বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাট দিবস ২০২৬ এবং ৯ দিনব্যাপী পাট ও বহুমুখী পাটপণ্যের মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সৃজনশীল তরুণ প্রজন্মের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে—স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে মেড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং প্রচার করে এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাট খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার। বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিন।
পরিবেশবান্ধব পণ্যের ক্রমবর্ধমান বিশ্বব্যাপী চাহিদাকে কাজে লাগাতে তিনি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পাট খাতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বৈচিত্র্য আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উদ্যোক্তা, কৃষক, গবেষক এবং ব্যবসায়ীসহ পাট খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি সোনালী আঁশ পাটকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, পাট কেবল একটি কৃষি ফসল নয়, এটি একটি শিল্প ও রপ্তানি পণ্য। সর্বোপরি, এটি একটি প্রাকৃতিক এবং পরিবেশবান্ধব আঁশ।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, এক সময় বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা ছিল। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং প্লাস্টিক ও পলিথিনের ক্ষতিকারক প্রভাবের বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে পাটের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব এখন টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে, যা বাংলাদেশের পাট ও পাটভিত্তিক শিল্পের জন্য সুযোগের একটি নতুন জানালা খুলে দিয়েছে।
সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডা তুলে ধরে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, খাতভিত্তিক অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি জানান, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার রুগ্ন ও বন্ধ পাটকল এবং অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পাট খাতের আধুনিকায়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, উচ্চফলনশীল পাটের জাত উদ্ভাবন এবং পাটের বহুমুখী ব্যবহার উৎসাহিত করার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে, যার ফলে ১১ লক্ষাধিক কৃষক উপকৃত হয়েছেন এবং পাট চাষসহ কৃষি খাতে নতুন গতিশীলতা তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করবে সরকার।
তিনি পাট চাষিদের উন্নত ও উচ্চফলনশীল চাষ পদ্ধতি গ্রহণ এবং মানসম্পন্ন আঁশ উৎপাদনের দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের বিশ্ববাজারের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক, উদ্ভাবনী এবং সাশ্রয়ী পাটজাত পণ্য তৈরির পরামর্শ দেন। সাধারণ মানুষকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগ বর্জন করে সাশ্রয়ী পাটের ব্যাগ ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারের অনুরোধ জানান রাষ্ট্রপতি।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ভার্চুয়ালি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৯ দিনব্যাপী পাট ও বহুমুখী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধন করেন। দিবসটি উপলক্ষে ১২টি ক্যাটাগরিতে মোট ১৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সচিব বিলকিস জাহান রিমি, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নূরুল বাসির এবং বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএমএ) সভাপতি আবুল হোসেন বক্তব্য রাখেন।