সারাদেশ
গাইবান্ধা-৪: ভোট জালিয়াতির অভিযোগে পুনর্নির্বাচনের দাবি জামায়াতের
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের ১০টি কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি, অনিয়মের প্রতিবাদ ও নির্বাচন স্থগিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা জামায়াত।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের দারুল আমান ট্রাস্ট ভবনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরে জামায়াত প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকার বলেন, ভোটের সময় পোলিং এজেন্টকে বের করে দিয়ে ব্যালটে সিল মারা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ১০টি কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে অনিয়ম না হলে আমিই বিজয়ী হতাম।
এ সময় ওই ১০টি কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান গাইবান্ধা-২ আসনের এ জামায়াত প্রার্থী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জেলা আমির ও গাইবান্ধা-২ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুর করিম সরকার, গাইবান্ধা-৩ আসনে নির্বাচিত আবু কাওসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনে নির্বাচিত মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৫ আসনে নির্বাচিত জামায়াত নেতা ওয়ারেস আলীসহ অন্যান্য জামায়াত নেতারা।
২০ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ১, আহত ১২
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সদর উপজেলার চরআব্দুল্লাহ গ্রামে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক জসিম উদ্দিন (৩০) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যরা আহত হয়েছেন। এছাড়া পৃথক ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পূর্ববিরোধ ও নির্বাচনি দ্বন্দ্বের জেরে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের বড় ভাই মসিউর নায়েব অভিযোগ করেন, ধানের শীষের নেতা শাকিল দেওয়ানের লোকজন গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে তাদের বাড়িতে ঢুকে তাকে, তার বাবা ও ভাইদের নির্মমভাবে পেটায়। পরে তাদের তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে গতকাল সন্ধ্যায় জসিমের মৃত্যু হয়।
নিহত জসিম উদ্দিন ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক ছিলেন। অভিযুক্ত শাকিল সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
পুলিশ জানায়, জসিম উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন ফুটবল প্রতীকের সমর্থক ছিলেন। ওই গ্রামের ধানের শীষের সমর্থক শাকিল গতকাল বিকেল ৩টার দিকে ৫০-৬০ জনের একটি দল নিয়ে জসিমের বাড়িতে যান। তারা জসিম উদ্দিন, তার বাবা মাফিক নায়েব, ভাই মোখলেস নায়েব ও মহসিন নায়েবকে পিটিয়ে আহত করেন। গুরুতর অবস্থায় ২ ভাই জসিম ও মোখলেস এবং বাবা মাফিক নায়েবকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় জসিম মারা যান।
মসিউর নায়েব আরও বলেন, ‘আমরা ফুটবল প্রতীকের নির্বাচন করেছিলাম। এটাই আমাদের একমাত্র দোষ ছিল। আমরা কখনও কারও সঙ্গে কোনো অন্যায় করিনি। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতাও ছিল না। নাসির ডাক্তার ও তার ছেলে শাকিলরা আমার ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।’
এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শাকিল বলেন, ‘সকালে জসিম উদ্দিনদের লোকজন আমাদের সমর্থকদের ওপর হামলা করে। পরে আমি এ ঘটনায় অভিযোগ করতে থানায় যাই। তখন জসিম ও তার লোকজন এলাকা থেকে বের হয়ে যেতে পুনরায় আক্রমণের প্রস্তুতি নেন। পরে এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে জসিমদের মারধর করেছে। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।’
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান, পূর্ববিরোধ এবং নির্বাচনি দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা। অপরাধীদের আটকের ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আরও ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতন। তিনিই মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। দলের মনোনয়ন না পেয়ে ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
২০ দিন আগে
সুপারী চুরির অপবাদ দিয়ে শিশু হত্যা
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সুপারী চুরির অপবাদ দিয়ে এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম ইমন মিয়া (৯)।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার স্বদেশী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় এক মাস আগে ইমন প্রতিবেশী আতাহার আলীর গাছ থেকে সুপারী চুরি করে। এতদিন কিছু না বললেও শুক্রবার ইমনকে প্রতিবেশী আতাহার আলী তার ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে ঘরের দরজা লাগিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে ইমনের পরিবার তাকে উদ্ধার করে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। বর্তমান পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফেরদৌস আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সুপারী চুরির ঘটনায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে নির্বাচনি সহিসংতার কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
২০ দিন আগে
ধানের শীষের পরাজয়ের খবরে হার্ট অ্যাটাকে বিএনপি কর্মীর মৃত্যু
নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামইরহাট) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মো. সামসুজ্জোহা খানের পরাজয় এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের সংসদ সদস্য হওয়ার খবর শুনে রিয়াজ উদ্দিন (৬৭) নামের এক বিএনপি কর্মীর হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে।
মৃত রিয়াজ উদ্দিন নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বদনপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবার নাম মৃত রইস উদ্দিন।
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হামিদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি জানান, এক কথায় বিএনপি ও ধানের শীষের পাগল ছিলেন রিয়াজ উদ্দিন। গত ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হলে বিএনপি ও ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে দিনরাত মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন রিয়াজ উদ্দিন। তার আশা ছিল, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি ক্ষমতায় আসবে এবং নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামইরহাট) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. সামসুজ্জোহা খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। এ লক্ষ্যে দিনরাত এক করে বিরামহীন প্রচার-প্রচারণায় নেমেছিলেন রিয়াজ উদ্দিন।
আব্দুল হামিদ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামইরহাট) আসনে ধানের শীষের পরাজয় এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার খবর মেনে নিতে পারেননি দলভক্ত রিয়াজ উদ্দিন। গতকাল (শুক্রবার) সকালে খবর শুনেই হার্ট অ্যাটাকে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত তাকে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে তিনি মারা যায়। তার মৃত্যুর খবরে এলাকার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তিনি আরও জানান, রাজশাহীতে মারা যাওয়ার পর রাতে তার মরদেহ নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বদনপুর গ্রামে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। আজ (শনিবার) তাকে দাফন করা হবে।
আব্দুল হামিদ বলেন, ‘বিএনপি ও ধানের শীষ পাগল এ ধরনের একজন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা খুবই শোকাহত। দলীয়ভাবে আমরা সবকিছু খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করছি। সাবেক সংসদ সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. সামসুজ্জোহা খানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি এই কর্মীর মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।’
উল্লেখ্য, নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামইরহাট) ভোটকেন্দ্র ১২৪টি। সবকয়টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. সামসুজ্জোহা খান ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩টি।
২০ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বানানোর সময় বিস্ফোরণে হতাহত ৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বানানোর সময় বিস্ফোরণে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে জেলার সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তবে আহতরা হলেন— ফাটাপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে বজলুর রহমান (২০), জেনারুল ইসলামের ছেলে মিনহাজ (২২) ও একই উপজেলার রানীহাটি-উপরধুমি এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে শুভ (২০)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, ককটেল বিস্ফোরণে আহতদের উদ্ধার করে চাঁপাইনবাগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। পরে সেখান থেকে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের সারা শরীর ঝলসে গেছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, যে বাড়িতে ককটেল বানানো হচ্ছিল, সেটিও আংশিকভাবে ভেঙে গেছে এবং টিনের চালা উড়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে কালামসহ বাড়ির সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার কাজ করছে।
২০ দিন আগে
নড়াইলে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় আহত ১৪
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নড়াইল-২ আসনে সদর উপজেলার গাবতলা এলাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার গাবতলা এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় দুপক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।
কলস প্রতীকের প্রার্থী মনিরুল ইসলামের সমর্থকরা জানান, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে চায়ের দোকানে বসে ছিলাম। এ সময় হঠাৎ করে ধানের শীষের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় ২ নারীসহ আমাদের ৯ জন আহত হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ধানের শীষের সমর্থকরা দাবি করেন, কলস প্রতীকের সমর্থকেরা আমাদের ধানের শীষের অফিস ভাঙচুর করতে আসে। আমরা বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আমাদের ৫ জন আহত হয়েছে।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, কলস সমর্থক ও ধানের শীষের সমর্থকদের মাঝে মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২০ দিন আগে
খুলনার রূপসায় কুড়াল দিয়ে স্বামীকে হত্যা, স্ত্রী পলাতক
খুলনার রূপসা উপজেলায় কুড়াল দিয়ে গলা কেটে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৭টার দিকে উপজেলার জয়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর রাজ্জাক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, প্রায় ২২ বছর আগে দাকোপের বাজুয়া এলাকার মুরারি (৪৫) হিন্দু থেকে মুসলমান হয়ে মোহর আলী নাম গ্রহণ করেন। তারপর রূপসার জয়পুরের হোসনেআরাকে বিয়ে করে সেখানেই বসবাস করছিলেন। মুরারি মিষ্টির দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের ছেলে শিমুল হোসেন জানান, তার বাবা ডুমুরিয়ার কৈয়া বাজারে মিষ্টির দোকানের কারিগর ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি দোকান থেকে বাড়িতে আসেন। তার বাবা-মা পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। খুব ভোরে তার মা ঘরের দরজায় কড়া নাড়েন।
শিমুল ঘুম থেকে উঠলে তাকে ঘরের দরজা খোলা রাখার কথা বলে তার মা বের হয়ে যান। এরপর কিছুক্ষণ মায়ের জন্য অপেক্ষা করে তিনি পুনরায় ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার দুলাভাইয়ের চিৎকার শুনে তিনি এসে দেখেন, তার বাবার রক্তাক্ত নিথর দেহ। এ সময় তার মাকে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও পাওয়া যায়নি। এরপর তারা পুলিশে খবর দেন।
তিনি আরও জানান, বাবাকে হত্যা করে তার মা হোসনেআরা বেগম নিজের প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তাকে মোবাইলেও পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর রাজ্জাক বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। হত্যার কারণ উদঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২১ দিন আগে
৫৪ বছর পর ভোট দিলেন ফরিদগঞ্জের নারীরা
পীর সাহেবের নিষেধ ভেঙে দীর্ঘ ৫৪ বছর পর এবার ফরিদগঞ্জের রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারী ভোটাররা ভোট দেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় দক্ষিণ চর মান্দারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তারা ভোট দিতে আসেন।
বয়স্ক নারী ভোটার মহিফুলের নেছা (৯০) ইউএনবিকে জানান, ‘বাবারে, জীবনে এবারই প্রথম ভোট দিলাম।’
আরও কয়েকজন নারী ভোটার লাইনে দাড়ঁনো অবস্থায় বলেন, আমরাও এবারই প্রথম ভোট দিতে আইলাম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোট দিতে তাদের সময় বেশি লাগছে। কারণ কেউই গত ৫৪ বছর ভোট দেননি। ভোট দেওয়ার পদ্বতিটাও জানা নেই তাদের। এবারে দুটি ব্যালট পেপার। কীভাবে কী করবেন, কোথায় সিল মারবেন, কীভাবে ভাঁজ করবেন—অনেক কিছুই তাদের অজানা ।
৫৪ বছর ভোট না দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে কয়েকজন নারী বলেন, পীর সাহেবের মানা (নিষেধ) ছিল, বেপর্দা হবেন না, বাইরে যাবেন না, নারীরা ভোটও দিতে বাইরে যাবেন না, ভোটও দেবেন না। এভাবে চলতে চলতে, চলে গেল দীর্ঘ ৫৪টি বছর। ফলে সবাই ছিল ভোটবিমুখ। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই অবস্থা দেখা গেছে।
ইউনিয়নের চর মান্দারি গ্রামের শফিউল্যাহ (৮০) বলেন, ‘১৯৬৯ সালে এই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কলেরা মহামারি দেখা দেয়। সেই সময়ে ভারতের ঐতিহাসিক জৈনপুরী দরবারের পীর এই এলাকায় সফরে ছিলেন। তখন লোকজন তার কাছে গেলে, আর্জি করলে নারীদের পর্দায় থাকার নসিহত করেন তিনি। তখন থেকেই নারীরা পর্দার খেলাপ হওয়ার ভয়ে ভোটে অংশগ্রহণ থেকে দীর্ঘ বছর বিরত থাকছেন। এবার কিছুটা বরফ গলছে।’
২১ দিন আগে
সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আসাদুজ্জামান
রাজনীতিতে যেখানে বিজয়ের পর প্রার্থীদের মাঝে দেখা যায় দূরত্ব, বিরূপতা ও প্রতিহিংসার ছায়া, সেখানে ভিন্ন এক চিত্র দেখলেন ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের ভোটাররা। জয়-পরাজয়ের বিভাজনরেখা সরিয়ে আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফল অনুসারে, ঝিনাইদহ-১ আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তিনি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবু সালেহ মো. মতিউর রহমান ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে পান ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট। এতে ১ লাখ ১৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আসাদ।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভোট গণনা শেষে রাতেই জানা যায় আসাদুজ্জামানের জয়ের খবর। এরপর আজ (শুক্রবার) সকাল হতেই ফুলের মালা হাতে তিনি ছোটেন মতিউর রহমানের বাড়িতে। শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের নাদপাড়া গ্রামে তাদের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে তৈরি হয় এক ভিন্ন আবহ।
কুশল বিনিময়ের পর আসাদুজ্জামান নিজের বিজয়মাল্য পরিয়ে দেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর গলায়। মুহূর্তটি উপস্থিত দুপক্ষের নেতা-কর্মী ও স্থানীয়দের কাছে প্রতীকী বলে মনে হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয় সম্পর্কের অটুট বন্ধন।
ঝিনাইদহ-১ আসনের ভোটাররা অতীতে জয়-পরাজয়ের পর উত্তেজনা, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা বহুবার দেখেছেন। কিন্তু এবারের দৃশ্য ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। বিষয়টি শান্ত, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ সময় অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান তার সমর্থক ও গ্রামবাসীর উদ্দেশে বলেন, “ভোটে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধন যেন অটুট থাকে। বিভেদ নয়, ঐক্যই হোক নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও তরুণদের আত্মবলিদান যেন বৃথা না যায়। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যাব।’
স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ রাজনীতিতে ইতিবাচক সংস্কৃতির চর্চাকে উৎসাহিত করবে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার এই বার্তা শুধু ঝিনাইদহ নয়, সারা দেশের জন্যে তাৎপর্যপূর্ণ।
ভোটের ফলাফল সংখ্যায় মাপা যায়, কিন্তু আন্তরিকতার এই দৃশ্য মনে রাখবে ঝিনাইদহ-১ আসনের আপামর মানুষ। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায়ও যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের স্থান রয়েছে, নাদপাড়া গ্রামের একটি উঠানে তারই নীরব সাক্ষী হয়ে রইল একটি ফুলের মালা।
২১ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতের বিজয় মিছিলে অসুস্থ হয়ে কর্মীর মৃত্যু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেলের বিজয় মিছিলে গিয়ে অসুস্থ্য হয়ে এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফজলুর রহমান চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার নুরনগর কলোনীপাড়ার মৃত নুর ইসলামের ছেলে।
নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাদের এলাকায় ফার্মপাড়া ভোটকেন্দ্রের বেসরকারি ফল প্রকাশের পর বিজয় মিছিল বের হয়। ওই মিছিলে অংশ নিয়ে হঠাৎ করে অসু্স্থ হয়ে পড়েন ফজলুর রহমান। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জেসমিন আক্তার জেসি জানান, তিনি আর বেঁচে নেই।
ফজলুর রহমানের ভাই নজির হোসেন বলেন, তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। বিজয় মিছিলে গিয়ে গুরুতর আসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর তার মৃত্যু হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মফিজুর রহমান জানান, তিনি জামায়াতের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন নেতারা।
২২ দিন আগে