ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে ছয় মাসে ১৮৯ জনের আত্মহত্যা
ঝিনাইদহে গত ছয় মাসে ১৮৯ জন আত্মহত্যা করেছে। যেকোনো ধর্মে আত্মহননকে মহাপাপ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও ঝিনাইদহ জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আত্মঘাতী প্রবণতা। মানসিক যন্ত্রণা, পারিবারিক কলহ ও হতাশার কাছে হার মেনে মূল্যবান জীবন বিসর্জন দেওয়ার এই ঘটনা সমাজে ধর্মীয় অনুশাসনের চরম ঘাটতি ও নৈতিক অবক্ষয়কে স্পষ্ট করে তুলছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে মানবাধিকার সংগঠন রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (আরডিসি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
এদিকে, জেলাজুড়ে এই আত্মহননের চিত্র স্থানীয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ধর্মীয় চিন্তাবিদদের মনেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরডিসির প্রধান নির্বাহী মো. আব্দুর রহমান জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জেলার ছয়টি উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে এবং বিষপান করে মোট ১৮৯ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা ৯৭ এবং পুরুষ ৯২ জন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গত বছরের প্রথম ছয় মাসে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ১২৫ জন, যার তুলনায় এবার আরও ৬৪ জন বেশি। উপজেলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আত্মহননে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা, যেখানে এ ছয় মাসে ৫৯ জন (পুরুষ ৩০, নারী ২৯) মারা গেছেন।
এছাড়া, শৈলকুপায় ৪৪ জন (নারী ২৬, পুরুষ ১৮), হরিণাকুণ্ডুতে ২৫ জন (নারী ১৫, পুরুষ ১০), কোটচাঁদপুরে ২১ জন (পুরুষ ১৪, নারী ৭) এবং কালীগঞ্জ ও মহেশপুরে ২০ জন করে আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
৩ দিন আগে
ঝিনাইদহে সাবেক এমপি নায়েব আলী জোয়ার্দ্দারসহ গ্রেপ্তার ৫
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা ও সাম্প্রতিক সময়ে শৈলকুপার সারুটিয়া ইউনিয়নে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল আয়োজনের অভিযোগে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নায়েব আলী জোয়ার্দ্দারসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ শহর ও শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন: শৈলকুপার দুধসর গ্রামের নায়েব আলী জোয়ার্দ্দার (৭২) ও বাদশা আলমগীর (৫৬), বালাপাড়া গ্রামের মাজিবুল ইসলাম (৫৭), গোসাইডাঙ্গা গ্রামের আল নাহিয়ান সাকিব (১৯) এবং মহিষাখোলা গ্রামের মো. হাসিবুল ইসলাম (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ভারতে অবস্থানরত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা, এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা এবং সারুটিয়া ইউনিয়নে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল আয়োজনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচ জনের বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। আজ (শনিবার) দুপুরে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
৩ দিন আগে
ঝিনাইদহে নেশার টাকার জন্য মাকে গলা কেটে ‘হত্যা’, ছেলে আটক
ঝিনাইদহের মহেশপুরে নেশার টাকা না পেয়ে ঘুমন্ত মাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে ইখলাসের (৩২) বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোরে উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শকের বানু (৬০) ওই এলাকার মৃত জেকের আলীর স্ত্রী।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, ইখলাস দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকের টাকার জন্য তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতেও নেশার টাকা নিয়ে মা শকের বানুর সঙ্গে তার প্রচণ্ড কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইখলাস মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরে ভোরে ঘরে ঢুকে তার ঘুমন্ত মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন ইখলাস। এরপর তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
সকালে নিহতের ছোট ছেলের স্ত্রী শাশুড়ির ঘরে খাবার দিতে গিয়ে বিছানায় রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মহেশপুর থানা-পুলিশে খবর দেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। অন্যদিকে, ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ইখলাসকে ধাওয়া করে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, মাদকের টাকার জন্য মা ও ছেলের মধ্যে বিরোধের জের ধরেই এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত ইখলাসকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
৪ দিন আগে
বাজার সিন্ডিকেট-মজুতদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগের হুঁশিয়ারি আইনমন্ত্রীর
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, বাজার সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করা হবে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় পাট ও পেঁয়াজের পাইকারি হাট ও আড়ত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সকল সেক্টরের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষক যাতে লাভবান হন, আমরা সেদিকে এগিয়ে যাব। বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃষকদের জিম্মি করে ফেলেছেন। আমরা এই সিন্ডিকেট ভাঙতে কাজ করছি।’
বাজারে সিন্ডিকেট করে কৃষকদের জিম্মি করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বাজার ও ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে মজুতদারি ও বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষক ঘাম ঝরিয়ে ফসল উৎপাদন করলেও ন্যায্য দাম পান না। বাজারে পণ্য নিয়ে আসার পর বিভিন্ন ধরনের সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত তোলার কারণে কৃষক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, এক মণ পাট বা পেঁয়াজে অতিরিক্ত দুই কেজি করে তোলা দিতে হতো। এরপর আবার বাজারের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও হিজড়ারাও কৃষকের কাছ থেকে তোলা নেয়। ফলে দেখা গেছে, এক মণে কৃষককে ৪৫ কেজি দিতে হচ্ছে। এটা অনায্য।
বাজারের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে সব হাট ও বাজারে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
যেসব ব্যবসায়ী তোলা না পেলে কৃষকের কাছ থেকে মালামাল কিনবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাজার ছেড়ে চলে যান। বিকল্প ব্যবসায়ী এমনিতেই তৈরি হয়ে যাবে।
মজুতদারির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বাজার সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করা হবে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তাই যারা মজুতদারি করবেন, তাদের ভেবেচিন্তে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষক যাতে তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, অতিরিক্ত তোলা ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষকদের হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ সময় শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১০ দিন আগে
ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরে জড়িতদের শাস্তির দাবি
ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে অসম্পূর্ণ ভাস্কর্যের স্থান পরিদর্শন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধিদল। পাশাপাশি ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তারা।
পরে প্রতিনিধিদলটি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভাস্কর্যটি পূর্বের স্থানে পুনর্নির্মাণ এবং ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানায়।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি দলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও লেখক আবু সাঈদ খান, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক কমিশনার ও গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান লিটন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ফারাহ তানজীম তিতিল প্রমুখ। পরে বিকেলে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক আবু সাঈদ খান দাবি করেন, ওই স্থানেই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য রাখতে হবে। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘যারা ভাস্কর্য ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত, তারা স্পষ্টতই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি। স্বাধীনতার এত বছর পরও জাতীয় বীরদের ওপর এমন আঘাত কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এত বড় একটি ঘটনার পরও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আমরা অবিলম্বে এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলন চলাকালে ঢাকা থেকে আসা প্রতিনিধিদলকে আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে ঝিনাইদহের সংবাদকর্মীরা প্রশ্ন তোলেন। এ সময় ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বার্তা সংস্থা ইউএনবির ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি আসিফ কাজল ও চ্যানেল ২৪-এর জেলা প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন প্রশ্ন করেন, যে ভাস্কর্য নিয়ে আপনারা কথা বলছেন, সেটির অবয়ব বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের সঙ্গে মেলে না এবং স্থানীয়দের দাবির মুখেই এটি সরানো হচ্ছে। তাছাড়া রাস্তার মাঝখানে এটি থাকার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে এবং চালকদের চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। যে ভাস্কর্য ভাঙাই হয়নি তা নিয়ে অহেতুক আন্দোলন কেন করা হচ্ছে?’
সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিনিধি দলের আবু সাইদ জানান, তারা ভাস্কর্য ভাঙার বিপক্ষে, সেটা যারই হোক না কেন।
ঝিনাইদহ সদরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম বলেন, বাস টার্মিনাল এলাকার মোড়ে অবস্থিত উঁচু কাঠামোটির কারণে প্রতিদিন যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। একপাশের গাড়ি অন্যপাশ থেকে দেখা না যাওয়ায় সেখানে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনায় পড়ছিল যানবাহন ও পথচারীরা। এছাড়া অসমাপ্ত ওই চত্বরটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকায় তা মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছিল এবং চরম নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুলাই শহরের ওই মোড়ের চত্বর প্রশস্তকরণ ও বিকৃত কাঠামো অপসারণের কাজ শুরু হয়। পরে এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে ১৮ জুলাই অপসারণ কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে জেলা প্রশাসন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ মাস্টার ও সাবেক কমান্ডার কামালুজ্জামান বলেন, ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পূর্বে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের কোনো স্বীকৃত ভাস্কর্য ছিল বলে তাদের জানা ছিল না। তারা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠের নামে কোনো স্থাপনা তৈরি করতে হলে তা যথাযথ সম্মান, সঠিক অবয়ব ও নিরাপদ স্থানে হওয়া উচিত। এছাড়া বর্তমান জেলা প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে যে একটি মীমাংসিত ঘটনা নিয়ে পানি ঘোলা করা কাম্য নয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান অভিযোগ করেন, ‘জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস সত্ত্বেও ঢাকা থেকে এসে সংবাদ সম্মেলন ও ঝিনাইদহ ইস্যু তৈরি করার এই চেষ্টা মূলত দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে ঘোলাটে করার একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ।’
১২ দিন আগে
ঝিনাইদহে উদ্ধার ১০৬ মোবাইল ও ৬৭ হাজার টাকা ফেরত দিল পুলিশ
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের অভিযানে উদ্ধার হওয়া ১০৬টি মোবাইল ফোন ও প্রতারণামূলকভাবে হাতিয়ে নেওয়া ৬৭ হাজার ৪৫৭ টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মোবাইল ফোন ও টাকা প্রকৃত প্রাপকদের হাতে তুলে দেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার (এসপি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,, গত ১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে কালীগঞ্জ ও ঝিনাইদহ সদর থানার দুটি হত্যা মামলার ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া কোটচাঁদপুর থানার একটি ডাকাতি মামলার ৩ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়াও সদর থানার একটি দস্যুতা মামলার ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করে লুণ্ঠিত একটি ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। কালীগঞ্জ থানার একটি দস্যুতা মামলার ১ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সদর থানার দুটি অপহরণ মামলার দুই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ১০৬টি হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভুলবশত চলে যাওয়া ৬৭ হাজার ৪৫৭ টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার ২৮ জন ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে নিখোঁজ হওয়া দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও জনগণের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তিনির্ভরতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সাইবার বুলিং একটি গুরুতর সামাজিক ও আইনি অপরাধ। নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গঠনে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানাচ্ছি।’
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মোসফেকুর রহমান ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১২ দিন আগে
ঝিনাইদহে সবজির বাজার দাম কমলেও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে
ঝিনাইদহে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম কিছুটা কমলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফেরেনি। পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের ব্যবধান এবং সামগ্রিক চড়া মূল্যের কারণে বাজার করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
এদিকে, সবজির বাজার সামান্য কমতির দিকে হলেও মাছের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। রুই, কাতলা, মৃগেল থেকে শুরু করে নিম্নবিত্তের ভরসা তেলাপিয়াসহ সব ধরনের মাছের দামই এখন নাগালের বাইরে।
শনিবার (১ আগস্ট) ঝিনাইদহ শহরের প্রধান কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, গত ১৫-২০ দিন আগের আকাশছোঁয়া দাম থেকে বর্তমানে প্রায় সব ধরনের সবজির দামই কিছুটা কসেছে। তবে পাইকারি কেনা দামের চেয়ে খুচরা বিক্রি দামে রয়েছে উল্লেখযোগ্য ফারাক।
বর্তমানে বাজারে কাঁচামরিচ পাইকারি ২৪০ টাকায় কিনে বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি বেগুন ৮৫ টাকায় কিনে ১০০ টাকা, টমেটো ১১০ টাকায় কিনে ১৪০ টাকা, পটল ৪৭ টাকায় কিনে ৬০ টাকা, উচ্ছে ৮৫ টাকায় কিনে ১০০ টাকা, বরবটি ৬৮ টাকায় কিনে ৮০ টাকা এবং গাজর ১২০ টাকায় কিনে ১৪০ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে, ঢেঁড়শ ৩৫ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, মুলা ৪৫ টাকায় কিনে ৬০ টাকা এবং কচু ৪০ টাকায় কিনে ৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
শীতকালীন আগাম সবজির মধ্যে বাঁধাকপি ৬৫ টাকায় কিনে ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং পালংশাক প্রতি আঁটি ১৭ টাকায় কিনে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ২৫ টাকায় কিনে ৪০ টাকা এবং পেঁপে ২৫ টাকায় কিনে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। আলুর কেজি প্রতি ৩০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় স্থির থাকলেও রসুনের দাম পৌঁছেছে ১০০ টাকায়।
সবজির দাম কিছুটা কমলেও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এই দরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারিড়ার বাসিন্দা তাহুরা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, ‘তিন সপ্তাহ আগের চেয়ে দাম দুই-এক টাকা কমলেও আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এই দামে বাজার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যে আয়, তাতে সংসার চালানোই দায়; তার ওপর তরকারির এই দাম।’
একই সুর উপ-শহরপাড়ার বেবি খাতুনের কণ্ঠে। তিনি বলেন, কাগজে-কলমে দাম কমার কথা শুনলেও বাজারে এসে দেখি উল্টো চিত্র। এক কেজি তরকারি কিনতে গেলে অন্য তরকারি আর কেনা হচ্ছে না। মাছের বাজারে তো যাওয়ারই উপায় নেই।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তরকারি বিক্রেতা রমজান আলী ও আবুল কালাম জানান, অতিবৃষ্টি ও অপ্রতুল সরবরাহের কারণে ১৫-২০ দিন আগে দাম খুব বেশি ছিল। এখন সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম আস্তে আস্তে কমতির দিকে। তবে পাইকারি বাজার থেকে পরিবহন খরচ ও অপচয় হিসাব করেই খুচরা দর নির্ধারণ করতে হয়।
ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকার কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আশাদুল ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আগের সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে বাজারে দাম আরও কমে আসবে।
এদিকে, কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকেও মিলেছে ইতিবাচক বার্তা। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুজ্জামান জানান, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো ভারী বৃষ্টিপাত না হলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন সবজি বাজারে পুরোদমে উঠবে। তখন তরিতরকারির বাজার পুরোপুরি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।’
১৭ দিন আগে
ছয় বছরে হয়েছে ২ শতাংশ কাজ, অনিশ্চয়তায় ঝিনাইদহ-যশোর ৬ লেন প্রকল্প
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উইকেয়ার ফেজ-১-এর আওতায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ করে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও ধীরগতির কারণে নির্মাণকাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। উল্টো মহাসড়কজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি ও খানাখন্দের কারণে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরেই প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। প্রথম লটে অগ্রগতি প্রায় ১০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় লটে মাত্র ২ শতাংশ। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিসেম্বর ২০২৬-এর পর বিশ্বব্যাংক আর অর্থায়ন করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা কালীগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং ঝিনাইদহ সদর এলাকায় প্রায় ৫০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। প্রশাসনিক সহায়তা ও জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও নির্মাণকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলতা নিয়ে।
প্রকল্পের ধীরগতির জন্য শুরুতে জমি অধিগ্রহণকে দায়ী করা হলেও বর্তমানে মূল অভিযোগের তীর লট-২ ও ৩-এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড এবং লট-১-এর দায়িত্বে থাকা ম্যাক্স (এলআর বিসি-মিল জেভি, চীন)-এর স্থানীয় প্রতিনিধিদের দিকে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় জমি পাওয়ার পরও তারা কাজ এগিয়ে নিতে চরম গড়িমসি করছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, জমি অধিগ্রহণে সরকারের ছয়টি বিভাগের সমন্বয় প্রয়োজন হওয়ায় জরিপ ও পরিদর্শন প্রতিবেদনে বিলম্ব হয়েছিল। এতে শুরুতে অধিগ্রহণের গতি কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে জেলা প্রশাসন দ্রুতগতিতে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করছে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুবীর কুমার দাশ বলেন, ‘আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। বরং দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটি যাতে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সহায়ক হয়, সেভাবেই আমরা অধিগ্রহণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।’
২১ দিন আগে
ঝিনাইদহে হাঁটতে বের হয়ে ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ নিহত
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সকালে হাঁটতে বের হয়ে ট্রাকের চাপায় তারিফ উদ্দীন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের চণ্ডীপুর এলাকায় হান্নান ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তারিফ উদ্দীন শৈলকুপা উপজেলার বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো আজও ফজরের নামাজ আদায় শেষে মহাসড়কের পাশ দিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন তারিফ উদ্দীন। এ সময় হান্নান ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে কুষ্টিয়াগামী একটি দ্রুতগতির ১০ চাকার ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরই ট্রাকটি পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে শৈলকুপা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
আরাপপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহানুর আলী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। ট্রাকটি এখনো জব্দ করা সম্ভব হয়নি, তবে সেটি শনাক্তে কাজ চলছে।
২৭ দিন আগে
৫৪ বছরেও মেলেনি বিভাগীয় স্বীকৃতি, ঝিনাইদহে ডাক বিভাগের কর্মচারীদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে গ্রাহক
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সরকারি ডাক বিভাগের এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল (ইডি) কর্মচারীরা এখনও বিভাগীয় কর্মচারীর স্বীকৃতি পাননি। মাত্র ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৪৬০ টাকার ভাতায় দিনরাত দায়িত্ব পালন করা এসব কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির ‘ন্যায্য’ দাবিতে গত ৬ জুলাই থেকে ঝিনাইদহসহ সারা দেশে পূর্ণ কর্মবিরতি ও ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এর ফলে ঝিনাইদহে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ডাকসেবা। এতে করে সাধারণ গ্রাহকরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
আন্দোলনরত কর্মচারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে আমাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আন্দোলনরত গোপালপুর শাখা পোস্টমাস্টার রিপন হোসেন বলেন, ‘ঝিনাইদহে ১০৪টি শাখা ডাকঘরে প্রায় ৩০০ জন এবং সারা বাংলাদেশে ৮ হাজার ৫৪৩টি ডাকঘরে মোট ২৩ হাজার ২১ জন ইডি কর্মচারী কর্মরত আছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈষম্যের শিকার।’
তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার আন্দোলন-সংগ্রামের মুখে ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিলেও বিগত ৮ বছরেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এমনকি আমাদের কোনো উৎসব ভাতা বা ঈদ বোনাসও নেই। বর্তমান বাজারদরে এই সামান্য আয়ে সংসার চালানো আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
৩৪ দিন আগে