ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ
ঝিনাইদহের শৈলকূপায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বিষ্ণুদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেলা যুবদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী ও শৈলকূপা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবুল বাশার সাদাতের সমর্থকদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। দুই দিন আগে বিষ্ণুদিয়া গ্রামে মসজিদের জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দুই নেতার ওই গ্রামের সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে গতকাল (সোমবার) সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে অন্তত উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন।
শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্ল্যা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সবাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৬ দিন আগে
পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ঝিনাইদহ কারাগারের ৭৯ জন কয়েদি
দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইদহ জেলার ২১ হাজার ১২১ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ঝিনাইদহ কারাগারে বন্দি ৭৯ জন কয়েদি ভোট দিতে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন।
ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহে নিবন্ধিত পোস্টাল ব্যালট ভোটারদের মধ্যে জেলা কারাগারে থাকা বন্দি ভোটার রয়েছেন ৭৯ জন। এছাড়া ঝিনাইদহের বাসিন্দাদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যান্য ভোটার রয়েছেন ১৪ হাজার ৫১১ জন। অপরদিকে বিভিন্ন দেশে ঝিনাইদহের প্রায় ৮৫ হাজার প্রবাসীর মধ্যে ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন মাত্র ৬ হাজার ৫৩১ জন।
সূত্র আরও জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, ঝিনাইদহ-১ আসনে ৪ হাজার ৬০ জন, ঝিনাইদহ-২ আসনে ৭ হাজার ১৩৮ জন, ঝিনাইদহ-৩ আসনে ৫ হাজার ৪০৬ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনে ৪ হাজার ৪৩৮ জন ভোটারকে আসনভিত্তিক ভোট দেওয়ার জন্য পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ভোটাররা তাদের ভোট প্রধান করতে পারবেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোস্টাল ব্যালট ভোটার মজনুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবারই চাকরির কারণে এলাকার বাইরে থাকায় ভোট দেওয়া সম্ভব হয়নি। এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত। এতে আমার মতো অনেকেই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।’
আজ (বুধবার) জেলা নির্বাচন অফিসার আবুল হোসেন জানান, কর্মস্থল, বিদেশ বা কারাবন্দি থাকার কারণে যারা এতদিন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেননি, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
এটি নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা আলমগীর হুসাইন জানান, পোস্টাল ব্যালট ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালুর ফলে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।
১২ দিন আগে
ঝিনাইদহে অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ২১ প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনা
ঝিনাইদহের ইতিহাস মানেই শুধু অতীত নয়, এটি এই জনপদের আত্মপরিচয়। সময়ের স্রোতে কালের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঝিনাইদহের শতাব্দী-প্রাচীন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনাগুলো আজ চরম অবহেলার শিকার। অযত্ন, অপরিকল্পিত ব্যবহারে ক্ষয় আর যথাযথ সংরক্ষণ ও তদারকির অভাবে জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের গর্ব বহনকারী ৬ উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা ২১টি প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনাই এখন অস্তিত্ব সংকটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে অমূল্য এসব স্থাপনার গল্প ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খুঁজতে হবে কেবল ইতিহাসের বইয়ের পাতায়।
জেলার মহেশপুর উপজেলার খালিশপুরে অবস্থিত ১৯ শতকে নির্মিত প্রাচীন নীলকুঠি ভবনটি এক সময় ঔপনিবেশিক শাসনামলের সাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন ছিল। ২০১২ সালের ১৪ জুন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গেজেটে তালিকাভুক্ত হলেও বাস্তবে ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণে নেই কার্যকর কোনো উদ্যোগ।
এছাড়া ঝিনাইদহের মিয়ার দালান, শৈলকুপার ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ, নলডাঙ্গার রাজবাড়ি মন্দির, বারোবাজারের ঐতিহাসিক মসজিদ, কৃষক আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্র ও গণিতবিদ কেপি বসুর বসতভিটাসহ জেলার তালিকাভুক্ত ২১টি প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনার অধিকাংশই আজ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের পথে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ২১টি ঐতিহাসিক ও প্রত্নসম্পদসমৃদ্ধ স্থাপনা ‘হেরিটেজ’ তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে কাগজে-কলমে এসব স্থাপনা ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত’ বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
মাঠপর্যায়ে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ স্থাপনাই কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষার আওতায় নেই। গেজেটভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বাস্তব সংরক্ষণ কার্যত অনুপস্থিত। শতবর্ষী এসব স্থাপনার অনেকগুলোই আজ সময়ের সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে। নিয়মিত সংস্কার, নিরাপত্তা বেষ্টনী, সাইনবোর্ড কিংবা পাহারাদার না থাকায় অনেক স্থাপনাই ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার পথে।
১৫ দিন আগে
ঝিনাইদহে কুয়াশার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক নদীতে, নিহত ২
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ে ২ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের গাড়াগঞ্জ এলাকার বড়দহ পুরাতন সেতুতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন—পাবনা সদর উপজেলার গাজামানিকুন্ডা গ্রামের আবুল কালাম শেখের ছেলে ট্রাকটির চালক সোহেল শেখ (২৭) এবং একই গ্রামের জাফর মিয়ার ছেলে ট্রাকের হেলপার মুবারক হোসেন (২০)।
ফায়ার সার্ভিসের যশোর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম জানান, রাতে যশোর থেকে একটি ডালবোঝাই ট্রাক পাবনা যাচ্ছিল। রাত ১টার দিকে গাড়াগঞ্জ এলাকার বড়দহ পুরাতন সেতুর ওপর পৌঁছালে ঘন কুয়াশার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে কুমার নদে পড়ে যায় ট্রাকটি।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, খবর পেয়ে শৈলকুপা ও ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের ২ টি ইউনিট উদ্ধার কাজ শুরু করে। আজ (রবিবার) ভোরে হেলপার মুবারক হোসেন ও সকাল ৮টার দিকে চালক সোহেল শেখের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
২৩ দিন আগে
ওষুধ সংকটে ভুগছে ঝিনাইদহের ১৮৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক
ঝিনাইদহ জেলাজুড়ে ১৮৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকে তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সেবাগ্রহীতারা জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পাচ্ছেন না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় মানুষজন। বাধ্য হয়ে অনেকেই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিক বা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনছেন।
ঝিনাইদহ সিভিল সার্জনের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার ৬৭টি ইউনিয়নের ১৮৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এক বছর আগেও এসব ক্লিনিক থেকে জ্বর, সর্দিকাশি, মাথাব্যথাসহ সাধারণ রোগের জন্য বিনামূল্যে ২৭ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ওষুধ সরবরাহ কমেছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা কৃষক বাবলু বিশ্বাস বলেন, কয়েক মাস ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ পাচ্ছি না। আগে তো সবরকম ওষুধ পাওয়া যেত। এখন আসলে শুধু কথা বলেই পাঠিয়ে দিচ্ছে।
ববিতা খাতুন নামে আরেক সেবাগ্রহীতা জানান, তার ছোট মেয়ের জ্বর আর ঠান্ডা লেগেছে। আগেও এখান থেকে বিনামূল্যে ওষুধ নিয়েছেন তিনি, কিন্তু এখন ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ না থাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ নেই বলে জানিয়েছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ, তাই বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
কালুহাটি কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মী মাজেদুল হক বলেন, আমাদের কাছে রোগী আসে, কিন্তু দেওয়ার মতো ওষুধ থাকে না। এতে রোগীরাও ক্ষুব্ধ হচ্ছেন, আমরাও বিব্রত হচ্ছি। এই অবস্থায় রোগী আসলে শুধু স্বাস্থ্যশিক্ষা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি।
ওষুধ সংকটের বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান বলেন, আগে অপারেশন প্ল্যানের মাধ্যমে ওষুধ কেনা হতো। ফলে কোনো ঘাটতি ছিল না। কিন্তু এখন ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রগ্রামের (ডিপিপি) মাধ্যমে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এটা একটি রাজনৈতিক প্রকল্প। আগামীতে কোনো রাজনৈতিক সরকার আসলে হয়তো এই সংকট কেটে যাবে।
২৩ দিন আগে
ঝিনাইদহে এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৫ জনের মৃত্যু
অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে ঝিনাইদহের সড়ক-মহাসড়ক মৃত্যু ফাঁদে পরণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত সড়কে প্রাণ ঝরছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও সড়ক মহাসড়কে থামানো যাচ্ছে না অবৈধ যান চলাচল। সড়ক দুর্ঘটনায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২০২৫ সালে ৭৫ জন নিহত হয়েছে।
ঝিনাইদহ হাইওয়ে পুলিশ, হাসপাতাল, জেলা পুলিশ ও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের এই সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিভিন্ন রুটে গত এক বছরে সর্বোচ্চ ১৯ জন, হরিণাকুন্ডু উপজেলায় ৯ জন, শৈলকুপা উপজেলায় ১৮ জন, কালীগঞ্জ উপজেলায় ৯ জন, কোটচাঁদপুর উপজেলায় ১১ জন ও মহেশপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৯ জন মানুষ।
নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগ মারা গেছে সড়কে চলাচলকৃত অবৈধ যানবাহনের কারণে। এছাড়া কিশোর ও তরুণ কলেজ শিক্ষার্থীরা দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর ফলে প্রাণ হারিয়েছেন।
নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের কর্মী সাকিব মোহাম্মদ আল হাসান মিজু জানান, সড়ক-মহাসড়কে ইঞ্জিনচালিত অবৈধ যানবাহন বন্ধ না করা হলে মানুষ সড়কে ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে পড়বে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। আবার এসব অবৈধ গাড়ি যারা চালান, তারাও হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য।
ঝিনাইদহ ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ মহাব্বত হোসেন টিপু বলেন, অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রন করতে না পারলে সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না। এ ক্ষেত্রে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে যুক্ত করতে হবে।
ঝিনাইদহ আরাপপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস জানান, সড়ক-মহাসকে অবৈধ যানবাহন মুক্ত করতে প্রতি নিয়ত হাইওয়ে পুলিশ নসিমন, করিমন, আলমসাধু, লাটাহাম্বার, ভটভটি ও ইজিবাইক আটক করে জরিমানা করছে। তারপরও তাদের থামানো যাচ্ছে না। জরিমানা দিয়ে তারা আবার মহাসড়কে ফিরছে।
তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশের একার পক্ষে অবৈধ যানচলাচল বন্ধ করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে যানবাহন চালক ও নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে।
২৬ দিন আগে
পেঁয়াজ রোপণের ভরা মৌসুমে ঝিনাইদহে শ্রমিক সংকট, মাঠে নেমেছে শিক্ষার্থীরা
ঝিনাইদহের গ্রামে গ্রামে পেঁয়াজের চারা রোপণে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিক সংকট কাটাতে কনকনে শীত আর কুয়াশাকে উপেক্ষা করে কৃষকের পাশাপাশি মাঠে নেমেছে স্কুল কলেজের তরুণ শিক্ষার্থীরা।
বার্ষিক পরীক্ষার পর অবসর সময়টুকু কাজে লাগাতে পরিবারের সম্মতিতে অনেক শিক্ষার্থী পেঁয়াজের খেতে কাজ করছেন। এতে প্রতিদিন তারা পাচ্ছেন ৫০০ টাকা মজুরি।
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
শৈলকুপার হাজরামিনা গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বড়দের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীরাও পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে পড়াশোনার চাপ না থাকায় বন্ধুরাও দল বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে।
শৈলকুপার গোবিন্দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন বন্ধু সনেট, রবিণ ও আরিফ ভোর ৭টার আগেই ৮ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে পৌঁছে গেছে মনোহরপুর ইউনিয়নের বিজুলিয়া মাঠে।
সেখানে কাজ করা আরিফ হোসেন জানায়, বাড়িতে অলস বসে থাকার চেয়ে কিছু টাকা রোজগার হলে পরিবারের উপকার হবে। এ জন্য সে ৫০০ টাকা হাজিরায় মাঠে পেঁয়াজ লাগাতে এসেছে।
দামুকদিয়া গ্রামের কৃষক মিন্টু মিয়া বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণে ১৫/২০ জন শ্রমিক দরকার হয়। হঠাৎ একসঙ্গে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে রোপণ শুরু হওয়ায় শৈলকুপা উপজেলায় শ্রমিক সংকট তীব্র হয়েছে।
তার ভাষ্য, ‘বাড়তি মজুরি দিলেও শ্রমিক মিলছে না। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীরাই ভরসা। তারা মাঠে না নামলে পেঁয়াজ রোপনের কাজ শেষ করা যেত না।’
শৈলকূপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান খান জানান, পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের অন্যতম এলাকা শৈলকূপা। চলতি মৌসুমে এখানে ১২ হাজার ৩২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টরে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উৎপাদন বাড়াতে ৫০০ কৃষককে এবার বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
শ্রমিক সংকটে শিক্ষার্থীদের মাঠে কাজ করা কৃষকদের বাড়তি সহায়ক শক্তি বলেও মনে করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
৩৮ দিন আগে
দুই জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
দেশের দুই জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় অন্তত ১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে কুমিল্লা ও ঝিনাইদহ জেলায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
গতকাল (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঝিনাইদহে দুইটি ট্রাকের সংঘর্ষে রবিউল ইসলাম (৬০) নামে এক চালক নিহত হয়েছেন। ঢাকা-ঝিনাইদহ সড়কের মারকাজ মসজিদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রবিউল ইসলামের বাড়ি মাগুরার শালিখা উপজেলার শাপাহাটি গ্রামে।
পুলিশ জানায়, যশোরগামী একটি বালিবাহী ট্রাক ঝিনাইদহ শহরের মারকাজ মসজিদের সামনে পৌঁছালে মাগুরা থেকে আগত বিচালি বোঝাই অপর একটি ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে বিচালি বোঝাই ট্রাকের চালক রবিউল ইসলাম গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক হামিদুর রহমান বেলাল বলেন, ট্রাক চালক রবিউল ইসলামকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তিনি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান।
আরাপপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, মরদেহ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আর ট্রাক দুইটিকে জব্দ করা হয়েছে।
এর আগে, রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ওয়াইব্রিজের গোড়ায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সংঘর্ষে সৌদি আরব প্রবাসী একজন নিহত ও একজন আহত হন।
নিহত নিশাদ (২৬) উপজেলার রামকৃষ্ণপুর বাঁশগাড়ি গ্রামের মমিন মেম্বারের ছেলে। আহত ইফাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ঝুনারচর গ্রামের মো. জিলানীর ছেলে। ইফাতকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ও পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিশাদ রাতে বন্ধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলে ওয়াইব্রিজে ঘুরতে যান। ব্রিজের ওপর উঠতে গিয়ে একটি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে নিশাদের মাথা ফেটে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শহীদুল্লাহ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
৪৭ দিন আগে
হানাদারমুক্ত হয়ে ঝিনাইদহের আকাশে আজ উদিত হয়েছিল লাল-সবুজের পতাকা
আজ ৬ ডিসেম্বর; ঝিনাইদহ হানাদারমুক্ত দিবস। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক-হানাদারদের হটিয়ে ঝিনাইদহকে শত্রুমুক্ত করে মুক্তিকামী বাংলার দামাল ছেলেরা। আজকের এই দিনেই ঝিনাইদহে প্রথম উদিত হয় লাল-সবুজের পতাকা। মানুষ নির্ভয়ে রাস্তায় নেমে আসে এবং উল্লাস করতে থাকে।
১৯৭১ সালের পহেলা এপ্রিল স্বাধীনতা সংগ্রামে এ দেশে প্রথম যে সম্মুখযুদ্ধ সংঘটিত হয়, তা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিষয়খালী গ্রামে। ওই দিন পাকবাহিনী যশোর ক্যান্টমেন্ট থেকে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝিনাইদহ দখলের উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসতে থাকে।
আক্রমণ প্রতিহত করতে বিষয়খালী গ্রামের বেগবতী নদীর তীরে তাদের জন্য প্রবল বাধা হয়ে দাঁড়ান মুক্তিযোদ্ধারা। পাকবাহিনীকে রুখতে নদীর ওপর নির্মিত সেতু গুঁড়িয়ে দেন তারা। প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর তুমুল যুদ্ধ হয়। নদীতীরে সম্মুখযুদ্ধে ব্যর্থ হয়ে পাক-হানাদারবাহিনী পিছু হটে এবং নিকটস্থ গড়িয়ালা গ্রামে প্রবেশ করে নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করতে থাকে।
৪ এপ্রিল শৈলকূপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ যুদ্ধ, ৪ আগস্ট একই উপজেলার আলফাপুর যুদ্ধ, ১৪ অক্টোবর আবাইপুর যুদ্ধ ও ২৬ নভেম্বর কামান্না যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ ছাড়াও ৬ আগস্ট, ১৭ আগস্ট ও ১১ নভেম্বর জেলার বিভিন্ন স্থানে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে গেরিলা যুদ্ধ চরম আকার ধারণ করে। অপরদিকে, ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তিবাহিনী যৌথভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভেতরে ঢুকে পড়ে। মুক্তিসেনাদের সাঁড়াশি আক্রমণে ৩ ডিসেম্বর মুক্ত হয় ঝিনাইদহের মহেশপুর, ৪ ডিসেম্বর কোটচাঁদপুর এবং ৫ ডিসেম্বর কালীগঞ্জ উপজেলা।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা এলাকা দিয়ে কপোতাক্ষ নদ ও চিত্রা নদী অতিক্রম করে ৬ ডিসেম্বর মুক্তিকামীরা ঝিনাইদহে প্রবেশ করে জেলা শহর মুক্ত করে। এসব যুদ্ধে সারা জেলায় ২৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন দুজন। তারা হলেন— বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ও বীর প্রতীক সিরাজুল ইসলাম।
স্মৃতিচারণ করে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কামালুজ্জামান বলেন, ৬ ডিসেম্বর ঝিনাইদহ হানাদারমুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িঘর থেকে দলে দলে সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে এসে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বিজয় উল্লাস করতে থাকেন। ফুল দিয়ে তারা মুক্তিসেনাদের বরণ করে নেন।
ঝিনাইদহ মুক্ত দিবস পালনে জেলার বিভিন্ন সংগঠন আজ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
৫২ দিন আগে
ঝিনাইদহে ভাঙাচোরা সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত
অতিবর্ষণ ও অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে বেহালদশায় পরিণত হয়েছে ঝিনাইদহসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। ভাঙাচোরা সড়কে কমে যাচ্ছে যান চলাচল, প্রতিনিয়ত যানবাহন ভেঙে রাস্তায় পড়ে থাকছে। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন পরিবহন মালিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলাজুড়ে প্রায় ১৫২ কিলোমিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সড়ক বিভাগের আওতায় ২৫ কিলোমিটার এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। এতে জেলার কয়েক লাখ মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
ঝিনাইদহ জেলায় এলজিইডির আওতায় মোট কাঁচা সড়কের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ২৯৪ কিলোমিটার এবং পাকা সড়কের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৩৮৭ কিলোমিটার।এ ছাড়া সড়ক বিভাগের আওতায় জেলায় ৪০৬ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া এবং টানা বর্ষণের পানির চাপে বিভিন্ন সড়কের অংশ ভেঙে পড়েছে। অনেক জায়গায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এলজিইডির ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মধ্যে সদর উপজেলায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার, হরিণাকুন্ডুতে ১৮ কিলোমিটার, কালীগঞ্জে ১২ কিলোমিটার, কোটচাঁদপুরে ১২ কিলোমিটার, মহেশপুরে ২০ কিলোমিটার এবং শৈলকুপায় ৩৫ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে বাঁশের মই বেয়ে সেতু পারাপার, চরম দুর্ভোগে ৫ গ্রামের মানুষ
সড়ক বিভাগের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঝিনাইদহ-মাগুরা সড়কের হাটগোপালপুর, ডাকবাংলা বাজার, আরাপপুর ইন্টারসেকশন থেকে আলহেরা, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সড়কের ভাটই, শেখপাড়া ও গাড়াগঞ্জ সড়ক এবং আমেরচারা-তেলটুপি রাস্তা। এগুলো ভাঙাচোরা হয়ে একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন। সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন সড়কও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সময় নিয়ন্ত্রক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কগুলোর বেহালদশা তৈরি হয়েছে। বর্ষণে দুরবস্থা আরও তীব্র হয়েছে। অনেক জায়গায় সড়কের ইট উঠে গিয়ে এখন কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। ঢাকাগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। দূরপাল্লার গাড়িগুলোর বেশির ভাগ এখন গ্যারেজে মেরামত চলছে।’
যাত্রীসেবা কমিটির নেতা সাব্বির আহমদ জুয়েল জানান, সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ দ্রুত না নিলে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মতো প্রতিটি খাত স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঝিনাইদহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন জানান, সড়ক মেরামতে অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ নেই। প্রতি বছর যেমন আসে, তেমনই এ বছর পাওয়া গেছে। বৃষ্টি কমলে ভাঙাচোরা সড়ক মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জিয়াউদ্দীন জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখনো কোনো আর্থিক বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। আগের বরাদ্দ দিয়ে ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে।
১২০ দিন আগে