনপি ও জামাতের পোলিং এজেন্টদের দেখা গেছে। তবে অন্যান্য প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট ছিল না।
সকাল সাড়ে ৭টায় কেশব চন্দ্র মহাবিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ এবং পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল। তারা ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, সকাল থেকেই জেলার সর্বত্র শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের তৎপর উপস্থিতিতে কেন্দ্রগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ঝিনাইদহে নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
৪ দিন আগে
ঝিনাইদহে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ নারী গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে চরমপন্থি নেতা হানেফ বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে ঝিনাইদহ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৬। এ সময় মাদক ও বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ তাছলিমা আক্তার (৩৫) নামে এক নারী গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ঝিনাইদহ র্যাবের একটি দল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভোরে ওই পৌরসভার চটকাবাড়িয়া গ্রামে হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় তিনি বাড়ি না থাকলেও আটক করা হয় তার প্রথম স্ত্রী তাছলিমা আক্তারকে।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ সময় দুই কেজি গাঁজা ও ৮টি রাম দা ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র জব্দ করে র্যাব-৬।
স্থানীয়রা জানান, হোসেন আলী চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সন্ত্রাসী হানেফ আলী নিহত হওয়ার পর তার বাহিনীর হাল ধরেন হোসেন আলী। তার কাছে হানেফ আলীর বেআইনি অস্ত্র ভান্ডার রক্ষিত আছে। এই অস্ত্র দিয়ে তিনি এখনও অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, হোসেন আলী ‘দেশি’ নামে ভুয়া ও জাল ব্যান্ডরোলের একটি সিগারেট হরিণাকুণ্ডু এলাকায় বিক্রি করেন। তার সঙ্গে রয়েছে দিগনগর গ্রামের জিয়া ও পিটার। অবৈধভাবে নিম্নমানের দেশি সিগারটে বিক্রি করে হোসেন আলী লাখ লাখ টাকা কামালেও হরিণাকুণ্ডুর পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে জানান স্থানীয়রা।
র্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
র্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হোসেন আলী পলাতক রয়েছেন। তিনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা করা হয়েছে।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার রায় বলেন, র্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে হরিণাকুণ্ডু থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার নারীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
১৮ দিন আগে
ঝিনাইদহে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন আহত
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) উপজেলার সাধুখালী গ্রামে সকালে এ সংঘর্ষ বাঁধে।
আহতদের মধ্যে সাধুখালী গ্রামের মো. আইয়ুব হোসেন (৬০), মোলায়েম হোসেন (৫৫), মো. নুরুল হোসেন (৪৫), নূর আলী বাদশা (৪৭), মতিয়ার রহমান (৪৮), নূর আলী (৪৫), আতিয়ার রহমান (৪৬), ইজারত মন্ডল (৬০), মদিনা খাতুন (৫৫), আহাদ আলী (১৩) ও শফি উদ্দিনের (৬০) নাম পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, সাধুখালী গ্রামের শহিদুল মাস্টারের সঙ্গে একই গ্রামের নূর আলী ও বাদশা মিয়ার জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ওই জমির দখল নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।
তর্কাতর্কির একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১১ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্ল্যা বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৮ দিন আগে
ঝিনাইদহে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ
ঝিনাইদহের শৈলকূপায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বিষ্ণুদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেলা যুবদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী ও শৈলকূপা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবুল বাশার সাদাতের সমর্থকদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। দুই দিন আগে বিষ্ণুদিয়া গ্রামে মসজিদের জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দুই নেতার ওই গ্রামের সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে গতকাল (সোমবার) সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে অন্তত উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন।
শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্ল্যা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সবাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
২৭ দিন আগে
পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ঝিনাইদহ কারাগারের ৭৯ জন কয়েদি
দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইদহ জেলার ২১ হাজার ১২১ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ঝিনাইদহ কারাগারে বন্দি ৭৯ জন কয়েদি ভোট দিতে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন।
ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহে নিবন্ধিত পোস্টাল ব্যালট ভোটারদের মধ্যে জেলা কারাগারে থাকা বন্দি ভোটার রয়েছেন ৭৯ জন। এছাড়া ঝিনাইদহের বাসিন্দাদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যান্য ভোটার রয়েছেন ১৪ হাজার ৫১১ জন। অপরদিকে বিভিন্ন দেশে ঝিনাইদহের প্রায় ৮৫ হাজার প্রবাসীর মধ্যে ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন মাত্র ৬ হাজার ৫৩১ জন।
সূত্র আরও জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, ঝিনাইদহ-১ আসনে ৪ হাজার ৬০ জন, ঝিনাইদহ-২ আসনে ৭ হাজার ১৩৮ জন, ঝিনাইদহ-৩ আসনে ৫ হাজার ৪০৬ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনে ৪ হাজার ৪৩৮ জন ভোটারকে আসনভিত্তিক ভোট দেওয়ার জন্য পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ভোটাররা তাদের ভোট প্রধান করতে পারবেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোস্টাল ব্যালট ভোটার মজনুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবারই চাকরির কারণে এলাকার বাইরে থাকায় ভোট দেওয়া সম্ভব হয়নি। এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত। এতে আমার মতো অনেকেই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।’
আজ (বুধবার) জেলা নির্বাচন অফিসার আবুল হোসেন জানান, কর্মস্থল, বিদেশ বা কারাবন্দি থাকার কারণে যারা এতদিন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেননি, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
এটি নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা আলমগীর হুসাইন জানান, পোস্টাল ব্যালট ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালুর ফলে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।
৩৩ দিন আগে
ঝিনাইদহে অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ২১ প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনা
ঝিনাইদহের ইতিহাস মানেই শুধু অতীত নয়, এটি এই জনপদের আত্মপরিচয়। সময়ের স্রোতে কালের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঝিনাইদহের শতাব্দী-প্রাচীন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনাগুলো আজ চরম অবহেলার শিকার। অযত্ন, অপরিকল্পিত ব্যবহারে ক্ষয় আর যথাযথ সংরক্ষণ ও তদারকির অভাবে জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের গর্ব বহনকারী ৬ উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা ২১টি প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনাই এখন অস্তিত্ব সংকটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে অমূল্য এসব স্থাপনার গল্প ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খুঁজতে হবে কেবল ইতিহাসের বইয়ের পাতায়।
জেলার মহেশপুর উপজেলার খালিশপুরে অবস্থিত ১৯ শতকে নির্মিত প্রাচীন নীলকুঠি ভবনটি এক সময় ঔপনিবেশিক শাসনামলের সাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন ছিল। ২০১২ সালের ১৪ জুন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গেজেটে তালিকাভুক্ত হলেও বাস্তবে ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণে নেই কার্যকর কোনো উদ্যোগ।
এছাড়া ঝিনাইদহের মিয়ার দালান, শৈলকুপার ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ, নলডাঙ্গার রাজবাড়ি মন্দির, বারোবাজারের ঐতিহাসিক মসজিদ, কৃষক আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্র ও গণিতবিদ কেপি বসুর বসতভিটাসহ জেলার তালিকাভুক্ত ২১টি প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনার অধিকাংশই আজ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের পথে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ২১টি ঐতিহাসিক ও প্রত্নসম্পদসমৃদ্ধ স্থাপনা ‘হেরিটেজ’ তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে কাগজে-কলমে এসব স্থাপনা ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত’ বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
মাঠপর্যায়ে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ স্থাপনাই কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষার আওতায় নেই। গেজেটভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বাস্তব সংরক্ষণ কার্যত অনুপস্থিত। শতবর্ষী এসব স্থাপনার অনেকগুলোই আজ সময়ের সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে। নিয়মিত সংস্কার, নিরাপত্তা বেষ্টনী, সাইনবোর্ড কিংবা পাহারাদার না থাকায় অনেক স্থাপনাই ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার পথে।
৩৫ দিন আগে
ঝিনাইদহে কুয়াশার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক নদীতে, নিহত ২
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ে ২ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের গাড়াগঞ্জ এলাকার বড়দহ পুরাতন সেতুতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন—পাবনা সদর উপজেলার গাজামানিকুন্ডা গ্রামের আবুল কালাম শেখের ছেলে ট্রাকটির চালক সোহেল শেখ (২৭) এবং একই গ্রামের জাফর মিয়ার ছেলে ট্রাকের হেলপার মুবারক হোসেন (২০)।
ফায়ার সার্ভিসের যশোর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম জানান, রাতে যশোর থেকে একটি ডালবোঝাই ট্রাক পাবনা যাচ্ছিল। রাত ১টার দিকে গাড়াগঞ্জ এলাকার বড়দহ পুরাতন সেতুর ওপর পৌঁছালে ঘন কুয়াশার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে কুমার নদে পড়ে যায় ট্রাকটি।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, খবর পেয়ে শৈলকুপা ও ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের ২ টি ইউনিট উদ্ধার কাজ শুরু করে। আজ (রবিবার) ভোরে হেলপার মুবারক হোসেন ও সকাল ৮টার দিকে চালক সোহেল শেখের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
৪৩ দিন আগে
ওষুধ সংকটে ভুগছে ঝিনাইদহের ১৮৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক
ঝিনাইদহ জেলাজুড়ে ১৮৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকে তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সেবাগ্রহীতারা জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পাচ্ছেন না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় মানুষজন। বাধ্য হয়ে অনেকেই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিক বা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনছেন।
ঝিনাইদহ সিভিল সার্জনের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার ৬৭টি ইউনিয়নের ১৮৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এক বছর আগেও এসব ক্লিনিক থেকে জ্বর, সর্দিকাশি, মাথাব্যথাসহ সাধারণ রোগের জন্য বিনামূল্যে ২৭ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ওষুধ সরবরাহ কমেছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা কৃষক বাবলু বিশ্বাস বলেন, কয়েক মাস ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ পাচ্ছি না। আগে তো সবরকম ওষুধ পাওয়া যেত। এখন আসলে শুধু কথা বলেই পাঠিয়ে দিচ্ছে।
ববিতা খাতুন নামে আরেক সেবাগ্রহীতা জানান, তার ছোট মেয়ের জ্বর আর ঠান্ডা লেগেছে। আগেও এখান থেকে বিনামূল্যে ওষুধ নিয়েছেন তিনি, কিন্তু এখন ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ না থাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ নেই বলে জানিয়েছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ, তাই বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
কালুহাটি কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মী মাজেদুল হক বলেন, আমাদের কাছে রোগী আসে, কিন্তু দেওয়ার মতো ওষুধ থাকে না। এতে রোগীরাও ক্ষুব্ধ হচ্ছেন, আমরাও বিব্রত হচ্ছি। এই অবস্থায় রোগী আসলে শুধু স্বাস্থ্যশিক্ষা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি।
ওষুধ সংকটের বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান বলেন, আগে অপারেশন প্ল্যানের মাধ্যমে ওষুধ কেনা হতো। ফলে কোনো ঘাটতি ছিল না। কিন্তু এখন ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রগ্রামের (ডিপিপি) মাধ্যমে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এটা একটি রাজনৈতিক প্রকল্প। আগামীতে কোনো রাজনৈতিক সরকার আসলে হয়তো এই সংকট কেটে যাবে।
৪৩ দিন আগে