পরিবেশ-ও-কৃষি
নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড়োবৃষ্টি ও উপকূলীয় অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা
ঢাকা, ২৬ জুলাই (ইউএনবি)- সাগরের নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এতে উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি, উপকূলীয় জেলাগুলো ও চরে এক থেকে তিন ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস দেখা দেতে পারে।
শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর এমন তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৬টায় ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এতে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
এদিকে আজ সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুৎেলার জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চল সমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিমি বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
৩১৩ দিন আগে
বায়ুদূষণে আজ ফের শীর্ষ পাঁচে কানাডার রাজধানী
বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর তালিকায় বরাবরই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু শহরের নাম চোখে পড়লেও ইউরোপের দেশগুলোর কোনো শহরের দেখা সচারচার মেলে না। সেখানে উত্তর আমেরিকার কানাডার মতো পরিচ্ছন্ন দেশের কোনো শহর খুঁজে পাওয়া আরও দুষ্কর। অথচ দুই সপ্তাহে দুবার দূষিত বাতাসের শহরের তালিকার শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে কানাডার রাজধানী মন্ট্রিয়াল।
বাংলাদেশ সময় শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল সোয়া ৯টায় মন্ট্রিয়ালের বায়ুদূষণের একিউআই স্কোর ছিল ১৭৩, বাহরাইনের মানামার সঙ্গে যা তৃতীয় দূষিত শহর। তবে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল মন্ট্রিয়াল। এই স্কোর হওয়ার অর্থ শহরটির বাতাস এই সময়ে ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।
কণা দূষণের এই সূচক ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে ৩০০-এর বেশি যেকোনো সূচক।
আরও পড়ুন: ঢাকার বাতাসের মান আজ ‘ভালো’
কানাডার পরিবেশবিষয়ক সংস্থা এনভায়রনমেন্ট কানাডা জানিয়েছে, প্রেইরিজে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের ধোঁয়ার কারণে মন্ট্রিয়ালের বাতাসের মান খারাপ হয়ে পড়েছে এবং ওই এলাকায় দৃশ্যমানতাও কমে গেছে। আগামীকাল পর্যন্ত এই দূষিত অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।
এই পরিস্থিতিতে মানুষকে বাইরে থাকার সময় কমিয়ে আনার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিভিন্ন কার্যক্রম ও অনুষ্ঠান বাতিল বা স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
৬৫ বছরের বেশি বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, শিশু ও নবজাতক, আগে থেকেই কোনো অসুস্থতা বা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন এবং যারা বাইরে কাজ করেন—এমন ব্যক্তিদের এই সময়ে বাইরে শ্রমসাধ্য কোনো কাজ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এনভায়রনমেন্ট কানাডা এক বিবৃতিতে বলেছে, বায়ুদূষণের কারণে চোখ, নাক ও গলায় জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা কিংবা হালকা কাশির মতো সাধারণ ও মৃদু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা তীব্র কাশির মতো গুরুতর উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এসবের কোনো একটি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।
এর আগে, গত মঙ্গলবারও (২২ জুলাই) অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ে মন্ট্রিয়ালের বাতাস।
একই সময়ে মন্ট্রিয়ালের চেয়ে আরও দূষণ নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহর ছিল কাম্পালা। উগান্ডার রাজধানীর একিউআই স্কোর ছিল ১৮৪। এর চেয়ে দশ কম নিয়ে দ্বিতীয় দূষিত শহর ছিল মিসরের কায়রো, আর ১৭৩ নিয়ে তৃতীয় স্থানে বাহরাইনের মানামা। গতকাল শীর্ষে থাকা কিনশাসা আজ নেমেছে পাঁচে, স্কোর ১৬৪।
অন্যদিকে, লাহোর ও দিল্লির বায়ুমানে উন্নতি হয়েছে। একই সময়ে ১৪৬ একিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার একাদশ স্থানে অবস্থান করছিল লাহোর, আর ৮৪ নিয়ে ২৩তম স্থানে ছিল দিল্লি।
তবে গতকাল বৃষ্টির কারণে ঢাকার বাতাস ‘ভালো’ শ্রেণিভুক্ত হলেও আজকের রৌদ্রজ্জ্বল সকালে ফের কিছুটা অবনতি হয়েছে। ৬৯ একিউআই স্কোর নিয়ে ফের ‘মাঝারি’ শ্রেণিতে নেমেছে ঢাকা। তবে শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর থেকে বেশ দূরে, ৩১তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘ভালো’ বলে গণ্য করা হয়। আর স্কোর ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘মাঝারি’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। এ ছাড়া ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই পর্যায়ে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: লন্ডন, ওয়াশিংটনের চেয়ে আজ ঢাকার বাতাস স্বাস্থ্যকর
বাংলাদেশে একিউআই সূচক নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের দূষণের ভিত্তিতে— বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) ও ওজোন।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় ভুগছে। শীতকালে এখানকার বায়ুমান সাধারণত সবচেয়ে খারাপ থাকে, আর বর্ষাকালে তুলনামূলকভাবে উন্নত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো— স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার এবং শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ।
৩১৪ দিন আগে
ঢাকার বাতাসের মান আজ ‘ভালো’
গত দু-তিন দিন ধরেই ঢাকার বাতাসের মানে উন্নতি দেখা যাচ্ছিল। এরই ধারাহিকতায় গতকাল রাতের বৃষ্টির পর আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঢাকার বাতাস হয়ে উঠেছে ‘ভালো’।
তবে ৩ দিন আগেও শহরটির বাতাস ছিল ‘অস্বাস্থ্যকর’। সোমবার (২১ জুলাই) একিউআই স্কোর ১৫২ নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছিল ঢাকা। অবশ্য সেটিই সাধারণ চিত্র। তবে ব্যতিক্রম ঘটেছে আজ। শহরটি ‘ভালো’ বাতাস নিয়ে তালিকার নিচের দিকে চলে গেছে।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে ঢাকার বাতাসের একিইআই স্কোর ছিল ৪৪। এই স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘ভালো’ বলে গণ্য করা হয়। আর স্কোর ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘মাঝারি’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়।
গত দুদিন ধরেই ঢাকার বাতাস ‘মাঝারি’ পর্যায়ে ছিল। তবে তা ছিল ‘ভালো’ হয়ে ওঠার খুবই কাছাকাছি। গতকাল এই সময়ে শহরটির একিউআই স্কোর ছিল ৫৫। তার আগের দিন (বুধবার) একই সময়ে ৬১ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকার ৪০তম স্থানে ছিল ঢাকা।
বাতাসের মানের উন্নতির এই ধারা বজায় রেখে আজ ভালো বাতাস নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকার ৮৩তম স্থানে ছিল ঢাকা। এমন চিত্র সচরাচর দেখা যায় না।
এদিকে, আজ তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে উগান্ডার কাম্পালা, একিউআই স্কোর ১৭২। এরপর ১৭০ ও ১৬২ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জার্কাতা ও মালয়েশিয়ার কুচিং শহর।
এই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই পর্যায়ে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কণা দূষণের এই সূচক ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে ৩০০-এর বেশি যেকোনো সূচক।
আরও পড়ুন: লন্ডন, ওয়াশিংটনের চেয়ে আজ ঢাকার বাতাস স্বাস্থ্যকর
বাংলাদেশে একিউআই সূচক নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের দূষণের ভিত্তিতে— বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) ও ওজোন।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় ভুগছে। শীতকালে এখানকার বায়ুমান সাধারণত সবচেয়ে খারাপ থাকে, আর বর্ষাকালে তুলনামূলকভাবে উন্নত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো— স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার এবং শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ।
৩১৫ দিন আগে
সাগরে ফের লঘুচাপ, আগামী তিন দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
বঙ্গোপসাগরে আবারও একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এতে চার বিভাগে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকালে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরের সই করা ভারী বৃষ্টিপাত নিয়ে এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে আজ (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৫টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে তা অতি ভারী বৃষ্টিপাত বলে গণ্য করা হয়।
রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলাগুলোর পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। সেইসঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিজনিত অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: উত্তর বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্কসংকেত
নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
লঘুচাপের প্রভাবে দেশের সাতটি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আজ সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সারা দেশের আবহাওয়ার কী অবস্থা?
সারা দেশের সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে।
মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ওপর সক্রিয় এবং দেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এর প্রভাবে আজ রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ: আগামী পাঁচদিন বৃষ্টি হতে পারে সারা দেশে
এ ছাড়া ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলাসহ রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তা কমতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
৩১৫ দিন আগে
লন্ডন, ওয়াশিংটনের চেয়ে আজ ঢাকার বাতাস স্বাস্থ্যকর
শেষ রাতে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের পর রাজধানী ঢাকায় আজ সকালেও ঝরেছে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। এতে রাজধানী শহররের বায়ুদুষণের মাত্রা গতকালের তুলনায় আরও অনেকটা কমেছে। এমনকি বাতাসের মান নির্ণয়কারী ওয়েবসাইট আইকিউ এয়ারের সূচক অনুযায়ী, ঢাকার বাতাস আজ ‘ভালো’ হয়ে ওঠার খুবই কাছাকাছি চলে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে ঢাকার বাতাসের মান ‘ভালো’ থেকে মাত্র ৫ দূরে ছিল। এ সময় শহরটির একিউআই স্কোর ছিল ৫৫, যেখানে এই স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘ভালো’ বলে গণ্য করা হয়। স্কোর ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘মাঝারি’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়।
গত দুদিন ধরেই ঢাকার বাতাসে বাতাসের মানে উন্নতি দেখা গিয়েছে। বৃষ্টি না থাকলেও ঢাকার বাতাস ‘মাঝারি’ পর্যায়ে ছিল। আজও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ৫৫ স্কোর নিয়ে ‘মাঝারি’ শ্রেণিভুক্ত হলেও দূষণের মাত্রা অনেকটা কমেছে। গতকাল একই সময়ে ৬১ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকার ৪০তম স্থানে ছিল ঢাকা।
ঢাকার বাতাসের এই উন্নতির কারণে যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের মতো শহরের থেকেও শহরটির অবস্থান ভালো। দূষিত শহরের তালিকায় এই শহর দুটিরও নিচে ৫৮তম স্থানে রয়েছে ঢাকা, যেখানে ৬০ একিউআই স্কোর নিয়ে ওয়াশিংটনে রয়েছে ৪৭ তম স্থানে এবং ৬৬ স্কোর নিয়ে ৪০তম স্থানে রয়েছে লন্ডন।
এদিকে, আজ তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে উগান্ডার কাম্পালা, একিউআই স্কোর ১৮৫। এরপর ১৮৩ ও ১৭৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে কঙ্গোর কিনশাসা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই।
আরও পড়ুন: বায়ুদূষণে শীর্ষ দশে আজ দক্ষিণ এশিয়ার কোনো শহর নেই
এই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই পর্যায়ে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কণা দূষণের এই সূচক ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে ৩০০-এর বেশি যেকোনো সূচক।
বাংলাদেশে একিউআই সূচক নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের দূষণের ভিত্তিতে— বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) ও ওজোন।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় ভুগছে। শীতকালে এখানকার বায়ুমান সাধারণত সবচেয়ে খারাপ থাকে, আর বর্ষাকালে তুলনামূলকভাবে উন্নত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো— স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার এবং শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ।
৩১৬ দিন আগে
বায়ুদূষণে শীর্ষ দশে আজ দক্ষিণ এশিয়ার কোনো শহর নেই
বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকার শীর্ষে প্রায়ই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিশেষত বাংলাদেশের ঢাকা, ভারতের দিল্লি, মুম্বাই এবং পাকিস্তানের লাহোর ও করাচি। তবে আজ এই চিত্রের ব্যতিক্রম দেখা গেছে। এই শহরেরগুলোর বায়ুদূষণ কমেছে।
গতকাল লাহোর ও দিল্লির বাতাসের মানে অবনতি দেখা গেলেও ঢাকার বাতাসের লক্ষণীয় উন্নতি দেখা গিয়েছিল। ৬০ স্কোর নিয়ে শহরটির বাতাস ‘মাঝারি’ শ্রেণিভুক্ত ছিল। আজও ঢাকার বাতাস ‘মাঝারি’ পর্যায়েই রয়েছে।
বুধবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ৬১ স্কোর নিয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকার ৪০তম স্থানে ছিল ঢাকা।
বৃষ্টি কিংবা ছুটির দিন না হলেও বাতাসের মানে এই পরিবর্তন রাজধানীবাসীর মনে স্বস্তি এনেছে। এতে করে বাইরে বের হলে দূষিত বাতাসের কারণে স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। বিশেষত শিশু ও বৃদ্ধসহ সংবেদনশীল মানুষদের জন্য বায়ুদূষণ অনেক বেশি ক্ষতিকর।
এদিকে, ঢাকার সঙ্গে সঙ্গে আজ দিল্লি ও লাহোরের বাতাসেও দূষণ কমেছে। গতকাল ১৪৯ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা দিল্লি আজ ৭৬ স্কোর নিয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকার ১৯তম স্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, গতকাল ১৫৩ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে লাহোর আজ ৫৮ একিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার ৪৭তম স্থানে রয়েছে।
আরও পড়ুন: লাহোর ও দিল্লির বাতাসে দূষণ বাড়লেও ঢাকায় লক্ষণীয় উন্নতি
একই সময়ে আজ তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে কঙ্গোর কিনশাসা, একিইআই স্কোর ১৬০। এ ছাড়া, ১৫৮ ও ১৪৩ স্কোর নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে উগান্ডার কাম্পালা ও চিলির সান্তিয়াগো।
একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই পর্যায়ে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কণা দূষণের এই সূচক ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে ৩০০-এর বেশি যেকোনো সূচক।
বাংলাদেশে একিউআই সূচক নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের দূষণের ভিত্তিতে— বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) ও ওজোন।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় ভুগছে। শীতকালে এখানকার বায়ুমান সাধারণত সবচেয়ে খারাপ থাকে, আর বর্ষাকালে তুলনামূলকভাবে উন্নত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো— স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার এবং শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ।
৩১৭ দিন আগে
লাহোর ও দিল্লির বাতাসে দূষণ বাড়লেও ঢাকায় লক্ষণীয় উন্নতি
গত দু-তিন দিনে ঢাকায় বৃষ্টিপাত হয়নি, আবার কড়া রোদ ও গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রাজধানীর মানুষজন। তবে এরই মধ্যে স্বস্তির বিষয় হলো, আজ ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা ব্যাপকভাবে কমে বাতাসের মান ‘ভালো’ হয়ে ওঠার কাছাকাছি চলে এসেছে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে ঢাকার বাতাসের একিউআই স্কোর ছিল ৬০। যদিও এই স্কোর নিয়ে ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে শহরটির বাতাস। তবে একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘ভালো’ এবং ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘মাঝারি’ বলে গণ্য করা হয়।
গতকালের লক্ষণীয় অবনতির পর আজকের এই পরিবর্তন সত্যিই ইতিবাচক। কারণ গতকাল এই সময়ে ১৫২ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছিল ঢাকা। তবে আজ ৬০ একিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার ৪৫তম স্থানে রয়েছে শহরটি।
আরও পড়ুন: ‘অস্বাস্থ্যকর’ বাতাস নিয়ে বিশ্বের তৃতীয় দূষিত শহর ঢাকা
এদিকে, গতকাল ৯৯ স্কোর নিয়ে তালিকার দশম স্থানে থাকা ভারতের দিল্লি আজ ১৪৯ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে চলে এসেছে। একই সময়ে ১৫৩ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে পাকিস্তানের লাহোর। গতকাল শহরটির স্কোর ছিল ১১৮।
আজ তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ইন্দোনেশিয়ার জার্কাতা। শহরটির একিউআই স্কোর ১৫৫।
এই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই পর্যায়ে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কণা দূষণের এই সূচক ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে ৩০০-এর বেশি যেকোনো সূচক।
বাংলাদেশে একিউআই সূচক নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের দূষণের ভিত্তিতে— বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) ও ওজোন।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় ভুগছে। শীতকালে এখানকার বায়ুমান সাধারণত সবচেয়ে খারাপ থাকে, আর বর্ষাকালে তুলনামূলকভাবে উন্নত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো— স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার এবং শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ।
৩১৮ দিন আগে
তিন জেলায় পলিথিনবিরোধী অভিযান: ৮১০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ ও কারখানা বন্ধ
তিন জেলায় পলিথিনবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৮১০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় কয়েকটি কারখান বন্ধও করে দেওয়া হয়।
সোমবার (২১ জুলাই)পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা দীপংকর বরের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) এর ৬(ক) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে পিরোজপুর, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন উৎপাদন, বিক্রয়, সরবরাহ ও বাজারজাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানে তিন জেলায় ৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২টি মামলায় সর্বমোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি ৮১০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন, ২টি ওজন মাপার যন্ত্র, ৩টি পলিথিন উৎপাদন মেশিন এবং ১টি বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, গাজীপুরে অভিযানে একটি অবৈধ পলিথিন কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে কয়েকটি সুপারশপসহ স্থানীয় দোকানমালিক ও সাধারণ জনগণকে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা হয় এবং ভবিষ্যতে আইন লঙ্ঘন না করার জন্য সতর্ক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে পলিথিন দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়।
৩১৮ দিন আগে
‘অস্বাস্থ্যকর’ বাতাস নিয়ে বিশ্বের তৃতীয় দূষিত শহর ঢাকা
টানা কয়েকদিন বৃষ্টি না হওয়ার ফলে ঢাকার পরিবেশ যেন পুরোনো রূপে ফিরতে শুরু করেছে। বৃষ্টির কারণে বেশ কয়েকদিন ঢাকার বাতাস ‘মাঝারি’ পর্যায়ে ছিল। তবে আজ শহরটির বাতাস বাসিন্দাদের জন্য হয়ে উঠেছে ‘অস্বাস্থ্যকর’।
সোমবার (২১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে ঢাকার একিউআই স্কোর ছিল ১৫২। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ঢাকা।যেখানে গতকাল এই সময়ে ঢাকার একিউআই স্কোর ছিল ৬২। ‘ভালো’ না হলেও মোটামুটি কাছাকাছিই ছিল, তবে আজ সকালেই শহরটির বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হয়ে উঠেছে।
বৃষ্টির প্রভাবে টানা কয়েকদিন ঢাকার বাতাস ‘মাঝারি’ পর্যায়ে ছিল। কখনো কখনো তা ‘ভালো’ হয়ে ওঠার কাছাকাছি চলে গেলেও বৃষ্টি না হওয়ায় আবার বেড়েছে বায়ুদূষণ। মাঝারি থেকে একদিনের ব্যবধানে শহরটির বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হয়ে উঠেছে।
ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার যে আরও দুটি শহর দূষিত বাতাসের তালিকার শীর্ষে রয়েছে, সেগুলো হলো— ভারতের দিল্লি ও পাকিস্তানের লাহোর। এ দুটি শহরে কিন্তু ঢাকার মতো এত অবনতি দেখা যায়নি বায়ুমানের ক্ষেত্রে। ৯৯ স্কোর নিয়ে তালিকার ১০ম স্থানে রয়েছে দিল্লি।
আরও পড়ুন: বায়ুদূষণে দিল্লিকে টেক্কা দিয়েছে কলকাতা, ঢাকার চেয়ে ভালো অবস্থানে মুম্বাই
অন্যদিকে, ১১৮ স্কোর নিয়ে তালিকার ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে লাহোর। যেখানে গতকাল ১৪৯ একিউআই স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল লাহোর। সে তুলনায় আজ লাহোরের বায়ুমানে কিছুটা উন্নতি লক্ষ করা গেছে।
এদিকে, আজ একই সময়ে ১৫৯ একিউআই স্কোর নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহর ছিল উগান্ডার কাম্পালা। ১৫৪ ও ১৩৭ স্কোর নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় ও চতুর্থ স্থানে ছিল যথাক্রমে চিলির সান্তিয়াগো ও ইন্দোনেশিয়ার জার্কাতা।
সাধারণত, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘ভালো’ এবং ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘মাঝারি’ বলে গণ্য করা হয়। এরপর এই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই পর্যায়ে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কণা দূষণের এই সূচক ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে ৩০০-এর বেশি যেকোনো সূচক।
বাংলাদেশে একিউআই সূচক নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের দূষণের ভিত্তিতে— বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) ও ওজোন।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় ভুগছে। শীতকালে এখানকার বায়ুমান সাধারণত সবচেয়ে খারাপ থাকে, আর বর্ষাকালে তুলনামূলকভাবে উন্নত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো— স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার এবং শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ।
৩১৯ দিন আগে
টেকসই বিনিয়োগে বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি জরুরি: পরিবেশ উপদেষ্টা
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, টেকসই বিনিয়োগ শুধু কোনো একটি দেশের লক্ষ্য নয়—এটি হতে হবে বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি।
‘আমাদের টেকসই লেনদেন ও টেকসই বিনিয়োগ—উভয়ের প্রতিই মনোযোগ দিতে হবে। টেকসই উন্নয়নে ন্যায্যতা থাকতে হবে। যদি সম্পদনির্ভর অর্থনীতিগুলো অসামঞ্জস্যপূর্ণ হারে ভোগ করতে থাকে, তাহলে কোনো বৈশ্বিক টেকসই কাঠামোই টিকবে না।’
রবিবার (২০ জুলাই) ঢাকার বনানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ‘অ্যামচ্যাম ডায়ালগ অন ফস্টারিং সাসটেইনেবল ইনভেস্টমেন্ট’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
টেক্সটাইল ও জ্বালানি খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিল্পখাতে পানির ব্যবহার নিয়ে যে নীতিমালার খসড়া হয়েছে, তা চূড়ান্ত করার সময় এসেছে। ভূগর্ভস্থ পানিকে কেউ যেন আর বিনামূল্যে না নেয়, তার যথাযথ মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। একবার যখন শিল্পকারখানাগুলো এর মূল্য পরিশোধ করবে, তখন তারা পানির ব্যবহার নিয়েও দায়িত্বশীল হবে।
তিনি আরও বলেন, টেক্সটাইল খাতে এখনো কিছু বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে, যা রপ্তানিমুখী পণ্যে না হলেও স্থানীয় বাজারে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি বাধ্যতামূলক কেমিক্যাল ব্যবস্থাপনা বিধিমালা জরুরি—এটি জনস্বাস্থ্যের প্রশ্ন।
জ্বালানি বিষয়ে তিনি জানান, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা গ্রহণ করেছে, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রত্যেক সরকারি দপ্তরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সংযোগ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এটি শুধু একটি নীতিগত অঙ্গীকার নয়, বাস্তবায়নের শুরু।
জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম শিকার হলেও এর দায় আমাদের নয়। তাই একটি ন্যায্য বৈশ্বিক টেকসই ব্যবস্থার প্রয়োজন।
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন নিয়ে চলমান আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে। জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি এখানে অগ্রাধিকার পাবে। সিঙ্গাপুরের মতো সফল মডেল আমাদের অনুপ্রেরণা হওয়া উচিত, যেখানে আইন লঙ্ঘনের হার মাত্র ৫ শতাংশ।
তিনি বলেন, টেকসই বিনিয়োগকে শুধু উৎপাদকের দায় হিসেবে দেখলে চলবে না। এর ব্যয় ন্যায্যভাবে ক্রেতা ও উৎপাদক—উভয়ের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া উচিত, যাতে আমাদের অর্থনীতির ভিত্তি যাঁরা তৈরি করছেন, সেই লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের ন্যায্য সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ, অ্যামচ্যামের সাবেক সভাপতি ও অর্থনীতিবিদ ফরেস্ট ই. কুকসন, এবং অ্যামচ্যাম সহ-সভাপতি ও চেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এরিক এম. ওয়াকার। রিকাভার, শেভরন বাংলাদেশ ও ফিলিপ মরিসের প্রতিনিধিরা তাদের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন।
৩১৯ দিন আগে