ঝিনাইদহ
ট্রেনে উঠতে গিয়ে পিছলে পড়ে দুই পা বিচ্ছিন্ন, নারীর মৃত্যু
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ট্রেনে উঠতে গিয়ে পিছলে পড়ে দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে রাবেয়া খাতুন (৩৭) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এরপর ওই নারীকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় যশোরে নেওয়ার পথে বেলা ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহত রাবেয়া খাতুন রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেত জোয়ার সাহারা এলাকার ইকবাল হোসেনের মেয়ে। তিনি কালীগঞ্জে খালার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
স্থানীয় ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সকালের দিকে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী ‘কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি মোবারকগঞ্জ স্টেশনে এসে পৌঁছায়। ট্রেন ছাড়ার মুহূর্তে রাবেয়া দৌড়ে উঠতে গিয়ে ট্রেনের পাপোশে পা পিছলে নিচে পড়ে যান। এতে ট্রেনের চাকার নিচে পড়ে তার দুটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং একটি হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান নয়ন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত এসে রাবেয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন। এরপর যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে বেলা ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
২ দিন আগে
১৮ মাস পর কিশোরী নিঝুম হত্যার রহস্য উদঘাটন
১৮ মাস ধরে নিখোঁজ থাকা নিঝুম খাতুনকে (১৭) অপহরণ ও শ্বাসরোধে হত্যার লোমহর্ষক রহস্য উদঘাটন করেছে ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় ঘুরতে নিয়ে গিয়ে প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিম (২৩) তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী রেল স্টেশনের নির্জন এলাকায় ফেলে রেখে যান। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া নিঝুমের মরদেহ অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম সংস্থা। পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা স্বীকার করে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন জিম। তিনি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার রাখালভোগা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানান, গত বছরের ১৩ মার্চ মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন নিঝুম খাতুন। ওই দিনই ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তাকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী রেলস্টেশনের নির্জন এলাকায় নিয়ে যান প্রেমিক জিম। সেখানে বিয়ের বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
আসামি জিমের উদ্বৃতি দিয়ে পুলিশ সুপার আরও জানান, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জিম নিঝুমকে থাপ্পড় মারলে তিনি জ্ঞান হারান। ওই সময় নিঝুম রোজা ছিল। তাকে মৃত ভেবে জিম নির্জন জঙ্গলে টেনে নিয়ে যান এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে একটি গর্তে ফেলে রাখেন। এরপর ট্রেনে করে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনার চার দিন পর, অর্থাৎ ১৭ মার্চ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ পাকশী রেলস্টেশনের ওই নির্জন জায়গা থেকে এক অজ্ঞাতনামা কিশোরীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে একটি অপমৃত্যু মামলা করে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
অন্যদিকে মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল মহেশপুর থানায় জিডি এবং পরবর্তীতে পাঁচজনকে আসামি করে অপহরণ মামলা করেন নিঝুমের মা তাসলিমা খাতুন। দীর্ঘদিন নিঝুমের খোঁজ না মেলায় ঝিনাইদহ জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল যৌথভাবে মাঠে নামে। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে জিমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের নির্মম বিবরণ দেন।
এরপর আসামি জিমকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরদীর পাকশী এলাকায় ঘটনাস্থল শনাক্ত করে সাইবার সেল। সিআইডির ক্রাইম সিন বিশেষজ্ঞদের আর্কাইভে সংরক্ষিত সেই অজ্ঞাত মরদেহের কাপড়ের ছবি দেখে জিম নিশ্চিত করেন, উদ্ধার করা সেই মরদেহটি নিঝুমেরই ছিল।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) হিমানিশ জানান, আসামি জিম আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইকলাচুর রহমান জানান, আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল (মঙ্গলবার) আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ও সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেলের দক্ষ টিম সমন্বিতভাবে কাজ করে এই জটিল ও ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। জেলায় অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
৫ দিন আগে
ঝিনাইদহের কৃষিতে আশা দেখাচ্ছে সৌরসেচ
জ্বালানি ও বিদ্যুতের বাড়তি দামে সেচের খরচ মেটাতে হিমশিম খাওয়া কৃষকদের জন্য ঝিনাইদহের মাঠে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। এতে কৃষকদের সেচের খরচ কমার পাশাপাশি বাড়তি আয়েরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা নিজেদের জমিতে তুলনামূলক কম খরচে সেচ দিতে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্প ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত সেচের পানি আশপাশের কৃষকদের কাছে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার মহেশপুর, কোটচাঁদপুর ও সদর উপজেলায় ইতোমধ্যে ১০৬টি সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প চালু হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সাতটি, এইড ফাউন্ডেশনের ৩৪টি ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ৬৫টি পাম্প রয়েছে। শুধু সীমান্তঘেঁষা মহেশপুরেই স্থাপন করা হয়েছে ৩২টি পাম্প। এর বাইরেও কিছু ছোট ছোট সৌর প্যানেল রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ) স্মার্ট প্রকল্পের মাধ্যমে এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) উদ্যোগে ব্যক্তিগত পর্যায়েও বসানো হচ্ছে সোলার প্যানেল।
ফুলচাষিদের বাড়তি আয়
সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে মহেশপুরের সীমান্ত এলাকার ফুলচাষিদের মাঝে।
উপজেলার ফুলচাষি গফুর মিয়া জানান, সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প বসানোর পর থেকে তেল বা বিদ্যুতের কোনো ঝক্কি আর তাকে পোহাতে হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, নিজের জমিতে সেচ দেওয়ার পর সাশ্রয়কৃত পানি অন্যদের কাছে বিক্রি করে ভালো বাড়তি আয় হচ্ছে।
একই এলাকার কৃষক সাদিকুল রহমান জানান, প্রকল্পের ঋণ ও অনুদান নিয়ে তিনি সৌর সেচ প্রকল্প গড়ে তুলেছেন।
তিনি আরও বলেন, নিজের জমির চাহিদা মিটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে আশপাশের আরও ১৫ বিঘা জমিতে নিয়মিত সেচ দিচ্ছেন।
৫ দিন আগে
উদ্বোধনের পর থেকেই বন্ধ ঝিনাইদহের ১০ কোটি টাকার আধুনিক কসাইখানা
ঝিনাইদহে ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক কসাইখানাটি উদ্বোধনের পরদিন থেকেই বন্ধ রয়েছে। কসাইদের অনাগ্রহ ও দক্ষ জনবলের অভাবে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে কোটি টাকার মেশিনপত্র অব্যবহৃত পড়ে থেকে মরিচা ধরছে। অন্যদিকে, কসাইখানাটি বন্ধ থাকলেও প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল গুনছে পৌরসভা।
ফলে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণের পরও শহরের মাংস ব্যবসায়ীরা ঘিঞ্জি পরিবেশে বাজারের পাশে গরু-ছাগল জবাই করছেন।
ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশলী রাশেদ আলী খান জানান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় কসাইখানাটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি এলডিডিপি ও ঝিনাইদহ পৌরসভার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ওই বছরের ৬ আগস্ট নির্মাণকাজ শুরু হয়।
দীর্ঘ আড়াই বছর পর চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি কসাইখানাটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ১৭ জুন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহ শহরের পবহাটী কলার হাটসংলগ্ন ৪৯ শতক জমির ওপর নির্মিত কসাইখানাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, আড়াই হাজার বর্গফুটের কসাইখানাটিতে গরু ও ছাগল জবাইয়ের জন্য দুটি পৃথক স্বয়ংক্রিয় স্লটার লাইন রয়েছে। এগুলো দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২টি গরু এবং ২০টি ছাগল স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব।
তবে উদ্বোধনের পর থেকেই কসাইদের অনাগ্রহের কারণে কসাইখানাটি চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এর মূল ফটকে তালা ঝুলছে। ভেতরে আমদানি করা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় আছে।
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চান জানান, আধুনিক মেশিন পরিচালনার জন্য বহু চেষ্টা করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটিও করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কসাইখানাটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, মেশিন পরিচালনার জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ানও প্রয়োজন। এসব কারণে আপাতত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
তবে মাংস ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বয়ংক্রিয় মেশিনে চামড়া ছাড়ানোর সময় চামড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত মাংস চলে যায়। এতে তাদের লোকসান হয়। এ কারণে তারা আধুনিক কসাইখানায় যেতে আগ্রহী নন। তাই প্রথাগত পদ্ধতিতেই তারা বাজারের পাশে পশু জবাই করছেন।
মাংস ব্যবসায়ী মোস্তাক বলেন, ‘পবহাটী কলার হাট এলাকাটা শহরের মূল মাংস বাজার থেকে অনেক দূরে। ভোর ৪টার সময় গরু-ছাগল নিয়ে এত দূরে যাওয়া আমাদের জন্য কষ্টকর। তাই অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাছাড়া আধুনিক স্লটার হাউসে প্রতি গরু জবাইয়ের ফির পরিমাণও বেশি। বেশি টাকা দিয়ে আমাদের পোষাবে না।’
তবে মাংস বেশি চলে যাওয়ার অভিযোগ নাকচ করে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘মাংস বেশি চলে যাচ্ছে, এটা ঠিক নয়। আধুনিক পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চামড়া ছাড়ানো হচ্ছে। প্রথম দিকে একটু সমস্যা মনে হলেও এটাই আন্তর্জাতিক মানের পদ্ধতি। ব্যবসায়ীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’
ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘কসাইখানাটি অত্যন্ত আধুনিক। এটি পরিচালনার জন্য দক্ষ অপারেটর প্রয়োজন। আমরা লোকবল তৈরির চেষ্টা করছি। বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রাখতে এবং মেশিনগুলো ভালো রাখতে ন্যূনতম বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত মাংস উৎপাদনের জন্য কসাইখানাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি চালু হলে ঝিনাইদহবাসী নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস পাবে।
৬ দিন আগে
ঝিনাইদহে বন্দুকসহ ‘সন্ত্রাসী’ আবু সাইদ গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহে হরিণাকুণ্ডু এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত আবু সাইদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি ওয়ান শুটার গান জব্দ করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহ সদর থানায় আবু সাইদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি নতুন মামলা হয়েছে।
এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ১২টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহিষকুণ্ডু মাঠপাড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আবু সাইদ হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পারদখলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহিষকুণ্ডু মাঠপাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে আত্মগোপনে বসবাস করছিলেন।
ঝিনাইদহ গোয়েন্দা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহিষকুণ্ডু এলাকায় এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী অবৈধ অস্ত্রসহ অবস্থান করছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে ডিবি পুলিশের একটি দল ওই ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালায়। স্থানটি ঘেরাও করে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে আবু সাইদের কাছ থেকে একটি অবৈধ ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, ‘গ্রেপ্তার আবু সাইদ এলাকার একজন দুর্ধর্ষ ও পরিচিত সন্ত্রাসী। তিনি হরিণাকুণ্ডু অঞ্চলে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে বিভিন্ন অপরাধ চেইন নিয়ন্ত্রণ করতেন। পুলিশের রেকর্ডে তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও একাধিক অস্ত্র মামলাসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের তথ্য রয়েছে। তার হেফাজত থেকে ১টি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার আবু সাইদের বিরুদ্ধে আজ (বুধবার) ঝিনাইদহ সদর থানায় অস্ত্র আইনে একটি নতুন মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বুধবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১২ দিন আগে
শৈলকুপায় ঘাস কাটার মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দম্পতি নিহত
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় গবাদিপশুর জন্য ঘাস কাটা মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক বৃদ্ধ দম্পতি নিহত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে শৈলকুপার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: মাধবপুর গ্রামের অমরেন্দ্রনাথ ভৌমিক (৭০) এবং তার স্ত্রী মিনা ভৌমিক (৬০)।
প্রতিবেশী মুকুল হোসেন জানান, আজ (বুধবার) সকালে অমরেন্দ্রনাথ তার বাড়ির গোয়ালঘরে গবাদিপশুর খাবার প্রস্তুত করার জন্য বৈদ্যুতিক মেশিনে ঘাস কাটতে যান। কাজের একপর্যায়ে তিনি দুর্ঘটনাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্বামীকে ছটফট করতে দেখে তাকে উদ্ধার করতে স্ত্রী মিনা রানী এগিয়ে যান। কিন্তু কোনো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা না থাকায় তিনিও ঘটনাস্থলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়েন।
প্রতিবেশীরা টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদুজ্জামান জোহা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক জানান, ‘হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মূলত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কারণে দ্রুত তাদের মৃত্যু হয়েছে।’
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকায় তদন্ত ছাড়াই মরদেহ সৎকারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর এমন আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় মাধবপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৩৩ দিন আগে
ঝিনাইদহে শিক্ষিকাকে অচেতন করে সোনার গহনা লুট, গ্রেপ্তার ২
চলন্ত বাসে সুকৌশলে চেতনানাশক ডাবের পানি খাইয়ে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় আন্তঃজেলা অজ্ঞান পার্টির দুই দুর্ধর্ষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশের যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর ও মাগুরায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা দামোদর গ্রামের দুলাল হাওলাদার ওরফে ‘মলম দুলাল’ (৪০) এবং মাগুরা সদর উপজেলার বোগিয়া গ্রামের মো. তিলক খান (৪৪)।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গত ২৯ জুন যশোর থেকে ‘শাপলা পরিবহনে’ চড়ে কোটচাঁদপুরে ফিরছিলেন এক মাধ্যমিক শিক্ষিকা। বাসটি কোটচাঁদপুরের এলাঙ্গী বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে অজ্ঞান পার্টির এক সদস্য তাকে চেতনানাশক মেশানো ডাবের পানি পান করতে দেন। পানি পানের কিছুক্ষণ পরই ওই শিক্ষিকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরবর্তী সময়ে বাস গন্তব্যে পৌঁছালে তার স্বামী গাড়ির ভেতরে স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ সময় চক্রটি শিক্ষিকার পরিহিত সোনার গহনা (চেইন, আংটি ও খাড়ু) খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরদিন গত ৩০ জুন ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা করেন।
এরপর লুটপাটের চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেন।
নির্দেশনার পর তদন্তকারী দল ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর গাজীপুরের টঙ্গী এবং মাগুরা সদরে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা ‘মলম দুলাল’ ও তার সহযোগী তিলক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের দায়িত্বরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইখলাচুর রহমান মিঠু জানান, প্রযুক্তির নিখুঁত বিশ্লেষণে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে মাগুরা ও গাজীপুরে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার দুই অপরাধীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় চলন্ত বাস ও যাত্রীবাহী যানবাহনে বিষাক্ত দ্রব্য প্রয়োগ করে মালামাল লুটের একাধিক মামলা রয়েছে।
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান জানান, ‘সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ রাখতে এবং অপরাধীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। অজ্ঞান পার্টিসহ যেকোনো সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
৩৪ দিন আগে
৫০ দিন অপেক্ষা করেও ঝিনাইদহে দাফন হওয়া আফগান নাগরিকের মরদেহ নিতে ব্যর্থ ভাই
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া সুদূর আফগানিস্তানের নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ দাফনের পৌনে পাঁচ মাস পর মরদেহ নিতে বাংলাদেশে এসেছেন তার আরেক ভাই ইমাল মোহাম্মদী। তিনি বাংলাদেশে ৫০ দিন ধরে অবস্থান করলেও দাপ্তরিক জটিলতায় কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়াটি আটকে আছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত নিয়ে নিহতের ভাই প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ সুদূর আফগানিস্তান থেকে ঝিনাইদহে এসে পৌঁছালেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে পরিবারটি।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। পিবিআই আঙুলের ছাপ নিয়ে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজে কোনো মিল না পাওয়ায় মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ১৪ এপ্রিল ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহের ছবি দেখে নিহতের স্বজনরা নিশ্চিত হন যে নিহত ব্যক্তি আফগানিস্তানের কাবুলের পাঞ্জাশির এলাকার কুন্ডুস গ্রামের ইয়াসিন মোহাম্মদী ও সকিনা মোহাম্মদী দম্পতির ছেলে হাসমত মোহাম্মদী। হাসমতের মৃত্যুর পর তার লন্ডন প্রবাসী আরেক ভাই মীর ওয়াইস মোহাম্মদী লন্ডন থেকে ঝিনাইদহে আসলেও আইনি জটিলতার কারণে মরদেহ না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
এরপর নিহতের দাফন হওয়ার ৪ মাস ২৪ দিন পর তার আরেক ভাই ইমাল মোহাম্মদী ভাইয়ের মরদেহ স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে গত ৬ জুলাই ডিএনএ টেস্টের নথিপত্র, মন্ত্রণালয়ের চিঠি, পরিচয়পত্র ও প্রমাণাদিসহ ঝিনাইদহে আসেন।
মৃত হাসমত মোহাম্মদীর বাংলাদেশি আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন শাখা-১-এর উপসচিব কাজী আরিফুর রহমান গত ১১ আগস্ট পররাষ্ট্র সচিব, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর এক পত্রে নিহতের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে আফগানিস্তানে পাঠাতে অনাপত্তি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি না থাকায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া থেমে আছে।
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টিতে যেহেতু একটি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিক জড়িয়ে আছেন, তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও হস্তান্তর সম্ভব হচ্ছে না।
ঝিনাইদহের একটি হোটেলে অবস্থানরত ইমাল মোহাম্মদী অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে তার ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তারা শুধু চান ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মরদেহটি নিজ দেশে নিয়ে দাফন করতে। এভাবে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘোরাঘুরি করাটা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে। এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফিরতি চিঠির অপেক্ষা করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, মানবিক দিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে করে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে নিতে পারে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন আজ (সোমবার) বিকেলে জানান, আমরা সব ধরনের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত আছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেলে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
৩৫ দিন আগে
ঝিনাইদহে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে যুবক নিহত: জোড়া মামলায় আসামি ২ শতাধিক
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে হাবিব নামে এক ব্যক্তি নিহত ও সুমন নামে আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় ২ শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে এ ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা করা হয়। কালীগঞ্জ থানার বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে মামলা দুটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।
পুলিশ সূত্র জানায়, গরু চুরির অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেছেন গরু চুরিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা ইয়াসমিন। এতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংঘবদ্ধ পিটুনিতে গুরুতর আহত সুমনের ভাই ও যশোর শহরের আরাপপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে দুই শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলাটি করেছেন।
উল্লেখ্য, গেল শুক্রবার ভোর রাতে বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা বেগমের বাড়িতে গরু চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হন হাবিব ও সুমন। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের একটি বাঁশের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে।
সংঘবদ্ধ পিটুনির একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই হাবিবের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে মুমূর্ষু অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলা ও তদন্তের বিষয়ে এসআই আবুল কালাম আজাদ জোড়া মামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, ‘দুই শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করবে।’
৩৬ দিন আগে
ঝিনাইদহে ছয় মাসে ১৮৯ জনের আত্মহত্যা
ঝিনাইদহে গত ছয় মাসে ১৮৯ জন আত্মহত্যা করেছে। যেকোনো ধর্মে আত্মহননকে মহাপাপ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও ঝিনাইদহ জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আত্মঘাতী প্রবণতা। মানসিক যন্ত্রণা, পারিবারিক কলহ ও হতাশার কাছে হার মেনে মূল্যবান জীবন বিসর্জন দেওয়ার এই ঘটনা সমাজে ধর্মীয় অনুশাসনের চরম ঘাটতি ও নৈতিক অবক্ষয়কে স্পষ্ট করে তুলছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে মানবাধিকার সংগঠন রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (আরডিসি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
এদিকে, জেলাজুড়ে এই আত্মহননের চিত্র স্থানীয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ধর্মীয় চিন্তাবিদদের মনেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরডিসির প্রধান নির্বাহী মো. আব্দুর রহমান জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জেলার ছয়টি উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে এবং বিষপান করে মোট ১৮৯ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা ৯৭ এবং পুরুষ ৯২ জন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গত বছরের প্রথম ছয় মাসে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ১২৫ জন, যার তুলনায় এবার আরও ৬৪ জন বেশি। উপজেলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আত্মহননে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা, যেখানে এ ছয় মাসে ৫৯ জন (পুরুষ ৩০, নারী ২৯) মারা গেছেন।
এছাড়া, শৈলকুপায় ৪৪ জন (নারী ২৬, পুরুষ ১৮), হরিণাকুণ্ডুতে ২৫ জন (নারী ১৫, পুরুষ ১০), কোটচাঁদপুরে ২১ জন (পুরুষ ১৪, নারী ৭) এবং কালীগঞ্জ ও মহেশপুরে ২০ জন করে আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
৪৪ দিন আগে