আগামী এক মাসের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে আইসিইউ বেড সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং যে সংকট রয়েছে তা দূর হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সার্ভিস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন উল্লেখ করে ত্রাণমন্ত্রী জানান, সারা বাংলাদেশেই জনবল কাঠামোর সংকট রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে জনবল নিয়োগ করে রমেক হাসপাতালের চাহিদাগুলো পূরণের চেষ্টা করা হবে। সেই সঙ্গে হাসপাতালে জনগণের স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ তৈরি করে দিতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর জুলুম ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে শুধু স্বাস্থ্যক্ষেত্র কেন, বাংলাদেশের প্রতিটা খাতই ধ্বংসের শেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের বেশ কিছু বিষয়ে এর আগে গত সভায় যেগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোকে ফলো আপ করার জন্য, কতটা কার্যকরী হয়েছে, কতটা কার্যকরী হচ্ছে না, কেন হচ্ছে না—সেই বিষয়টা অনুসন্ধান করার জন্য আমি এসেছি।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে আপনারা জানেন যে এই হাসপাতালে আইসিইউ বেডের একটা দাবি ছিল, আমরা অ্যানেস্থেশিয়ার অভাবে দিতে পারিনি, এরই মধ্যে পদায়ন হয়েছে। আশা করি, আগামী এক মাসের ভেতর নতুন করে আইসিইউ বেড চালু করতে পারব।
রংপুরে সম্প্রতি একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এই হত্যাকাণ্ডকে আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। যদিও এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা আছে, তদন্তে হয়তো বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ তৈরি হচ্ছে, হয়তো একটু সময় লাগছে। তবে আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যিকারে যারা দোষী এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে যদি কেউ জড়িত থাকে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসাটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে জরুরি।
পরে রমেক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভায় যোগ দেন মন্ত্রী। এর আগে সকালে বাংলাদেশ কর্ম কমিশন সচিবালয়ের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
এ সময় রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামছুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।